মরুভূমিতে বিরল তুষারপাত, স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল সাদা চাদরের দৃশ্য
দক্ষিণ আমেরিকার চিলির আটাকামা মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা বিরল তুষারপাতে সাদা হয়ে গেছে। আগস্টজুড়ে পরপর কয়েকটি শীতকালীন ঝড়ের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সাধারণত অত্যন্ত শুষ্ক এই অঞ্চলের জন্য অস্বাভাবিক।
নাসার স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, আন্দিজ পর্বতমালা থেকে আটাকামার শুষ্ক কেন্দ্র পেরিয়ে তুষার প্রায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। নাসার ল্যান্ডস্যাট ৮ ও ৯ এবং
টেরা স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে মরুভূমির স্বাভাবিক বাদামি ও কমলা রঙের ভূদৃশ্য তুষারে ঢেকে যেতে দেখা যায়।
বিশেষ করে চাজনান্তর মালভূমিতে ভারী তুষারপাত ও প্রবল বাতাসের কারণে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ আলমা সাময়িকভাবে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর অ্যান্টেনাগুলোও নিরাপদ অবস্থায় নেওয়া হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন নিম্নচাপ ব্যবস্থা ও অস্বাভাবিকভাবে বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ বলয়ের সঙ্গে উপকূলীয় আর্দ্রতার সংযোগেই এই বিরল আবহাওয়া তৈরি হয়। এর প্রভাবে শুধু তুষারপাতই নয়, মরুভূমির কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিও হয়েছে।
উত্তর চিলির উপকূলীয় শহর তালতালে তিন দিনে প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা শহরটির গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ১০ গুণ। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০১১ সালেও আটাকামায় তুষারপাত হয়েছিল, তবে ২০২৬ সালের ঘটনাটি বিস্তৃতির দিক থেকে বিশেষভাবে অস্বাভাবিক।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ডাক বিভাগের কাছে নতুন ঠিকানা জানালেই সব দায়িত্ব শেষ হয় না। অভিবাসন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, করসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবার তথ্য আলাদাভাবে হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। কোথায় জানাতে হবে, কত দিনের মধ্যে জানাতে হবে এবং কোন ক্ষেত্রে নিয়মটি বাধ্যতামূলক—তা না জানলে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি বা শুনানির নোটিশ মিস করার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে যাঁদের অভিবাসন আবেদন চলমান কিংবা অভিবাসন আদালতে মামলা রয়েছে, তাঁদের ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে সবার জন্য সাতটি জায়গায় ঠিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক নয়। কোন দপ্তরে জানাতে হবে, তা ব্যক্তির অভিবাসন অবস্থা, গাড়ি চালানোর অনুমতি, করসংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সেবা ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। ১. ডাক বিভাগ: নতুন ঠিকানায় চিঠি পেতে বাসা পরিবর্তনের পর প্রথম কাজগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের কাছে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা। এর মাধ্যমে যোগ্য চিঠিপত্র পুরোনো ঠিকানা থেকে নতুন ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়। ডাক বিভাগের ওয়েবসাইটে গিয়ে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ডাক বিভাগের কাছে ঠিকানা পরিবর্তন করলেই অন্য সরকারি দপ্তরের নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয় না। তাই শুধু ডাক বিভাগের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। ২. অভিবাসন বিভাগ: ঠিকানা পরিবর্তনের ১০ দিনের নিয়ম অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবাকে ঠিকানা পরিবর্তনের খবর জানানো। প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অধিকাংশ অ-মার্কিন নাগরিককে ঠিকানা পরিবর্তনের ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই নিজের অভিবাসন অবস্থার সঙ্গে প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা জরুরি। অনলাইনে অভিবাসন বিভাগের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ঠিকানা হালনাগাদ করা যায়। সাধারণভাবে ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ফরমও ব্যবহার করা সম্ভব। যাঁদের একাধিক আবেদন বা মামলা চলমান, তাঁদের প্রতিটি সংশ্লিষ্ট আবেদনের নথিতে নতুন ঠিকানা সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা উচিত। ডাক বিভাগে ঠিকানা পরিবর্তন করলে অভিবাসন বিভাগের নথিতে ঠিকানা বদলে যায় না। একইভাবে, অভিবাসন বিভাগের পাঠানো চিঠি ডাক বিভাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ঠিকানায় পৌঁছে দেবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই। ৩. মোটরযান বিভাগ: ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির নিবন্ধন নতুন বাসায় ওঠার পর সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মোটরযান বিভাগে ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়মও যাচাই করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, অঙ্গরাজ্যের পরিচয়পত্র এবং গাড়ির নিবন্ধনের তথ্য হালনাগাদ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সময়সীমা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্কে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের ১০ দিনের মধ্যে মোটরযান বিভাগকে জানাতে হয়। অন্য অঙ্গরাজ্যে সময়সীমা ও পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজের অঙ্গরাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইটে নিয়ম দেখে নেওয়া উচিত। ৪. কর বিভাগ: করসংক্রান্ত নথিতে নতুন ঠিকানা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ বা কর কর্তৃপক্ষের কাছেও ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য জানানো প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে কর ফেরত, করসংক্রান্ত চিঠি কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি যেন সঠিক ঠিকানায় পৌঁছায়, সে জন্য তথ্য হালনাগাদ রাখা জরুরি। ব্যক্তিগত ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করা যায়। নতুন ঠিকানা দিয়ে পরবর্তী কর বিবরণী জমা দিলেও কর বিভাগের রেকর্ড হালনাগাদ হতে পারে। তবে কর বিবরণী জমা দেওয়ার আগে ঠিকানা বদলালে কিংবা করসংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলে সরাসরি ঠিকানা পরিবর্তনের পদ্ধতি যাচাই করা ভালো। ৫. সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন: সুবিধাভোগীদের তথ্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের কাছে ঠিকানা পরিবর্তনের প্রয়োজন সবার ক্ষেত্রে এক নয়। যাঁরা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা, অবসরভাতা, অক্ষমতাজনিত সুবিধা বা চিকিৎসা বিমার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের ঠিকানা হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। যোগ্য ব্যক্তিরা অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তথ্য পরিবর্তন করতে পারেন। তবে যাঁরা কোনো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা বা চিকিৎসা বিমা পান না, তাঁদের শুধু ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য সাধারণত এই প্রশাসনকে আলাদাভাবে জানানোর প্রয়োজন হয় না। সম্পূরক নিরাপত্তা আয় সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে আলাদা পদ্ধতি প্রযোজ্য হতে পারে। ৬. ভোটার নিবন্ধন: নির্বাচনী এলাকার তথ্য হালনাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত থাকলে ঠিকানা পরিবর্তনের পর ভোটার নিবন্ধনের তথ্যও হালনাগাদ করা উচিত। নতুন ঠিকানার ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার এলাকা, নির্বাচনী কেন্দ্র কিংবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে। নিজের অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ঠিকানা পরিবর্তনের পদ্ধতি ও সময়সীমা জানা যায়। তবে ভোটার নিবন্ধন সবার জন্য প্রযোজ্য নয়; এটি যোগ্য ও নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য প্রাসঙ্গিক। ৭. ব্যাংক, বিমা ও স্কুলের নথি সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি ব্যাংক, ঋণপত্র প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানি এবং অন্যান্য আর্থিক সেবাদাতার কাছেও ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য জানানো ভালো। এতে বিল, হিসাবসংক্রান্ত নোটিশ, বিমার কাগজপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ চিঠি সঠিক ঠিকানায় পৌঁছাতে সুবিধা হয়। পরিবারে স্কুলপড়ুয়া সন্তান থাকলে স্কুল বা স্কুল কর্তৃপক্ষকেও নতুন ঠিকানা জানাতে হতে পারে। বিশেষ করে বাসা বদলের কারণে স্কুলের আওতাভুক্ত এলাকা পরিবর্তিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। নতুন ঠিকানা লেখার সময় ডাক বিভাগের ডাকসংকেত অনুসন্ধান ব্যবস্থা ব্যবহার করে ঠিকানার সঠিক বানান, ডাকসংকেত এবং নির্ধারিত বিন্যাস যাচাই করা যায়। অভিবাসন আদালতে মামলা থাকলে আলাদা নিয়ম মনে রাখুন যাঁদের অভিবাসন আদালতে মামলা চলছে, তাঁদের জন্য একটি অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অভিবাসন বিভাগকে ঠিকানা জানানো মানেই অভিবাসন আদালতকে জানানো নয়। আদালতে চলমান মামলার ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য সাধারণত নির্ধারিত পৃথক ফরম ব্যবহার করতে হয়। আপিল বোর্ডে মামলা থাকলে সেখানেও আলাদা ফরম প্রযোজ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঠিকানা পরিবর্তনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর নিয়ম রয়েছে। আদালতের নোটিশ পুরোনো ঠিকানায় চলে গেলে শুনানির তারিখ মিস করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অনুপস্থিতিতে শুনানি চলতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অপসারণের আদেশও দেওয়া হতে পারে। আপিল বা অন্য কোনো আবেদন চলমান থাকলে ঠিকানা হালনাগাদ না করার কারণে অতিরিক্ত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না জানালেই সব ক্ষেত্রে মামলা খারিজ হয়ে যায়—এমন দাবি সঠিক নয়। সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো, বাসা বদলানোর পর নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা এবং প্রতিটি জায়গায় ঠিকানা হালনাগাদ হয়েছে কি না, তার প্রমাণ সংরক্ষণ করা। বিশেষ করে অভিবাসন আবেদন বা আদালতের মামলা চলমান থাকলে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে সঠিক কর্তৃপক্ষকে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইসিইর হাতে অন্যায়ভাবে আ টক হলে মার্কিন নাগরিকেরা পেতে পারেন অন্তত ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ
আগামী বছর আমেরিকার সব শিশুর হাতে স্পেসএক্সের শেয়ার তুলে দেওয়ার ঘোষণা ইলন মাস্কের
নিউইয়র্ক বোর্ড অব এডুকেশনের শিক্ষক ও নৃত্যশিল্পী বাংলাদেশি তাসিন ফেরদৌসের অকাল মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতায় পরিচিত ‘নো কিংস’ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এসব সমাবেশে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের আগাম ভোট দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। ‘নো কিংস: ভোট আর্লি’ নামের এই কর্মসূচিতে আগের মতো শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, বরং নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দেশজুড়ে প্রায় তিন হাজার স্থানে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এটি নির্দলীয় ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ। যোগ্য ভোটাররা কীভাবে আগাম ভোট দিতে পারবেন, সে বিষয়ে তথ্য দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করতে তাঁদের সহায়তা করাই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিনের আগেই ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে সমাবেশ, প্রচার এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের ভোটদানে উৎসাহিত করছেন আন্দোলনের কর্মীরা। ‘নো কিংস’ আন্দোলন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন নীতি ও ক্ষমতা প্রয়োগের বিরোধিতা থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর আগেও ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবরে এবং ২০২৬ সালের মার্চে দেশজুড়ে বড় কর্মসূচি হয়েছিল। তবে এবারের আয়োজনে আন্দোলনকারীরা রাজপথের প্রতিবাদের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামত কার্যকর করার অন্যতম উপায় হলো ভোট দেওয়া। এবারের কর্মসূচি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের সামনে কঠিন নির্বাচনী লড়াই রয়েছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশে ভোট হবে। নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্টের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, বাজেট ও প্রশাসনিক নীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ভোটের পদ্ধতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করে আসছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর প্রমাণ ছাড়াই ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। অন্যদিকে, ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, যোগ্য নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। ডাকযোগে ভোট সীমিত করা বা ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করার উদ্যোগ নিয়ে এ বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপেও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও সিনেটের লড়াই অনিশ্চিত রয়েছে। তবে জনমত জরিপ চূড়ান্ত ফলের নিশ্চয়তা দেয় না। ‘নো কিংস’ আয়োজকদের আশা, আগাম ভোটের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং ভোটারদের পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে সহায়তা করার মাধ্যমে তাঁরা ভোটদানের হার বাড়াতে পারবেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ‘নো কিংস’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজার স্কুল বোর্ডের কার্যক্রম এআই দিয়ে নজরদারি করবে অভিভাবক সংগঠন ‘মমস ফর লিবার্টি’
খেলনার শখ থেকে সফল উদ্যোক্তা, মাত্র ৮ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব দোকান খুলল লুনা
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অনাগত সন্তানের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানলে ঘরবাড়ি হারানো প্রায় ১,৪০০ পরিবার নতুন সংকটের মুখে পড়েছে। অঙ্গরাজ্য সরকার ও ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা—ফেমার—মধ্যে অর্থায়ন নিয়ে অচলাবস্থার কারণে এসব পরিবারের দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তাকারী ব্যবস্থাপকদের সেবা অক্টোবরের শেষ নাগাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এই সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপকরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বীমার দাবি নিষ্পত্তি, আর্থিক সহায়তার আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পূরণ, অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং ঘর পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন। অনেক পরিবারের জন্য এই সহায়তা শুধু প্রশাসনিক কাজ সহজ করার বিষয় নয়; বরং দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম ভরসা। এর একটি উদাহরণ ৭৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মেরি ল্যান্ডাউ। ক্যালিফোর্নিয়ার আলটাডেনায় প্রায় ৫০ বছর ধরে বসবাস করা তাঁর বাড়িটি ইটন দাবানলে ধ্বংস হয়ে যায়। বাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য বীমার অর্থ, ঋণ এবং আর্থিক সহায়তা নিয়ে নানা জটিলতায় পড়েন তিনি। তাঁর দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপক ভেদা অ্যাশবি রোমেরো বীমার কাগজপত্র পূরণ ও সহায়তার আবেদন করতে তাঁকে সাহায্য করেন। ওই সহায়তায় ল্যান্ডাউ এক বছরের বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য অনুদানও পেয়েছিলেন বলে এপি জানিয়েছে। কিন্তু এখন ল্যান্ডাউয়ের মতো প্রায় ১,৪০০ পরিবারের জন্য এই সহায়তা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৭০০ পরিবার এখনো কর্মসূচির সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কর্মসূচি বন্ধ হলে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর পাশাপাশি যাঁরা ইতিমধ্যে সহায়তা পাচ্ছেন, তাঁদেরও বিকল্প সেবা খুঁজতে হতে পারে। অর্থায়ন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত দাবানলের পর থেকেই। ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ক্যালিফোর্নিয়া দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার চেয়েছিল। কিন্তু ফেমা ২৪ মাসের জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ ডলার অনুমোদন করে, যা চার কিস্তিতে দেওয়ার কথা ছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত ফেমা চার কিস্তির মধ্যে মাত্র একটি পরিশোধ করেছিল। ফলে বাকি অর্থের অপেক্ষায় অঙ্গরাজ্য সরকারকে নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় চালিয়ে যেতে হয়। পরে বকেয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হলেও অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় কর্মসূচিটি পুরো ২৪ মাস চালু রাখতে ক্যালিফোর্নিয়া অতিরিক্ত ৬৫ লাখ ডলারও চেয়েছিল। কিন্তু সেই অনুরোধের বিষয়ে ফেমার কাছ থেকে সময়মতো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় অঙ্গরাজ্য সরকার কর্মসূচিটি চালিয়ে যাওয়ার আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সমস্যায় পড়ে। ফলে অক্টোবরের শেষে সেবা বন্ধ করার পরিকল্পনা সামনে আসে। কর্মসূচি পরিচালনাকারী অলাভজনক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে শুরু করেছে। যেসব পরিবারের পরিস্থিতি তুলনামূলক কম জটিল, তাদের কিছু মামলা বন্ধ করা হচ্ছে; অন্যদের বিকল্প সংস্থায় স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। তবে সব পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার মতো অর্থ ও জনবল নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানিয়েছেন। এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত শতাধিক ব্যবস্থাপকের চাকরিও এই সংকট এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার দাবানলে ধ্বংস হওয়া বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা পুনর্নির্মাণের কাজ এখনো অনেক ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যালিসেডস ও ইটন দাবানলে ১৬ হাজারের বেশি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছিল। অনেক পরিবার বীমার অর্থ পেতে দেরি, পুনর্নির্মাণের উচ্চ ব্যয়, ঠিকাদারের সংকট এবং উপযুক্ত আবাসনের অভাবে এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। এপি জানায়, অঙ্গরাজ্য প্রায় ১৫৭০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ও অঙ্গরাজ্য সরকারের মধ্যে দাবানল মোকাবিলা এবং পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে। ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে দেওয়া সহায়তার কথা তুলে ধরা হলেও নতুন অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপকদের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বীমা কোম্পানি, সরকারি দপ্তর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেরাই জটিল প্রক্রিয়া সামলাতে হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, সীমিত আয়সম্পন্ন পরিবার এবং অনলাইন আবেদন বা আইনি কাগজপত্র বুঝতে সমস্যায় পড়েন—এমন ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি, নতুন নীতিতে চাপে বহু পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম রেকর্ডে, সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন