সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

সিলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর রহমান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২:১২
সিলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর রহমান
সিলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর রহমান

একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ছিল মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমানের। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান এএমডিতে চিপ নকশাবিদ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। চাইলে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারতেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল ভিন্ন। বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের নিয়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যারা সরাসরি বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য কাজ করবে।

 

সেই স্বপ্ন থেকেই ২০০৭ সালে ঢাকায় মাত্র চারজন প্রকৌশলী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ইউএলকাসেমি। প্রায় দুই দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ৬০০-এর বেশি নকশা প্রকৌশলীর একটি আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর নকশা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি বা টিএসএমসির নকশা কেন্দ্র জোটের অংশ।

 

এনায়েতুর রহমানের এই গল্প তাই শুধু একজন প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশে উচ্চপ্রযুক্তির একটি নতুন শিল্প গড়ে তোলার দীর্ঘ প্রচেষ্টারও গল্প।

 

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এনায়েতুর রহমান। পরে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। একপর্যায়ে তিনি সিলিকন ভ্যালিতে পৌঁছান এবং এএমডিতে সেমিকন্ডাক্টর চিপ নকশাবিদ হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে কাজের সুবাদে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের দ্রুত পরিবর্তন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি।

 

সিলিকন ভ্যালিতে থাকতেই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তাঁরাও কি বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কাজ করতে পারবেন না? দেশের বড় তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী তৈরির সক্ষমতা তাঁকে সেই সম্ভাবনার ওপর আস্থা রাখতে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি।

 

২০০৭ সালে ঢাকায় চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু হয় ইউএলকাসেমির পথচলা। একই সময়ে সিলিকন ভ্যালিতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করা হয়। সে সময় বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর নকশা শিল্পের কোনো শক্তিশালী বা প্রতিষ্ঠিত পরিবেশ ছিল না। দক্ষ জনবল তৈরি, আন্তর্জাতিক গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

 

শুরুর সময়টাও সহজ ছিল না। ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটিকে টিকে থাকতে হয়েছে। শুরুতে চিপের বিন্যাস নকশার মতো কাজ দিয়ে এগোয় ইউএলকাসেমি। এর মাধ্যমে প্রকৌশলীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। পরে ধীরে ধীরে চিপের কাঠামো নির্ধারণ, নকশা যাচাই, ভৌত নকশা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত কাজের দিকে বিস্তৃত হয় প্রতিষ্ঠানটি।

 

বর্তমানে ইউএলকাসেমির সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি তার দক্ষ জনবল। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৬০০-এর বেশি নকশা প্রকৌশলী কাজ করছেন। চারটি দেশে তাদের নকশা কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যদের সম্মিলিত সিলিকন ভ্যালি অভিজ্ঞতা ২৫০ বছরেরও বেশি বলে জানিয়েছে ইউএলকাসেমি।

 

প্রতিষ্ঠানটির কাজ এখন শুধু বাংলাদেশের বাজারে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে তারা। অ্যানালগ সার্কিট নকশা, কাস্টম আইসি বিন্যাস, আইসি ভৌত নকশা, চিপের কাঠামো ও আরটিএল নকশা, নকশা পরীক্ষার উপযোগী করা এবং ফাউন্ড্রি নকশা সহায়তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রম রয়েছে।

 

ইউএলকাসেমির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ৪০০-এর বেশি ভৌত নকশা টেপ-আউট এবং ১৫০টি এসআরএএম ও ৫০টি ওটিপি টেপ-আউটের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব কাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বসেই আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জটিল প্রযুক্তিগত কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

এই যাত্রার অন্যতম বড় মাইলফলক আসে ২০২১ সালে। ওই বছর ইউএলকাসেমি টিএসএমসির নকশা কেন্দ্র জোটের অংশীদার হয়। টিএসএমসির তথ্য অনুযায়ী, এই জোট চিপ বাস্তবায়ন সেবা এবং সিস্টেম পর্যায়ের নকশা সমাধানের মাধ্যমে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারকারী গ্রাহকদের নকশা সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

 

টিএসএমসির বর্তমান নকশা কেন্দ্র জোটের তালিকাতেও ইউএলকাসেমির নাম রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের এই নকশা পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক চিপ নকশা শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে কাজ করার সক্ষমতা দেখিয়েছে।

 

তবে এনায়েতুর রহমানের লক্ষ্য শুধু নিজের প্রতিষ্ঠানকে বড় করা নয়। বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলার স্বপ্নও রয়েছে তাঁর। তাঁর মতে, শুরুতেই বিপুল মূলধন বিনিয়োগ করে চিপ তৈরির কারখানা স্থাপনের চেয়ে চিপ নকশা, নকশা যাচাই এবং পরীক্ষা ও প্যাকেজিংয়ের মতো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা তৈরি করা তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত।

 

এই ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের মানবসম্পদ। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার প্রকৌশলী স্নাতক হন বলে সংশ্লিষ্ট খাতের বিভিন্ন আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল জনবলকে সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক চিপ নকশা ও প্রকৌশল সেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন এনায়েতুর রহমান।

 

বাংলাদেশ সরকারও সাম্প্রতিক সময়ে সেমিকন্ডাক্টর খাতকে সম্ভাবনাময় উচ্চপ্রযুক্তির রপ্তানি শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষ জনবল তৈরি, নীতিগত সহায়তা এবং প্রযুক্তি খাতের পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে এই শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এনায়েতুর রহমানও বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের সম্ভাবনা নিয়ে নীতি ও শিল্প পর্যায়ের আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন।

 

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রকৌশলী তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইউএলকাসেমি। অ্যানালগ নকশা, ডিজিটাল নকশা যাচাই এবং বিন্যাস প্রকৌশলের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা তৈরির ওপর প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উদ্যোগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

একসময় এএমডির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে চিপ নকশা করতেন এনায়েতুর রহমান। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের দেশের মাটিতে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যেখানে আজ শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য কাজ করছেন।

 

চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ এখন ৬০০-এর বেশি প্রকৌশলীর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য এর গুরুত্ব শুধু প্রতিষ্ঠানের আকারে নয়। বরং এটি দেখিয়েছে, দেশে বসেও উচ্চপ্রযুক্তির বৈশ্বিক শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতামূলক কাজ করা সম্ভব।

 

সিলিকন ভ্যালি একসময় ছিল এনায়েতুর রহমানের কর্মক্ষেত্র। আজ তাঁর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের সেই বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি করছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
প্রতারক
নিউ জার্সিতে ভিডিও কলে সাজানো এফবিআই অফিস দেখিয়ে প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়ে সতর্কতা

নিউ জার্সিতে ফেডারেল এজেন্ট সেজে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতারকেরা। ফোনের স্ক্রিনে সরকারি অফিসের নম্বর দেখানোর পাশাপাশি তারা ব্যবহার করছে প্রকৃত এজেন্টদের নাম। এই কৌশল নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সতর্ক করেছে এফবিআইয়ের নিউয়ার্ক কার্যালয়।    এফবিআই জানিয়েছে, প্রতারকেরা নিজেদের এফবিআই, মাদকবিরোধী সংস্থা ডিইএ কিংবা সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। প্রযুক্তির সাহায্যে কলার আইডিতে সংস্থার আসল নম্বর দেখানো হচ্ছে। কেউ অফিসে ফোন করে উল্লেখ করা এজেন্টের নাম জানতে চাইলে জানতে পারেন, ওই নামে সত্যিই একজন কর্মী আছেন। কিন্তু তাতে আগের ফোনটি তাঁর কাছ থেকেই এসেছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।   একটি ঘটনায় ভিডিও কলের পেছনের দৃশ্যও এফবিআই অফিসের মতো সাজানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সেখানে টেবিল, এফবিআইয়ের প্রতীক এবং স্যুট পরা একজনকে দেখা যায়। এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল পরিচয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা।    এফবিআইয়ের পরামর্শ, এমন ফোন পেলে প্রতারকের দেওয়া নম্বর ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল নম্বর নিজে খুঁজে যোগাযোগ করতে হবে। শুধু ওই নামে এজেন্ট কাজ করেন কি না, তা জেনে থামলে চলবে না; তিনি সত্যিই ফোন করেছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ফেডারেল এজেন্ট পরিচয়ে কেউ টাকা চাইলে তা পাঠাতে নিষেধ করেছে সংস্থাটি।   সমস্যাটির পরিসরও বড়। এফবিআইয়ের ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারের হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারণার প্রায় ৬১ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে জানানো মোট আর্থিক ক্ষতি ১৬০ কোটি ডলারের বেশি। সংখ্যাটি সব ধরনের সরকারি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার অভিযোগের, শুধু নিউ জার্সির নতুন কৌশলটির নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ২২:৩৮
লিজা ভিলনিটস

দাম্পত্য কলহের পর চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নিলেন স্বামী, ধীরে ধীরে বদলালো স্ত্রীর মনোভাব

পার্ট বি-তে চিকিৎসকের সেবা

মেডিকেয়ারের ৯০ ডলার ব্যাংকে বা চেকে পাচ্ছেন ২ কোটির বেশি, বাদ পড়ছেন প্রায় ৪ কোটি

আইসিইবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতারে ট্রাম্পের চাপ

আইসিইবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতারে ট্রাম্পের চাপের অভিযোগ সাবেক এফবিআই কর্মকর্তার

যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য গোপনের দায়ে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে বিচার বিভাগের মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য গোপনের দায়ে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে বিচার বিভাগের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। ৫ অক্টোবর দেওয়া ঘোষণায় বিভাগটি জানায়, নাগরিকত্বের আবেদনপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, ভুল পরিচয় ব্যবহার বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।   বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাগুলোর কয়েকটিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। অন্য মামলাগুলোতে আগের পরিচয়, অভিবাসন ইতিহাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনে বেআইনিভাবে অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব অর্জিত হলে তা বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে সরকার।   প্রকাশিত তালিকায় চীনে জন্ম নেওয়া সাবেক মার্কিন নৌসেনা জিনচাও ওয়েইয়ের নাম রয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তিসংক্রান্ত অপরাধে তাঁর সাজা হয়েছে। বিচার বিভাগের অভিযোগ, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে শুরু হওয়া কর্মকাণ্ড তিনি আবেদন করার সময় গোপন করেছিলেন। নেপালে জন্ম নেওয়া দিব্যা ভাট্টারাইয়ের বিরুদ্ধেও নাগরিকত্বের আবেদনপ্রক্রিয়ায় অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।   অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক সময়ে নাগরিকত্ব বাতিলের সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। বিভাগটির আগের একটি নির্দেশনায়ও আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল।   সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাকসেস ক্লিয়ারিংহাউসের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১০৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুলাইয়ে হয়েছে অন্তত ৫০টি। নতুন ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যখন এ ধরনের মামলার সংখ্যা বাড়ছে।   তবে বিচার বিভাগের মামলা দায়েরের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। প্রতিটি মামলায় সরকারের আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন থাকবে। বিচার বিভাগও তার ঘোষণায় জানিয়েছে, নতুন মামলাগুলোতে উত্থাপিত দাবি এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ২০:২৯
ফ্লোরিডায় স্লাইডে খেলতে গিয়ে জামা আটকে শ্বাসরোধ, হাসপাতালে এক সপ্তাহ পর মৃ ত্যু ১৩ বছরের ওলভিনের

ফ্লোরিডায় স্লাইডে খেলতে গিয়ে জামা আটকে শ্বাসরোধ, হাসপাতালে এক সপ্তাহ পর মৃ ত্যু ১৩ বছরের ওলভিনের

ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারকে নিয়ে ট্রাম্পের আয়োজন, যোগ দেননি অধিকাংশ স্বজন

ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারকে নিয়ে ট্রাম্পের আয়োজন, যোগ দেননি অধিকাংশ স্বজন

কাজী আজিজুল হক খোকন

নিউইয়র্কে তিন দিন ধরে নিখোঁজ কাজী আজিজুল হক খোকন, উদ্বেগে পরিবার ও কমিউনিটি

নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন
নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন

নিউইয়র্কে অন্য এক চালকের কাছে টিএলসি-সংশ্লিষ্ট গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক মালিক। ওই চালক নিয়মিত টোল পরিশোধ না করায় গাড়িটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ই-জেডপাস টোল ও ভায়োলেশনের বকেয়া জমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ডলার। পরে গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার পর চালক সেটি রাস্তায় ফেলে চলে যান বলে মালিকের অভিযোগ। এরপর থেকে ওই চালকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মালিকের ভাষ্য, গাড়ি নেওয়ার সময় চালক তাকে বলেছিলেন, ই-জেডপাসের সঙ্গে তার একটি পেমেন্ট প্ল্যান রয়েছে এবং টোলের বকেয়া তিনি ধীরে ধীরে পরিশোধ করছেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই মালিক গাড়িটি তার কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, শুধু ই-জেডপাস নয়, এমটিএ এবং পোর্ট অথরিটির কাছেও টোল ও ভায়োলেশন বাবদ বকেয়া জমেছে।   বকেয়ার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। মালিকের দাবি, গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার প্রায় এক মাস পর চালক সেটি রাস্তায় ফেলে চলে যান। এরপর চালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।   মালিকের কাছে টোল, ভায়োলেশন এবং সাসপেনশন সংক্রান্ত ইমেইল নোটিশ রয়েছে বলে তিনি জানান। এসব নোটিশের মাধ্যমে বকেয়ার পরিমাণ এবং গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। তবে এই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট চালকের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না এবং চালকের বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ঘটনাটি নিউইয়র্কের টিএলসি গাড়ির মালিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা সামনে এনেছে। অন্য চালকের কাছে গাড়ি বা টিএলসি-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার পর টোল ও ভায়োলেশন নিয়মিত পরিশোধ হচ্ছে কি না, তা নজরদারির বাইরে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অঙ্কের বকেয়া তৈরি হতে পারে। চালক গাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও অ্যাকাউন্টের প্রশাসনিক জটিলতা থেকে যেতে পারে মালিকের ওপর।   মালিকের দাবি অনুযায়ী, এখন তাকে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারের টোল ও ভায়োলেশনের বকেয়া নিয়ে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সাসপেন্ড হওয়া গাড়িটি কীভাবে আবার বৈধভাবে রাস্তায় নামানো যাবে, সেটিও হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। ফলে টিএলসি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে চালকের সঙ্গে স্পষ্ট চুক্তি, টোল পেমেন্টের নিয়মিত হিসাব এবং ভায়োলেশন পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৭:৩৭
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ

ফ্লোরিডায় একই দোকান থেকে ১৮ বার চুরি, শেষবার গিয়ে ধরা পড়লেন নারী

ফ্লোরিডায় একই দোকান থেকে ১৮ বার চুরি, শেষবার গিয়ে ধরা পড়লেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে এক বছরে নিষিদ্ধ প্রায় ১২ হাজার বই, বাদ পড়েনি বিশ্বখ্যাত ক্ল্যাসিকও

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে এক বছরে নিষিদ্ধ প্রায় ১২ হাজার বই, বাদ পড়েনি বিশ্বখ্যাত ক্ল্যাসিকও

0 Comments