সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চাল

সন্তানকে খেলানোর জন্য রঙিন চাল তৈরি, সেই শখ থেকেই মাসে ৬ হাজার ৩০০ ডলার আয়
সন্তানকে খেলানোর জন্য রঙিন চাল তৈরি, সেই শখ থেকেই মাসে ৬ হাজার ৩০০ ডলার আয়

করোনা মহামারির গৃহবন্দি সময়ে ছোট সন্তানকে শান্ত ও ব্যস্ত রাখতে রান্নাঘর থেকে চাল আর ফুড কালার দিয়ে একটি সাধারণ খেলার উপায় বের করেছিলেন জুলিয়ানা বি. নামের এক মার্কিন নারী। কিন্তু তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি যে, সেই রঙিন চালই তাকে এনে দেবে অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য। শখের বশে শুরু করা এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, কেবল এক মাসেই তার আয় দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলারে।   শুরুতে কৌতূহলবশত ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে কিছু রঙিন চাল বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের অভাবনীয় সাড়া পান দুই সন্তানের এই জননী। এরপর তিনি ‘প্লে-ডো’ কিটসহ বিভিন্ন সেনসরি (সংবেদনশীল) আইটেম তৈরি করে ‘এটসি’ প্ল্যাটফর্মে নিজের অনলাইন স্টোর খোলেন।   ব্যবসার প্রসারের সাথে সাথে ২০২৩ সালে এসে তিনি অন্যান্য পণ্য বাদ দিয়ে কেবল সেনসরি মিক্সের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি পণ্য বিক্রি করে তিনি কয়েক লাখ ডলার আয় করেছেন, আর সেই সাথে ঘরে বসেই দুই মেয়ের পড়াশোনা ও নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছেন।   চাল দিয়ে খেলার কারণে খাবার অপচয়ের কিছু সমালোচনা উঠলেও জুলিয়ানা মনে করেন, শিশুদের মানসিক বিকাশে এটি দারুণ কার্যকরী। তবে তিনি অভিভাবকদের বিকল্প উপকরণ ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি ‘সেনসরি মেকারস’ নামে একটি কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে অন্যান্য নারীদেরও ঘরে বসে স্বাধীন ব্যবসার স্বপ্ন পূরণে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এই সফল নারী উদ্যোক্তা।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে সরকারি শিক্ষায় সম্ভাব্য ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থীর বিশাল বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে চিলিতে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে সরকারি শিক্ষায় সম্ভাব্য ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিলির জাতীয় পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরে দেশটির স্বরাষ্ট্র উপসচিব জানান, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয় প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্তের প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের বাজেটে সরকারি শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দ কমানোর আশঙ্কার প্রতিবাদে। দেশটির প্রধান শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলো এই কর্মসূচির আয়োজন করে। কাস্তে তার প্রশাসনের প্রথম বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের মাত্র এক দিন পর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। ফলে নতুন সরকারের শিক্ষা নীতি ও ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ প্রকাশ্যে আসে।   কাস্তে মার্চে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যয় সংকোচনভিত্তিক কর্মসূচির কথা জানান। বুধবার তিনি বলেন, ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সুরক্ষিত রাখা হবে। এর আগে এই কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। তবে শিক্ষার্থী নেতারা মনে করছেন, শুধু বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহাল রাখাই যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক অর্থায়নই এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।   বৃহস্পতিবার সান্তিয়াগোর প্লাজা ইতালিয়ায় শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। সেখান থেকে তারা লা আলামেডা সড়ক ধরে লা মোনেদা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। মিছিলটি প্রায় ৮০০ মিটার যাওয়ার পর চিলির জাতীয় পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।   পুলিশের এই পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও কাঠের লাঠি ছোড়েন। এর ফলে বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপসচিব জানান, ঘটনায় অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   বিক্ষোভের মধ্যেই পন্টিফিকাল ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের কাছেও উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে মুখোশ পরা একটি ছোট দল সরকারপন্থী শিক্ষার্থীদের আয়োজিত পাল্টা বিক্ষোভে হামলা চালায়। ওই পাল্টা কর্মসূচিতে রক্ষণশীল শিক্ষার্থীরা একটি ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন। ব্যানারে লেখা ছিল, তারা অচল চিলি চান না, বরং এমন একটি চিলি চান, যা সমৃদ্ধ হবে।   পরে প্রেসের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট কাস্তে তার রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানান। তিনি ওই ঘটনার সমালোচনা করেন। একই সময়ে শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   চিলি সরকার এখনও ২০২৭ সালের পুরো আর্থিক প্যাকেজের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া বাজেটে উল্লেখযোগ্য কাটছাঁটের প্রস্তাবের কথা জানা গেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরাসরি দেওয়া অর্থ কমানোর বিষয়টিও রয়েছে।   এই সম্ভাব্য অর্থ কমানোর বিষয়টিই শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট কাস্তে বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো শিক্ষা খাতের অন্যান্য অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সামগ্রিক অর্থায়ন কমে গেলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।   বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আরও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ২০২৭ সালের বাজেট বিল পুরোপুরি কংগ্রেসে আলোচনার জন্য উত্থাপিত হলে নতুন করে আন্দোলনে নামবে। ফলে বাজেট প্রস্তাব নিয়ে সরকারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধ আরও প্রকাশ্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বরাদ্দ এবং বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে পরবর্তী আলোচনা ও সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
আন্দিজ থেকে আটাকামা পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে তুষারের সাদা চাদর
মরুভূমিতে বিরল তুষারপাত, স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল সাদা চাদরের দৃশ্য

দক্ষিণ আমেরিকার চিলির আটাকামা মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা বিরল তুষারপাতে সাদা হয়ে গেছে। আগস্টজুড়ে পরপর কয়েকটি শীতকালীন ঝড়ের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সাধারণত অত্যন্ত শুষ্ক এই অঞ্চলের জন্য অস্বাভাবিক।   নাসার স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, আন্দিজ পর্বতমালা থেকে আটাকামার শুষ্ক কেন্দ্র পেরিয়ে তুষার প্রায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। নাসার ল্যান্ডস্যাট ৮ ও ৯ এবং টেরা স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে মরুভূমির স্বাভাবিক বাদামি ও কমলা রঙের ভূদৃশ্য তুষারে ঢেকে যেতে দেখা যায়। বিশেষ করে চাজনান্তর মালভূমিতে ভারী তুষারপাত ও প্রবল বাতাসের কারণে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ আলমা সাময়িকভাবে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর অ্যান্টেনাগুলোও নিরাপদ অবস্থায় নেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন নিম্নচাপ ব্যবস্থা ও অস্বাভাবিকভাবে বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ বলয়ের সঙ্গে উপকূলীয় আর্দ্রতার সংযোগেই এই বিরল আবহাওয়া তৈরি হয়। এর প্রভাবে শুধু তুষারপাতই নয়, মরুভূমির কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। উত্তর চিলির উপকূলীয় শহর তালতালে তিন দিনে প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা শহরটির গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ১০ গুণ। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০১১ সালেও আটাকামায় তুষারপাত হয়েছিল, তবে ২০২৬ সালের ঘটনাটি বিস্তৃতির দিক থেকে বিশেষভাবে অস্বাভাবিক।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের চুলে হঠাৎ এত পরিবর্তন কেন? লাস ভেগাসের ছবি ঘিরে নতুন আলোচনা

৫ আগস্ট লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলকে আগের কয়েকটি উপস্থিতির তুলনায় বেশি ঘন ও উঁচু দেখায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার চুলের ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।   এর কয়েক দিন আগে নিউ জার্সিতে প্রবল বাতাসের মধ্যে ট্রাম্পকে বিমানবন্দরের রানওয়ে দিয়ে হাঁটার সময় তার চুল উড়ে যেতে দেখা যায়। ওই ভিডিওতে মাথার কিছু অংশের ত্বক তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হওয়ায় সেটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। দুই সময়ের ছবি পাশাপাশি দিয়ে অনেকে ট্রাম্পের চুলের দৃশ্যমান পার্থক্য নিয়ে নানা মন্তব্য করেন।   তবে শুধু ছবি দেখে ট্রাম্প উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। চুলের বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের রং, স্টাইলিং পণ্য, হেয়ার ফাইবার এবং আলোর পার্থক্যেও একই ব্যক্তির চুলকে এক ছবিতে বেশি ঘন ও অন্য ছবিতে পাতলা দেখাতে পারে।   যুক্তরাজ্যের কনসালট্যান্ট ট্রাইকোলজিস্ট ইভা প্রাউডম্যানের মতে, ট্রাম্পের চুলে বয়সজনিত পুরুষদের সাধারণ চুল পড়ার বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তার ভাষ্য, বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল স্বাভাবিকভাবেই পাতলা হতে পারে।   প্রাউডম্যানের মতে, লাস ভেগাসের ছবিতে চুল বেশি ঘন দেখানোর পেছনে হেয়ার ফাইবারের ব্যবহার থাকতে পারে। এসব ফাইবার প্রাকৃতিক চুলে লেগে চুলকে সাময়িকভাবে ঘন দেখাতে পারে। চুলে রং করার ফলেও একই ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে। গাঢ় রঙের চুলে মাথার ত্বক কম দৃশ্যমান হওয়ায় চুল তুলনামূলকভাবে বেশি ঘন মনে হয়।   চুল পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞ দিনা কালেসও মনে করেন, চুলে নতুন করে রং করা হলে সেটি ছবিতে বেশি ঘন দেখাতে পারে। ধূসর চুল গজিয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আগের রঙের তুলনায় চুল পাতলা বা অসমান দেখাতে পারে। ট্রাম্পের পরিচিত গভীর সাইড পার্ট এবং চুল সাজানোর ধরনও একেক সময় চুলের ঘনত্বের ভিন্নতা তৈরি করতে পারে।   ট্রাম্পের চুল নিয়ে আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। কয়েক দশক ধরেই তার স্বর্ণালি চুল ও বিশেষ ধরনের কম্বওভার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির আলোচিত বিষয়।   ১৯৮০-এর দশকের ছবিতে তরুণ ট্রাম্পকে তুলনামূলকভাবে ঘন চুল ও সাইড-সুইপড স্টাইলে দেখা যায়। নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তার পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের বিশেষ স্টাইলটিও আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৮০-এর দশকের শেষ ও ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে যে ধরনের চুলের স্টাইল তার পরিচিতি তৈরি করে, পরবর্তী কয়েক দশকেও সেটির বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।   ২০০৪ সালে এনবিসির ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হওয়ার পর ট্রাম্পের চুল আরও বেশি মানুষের নজরে আসে। তার স্বর্ণালি রঙের চুল ও কম্বওভার তখন জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে তিনি উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করেন কি না, তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন রয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য এসব দাবি বারবার নাকচ করেছেন।   ২০১৫ ও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় নামার পর তার চুল নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়ে। বিভিন্ন সমাবেশ ও জনসম্মুখে উপস্থিতির ছবি থেকে তার চুলের স্টাইল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানা আলোচনা হয়।   ২০১৬ সালে ‘দ্য টুনাইট শো’-তে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়ে উপস্থাপক জিমি ফ্যালন ক্যামেরার সামনে তার চুল এলোমেলো করে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের চুল নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনকে অনুষ্ঠানে হাস্যরসের বিষয়ও করা হয়।   ২০১৮ সালে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় বাতাসে ট্রাম্পের চুল উড়ে যাওয়ার একটি ভিডিওও ব্যাপক আলোচনায় আসে। একই বছর কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজের চুল নিয়ে রসিকতা করে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি মাথার টাকের অংশটি আড়াল করতে অনেক চেষ্টা করেন।   ট্রাম্পের চুল নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট বা হেয়ারপিসের সম্ভাবনার কথা তুললেও এসব দাবির কোনোটি নিশ্চিত নয়। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের কসমেটিক সার্জন গ্যারি লিংকভ দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প পাঁচটি আলাদা হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি করিয়ে থাকতে পারেন। তবে এ দাবিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।   চুল বিশেষজ্ঞদের মতে, লাস ভেগাসের সাম্প্রতিক ছবিতে চুল বেশি ঘন দেখানোর ব্যাখ্যা হিসেবে হেয়ার ফাইবার, চুলের রং এবং স্টাইলিংই বেশি সম্ভাব্য কারণ। শুধু ছবি বা ভিডিও দেখে কোনো চিকিৎসা বা কসমেটিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।   ট্রাম্পের কয়েক দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার বক্তব্য, নীতি ও বিতর্কের পাশাপাশি তার চুলও যে জনআগ্রহের একটি স্থায়ী বিষয় হয়ে আছে, সাম্প্রতিক লাস ভেগাসের ছবিকে ঘিরে নতুন আলোচনা আবারও সেটিই সামনে এনেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
মানহীন হওয়ায় ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
মানহীন হওয়ায় ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা প্রায় ১১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চালের একটি বিশাল চালান মানহীন হওয়ায় তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ঢাকা। এই ঘটনার জেরে প্রতিবেশী দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।   জানা গেছে, নিয়ম মেনে চালের চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক পরীক্ষায় সেটি খাওয়ার উপযোগী হিসেবে ছাড়পত্র পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিস্তারিত ও নিবিড় পরীক্ষায় দেখা যায়, চালের মান নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। এর ফলে চালানটির মাত্র ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল খালাস করার পর বাকি অংশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো চালানটিই ভারতে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক একটি টেন্ডারের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানির স্টক থেকে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে এই চালগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। বাণিজ্য খাতের বিশ্লেষকদের মতে, চালের মানহীনতার পাশাপাশি বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা সাময়িক সিদ্ধান্তহীনতার কারণেও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, এই ঘটনাটি ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০