নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ সংলগ্ন একটি পার্ক একদিনের জন্য যেন রূপ নিয়েছিল প্রাণচঞ্চল বাংলাদেশের এক ঐতিহ্যবাহী মেলায়। দেশীয় খাবারের সুবাস, বাংলা গানের সুর, শিশুদের হাসি-আনন্দ আর প্রবাসীদের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। গত শুক্রবার (১৯ জুন) নন-প্রফিট সংগঠন ‘ভালো’র উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য মেলা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে পরিণত হয় এক বহুসাংস্কৃতিক উৎসবে। দিনব্যাপী আয়োজনে বাংলাদেশি, আমেরিকান, চাইনিজ, হিস্প্যানিকসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য, প্রবাসে বসবাসরত বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও শক্তিশালী করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মেলার উদ্বোধন করেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতাদের স্বাগত জানান ‘ভালো’ সংগঠনের প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে লেটিশিয়া জেমস বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিউইয়র্কবাসীর সামনে তুলে ধরতে ‘ভালো’ যে কাজ করছে, তা প্রশংসার দাবিদার। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ ধরনের আয়োজন না হলে সেই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হতো না।” একই সঙ্গে তিনি সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। জুমানে উইলিয়ামস বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি নিউইয়র্কে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড অন্য সম্প্রদায়ের জন্যও অনুসরণীয়। তিনি কমিউনিটির উন্নয়নে ‘ভালো’র ভূমিকার প্রশংসা করেন। মেলা প্রাঙ্গণে ছিল দেশীয় খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প, প্রসাধনী ও গৃহসজ্জার সামগ্রীর শতাধিক স্টল। ফুচকা, বিরিয়ানি, ভর্তা, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন এবং আমের জুসসহ দেশীয় পানীয় দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। পুরো আয়োজন যেন তৈরি করেছিল এক টুকরো বাংলাদেশি বাজারের আবহাওয়া। ‘ভালো’র ডিরেক্টর অব পাবলিক রিলেশনস শাহরিয়ার নবী জানান, কমিউনিটির জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই এই মেলার আয়োজন। তিনি বলেন, “আমরা চাই এটি সবার মিলনমেলা হোক। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি একটি সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি করুক।” তিনি জানান, মেলায় ৭০টিরও বেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, এই আয়োজন তাদের শৈশবের দেশের মেলার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। জ্যামাইকার বাসিন্দা সামিনা আমিন বলেন, “এখানে এসে মনে হচ্ছে যেন বাংলাদেশেই আছি। খাবার থেকে পরিবেশ—সবকিছুই অসাধারণ। এমন আয়োজন প্রতিবছর হওয়া উচিত, যাতে নতুন প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে।” শিশুদের জন্য ছিল বিভিন্ন রাইড, গেমস ও বিনোদনের ব্যবস্থা। স্লাইড ও নানা খেলায় শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে বড়দের জন্য আয়োজন করা হয় ফুচকা খাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং র্যাফেল ড্র, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। মেলায় বিভিন্ন সময় উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নানতাশা উইলিয়ামস, কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান, মেয়রের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার, কংগ্রেস প্রার্থী চাক পার্ক, ইলহাম একাডেমির কর্ণধার মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের অফিসের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাদেক, জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারসহ আরও অনেকে। সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন বলেন, ‘ভালো’ দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি ও বাংলাদেশের কল্যাণে নানা ইতিবাচক কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ভবিষ্যতেও সংগঠনটির পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মীর বাশার বলেন, “এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক মেলা নয়, বরং মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধন গড়ে তোলার একটি সামাজিক উদ্যোগ।” কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণানও একই সুরে বলেন, “‘ভালো’ মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।” মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল ফুটবল উন্মাদনা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বড় পর্দায় সরাসরি ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করা হয়। খেলা উপভোগ করতে করতে দর্শনার্থীরা একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। দিনভর চলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিউটি দাস ও রাজীব রহমানের ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করেন। বাংলা গান, দেশীয় সুর এবং প্রবাস জীবনের আবেগ মিলেমিশে পুরো মেলা প্রাঙ্গণকে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তোলে।
নিউইয়র্ক স্টেটের বহুল আলোচিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীদের কেউই জয়লাভ করতে পারেননি। মঙ্গলবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলে কয়েকটি আসনে তারা উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মুখ দেখেন। সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ আসনে। সেখানে সাবেক এনওয়াইপিডি ডিটেকটিভ ও বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা শামসুল হক মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিনেজ পেয়েছেন ২ হাজার ৭০৩ ভোট, আর শামসুল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯০ ভোট। মোট ৬ হাজার ৩৩৬ ভোটের এই নির্বাচনে অল্প ব্যবধানের পরাজয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম হওয়ায় শামসুল হকের পক্ষ থেকে পুনর্গণনার আবেদন করা হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মেরি জোবাইদা পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৮ ভোট। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছেন ডায়ানা মোরেনো, যিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৫১ ভোট। মেরি জোবাইদা ছিলেন এবারের প্রাইমারিতে অংশ নেওয়া একমাত্র বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী প্রার্থী। এর আগেও তিনি একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি স্টেট অ্যাসেম্বলি ছেড়ে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে এবারও জয় তার নাগালের বাইরে থেকে যায়। ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ আসনে পিয়া রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৮২৭ ভোট। সেখানে বিজয়ী সামান্থা কাটান পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৩৬ ভোট। ডিস্ট্রিক্ট-৩২ আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ মোল্লা (সানি) পেয়েছেন ৭৫৫ ভোট। ওই আসনে বিজয়ী নাথানিয়েল হেজেকিয়াহ পেয়েছেন ৩ হাজার ৬১৭ ভোট। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েও তার প্রচারণা স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উল্লেখযোগ্য আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট-৮৭ আসনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিপিএ জাকির চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৬০৯ ভোট। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছেন কারিনেস রেয়েস, যিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ১০০ ভোট। এবারের নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক প্রভাব গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও মূলধারার রাজনীতিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত। নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক নির্বাচনী এলাকায় জয়লাভ করতে হলে শুধু নিজস্ব কমিউনিটির সমর্থন যথেষ্ট নয়। আফ্রিকান-আমেরিকান, লাতিনো, শ্বেতাঙ্গ, এশীয় এবং তরুণ ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে হয়। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীদের সামনে এখনও রাজনৈতিক ভিত্তি আরও বিস্তৃত করার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তবে প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবং কয়েকটি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন কমিউনিটির অনেকে। তাদের মতে, পরাজয় সত্ত্বেও এই নির্বাচন নিউইয়র্কের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য নির্মিত নিউইয়র্কের বৃহত্তম বাংলাদেশি মুসলিম কবরস্থান ‘স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমেট্রি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রথম মরদেহ দাফনের মধ্য দিয়ে গত শনিবার (২০ জুন) কবরস্থানটির কার্যক্রম শুরু হয়। নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলে ১২৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ কবরস্থান বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় নেতা এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, প্রচেষ্টা এবং কমিউনিটির সহযোগিতার ফল হিসেবে স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমেট্রি বাস্তবায়িত হয়েছে। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি স্থায়ী, মর্যাদাপূর্ণ ও আধুনিক সমাধিক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কবরস্থান উদ্বোধনকালে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি জাহিদ মিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মাঈনুদ্দিন পিন্টু জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে নিয়মিত দাফন কার্যক্রম শুরু হবে। কবরস্থানে জানাজার ব্যবস্থা, ওজুখানা, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তারা আরও জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কবর বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে কবরস্থানের পরিধি ও সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বক্তারা প্রবাসের মাটিতে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখায় বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উপদেষ্টা পরিষদ, ট্রাস্টি বোর্ড, কার্যনির্বাহী কমিটি, দাতা সদস্য এবং সর্বস্তরের বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমেট্রি ভবিষ্যতে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান মুসলিম কবরস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিমদের সেবা দিয়ে যাবে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাবের প্রথম বড় পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে তাঁর সমর্থন পাওয়া তিন প্রার্থীর মধ্যে দুজন গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন। মঙ্গলবার রাতের ভোট গণনায় নিউইয়র্কের ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ক্লেয়ার ভালদেজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। একই রাতে ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ব্র্যাড ল্যান্ডারও ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। সিবিএস নিউজের প্রক্ষেপণে এ ফলাফল উঠে আসে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল জোহরান মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের জন্য প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল তাঁর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ক্লেয়ার ভালদেজ জয় পেয়েছেন অবসর নিতে যাওয়া কংগ্রেস সদস্য নিডিয়া ভেলাজকেজের উত্তরসূরি নির্বাচনের লড়াইয়ে। এই আসনে ব্রুকলিন ও কুইন্সের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সদস্য ভালদেজকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন মেয়র মামদানি। অন্যদিকে বিদায়ী কংগ্রেস সদস্য ভেলাজকেজ সমর্থন দিয়েছিলেন আন্তোনিও রেইনোসোকে। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার দুই মেয়াদের বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন অর্জন করেন। লোয়ার ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের অংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে ল্যান্ডারের জয়কে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ল্যান্ডার নির্বাচনী প্রচারণায় জোহরান মামদানি ছাড়াও ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থন পেয়েছিলেন। নির্বাচনের আগে ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং প্রো-ইসরায়েল লবিং সংগঠন এআইপিএসি নিয়ে গোল্ডম্যান ও ল্যান্ডারের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা যায়। তবে মামদানির সমর্থন পাওয়া তৃতীয় প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারের ফলাফল প্রকাশের সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে তিনি দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইলাতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে নিউইয়র্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনেও বেশ কয়েকজন বর্তমান কংগ্রেস সদস্য সহজেই নিজেদের মনোনয়ন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন থমাস সুয়োজি, গ্রেস মেং, ইয়ভেট ক্লার্ক, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ এবং রিচি টরেস। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে থমাস ডিনাপোলি বিজয়ী হয়েছেন বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহও দেখা গেছে। নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে আগাম ভোটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রাইমারি নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের প্রার্থী নির্ধারণের লড়াই নয়; বরং নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে প্রগতিশীল এবং মূলধারার ডেমোক্র্যাটদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই নির্বাচনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিউইয়র্কের এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, মেয়র মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্য তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং ভবিষ্যতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
নিউইয়র্কের একটি ক্যাফে চেইন ডেমোক্র্যাট দলীয় মার্কিন আইনপ্রণেতা ড্যান গোল্ডম্যানকে সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাদের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। 'পোয়েটিকা কফি' নামের উজবেক-অনুপ্রাণিত ওই ক্যাফেটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেয় যে, ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনের কারণে কংগ্রেসম্যান গোল্ডম্যানকে তাদের কোনো শাখায় আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মার্কিন বিচার বিভাগের শীর্ষ নাগরিক অধিকার বিষয়ক প্রসিকিউটর হারমিত কে. ধিলন গত সোমবার এক ঘোষণায় এই তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানান, ক্যাফেটির এমন আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং সম্ভাব্য বেআইনিও। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। ব্রুকলিন এবং ইস্ট ভিলেজে পোয়েটিকা কফির মোট সাতটি শাখা রয়েছে। গত রোববার কংগ্রেসম্যান গোল্ডম্যান তার ছোট মেয়েকে নিয়ে ব্রুকলিনের লরিমার স্ট্রিটের শাখায় কফি পান করতে যান। এর পরপরই ক্যাফেটির ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজে গোল্ডম্যানের একটি ছবি শেয়ার করে তাকে 'গণহত্যার সমর্থক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সেখানে লেখা হয়, পোয়েটিকা কোনো বর্ণবাদী, ফ্যাসিস্ট, সমকামীবিদ্বেষী কিংবা গণহত্যায় সহায়তাকারীদের সেবা দেয় না। পোস্টে আরও জানানো হয় যে, গোল্ডম্যানের খরচ করা ৯ দশমিক ৮২ ডলার তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তিনি যেন আর কখনও সেখানে না আসেন। তবে সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোল্ডম্যান এই ঘটনার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করলেও কফি শপটির বিরুদ্ধে আইনি তদন্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বদলে যারা প্ল্যাটফর্মহীন এবং প্রকৃত ইহুদিবিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন, বিচার বিভাগের উচিত তাদের জন্য সময় ও অর্থ ব্যয় করা। মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েলের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ড্যান গোল্ডম্যান নিজেকে একজন 'গর্বিত জায়নবাদি' মনে করেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওঠা গণহত্যার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন, যদিও তিনি সেখানকার পরিস্থিতিকে 'ভয়াবহ' বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থি সরকারের সমালোচনা করেছেন। এদিকে পোয়েটিকা কফির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ ঠিক কোন আইনি ভিত্তির ওপর নির্ভর করে ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এবং নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য আইনে জাতি, ধর্ম বা লিঙ্গের ওপর ভিত্তি করে সেবা প্রদানে বৈষম্য নিষিদ্ধ হলেও, রাজনৈতিক বিশ্বাস বা মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্যকে ওই আইনের সুরক্ষার আওতাভুক্ত করা হয়নি।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে শ্রেণিকক্ষের আকার ছোট করার লক্ষ্যে শহরের ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত ও যুগান্তকারী পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন জোহরান মামদানি। এই মেগাপ্ল্যানের অধীনে শহরের ৩৬০টি স্কুলে নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২৪৪ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্কুলগুলোতে স্থায়ীভাবে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য আরও ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষা দপ্তর ভেঙে দেওয়ার কথা বলছে এবং পাবলিক স্কুলের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল কমাচ্ছে, সেখানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের এমন পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ বিপরীত এবং অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা, যাতে প্রতিটি শিশু শিক্ষকের পর্যাপ্ত মনোযোগ পায় এবং শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমে। স্কুলভিত্তিক এই পরিকল্পনায় মূলত সেসব এলাকার শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাদের অর্থনৈতিক চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুত অথচ অবহেলিত স্কুলগুলো এই যুগান্তকারী বাজেটের ফলে অবশেষে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেতে যাচ্ছে, যা সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ১২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট ঘাটতির উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও জোহরান মামদানি শিক্ষক নিয়োগ ও স্কুল নির্মাণের জন্য এই বিপুল অর্থ বরাদ্দের উপায় বের করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি নিছক কোনো জনসংযোগমূলক ঘোষণা নয়, বরং এটি ৬৮ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ ‘কমপ্লায়েন্স প্ল্যান’ বা বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখা, যার পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দ। শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা বলছেন, নিউইয়র্ক সিটির পাশাপাশি সমগ্র আমেরিকার শিশুদেরই এমন মানসম্মত শিক্ষা প্রাপ্য। প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেটি কীভাবে বাস্তবে রূপ দিয়ে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়, এটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ইসরায়েলপন্থী সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি), বিশেষ করে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC)-এর সমালোচনা করে আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, এসব রাজনৈতিক অর্থায়নকারী গোষ্ঠী “নতুন পৃথিবীর জন্মে বাধা দিচ্ছে” এবং বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করছে। সোমবার সিটি হল রোটুন্ডায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামদানি তার আগের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে তিনি এক নির্বাচনী সমাবেশে AIPAC-কে ইঙ্গিত করে “মনস্টার” শব্দ ব্যবহার করেন, যা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মামদানি বলেন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো একক সংগঠন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সেইসব সুপার পিএসিকে বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করেছেন যারা বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালায়। তার ভাষায়, এসব গোষ্ঠী মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এর আগে তিনি ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, এসব শক্তি বিভিন্ন রূপে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। পরবর্তীতে ব্রুকলিনের কিংস থিয়েটারে দেওয়া এক বক্তব্যে মামদানি AIPAC এবং ইসরায়েল নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংগঠনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে জনমত প্রভাবিত করছে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। তার এই মন্তব্যের পর নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডের কেহিলাথ জেরুশালেম সিনাগগের সিনিয়র রাব্বি চাইম স্টেইনমেটজ বলেন, এ ধরনের ভাষা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি সহিংসতা উসকে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, মামদানি AIPAC-কে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। মামদানি তার বক্তব্যে ইতালীয় সমাজতান্ত্রিক চিন্তক আন্তোনিও গ্রামশির একটি ধারণার উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয় পুরনো রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন বাস্তবতার জন্ম হয়। তবে এই উদ্ধৃতির সঠিক ব্যাখ্যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে। এদিকে, এই মন্তব্যকে ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা ও মতবিরোধ আরও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা চলছে। সোমবার প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে শেষবারের মতো নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেন। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দলটির ভেতরে প্রগতিশীল বামপন্থী ধারা এবং প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনটি নিউইয়র্ক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র যোরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তরুণ ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা মামদানি গত বছর যে জনসমর্থন তৈরি করেছিলেন, তা এবার কংগ্রেস নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে নজর রয়েছে। তিনি তার সমর্থিত তিনজন হাউস প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়েছেন এবং একাধিক প্রচারণামূলক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে এক সমাবেশেও অংশ নেন। প্রচারণায় মামদানি বলেন, “অতীতের দল ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দিতে পারবে না। আমাদের এমন একটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি দরকার, যার মেরুদণ্ড আছে।” অন্যদিকে ম্যানহাটনের একটি আসনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নাতি জ্যাক শ্লসবার্গ প্রার্থী হয়েছেন। পারিবারিক পরিচিতি এবং সামাজিকমাধ্যমে জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য অ্যালেক্স বোরিস, মাইকা ল্যাশার এবং আইনজীবী জর্জ কর্নওয়ে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় শ্লসবার্গ সাবেক টক শো উপস্থাপক ডেভিড লেটারম্যানের সঙ্গে সমাবেশ করেন এবং তার মা ক্যারোলিন কেনেডি তার পক্ষে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। অন্যদিকে মামদানি এখনো এই আসনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেননি। তিনি আরও তিনটি কংগ্রেস আসনের প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন, যার মধ্যে দুটি বর্তমান ডেমোক্র্যাট সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এর মধ্যে ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারের সঙ্গে আদ্রিয়ানো এসপায়াতের এবং সাবেক নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড লেন্ডারের সঙ্গে ড্যান গোল্ডম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আরেকটি আসনে ক্লেয়ার ভালদেজ ব্রুকলিন বরো প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও রেইনোসোর বিরুদ্ধে লড়ছেন। ভালদেজ নিজেকে মামদানির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যদিও রেইনোসোও প্রগতিশীল অবস্থান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রাইমারি নির্বাচন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির হারলেম এলাকার একটি পার্কে গোলাগুলির ঘটনায় দুই কিশোরসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে স্থানীয় সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চার্লস ইয়াং পার্কের খেলার মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD)। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। একই ঘটনায় ২০ বছর বয়সী এক যুবক কুঁচকিতে এবং ২১ বছর বয়সী আরেকজন ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে NYPD। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, পার্কের চারপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত বোতল ও আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, গুলির সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে।
নিউইয়র্কে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে ‘শেখ কামাল’ দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এবারের টুর্নামেন্টে মোট চারটি দল অংশ নেয়। দলগুলো হলো শেখ কামাল, শেখ রাসেল, ধানমন্ডি ৩২ এবং জয়বাংলা টাইগার্স। নিউইয়র্কের রেন্ডেল আইল্যান্ডের ৭৪ নম্বর মাঠে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়। মাঠের লড়াই শেষে ফাইনালে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে শিরোপা জিতে নেয় শেখ কামাল দল। রানার্সআপ হয় ধানমন্ডি ৩২। খেলা শেষে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক মহাসচিব শাবান মাহমুদ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রফিকুর রহমান রফিক, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মো. সেবুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এইচ এম ইকবাল এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কিবরিয়া জামান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলিট স্পন্সর নুরুল আমিন ভূঁইয়া বাবু, প্ল্যাটিনাম স্পন্সর মহিন উদ্দিন দুলাল, ডায়মন্ড স্পন্সর সাইফুল ইসলাম এবং গোল্ডেন স্পন্সর সোহাগ পাটওয়ারী। অতিথিরা বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন। যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হৃদয় মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবু। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, সংগঠনের গতিশীলতা ত্বরান্বিত করা এবং নতুন কমিটির নেতাকর্মীদের একত্রিত করার লক্ষ্যেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তারা জানান, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে একটি ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার বাসিন্দা বার্নার্ড বোনাপার্ট মনে করেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের পেছনে রয়েছে প্রিয় বাস্কেটবল দল নিউইয়র্ক নিকসের অনুপ্রেরণা। দলের ধারাবাহিক সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে কেনা একটি লটারির টিকিটই তাঁকে এনে দিয়েছে ৩৪ লাখ ডলারের বিশাল জ্যাকপট। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের লটারির জ্যাকপট জিতেছেন বার্নার্ড বোনাপার্ট। পুরস্কারের চেক গ্রহণ করতে গিয়ে তিনি মজা করেই বলেন, “সবকিছুর কারণ নিকস। নিকস জিতেছে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সত্যিই দারুণ লাগছে।” সাধারণত বড় ক্রীড়া সাফল্যের পর ভক্তরা বিজয় উদযাপনে রাস্তায় নেমে আসেন। কিন্তু নিকসের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর লক্ষাধিক সমর্থকের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দেওয়ার বদলে বার্নার্ডকে যেতে হয়েছে কানেকটিকাটে, নিজের জ্যাকপট পুরস্কার গ্রহণ করতে। লটারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১২ জুন অনুষ্ঠিত ড্রতে তাঁর কেনা টিকিটের ছয়টি সংখ্যাই মিলে যায়। মজার বিষয় হলো, এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিকসের দীর্ঘ ৫৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর ঠিক একদিন আগে। বার্নার্ড জানান, দলের জয়ের ধারাবাহিকতা তাঁকে নতুনভাবে ভাগ্য পরীক্ষা করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কানেকটিকাট লটারির একটি টিকিট কিনেছিলেন। টিকিটটি তিনি কিনেছিলেন কানেকটিকাটের ওল্ড গ্রিনউইচ এলাকার একটি গালফ গ্যাস স্টেশন থেকে। স্থানীয়ভাবে এই বিক্রয়কেন্দ্রটি লটারিপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত। কারণ এর আগেও এখান থেকে একাধিক বড় পুরস্কারজয়ী টিকিট বিক্রি হয়েছে। লটারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগেই একই বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২৫ হাজার ডলারের একটি বিজয়ী স্ক্র্যাচ টিকিট বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে এখান থেকে ১০ লাখ ডলার এবং ২০২৪ সালে ৪৩ লাখ ডলারের আরেকটি বিজয়ী টিকিট বিক্রি হয়েছিল। লটারিতে জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বার্নার্ড। তিনি একটি বাড়ি কিনতে চান এবং তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়ার কোনো এলাকায় বসবাসের কথা ভাবছেন। তবে স্থান পরিবর্তন করলেও নিজের শহর এবং প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। চেক গ্রহণের সময় তিনি বলেন, “আমি নিউইয়র্ককে ভালোবাসি, আর কানেকটিকাট লটারিকেও ভালোবাসি।” যুক্তরাষ্ট্রে লটারির মাধ্যমে রাতারাতি ভাগ্য বদলে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে ক্রীড়া অনুপ্রেরণা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং ভাগ্যের এমন মিলন খুব কমই দেখা যায়। তাই নিকসের একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থকের এই জ্যাকপট জয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ক্রীড়াপ্রেমী মজা করে বলছেন, নিকস শুধু শিরোপাই জেতেনি, একজন সমর্থকের জীবনও বদলে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া আবাসিক বিদ্যালয়কে ঘিরে নতুন করে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বিদ্যালয়টির সাবেক এক শিক্ষার্থী আদালতে দায়ের করা মামলায় দাবি করেছেন, সেখানে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এমনকি কিছু শিক্ষার্থীকে নিজেদের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন... নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে মায়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারাল ভারতীয় কিশোর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের হ্যানকক গ্রামে অবস্থিত ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন স্কুল নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। বছরে প্রায় ৮০ হাজার ডলার ব্যয়ের এই বিদ্যালয়টি মূলত সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিচালিত হতো। ব্রুকলিন ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ১ কোটি ডলারের দেওয়ানি মামলায় এক সাবেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে তিনি বারবার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণ ছিল নিয়মিত ঘটনা। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার মামলার নথি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কখনও কখনও গালিচার ভেতরে পেঁচিয়ে টেপ দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। তাদের কয়েকদিন ধরে খাবার, পানি কিংবা শৌচাগারের সুযোগ ছাড়াই ছোট কক্ষ বা আলমারিসদৃশ জায়গায় আটকে রাখা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের খুঁড়ে রাখা গর্তে শুয়ে থাকতে বাধ্য করা, কঠোর শাস্তির নামে অপমানজনক আচরণ করা এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে মামলায়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে নতুন আসা শিক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করা হতো। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে অনুপযুক্ত ও অস্বস্তিকর দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মালিক মাইকেল ও সিন্ডি আরগিরোসের আর্থিক সুবিধার জন্য শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শ্রমের কাজ করানো হতো। এসব কাজের মধ্যে ছিল পারিবারিক সম্পত্তিতে খোঁড়াখুঁড়ি, তুষার পরিষ্কার, খামারের পশুপাখির আবাসস্থল পরিষ্কার এবং নির্মাণকাজে সহায়তা করা। এ ছাড়া মালিক পরিবারের জন্য রান্না করা এবং গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজও শিক্ষার্থীদের দিয়ে করানো হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাকারী দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ে নির্যাতনের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিভিন্ন সময় অভিযোগ গেলেও সেগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মালিক পরিবারের স্থানীয় প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়েছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে ছিলেন। সে সময় তিনি বিদ্যালয়ের সংগীত শিক্ষক পল গিয়ারের অধীনে ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের কোরাস দলের সঙ্গে কানাডার টরন্টো সফরের সময় ওই শিক্ষক তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাঁকেই বিভিন্ন বিধিনিষেধের আওতায় রাখা হয়। পরে পল গিয়ারের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে বিচার অনুষ্ঠিত হয়। আদালত তাঁকে একাধিক শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। গত বছর তাঁকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্যালয়টি অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে সন্তানদের আইনি অভিভাবকত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করত। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় যুক্ত অনেকের প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা, শিক্ষাগত সনদ বা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রশিক্ষণ ছিল না। ▶️ আমেরিকায় বাংলাদেশিদের কাছে ম্যাকডোনাল্ডস নাকি কেএফসি বেশি জনপ্রিয়? আরও অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় থেকে কেউ পালানোর চেষ্টা করলে অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করে তাদের ধরে ফিরিয়ে আনা হতো। তবে বিদ্যালয়ের সাবেক মালিক মাইকেল আরগিরোস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিভিন্ন জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ে নির্যাতনের কোনো অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। অন্যদিকে মামলায় বিবাদী হিসেবে থাকা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থাকা নির্যাতনের অভিযোগগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে এটি হবে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুতর ব্যর্থতার উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আপার ওয়েস্ট সাইডের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার অভিনয় করানো হয়েছে। গত ১১ জুন স্কুলটিতে আয়োজিত 'মাল্টিকালচারাল ডে' বা বহুমুখী সংস্কৃতি দিবসের অনুষ্ঠানে এই বিতর্কিত পরিবেশনার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। স্কুলের এমন কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়েছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষাবিদ এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে ১০ ও ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা শিল্পী জন লিজেন্ড এবং র্যাপার কমনের গাওয়া জনপ্রিয় গান 'গ্লোরি'-র সঙ্গে নাচ পরিবেশন করে। গানটির কথায় ফার্গুসনে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউনের মৃত্যুর ঘটনা এবং এর জেরে শুরু হওয়া 'ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার' আন্দোলনের উল্লেখ ছিল। পরিবেশনার একপর্যায়ে গানের নির্দিষ্ট কথায় শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে মঞ্চে লুটিয়ে পড়ে এবং পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার মতো ছাদ পানে তাকিয়ে থাকে। এরপর গানের কোরাসে তারা সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন কায়পারনিকের অনুকরণে এক হাঁটু গেড়ে বসে প্রতিবাদ জানায়। পারফরম্যান্সের শেষে এই খুদে শিক্ষার্থীরা 'আইস আউট', 'এলজিবিটিকিউআইএ+ এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো', 'সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই' এবং 'অ্যান্টিসেমিটিজমের কোনো স্থান নেই' লেখা বিভিন্ন চরমপন্থি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে। এই ঘটনাকে শিশুদের প্রতি চরম অন্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক কর্মকর্তা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পঞ্চম শ্রেণির শিশুদের দিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর অভিনয় করানো কোনো শিক্ষা হতে পারে না; এটি শিশুদের রাজনৈতিক মগজধোলাই এবং নির্লজ্জ ব্যবহার। স্কুলের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, শাহরিন করিম নামের একজন শিক্ষিকা এই পরিবেশনার নেপথ্যে ছিলেন। তিনি স্কুলের মাল্টিকালচারাল কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০২৪ সালের সংস্কৃতি দিবসেও তিনি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ফিলিস্তিনি লোকনৃত্য 'দাবকে' পরিবেশন করিয়েছিলেন, যা নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সূত্রটির দাবি, স্কুলের অধ্যক্ষ জর্জ জর্জিলাকিস নিজেও এই ধরনের অতি-প্রগতিশীল বা 'ওক' (woke) নীতিগুলোকে সমর্থন করেন। শুধু তাই নয়, স্কুলটিতে এলজিবিটিকিউ+ বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ একটি 'রেইনবো রুম' রয়েছে, যেখানে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া গত ৫ মে অভিভাবকদের কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ না দিয়েই দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সামনে ট্রান্সজেন্ডার লেখক কাইল লুকফের একটি বই পড়ার আয়োজন করা হয়েছিল। এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নিউইয়র্কের শিক্ষা বিভাগ (ডিওই) জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ইভেন্টের আগে যেন পরিবারগুলোকে আগে থেকে নোটিশ দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ১০ লাখের বেশি একক ডোজের প্রাণঘাতী ডেট রেপ ড্রাগ বা নিষিদ্ধ মাদক আমদানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ম্যানহাটনের দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মার্কিন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই দুই ব্যক্তি প্রায় সাত টন ওজনের অত্যন্ত বিপজ্জনক নিষিদ্ধ কেমিক্যাল গামা-বিউটিরোল্যাক্টোন বা জিবিএল নিউইয়র্কের পাঁচটি বড় বড় প্রশাসনিক অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি সুপরিকল্পিত গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই ভয়ংকর তরল মাদককে মানবদেহের জন্য সরাসরি একটি মারাত্মক এবং অত্যন্ত কার্যকর 'তরল বিষ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দায়ের করা আনুষ্ঠানিক নথি অনুযায়ী অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির নাম মার্ক ডিগডন এবং রদ্রিগো কাস্ত্রো। এদের মধ্যে মার্ক ডিগডনের বর্তমান বয়স ৪৮ বছর এবং তার সহযোগী রদ্রিগো কাস্ত্রোর বয়স ৩৪ বছর বলে মার্কিন আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস গত ১৭ জুন আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি নিয়ন্ত্রিত নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য বা নিষিদ্ধ কেমিক্যাল বিতরণের অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট গঠন করেছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এই মাদক পাচারের গুরুতর অপরাধে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের উভয়েরই সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত মেয়াদে কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায় যে, অভিযুক্ত এই দুই ব্যক্তি ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু করে চলতি ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত অত্যন্ত সুকৌশলে এই বিশাল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে নিয়ে আসেন। কালোবাজারে এই নিষিদ্ধ মাদকটি মূলত বিভিন্ন ধরনের ছদ্মনামে বিক্রি করা হতো যার মধ্যে অন্যতম হলো ব্লু নাইট্রো এবং রিভাইভারেন্ট। এই মাদকটি সেবনের পর মানুষের শরীরে তীব্র এবং কৃত্রিম এক ধরনের উত্তেজনা বা বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে সেবনকারী সম্পূর্ণ অচেতন বা অবশ হয়ে পড়েন। মাদকটির এই বিশেষ অবশ করার ক্ষমতার কারণেই অপরাধীরা এটিকে ডেট রেপ ড্রাগ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। ম্যানহাটনের প্রধান মার্কিন অ্যাটর্নি জয় ক্লেটন এই ভয়ংকর মাদকের মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে জানান, এই তরল কেমিক্যালের মাত্র একটি একক ডোজের ব্যবহারও যেকোনো সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত তরল সামগ্রী যেন কোনোভাবেই শহরের সাধারণ নাগরিকদের নাগালের মধ্যে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য মার্কিন গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে এদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন। অবশেষে এই দুই মাদক কারবারিকে বিপুল পরিমাণ মালামালসহ হাতেনাতে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত রদ্রিগো কাস্ত্রোর প্রধান আইনজীবী ড্যানিয়েল ম্যাকগুইনেস দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন যে, তার মক্কেল আদালতে প্রথম শুনানিতে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং অপরাধের সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে, পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি এখন অত্যন্ত প্রাথমিক এবং শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। কাস্ত্রো আদালতের প্রকাশ্য শুনানির মাধ্যমে নিজের নাম এই কলঙ্কজনক ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে এবং নিজের সত্যতা ও নিরপরাধ ভাবমূর্তি প্রমাণ করতে মানসিকভাবে অত্যন্ত আগ্রহী ও সচেতন রয়েছেন। তবে মার্কিন প্রসিকিউশন বা সরকারের বিশেষ তদন্তকারী দল আদালতের সামনে স্পষ্টভাবে দাবি করেছে যে, তাদের কাছে রদ্রিগো কাস্ত্রোর এই অপরাধের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকার বিষয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যবসায়িক নথি, লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড এবং নির্ভরযোগ্য গোপন সূত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। কাস্ত্রোর আইনজীবী অবশ্য জানিয়েছেন যে, সরকারের সেই নথিপত্র এবং তথ্যগুলো তারা নিজেরা খতিয়ে দেখতে চান যে ঠিক কোথায় ভুল বোঝাবুঝি বা গড়মিল হয়েছে, যার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার মক্কেলকে এই ভয়ংকর আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত বলে মনে করছে।
নিউইয়র্ক নিক্সের বিজয় উদযাপন প্যারেডে বিশেষভাবে তৈরি ফ্যাশন পোশাকে নজর কাড়লেন শহরের ফার্স্ট লেডি রামা দুওয়াজি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই প্যারেডে তিনি নকশা করা একটি পোশাক পরিধান করেন, যা এনবিএ ফাইনালের নকল মার্চেন্ডাইজ টি-শার্ট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় ডিজাইনার মিস ক্লেয়ার সুলিভানের তৈরি ওই এক-কাঁধা পোশাকটি সাদা, কমলা ও নীল রঙের একাধিক টি-শার্ট কেটে, সেলাই ও বাঁধনের মাধ্যমে অসমমিত নকশায় প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগিয়ে পোশাকটির বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী রামা দুওয়াজি পোশাকটির সঙ্গে কালো মিডি স্কার্ট পরেন। তিনি গলায় স্তরবিন্যাস করা স্বর্ণালঙ্কার, কমলা রঙের ঝুলন্ত কানের দুল এবং কালো নাইকি এয়ার রিফট স্নিকার্স পরিধান করেন। ডিজাইনার ক্লেয়ার সুলিভান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একই ধরনের আরেকটি সংস্করণ শেয়ার করেন, যেখানে স্কার্টের পরিবর্তে সাদা টিউল টিউটু ব্যবহার করা হয়। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “Knicks in five LFG NYC।” পোশাকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সেলিব্রিটি ও ফ্যাশন ব্যক্তিত্ব প্রশংসা জানিয়ে মন্তব্য করেন। অ্যাডিসন রে লেখেন, “R u kidding”, লিসা রিনা লেখেন, “So good!!!!”, এবং এলা এমহফ লেখেন, “Holy S—TTTTT।” ডিজাইনারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের স্থানীয় সংযোগ এবং নিক্স সমর্থন থেকেই এই নকশার ধারণা তৈরি হয়। বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট সংগ্রহ করে তিনি পোশাকটি প্রস্তুত করেন। নিক্সের বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে রামা দুওয়াজির এই উপস্থিতি তার সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত জনসম্মুখ উপস্থিতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানুয়ারিতে স্বামীর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি তুলনামূলকভাবে কম জনসম্মুখে এসেছেন। হিউস্টনে জন্ম নেওয়া রামা দুওয়াজি একজন শিল্পী ও অ্যানিমেটর হিসেবে কাজ করেন। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম জেন-জি এবং প্রথম মুসলিম ফার্স্ট লেডি হিসেবে পরিচিত। শহরের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি সাধারণত তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত জীবনধারা বজায় রাখেন।
দীর্ঘ ৫৩ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট এনবিএ (NBA) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিউইয়র্ক নিক্স। ঐতিহাসিক এই ট্রফি জয় উদযাপনে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। ট্রফি জয়ী খেলোয়াড়দের এক নজর দেখতে এবং ঐতিহ্যবাহী 'টিকার-টেপ প্যারেড' উৎসবে যোগ দিতে সকাল থেকেই ব্রডওয়ে ও ব্যাটারি পার্ক এলাকায় জড়ো হন হাজার হাজার ভক্ত। নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্যারেড শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই (সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের মধ্যে) দর্শকদের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ভক্তদের পরনে ছিল দলের নীল ও কমলা রঙের জার্সি, ক্যাপ এবং চেইন। বাঁধভাঙা এই আনন্দের জোয়ারে অনেক ভক্তকে পুলিশের গাড়ি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ট্রাকের ওপর উঠেও উল্লাস করতে দেখা যায়। প্যারেডে একটি সুসজ্জিত গাড়িতে (ফ্লোট) চড়ে ট্রফি হাতে ভক্তদের অভিবাদনের জবাব দেন দলের তারকা খেলোয়াড় কার্ল-অ্যান্টনি টাউনস এবং ওজি আনুনোবি। তাদের সঙ্গে যোগ দেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও সাবেক নিক্স তারকা কারমেলো অ্যান্থনি। এছাড়া দলের দীর্ঘদিনের অন্ধ ভক্ত ও বিখ্যাত হলিউড পরিচালক স্পাইক লি, অভিনেতা বেন স্টিলার, ক্রিস রক এবং টিমোথি শালামের মতো তারকারাও এই রাজকীয় প্যারেডে অংশ নেন। প্যারেডে অংশ নেওয়া ৬৯ বছর বয়সী জন রিভেরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "১৯৭৩ সালে নিক্স যখন শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দলের প্রতি বিশ্বাস হারাইনি। আজকের এই উৎসব আমাকে আবারও এই শহরের আপন করে তুলেছে।" আরেক ভক্ত বারবারা ইথারেজ বলেন, "এখানে আমরা কেউ কাউকে চিনি না, সবাই সবার কাছে অপরিচিত। কিন্তু আজ এই এক জায়গায় এসে মনে হচ্ছে—আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।" উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিতে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বিখ্যাত 'বাকলাভা গাই' খ্যাত রয় ডঙ্ক পুরো প্যারেডে ভক্তদের মাঝে বিনামূল্যে মিষ্টি ও বাকলাভা বিতরণ করেন। সব মিলিয়ে নিক্সের এই শিরোপা জয় যেন পুরো নিউইয়র্ক সিটিকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র ও ব্যস্ততম এলাকা টাইম স্কয়ারের প্রাণকেন্দ্রে ভরদুপুরে একদল যুবকের মধ্যে চলা পারস্পরিক বিরোধের জেরে হঠাৎ করেই শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি। বৃহস্পতিবার বিকেলের এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেখানে উপস্থিত শত শত পর্যটক এবং নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ চরম আতঙ্কে ও প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনার একটি নাটকীয় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বন্দুকের তীব্র আওয়াজের মুখে সাধারণ মানুষের প্রাণপণ দৌড়ে পালানোর শিউরে ওঠা দৃশ্য ধরা পড়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার ঠিক পর পর ওয়েস্ট ৪৪ নম্বর স্ট্রিট এবং সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলের কাছে অন্তত একজন বন্দুকধারী এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো মানুষ সরাসরি গুলিবিদ্ধ বা আহত হননি। কিন্তু ছিটকে আসা একটি বুলেটের আঘাত সরাসরি গিয়ে লাগে রাস্তায় থাকা একটি প্রাইভেট কারের ওপর। ক্ষতিগ্রস্ত ওই গাড়ির মালিক বনি হোয়াইট সংবাদমাধ্যম 'দ্য পোস্ট'-কে তাঁর ক্ষোভ ও আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন, "হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুনতে পাই এবং আমি বন্দুকধারীকেও দেখতে পেয়েছিলাম। এর মধ্যেই একটি গুলি এসে সরাসরি আমার গাড়ির হুডে আঘাত করে। আমি এই ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত, বুঝতে পারছি না এখন আমার গাড়িটির কী হবে"। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন যুবকের মধ্যে শুরু হওয়া একটি সাধারণ মারামারি ও হাতাহাতি একপর্যায়ে হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং তা সরাসরি গোলাগুলিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে পরপর প্রায় পাঁচটি গুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠা ওই এলাকা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং এই সহিংসতার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নিয়েছে। ধৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিউইয়র্কে প্রায় ৩০ লাখ গৃহস্থ ও প্রবীণ নাগরিকের জন্য মোট ২ বিলিয়ন ডলারের ট্যাক্স রিলিফ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। চলতি গ্রীষ্মে স্টার (School Tax Relief) কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হবে বলে রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৫ লাখ ডলারের কম আয় করা অধিকাংশ গৃহস্থ এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। তারা সাধারণত ৩৫০ থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত ট্যাক্স রিলিফ পাবেন। একই কর্মসূচির আওতায় প্রবীণ নাগরিকরা, যাদের বার্ষিক আয় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের নিচে, তারা ৭০০ থেকে ১৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাবেন। গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, অনেক পরিবারের জন্য এই অর্থ দৈনন্দিন খরচ সামাল দিতে সহায়ক হবে। জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণদের জন্য এই কর্মসূচি আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে। নিউইয়র্ক সিটির আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে এই ধরনের সহায়তা সাধারণ পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার গৃহস্থ এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। তাদের জন্য মোট প্রায় ১৪৯.৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, যোগ্য নাগরিকরা অনলাইনের মাধ্যমে তাদের স্টার চেক বা ডাইরেক্ট ডিপোজিটের অবস্থা ট্র্যাক করতে পারবেন।
নিজেদের জনপ্রিয় বাস্কেটবল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে ক্রীড়া উন্মাদনায় ভাসছে নিউইয়র্ক। একদিকে এনবিএ শিরোপা জয়ের আনন্দ, অন্যদিকে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠের খেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় উদযাপন, ফ্যান জোন এবং বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন এই আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমেরিকানদের পাশাপাশি বাঙালিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষও অংশ নিচ্ছেন এই উৎসবে। জানা গেছে, গত ১৩ জুন এনবিএ ফাইনাল সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সকে ৯৪-৯০ পয়েন্টে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে নিউইয়র্ক নিক্স। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসানে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আবেগ ও আনন্দ। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় উদযাপন। ম্যানহাটন, টাইমস স্কয়ার এবং ব্রুকলিনে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করেন। খেলোয়াড়দের ঘিরে তৈরি হয় নতুন ক্রীড়া নায়কত্বের আবহ। শহরের বাস্কেটবল ইতিহাসে এই সাফল্যকে বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা। শিরোপা জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহরজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য প্যারেডও। একই সময়ে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি অঞ্চল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত ১১ জুন শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপ চলাকালে এই ভেন্যু নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত হবে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই স্টেডিয়ামে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, নকআউট রাউন্ডের খেলা এবং টুর্নামেন্টের ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন, ব্রুকলিন ও কুইন্সে গড়ে তোলা হয়েছে ফ্যান জোন। বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা এবং ফ্যান ফেস্টের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শক ও পর্যটকদের উপস্থিতিতে শহরটি এখন এক বৈশ্বিক ক্রীড়া মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তবে এই বৃহৎ আয়োজনের সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে প্রশাসনকে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর সময় বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মেটলাইফ স্টেডিয়াম এলাকায় নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকে জার্সি, পতাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ফুটবল সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশ্বকাপের আমেজ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপের থিমে সাজানো হয়েছে। মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং ইয়ামালের মতো তারকা ফুটবলারের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক দোকানে ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী জার্সিতে নাম ও নম্বর সংযোজনের সেবাও দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার জ্যাকসন হাইটসে জার্সির দোকান পরিচালনাকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, “বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জার্সির এমন চাহিদা আমরা আগে কখনও দেখিনি। বিশেষ করে মেসি, রোনালদো আর এমবাপ্পের জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।” একই এলাকার ফুটবল সমর্থক রাকিবুল হাসান বলেন, “আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করি। খেলা শুরু হলেই পুরো এলাকা যেন উৎসবের মাঠে পরিণত হবে।” প্রবাসী কমিউনিটি সংগঠক নাজনীন আক্তার বলেন, “এই বিশ্বকাপ আমাদের নতুন প্রজন্মকে একত্র করছে। তারা খেলা দেখার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং নিজেদের সংস্কৃতিও ভাগাভাগি করছে।”
নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর জ্যামাইকা এলাকায় আগামী ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটি উৎসব ‘ভালো মেলা ২০২৬’। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভালো (বিএইচএএলও)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত বছরও একই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। এবারের আয়োজনকে আরও বিস্তৃত ও অংশগ্রহণমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলার মূল লক্ষ্য বিভিন্ন বয়স ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য একসঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনোদন ও সামাজিক সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি করা। আয়োজনস্থল হিসেবে কুইন্সের হিলসাইড অ্যাভিনিউ এবং ১৭৩ স্ট্রিট থেকে ১৭৫ স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প, কমিউনিটি সেবা এবং পারিবারিক বিনোদনের নানা আয়োজন থাকবে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ কার্যক্রম। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। এবারের মেলায় কমিউনিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি, এলহাম একাডেমি, সাপ্তাহিক ঠিকানা এবং বেঙ্গলিস অব নিউইয়র্ক (বনি)। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নানতাশা উইলিয়ামসও অনুষ্ঠানের সহযোগী অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেলায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী বিক্রেতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য অনলাইন নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ থাকছে। আয়োজক সংগঠন ভালো (বিএইচএএলও)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আয়োজন কেবল একটি মেলা নয়, বরং এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস। নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়াইনে মুলিন প্রকাশ্যে নিউইয়র্কবাসীর উদ্দেশে “বোধোদয়” হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে মেয়র মামদানিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ১১ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং “স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি” নীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুলিন মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি তাকে “র্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্ট”, “পুলিশবিরোধী” এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিকারী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। মুলিন বলেন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ দেশের অন্যতম দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হলেও তাদের এমন একজন নেতা রয়েছে, যিনি তাদের কাজের পরিধি সীমিত করে দিচ্ছেন। তার ভাষায়, “এনওয়াইপিডির সদস্যরা তাদের কাজ করতে চান, কিন্তু তাদের এমন একজন নেতা রয়েছে যিনি তাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন।” তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্কবাসী আগামী কয়েক বছরের মধ্যে “প্রকৃত নেতৃত্ব” বেছে নেবে বলে তিনি আশা করেন। মুলিনের এই মন্তব্যকে শুধু প্রশাসনিক সমালোচনা হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মেয়র মামদানির মধ্যে অতীত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে দুই পক্ষের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প ওভাল অফিসে মামদানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সহযোগিতার সুযোগ দিয়েছিলেন, তবে বৈঠকের পর মামদানির অবস্থান ভিন্ন দিকে যায়। অন্যদিকে মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ওই বৈঠকের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পকে “ফ্যাসিস্ট” বলে উল্লেখ করেন এবং একই সঙ্গে নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোসহ কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ থাকার কথাও বলেন। অভিবাসন নীতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। মামদানি দীর্ঘদিন ধরে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন এবং সংস্থাটির ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আইস-এর ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পক্ষে। এর আগেও মুলিন অভিযোগ করেছিলেন যে মেয়র মামদানির অভিবাসন নীতি নিউইয়র্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তবে মামদানির সমর্থকরা বলছেন, তিনি অভিবাসী সম্প্রদায়, শ্রমজীবী মানুষ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। তাদের মতে, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ মূলত অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার এবং স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে মতপার্থক্যের প্রতিফলন। নিউইয়র্কের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বাক্যবিনিময় কেবল ব্যক্তিগত বা দলীয় দ্বন্দ্ব নয়, বরং ফেডারেল সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নিউইয়র্ক সিটির প্রগতিশীল প্রশাসনের মধ্যে বৃহত্তর আদর্শিক সংঘাতের প্রকাশ। আগামী দিনে অভিবাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং ফেডারেল-স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার প্রশ্নে এই বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি, যিনি প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত এবং একই সঙ্গে রক্ষণশীল মহলের সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।