ফ্লোরিডায় স্বামীর চোখের সামনেই বজ্রপাতে মা ও দুই বছরের কন্যার মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক আকস্মিক ও মর্মান্তিক বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তাঁর দুই বছর বয়সী শিশু কন্যা। গত রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফ্লোরিডার মার্গেট এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম কেনিয়া গ্লাসগো (৩১) এবং তাঁর যমজ কন্যাদের একজন কেনেডি। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহত কেনিয়ার স্বামী ক্যাম গ্লাসগো তাঁর নিজের চোখের সামনেই স্ত্রী ও সন্তানকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন।
মার্গেট পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মা ও মেয়েকে সিপিআর (CPR) দেওয়া শুরু করেন। পরে দ্রুত তাঁদের আলাদা দুটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন। এই অভাবনীয় দুর্ঘটনায় শোকে পাথর হয়ে গেছেন ক্যাম গ্লাসগো। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে '১২ লাখে একবার ঘটা' দুর্ঘটনা উল্লেখ করে লেখেন, “সবকিছু আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। বজ্রপাত হওয়ার পর মাটিতে এর প্রভাব আমার গায়েও লাগে, আর তখনই পাশে তাকিয়ে দেখি তারা মাটিতে পড়ে আছে।”
ক্যাম জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে কেনিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ৪ বছর আগে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিজের 'সেরা বন্ধু' এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হৃদয়ের অধিকারী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি সবসময় নিজের আগে অন্যদের কথা ভাবতেন। এখন তাঁদের বেঁচে থাকা আরেক যমজ কন্যা কেনসলিকে তার বোনের শূন্যতা নিয়েই বড় হতে হবে। স্ত্রী ও হারানো সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্যাম আরও লেখেন, “আমার স্ত্রী ও সন্তান কোনো কষ্ট পায়নি। তারা যে সুন্দর আলো আমাদের জীবনে নিয়ে এসেছিল, সেটিই এখন আমাদের বেঁচে থাকার সম্বল।” তিনি আত্মীয় ও বন্ধুদের সমর্থনের ওপর ভরসা করে কন্যা কেনসলিকে নিয়ে সামনের দিনগুলো পার করার কথা জানিয়েছেন।
বর্তমানে মার্গেট পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ন্যাশনাল লাইটনিং সেফটি কাউন্সিলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বছর যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রপাতে নিহতের তালিকায় কেনিয়া এবং কেনেডির মৃত্যুটি যথাক্রমে ১১তম ও ১২তম ঘটনা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিজের প্রেমিকা ও ৮ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ১৫ তলার বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার মতো ভয়ংকর এক অপরাধের অভিযোগ উঠেছে অ্যাঞ্জেল কারাস্কো নামের ৩১ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে ব্রঙ্কসের ২৫৫০ অলিনভিল অ্যাভিনিউতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এতে ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকা নাথালি রামিরেজ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেও, অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেছে তাদের ছোট্ট শিশুটি। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে অনুতপ্ত হওয়ার বদলে ঘাতক কারাস্কোর মুখে দেখা গেছে পৈশাচিক হাসি। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি থানা থেকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সে উপস্থিত জনতার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে হাসতে থাকে। ঘাতকের এমন আচরণ দেখে থানার বাইরে থাকা ক্ষুব্ধ জনতা তাকে 'কাপুরুষ' বলে চিৎকার করতে থাকে। উপস্থিত মোজেস হার্নান্দেজ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কারাস্কোকে যখন হাসতে হাসতে নামিয়ে আনা হচ্ছিল, তখন সেটি দেখে তার নিজেরই অত্যন্ত ঘৃণা ও ক্ষোভ হচ্ছিল। বুধবার রাতে ইউএস মার্শাল এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) একটি দল কারাস্কোকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, কারাস্কো এর আগে ওই একই অ্যাপার্টমেন্টে দুবার পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সম্প্রতি সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর আশায় সে ফুল হাতে নাথালির অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিল। কিন্তু নাথালি তাকে ফিরিয়ে দিলে কারাস্কো ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তাদের সন্তানকে বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। রবিন মেন্ডজিস নামের এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি এক পুরুষ কণ্ঠে 'লাফ দে' বলে চিৎকার করতে শোনেন এবং এরপরই এক নারীর আর্তনাদ শুনতে পান, যিনি বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। নিহত নাথালি রামিরেজ ব্রঙ্কস লিডারশিপ একাডেমি হাইস্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বারুচ কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ম্যানহাটনের লিশন কনসালটিংয়ে কাজ করতেন, যেখানে সহকর্মীদের কাছে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিচে পড়ার সময় নাথালি নিজের শরীর দিয়ে শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন, যার ফলে অলৌকিকভাবে আট মাসের ছোট্ট শিশুটি প্রাণে বেঁচে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে জ্যাকোবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে সে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৬৩ মৃ ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফের কথা ভাবছেন নিউসম
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে হ ত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী ২০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্ত
ভিসা থাকলেও পাসপোর্টের এই ৮ ভুলে আটকে যেতে পারেন বিমানবন্দরে
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থী, সোনিশ কোথাগুন্ডলা এবং হাদি আব্দুল, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য ‘বোস্টন স্কয়ার ভেঞ্চারস’ (Boston Square Ventures) নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো—শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, কম্পিউটিং রিসোর্স, মেন্টরশিপ এবং স্টার্টআপ নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা। প্ল্যাটফর্মটির প্রথম কোহর্টের (Cohort 1) আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যার কার্যক্রম ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা ১ লাখ ডলার সমমূল্যের কম্পিউট ক্রেডিট, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, মেন্টরশিপ, সাপ্তাহিক চেক-ইন, পিচ প্রস্তুতির সুযোগ এবং একটি ডেমো ডে-তে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে সবচেয়ে বড় সমস্যা আইডিয়ার অভাব নয়, বরং সেটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অসম বণ্টন। হাদি আব্দুল জানান, অনেকেরই চমৎকার আইডিয়া ও দক্ষতা থাকলেও তারা সঠিক মানুষদের সাথে যুক্ত হতে পারেন না। অন্যদিকে সোনিশ কোথাগুন্ডলার মতে, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করাটা বেশ কঠিন, কারণ এর জন্য শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও পরিচিতির প্রয়োজন হয়। লিংক ভেঞ্চারসের একজন বিনিয়োগকারী হার্ভার্ডের স্টার্টআপগুলোর সাথে যুক্ত হতে চাওয়ার পর সোনিশ ও হাদি এই প্ল্যাটফর্মটির প্রাথমিক ধারণা পান। পরবর্তীতে হার্ভার্ড ইনোভেশন ল্যাবসে বসে তারা এই ধারণাকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন। বোস্টন শহরের বিখ্যাত বিভিন্ন স্কয়ারের (যেমন- হার্ভার্ড স্কয়ার, কেন্ডাল স্কয়ার ইত্যাদি) নামানুসারেই এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতেও কাজ করতে চান এই দুই শিক্ষার্থী। 'দ্য আমেরিকান বাজার'-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে হাদি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবেই অনেক প্রতিভাবান উদ্যোক্তা তাদের আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন না; যার ফলে তাদের প্রাথমিক পণ্যগুলোকে অনেক সময় নিচু মানের বলে অবজ্ঞা করা হয়। সোনিশ আরও জানান যে, বর্তমানে নতুন কোনো কোম্পানি খোলার জন্য শতভাগ নতুন আইডিয়ার চেয়ে সেই আইডিয়াটির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিস্তারের দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। উবার ও লিফটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি সাধারণ আইডিয়াও সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফল হতে পারে। বোস্টন স্কয়ার ভেঞ্চারসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো অন্তত ১০ লাখ উদ্যোক্তাকে সহায়তা করা। যদিও বোস্টন থেকে এর যাত্রা শুরু হয়েছে, তবে যেকোনো দেশ, বয়স বা অভিজ্ঞতার উদ্যোক্তারাই এতে আবেদন করতে পারবেন। আগামী ২০ নভেম্বর তাদের প্রথম ডেমো ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এরপর প্রতি ছয় সপ্তাহ অন্তর এমন আয়োজন থাকবে। উদ্যোক্তারা তহবিল সংগ্রহ না করা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্ম তাদের পাশে থাকবে। এই প্রসঙ্গে সোনিশ বলেন, "আমি মনে করি সবারই উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। এখনই এর সঠিক সময়।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কডইনে তাদের প্রথম পোস্টটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ইমপ্রেশন এসেছে, যা এই উদ্যোগের প্রতি তরুণদের ব্যাপক আগ্রহেরই প্রমাণ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক ডিগ্রির তালিকায় ইউসিএলএর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং
নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীকে হ ত্যার পর সামনে এলো স্ত্রীর ভয়াবহ নি র্যাতনের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহে ১০০ ফুট পাহাড় থেকে পড়ে পাথরের খাঁজে আটকে বাঁচলেন ২০ বছরের তরুণী
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের বিদেশি কর্মীদের দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করছে। এই স্থগিতাদেশের ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত তাদের বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) জন্য আর কোনো আবেদন করতে পারবে না। সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তারা একটি দুর্দান্ত আমেরিকান কোম্পানি, কিন্তু তাদের উচিত চমৎকার আমেরিকান কর্মীদেরই নিয়োগ দেওয়া। তিনি অভিযোগ করেন, আমেরিকান কর্মীদের চাকরিচ্যুত করে তার বদলে বিদেশ থেকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের এনে কাজ করানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মাইক্রোসফটের পাশাপাশি অ্যাডোবিকেও একইভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই কোম্পানিগুলোর কোনো নতুন বা চলমান 'স্থায়ী শ্রম শংসাপত্র' বা পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন আবেদন আর গ্রহণ বা প্রক্রিয়া করা হবে না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মাইক্রোসফট প্রায় ৩,৭০০ কর্মীর জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন করেছে, যা তাদের এই ভিসা ব্যবহারকারী পঞ্চম বৃহত্তম নিয়োগকর্তায় পরিণত করেছে। তবে ৯,৩০০টির বেশি আবেদন নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে অ্যামাজন। শ্রমমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবি প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ১ লাখ 'স্থায়ী শ্রম শংসাপত্র' পেয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দাবি করেন, হিসাব করলে দেখা যায় যে, মাইক্রোসফট প্রতি একজন আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার বিপরীতে দেড় গুণ বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দিয়েছে। এছাড়া এইচ-১বি প্রোগ্রামের আওতায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা একই পদে থাকা মার্কিন কর্মীদের তুলনায় গড়ে ২০ হাজার ডলার কম বেতন পান। দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল অভিবাসন বিষয়ক বিভিন্ন অ্যাডভোকেসি গ্রুপ, তবে তাদের কারণগুলো ভিন্ন। এই ভিসার শর্ত অনুযায়ী কর্মীদের তাদের নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, যার ফলে কর্মপরিবেশ বা বেতন নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলেও তাদের পক্ষে সহজে চাকরি পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের মতো সংস্থাগুলো অবশ্য জেডি ভ্যান্সের এই পদক্ষেপের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে। সংস্থাটির মতে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (STEM), উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সারা বিশ্ব থেকে মেধাবী কর্মীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি লাভবান হয়। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, এমন কঠোর নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে মেধাবীদের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তুলবে, যা শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক প্রতিযোগীদেরই শক্তিশালী করবে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার চীনা গুপ্তচর, অভিযানের আগেই চীনে পালালেন সন্দেহভাজন সহযোগী
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ কোটি শিশুর নামে খুলল বিনিয়োগ হিসাব, অভিভাবকদের এখন যা করতে হবে