সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

২৫ সপ্তাহে গর্ভের বাইরে এনে শিশুর ফুসফুসের চিকিৎসা, এরপর আবার গর্ভেই ফিরিয়ে দিলেন চিকিৎসকেরা

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২১:২৪
চিকিৎসার পর শিশুটিকে আবার মায়ের গর্ভে ফিরিয়ে দিয়ে আরও কয়েক সপ্তাহ গর্ভাবস্থা চালিয়ে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসার পর শিশুটিকে আবার মায়ের গর্ভে ফিরিয়ে দিয়ে আরও কয়েক সপ্তাহ গর্ভাবস্থা চালিয়ে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিরল ও জটিল এক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাণঘাতী শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত এক শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন চিকিৎসকেরা। গর্ভাবস্থার ২৫ সপ্তাহে অস্ত্রোপচারের জন্য শিশুটিকে মায়ের গর্ভ থেকে আংশিকভাবে বের করে আনা হয়। চিকিৎসকেরা তার শ্বাসনালিতে একটি নল স্থাপন করে ফুসফুসে জমে থাকা তরল বের করার ব্যবস্থা করেন। এরপর শিশুটিকে আবার মায়ের গর্ভে ফিরিয়ে দিয়ে গর্ভাবস্থা আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে দেওয়া হয়।

 

শিশুটির নাম ক্যাসিয়ান জুবার্ট। ২০২৫ সালের জুনে অরল্যান্ডো হেলথ উইনি পামার হাসপাতাল ফর উইমেন অ্যান্ড বেবিজে এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। তখন ক্যাসিয়ানের গর্ভকাল ছিল ২৫ সপ্তাহ। পরবর্তীতে আগস্ট ২০২৫ সালে তার জন্ম হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সে ভালো আছে। ঘটনাটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বিরল ও নজিরবিহীন পদ্ধতির সফল প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ক্যাসিয়ানের মা কেইশেরা জুবার্টের গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে করা আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় শিশুটির গুরুতর শারীরিক জটিলতা ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, তার শ্বাসনালিতে একটি বাধা রয়েছে। এর ফলে ফুসফুস থেকে স্বাভাবিকভাবে তরল বের হতে পারছিল না। তরল জমে ফুসফুস অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠছিল এবং হৃদযন্ত্রের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছিল।

 

এই অবস্থাটির চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম কনজেনিটাল হাই এয়ারওয়ে অবস্ট্রাকশন সিনড্রোম বা সিএইচএওএস। এটি অত্যন্ত বিরল একটি জন্মগত সমস্যা। সাধারণত গর্ভের শিশুর ফুসফুসে তৈরি হওয়া তরল শ্বাসনালির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। কিন্তু শ্বাসনালিতে সম্পূর্ণ বা গুরুতর বাধা থাকলে সেই তরল আটকে যায়। এতে ফুসফুস ফুলে ওঠে এবং আশপাশের অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। চিকিৎসা না হলে এই জটিলতা প্রাণঘাতী হতে পারে।

 

ক্যাসিয়ানের ক্ষেত্রে প্রথমে গর্ভের ভেতর থেকেই শ্বাসনালির বাধা দূর করার চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসকেরা লেজার-ভিত্তিক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে বাধাটি খুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

এরপর চিকিৎসক ইমানুয়েল ভ্লাসতোস ও তার দলের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত আসে। শিশুটিকে স্বাভাবিকভাবে গর্ভে রেখে দিলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম ছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা একটি ব্যতিক্রমী পদ্ধতির পরিকল্পনা করেন। শিশুটিকে পুরোপুরি জন্ম না দিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শুধু মাথা, ঘাড় ও কাঁধের অংশ গর্ভের বাইরে আনা হবে এবং তাকে নাভিরজ্জু ও প্লাসেন্টার মাধ্যমে মায়ের শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত রেখেই চিকিৎসা করা হবে।

অস্ত্রোপচারের সময় ক্যাসিয়ানের মাথা ও ঘাড় গর্ভের বাইরে আনার পর তার শ্বাসনালিতে একটি বিশেষ নল প্রবেশ করানো হয়। এর মাধ্যমে ফুসফুসে জমে থাকা তরল বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো প্রক্রিয়ার সময় শিশুটি মায়ের সঙ্গে নাভিরজ্জু ও প্লাসেন্টার মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল।

 

তরল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পর চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরের উপরের অংশ আবার মায়ের জরায়ুর ভেতরে ফিরিয়ে দেন। এরপর জরায়ু বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্যাসিয়ান তখনও মায়ের গর্ভেই থেকে যায় এবং আরও কয়েক সপ্তাহ তার বিকাশ অব্যাহত থাকে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শিশুটিকে এমন অবস্থায় রাখা, যাতে সে বাইরে শ্বাস নেওয়া শুরু না করে। কারণ সে যদি নিজে শ্বাস নিতে শুরু করত, তাহলে রক্ত সঞ্চালনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসত এবং তাকে আবার নিরাপদে গর্ভে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতো না। অস্ত্রোপচারের সময় মায়ের জরায়ুর পেশি শিথিল রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ জরায়ু সংকুচিত হয়ে গেলে আগেভাগে প্রসব এবং অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।

 

এ ধরনের পদ্ধতি সাধারণত শিশুর জন্মের সময় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ক্যাসিয়ানের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার মাত্র ২৫ সপ্তাহে এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং চিকিৎসার পর তাকে আবার গর্ভে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, এত কম গর্ভকালীন সময়ে এভাবে শ্বাসনালিতে নল স্থাপন করে শিশুকে আবার জরায়ুতে ফিরিয়ে দেওয়ার নজির তারা আগে দেখেননি।

 

অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকদের একটি নৈতিক কমিটির অনুমোদনও নিতে হয়েছিল। কারণ মা ও অনাগত শিশুর জন্য এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। তবু ক্যাসিয়ানের বাবা-মা চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রচেষ্টায় সম্মতি দেন। চিকিৎসকদের মতে, প্রচলিত চিকিৎসায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় নতুন পদ্ধতিটি চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর কেইশেরা আরও কয়েক সপ্তাহ গর্ভাবস্থা চালিয়ে যান। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর আগস্টে তার প্রসববেদনা শুরু হয় এবং ক্যাসিয়ানের জন্ম হয়। এরপর তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ক্যাসিয়ান সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে বলে চিকিৎসক ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অরল্যান্ডো হেলথের ফিটাল কেয়ার সেন্টারে উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থা ও গর্ভের শিশুর বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসায় বিশেষায়িত দল কাজ করে। সেখানে মাতৃ ও ভ্রূণ চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ, প্রসূতি চিকিৎসক, শিশু সার্জন, নবজাতক বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন। সিএইচএওএসও তাদের চিকিৎসাসেবার আওতায় থাকা জটিলতাগুলোর একটি।

 

ক্যাসিয়ানের ঘটনাটি চিকিৎসকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিএইচএওএস অত্যন্ত বিরল হওয়ায় এই রোগের সব ক্ষেত্রে অনুসরণ করার মতো একক ও প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাপদ্ধতি নেই। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা আশা করছেন, এই সফল অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে একই ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত অন্য শিশুদের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ক্যাসিয়ানকে আক্ষরিক অর্থে দুবার জন্ম নেওয়া বলা ঠিক নয়। তবে অস্ত্রোপচারের সময় তাকে আংশিকভাবে গর্ভের বাইরে আনা এবং পরে আবার জরায়ুর ভেতরে ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে তার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ‘দুইবার জন্ম নেওয়া শিশু’ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

 

সূত্র: অরল্যান্ডো হেলথ, লাইভ সায়েন্স, এবিসি নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ান


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তায় দমকল বিভাগের উদ্যোগ, শেখানো হচ্ছে আগুন থেকে বাঁচার উপায়
নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তায় দমকল বিভাগের উদ্যোগ, শেখানো হচ্ছে আগুন থেকে বাঁচার উপায়

শিশুদের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মুহূর্তে নিরাপদে বেরিয়ে আসার কৌশল শেখাতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নিউইয়র্কের দমকল বিভাগ। 'জাতীয় অগ্নিনিরাপত্তা সপ্তাহ' উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আগুন প্রতিরোধের মতো গুরুতর বিষয়গুলোকে শিশুদের কাছে অত্যন্ত সহজ ও আনন্দদায়কভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   সাধারণত শিশুদের জন্য অগ্নিনিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়গুলো বোঝা ও মনে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শেখার পুরো প্রক্রিয়াটিকে তাদের উপযোগী করে বিনোদনমূলক উপায়ে সাজিয়েছে দমকল বিভাগ।   এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখানো। হঠাৎ আগুন লাগলে কীভাবে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে, সে বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই একটি কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দমকল বিভাগের মতে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদকালীন সময়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এমন পূর্বপ্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।   জাতীয় অগ্নিনিরাপত্তা সপ্তাহের এই আয়োজনে শিশুদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতিও আগুন থেকে সুরক্ষার জরুরি নিয়মগুলো নিয়মিত অনুশীলনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দমকল বিভাগ মনে করিয়ে দিয়েছে, জীবন রক্ষাকারী এসব কৌশল শেখার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়।   এছাড়া শিশুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম শেখানোর বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যেন যেকোনো বিপদের সময় শিশুরাও নিজেদের জীবন রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৬:৫৯
ক্যাশ অ্যাপের তথ্য ফাঁসের মামলায় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন গ্রাহকরা, সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার

ক্যাশ অ্যাপের তথ্য ফাঁসের মামলায় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন গ্রাহকরা, সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার

ট্রাম্পের হাতে কালশিটে, স্যুটের নিচে রহস্যময় ফোলা অংশ, স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

ট্রাম্পের হাতে কালশিটে, স্যুটের নিচে রহস্যময় ফোলা অংশ, স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে বিপাকে ট্রাম্প পরিবার? আইনি প্রতিরক্ষায় বিশেষ তহবিল

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে বিপাকে ট্রাম্প পরিবার? আইনি প্রতিরক্ষায় বিশেষ তহবিল

নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা

নিউইয়র্ক শহরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) এক এজেন্টের গুলিতে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে শহরে সংস্থাটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানী। বৃহস্পতিবার মার্বেল হিল আবাসিক এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেয়র বলেন, আইস এজেন্টরা সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াবে, আর তিনি চুপ করে থাকবেন—এমনটা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।   নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি নির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনার সময় আইস এজেন্টরা ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। এ সময় বেলগালের গাড়িতে তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলেও ছিল।   পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, একজন সাদা পোশাকের আইস এজেন্ট অস্ত্র হাতে চালকের জানালার কাছে এগিয়ে যান। গাড়িটি সামনের দিকে এগোতে চাইলে এজেন্ট অন্তত সাত রাউন্ড গুলি চালান, যা বেলগালের ঘাড়ে আঘাত করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং শিশুটি বর্তমানে পরিবারের হেফাজতে নিরাপদে রয়েছে।   ঘটনার পর মেয়র মামদানী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেও ভুক্তভোগীর মুক্তির বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। অন্যদিকে, ডিএইচএস-এর পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের ‘স্যাংচুয়ারি’ বা আশ্রয়দানকারী নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এসব নীতির কারণে কেন্দ্রীয় এজেন্টদের সঙ্গে অসহযোগিতা করা হচ্ছে। মন্ত্রী মুলিন উল্টো মেয়রের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতা উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন।   ডিএইচএস জানায়, ভুক্তভোগী বেলগাল একজন অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসী, যার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও অস্ত্র রাখাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং গত বছর একজন সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তার ওপর হামলায় জড়িত গ্যাংয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।   নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল থেকে শুরু করে সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গাড়িতে একজন শিশু থাকা অবস্থায় কীভাবে এতগুলো গুলি ছোড়া হলো, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেয়র মামদানী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।   নিউইয়র্ক টাইমস ও এবিসি নিউজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অভিবাসন এজেন্টদের সঙ্গে জড়িত এমন সহিংস ঘটনায় ২০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের দেশব্যাপী কঠোর অভিবাসন নীতির প্রয়োগ এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:২৪
ফ্লোরিডায় দুই সন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা, সন্তানদের আনতে গিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখলেন মা

ফ্লোরিডায় দুই সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আ ত্মহ ত্যা, সন্তানদের আনতে গিয়ে তিনজনের ম রদেহ দেখলেন মা

বিমান ধরতে যাচ্ছিলেন কনে

বিয়ের পোশাক ট্রেনে ফেলে বিমান ধরতে যাচ্ছিলেন কনে, শেষ মুহূর্তে উদ্ধার করল নিউ জার্সির কর্মীরা

নিউজার্সিতে খামারের পার্কিংয়ে এসইউভির চাপায় প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর

নিউজার্সিতে খামারের পার্কিংয়ে এসইউভির চাপায় প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর, অল্পের জন্য বাঁচলেন দাদি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে তীব্র ঝাঁকুনি
আকাশে তীব্র ঝাঁকুনি, আতঙ্কের পর হাসপাতালে ৮ যাত্রী! মিয়ামিতে নামল নিউইয়র্কগামী বিমান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে তীব্র ঝাঁকুনির ঘটনায় অন্তত আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ভোরে আভিয়াঙ্কা এয়ারলাইন্সের বিমানটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি কলম্বিয়ার মেডেলিন থেকে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন জানিয়েছে, ঝাঁকুনির কারণে বিমানটিকে মিয়ামিতে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।    বিমানটি ছিল এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে মেডেলিন থেকে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর জ্যামাইকা ও কিউবার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র ঝাঁকুনির ঘটনা ঘটে বলে ফ্লাইটের গতিবিধিসংক্রান্ত তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিমানটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় যাওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। তবে এই উচ্চতা পরিবর্তনের তথ্যটি ফ্লাইট পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে; কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।   মিয়ামি-ডেডের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগ জানিয়েছে, বিমানটি স্থানীয় সময় ভোর প্রায় সাড়ে ৩টায় অবতরণ করার পর আটজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে বিশেষায়িত ট্রমা চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। বাকি আহতদের আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    আভিয়াঙ্কা এয়ারলাইন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝাঁকুনিতে মোট নয়জন আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন যাত্রী এবং তিনজন কেবিনকর্মী ছিলেন। তাঁদের সবাই চিকিৎসার প্রয়োজন অনুভব করেন বলে বিমান সংস্থা জানিয়েছে। তবে উদ্ধারকর্মীদের হিসাবে আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ আক্রান্ত হওয়া এবং হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত হওয়ার সংখ্যা এক নয়।    বিমানটি মিয়ামিতে নামার আগেই বিমানবন্দরে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ওই সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত এক যাত্রী মারিয়া পাউলা হিমেনেস জানান, অবতরণের পর যাত্রীদের বের হওয়ার স্থানের কাছাকাছি পাঁচ থেকে সাতটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। ঘটনাটি দেখে তাঁর কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হয়নি।    বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিতে হয়। যেসব যাত্রী আহত হননি, তাঁদের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে বিমান সংস্থা। তবে সব যাত্রী একই বিমানে গিয়েছিলেন কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।    বিমানে তীব্র ঝাঁকুনি বা বায়ুর অস্থিতিশীলতা কখনো কখনো আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন ছাড়াও ঘটতে পারে। এমন ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের মাথা, ঘাড় বা শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাত লাগতে পারে। বিশেষ করে আসনবেল্ট খোলা থাকলে যাত্রী বা কেবিনকর্মী আসন থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন যাত্রীদের আসনে বসে থাকার সময় যতটা সম্ভব আসনবেল্ট বাঁধা রাখার পরামর্শ দেয়। কারণ আসনবেল্টের সংকেত নিভে গেলেও হঠাৎ ঝাঁকুনি আসতে পারে। এই ঘটনার কারণ এবং ঝাঁকুনির প্রকৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে মূল্যায়ন করা সহজ হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১২:৩১
নিউজার্সিতে ট্রেনে বিয়ের গাউন ফেলে গেলেন কনে, ২০ মিনিটেই উদ্ধার করে দিল এনজে ট্রানজিট

নিউজার্সিতে ট্রেনে বিয়ের গাউন ফেলে গেলেন কনে, ২০ মিনিটেই উদ্ধার করে দিল এনজে ট্রানজিট

নিউইয়র্কে পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমানের

নিউইয়র্কে পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমানের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রতিনিধি দিয়েও সংগ্রহের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রতিনিধি দিয়েও সংগ্রহের সুযোগ

0 Comments