নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখতে চান ট্রাম্পের সহযোগীরা, এরপর বাড়তে পারে হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আপাতত আর বড় আকারে বাড়াতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। অন্তত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন হোয়াইট হাউসের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবারও জোরালো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের আলোচনা সম্পর্কে জানেন—এমন চারজন ব্যক্তি বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পাল্টা হামলা বা অন্য কোনো ঘটনা পরিস্থিতি বদলে দিলে এই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে।
এই মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে, তবে নভেম্বরের নির্বাচনও এখন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
এর পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও রয়েছে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই অল্প ব্যবধানে। ফলে নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ আরও বড় আকার নিলে সেটি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এরই মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষও বাড়ছে। রয়টার্স ও ইপসসের আগস্টের শেষের দিকের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে ৬৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানির বাড়তি দাম, যা সাধারণ মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করছে।
যুদ্ধের গতি কিছুটা কমানোর পেছনে সামরিক কারণও রয়েছে। কয়েক মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকটাই কমে গেছে। ফলে সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত আবার পূরণ করার জন্য সময় দেওয়াও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
কিন্তু সমস্যা হলো, যুদ্ধকে চাইলেই নভেম্বর পর্যন্ত শান্ত রাখা নাও যেতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা করে। এর জবাবে ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
এরপর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আরও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ের পর এটিকে সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব হামলায় ইরানে সামরিক সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা ছাড়াও মার্কিন ও উপসাগরীয় মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে তেহরান।
এতে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পাল্টা জবাব দেওয়ার চাপ বাড়বে। এক পক্ষের হামলার জবাবে অন্য পক্ষের হামলা—এভাবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বাড়াতে না চাইলেও ঘটনাপ্রবাহ তাদের আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এর মধ্যে ট্রাম্প নিজেও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইরান যদি সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাব দেয়, তাহলে দেশটির ওপর আরও কঠিন ও বড় মাত্রার হামলা চালানো হবে।
তবে পরদিন কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নতুন করে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে নভেম্বরের নির্বাচন ইরানবিষয়ক তার নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও দাবি করেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে নির্বাচনে লড়ছেন না, তার দল লড়ছে এবং তিনি দলকে সহায়তা করবেন। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতির ‘সময়সূচি বদলে গেছে’। আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ক্যালেন্ডারই ইরানকে পরিচালিত করছে।’ অর্থাৎ নভেম্বরের নির্বাচন এখন ইরান নীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।
সামরিক অভিযান কিছুটা সীমিত রাখার পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধও অব্যাহত আছে।
তবে শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানকে নত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা সত্ত্বেও ইরানের নেতৃত্ব তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি। বরং চাপ আরও বাড়লে ইরান সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
তার ওপর চীনের মতো বড় শক্তিগুলো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় পুরোপুরি সহযোগিতা করছে না। ফলে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর কৌশল কতটা সফল হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।
সব মিলিয়ে, নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ফলে নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত সীমিত থাকবে, নাকি তার আগেই আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হবে—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপেনসিলভেনিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, আবাসন ও আইনি সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন সরকারি ও কমিউনিটি সেবা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন আসা পরিবারের জন্য নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে এসব সেবা খুঁজে নেওয়া সহজ। সবার আগে কাজে লাগতে পারে পেনসিলভেনিয়া ২১১। ২১১ নম্বরে ফোন করে বা নিজের জিপ কোড জানিয়ে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি, শিক্ষা ও অন্যান্য সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সেবাটি বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। চাকরির জন্য পেনসিলভেনিয়ার সরকারি ক্যারিয়ারলিংক ব্যবহার করা যেতে পারে। সেখানে চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, চাকরি খোঁজার প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সহায়তা পাওয়া যায়। বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখার ক্লাস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার সুযোগও জিপ কোড অনুযায়ী খুঁজে নেওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিতে নতুন অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতির বিভিন্ন রিসোর্স রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি, বিনামূল্যের খাবার ও অন্যান্য খাদ্য সহায়তা খুঁজে পাওয়া যায়। একইভাবে আবাসন ও বাড়িভাড়ার সহায়তার তথ্যও পাওয়া যায়। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স ও ফটো সেন্টার জিপ কোড দিয়ে খুঁজে নেওয়া যায়। তাই পেনসিলভেনিয়ায় নতুন হলে নিজের জিপ কোড দিয়ে সরকারি ও স্থানীয় সেবাগুলো খুঁজে দেখুন। চাকরি, স্কুল, খাবার, আবাসন বা অন্যান্য সহায়তার জন্য ২১১ এবং ক্যারিয়ারলিংক হতে পারে ভালো শুরু।
মরুভূমিতে বিরল তুষারপাত, স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল সাদা চাদরের দৃশ্য
মিনিয়াপোলিসে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলা, সন্দেহভাজনসহ নিহত ৩
নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখতে চান ট্রাম্পের সহযোগীরা, এরপর বাড়তে পারে হামলা
নেদারল্যান্ডস যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সংরক্ষিত নিজেদের সোনার মজুতের প্রায় ৮৬ টন লন্ডনে স্থানান্তর করেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে এই স্থানান্তর করা হয়। এর আগে নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ কানাডার অটোয়ায় ছিল। স্থানান্তরের পর দুই জায়গাতেই রয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে সঞ্চিত সোনার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ। ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, লন্ডন বিশ্বের অন্যতম প্রধান সোনা বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ায় সেখানে সোনা রাখলে প্রয়োজনের সময় দ্রুত তা লেনদেন করা সম্ভব। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে সোনা ছড়িয়ে রাখায় ঝুঁকিও কমে। তবে নেদারল্যান্ডসই প্রথম নয়। ফ্রান্স ও জার্মানিও অতীতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে নিজেদের সোনা সরিয়েছে। ফ্রান্স ২০২৫-২৬ সময়ে নিউইয়র্কে থাকা ১২৯ টন সোনা বিক্রি করে ইউরোপে সমপরিমাণ নতুন সোনা কিনেছে। ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ওই সোনা আন্তর্জাতিক মানে না থাকায় বিক্রি করে ইউরোপে নতুন সোনা কেনা হয়েছিল। জার্মানি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে ৩০০ টন এবং প্যারিস থেকে ৩৭৪ টন সোনা ফ্রাঙ্কফুর্টে স্থানান্তর করে। ২০১৭ সালের আগস্টে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, দেশটির মোট সোনার ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ তখন জার্মানিতেই সংরক্ষিত ছিল। তবে এসব স্থানান্তরকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনাস্থার প্রমাণ বলা ঠিক হবে না। দেশগুলো মূলত সোনার নিরাপত্তা, ঝুঁকি বণ্টন এবং সংকটের সময় দ্রুত ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করার কারণ দেখিয়েছে।
জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি থাকা বিশেষ ১ ডলারের কয়েন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ, কয়েক ঘণ্টাতেই বিক্রি শেষ
টেক্সাসের হাসপাতালে বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিল ট্রাম্প প্রশাসন
নিউইয়র্কের স্কুলে এক বছর এআই নিষিদ্ধের কঠোর নীতি, প্রভাবিত হবে ৬ লাখ শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন আটকে দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান। বুধবার মেরিল্যান্ডের এই বিচারক আদেশটির বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ট্রাম্প গত ৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশটি জারি করেন। এতে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর পাশাপাশি বিদেশি সরকারের কর্মী, ‘বিদেশি শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তি এবং কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়। এর আগে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত বা সাময়িক ভিসায় থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে সেই উদ্যোগ অসাংবিধানিক বলে প্রত্যাখ্যাত হয়। আদালত জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মসূত্রে নাগরিক। নতুন আদেশের ক্ষেত্রেও বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে যেসব শিশুকে জন্মের সময় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নতুন আদেশ “প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক”। বোর্ডম্যানের আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ওই শ্রেণির শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার বা স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসন কীভাবে আদেশটি বাস্তবায়ন করতে পারে, সে বিষয়ে নির্দেশনা তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, নতুন আদেশটি আগেরটির তুলনায় অনেক সীমিত এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই মামলাটি এখনই বিবেচনা করা উচিত নয়। বিচারক অবশ্য সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে একটি খসড়া নির্দেশনা তৈরি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের পাসপোর্টের আবেদনের সময় বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্টাটাস-এর প্রমাণ চাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও আদালতের মধ্যে আইনি লড়াই নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন নির্বাহী আদেশটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা এখন পরবর্তী আদালতীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সরকারে দুর্নীতি ব্যাপক মনে করেন ৮৯% মার্কিন নাগরিক, গ্যালাপের জরিপ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি বন্ডের সুদ বাড়ছে, আরও ব্যয়বহুল হতে পারে বাড়ি-গাড়ির ঋণ