সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও চারজন, কে পাচ্ছেন কোন মন্ত্রণালয়?

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৬:৫৮
আলোচিত মন্ত্রীরাসভার সদস্যরা।ছবি:সংগৃহীত
আলোচিত মন্ত্রীসভার সদস্যরা।ছবি:সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরও চারজনকে যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়াবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে জানা গেছে।

 

নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

 

তবে চারজনের দায়িত্ব ও দপ্তর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি ও দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাদের দুজনই বিভিন্ন মাধ্যমে এ ধরনের আলোচনার কথা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন, তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

 

আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে আন্দালিব রহমান পার্থকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

এর পাশাপাশি সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদলের বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিমান, কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্থানীয় সরকার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। তবে এসব পরিবর্তনও এখনো চূড়ান্ত নয়।

 

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে এই ফলাফল পাওয়া যায়।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরই মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পুনর্বণ্টনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনার অংশ হিসেবেও মন্ত্রিসভায় সীমিত পরিবর্তনের আলোচনা চলছে।

 

তবে নতুন মন্ত্রীদের শপথ এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য দায়িত্বগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
সিরাজগঞ্জে অসহায় ও দরিদ্র ১৫৬ মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে অনন্য নজির গড়েছেন সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
দুর্গম চর থেকে গ্রামগঞ্জ, ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ সিরাজগঞ্জের মামুন

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ জন অসহায়, দরিদ্র ও অভিভাবকহীন মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সিরাজগঞ্জের সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিতজনদের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহ করে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মেয়েদের বিয়ের আয়োজন করে দিচ্ছেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাঁকে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ বলে ডাকেন।    মামুন বিশ্বাস সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। যেসব পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে পারছিল না, তাদের জন্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর সেই অর্থ দিয়ে বিয়ের প্রয়োজনীয় আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। এভাবে এখন পর্যন্ত ১৫৬টি মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    সম্প্রতি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুই মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন মামুন। ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করেন তিনি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেই অর্থে আতিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়।    এর ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর কামারখন্দের জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের বিয়ের দায়িত্ব নেন মামুন বিশ্বাস। আর্থিক সংকটের কারণে এর আগে একাধিকবার সুচিত্রার বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। পরে মামুনের উদ্যোগে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুচিত্রার বিয়েতে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় হয়।    শুধু নিজ এলাকার মধ্যেই তাঁর এই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল, চৌহালী, বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। বিয়ের পরও তাঁদের নিজের মেয়ের মতো দেখেন বলে জানিয়েছেন মামুন। আর এই সম্পর্ক থেকেই স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁর ‘বাবা’ পরিচিতি তৈরি হয়েছে।    তবে এতগুলো বিয়ের কৃতিত্ব একা নিজের বলে মনে করেন না মামুন বিশ্বাস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মানবিক কাজের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ফেসবুক বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। তিনি মূলত মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন পৌঁছে দেন এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া সহযোগিতা একত্র করে প্রয়োজনমতো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও আরও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।    মামুনের সামাজিক কর্মকাণ্ড শুধু মেয়েদের বিয়ের আয়োজনের মধ্যেই সীমিত নয়। জাতীয় তাঁতী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছামাদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, খাবার বিতরণ এবং গবাদিপশু কিংবা দোকান দিয়ে পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। নিজের গ্রামে পাখির জন্য একটি অভয়াশ্রমও গড়ে তুলেছেন মামুন বিশ্বাস।    প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ১৫৬টি বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি মামুন বিশ্বাস এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি বিয়ের আলাদা নথি বা সরকারি কোনো তালিকার তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে সাম্প্রতিক আতিয়া ও সুচিত্রার বিয়েসহ তাঁর কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন উদাহরণ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।   ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কারণে মামুন বিশ্বাস এখন সিরাজগঞ্জের পরিচিত সমাজকর্মীদের একজন। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের পাশে অভিভাবকের ভূমিকায় দাঁড়ানোর এই উদ্যোগই তাঁকে স্থানীয় মানুষের কাছে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, মানবিক কাজে মানুষের সহযোগিতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।   সূত্র: ইত্তেফাক

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১০:৪৯
ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর সম্ভাবনা

খাদ্য ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর বড় সুযোগ দেখছে বিশ্বব্যাংক

ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন সময়সূচি

ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সময়সূচি ও নিয়ম

মন্টিনেগ্রোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন সুযোগ

পর্যটন, নির্মাণ ও চিকিৎসা খাতে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কর্মী নেবে মন্টিনেগ্রো

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গবেষণায়, এখন কমনওয়েলথ স্কলারশিপে কেমব্রিজে শরূপ
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গবেষণায়, এখন কমনওয়েলথ স্কলারশিপে কেমব্রিজে শরূপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ মো.শরূপ হাসান আনন্দ উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজে জায়গা করে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ৪.০০-এর মধ্যে পূর্ণ ৪.০০ সিজিপিএ অর্জনের পর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কেমব্রিজে এমফিল করতে যাচ্ছেন তিনি। তার উচ্চশিক্ষার এই যাত্রায় রয়েছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপের অর্থায়ন।   কেমব্রিজে শরূপ এমফিল ইন বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বাই অ্যাডভান্সড স্টাডি প্রোগ্রামে পড়বেন। তার বিশেষায়িত ক্ষেত্র ইনফেকশন বায়োলজি অ্যান্ড মলিকিউলার ইমিউনোলজি। কেমব্রিজে অধ্যয়নকালে তিনি ঐতিহাসিক ম্যাগডালেন কলেজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।   কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইনফেকশন বায়োলজি অ্যান্ড মলিকিউলার ইমিউনোলজি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কমনওয়েলথের অর্থায়নের আওতায় থাকা এমফিল ক্ষেত্রগুলোর একটি। এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষায় সংক্রমণ, রোগজীবাণু ও মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে গভীরভাবে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।   শরূপের একাডেমিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে ঢাকাতেই। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে। এরপর ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু করেন। ২০২৫ সালে তিনি সর্বোচ্চ ৪.০০ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শরূপ। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু আশফাকুর সাজিবের গবেষণাগারে কাজ করেন তিনি। সেখানে রোগজীবাণুর আচরণ, মানবদেহে রোগজীবাণু প্রবেশের পর প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া এবং আণবিক পর্যায়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।   এই গবেষণার অভিজ্ঞতাই পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। কেমব্রিজে তার পড়াশোনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হবে হোস্ট-প্যাথোজেন ইন্টারঅ্যাকশন, অর্থাৎ রোগজীবাণু ও আক্রান্ত মানবদেহের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক। একই সঙ্গে সংক্রামক জীবাণু কীভাবে মানবদেহকে আক্রান্ত করে এবং শরীরের ইমিউন সিস্টেম কীভাবে সেই আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেসব বিষয় নিয়েও তিনি উচ্চতর পর্যায়ে কাজ করবেন।   ইনফেকশন বায়োলজি ও মলিকিউলার ইমিউনোলজি আধুনিক জীববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র। সংক্রামক রোগের কার্যপ্রক্রিয়া বোঝা, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ এবং আণবিক পর্যায়ে সংক্রমণের বিভিন্ন ধাপ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই ক্ষেত্রের গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শরূপের আগের গবেষণা অভিজ্ঞতার সঙ্গেও এই বিশেষায়িত শিক্ষার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ফল অর্জন থেকে কেমব্রিজে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পাওয়া পর্যন্ত শরূপের এই পথচলা বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে অর্জিত অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে জীববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার নতুন অধ্যায় শুরু করছেন।   সূত্র: দ্যা এক্সিলেন্স অফ ঢাকা ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ০:১৭
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে অজ্ঞাত ঠিকানা থেকে ইমেইল পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি, তদন্তে ডিবির সাইবার ইউনিট

সৌদি আরবের জুবাইলে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলায় বাংলাদেশি প্রবাসী সজিবের মৃ ত্যু হয়েছে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে

সৌদিতে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলায় কুমিল্লার প্রবাসী সজিবের মৃ ত্যু

মেলবোর্ন থেকে বাংলাদেশি খাবার ও রান্নার ঐতিহ্য বিশ্বজুড়ে তুলে ধরছেন কুমকুম কালাম

ছোট থেকেই ১৫ জনের রান্না একাই করতেন, 'ইউর লিল কুক' কুমকুমের স্বপ্ন এখন বিশ্বজুড়ে বাংলা খাবার

ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তের মৃ ত্যু দ ণ্ড চাইছে প্রসিকিউশন
লিমন-বৃষ্টি হ ত্যা মা ম লায় মৃ ত্যু দ ণ্ড চাইছে ফ্লোরিডার প্রসিকিউশন, বি চার নির্ধারিত ২০২৭ সালে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃ ত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহর মৃ ত্যুদ ণ্ড চাইছে প্রসিকিউশন। হিলসবরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তর গত ৮ মে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেয়। মামলার বি চার এখনো শুরু হয়নি; মৃ ত্যুদ ণ্ডের কোনো রায়ও হয়নি।   লিমন ও বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করছিলেন। ২৭ বছর বয়সী এই দুই শিক্ষার্থীকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা যায়। পরে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে লিমনের মৃ ত দে হ এবং কাছাকাছি পানিতে বৃষ্টির মৃ ত দে হ পাওয়া যায়। তদ ন্তের পর লিমনের ক্যাম্পাসের বাইরের বাসার সাবেক সহবাসী, ২৬ বছর বয়সী আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে হ ত্যা র অ ভি যোগ আনা হয়। মে মাসে গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি অ ভি যোগে বি চার শুরুর অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ স্ত্র ব্যবহার করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুজনকে হ ত্যা করার দুটি অ ভি যোগ রয়েছে। প্রমাণ ন ষ্ট করা, মৃ ত দে হ অবৈধভাবে সরানো এবং মৃ ত্যুর তথ্য গোপনের অ ভি যোগও আনা হয়েছে। স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তরের দাবি, ফ্লোরিডার আইনে মৃ ত্যুদ ণ্ড চাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুতর পরিস্থিতি এ মামলায় রয়েছে। এগুলো প্রসিকিউশনের অবস্থান; আ দা লতে অ ভি যোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি। ১৮ মে আবুগারবিয়েহ আইনজীবীর মাধ্যমে অ ভি যোগ অস্বীকার করে লিখিত বক্তব্য দেন। প্রকাশিত আ দা লতসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, জু রি বি চার শুরুর তারিখ ৩ নভেম্বর ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে এ সূচি বদলাতে পারে। ফলে মে মাসের মৃ ত্যুদ ণ্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত বা ২০২৭ সালের বি চারসূচিকে নতুন কোনো রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এদিকে মে মাসেই লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা। ৮ মে সমাবর্তনে তাঁদের স্মরণে পোশাকসহ দুটি খালি চেয়ার রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষে ডিগ্রিগুলো গ্রহণ করেন মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিবিষয়ে এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গবেষণা করছিলেন। সূত্র: হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তর, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ও ডব্লিউইউএসএফ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৭:৮
২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা ইতালির

১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি কর্মী নিচ্ছে ইতালি, বাংলাদেশিদের জন্যও থাকছে বড় সম্ভাবনা

এইচওয়াই ৪ বৈদ্যুতিক বিমানের গবেষণায় চট্টগ্রামের মেয়ে দেবযানী ঘোষ

এইচওয়াই ৪ বৈদ্যুতিক বিমানের গবেষণায় চট্টগ্রামের মেয়ে দেবযানী ঘোষ

রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত ৪ সাংবাদিক, পরিস্থিতি সামলাতে না পারার কথা জানালেন প্রক্টর

রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত ৪ সাংবাদিক, পরিস্থিতি সামলাতে না পারার কথা জানালেন প্রক্টর

0 Comments