নিউইয়র্কের গির্জায় আবারও কুরআন ছিঁড়লেন ট্রাম্পের ক্ষমাপ্রাপ্ত জেক ল্যাং
নিউইয়র্কের হারলেম এলাকায় একটি গির্জায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুরআনের একটি কপি ছেঁড়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন অধিকারকর্মী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটিতে জড়িত হিসেবে ডানপন্থী কর্মী জেক ল্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে।
প্রকাশিত ভিডিও ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুষ্ঠানের সময় ল্যাং কুরআনের একটি কপি হাতে নিয়ে সেটি ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তিনি মুসলিমদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বক্তব্যও দেন। তবে ঘটনাটির পূর্ণ ভিডিও, অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং ল্যাংয়ের বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই এখনো সীমিত।
ঘটনাটি নিউইয়র্কের হারলেম এলাকার একটি গির্জায় হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের একটি গির্জার অনুষ্ঠান সম্পর্কেও অনলাইনে তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে জেক ল্যাংয়ের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে।
জেক ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন ছিলেন। পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তিনি প্রায় চার বছর হেফাজতে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির ঘটনায় অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করলে ল্যাংও মুক্তি পান।
কারাগার থেকে মুক্তির পর ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরোধিতা করে সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নেতৃত্বে বা অংশগ্রহণে ইসলামবিরোধী কর্মসূচির খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে মার্চে নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে ল্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি ইসলামবিরোধী সমাবেশকে কেন্দ্র করে পাল্টা বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে দুটি সন্দেহজনক বিস্ফোরক ডিভাইস ছোড়া হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ পরে একটি ডিভাইসকে বিস্ফোরক হিসেবে শনাক্ত করে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেসি ম্যানশনের ওই সমাবেশে ল্যাংয়ের কর্মসূচির মূল বক্তব্য ছিল নিউইয়র্কে কথিত ‘ইসলামিক দখল’ বা ইসলামায়নের বিরোধিতা। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তখন ল্যাংয়ের কর্মসূচিকে বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের সঙ্গে যুক্ত বলে সমালোচনা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি পাল্টা বিক্ষোভে সহিংসতারও নিন্দা জানান।
সাম্প্রতিক হারলেমের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের সীমা নিয়ে বিতর্ক চলছে। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ব্যাপক মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করলেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের।
বিশেষ করে ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার মতো কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন থাকে, অন্যদিকে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে হারলেমের ঘটনাটিও এই বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে এখন পর্যন্ত হারলেমের ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কোনো মামলা বা তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গির্জা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে জেক ল্যাংয়ের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আগস্টে মিশিগানের ডিয়ারবর্নে তার নেতৃত্বে ইসলামবিরোধী সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও সংবাদে এসেছে।
হারলেমের সর্বশেষ ঘটনাটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় গ্রন্থ ছেঁড়ার ঘটনা হিসেবে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কের নতুন একটি উদাহরণ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। তবে ঘটনার আইনগত পরিণতি বা কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে আরও নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
সূত্র: মিশরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মাসরাওয়ি, সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয় এবং অন্যান্য প্রকাশিত প্রতিবেদন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেছেন, তাদের সম্পর্কের সময় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, ‘গৃহযুদ্ধের আগে অনেক সন্তান’ প্রয়োজন। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অ্যালেক্স গিবনির নির্মিত নতুন তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ প্রদর্শনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন। সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, মাস্ক তাকে এ কথা একটি খুদে বার্তায় জানিয়েছিলেন। তবে তিনি ঠিক কোন অর্থে ‘গৃহযুদ্ধের’ কথা বলেছিলেন, সেটি স্পষ্ট নয়। মাস্ক সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করতেন, নাকি এমন ধারণাকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সেন্ট ক্লেয়ার মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ব্যবহারের সমালোচনা করেন। সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, এক্সে মাস্কের বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলছে এবং তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটিতে এমন বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে বড় ধরনের সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব অবশ্য সেন্ট ক্লেয়ারের ব্যক্তিগত মতামত ও অভিযোগ, যার সঙ্গে মাস্ক একমত কি না তা তিনি নিজে এই প্রতিবেদনে কোনো মন্তব্য করেননি। অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার ২০২৪ সালে মাস্কের একটি সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রোমুলাস। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দুজনকে ঘিরে ব্যক্তিগত ও আইনি নানা আলোচনা চলছে। সেন্ট ক্লেয়ার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রোমুলাসের একক হেফাজত চেয়ে মামলা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মাস্কও সন্তানের হেফাজত নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে জানান। সেন্ট ক্লেয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, তিনি দাবি করেছেন, মাস্কের পক্ষ থেকে তাকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটির সঙ্গে এককালীন অর্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি মাসিক অর্থ দেওয়ার বিষয় ছিল। তিনি শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তিতে সই করেননি। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সাংবাদিকদের সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, অর্থের বিনিময়ে নীরব থাকার প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করেন। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের জন্য সত্য বলার সিদ্ধান্তকে তিনি আর্থিক সুবিধার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। এর আগে জুনে ডন লেমন শো পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও সেন্ট ক্লেয়ার একই ধরনের দাবি করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদ ব্যবস্থাপক জ্যারেড বার্চাল তার সঙ্গে গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রথম দিকে মাস্ক তাকে ১৫ লাখ ডলার বাড়ি কেনা ও সঞ্চিত মূলধনের জন্য দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তার সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপে গোপনীয়তা চুক্তির বিষয়টি তোলা হয়। তবে এই দাবিগুলোর বিষয়ে মাস্কের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জবাব পাওয়া যায়নি। সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অর্থের প্রস্তাব কিংবা ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়গুলোকে সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। তিনি বর্তমানে ১৪ সন্তানের বাবা হিসেবে পরিচিত এবং চার নারীর সঙ্গে তার সন্তান রয়েছে বলে তথ্যচিত্রটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ারের সঙ্গে তার সন্তান রোমুলাস ছাড়াও নেভাদা, ভিভিয়ান, গ্রিফিন, কাই, স্যাক্সন, ড্যামিয়ান, এক্স অ্যাশ এ-টুয়েলভ, এক্সা, স্ট্রাইডার, অ্যাজুর, টেকনো, আর্কাডিয়া এবং সেলডন লাইকর্গাসের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। ‘মাস্ক’ তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনি। প্রায় চার ঘণ্টার এই ছবিতে মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসায়িক উত্থান, টেসলা ও স্পেসএক্সসহ তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এবং রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ৮ সেপ্টেম্বর ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। তথ্যচিত্রে সেন্ট ক্লেয়ার ছাড়াও মাস্কের সাবেক স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, তার বাবা এরল মাস্ক, প্রযুক্তি সাংবাদিক জো শিফার, টেসলার সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্টিন এবারহার্ড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ জিওফ্রে হিন্টনের মতো ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার রয়েছে। মাস্ক নিজে তথ্যচিত্রটিতে সাক্ষাৎকার দেননি। নির্মাতা গিবনি জানিয়েছেন, তিনি মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু মাস্ক অংশ নিতে রাজি হননি। মাস্ক এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যচিত্রটিকে ‘হিট পিস’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। অন্যদিকে গিবনি বলেছেন, তিনি মাস্কের প্রযুক্তি, ব্যবসা, রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তথ্যচিত্রটির নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩২ মিনিট। যুক্তরাষ্ট্রে এটি ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে এবং পরে এইচবিও ম্যাক্সে দেখানো হবে। ভেনিসে সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্যের পর মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন, সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং এক্স প্ল্যাটফর্মে তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে গৃহযুদ্ধের আগে ‘অনেক সন্তান’ চাওয়ার বক্তব্যসহ এসব তথ্যের বড় অংশই সেন্ট ক্লেয়ারের বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল। তাই মাস্কের নিজের বক্তব্য বা স্বাধীন প্রমাণ ছাড়া এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে যথাযথ। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, পিপল ও ভ্যারাইটি।
নিউইয়র্কের গির্জায় আবারও কুরআন ছিঁড়লেন ট্রাম্পের ক্ষমাপ্রাপ্ত জেক ল্যাং
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ কোটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁসের দাবি, তদন্তে এফবিআই
নিউ ইয়র্কে আজ থেকে নির্দিষ্ট ট্র্যাশ বিন বাধ্যতামূলক, না মানলে জরিমানা
মিশিগানের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে ঘিরে মুসলিম পরিচয় ও তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ তীব্র হলেও সাম্প্রতিক জরিপে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এল-সাইদ জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন। ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সাইদ কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। প্রাইমারিতে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া স্টিভেনসকে অল্প ব্যবধানে হারান। তার এই জয় জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ নির্বাচনের আগে এল-সাইদের প্রচারণার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের বাইরের অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। প্রাইমারি জয়ের পর এল-সাইদকে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণের বড় একটি অংশ তার মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে চলে আসে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে প্রচারে গিয়ে এল-সাইদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাকে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এল-সাইদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসবাদ ও ৯/১১ হামলার নিন্দা করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার সমর্থক হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও রয়েছে। এসব দাবির কিছু ইতোমধ্যে ফ্যাক্টচেকের মুখে পড়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে এল-সাইদের অবস্থানও রিপাবলিকান ও প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। এল-সাইদ ইসরায়েলের গাজা নীতির কঠোর সমালোচক। তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামোয় অর্থ ব্যয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার এই অবস্থানের কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর বিরোধিতারও মুখে পড়েছেন তিনি। তবে এসব আক্রমণের মধ্যেও সাধারণ নির্বাচনের লড়াইয়ে এল-সাইদের অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। একই জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশে ছিলেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন জরিপে ব্যবধান এক নয়। ফক্স নিউজের আগস্টের জরিপে রজার্স ৫১ শতাংশ এবং এল-সাইদ ৪৭ শতাংশে ছিলেন। পরে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এল-সাইদ আবার এগিয়ে যান। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্সের সাম্প্রতিক গড় হিসাবে এল-সাইদ ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থনে রয়েছেন। ফলে মিশিগানের এই লড়াই এখনো টস-আপ বা অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এল-সাইদের প্রচারণায় মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি দীর্ঘদিন মিশিগানে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন। অন্যদিকে, সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। রিপাবলিকান প্রচারণায় এল-সাইদের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান, স্বাস্থ্যনীতি, করনীতি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী অংশের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। মিশিগানের এই নির্বাচন শুধু একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়। ২০২৬ সালের মিডটার্মে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে চাইছে। ফলে এল-সাইদ ও রজার্সের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এল-সাইদ জয়ী হলে শুধু মিশিগান থেকেই একজন নতুন সিনেটর নির্বাচিত হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে নির্বাচনের এখনও প্রায় দুই মাস বাকি এবং জরিপে ব্যবধান খুব বেশি নয়। মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের মনোভাব শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দুই বছরের সন্তানকে ফাঁস দিয়ে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার মা
আপনার পরিবারের আয় কত? যুক্তরাষ্ট্রে আপনি কোন আয়ের শ্রেণিতে পড়েন?
যুক্তরাষ্ট্রে করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার নীতিতে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ফেডারেল আপিল কোর্ট আইআরএসের এমন একটি নীতি বন্ধ রাখার আগের আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে। ওই নীতির মাধ্যমে আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ থাকা প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের সর্বশেষ ঠিকানা চেয়েছিল। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার করদাতার ঠিকানা আইসিইকে দিয়েছিল। আপিল কোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ বলেছে, তথ্য দেওয়ার যে পদ্ধতি আইআরএস ব্যবহার করেছিল, তা ফেডারেল আইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেনি। আইআরএস ও আইসিইর মধ্যে করা একটি চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে আইসিই করদাতাদের সর্বশেষ জানা ঠিকানা চাওয়া শুরু করে। আইসিইর অনুরোধে এমন ব্যক্তিদের তথ্যও ছিল, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন ছিল। মামলাটি করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ ছিল, করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ফেডারেল আইনে যে কঠোর নিয়ম রয়েছে, আইআরএসের নতুন পদ্ধতিতে তা পাশ কাটানো হয়েছে। আদালতও বলেছে, তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ব্যক্তির তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না। এই রায়ের গুরুত্ব অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক ইমিগ্র্যান্ট নিয়মিত ট্যাক্স ফাইল করেন। ফেডারেল আইনে সাধারণভাবে আইআরএসের কাছে থাকা করদাতার তথ্য গোপন রাখার ওপর কঠোর সুরক্ষা রয়েছে। আপিল কোর্টের সিদ্ধান্ত সেই সুরক্ষার সীমা এবং সরকারের তথ্য ব্যবহারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে আইআরএস কোনো পরিস্থিতিতেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে পারবে না। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে কর সংক্রান্ত কিছু তথ্য শেয়ার করার সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবারের রায়ের মূল বিষয় হলো, আইসিইর জন্য ঠিকানা সংগ্রহ ও শেয়ার করার যে নির্দিষ্ট পদ্ধতি আইআরএস ২০২৫ সালে চালু করেছিল, সেটি ফেডারেল আইন অনুযায়ী বৈধ ছিল না। এখন এই সিদ্ধান্তের পর আইআরএস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। মঙ্গলবারের রায়ের মাধ্যমে আপিল কোর্ট আপাতত ওই তথ্য শেয়ারিং নীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
৯/১১-এর ২৫ বছর পর ট্রাম্পের দাবি, ‘গ্রাউন্ড জিরো থেকে আমাকে উদ্ধার করেছিলেন দমকলকর্মীরা’
‘দেরি করবেন না, চিকিৎসকের কাছে যান’; প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে বাইডেনের আবেগঘন বার্তা