যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়তে চলেছেন এল সাইদ!
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছেছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আবদুল এল সাইদ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে মিশিগান থেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। নভেম্বরে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ইউএস সিনেটর।
মিশিগানে ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ফল পরদিন নিশ্চিত হয়। ভোট গণনা রাত পেরিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত খুব অল্প ব্যবধানে স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলেন এল সাইদ। ফল ঘোষণার পর স্টিভেন্সও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সাধারণ নির্বাচনে সমর্থনের ঘোষণা দেন।
এল সাইদের এই জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়। মিশিগানের ওপেন সিনেট আসনটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি এবার উন্মুক্ত হয়েছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে আসনটি ধরে রাখা ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাইমারি জয়ের পর নিজের পারিবারিক ইতিহাসও সামনে আনেন এল সাইদ। মিশরীয় বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের সন্তান তিনি। তার বাবা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে ডেট্রয়েটে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। এল সাইদ বলেছেন, তার বাবার সেই সিদ্ধান্ত না থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো হয়তো তার জীবনও মিশরেই কাটত।
কিন্তু অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক অবস্থানই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতিতে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব কমানো, শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ইসরায়েলসহ বিদেশি সামরিক বাহিনীতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিরোধিতা তার প্রচারণার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল।
বিশেষ করে ইসরায়েল ইস্যুতে এল সাইদ ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্সের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য ছিল। স্টিভেন্স ইসরায়েলের প্রতি জোরালো সমর্থনের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে এল সাইদ ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ দেশের স্কুল, রাস্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন পূরণে ব্যয় হওয়া উচিত।
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রাইমারিতে বিপুল পরিমাণ বাইরের অর্থও খরচ হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, এল সাইদের বিরুদ্ধে এবং স্টিভেন্সের পক্ষে কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করে বাইরের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। এর মধ্যে ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলোর ব্যয়ও ছিল উল্লেখযোগ্য।
তারপরও অর্থের লড়াইয়ে অনেক পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছেন এল সাইদ। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে স্টিভেন্সের তুলনায় তিনি বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। এই ফলকে তাই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এল সাইদকে সমর্থন করেছিলেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজসহ প্রগতিশীল রাজনীতির কয়েকজন পরিচিত নেতা। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের একটি বড় অংশ স্টিভেন্সের পাশে ছিল। মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও প্রাইমারির শেষ দিকে স্টিভেন্সকে সমর্থন করেন।
এ কারণে এল সাইদের জয়কে দলের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রগতিশীল অংশের একটি বড় সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থান অবশ্য তাকে রাজনৈতিক আক্রমণের মুখেও ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা তার বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। এল সাইদ ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনা এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এক বিষয় নয়। নিজের নির্বাচনী এলাকার ইহুদি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
রাজনীতিতে আসার আগে এল সাইদের পরিচিতি তৈরি হয়েছিল জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তিনি চিকিৎসক নন, বরং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষিত একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও প্রশাসক। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট হেলথ ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো শহরের জনস্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন এল সাইদ।
ডেট্রয়েটে দায়িত্ব পালনের সময় শিশু মৃত্যুহার কমানো, স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং স্কুলে সীসার ঝুঁকি শনাক্ত করার মতো বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে কাজ করেন তিনি।
২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পান এল সাইদ। সেই নির্বাচনেও তার প্রচারণার মূল বিষয় ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং রাজনীতিতে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব হ্রাস করা। সে প্রাইমারিতে তিনি গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন।
আট বছর পর এবার ইউএস সিনেটের প্রাইমারিতে সেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নিয়েই বড় জয় পেয়েছেন তিনি।
তবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা এখনো সামনে। নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে এল সাইদের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে রজার্স বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনয়ন পেয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনও তার সঙ্গে রয়েছে।
মিশিগানকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পেলেও সাধারণ নির্বাচনে এল সাইদের সামনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে।
নভেম্বরের ফলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ও জড়িয়ে আছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মুসলিম ইউএস সিনেটর নির্বাচিত হননি।
সেই ইতিহাস পরিবর্তনের সুযোগ এখন আবদুল এল সাইদের সামনে। মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের এই সন্তান শুধু মিশিগানের নতুন সিনেটরই হবেন না, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে ইউএস সিনেটে প্রবেশ করবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিলান শান আশারের (২২) সন্ধান চেয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোর আড়াইটার দিকে কলেজ পার্কে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পার্কিং গ্যারেজে তাঁকে শেষবার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যে তাঁর সন্ধান মেলেনি। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর দুইটার দিকে দিলান তাঁর বাসা থেকে বের হন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর টেরাপিন ট্রেইল গ্যারেজের ক্যামেরায় তাঁকে দেখা যায়। এরপর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি। দিলানের পরিবার তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকে জানায়। প্রথমে প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, তাঁকে সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর দেখা গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ ২ অক্টোবরের নতুন তথ্য পায়। সর্বশেষ দেখার সময় হিসেবে এখন ওই ফুটেজের তথ্যই ব্যবহার করছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। শেষবার দেখা যাওয়ার সময় দিলানের পরনে ছিল মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো হুডি, ধূসর প্যান্ট ও সাদা জুতা। পুলিশের দেওয়া বর্ণনায় তাঁর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৮৫ পাউন্ড। পুলিশ তাঁকে গুরুতর উদ্বেগজনক নিখোঁজ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। দিলানের মা বিনিতা আশার ছেলের খোঁজে সবার সহায়তা চেয়েছেন। ছেলের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি ফিরলে তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না - পরিবার শুধু তাঁকে নিরাপদে ফিরে পেতে চায়। দিলানকে দেখে থাকলে বা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে ৩০১-৪০৫-৩৫৫৫ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। সূত্র: মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি পুলিশের তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়ে ১২ হাজার ডলারের রোলেক্স কিনতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টে ধরা নারী
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্কে ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম, সাবস্ক্রিপশন বাতিল হবে এক ক্লিকেই
যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটির বেশি প্রবীণকে এককালীন ৯০ ডলার দিচ্ছেন ট্রাম্প, মেডিকেয়ারের প্রিমিয়াম কমাতে উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। শনিবার (৩ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বিল লি এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চলতি মাসেই নিজ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন স্ট্রাডা। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা লিথাল ইনজেকশনের মাধ্যমে ক্রিস্টা পাইক নামের ওই নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় তাঁকে দুই দফায় পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। উল্টো সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইনজীবীদের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার সময় তাঁকে জোরে জোরে শ্বাস নিতে ও কাঁদতে দেখা যায় এবং বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটরের সাহায্যে বেঁচে আছেন। কারাপ্রধান স্ট্রাডা তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুই ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার পরও আসামির বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় টেনেসিবাসী তথা বৃহত্তর স্বার্থে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডটি কার্যকর হলে তিনি হতেন গত ২০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম নারী। কিন্তু এই বিরল ব্যর্থতার পর তাঁর আইনজীবীরা সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে কারাপ্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, এই পদত্যাগ ক্রিস্টার কোনো উপকারে আসবে না। বুধবারের এই ঘটনা সম্পূর্ণ পদ্ধতিগত ব্যর্থতার প্রমাণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যবস্থায় থাকা বড় ধরনের ত্রুটিগুলো সামনে আসবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সব আলামত সংরক্ষণের জন্য আইনজীবীরা শুক্রবার একটি জরুরি আবেদনও দাখিল করেছেন। এদিকে টেনেসির কারা বিভাগ তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতির পক্ষেই সাফাই গেয়েছে। তাদের দাবি, যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, প্রোটোকল তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো প্রক্রিয়ার অনুমোদন দেয় না। তবে ঠিক কী কারণে এই ব্যর্থতা এবং পুনরায় ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থতার মাঝেও থামেনি ভালোবাসা, হাসপাতালের বেডেই বিয়ে ৭৯ বছরের যুগলের
যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট দখলের লড়াইয়ে নতুন উত্তেজনা, দুই রিপাবলিকান ঘাঁটিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রে আটলান্টা গণহ ত্যার ১২০ বছর, গুজবের ভ য়াবহতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা যমজ ভাই ডা. ট্রাভান এবং ডা. ট্র্যাভিস জ্যাসপার এখন নিজ শহরেরই একটি স্বনামধন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই ভাই বর্তমানে রিচমন্ডের চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নিজ শহরে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছানোর অনুভূতি প্রকাশ করে ট্র্যাভিস গণমাধ্যমটিকে জানান, ৪০ বছর আগে এমন কোনো স্বপ্নের কথা তিনি কল্পনাও করতে পারতেন না। নিজেদের শৈশবের কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ট্রাভান জানান, একসময় তাদের বাড়িতে কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা ছিল না। দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করার জন্য তাদের স্থানীয় পার্কের ওপর নির্ভর করতে হতো। তীব্র খাবার সংকটের মধ্যে দিন পার করলেও তাদের ভেতরে সফল হওয়ার প্রবল ক্ষুধা ছিল। কারণ তারা গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, এই চরম দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির একটাই উপায়, আর তা হলো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। চিকিৎসাপেশায় আসার পেছনে ১২ বছর বয়সের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা এই দুই ভাইকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। সে সময় মদ্যপানজনিত লিভার ফেইলিওরে আক্রান্ত এক চাচাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ ও খারাপ মন্তব্য তাদের ভীষণভাবে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। সেদিনই হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুই ভাই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ভবিষ্যতে তারা এমন চিকিৎসক হবেন, যারা রোগী ও তাদের পরিবারের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল এবং মানবিক আচরণ করবেন। নিজেদের সেই শৈশবের প্রতিজ্ঞা পূরণে তারা পড়াশোনায় অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। হাইস্কুল থেকে কো-ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিজেদের ডিগ্রি অর্জন করেন। শৈশবের সেই প্রতিজ্ঞার কয়েক দশক পর, গত এপ্রিলে তারা নিজ শহর রিচমন্ডে ফিরে আসেন এবং চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে একযোগে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবিকল একই রকম দেখতে হওয়ায় রোগী ও সহকর্মীদের সুবিধার্থে তারা কর্মক্ষেত্রে সবসময় ভিন্ন রঙের (সবুজ ও বেগুনি) স্ক্রাব পরিধান করেন। শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তারা একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং একই ভবনে বসবাস করেন। ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে ট্র্যাভিস বলেন, অতীতের সেই চরম প্রতিকূল দিনগুলোই আজকের এই সফল ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে তাদের গড়ে তুলেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ধ্বংসস্তূপে গড়ে উঠল ১৪ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন