সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখতে চান ট্রাম্পের সহযোগীরা, এরপর বাড়তে পারে হামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৬:২৫
ট্রাম্প ও সহযোগীদের ইরানকেন্দ্রিক নতুন কৌশল
ট্রাম্প ও সহযোগীদের ইরানকেন্দ্রিক নতুন কৌশল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আপাতত আর বড় আকারে বাড়াতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। অন্তত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন হোয়াইট হাউসের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবারও জোরালো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের আলোচনা সম্পর্কে জানেন—এমন চারজন ব্যক্তি বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পাল্টা হামলা বা অন্য কোনো ঘটনা পরিস্থিতি বদলে দিলে এই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে।

 

এই মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে, তবে নভেম্বরের নির্বাচনও এখন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।

 

এর পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও রয়েছে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই অল্প ব্যবধানে। ফলে নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ আরও বড় আকার নিলে সেটি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

 

এরই মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষও বাড়ছে। রয়টার্স ও ইপসসের আগস্টের শেষের দিকের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে ৬৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানির বাড়তি দাম, যা সাধারণ মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করছে।

 

যুদ্ধের গতি কিছুটা কমানোর পেছনে সামরিক কারণও রয়েছে। কয়েক মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকটাই কমে গেছে। ফলে সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত আবার পূরণ করার জন্য সময় দেওয়াও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

 

কিন্তু সমস্যা হলো, যুদ্ধকে চাইলেই নভেম্বর পর্যন্ত শান্ত রাখা নাও যেতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা করে। এর জবাবে ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

 

এরপর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আরও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ের পর এটিকে সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব হামলায় ইরানে সামরিক সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন।

 

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা ছাড়াও মার্কিন ও উপসাগরীয় মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে তেহরান।

 

এতে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পাল্টা জবাব দেওয়ার চাপ বাড়বে। এক পক্ষের হামলার জবাবে অন্য পক্ষের হামলা—এভাবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বাড়াতে না চাইলেও ঘটনাপ্রবাহ তাদের আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

 

এর মধ্যে ট্রাম্প নিজেও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইরান যদি সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাব দেয়, তাহলে দেশটির ওপর আরও কঠিন ও বড় মাত্রার হামলা চালানো হবে।

 

তবে পরদিন কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নতুন করে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে নভেম্বরের নির্বাচন ইরানবিষয়ক তার নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও দাবি করেন।

 

ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে নির্বাচনে লড়ছেন না, তার দল লড়ছে এবং তিনি দলকে সহায়তা করবেন। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

 

যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতির ‘সময়সূচি বদলে গেছে’। আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ক্যালেন্ডারই ইরানকে পরিচালিত করছে।’ অর্থাৎ নভেম্বরের নির্বাচন এখন ইরান নীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

সামরিক অভিযান কিছুটা সীমিত রাখার পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধও অব্যাহত আছে।

 

তবে শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানকে নত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা সত্ত্বেও ইরানের নেতৃত্ব তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি। বরং চাপ আরও বাড়লে ইরান সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।

 

তার ওপর চীনের মতো বড় শক্তিগুলো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় পুরোপুরি সহযোগিতা করছে না। ফলে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর কৌশল কতটা সফল হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।

 

সব মিলিয়ে, নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ফলে নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত সীমিত থাকবে, নাকি তার আগেই আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হবে—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আইসিইর অভিবাসন কেন্দ্রে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে বিক্ষোভ
আইসিইর হাতে অন্যায়ভাবে আ টক হলে মার্কিন নাগরিকেরা পেতে পারেন অন্তত ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর (ICE) কর্মকর্তারা কোনো মার্কিন নাগরিককে অন্যায়ভাবে আ টক বা হেফাজতে রাখলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অন্তত ৫ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে কংগ্রেসে। নতুন একটি বিলে বলা হয়েছে, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ৫ লাখ ডলারের পাশাপাশি হেফাজতে থাকার অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; কার্যকর হয়নি।   নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ গত ১৫ অক্টোবর ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইন্ড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামের বিলটি উত্থাপন করেন। নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বনি ওয়াটসন কোলম্যান এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। বিলটি উত্থাপনের পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পাস হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বা তার পর থেকে কোনো মার্কিন নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা কিংবা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা পরোয়ানা বা যথাযথ সন্দেহের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি কারণ ছাড়াই গ্রে প্তার বা হেফাজতে রাখলে তিনি ফেডারেল আদালতে মামলা করতে পারবেন। মামলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিবাদী করা যাবে। বিলে বলা হয়েছে, আদালত অভিযোগকারীর পক্ষে রায় দিলে তাকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর সঙ্গে গ্রে প্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মামলার যুক্তিসংগত আইনজীবী ফি ও অন্যান্য খরচও পরিশোধ করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিতে বা আইনি অধিকার ঘোষণা করতে পারবেন। প্রস্তাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিযুক্ত অভিবাসন কর্মকর্তারা যেন মামলায় দায় এড়াতে ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’ বা ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’র মতো আইনি সুরক্ষার যুক্তি দেখাতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সার্বভৌম দায়মুক্তি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিযোগের কারণ তৈরি হওয়ার পর পাঁচ বছরের মধ্যে মামলা করার সুযোগ থাকবে। অন্য কোনো আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার থাকলে নতুন আইনের ক্ষতিপূরণ তার অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের অব্যবহৃত অংশের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থায়ীভাবে বাতিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। ফলে এটি শুধু অন্যায়ভাবে আ টক হওয়া নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; অভিবাসন আইন প্রয়োগের অর্থায়ন নিয়েও প্রভাব ফেলতে পারে। আইসিইর আ টক নিয়ে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদেরও অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আ টক হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি অনুসন্ধানে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিককে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে হেফাজতে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ করা, কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। শিকাগোর প্যারালিগ্যাল ও মার্কিন নাগরিক ডায়ানে ফিগুয়েরোয়া অভিযোগ করেছেন, বর্ডার প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা তাকে জোর করে গাড়ি থেকে বের করে আনেন। ঘটনার ভিডিও সরকারের বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিসে চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন আরেক মার্কিন নাগরিক আলিয়া রহমান। একই শহরে আ টক হওয়া ব্র্যান্ডন সিগুয়েঞ্জা বলেছেন, হেফাজতে থাকা অবস্থায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিষয়ে তথ্য দিতে ফেডারেল কর্মকর্তারা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। টেক্সাসের ব্রায়ান গার্সিয়া মোরালেস নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করার পরও আইসিই তাকে মেক্সিকোতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। পরে জন্মের নথি দেখিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে মার্কিন নাগরিক হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হতে পারে। তার ভাষ্য, যুক্তিসংগত সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে সাময়িকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি মার্কিন নাগরিক বলে নিশ্চিত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী হেফাজতে রাখা হয় বলেও দাবি করেছে বিভাগটি। ডিএইচএসের মুখপাত্র আরও বলেছেন, আইসিইর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ বা মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কেউ যদি কার্যক্রমে বাধা দেন বা কর্মকর্তাদের ওপর হা মলা করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিভাগটির দাবি, মার্কিন নাগরিকদের গ্রে প্তার ও বহিষ্কারের অভিযোগ মিথ্যা। অন্যদিকে, বিলটির উদ্যোক্তা লেগার ফার্নান্দেজ বলেছেন, আইসিই যেন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে দায়মুক্তি না পায়, সেটি নিশ্চিত করাই তার উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তার মতে, অন্যায়ভাবে আ টক হওয়া নাগরিকদের ন্যায়বিচার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মৃ ত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মিনিয়াপোলিসে রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি, টেক্সাসের সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ডে ২৩ বছর বয়সী রুবেন রে মার্টিনেজ এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪৩ বছর বয়সী কিথ পোর্টার জুনিয়র—এদের মৃ ত্যুর ঘটনায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা বা আইসিই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আইসিইর ক্ষমতা সীমিত করার একাধিক প্রস্তাব আনা হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেগুলোর পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন বিলটি বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলীয় নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে। তবে বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিলটি আইনে পরিণত না হলে পরবর্তী কংগ্রেসে এটি নতুন করে উত্থাপন করতে হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৬:৪০
ইলন মাস্কের পরিকল্পনায় আমেরিকার প্রতিটি শিশুর জন্য স্পেসএক্সের শেয়ার

আগামী বছর আমেরিকার সব শিশুর হাতে স্পেসএক্সের শেয়ার তুলে দেওয়ার ঘোষণা ইলন মাস্কের

নৃত্যশিল্পী ও নিউইয়র্ক বোর্ড অব এডুকেশনের শিক্ষক তাসিন ফেরদৌস

নিউইয়র্ক বোর্ড অব এডুকেশনের শিক্ষক ও নৃত্যশিল্পী বাংলাদেশি তাসিন ফেরদৌসের অকাল মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ কর্মসূচিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আগাম ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ, জোরালো হচ্ছে ‘নো কিংস’ আন্দোলন

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল বোর্ডের আলোচ্যসূচি পর্যবেক্ষণে এআই ব্যবস্থা চালু করেছে মমস ফর লিবার্টি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজার স্কুল বোর্ডের কার্যক্রম এআই দিয়ে নজরদারি করবে অভিভাবক সংগঠন ‘মমস ফর লিবার্টি’

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজারেরও বেশি স্কুল জেলার শিক্ষা বোর্ডের বৈঠকের আলোচ্যসূচি পর্যবেক্ষণ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে রক্ষণশীল অভিভাবক অধিকার সংগঠন ‘মমস ফর লিবার্টি’। ‘এমফোরএল অ্যাওয়্যার’ (M4L AWARE) নামের এই ব্যবস্থা প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর স্কুল বোর্ডের প্রকাশিত নথি স্ক্যান করবে। বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতি, লিঙ্গবিষয়ক নীতিমালা এবং পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করে স্থানীয় সংগঠনের সদস্যদের সতর্কবার্তা পাঠাবে এটি। সংগঠনটির লক্ষ্য, কোনো প্রস্তাবের ওপর বোর্ডের ভোট হওয়ার আগেই অভিভাবকেরা যেন তা পর্যালোচনা করে নিজেদের মতামত জানাতে পারেন।   গত ৯ অক্টোবর ডালাসে সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে নতুন এই ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়। মমস ফর লিবার্টির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা ডেসকোভিচের উদ্যোগে চালু হওয়া ব্যবস্থাটির নামের পূর্ণরূপ ‘অ্যাজেন্ডা ওয়াচ, অ্যালার্ট, রেসপন্স অ্যান্ড এনগেজ’। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ও জটিল আলোচ্যসূচির মধ্যে অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণ হতে পারে এমন প্রস্তাব খুঁজে বের করাই এর প্রধান কাজ। এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরে স্থানীয় শাখাগুলোকে জানানো হবে, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট স্কুল বোর্ডের বৈঠকের আগেই প্রস্তুতি নিতে পারে।   সংগঠনটির মতে, স্কুল বোর্ডের সভায় কী আলোচনা হবে, তা অনেক সময় অভিভাবকেরা যথাসময়ে জানতে পারেন না। দীর্ঘ নথি পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব খুঁজে বের করা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই অনেকের পক্ষে মতামত জানানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এআই ব্যবস্থাটি এই সময়ের ঘাটতি কমাতে পারে। মমস ফর লিবার্টির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কোনো আলোচ্যসূচির গভীরে থাকা বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক চুক্তি কিংবা লিঙ্গনীতি শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা স্কুল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনমত জানানোর প্রস্তুতি নিতে পারবেন।   এআই ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্য সংগঠনটির আগের অবস্থানের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে বৈপরীত্য তৈরি করেছে। শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসা এই সংগঠন এখন স্কুলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণেই প্রযুক্তিটির সহায়তা নিচ্ছে। তবে সংগঠনটির বক্তব্য, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জায়গা এআইয়ের দখল নেওয়া উচিত নয়। তাদের নতুন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি শুধু তথ্য খুঁজে বের করবে, আর কোন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বা উদ্বেগজনক, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন অভিভাবকেরাই।   মমস ফর লিবার্টির দাবি, নতুন ব্যবস্থাটি আলোচ্যসূচির বিভিন্ন বিষয়কে অভিভাবকদের অধিকার ও সংগঠনটির অগ্রাধিকারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করবে। ফলে কোন প্রস্তাব নিয়ে আগে খোঁজখবর নেওয়া প্রয়োজন, তা দ্রুত বোঝা যাবে। তবে এই শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটি নির্ভর করবে ব্যবস্থাটির নির্ধারিত মানদণ্ডের ওপর। যে নীতিকে সংগঠনটি উদ্বেগজনক মনে করে, অন্য অভিভাবক বা শিক্ষকেরা সেটিকে ভিন্নভাবে দেখতে পারেন। তাই এআইয়ের সতর্কবার্তা নিজে থেকে কোনো নীতির যথার্থতা বা ক্ষতিকর হওয়ার প্রমাণ নয়।   এখন পর্যন্ত ব্যবস্থাটি কতটা নির্ভুলভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব শনাক্ত করতে পারে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভুলভাবে কোনো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রস্তাব শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সংগঠনটি অবশ্য বলছে, অভিভাবকেরা সতর্কবার্তার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে মূল নথি পড়তে পারবেন এবং প্রয়োজনে স্কুল বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।   মমস ফর লিবার্টি যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকদের শিক্ষা-সংক্রান্ত অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি রক্ষণশীল সংগঠন। দেশটির সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তাদের জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। নতুন এআই ব্যবস্থা চালুর ফলে স্থানীয় স্কুলগুলোর নীতিমালা নিয়ে অভিভাবকদের সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে। একই সঙ্গে কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে প্রযুক্তির ভূমিকা বাড়ায় স্থানীয় শিক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক, ফক্স নিউজ ডিজিটাল ও মমস ফর লিবার্টির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২১:২৭
মাত্র আট বছর বয়সে নিজের স্লাইমের দোকান খুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের লুনা-বেল মেজা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

খেলনার শখ থেকে সফল উদ্যোক্তা, মাত্র ৮ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব দোকান খুলল লুনা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন তদন্তকারীরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অনাগত সন্তানের মৃত্যু

সরকারি সহায়তা হারানোর শঙ্কায় ক্যালিফোর্নিয়ার ১,৪০০ পরিবার

ঘর পুড়েছে দাবানলের আগুনে, এবার সরকারি সহায়তা হারানোর শঙ্কায় ক্যালিফোর্নিয়ার ১,৪০০ পরিবার

বৈধ অভিবাসী, শরণার্থী ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি, নতুন নীতিতে চাপে বহু পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন মেডিকেইড নীতির কারণে কিছু বৈধ অভিবাসী, শরণার্থী ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন। ফলে যেসব পরিবার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমার খরচ বহন করতে পারে না, তাদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    নতুন নিয়মটি ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীতির পরিবর্তনে কয়েক লাখ বৈধ অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিশেষ করে এমন পরিবারগুলোর ওপর পড়তে পারে, যাদের নিয়মিত ওষুধ, চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।   মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি, যা যোগ্য নিম্ন আয়ের মানুষসহ নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসার খরচ বহনে সহায়তা করে। নতুন বিধিনিষেধের ফলে আগে সুবিধা পাওয়া কিছু অভিবাসী এখন আর একইভাবে এই কর্মসূচির আওতায় থাকছেন না।   অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, স্বাস্থ্যবিমা হারালে অনেক পরিবার চিকিৎসা নিতে দেরি করতে পারে অথবা জরুরি বিভাগের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন পরিবর্তনগুলোকে সরকারি ব্যয় ও সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।   তবে সব অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন নয়। কারা সুবিধা পাবেন, তা তাঁদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান, যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড দপ্তর থেকে বর্তমান যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৬:৪০
ক্রেতাদের জন্য আবাসন এখনো ব্যয়বহুল।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম রেকর্ডে, সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন

বেকারভাতার আবেদনকারী

বেকারভাতার আবেদন কম, তবু যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়া কঠিন হচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক নাগরিক ও মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের জন্য শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা

মেডিকেয়ারের নতুন নিয়মে বাড়তে পারে চিকিৎসা ব্যয়, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার সুযোগ

0 Comments