- প্রচ্ছদ
- Topic
নিউইয়র্ক
নিউইয়র্ক শহরে আবাসন সংকট মোকাবিলা, সাশ্রয়ী আবাসন বাড়ানো এবং জমির ব্যবহার নিয়ে আগস্ট মাসে একাধিক সভা, গণশুনানি ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম চলছে। এসব আলোচনায় নতুন আবাসন প্রকল্প, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং নগরের আবাসন নীতির বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কের আবাসন ও ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে জনসাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। নগরের কোনো এলাকায় নতুন আবাসন বা বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া এসব প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিউইয়র্কে ভূমি ব্যবহারের বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইউনিফর্ম ল্যান্ড ইউজ রিভিউ প্রসিডিউর বা ইউলুর্প প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ড, বরো প্রেসিডেন্ট, নগর পরিকল্পনা কমিশন এবং শেষ পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলের পর্যালোচনা যুক্ত থাকে। আবাসন সংকটের কারণে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ ও বিদ্যমান আবাসন সংরক্ষণ এখন নগর রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনও আবাসন সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সময়ে নগরের আবাসন নীতি ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে নতুন আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ, ভবনের ঘনত্ব, অবকাঠামোর সক্ষমতা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী ইউনিটের সংখ্যা—এসব বিষয় গণশুনানিতে গুরুত্ব পেতে পারে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাড়া, নতুন আবাসন নির্মাণ, ভবনের ব্যবহার পরিবর্তন এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত সরাসরি অনেক পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নগর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এসব শুনানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আবাসন ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্তগুলো নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তর থেকে ছয়টি আইনি সংগঠনকে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি সরকারি অনুদান দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাতিরেড্ডির এক বিশ্লেষণে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব সংগঠনের কয়েকটি পুলিশের ভূমিকা কমানো এবং অপরাধীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে নমনীয় নীতির পক্ষে কাজ করে। তবে জেমসের প্রচারশিবির এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কোমাতিরেড্ডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমস ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর দপ্তর থেকে মোট ২২ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমন সংগঠনের কাছে গেছে, যেগুলোকে প্রতিবেদনে পুলিশবিরোধী বা অপরাধীদের প্রতি নমনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশ এসেছে বাড়ির মালিকদের সুরক্ষায় পরিচালিত একটি কর্মসূচির মাধ্যমে। বিতর্কিত অনুদানের মধ্যে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ১১৬ ডলার পেয়েছে মোবিলাইজেশন ফর জাস্টিস। সংগঠনটি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আইনি সেবা দেয় এবং ২০২০ সালে পুলিশ বিভাগের অর্থায়ন কমানোর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমসের দপ্তর থেকে সংগঠনটির অনুদান তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। লিগ্যাল এইড সোসাইটি পেয়েছে ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৬ ডলার। প্রতিবেদনে সংগঠনটির জামিন, কারাগার ও বিচার-পূর্ব আটকসংক্রান্ত অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ পেয়েছে ৬৯ লাখ ৭১ হাজার ৩৮৭ ডলার। সংগঠনটি গৃহহীন মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ সীমিত করার পক্ষে কাজ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া এম্পায়ার জাস্টিস সেন্টারকে দেওয়া হয়েছে ৮১ লাখ ৯২ হাজার ৬১৩ ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পুলিশের গাড়ি থামানোর ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি ও এর বিভিন্ন শাখা পেয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৫ হাজার ৬১৯ ডলার। এসব সংগঠন নিউইয়র্ক শহরের সরকারি স্কুলগুলো থেকে পুলিশ সরানোর পক্ষে কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক ল সেন্টার পেয়েছে ৮২ লাখ ৩৮ হাজার ২১৩ ডলার। সংগঠনটি বাফেলো পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর অনুরোধ করার পর ওই উপস্থিতি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সংগঠনটি আইনি পদক্ষেপ নেয়। কোমাতিরেড্ডি আরও অভিযোগ করেছেন, বাড়ির মালিকদের জন্য নির্ধারিত অর্থের একটি অংশ পুলিশবিরোধী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে চলে গেছে। তাঁর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কর্মসূচির আওতায় অর্থ পাওয়া প্রায় সব ‘অপরাধের বিষয়ে নমনীয়’ সংগঠন বাড়ির সুরক্ষা বা ভাড়াটিয়াদের সহায়তার তুলনায় অপরাধসংক্রান্ত আইনি সহায়তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমে বেশি অর্থ ব্যয় করে। তবে জেমসের প্রচারশিবির এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, বাড়ির মালিকদের সুরক্ষা কর্মসূচি নিউইয়র্কের হাজারো বাসিন্দাকে বাড়ি হারানো থেকে রক্ষা করতে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা ও আবাসনসংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে আসছে। দলটির দাবি, কোমাতিরেড্ডি বাছাই করা তথ্য ব্যবহার করে কর্মসূচিটিকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করছেন। জেমসের প্রচারশিবির আরও বলেছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলিল জালিয়াতি, বাড়ি দখলের প্রতারণা এবং শোষণমূলক ঋণদাতাদের হাত থেকে পরিবারগুলোর বাড়ি রক্ষায় সহায়তা করা হয়। তাদের মতে, অনুদান পাওয়া সংগঠনগুলো আবাসনসংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়ার কাজেই যুক্ত রয়েছে। কোমাতিরেড্ডি বর্তমানে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে জেমসকে চ্যালেঞ্জ করছেন। জেমস তৃতীয় মেয়াদে অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়েও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।
অভিনয়ের পরিচিত মুখ এবার গানের মঞ্চে। জীবনের প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় গান, গল্প ও দর্শকের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতায় নিউইয়র্কের দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। দর্শকদের উচ্ছ্বাসে আপ্লুত এই অভিনেতা জানিয়েছেন, আগ্রহ থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও শহরে গান নিয়ে হাজির হতে চান। ৮ আগস্ট নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘অপূর্ব লাইভ মিউজিক্যাল নাইট’-এ মাইক্রোফোন হাতে মঞ্চে ওঠেন অপূর্ব। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নায়ক হিসেবে দর্শকের কাছে পরিচিত এই তারকা এবার গায়ক হিসেবে হাজির হয়ে প্রবাসী দর্শকদের চমকে দেন। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গান পরিবেশনের পাশাপাশি নিজের জীবন, অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত স্মৃতি দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। উপস্থাপক শামীম সাহেদের সঞ্চালনায় গান ও কথোপকথনের সমন্বয়ে সাজানো হয় পুরো আয়োজন। অনুষ্ঠান শেষে দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে আসে অপূর্বর গায়কির প্রশংসা। এক দর্শক বলেন, অপূর্বর গান শুনতে এসে তিনি অভিভূত হয়েছেন। তার কণ্ঠ ও পরিবেশনা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি। আরেক দর্শকের ভাষায়, “অপূর্বর গান অপূর্ব হয়েছে। আজকের অনুষ্ঠান আসলেই অপূর্ব।” নবীন থেকে প্রবীণ, বিভিন্ন বয়সী দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল অপূর্বর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। গানের ফাঁকে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নিজের বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণের সময় আবেগঘন হয়ে ওঠে পরিবেশনা। উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই সেই মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হন। এক দর্শক বলেন, পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল অন্যরকম। বিশেষ করে বাবাকে নিয়ে অপূর্বর কথাগুলো তার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি অপূর্বর সংগীত প্রতিভার কথা তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরাও জানেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিনেতা আবদুন নূর সজল জানান, দীর্ঘদিন ধরে অপূর্বর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। একসময় একসঙ্গে বহু নাটকে কাজ করার সময়ও অপূর্বর গান শোনার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। সজল বলেন, “অপূর্ব আমার বন্ধু, আমার কলিগ। আমরা একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। অপূর্ব আমাদের স্টেজে অনেক সুন্দর সুন্দর গান গাইত। কিন্তু আজকে লাইভ গান শুনেছি। একজন সহশিল্পী হিসেবে বলব, অপূর্বর গানও অপূর্বর মতোই।” অপূর্বর আরেক সহকর্মীও জানান, শুটিংয়ের সময় থেকেই তার গান শোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। দীর্ঘ সময় শুটিংয়ের ফাঁকে অপূর্বর গান শুনেছেন তারা। নিউইয়র্কের এই আয়োজনের মাধ্যমে এবার সেই প্রতিভা আরও বড় পরিসরে দর্শকের সামনে এসেছে। প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দর্শকদের এমন সাড়া অবশ্য অপূর্বর নিজের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অনুষ্ঠান শেষে তিনি জানান, মঞ্চে ওঠার আগে দর্শকের মন জয় করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তার মধ্যে সংশয় ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান চলার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উচ্ছ্বাস সেই দ্বিধা দূর করে দেয়। অপূর্ব বলেন, “ভীষণ ভালো লাগছে। আমার নিজের প্রত্যাশা খুব কম ছিল। মনে হচ্ছিল, আসলে মানুষের মন জয় করতে পারব কি না। এত ভালোবাসা পাব, এটা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল।” দর্শকের ভালোবাসাকেই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। অপূর্ব বলেন, দর্শকদের উচ্ছ্বাস তাকে নতুন করে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে। নিউইয়র্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরেও গান নিয়ে হাজির হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন অপূর্ব। তবে বিষয়টি পুরোপুরি দর্শকের আগ্রহের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “এটা আসলে দর্শকদের আগ্রহের ওপর নির্ভর করবে। তারা আমাকে দেখতে চান কি না। যদি আমার মনে হয় তারা আমাকে চান, তাহলে অবশ্যই হয়তো আবার তাদের সামনে হাজির হব।” অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচিত অপূর্বর জন্য নিউইয়র্কের এই আয়োজন তাই শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়। প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দর্শক ও সহকর্মীদের প্রশংসা এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া তার সামনে সংগীতের নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অভিনয়ের পাশাপাশি গানকে তিনি কতটা নিয়মিতভাবে নিজের ক্যারিয়ারের অংশ করে নেন।
নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের জন্য আসছে নতুন সুযোগ। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের উদ্যোগে আগামী ২৫ আগস্ট কুইন্সে আয়োজন করা হয়েছে একটি বড় হায়ারিং হল। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ‘জবস এনওয়াইসি হায়ারিং হল: কুইন্স’ অনুষ্ঠিত হবে ২৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানটি হবে কুইন্সের ১১০-৩১ মেরিক বুলেভার্ডে অবস্থিত দ্য গ্রেটার অ্যালেন এএমই ক্যাথেড্রাল অব নিউইয়র্কে। এটি নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নিয়মিত হায়ারিং হলগুলোর একটি। এসব আয়োজনের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন বা কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হতে পারে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে চাকরিপ্রার্থীদের আগেই একটি সময়ের জন্য নিবন্ধন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে অনলাইনে নির্ধারিত স্লট শেষ হয়ে গেলেও সরাসরি অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে আপডেটেড জীবনবৃত্তান্ত বা সিভির কয়েকটি কপি রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো। এতে নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সময় নিজের যোগ্যতা সহজে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তবে হায়ারিং হলে অংশ নিলেই চাকরি নিশ্চিত হবে এমন নয়। কোন নিয়োগকর্তা কোন পদে নিয়োগ দেবে এবং আবেদনকারীর যোগ্যতা কী হতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। ২৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে যেতে না পারলেও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বছরজুড়েই নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত নতুন চাকরির সুযোগ ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত আয়োজনের তথ্যও সেখানে প্রকাশ করা হয়। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কুইন্সের এই হায়ারিং হল তাই সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, নিজের যোগ্যতা তুলে ধরা এবং নতুন চাকরির সুযোগ খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
শনিবার রাতে নিউইয়র্ক হারবারে একটি যাত্রীবাহী নৌযান উল্টে গিয়ে ২৭ বছর বয়সী এক নারী এবং তার ৫ মাস বয়সী কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার মার্কিন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনা কবলিত নৌযানটি বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের জন্য অবৈধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানায়, শনিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে নৌযানটি উল্টে যাওয়ার খবর পায় তারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হারবার ইউনিটের পাশাপাশি স্কুবা ও এভিয়েশন টিম মোতায়েন করা হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পানি থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই মা ও তার শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধার হওয়া বাকি যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কোস্ট গার্ড সেক্টর নিউইয়র্কের কমান্ডার ক্যাপ্টেন ডরিন ম্যাকার্থি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "গত রাতের মর্মান্তিক প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।" একইসঙ্গে উদ্ধারকাজে দ্রুত সাড়া দেওয়া ও জীবিতদের উদ্ধারে সহায়তার জন্য তিনি অংশীদারি সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই মারাত্মক দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান করছে। এদিকে, এনওয়াইপিডি-এর এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনায় রবিবার নিউইয়র্কের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী ম্যানুয়েল হার্নান্দেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেপরোয়াভাবে অন্যের জীবন বিপন্ন করার ১৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, যথাযথ ছাড়পত্র, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং বৈধ শংসাপত্র ছাড়া ভাড়ায় চালিত যেকোনো যাত্রীবাহী নৌযানকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নিজের বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলের পানিতে ডুবে অবসরপ্রাপ্ত এক নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (এনওয়াইপিডি) চিফের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার স্টোনি ব্রুকের ম্যালভার্ন লেনে অবস্থিত নিজ বাড়িতে ৭৫ বছর বয়সী অ্যান্থনি ইজোকে সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিবারের এক সদস্য জরুরি নম্বর ৯১১-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাফোক কাউন্টি পুলিশ এবং স্টোনি ব্রুক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের উদ্ধারকারী দল। তারা ইজোকে পুল থেকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর (CPR) দেন। পরে তাকে দ্রুত স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাফোক কাউন্টি পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তারা ধারণা করছেন। অ্যান্থনি ইজোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এনওয়াইপিডি (NYPD)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানায়, কর্মজীবনে ইজো অর্গানাইজড ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর প্রধান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ১৯৯৫ সালে তিনি ১১৫তম প্রিসিঙ্কট-এর কমান্ডিং অফিসার হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। এক্সে দেওয়া শোকবার্তায় এনওয়াইপিডি উল্লেখ করে, নিউইয়র্ক সিটির মানুষের প্রতি তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও উৎসর্গ এক চিরস্থায়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই শোকের মুহূর্তে তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে নিউইয়র্ক হারবারে শনিবার রাতে একটি নৌকা উল্টে ৫ মাসের এক শিশুকন্যা ও ২৭ বছর বয়সী এক নারী মারা গেছেন। দুর্ঘটনার পর পানিতে পড়ে যাওয়া আরও ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগেরই সামান্য আঘাত লাগে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে নৌকাটি উল্টে যায়। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ ও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ বিভাগের হারবার ইউনিট, ডুবুরি দল ও এভিয়েশন ইউনিটও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, নৌকাটিতে মোট ১৪ জন ছিলেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ১২ জনকে পানি থেকে নিরাপদে তুলে আনা হয়। পরে এনওয়াইপিডির ডুবুরি দল পানির মধ্যে নারী ও শিশুটিকে খুঁজে পায়। গুরুতর অবস্থায় তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ব্রুকলিনের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় উল্টে যাওয়া নৌকাটি প্রায় ২২ ফুট লম্বা একটি মোটরবোট। নৌকাটি সাধারণত ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী বহনের উপযোগী হলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ১৪ জন ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ১২ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিহত নারী ও শিশুটির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাঁরা পরস্পরের স্বজন ছিলেন কি না, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে নৌকাটি কেন উল্টে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নৌকার চালকসহ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে নিউইয়র্ক হারবারে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় রাতেই বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অন্ধকার পানিতে জরুরি উদ্ধারকারী নৌযান ও পুলিশের আলোতে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ ও নৌকাটিতে যাত্রীসংখ্যা সংক্রান্ত বিষয়সহ পুরো ঘটনাটি তদন্ত শেষে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে অবস্থিত সাফোক কাউন্টি প্রশাসন একটি ঐতিহাসিক আইনি মীমাংসার অংশ হিসেবে চালকদের প্রায় ৬০ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ডলার ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি 'ক্লাস-অ্যাকশন' বা গণমামলার নিষ্পত্তিতে সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত, লাল বাতি অমান্য করার কারণে করা মূল জরিমানার সাথে ৩০ ডলারের একটি 'অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফি' বা প্রশাসনিক ফি যুক্ত করার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আদালতের রায়ে অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়। এই মীমাংসার ফলে ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ওই অবৈধ ফি প্রদানকারী চালকরা সর্বমোট ৫৭.৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। সাবেক কাউন্টি এক্সিকিউটিভ স্টিভ বেলোনের প্রশাসনের সময় প্রতিটি রেড-লাইট টিকেটের সাথে এই অতিরিক্ত ফি চাপানো হয়েছিল। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি টিকেটের বিপরীতে চালকদের সর্বোচ্চ ৩৬ ডলার করে ফেরত দেওয়া হবে—যার মধ্যে ৩০ ডলার মূল প্রশাসনিক ফি এবং ৬ ডলার সুদ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। তবে মোট কতজন চালক এই অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন করবেন, তার ওপর ভিত্তি করে জনপ্রতি প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ কিছুটা কমতেও পারে। বাদীপক্ষের আইনজীবী ক্রিস্টোফার ক্লেটন এই রায়কে একটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার 'দায়িত্বশীল ও ন্যায্য উপসংহার' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। চুক্তি অনুসারে, কাউন্টি প্রশাসন চালকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে। এর বাইরে আনুষঙ্গিক প্রশাসনিক খরচ এবং আইনজীবীদের ফি বাবদ আরও ১২.৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে। যোগ্য চালকদের কাছে খুব শিগগিরই ডাকযোগে চিঠি বা ফ্লায়ার পাঠানো হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে কীভাবে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং ঠিক কী প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২০২৪ সালে একটি আপিল আদালত এই ধরনের প্রশাসনিক ফি-কে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর বর্তমান কাউন্টি এক্সিকিউটিভ এড রোমেইন ওই বছরের ডিসেম্বরেই তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরের শেষে সাফোকের রেড-লাইট-ক্যামেরা প্রোগ্রামটি চিরতরে বন্ধ করে দেন। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী নাসাউ কাউন্টিতেও ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি টিকেটের সাথে অবৈধভাবে ১০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি আদায় করা হতো। এর ফলে সেখানেও ৪০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের একটি মামলা চলছে, যা এড়াতে কাউন্টি প্রশাসন এখনও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গত অক্টোবরে এক বিতর্কিত রায়ে সেখানকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক টমাস রেডেমেক বলেছিলেন যে, নাসাউকে চালকদের টাকা ফেরত দিতে হবে না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে চালকরা স্বেচ্ছায় জরিমানা দিয়েছেন, যদিও বাস্তবে জরিমানা না দিলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ছিল। বর্তমানে ওই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়েছে। তবে আপিল আদালতে সাফোকের পাশাপাশি হেরে যাওয়ার পর নাসাউ কাউন্টি বর্তমানে টিকেটে অতিরিক্ত ৪৫ ডলারের 'পাবলিক সেফটি ফি' এবং ৫৫ ডলারের 'ড্রাইভার রেসপন্সিবিলিটি ফি' আদায় বন্ধ করে কেবল মূল ৫০ ডলার জরিমানা ধার্য করছে।
গত বুধবার নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর শনিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে তৃতীয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার ডিপার্টমেন্ট অব নিউইয়র্ক (এফডিএনওয়াই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ৩৭৪ ইস্ট ২০৯ নম্বর স্ট্রিটের ওই ভবনের দোতলায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়, যা মুহূর্তেই ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে সবকিছু ভস্মীভূত করে দেয়। অগ্নিকাণ্ডের দিনই ভবনের দোতলার ঠিক ওপরের তলায় বসবাসরত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এরপর থেকেই ওই ব্যক্তির স্ত্রী, ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা নিখোঁজ ছিলেন বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেন ব্রঙ্কসের বোরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসন। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় ভবনটির ভেতর থেকে দ্বিতীয় এবং শনিবার বিকেলে তৃতীয় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে পরে উদ্ধার হওয়া এই দুই মৃতদেহের পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন ভবনের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। নিখোঁজ ওই বৃদ্ধার প্রতিবেশী এলিসি ফ্যালকন নামের এক নারী জানান, তাকে ফোনে না পেয়ে সবাই চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এদিকে রেড ক্রসের পক্ষ থেকে গৃহহীন বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হলেও, নিজের দুটি সার্ভিস অ্যানিমেলকে (পোষা প্রাণী) ছেড়ে যেতে রাজি না হওয়ায় ফ্যালকন বর্তমানে বাধ্য হয়ে নিজের গাড়িতেই বসবাস করছেন। তবে এই ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকেও তিনটি কুকুরকে ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন দমকলকর্মীরা। ঠিক কী কারণে এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি শহর কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো পুরোপুরি ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তদন্ত করার মতো নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়ায়, আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি সম্ভাব্য ‘আফটার-আওয়ার্স ক্লাব’ বা ইভেন্ট স্পেসে গোলাগুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পেন স্টেশনের কাছে ২৪৭ ওয়েস্ট ৩০ নম্বর স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই যুবকের পেট ও হাতে গুলি লেগেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই তিনি কোনোক্রমে ভবনের বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং রাস্তায় থাকা পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাহায্য চান। তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসা সেবা (ইএমএস) কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তার অস্ত্রোপচার চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা ওই ভবনের দোতলা থেকে বন্দুকের একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন। পুলিশের এক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি সম্ভবত কোনো ‘আফটার-আওয়ার্স ক্লাব’ বা গোপন ইভেন্ট স্পেস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আইকনিক এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে সেভেন্থ ও এইটথ অ্যাভিনিউয়ের মাঝামাঝি অবস্থিত ওই ভবনের সামনের ফুটপাতে ঘটনার পর রক্তের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঠিক কী কারণে এই গোলাগুলি এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করতে পুলিশের জোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আসন্ন সফর ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্কে আসার কথা রয়েছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র দাবি করেছে, মেয়র জোহরান মামদানির নেতানিয়াহুবিরোধী অবস্থান ও সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা পরিস্থিতিকে ‘বারুদের স্তূপের’ সঙ্গে তুলনা করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বড় ধরনের বিক্ষোভ বা সহিংসতা হলে পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মামদানি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের কঠোর সমালোচক। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তবে গত জুলাইয়ে আইনি পর্যালোচনার পর মামদানি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি এরপর বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ চেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির সদস্য নয়। পাশাপাশি জাতিসংঘের কাজে নিউইয়র্কে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে মামদানির আগের অবস্থান বাস্তবায়নে গুরুতর আইনি বাধা রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সফরের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, সফরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে তা হুমকি মূল্যায়ন ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘বারুদের স্তূপ’ বা মামদানির বক্তব্যের কারণে সরাসরি বিপদ তৈরি হয়েছে—এটি নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের মূল্যায়ন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা নির্ধারণে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
নিউইয়র্ক সিটির নতুন ‘পিয়েড-আ-তের’ কর চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে মেয়র জোহরান মামদানি ও নগরীর অর্থ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক। শুক্রবার দায়ের করা মামলায় সাইমন হেডলি, র্যাচেল ও’ব্রায়েন ও কারমিন মোরানো অভিযোগ করেছেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের বাড়িকেও নগর কর্তৃপক্ষ ভুলভাবে সম্ভাব্য অতিরিক্ত করের আওতাভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে মামলাটি সরাসরি ‘পিয়েড-আ-তের’ করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করছে না। বরং নগর প্রশাসন কীভাবে করের তালিকা প্রকাশ করেছে এবং কিছু বাড়ির মালিককে নোটিশ পাঠিয়েছে, সেটিই মামলার মূল বিষয়। নিউইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগের প্রকাশিত তালিকায় পাঁচ বরোর ৯ লাখের বেশি বাড়ির মালিকের নাম ও ঠিকানা রয়েছে। তবে বিভাগের দাবি, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বাড়ি বা ইউনিটের ওপর এই অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য নয়। নতুন করের আওতায় পড়তে পারেন—এমন প্রায় ১৭ হাজার সম্পত্তির মালিককে আলাদা নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মামলাকারী র্যাচেল ও’ব্রায়েন বলেন, নিজের স্থায়ী বাড়িকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে সরকারি তালিকায় প্রকাশ করা ‘অযৌক্তিক’। তার দাবি, নগর প্রশাসনের কাছে থাকা তথ্য যাচাই করলেই বিষয়টি আগে থেকেই পরিষ্কার করা সম্ভব ছিল। মামলায় আদালতের কাছে প্রকাশিত তালিকা ও নোটিশকে বেআইনি ঘোষণা এবং অনলাইন থেকে তালিকাটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলা চলাকালে নোটিশ পাওয়া বাড়ির মালিকদের জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা স্থগিত এবং আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর কার্যকরের ওপরও বিরতি চাওয়া হয়েছে। মেয়র মামদানির কার্যালয় জানিয়েছে, নতুন কোনো সরকারি প্রক্রিয়া চালুর ক্ষেত্রে নাগরিকদের জন্য বিষয়টি পরিষ্কার ও সহজবোধ্য রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব। নগরীর আইন বিভাগও মামলাটি জোরালোভাবে মোকাবিলা করবে বলে জানিয়েছে। মামদানির ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে ‘পিয়েড-আ-তের’ কর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নিউইয়র্ক সিটিতে মালিকের প্রধান বসবাসের ঠিকানা নয়—এমন ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের আবাসিক সম্পত্তির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের কো-অপ ইউনিটও এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। নতুন করের লক্ষ্য শহরের বাজেট ঘাটতি কমাতে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুলও এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। তবে করের সম্ভাব্য আওতায় থাকা বাড়ির মালিকদের পাঠানো নোটিশ এবং তাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশের পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে মামদানি প্রশাসন নোটিশ পাওয়া বাসিন্দাদের বাড়িটি তাদের প্রধান বসবাসের স্থান প্রমাণের সময়সীমা চার সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গ্যাং সদস্য ছেলের হামলায় ‘গেটওয়ে ড্রাইভার’ বা পালানোর গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। জেনিফার ল্যাকার্ড (৪৯) নামের ওই নারী কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে চুপচাপ জামিন লাভ করেন। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের কৌঁসুলি এবং আদালতের নথিপত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তিনি মুক্তি পেলেও তার ‘স্লাটি গ্যাং’-এর সদস্য ছেলে চেস ল্যাকার্ড (২০) এবং সাবেক সাজাপ্রাপ্ত স্বামী জেমস ল্যাকার্ড (৪৯) এখনও কারাগারেই বন্দি রয়েছেন। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ল্যাকার্ড পরিবারের এই তিন সদস্য গত ২৯ জুন ব্রঙ্কসে একটি ‘ড্রাইভ-বাই শুটিং’ বা চলন্ত গাড়ি থেকে হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। ইস্ট ১৬১ নম্বর সড়ক ধরে ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামের খুব কাছেই এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মা জেনিফার ও বাবা জেমস একটি ক্রাইসলার প্যাসিফিকা মিনিভ্যান চালিয়ে তাদের ছেলেকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। এরপর ছেলে চেস ল্যাকার্ড গাড়ির জানালা নামিয়ে এক প্রতিপক্ষের ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালান। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ছেলে চেসের একটি মামলার শুনানির ঠিক কয়েক মিনিট পরই এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার আগে মা জেনিফার তার ছেলেকে টেক্সট করে লিখেছিলেন, "তুমি শুধু সরাসরি বাইরে বসে থাকতে পারো না। এর জন্য সঠিক সময় মেলাতে হবে।" এই ঘটনার পর জেনিফার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হলে, মাউন্ট ভার্নন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে জেনিফারকে বরখাস্ত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিন বাংলাদেশি আদালতের রায়ে মোট ২৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৩ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এই তিন বাংলাদেশির পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন নিউইয়র্কভিত্তিক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ওই তিন বাংলাদেশি ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। বিশ্বখ্যাত নায়াগ্রা ফলস দেখতে যাওয়ার পথে নায়াগ্রা এলাকার কাছে তাদের বহনকারী একটি প্রাইভেট কারকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক সজোরে ধাক্কা দিলে তারা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণের দাবিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী জানান, গত দুই দশকে সড়ক দুর্ঘটনা, ভুল চিকিৎসা এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হওয়ার মতো বিভিন্ন ঘটনার শিকার প্রবাসীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করে তিনি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ আদায়ে সহায়তা করেছেন। তবে এই মামলাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দুর্ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। তিনি আরও বলেন, মক্কেলদের অনুরোধে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া আরও কয়েকজন বাংলাদেশির পক্ষেও তার ল ফার্ম সফলভাবে ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে। আদালতের রায়ে পাওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ তিনি নিজে বাংলাদেশে গিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীর হাতে পৌঁছে দিয়েছেন বলেও জানান। যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করে চিকিৎসা ব্যয়, আয়ের ক্ষতি, ভবিষ্যৎ চিকিৎসা এবং শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। ভিসার ধরন ক্ষতিপূরণ দাবির অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না; তবে প্রতিটি মামলার ফলাফল নির্ভর করে ঘটনার প্রমাণ, দায় নির্ধারণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। এই মামলার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনার শিকার বিদেশি নাগরিকরাও ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রাখতে পারেন, যদি তাদের দাবি যথাযথভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক বাংলাদেশি ইংরেজিতে পরীক্ষা দেওয়ার ভয় বা ভাষাগত সমস্যার কারণে ড্রাইভার লাইসেন্স করার প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি করেন। অথচ নিউইয়র্কে লার্নার পারমিটের লিখিত নলেজ টেস্ট বাংলায় দেওয়ার সরকারি সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিএমভির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ গাড়ির ক্লাস ডি পারমিট পরীক্ষা বাংলা-সহ মোট ২০টি ভাষায় নেওয়া হয়। ডিএমভির তালিকায় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা, আরবি, চীনা, ফ্রেঞ্চ, কোরিয়ান, নেপালি, রাশিয়ান, স্প্যানিশ, উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষা রয়েছে। ফলে ইংরেজিতে স্বাচ্ছন্দ্য না থাকলেও একজন বাংলা ভাষাভাষী আবেদনকারী নিউইয়র্কে নিজের ভাষায় প্রশ্ন পড়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। নিউইয়র্কের ক্লাস ডি পারমিট পরীক্ষায় মোট ২০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকে। পাস করতে অন্তত ১৪টির সঠিক উত্তর দিতে হয়। একই সঙ্গে চারটি রোড সাইন-সংক্রান্ত প্রশ্নের মধ্যে অন্তত দুটির উত্তর সঠিক হতে হবে। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিউইয়র্ক ডিএমভি ড্রাইভার ম্যানুয়াল ও প্র্যাকটিস টেস্টও প্রকাশ করে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিউইয়র্কে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ঘরে বসে বাংলায় অনলাইন পারমিট টেস্ট দেওয়ার সুযোগ বর্তমানে ডিএমভির সাধারণ নির্দেশনায় দেখানো হচ্ছে না। ডিএমভির অনলাইন নলেজ টেস্ট কর্মসূচির একটি অংশ অংশগ্রহণকারী হাইস্কুলগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সেখানে ইংরেজি ও স্প্যানিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বাংলায় পরীক্ষা দিতে চাইলে নিকটস্থ ডিএমভি অফিসে বর্তমান ব্যবস্থা আগে নিশ্চিত করে নেওয়াই নিরাপদ। ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য কী কী কাগজ লাগবে, সেটিও আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। নিউইয়র্কে আবেদন করতে বয়স, পরিচয় এবং বসবাসের প্রমাণ দিতে হয়। তবে স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকা বাধ্যতামূলক নয়। নিউইয়র্কের গ্রিন লাইট আইনের অধীনে যোগ্য বাসিন্দারা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর না থাকলেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক ডিএমভির ভাষা সহায়তা নীতিতেও বাংলা গুরুত্বপূর্ণ ভাষার তালিকায় রয়েছে। সীমিত ইংরেজি দক্ষতা থাকা ব্যক্তিদের জন্য ডিএমভি বিনামূল্যে ভাষা সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে ফর্ম বা সরকারি প্রক্রিয়া বুঝতে সমস্যা হলে আবেদনকারীরা ভাষা সহায়তা চাইতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়াতেও ড্রাইভার নলেজ টেস্টের ক্ষেত্রে বিস্তৃত ভাষা সুবিধা রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিএমভির তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন নলেজ এক্সাম ৩৫টি ভাষায় দেওয়া হয়। তবে বর্তমান সরকারি ড্রাইভার হ্যান্ডবুকের তালিকায় বাংলা আলাদাভাবে দেখানো হচ্ছে না। তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আছে কি না, আবেদন করার আগে সরাসরি ডিএমভির বর্তমান ভাষার তালিকা যাচাই করা উচিত। লিখিত নলেজ টেস্ট পাস করলেই ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়া যায় না। নিউইয়র্কে প্রথমে লার্নার পারমিট নিতে হয়, এরপর প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং প্র্যাকটিস ও প্রি-লাইসেন্সিং শর্ত পূরণ করে রোড টেস্ট পাস করতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ড্রাইভার লাইসেন্সের নিয়ম কেন্দ্রীয়ভাবে এক নয়। প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব ডিএমভি বা সমপর্যায়ের সংস্থা নিয়ম নির্ধারণ করে। তাই নিউইয়র্কে বাংলায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অন্য স্টেটে একই সুবিধা থাকবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেটের সরকারি ডিএমভির সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পাড়ায় গাছের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় গ্রীষ্মের তাপমাত্রা গাছ কম থাকা এলাকার তুলনায় ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত কম হতে পারে। গবেষকদের মতে, ঘন বৃক্ষাচ্ছাদন শহরের তাপদাহ কমাতে প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো কাজ করে এবং মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে পরিবেশবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা দ্য নেচার কনজারভেন্সি। কয়েক বছর ধরে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোর বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ও গাছের ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ করে তারা এই ফলাফল প্রকাশ করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, যেসব এলাকায় গাছের ছায়া বেশি, সেখানে গরমের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কম অনুভূত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি বড় পরিণত গাছ প্রতিদিন যে পরিমাণ শীতলতা তৈরি করতে পারে, তা প্রায় ১০টি ছোট আকারের রুম এয়ার কন্ডিশনার ২০ ঘণ্টা চালানোর সমতুল্য। তাই শহুরে পরিবেশে গাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির আশপাশে বড় গাছ বা সবুজ পরিবেশ থাকলে সেই সম্পত্তির মূল্যও বেড়ে যায়। নিউইয়র্কে অনেক ক্রেতা এখন গাছঘেরা রাস্তা বা পার্কসংলগ্ন বাড়ির জন্য অতিরিক্ত দাম দিতেও আগ্রহী। কিছু ক্ষেত্রে পার্ক বা সবুজ দৃশ্যযুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের দাম একই ধরনের অন্য সম্পত্তির তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে শহরগুলোতে তাপপ্রবাহ আরও বাড়বে। তাই বৃক্ষরোপণ ও বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ শুধু পরিবেশ নয়, জনস্বাস্থ্য, বসবাসের উপযোগিতা এবং নগর অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই লক্ষ্যেই নিউইয়র্ক সিটি ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের মোট বৃক্ষাচ্ছাদন ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক স্মারক সংবর্ধনায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ঐতিহাসিক প্রকাশ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই অভ্যুত্থান জাতির ঐক্য ও দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সরকারের ‘থ্রি আর’ কৌশলের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন নিয়ে গঠিত এ কৌশলের লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা। তিনি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও মূলনীতির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় জানান। স্মারক আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে আন্দোলনের পটভূমি, আত্মত্যাগ, ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এর প্রভাব তুলে ধরা হয়। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনেও দিবসটি উপলক্ষে স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের মাস্ক বা মুখাবরণ পরার ওপর রাজ্য সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। তবে স্থানীয় পুলিশ বিভাগের সাথে আইসিই-এর যেকোনো ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রণীত অপর একটি রাজ্য আইন বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টের ডিস্ট্রিক্ট জজ মে ডি’অ্যাগোস্টিনো সম্প্রতি এই রায় প্রদান করেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়া এবং পেনসিলভানিয়াতেও ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করার একই ধরনের আইন বাতিল করেছিল আদালত। বিচারক ডি’অ্যাগোস্টিনো তার রায়ে উল্লেখ করেন, নিউইয়র্ক প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি পুলিশের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সৎ উদ্দেশ্যে করা হলেও, সাংবিধানিক যুক্তিতে এটি টিকছে না। মার্কিন সংবিধানের 'সুপ্রিমেসি ক্লজ' বা সর্বোচ্চ ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজ্য সরকার সরাসরি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তবে রাজ্যটি আইসিই-এর সাথে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা বৈধ বলে রায় দিয়েছেন বিচারক। তিনি জানান, রাজ্যের জনকল্যাণ রক্ষা এবং স্থানীয় সম্পদ কীভাবে ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার রাজ্য সরকারের রয়েছে। আগস্টের শেষের দিকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের ফলে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা আর আইসিই-এর কোনো অভিযানে সহায়তা করবেন না। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত মে মাসের শেষের দিকে এই 'নিউইয়র্ক মাস্ক ল' স্বাক্ষর করেছিলেন রাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোকুল। আদালতের নতুন রায়ের পর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করে একে আইসিই-এর জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, আইসিই-এর সাথে অসহযোগিতার আইনটি বহাল থাকায় একে স্বাগত জানিয়েছেন গভর্নর হোকুল এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, স্থানীয় পুলিশকে কেবল স্থানীয় বিষয়েই নজর দেওয়া উচিত এবং আইসিই-এর সাথে কোনো সমন্বয়ের ব্যয়ভার নিউইয়র্কের সাধারণ করদাতাদের বহন করা উচিত নয়। মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়েও তারা পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে এই আইসিই ইস্যুটিই ক্যাথি হোকুলের পুনর্নির্বাচনের পথে একটি বড় প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মন্টকের এক অভিজাত ইয়ট ক্লাবে রহস্যজনকভাবে নিহত ফ্যাশন ডিজাইনার মার্থা নোলান-ওসলাতারার পরিবার একটি বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত মঙ্গলবার আদালতের এক নথিতে জানানো হয়, মার্থার মৃত্যুর জন্য বোটের মালিক ও ধনাঢ্য বিনিয়োগকারী ক্রিস্টোফার ডুরনানকে দায়ী করে ম্যানহাটন সিভিল কোর্টে ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি ডলারের এই মামলাটি দায়ের করা হবে। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঠিক এক বছর পূর্তির মাত্র একদিন আগে এই মামলার ঘোষণা দেওয়া হলো। পরিবারের অভিযোগ, ডুরনানের সরাসরি হামলা এবং চরম অবহেলার কারণেই মার্থার মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত ক্রিস্টোফার ডুরনান পেশায় একজন ইনস্যুরেন্স মোগল, যিনি মার্থার সুইমওয়্যার ব্র্যান্ড 'ইস্ট এক্স ইস্ট'-এ ১৩ শতাংশ শেয়ারের অংশীদার ছিলেন। মামলার নথিতে ডুরনানের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মার্থাকে বেআইনিভাবে লাঞ্ছিত করা এবং চরম বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও শুরুতে পুলিশের ধারণা ছিল মার্থা অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে মারা গেছেন, কিন্তু পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে একটি স্বাধীন ময়নাতদন্তে তার শরীরে মাত্র ‘সামান্য পরিমাণ কোকেন’ পাওয়া গেছে। বরং ওই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মার্থার মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের শারীরিক হামলার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আইরিশ বংশোদ্ভূত ৩৩ বছর বয়সী এই ফ্যাশন ডিজাইনার এক দশক আগে নিউইয়র্কে এসে নিজের গ্ল্যামারাস ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট রাতে ব্যবসায়িক আলোচনার জন্য ডুরনানের 'রিপল' নামক ওই ইয়টে গিয়েছিলেন মার্থা। মধ্যরাতে তার ফোন থেকে সাড়া না পেয়ে প্রেমিক ও বন্ধুরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। এরপর তিনি মেসেজের উত্তর দিলেও এর প্রায় এক ঘণ্টা পরই তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। রাতে বোট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান এবং তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেসময় ডুরনানকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় চিৎকার করতে দেখা গিয়েছিল। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা চেষ্টা করলেও মার্থাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চাঞ্চল্যকর এই মৃত্যুর পেছনের রহস্যজনক পরিস্থিতি দ্রুতই গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও, সাফোক কাউন্টি পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তদন্ত এখনও 'চলমান' থাকার কারণ দেখিয়ে পুলিশ মার্থার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং এই মামলা সম্পর্কিত অন্যান্য নথিপত্রের জন্য গণমাধ্যমের করা একাধিক আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলার অভিযোগে অপর সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংগঠনের পূর্বের সাংগঠনিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। সংঘর্ষে শিহাব রক্তাক্ত জখম হন। পরে স্থানীয়রা আহত শিহাবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার অভিযোগের ভিত্তিতে জাকিরকে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংঘর্ষের বিষয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় বা যুক্তরাষ্ট্র শাখার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউইয়র্ক শহরে ই-বাইকের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। এ লক্ষ্যে প্রায় এক ডজন আইনগত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে আগামী মাসে একটি তদারকি শুনানির আয়োজন এবং শহরে ই-বাইক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি ও আইন প্রয়োগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা করা হবে। সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, বর্তমানে ই-বাইক নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। তাই বিদ্যমান আইন কার্যকর করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা বাড়াতে নতুন আইন প্রয়োজন কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে। এ বিষয়ে পথচারী, সাইকেল আরোহী, খাবার সরবরাহকর্মী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে। এ বছরের শুরু থেকেই ই-বাইক নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে খাবার সরবরাহকারী তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর শহর প্রশাসনের নজরদারি ও আইন প্রয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে। আরেকটি প্রস্তাবে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের চালকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ এবং শহরজুড়ে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের বাধ্যবাধকতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্বজ্ঞানহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন আইনপ্রণেতারা। সিটি কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা শন আব্রেউ বলেন, প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি চালকের নিরাপদ যান ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং খাবার সরবরাহকর্মীদেরও ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল না করেই জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থাকা উচিত। তার মতে, নতুন আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতির জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা, অবৈধ দ্রুতগতির ই-বাইক সরিয়ে দেওয়া এবং বৈধ ই-বাইককে আরও নিরাপদ করা সম্ভব হবে। আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও কয়েকটি বিল উত্থাপন করা হবে। এসব প্রস্তাবে ধীরগতির ই-বাইকের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বীমা বাধ্যতামূলক করা এবং আইন প্রয়োগ আরও জোরদারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।