অনাহারে মৃত্যু ৫ বছরের শিশুর, আলমারিতে মিলল মল ও উকুনে ঢাকা অবস্থায় দেহ, বাবা আটক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শেনেকট্যাডিতে পাঁচ বছরের মেয়ে শার্লট বাসকিকে অনাহার ও পানিশূন্যতায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় তার বাবা রবার্ট এস. বাসকি জুনিয়রকে ২৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা ও শিশুকে নিয়ন্ত্রিত মাদক দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আদালতে দোষ স্বীকার করেন ৩৫ বছর বয়সী বাসকি। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মেয়েকে বাড়ির একটি শোবার ঘরে আটকে রাখতেন। ঘরের বাইরে খাবার থাকলেও শিশুটিকে খাবার ও পানি দেওয়া হতো না। দীর্ঘদিন অবহেলা ও অপুষ্টির পর ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল পুলিশ তাকে ওই ঘর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে বাসকির তিন বছর বয়সী ছেলেকেও একটি অস্থায়ী খাঁচার মতো কাঠামোর মধ্যে পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা জানান, দুই শিশুকেই কয়েক মাস ধরে পরিবারের অন্য সদস্য ও বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। তারা চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিল না এবং স্কুলেও ভর্তি ছিল না। পরে দুই শিশুর শরীরে কোকেনের উপস্থিতিও পাওয়া যায়।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসকি মাদক ব্যবহার ও ভিডিও গেম খেলায় ব্যস্ত থাকতেন এবং শিশুদের দায়িত্ব নেওয়া এড়াতে তাদের আটকে রাখতেন। শার্লটের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তে তার শরীরে চরম অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় শার্লটের ওজন ছিল মাত্র ৩০ পাউন্ড। আড়াই বছর বয়সে তার ওজন ছিল ৪০ পাউন্ড। প্রসিকিউটর ক্রিস্টিনা ট্রেমান্তে-পেলহাম বলেন, শিশুটির অবস্থা কয়েক মাস ধরে খারাপ হচ্ছিল।
জানুয়ারিতে দোষ স্বীকারের পর আদালত বাসকিকে হত্যা মামলায় ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে আরও দুই বছরের সাজা নির্ধারণ করে। ৩ এপ্রিল ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মোট ২৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার জীবিত ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করার আদেশও দেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সমুদ্রতীরবর্তী এক চমৎকার ও সাশ্রয়ী আবাসন সুবিধা নিয়ে এসেছে 'লুনা গ্রিন' নামের একটি নতুন প্রকল্প। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকার ৩০২৭ ওয়েস্ট ২১ নম্বর স্ট্রিটে অবস্থিত এই নবনির্মিত আবাসিক ভবনটি থেকে সমুদ্রসৈকত ও বিখ্যাত বোর্ডওয়াক মাত্র কয়েক ব্লকের দূরত্বে অবস্থিত। নিউইয়র্ক স্টেট হাউজিং সার্চ পোর্টালের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ওয়েটলিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রবীণদের আরামদায়ক জীবনযাপনের কথা মাথায় রেখে নকশা করা এই ভবনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাসহ আধুনিক নাগরিক জীবনের সব ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে। শতভাগ প্রবীণদের জন্য নিবেদিত এই প্রকল্পে থাকছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। বড় জানালা ও আধুনিক ফিনিশিংযুক্ত প্রশস্ত অ্যাপার্টমেন্টগুলো থেকে সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য ও নির্মল বাতাস উপভোগ করা যায়। এছাড়া বাসিন্দাদের শারীরিক ও সামাজিক সুস্থতার জন্য ভবনের ভেতরেই থাকছে জিমনেসিয়াম, ফিজিক্যাল থেরাপি স্যুট, চমৎকার কমিউনিটি লাউঞ্জ এবং একটি উন্মুক্ত পাবলিক টেরেস। চলাচলের সুবিধার জন্য লিফট, কেন্দ্রীয় লন্ড্রি রুম এবং সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাপনা সুবিধাও রয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা শ্রবণ ও দৃষ্টিজনিত সমস্যা রয়েছে এমন প্রবীণদের জন্য এই ভবনে বিশেষায়িত অ্যাপার্টমেন্টও সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এই বিশেষ আবাসন প্রকল্পে আবেদনের প্রাথমিক শর্ত হলো, পরিবারের প্রধান বা যুগ্ম-প্রধানের বয়স অন্তত ৬২ বছর হতে হবে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ভাড়া কাঠামো, যা নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের প্রবীণদের জন্য ব্যাপকভাবে সহায়ক। এনওয়াইসিএইচএ সেকশন ৮ প্রজেক্ট-বেজড ভাউচার কাঠামোর আওতায় আবেদনকারীদের কোনো ক্রেডিট চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। বাসিন্দাদের মাসিক আয়ের মাত্র ৩০ শতাংশ ভাড়া হিসেবে প্রদান করতে হবে। এর কোনো ন্যূনতম আয়ের বাধ্যবাধকতা নেই; অর্থাৎ কারও আয় শূন্য হলে তাঁর ভাড়াও শূন্য ডলার হতে পারে, যা ভাউচার সাবসিডির মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। তবে বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক চুলার খরচ বাসিন্দাদেরই বহন করতে হবে। যোগ্য প্রবীণরা নিউইয়র্ক স্টেট হাউজিং সার্চ পোর্টালের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে অথবা ডাকযোগে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় জমা দিতে পারবেন।
লুইজিয়ানায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নি হত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তাঁর ফায়ারফাইটার বাগদত্ত
ফ্লোরিডায় চুরির সন্দেহে ১৪ বছরের কিশোরকে গাড়িচা পা দিয়ে হ ত্যা, গ্রেপ্তার দোকানমালিক
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একই বাড়িতে পাঁচজনের গু লিবিদ্ধ ম রদেহ, উদ্ধার দুই হ্যান্ডগান
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো পরিপাটি পোশাক পরে একাধিক চিকিৎসা কেন্দ্রে (মেডিকেল অফিস) চুরির অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কার্লোস অ্যান্থনি মিচেল (৬৭) নামের ওই ব্যক্তি উডব্রিজ এলাকার বাসিন্দা। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চুরির সময় ওই ব্যক্তি ব্লেজার, সাদা শার্ট, গ্লাভস এবং টুপি পরে একদম পেশাদার ভদ্রলোকের বেশে ছিলেন। গত মে মাস থেকে শুরু করে সম্প্রতি পর্যন্ত মোট তিনটি বাণিজ্যিক চুরির ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম চুরির ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মে উইলো ওকস করপোরেট ড্রাইভ এলাকার একটি বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে ঢুকে ওই ব্যক্তি ক্যামেরা, ক্যামেরার সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ চুরি করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে চুরি যাওয়া সেসব সরঞ্জাম বন্ধক রাখার সূত্র ধরে তদন্তকারীরা মিচেলকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর গত ৩ ও ১১ সেপ্টেম্বর ম্যাকলিন এবং ফেয়ার ওকস এলাকার আরও দুটি মেডিকেল অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। উভয় জায়গার সিসিটিভি ফুটেজে ব্লেজার, সাদা শার্ট, নীল বাকেট হ্যাট, গ্লাভস এবং মেডিকেল মাস্ক পরা একই ব্যক্তির উপস্থিতি দেখতে পান গোয়েন্দারা। পোশাক ও চুরির ধরনের এই মিল থেকেই তিনটি ঘটনার যোগসূত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশের স্পেশাল ইউনিট মিচেলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে চুরি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সম্পত্তি ধ্বংস এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে চোরাই মাল রাখার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে এবং আগামী ২৮ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ভার্জিনিয়ার আইন অনুযায়ী, এই ধরনের চুরির অপরাধে এক থেকে বিশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অভিনব এই চোর আরও কোনো অপরাধের সাথে জড়িত কি না, তা নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
একটি সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন দম্পতি, আলট্রাসাউন্ডে একে একে মিলল চার হৃদস্পন্দন
যুক্তরাষ্ট্রে গরমে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ১৫ লাখ পাউন্ড মাংস প্রত্যাহার, তালিকায় হটডগ-বেকন
৫০ মিলিয়ন ডলারের হীরাখচিত ব্রা পরে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট শো মাতালেন কাইলি জেনার
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের 'বিদেশি চুক্তিবদ্ধ দাস' বলে আখ্যা দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন টিসিএস, ইনফোসিস, কগনিজ্যান্ট ও মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। মূলত বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রথম ধাপ এই কর্মসূচি। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে ভ্যান্স মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি ‘দাস’ আমদানি বন্ধ করে আমেরিকান কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। তবে তাঁর এই অবমাননাকর মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সমালোচনার মুখে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নামেন জে ডি ভ্যান্স। ঢাল হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন নিজের ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী ও দক্ষিণ ভারত থেকে আসা শ্বশুর-শাশুড়িকে। বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, নিজের অভিবাসী শ্বশুরবাড়ি ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি চরম গর্বিত। ভ্যান্সের দাবি, বিদেশিদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আমেরিকান কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি ‘ভারসাম্য’ থাকা দরকার। কোনো কোম্পানি আমেরিকান কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি কর্মী আনলে তা কখনো ন্যায্য হতে পারে না। তবে ভ্যান্সের এই ‘ভারসাম্য’ তত্ত্ব কিংবা শ্বশুরবাড়ির আবেগি গল্পে মন গলেনি ভারতের। ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের 'দাস' বলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে 'অযৌক্তিক ও অত্যন্ত আপত্তিকর' বলে আখ্যা দিয়েছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা কোনো দাস নন; বরং তাঁরা উচ্চশিক্ষিত, অত্যন্ত দক্ষ এবং মার্কিন অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।
আমেরিকায় ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেয়ার আগে জেনে নিন কিছু জরুরি বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রে মাসের সব বিল মেটাতে পারছেন না ২৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক