সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ বছরের ছেলেকে হত্যার অভিযোগে মায়ের মানসিক অসুস্থতার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৬:৩৭
অভিযুক্ত মা ছবি:সংগৃহীত
অভিযুক্ত মা ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামের ৪১ বছর বয়সী অ্যান্ড্রিয়া ফস্টের বিরুদ্ধে ৩ বছরের ছেলেকে হত্যার এবং ২ বছরের আরেক ছেলেকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মামলায় ফস্টের আইনজীবীরা এখন মানসিক অসুস্থতার কারণে দায়ী নন - এমন আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

ঘটনাটি ঘটে ১২ ফেব্রুয়ারি। ডারহামের চার্টওয়েল কোর্টের বাড়িতে দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর পুলিশ তাদের হাসপাতালে নেয়। সেখানে এক শিশুর মৃত্যু হয়, অন্যজন বেঁচে যায়। ফস্টকে পরদিন প্রথম-ডিগ্রি হত্যা ও প্রথম-ডিগ্রি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ঘটনার পর আদালতে ফস্টের স্বামী এরিক ফস্ট জানান, তার স্ত্রী গুরুতর মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে নিজের ক্ষতি না করার অনুরোধ করেন এবং তাকে একজন যত্নশীল মা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে পুলিশ এখনো ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি।

 

মামলার পর ফস্ট নিজেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে আদালতের নথি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি আত্মহত্যার চেষ্টায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। পরে তাকে মানসিক চিকিৎসার জন্য নর্থ ক্যারোলাইনার একটি রাষ্ট্রীয় মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

মার্চে একজন বিচারক রায় দেন, ফস্ট তখন বিচারের মুখোমুখি হওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। তাকে নিবিড় মানসিক চিকিৎসা ও মূল্যায়নের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

এদিকে ২০ আগস্ট তার আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক অসুস্থতার কারণে দায়ী নন - এমন আবেদন করার উদ্যোগের কথা জানান। এর ফলে মামলাটি আবারও মানসিক স্বাস্থ্য, অপরাধমূলক দায় এবং বিচারিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

 

ঘটনাটিকে ম্যাসাচুসেটসের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধেও সন্তান হত্যার অভিযোগ রয়েছে এবং তার মামলায় মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই চলছে। তবে দুই ঘটনার পরিস্থিতি এক নয় এবং একইভাবে বিচার করা উচিত নয়।

 

ফস্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার মানসিক অবস্থা ও অপরাধের জন্য আইনি দায়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের সাবওয়ে স্টেশনে গিটার বাজিয়ে অভিনব উপায়ে করপোরেট চাকরি খুঁজছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ট্রেন স্টেশনে গিটার বাজিয়ে চাকরির খোঁজে বাংলাদেশি তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ট্রেন স্টেশনে গিটার হাতে গান পরিবেশন করে আর্থিক সহায়তা ও করপোরেট চাকরির সুযোগ খুঁজছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। তাঁর এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি অনলাইনে আলোচনায় এসেছে। তবে ওই তরুণের পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তিনি ঠিক কোন স্টেশনে গান পরিবেশন করছিলেন, তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও পোস্টে দেখা যায়, গিটার বাজিয়ে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন। পোস্টে তাঁকে বাংলাদেশি গিটারিস্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে, জীবনের বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি একটি করপোরেট চাকরির সুযোগ পাওয়ার আশায় তিনি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।   নিউইয়র্কের ব্যস্ত ট্রেন ও সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে সংগীত পরিবেশন নতুন কোনো ঘটনা নয়। শহরের বিভিন্ন স্টেশনে নিয়মিত শিল্পীদের গান, গিটার, বেহালা, ড্রামসহ নানা ধরনের পরিবেশনা দেখা যায়। অনেক শিল্পী পথচারীদের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় দেওয়া অর্থ গ্রহণ করেন, আবার কেউ কেউ নিজেদের সংগীত প্রতিভা পরিচিত করানোর মাধ্যম হিসেবেও এসব জায়গাকে ব্যবহার করেন।   তবে আলোচিত বাংলাদেশি তরুণের ঘটনাটি অন্য কারণে নজর কেড়েছে। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর লক্ষ্য শুধু সংগীত পরিবেশন করে অর্থ সংগ্রহ নয়। একই সঙ্গে তিনি একটি পেশাগত সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশাও প্রকাশ করছেন। ফলে ঘটনাটি একজন প্রবাসীর কর্মসংস্থান খোঁজার সংগ্রাম এবং নিজের দক্ষতাকে ব্যবহার করে মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে নতুন অভিবাসীদের অনেকেই নিজের শিক্ষা ও আগের কর্মঅভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পেতে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেন। ভাষা, স্থানীয় অভিজ্ঞতা, পেশাগত যোগাযোগ এবং চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে সেই পথকে কঠিন করে তুলতে পারে। তবে আলোচিত গিটারিস্টের ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে তিনি বর্তমানে চাকরি খুঁজছেন বা তাঁর পেশাগত পটভূমি কী, সে বিষয়ে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলে বিভিন্ন পোস্টে দেখা যাচ্ছে। কেউ তাঁর সংগীত প্রতিভার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব প্রতিক্রিয়ার সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   এ ধরনের ঘটনায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগে পরিচয় ও অনুদান গ্রহণের মাধ্যম যাচাই করার পরামর্শই সাধারণভাবে প্রযোজ্য। বিশেষ করে ভাইরাল পোস্টের সঙ্গে দেওয়া কোনো পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য ব্যবহার করার আগে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কি না নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী। ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, পরিবহন, সরকারি চাকরি এবং করপোরেট খাতসহ বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ রয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন অভিবাসীদের চাকরি খোঁজা ও পেশাগতভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামের ঘটনাও প্রায়ই সামনে আসে।   নিউইয়র্কের ট্রেন স্টেশনে গিটার বাজানো এই বাংলাদেশি তরুণের ঘটনাটি তাই শুধু একটি সংগীত পরিবেশনের ভিডিও হিসেবে নয়, বরং জীবিকার সন্ধানে নিজের প্রতিভাকে সামনে আনার একটি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা হিসেবেও মানুষের নজর কাড়ছে। তাঁর পরিচয় ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে এলে ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১১:৩৭
অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসক উইন্ডেল ডেভিস বুটের নাচ-গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অপারেশনের সময় টিকটকে নাচের ভিডিও, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত

ফোর্ট হুড কা ণ্ডে নিদাল হাসানের সাজা কার্যকরের অনুমোদন

ফোর্ট হুডের আলোচিত হা ম লা, ফা য়া রিং স্কোয়াডে নিদাল হাসানের মৃ ত্যু দ ণ্ডে অনুমোদন ট্রাম্পের

মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের প্রচারে বারাক ওবামা

মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইদের পাশে ডেট্রয়েটে প্রচারে নামছেন ওবামা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ক্যাটারিং ব্যবসার সম্ভাবনা
নিউ ইয়র্কে ক্যাটারিং বিজনেস শুরু করতে চান? বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ধাপে পূর্ণ গাইড

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বিয়ে, আকিকা, জন্মদিন কিংবা অফিস পার্টিতে বিরিয়ানি, কাবাব, রোস্টসহ দেশি খাবারের চাহিদা রয়েছে। অনেকেই পরিচিতজনের অর্ডার নিয়ে নিজের বাসার রান্নাঘর থেকেই ছোট পরিসরে এই ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবেন। তবে মাংস, মাছ বা এমন খাবার, যেগুলো নিরাপদ রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ প্রয়োজন, সেগুলো নিউইয়র্কের সাধারণ হোম প্রসেসর ছাড়ের আওতায় পড়ে না। ফলে নিয়মিত ক্যাটারিং ব্যবসা করতে চাইলে শুরুতেই বৈধ ব্যবসায়িক কাঠামো, অনুমোদিত রান্নাঘর, স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুমতি এবং করসংক্রান্ত নিয়ম বুঝে এগোতে হবে।   প্রথমেই ব্যবসার আইনি কাঠামো ঠিক করতে হবে। কেউ একক মালিকানা, অংশীদারি ব্যবসা বা এলএলসি হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। এলএলসি করলে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে ‘আর্টিকেলস অব অর্গানাইজেশন’ জমা দিতে বর্তমানে ২০০ ডলার ফাইলিং ফি লাগে। নিউইয়র্কে অধিকাংশ নতুন এলএলসিকে প্রতিষ্ঠার পর নির্ধারিত দুটি সংবাদপত্রে টানা ছয় সপ্তাহ নোটিশ প্রকাশ করতে হয়। এরপর ১২০ দিনের মধ্যে ‘সার্টিফিকেট অব পাবলিকেশন’ জমা দিতে হয়। এই সার্টিফিকেট জমার সরকারি ফি ৫০ ডলার। তবে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশের খরচ কাউন্টি ও পত্রিকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই এ খাতে নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে বাজেট করা ঠিক হবে না।   এরপর ব্যবসার জন্য আইআরএস থেকে ‘ইআইএন’ নেওয়া যায়। কর্মী নিয়োগ, ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিভিন্ন কর ও প্রশাসনিক কাজে এই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। তবে শুধু এলএলসি করলেই ব্যক্তিগত দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। ব্যবসার কাঠামো, চুক্তি, বীমা এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অর্থ আলাদা রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।   ক্যাটারিং ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোথায় খাবার তৈরি হবে। নিউইয়র্ক স্টেটের ‘হোম প্রসেসর এক্সেম্পশন’ নির্দিষ্ট কিছু অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকির খাবারের জন্য প্রযোজ্য। কিছু বেকড পণ্য, ক্যান্ডি, গ্র্যানোলা বা এ ধরনের অনুমোদিত খাবার ঘরে তৈরি করা গেলেও মাংস, মাছ, পোলট্রি এবং যেসব খাবার ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেগুলো এই ছাড়ের আওতায় নেই।   ফলে বিরিয়ানি, মাংসের কারি, রোস্ট বা কাবাবের মতো পূর্ণাঙ্গ ক্যাটারিং মেনু বাসার রান্নাঘরে তৈরি করে সাধারণ হোম প্রসেসর অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।   এ ধরনের ব্যবসার জন্য অনুমোদিত বাণিজ্যিক বা শেয়ার্ড কিচেন ব্যবহার করা একটি প্রচলিত পথ। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ার্ড কিচেন ব্যবহার করেও খাবারের ব্যবসা চালাতে ‘ফুড সার্ভিস এস্টাবলিশমেন্ট পারমিট’ প্রয়োজন হতে পারে। বেশিরভাগ লাভজনক খাবার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পারমিটের বর্তমান বার্ষিক ফি ২৮০ ডলার। শেয়ার্ড কিচেনে জায়গা ভাড়া নিয়ে কাজ করা শেফ বা রাঁধুনির ক্ষেত্রেও ২৮০ ডলারের পারমিট ফি প্রযোজ্য বলে সিটির আবেদনপত্রে উল্লেখ আছে।   একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, সম্পূর্ণ আবেদন জমা দেওয়ার ২২ দিন পর ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ রয়েছে, পারমিট তখনও হাতে না এলেও। তবে এর অর্থ এই নয় যে স্বাস্থ্যবিধির অন্য শর্তগুলো উপেক্ষা করা যাবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন পরবর্তী সময়ে পরিদর্শন করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যবিধির সব শর্ত পূরণ করতে হবে। ২২ দিনের আগেই ব্যবসা চালু করতে চাইলে প্রি-অপারেটিং ইন্সপেকশনের ব্যবস্থা করতে হয়।   খাবার তৈরির সময় একজন যোগ্য ‘ফুড প্রোটেকশন সার্টিফিকেট’ধারী ব্যক্তির উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির অনলাইন ‘ফুড প্রোটেকশন কোর্স’ বিনামূল্যে করা যায়। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বর্তমানে প্রায় ২৪ ডলার ফি রয়েছে এবং পরীক্ষা সরাসরি নির্ধারিত কেন্দ্রে দিতে হয়। যে ব্যক্তি খাবার তৈরির কার্যক্রম তদারকি করবেন, তাকে প্রতিষ্ঠান চালু থাকা অবস্থায় খাদ্য প্রস্তুতির কাজের ওপর নজর রাখতে হয়।   করসংক্রান্ত বিষয়ও শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি। নিউইয়র্কে যেসব ব্যবসা করযোগ্য পণ্য বা সেবা বিক্রি করে, তাদের নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স থেকে ‘সার্টিফিকেট অব অথরিটি’ নিতে হয়। সাধারণভাবে ব্যবসা শুরু করার অন্তত ২০ দিন আগে এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে বলা হয়।   ক্যাটারিংয়ের ক্ষেত্রে খাবার, পানীয় এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত অধিকাংশ খরচ করের আওতায় পড়ে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আলাদা করে দেখানো সার্ভিস চার্জ বা অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচও পুরো ক্যাটারিং বিলের করযোগ্য অংশ হতে পারে।   কর্মী থাকলে বীমার নিয়মও গুরুত্ব দিতে হবে। নিউইয়র্কের সরকারি পারমিট বা লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী ব্যবসাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘ওয়ার্কার্স কমপেনসেশন’, ‘ডিসঅ্যাবিলিটি’ এবং ‘পেইড ফ্যামিলি লিভ’ কভারেজের প্রমাণ দিতে হয়। তবে সব ব্যবসার পরিস্থিতি এক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে কভারেজ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য হলে নির্ধারিত এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে পারে। ফলে কর্মী নেই এমন ছোট ব্যবসা এবং কর্মীসহ ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক হবে না।   অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের পরিকল্পনা থাকলে আলাদা লাইসেন্সের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেট লিকার অথরিটির ‘অফ-প্রিমাইসেস ক্যাটারিং এস্টাবলিশমেন্ট লাইসেন্স’-এর বর্তমান ফি নিউইয়র্ক, কিংস, ব্রঙ্কস ও কুইন্স কাউন্টিতে ৩ হাজার ১০২ ডলার। এর মধ্যে ২০০ ডলারের ফাইলিং ফি অন্তর্ভুক্ত। তবে কোন ধরনের অনুষ্ঠানে কোন লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, সেটি ব্যবসার কার্যক্রম এবং অ্যালকোহল বিক্রির ধরন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।   কর্মী নিয়োগ করলে বেতনের নিয়মও মাথায় রাখতে হবে। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭ ডলার। হসপিটালিটি শিল্পের যোগ্য খাবার পরিবেশনকারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নগদ মজুরি ঘণ্টায় ১১ দশমিক ৩৫ ডলার এবং সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৬৫ ডলার টিপ ক্রেডিট মিলিয়ে ১৭ ডলারের ন্যূনতম মজুরি পূরণ করা যায়। তবে টিপ পেলেই সব কর্মীর ক্ষেত্রে এই কম নগদ মজুরি প্রযোজ্য হবে—এমন নয়।   আরেকটি পরিবর্তন এসেছে বাণিজ্যিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। নিউইয়র্ক সিটির ‘কমার্শিয়াল ওয়েস্ট জোনস’ কর্মসূচি ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় চালু হচ্ছে। কোনো এলাকার বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে সেখানকার ব্যবসাকে ওই জোনের অনুমোদিত বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। তবে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পুরো শহরের সব জোন একই সময়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাই ব্যবসার ঠিকানা কোন জোনে পড়ছে এবং সেখানে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে ক্যাটারিং ব্যবসা শুরু করতে সবার জন্য একই ধরনের নির্দিষ্ট মোট খরচ নেই। এলএলসি ফাইলিং, প্রকাশনা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পারমিট, কিচেন ভাড়া, বীমা, বর্জ্য সংগ্রহ, কর্মী এবং প্রয়োজন হলে অ্যালকোহল লাইসেন্সের কারণে বাজেট দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই কয়েক হাজার ডলারের একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজকে সরকারি বাধ্যতামূলক খরচ হিসেবে ধরে নেওয়ার বদলে প্রতিটি খাত আলাদাভাবে হিসাব করাই নিরাপদ।   বাংলাদেশি কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে ছোট পরিসরে শুরু করতে চাইলে আগে বৈধ কিচেন ও প্রয়োজনীয় পারমিট নিশ্চিত করে সীমিত মেনু দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। মেনুতে প্রতি ট্রে বা প্রতি ব্যক্তির দাম, সর্বনিম্ন অর্ডার, ডেলিভারি চার্জ এবং কতজনের খাবার হবে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করলে গ্রাহকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি কমে। একই সঙ্গে প্রতিটি অর্ডারের চালান, বিক্রয় কর এবং ব্যবসার আয়-ব্যয়ের রেকর্ড নিয়মিত সংরক্ষণ করা উচিত।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাসার রান্নাঘর থেকে পরিচিতজনকে খাবার দেওয়া আর নিয়মিত বাণিজ্যিক ক্যাটারিং পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। অর্ডার বড় হওয়ার আগেই ব্যবসার কাঠামো, অনুমোদিত কিচেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক পারমিট, ফুড প্রোটেকশন সার্টিফিকেট, বিক্রয় করের নিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় বীমা গুছিয়ে নিলে পরে জরিমানা বা ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।   তবে নিয়ম ও ফি পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৭:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রে আপনার নামে থাকা অদাবিকৃত টাকা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে আপনার নামে টাকা পড়ে আছে অথচ জানেন না, খুঁজে দেখবেন যেভাবে

নিউইয়র্কে ১০ হাজারের বেশি শিশুর জন্য চাইল্ড কেয়ার সহায়তা

নিউইয়র্কে অপেক্ষমাণ ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চাইল্ড কেয়ার ভাউচার দেবে সিটি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা বোর্ড অব নার্সিংয়ে র‍্যানসমওয়্যার হামলার ঘটনায় নার্স ও লাইসেন্স আবেদনকারীদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ড্রাইভার লাইসেন্স নম্বর ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও রয়েছে। ২ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানিয়েছে, হামলাকারীরা কিছু তথ্য সংগ্রহ ও ডাউনলোড করেছে বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সবার তথ্য আক্রান্ত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা যায়নি।    বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে গত আগস্টে তাদের প্রযুক্তিব্যবস্থায় সন্দেহজনক কার্যক্রমের সন্ধান পাওয়া যায়। ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থার কিছু অংশে ক্ষতিকর কার্যক্রমের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। ওই দিন থেকে বোর্ডের সেবা ব্যাহত হতে শুরু করে।   ঘটনার পর আলাবামা অফিস অব ইনফরমেশন টেকনোলজি ও বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ শুরু করে বোর্ড। তদন্তে এফবিআই এবং আলাবামা ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিকেও সহযোগিতা করছে কর্তৃপক্ষ।   বোর্ড জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় হামলার বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আক্রান্ত সিস্টেমগুলো অফলাইনে নিয়ে ধাপে ধাপে নিরাপদ সেবা চালুর কাজ চলছে। তবে র‍্যানসমওয়্যার হামলার কারণে তদন্তে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় ঠিক কার কোন তথ্য দেখা বা নেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে নাম, জন্মতারিখ এবং পেশাগত লাইসেন্সের তথ্যও রয়েছে।    নার্স ও আবেদনকারীদের অপ্রত্যাশিত ইমেইল, টেক্সট মেসেজ এবং ফোনকলের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে বোর্ড। লাইসেন্স নবায়ন, ফি, তদন্ত বা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের কথা বলে কেউ যোগাযোগ করলে যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া কিংবা পাঠানো লিংকে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বোর্ডের পোর্টালে ব্যবহৃত একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করে থাকলে তা পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাই চালু রাখা এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট রিপোর্ট ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের হিসাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   পরিচয় চুরির ঝুঁকি কমাতে ক্রেডিট ফ্রিজ বা ফ্রড অ্যালার্ট বিবেচনা করতেও বলা হয়েছে। বোর্ড স্পষ্ট করেছে, তারা নিজে থেকে ইমেইল, টেক্সট মেসেজ বা অপ্রত্যাশিত ফোনকলের মাধ্যমে কারও পাসওয়ার্ড চাইবে না।    সেবা পুনরুদ্ধারের মধ্যেই বোর্ডের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রেজিস্টার্ড নার্সদের লাইসেন্স নবায়নের কাগজের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। ২০২৬ সালের নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট নার্সদের বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।    সূত্র: আলাবামা বোর্ড অব নার্সিংয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ও সেবাসংক্রান্ত হালনাগাদ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৩:৪৯
অ্যাপ্লিকেশন ফি দিতে সমস্যা? যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে চাইবেন ফি ওয়েভার

অ্যাপ্লিকেশন ফি দিতে সমস্যা? যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে চাইবেন ফি ওয়েভার, জেনে নিন

৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে, লক্ষ্য নিউরোলজিস্ট হওয়া

৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে, লক্ষ্য নিউরোলজিস্ট হওয়া

কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সেন্টার ফর ন্যানোটেকনোলজির পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণায় বাংলাদেশি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, পেলেন ৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন

0 Comments