সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউ ইয়র্কে আজ থেকে নির্দিষ্ট ট্র্যাশ বিন বাধ্যতামূলক, না মানলে জরিমানা

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২০:৪১
নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল ট্র্যাশ বিন ব্যবহারের নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল ট্র্যাশ বিন ব্যবহারের নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটিতে আবাসিক ভবনের ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম আজ, মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনে সাধারণ ট্র্যাশ বাইরে রাখার ক্ষেত্রে এখন থেকে অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম না মানলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন বা ডিএসএনই সামন্স জারি করে জরিমানা করতে পারবে।

 

নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য। যেসব বাংলাদেশি পরিবার এক বা দুই পরিবারের বাড়ির মালিক কিংবা ৯টি পর্যন্ত আবাসিক ইউনিট রয়েছে এমন ভবনের মালিক বা ম্যানেজার, তাদের ট্র্যাশ নির্ধারিত বিনে রাখতে হবে। ভবনের বাসিন্দাদের উৎপাদিত সব ট্র্যাশ রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিনের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও মালিক বা বিল্ডিং ম্যানেজারের।

 

ডিএসএনই জানিয়েছে, ১ জুন ২০২৬ থেকেই ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহারের নিয়ম কার্যকর ছিল। তবে নিয়মটি বাস্তবায়নের আগে বাসিন্দা ও সম্পত্তির মালিকদের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়। সেই সময় শেষ হওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পূর্ণাঙ্গ এনফোর্সমেন্ট।

 

জরিমানার পরিমাণ অপরাধের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে ৫০ ডলার, দ্বিতীয়বার ১০০ ডলার এবং তৃতীয় ও পরবর্তী অপরাধে ২০০ ডলার জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২০০ ডলারের জরিমানা প্রযোজ্য হবে তৃতীয় ও পরবর্তী লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে।

 

শুধু নির্দিষ্ট বিন ব্যবহার করলেই হবে না, ট্র্যাশের বিনেরও কিছু শর্ত রয়েছে। ট্র্যাশ রাখার জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ গ্যালনের বিন ব্যবহার করতে হবে এবং বিনের ঢাকনা নিরাপদভাবে বন্ধ থাকতে হবে। বিন উপচে ট্র্যাশ বাইরে পড়ে থাকলেও জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে।

 

বর্তমানে অফিসিয়াল NYC বিন বিভিন্ন আকারে পাওয়া যাচ্ছে। ৪৫ গ্যালনের বিন একাধিক আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ছোট একক পরিবারের বাড়ির জন্য ৩৫ গ্যালনের বিন এবং জায়গা কম থাকা বা কম ট্র্যাশ উৎপাদনকারী বাড়ির জন্য ২৫ গ্যালনের বিনও রয়েছে।

 

তবে রিসাইক্লিং ও কম্পোস্টের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। রিসাইক্লিংয়ের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন কেনা বাধ্যতামূলক নয়। রিসাইক্লিং উপযুক্ত যেকোনো কনটেইনারে অথবা স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা যায়। কম্পোস্টও ঢাকনাযুক্ত ও সঠিকভাবে চিহ্নিত উপযুক্ত বিনে রাখা যাবে।

 

নিউইয়র্ক সিটি বলছে, এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো রাস্তায় পড়ে থাকা কালো ট্র্যাশ ব্যাগ কমানো, জনসাধারণের জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের সমস্যা কমানো। নতুন NYC বিন গুলো ইঁদুর প্রতিরোধী এবং স্যানিটেশন বিভাগের নতুন যান্ত্রিক ট্র্যাশ সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

 

শুধু ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবন নয়, বড় ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থা চালু করছে নিউইয়র্ক সিটি। ৩১ বা তার বেশি আবাসিক ইউনিটের ভবনগুলোতে নির্দিষ্ট এলাকায় এম্পায়ার বিন ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১০ থেকে ৩০ ইউনিটের ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।

 

শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব আবাসিক ট্র্যাশকে ধীরে ধীরে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আবাসিক ভবনের মালিক, ম্যানেজার ও ভাড়াটিয়াদের জন্য নতুন ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনা নিয়ম সম্পর্কে এখন থেকেই সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডার্ক ওয়েবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপুলসংখ্যক রেকর্ড বিক্রির দাবি নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ কোটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁসের দাবি, তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবিকে কেন্দ্র করে তদন্ত করছে এফবিআই। ‘নেক্সাস’ নামে একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসে বিপুলসংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি বিক্রির তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এ তদন্ত শুরু হয়। তবে ১৫ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডের সংখ্যা এখনো সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয় এবং এটিকে ১৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   সাইবার নিরাপত্তা সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবসের পরিচালিত সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রেবসঅনসিকিউরিটির প্রতিবেদনে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম নেক্সাসের বিষয়টি সামনে আসে। মার্কেটপ্লেসটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ড থাকার দাবি করেছিল। এর পাশাপাশি ১ কোটির বেশি পরিচয়পত্র, ৩০ লাখের বেশি ভ্রমণ নথি বা আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র এবং অন্তত ৫ লাখ ৭৯ হাজার মেডিকেল কার্ডের রেকর্ড থাকার দাবিও করা হয়।   এফবিআইয়ের নিউ অরলিন্স কার্যালয় পরে ঘটনাটি তদন্তের কথা নিশ্চিত করেছে। তদন্ত চলমান থাকায় সংস্থাটি ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত পরিমাণ, উৎস বা কতজন মানুষের তথ্য এতে রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।   ঘটনাটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, প্রকাশিত তথ্য শুধু নাম বা পরিচয় নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার দাবি করা হয়নি। প্রতিবেদনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের সামনের ও পেছনের ছবি এবং কিছু ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড ও অতিবেগুনি রশ্মির মাধ্যমে ধারণ করা ছবিসহ পরিচয়পত্রের বিস্তারিত স্ক্যান থাকার কথা বলা হয়েছে। এসব তথ্য পরিচয় চুরি, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ধরনের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ক্রেবসঅনসিকিউরিটির অনুসন্ধানে কিছু রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানের সময় প্রতিবেদক নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ডও নেক্সাসে দেখতে পেয়েছেন। কয়েকটি রেকর্ডের স্ক্যানের সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাস্তব জীবনে পরিচয়পত্র ব্যবহারের সময়ের মিলও পাওয়া যায়। এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ডার্ক ওয়েবে থাকা অন্তত কিছু রেকর্ড বাস্তব এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল।   তদন্তে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সভিত্তিক পরিচয় যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আইডিস্ক্যান ডটনেটের নামও উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্যবসাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, অঙ্গরাজ্যের পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ সরকারি পরিচয়পত্র স্ক্যান ও যাচাইয়ের প্রযুক্তি সরবরাহ করে। তবে নেক্সাসে থাকা সব তথ্যের উৎস আইডিস্ক্যান ডটনেট, এমনটি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।   আইডিস্ক্যান ডটনেট জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঘটনার বিষয়ে তারা তদন্ত করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক অবস্থান অনুযায়ী, তাদের গ্রাহকদের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা কপি করা হয়ে থাকতে পারে কি না এবং হলে এর পরিমাণ কত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনো চূড়ান্তভাবে কতজন গ্রাহক বা ব্যক্তির তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।   নেক্সাসের সাইটটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ডার্ক ওয়েব থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে থাকা তথ্যের অন্য কোনো কপি মুছে গেছে। তথ্য অন্যত্র সংরক্ষিত বা ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।   এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গাড়ি ভাড়া, ব্যাংকিং, ঋণ, চাকরি, বয়স যাচাই কিংবা অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স স্ক্যান করা হয়। ফলে এ ধরনের তথ্য চুরি হলে তা ভবিষ্যতে পরিচয় যাচাইয়ের বিভিন্ন ধাপে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য এমন কোনো সরকারি তালিকা বা অনুসন্ধান ব্যবস্থা চালু হয়নি, যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না তা সরাসরি যাচাই করা যাবে। তাই নেক্সাসের ১৫ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডের দাবি দেখে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে ধরে নেওয়াও ঠিক হবে না।   সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে অচেনা ফোন, ইমেইল বা খুদে বার্তায় ব্যক্তিগত তথ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা ব্যাংকিং তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংক ও ঋণসংক্রান্ত অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন বা নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।   এফবিআইয়ের তদন্ত এবং আইডিস্ক্যান ডটনেটের অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক পর্যালোচনা শেষ হলে ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত উৎস, পরিমাণ এবং কতজন মানুষের তথ্য এতে জড়িত, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আপাতত ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের দাবিটি একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসের দেওয়া সংখ্যা, নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২১:১০
নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল ট্র্যাশ বিন ব্যবহারের নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কে আজ থেকে নির্দিষ্ট ট্র্যাশ বিন বাধ্যতামূলক, না মানলে জরিমানা

মুসলিম পরিচয় ঘিরে আক্রমণের মাঝেও মিশিগান থেকে সিনেটের পথে এগিয়ে আবদুল এল-সাইদ

মুসলিম পরিচয় ঘিরে আক্রমণের মাঝেও মিশিগান থেকে সিনেটের পথে এগিয়ে আবদুল এল-সাইদ

লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন

লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দুই বছরের সন্তানকে ফাঁস দিয়ে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার মা
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দুই বছরের সন্তানকে ফাঁস দিয়ে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন ও লোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির প্রসিকিউটররা। দুই বছরের শিশুপুত্র ব্যারেটকে ফাঁস দিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সী কোরি ওয়ালশ নামের এক নারীকে মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।   প্রসিকিউটরদের দাবি, অভিযুক্ত কোরি ওয়ালশ পূর্বে আলোচিত অপরাধী লিন্ডসে ক্ল্যান্সির কর্মকাণ্ডের প্রতি মানসিকভাবে আচ্ছন্ন ছিলেন। এই নৃশংস ঘটনার সময় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা তার অপর দুই শিশু সন্তান এক বিভীষিকাময় দৃশ্যের মুখোমুখি হয়।   এনবিসি ফাইভ শিকাগোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দুই শিশু ঘরে এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখতে পায় এবং তৎক্ষণাৎ দৌড়ে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে সাহায্য চায়। প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ছাদের বাতা থেকে শিশু ব্যারেটকে নিচে নামান এবং বাঁচানোর জন্য সিপিআর (CPR) প্রয়োগ করেন, তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।   শিশুটিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এরপর ওই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বাড়ির বাথরুমে প্রবেশ করে কোরি ওয়ালশকে নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করতে দেখেন। শুধু তাই নয়, প্রসিকিউটররা আদালতে দাবি করেছেন যে ওয়ালশ এর আগে তার স্বামীকেও বিষ প্রয়োগে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।   আদালতে শুনানির সময় এই লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ শুনে উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। বর্তমানে অভিযুক্ত কোরি ওয়ালশকে পুলিশি হেফাজতে রেখে আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। পারিবারিক কলহ ও মানসিক অবসাদের জেরে এমন নৃশংস ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৮:২
আপনার পরিবারের আয় কত? যুক্তরাষ্ট্রে আপনি কোন আয়ের শ্রেণিতে পড়েন?

আপনার পরিবারের আয় কত? যুক্তরাষ্ট্রে আপনি কোন আয়ের শ্রেণিতে পড়েন?

আইসিইর চাওয়া ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের তথ্য আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্রের আপিল কোর্ট

আইসিইর চাওয়া ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের তথ্য আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্রের আপিল কোর্ট

৯/১১-এর ২৫ বছর পর ট্রাম্পের দাবি, ‘গ্রাউন্ড জিরো থেকে আমাকে উদ্ধার করেছিলেন দমকলকর্মীরা’

৯/১১-এর ২৫ বছর পর ট্রাম্পের দাবি, ‘গ্রাউন্ড জিরো থেকে আমাকে উদ্ধার করেছিলেন দমকলকর্মীরা’

‘দেরি করবেন না, চিকিৎসকের কাছে যান’; প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে বাইডেনের আবেগঘন বার্তা
‘দেরি করবেন না, চিকিৎসকের কাছে যান’; প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে বাইডেনের আবেগঘন বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রোস্টেট ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে একটি আবেগঘন ও ব্যক্তিগত বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় ৮৩ বছর বয়সী এই নেতা পুরুষদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়।   হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর গত বছর তিনি নিজের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার খবরটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছিলেন। বাইডেন জানান, যখন তার ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন তা ইতোমধ্যে হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।   নিজের সফল চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, গত শরতে নেওয়া রেডিয়েশন থেরাপি প্রত্যাশিতভাবেই কাজ করেছে।   চিকিৎসক দলের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও মমতায় মুগ্ধ বাইডেন জানান, তাদের নিরলস সহযোগিতার কারণেই তিনি আগামী নভেম্বরে নির্বাচনের পর প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা নিজের আত্মজীবনীর কাজ শেষ করতে পারছেন।   গত অক্টোবরে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে সেসময় বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন তার বাবার শারীরিক অবস্থাকে 'অত্যন্ত দুর্বল' বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করতে না পারায় হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন জিল বাইডেন। যদিও সাধারণত বাইডেনের বয়সীদের ক্ষেত্রে এই রোগের পরীক্ষা খুব একটা করা হয় না।   নিজের এই কঠিন অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানোর আশা ব্যক্ত করেছেন জো বাইডেন। তিনি সবাইকে দ্বিধা ঝেড়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার এবং নিজেদের ও প্রিয়জনদের খাতিরে স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন।   এদিকে, আগামী শুক্রবার নাইন-ইলেভেন (৯/১১) সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে লোয়ার ম্যানহাটনের গ্রাউন্ড জিরোতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে জো বাইডেনেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৬:১৮
ফ্লোরিডায় প্রেমিকাকে খুন করে হোটেলে আশ্রয়, পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর গ্রেপ্তার ঘাতক

ফ্লোরিডায় প্রেমিকাকে খুন করে হোটেলে আশ্রয়, পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর গ্রেপ্তার ঘাতক

নিউইয়র্কে আফগান শরণার্থীদের জন্য চালু হলো বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি

নিউইয়র্কে আফগান শরণার্থীদের জন্য চালু হলো বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি

মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন

মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন

0 Comments