সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ কোটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁসের দাবি, তদন্তে এফবিআই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২১:১০
ডার্ক ওয়েবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপুলসংখ্যক রেকর্ড বিক্রির দাবি নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত
ডার্ক ওয়েবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপুলসংখ্যক রেকর্ড বিক্রির দাবি নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবিকে কেন্দ্র করে তদন্ত করছে এফবিআই। ‘নেক্সাস’ নামে একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসে বিপুলসংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি বিক্রির তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এ তদন্ত শুরু হয়। তবে ১৫ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডের সংখ্যা এখনো সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয় এবং এটিকে ১৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

 

সাইবার নিরাপত্তা সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবসের পরিচালিত সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রেবসঅনসিকিউরিটির প্রতিবেদনে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম নেক্সাসের বিষয়টি সামনে আসে। মার্কেটপ্লেসটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ড থাকার দাবি করেছিল। এর পাশাপাশি ১ কোটির বেশি পরিচয়পত্র, ৩০ লাখের বেশি ভ্রমণ নথি বা আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র এবং অন্তত ৫ লাখ ৭৯ হাজার মেডিকেল কার্ডের রেকর্ড থাকার দাবিও করা হয়।

 

এফবিআইয়ের নিউ অরলিন্স কার্যালয় পরে ঘটনাটি তদন্তের কথা নিশ্চিত করেছে। তদন্ত চলমান থাকায় সংস্থাটি ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত পরিমাণ, উৎস বা কতজন মানুষের তথ্য এতে রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।

 

ঘটনাটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, প্রকাশিত তথ্য শুধু নাম বা পরিচয় নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার দাবি করা হয়নি। প্রতিবেদনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের সামনের ও পেছনের ছবি এবং কিছু ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড ও অতিবেগুনি রশ্মির মাধ্যমে ধারণ করা ছবিসহ পরিচয়পত্রের বিস্তারিত স্ক্যান থাকার কথা বলা হয়েছে। এসব তথ্য পরিচয় চুরি, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ধরনের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

ক্রেবসঅনসিকিউরিটির অনুসন্ধানে কিছু রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানের সময় প্রতিবেদক নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ডও নেক্সাসে দেখতে পেয়েছেন। কয়েকটি রেকর্ডের স্ক্যানের সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাস্তব জীবনে পরিচয়পত্র ব্যবহারের সময়ের মিলও পাওয়া যায়। এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ডার্ক ওয়েবে থাকা অন্তত কিছু রেকর্ড বাস্তব এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

 

তদন্তে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সভিত্তিক পরিচয় যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আইডিস্ক্যান ডটনেটের নামও উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্যবসাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, অঙ্গরাজ্যের পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ সরকারি পরিচয়পত্র স্ক্যান ও যাচাইয়ের প্রযুক্তি সরবরাহ করে। তবে নেক্সাসে থাকা সব তথ্যের উৎস আইডিস্ক্যান ডটনেট, এমনটি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

 

আইডিস্ক্যান ডটনেট জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঘটনার বিষয়ে তারা তদন্ত করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক অবস্থান অনুযায়ী, তাদের গ্রাহকদের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা কপি করা হয়ে থাকতে পারে কি না এবং হলে এর পরিমাণ কত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনো চূড়ান্তভাবে কতজন গ্রাহক বা ব্যক্তির তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

 

নেক্সাসের সাইটটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ডার্ক ওয়েব থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে থাকা তথ্যের অন্য কোনো কপি মুছে গেছে। তথ্য অন্যত্র সংরক্ষিত বা ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।

 

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গাড়ি ভাড়া, ব্যাংকিং, ঋণ, চাকরি, বয়স যাচাই কিংবা অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স স্ক্যান করা হয়। ফলে এ ধরনের তথ্য চুরি হলে তা ভবিষ্যতে পরিচয় যাচাইয়ের বিভিন্ন ধাপে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

 

তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য এমন কোনো সরকারি তালিকা বা অনুসন্ধান ব্যবস্থা চালু হয়নি, যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না তা সরাসরি যাচাই করা যাবে। তাই নেক্সাসের ১৫ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডের দাবি দেখে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে ধরে নেওয়াও ঠিক হবে না।

 

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে অচেনা ফোন, ইমেইল বা খুদে বার্তায় ব্যক্তিগত তথ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা ব্যাংকিং তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংক ও ঋণসংক্রান্ত অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন বা নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

 

এফবিআইয়ের তদন্ত এবং আইডিস্ক্যান ডটনেটের অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক পর্যালোচনা শেষ হলে ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত উৎস, পরিমাণ এবং কতজন মানুষের তথ্য এতে জড়িত, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আপাতত ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের দাবিটি একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসের দেওয়া সংখ্যা, নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা নয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
২০২৭ সালে কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় বিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ও হিউমানা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড হেলথ ও হিউমানার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা বন্ধ, প্রভাব পড়বে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের ওপর

যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ও হিউমানা ২০২৭ সালের জন্য তাদের কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার গ্রাহক প্রভাবিত হতে পারেন। এর মধ্যে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং হিউমানার প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক রয়েছেন। আগামী বছর থেকে তাঁদের বর্তমান বিমা পরিকল্পনা আর কার্যকর থাকবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা সরকারি মেডিকেয়ার সুবিধা হারাবেন। তাঁদের নতুন বিমা পরিকল্পনা বেছে নিতে হবে অথবা প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিকল্প বিবেচনা করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইক ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিমা সুবিধা ব্যবহারের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করছে। ইউনাইটেড হেলথকেয়ার জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে বিমা কার্যক্রম টেকসই রাখার লক্ষ্যেই ২০২৭ সালের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বজায় রাখার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, হিউমানা জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে প্রভাবিত অধিকাংশ গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির অন্য কোনো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।   এই পরিবর্তনের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের মেডিকেয়ার বিমার বার্ষিক নিবন্ধন ও পরিকল্পনা পরিবর্তনের সময় চলছে। ১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সময়সীমা শেষ হবে ৭ ডিসেম্বর। এ সময় গ্রাহকেরা নিজেদের বর্তমান বিমার সুবিধা পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নিতে পারবেন। বন্ধ হতে যাওয়া পরিকল্পনাগুলো ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং নতুন পরিকল্পনা সাধারণত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তাই যাঁদের বিমা পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।   মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মেডিকেয়ার কর্মসূচির অধীনে বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্ক, ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের খরচ এবং কখনো কখনো দাঁত ও চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে পরিকল্পনাভেদে এসব সুবিধা ও খরচের পার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় গেলে গ্রাহকদের চিকিৎসক বা হাসপাতাল বদলাতে হতে পারে, ওষুধের আওতা পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা নিজের পকেট থেকে খরচ বাড়তে পারে।   ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের পরিবর্তন মূলত পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও চিকিৎসা নেওয়ার তুলনামূলক বেশি সুযোগ দেওয়া পিপিও পরিকল্পনাগুলোকে কেন্দ্র করে। অন্যদিকে, হিউমানা কম লাভজনক কিছু পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের প্রধান সেলেস্তে মেলেট আগে জানিয়েছিলেন, প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন, যা তাদের মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ গ্রাহকের প্রায় ৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রভাবিত গ্রাহকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে নিজেদের অন্য পরিকল্পনায় ধরে রাখার চেষ্টা করবে।   স্বাস্থ্যবিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ব্যয় ও ওষুধের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনার সংখ্যা কমাচ্ছে, কিছু অতিরিক্ত সুবিধা সীমিত করছে এবং গ্রাহকদের নিজস্ব খরচের অংশ বাড়াচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালেও দেশের ৯৯ শতাংশের বেশি মেডিকেয়ার গ্রাহকের অন্তত একটি মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় প্রবেশের সুযোগ থাকবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ ব্যবস্থায় গড় মাসিক প্রিমিয়াম ২০২৬ সালের ১৪ দশমিক ৩৭ ডলার থেকে ২০২৭ সালে ১২ ডলারে নেমে আসতে পারে।   যাঁদের বর্তমান পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের চিকিৎসক, হাসপাতাল, ওষুধের আওতা, মাসিক প্রিমিয়াম এবং চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে দিতে হবে এমন অর্থের পরিমাণ তুলনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ নতুন মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যেতে পারেন, আবার কেউ প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে গিয়ে আলাদা ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের বিমা নিতে পারেন। কোন বিকল্পটি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজন ও আর্থিক সামর্থ্যের ওপর।   সূত্র: নিউজউইক, সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ২৩:১৭
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ম্যানহোল দিয়ে ভূগর্ভস্থ নর্দমায় প্রবেশের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে ম্যানহোল দিয়ে নর্দমায় নেমে গয়না খুঁজছিলেন তাঁরা, গ্রেপ্তার ৫

ফ্লোরিডার বার্টো শহরের একটি বার্গার কিং রেস্তোরাঁর সামনে গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় বাবার বন্দুকের গুলিতে প্রাণ গেল ৩ বছরের শিশুর, জন্মদিনের চার দিন আগে মৃত্যু

নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল আদালতে বাতিল হয়েছে নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া এক নারীর মার্কিন নাগরিকত্ব। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জালিয়াতির আশ্রয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, ১৩ বছর পর বাতিল মার্কিন নাগরিকত্ব

নিউইয়র্কের কুইন্সে ভবন থেকে ইট পড়ে আহত হয়েছে ছয় বছরের এক শিশু। চিকিৎসকেরা তার ভাঙা হাড়ে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় ইট খসে পড়ে ৬ বছরের শিশুর পা ভাঙল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় ভবন থেকে ইট পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে ছয় বছরের এক শিশু। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাসপেথ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে শিশুটির মাথায় কেটে যাওয়ার ক্ষত তৈরি হয় এবং উরুর হাড় ভেঙে যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভাঙা হাড়ের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৩৫ মিনিটে মাসপেথ অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৫৯তম স্ট্রিট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির বাবা পাশের একটি ভবনে নির্মাণকাজ করছিলেন। এ সময় মা ও শিশুটি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বেড়ার একটি ফাঁক দিয়ে বাবাকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাতে থামে। ঠিক সেই সময় একটি গুদামজাতীয় ভবনের বাইরের দেয়ালের ইটের অংশ খুলে নিচে পড়ে শিশুটির গায়ে লাগে।   শিশুটির বাবা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, ইট পড়ার ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে। তাঁর মেয়ে ফুটপাতে পড়ে চিৎকার করে ওঠে। কীভাবে ইটের অংশটি খুলে পড়ল, তা তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন না বলেও জানান। ঘটনার পর শিশুটির মাথায় আঘাতের পাশাপাশি উরুর হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভাঙা হাড়ে স্ক্রু বসানোর পরিকল্পনা করেছেন।   পরে শিশুটিকে সচেতন অবস্থায় বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। শিশুটির বাবা বলেন, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ভালো। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এক বা দুই দিনের মধ্যে তাকে বাড়িতে নেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।   ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী হাসান হামিদ জানান, আহত শিশুটিকে একজন কোলে করে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তার অবস্থা পরীক্ষা করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশকেও দেখা যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্মিত হন।   আহত হওয়ার পরও শিশুটি কিছুটা পড়াশোনা করেছে, বিশ্রাম নিয়েছে এবং টেলিভিশন দেখেছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা। ব্যথা কমাতে তাকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা নিয়মিত তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। আপাতত মেয়ের সুস্থ হয়ে ওঠাই তাঁদের পরিবারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তিনি।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ২১:৪৮
শিকাগোর আবাসিক এলাকায় অন্ধ এক হরিণকে ঘাসের কাছে যেতে সাহায্য করত ১০ বছরের এক শিশু। পরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল প্রাণীটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রতিদিন অন্ধ হরিণকে খাবার খুঁজতে সাহায্য করত ১০ বছরের শিশু, পাশে দাঁড়ালেন প্রতিবেশীরা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন কমেছে, বেড়েছে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা।  গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমেছে ব্যাপক হারে, জমে আছে ৭ লাখের বেশি আবেদন

নিউইয়র্কে আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৫ নভেম্বর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে ভোটের দুই দিন আগে স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব অনুমোদনে বড় ধস
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব অনুমোদনে বড় ধস

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে মাত্র ৫৭ হাজার ৬৯৭টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে অনুমোদিত হয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬টি আবেদন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় ৭৬ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ইউএসসিআইএসের সরকারি পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নাগরিকত্বের অনুমোদন পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২০ জন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬ জনে। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫৭ হাজার ৬৯৭টিতে। পরিসংখ্যানটি মার্কিন অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের, যা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়কে বোঝায়। এটি অক্টোবর মাসের অনুমোদনের হিসাব নয়।   শুধু অনুমোদন কমেনি, একই সঙ্গে নাগরিকত্বের আবেদনের জটও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন শেষে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮টিতে। চলতি বছরের জুন শেষে অপেক্ষমাণ আবেদন বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার আবেদন বেশি জমে রয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে নাগরিকত্বের আবেদন করা অনেক গ্রিন কার্ডধারীকে দীর্ঘ সময় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমার হার এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে ইউএসসিআইএস ফিল্ড অফিসে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজার ৪১টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৩১৭টি আবেদন। অর্থাৎ সেখানে অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে অনুমোদন কমেছে প্রায় ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে টেক্সাসের হিউস্টনে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো বেশি অভিবাসী অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে।   নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই পতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফর নিউ আমেরিকানস। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নিকোল মেলাকু নিউজউইককে বলেছেন, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ বিলম্বের ফলে যোগ্য অভিবাসীদের নাগরিকত্ব অর্জন এবং নাগরিক জীবনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে আবেদনগুলো দীর্ঘদিন আটকে রাখা হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন নাগরিকদের ভোটার হওয়ার সুযোগ সীমিত করাও এই ধীরগতির একটি উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন আটকে রাখা হচ্ছে, এমন অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার এবং হিউস্টনে প্রায় ৩১ হাজার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যেও প্রায় ১৭ হাজার ৩০০টি আবেদন আটকে আছে। নিকোল মেলাকুর মতে, এত বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ থাকায় অনেক অভিবাসী জানেন না, কবে তাঁরা নাগরিকত্বের শপথ নিতে পারবেন। তাঁদের অনেকে আবেদন ফি পরিশোধ করেছেন, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন। তারপরও আবেদনের সিদ্ধান্ত পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ডিএইচএস নিউজউইককে জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময় নাগরিকত্বের আবেদন যথাযথ যাচাই ছাড়া অনুমোদন করা হতো বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান প্রশাসন সেই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই করছে। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্ব কেবল আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসন নাগরিকত্ব পরীক্ষায় ২০২০ সালের সিভিকস টেস্ট পুনর্বহাল করেছে। একই সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যক্রমও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা। তবে কঠোর যাচাইয়ের কারণে ঠিক কতটি আবেদন বিলম্বিত হয়েছে, তার পৃথক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।   নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়টি আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীরা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ভোট দেওয়ার জন্য আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হতে হয়। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হলেও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একজন আবেদনকারী সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। ফলে নির্বাচনের আগে শপথ গ্রহণের সুযোগ না পেলে যোগ্য আবেদনকারীরাও ওই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। অবশ্য নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম পূরণ করতে হয়।   সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইন নিউজউইককে জানিয়েছেন, নাগরিকত্বের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করেও দীর্ঘ বিলম্বের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রভাবিত হতে পারে। তাঁর মতে, যোগ্য আবেদনকারীর নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেওয়া হলে সেই ব্যক্তি নির্দিষ্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। তবে আবেদন নিষ্পত্তিতে ধীরগতির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আরও প্রমাণ প্রয়োজন। নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়াই এককভাবে নির্বাচনী হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে না।   ব্লুমবার্গ ল-এর ১৫ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনেও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ধীরগতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইউএসসিআইএস প্রায় ৭১ হাজার নাগরিকত্বের আবেদনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার। অর্থাৎ শুধু অনুমোদন নয়, অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যান মিলিয়ে মোট নিষ্পত্তির সংখ্যাও প্রায় ৭৩ শতাংশ কমেছে। এতে বোঝা যায়, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির সামগ্রিক গতিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   তবে অনুমোদনের সংখ্যা ৭৬ শতাংশ কমার অর্থ এই নয় যে জমা দেওয়া প্রতি ১০০টি আবেদনের মধ্যে ৭৬টি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইউএসসিআইএস মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি নতুন নাগরিকত্বের আবেদন পেয়েছে। একই সময়ে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি আবেদন অনুমোদন এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত দেওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। মূল সমস্যা হলো, আগের তুলনায় অনেক কম আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন এবং এন-৪০০ ফরমের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার, সিদ্ধান্ত কিংবা শপথ অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে সরকারি পরিসংখ্যানটি সব আবেদনকারীর গড় পরিস্থিতি তুলে ধরে। প্রত্যেকের আবেদন একই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে বা একই ধরনের বিলম্বের মুখে পড়বে, এমন নয়। আবেদনকারীর অবস্থান, ফিল্ড অফিস, যাচাইয়ের প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য হতে পারে।   ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ তথ্য মার্কিন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরছে। এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আগামী নির্বাচনের আগে কতজন আবেদনকারী নাগরিকত্ব ও ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   SOURCE - নিউজউইক ব্লুমবার্গ ল

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৯:১৫
রোবট ‘অপটিমাস’

মানুষের মতো রোবট ‘অপটিমাস’ উৎপাদন শুরু করল টেসলা, বাজারে আসবে ২০২৭ সালে

নিউইয়র্কে বিনা খরচে ইএমটি প্রশিক্ষণের বৃত্তি

নিউইয়র্কে বিনা খরচে ইএমটি প্রশিক্ষণের বৃত্তি, আবেদন করতে পারবেন ১৭ বছর বয়সীরাও

ডা. নাদিয়া হামিদ

নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিলেন নাদিয়া হামিদ

0 Comments