ট্রাম্পের নতুন আইনে ইলিনয়ে মেডিকেইড হারালেন ৯ হাজার ৩০০ অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে নতুন ফেডারেল আইনের কারণে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ অ-নাগরিকের মেডিকেইড স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে গ্রিন কার্ড না থাকা শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচার থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীর ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালে স্বাক্ষর করা এইচআর-১, যা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, তার আওতায় মেডিকেইডের যোগ্যতার নিয়ম বদলানোর ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইলিনয়ের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ জানিয়েছে, যেসব অ-নাগরিক নতুন নিয়মের আওতায় আর পূর্ণ মেডিকেইডের যোগ্য নন, তাদের সর্বশেষ কভারেজের দিন ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। রাজ্য কর্তৃপক্ষ আগেই সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিঠি পাঠিয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে জানিয়েছিল। নতুন নিয়মটি ইলিনয় রাজ্য নিজে থেকে তৈরি করেনি, বরং ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে রাজ্যকে তা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে।
নতুন নিয়মে সব বৈধ অভিবাসী মেডিকেইড হারাচ্ছেন না। ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ মেডিকেইডের আওতায় থাকার জন্য প্রধানত গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী এবং ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের রাখা হয়েছে। এছাড়া ইলিনয়ে বৈধভাবে বসবাসকারী ১৯ বছরের কম বয়সী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য কিছু সুবিধা বহাল রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিরাও সুবিধা পেতে পারেন।
এর ফলে বিশেষ করে এমন অভিবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান থাকলেও এখনো গ্রিন কার্ড হয়নি। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেও সাধারণত নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর থাকার পর এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরা আশ্রয়ের অনুমোদনের এক বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পরও গ্রিন কার্ড পেতে আরও সময় লাগতে পারে।
ইলিনয়ের পরিস্থিতি বোঝাতে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কয়েকটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরেছে। শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে ৬৬ বছর বয়সী তেরেসিতা ভি. মোরালেসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইউগেন কুতার ঘটনা উঠে এসেছে। রোমানিয়া থেকে আসা কুতা ১৫ বছরেরও বেশি আগে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কথা বলার সক্ষমতাও হারান। এরপর থেকে তিনি নার্সিং হোমে বসবাস করছেন এবং তার সার্বক্ষণিক পরিচর্যার খরচ মেটাতে মেডিকেইডের ওপর নির্ভর করছিলেন।
মোরালেস জানান, আগস্টে তার সঙ্গীর কাছে রাজ্য সরকারের পাঠানো একটি চিঠি আসে। সেখানে বলা হয়, তার ‘অ-নাগরিক’ অবস্থানের কারণে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর তিনি আর মেডিকেইডের যোগ্য থাকবেন না। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও নার্সিং হোমের খরচ কীভাবে চালানো হবে, তা নিয়ে এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মোরালেস। ইলিনয় কোয়ালিশন ফর ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটসের স্বাস্থ্যনীতি ও ন্যায়বিচার বিভাগের পরিচালক এডিথ আভিলা হেসার পরিবারটিকে বিষয়টি মোকাবিলায় সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মেডিকেইড হারানোর প্রভাব শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপর নয়, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের ওপরও পড়তে পারে। কুক কাউন্টি হেলথের চিকিৎসক নিম্মি রাজাগোপাল জানিয়েছেন, মেডিকেইড হারাতে যাওয়া কিছু রোগী তাদের নিয়মিত ওষুধ কীভাবে সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কুক কাউন্টিতে ইলিনয়ের মেডিকেইড হারাতে যাওয়া মানুষের ৪০ শতাংশেরও বেশি বসবাস করেন এবং তাদের অনেকেই ইউক্রেনীয় ভাষাভাষী বলে কাউন্টি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। লিগ্যাল কাউন্সিল ফর হেলথ জাস্টিসের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আন্দ্রেয়া কোভাচের মতে, অনেক অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেইডের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছিলেন। কভারেজ বন্ধ হলে এসব সেবায় বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে মেডিকেইড হারানো ব্যক্তিদের জন্য কিছু বিকল্প ব্যবস্থা থাকছে। ফেডারেলভাবে অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো অনেক ক্ষেত্রে বিনা খরচে বা আয় অনুযায়ী কম খরচে চিকিৎসা দিতে পারে। জরুরি অবস্থায় ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেইড’ সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি নিয়মিত চিকিৎসা, প্রেসক্রিপশন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার পূর্ণ বিকল্প নয়। ইলিনয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, শুধু অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইডের যোগ্য না থাকলেও জরুরি চিকিৎসার জন্য এই সুবিধা বহাল থাকবে।
কিছু শরণার্থী মেডিকেইডের বিকল্প হিসেবে ‘রিফিউজি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স’ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচির সুবিধা সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত বা নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি মেডিকেইডের সমতুল্য নিরাপত্তা তৈরি করে না। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাই মেডিকেইড হারানো রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ইলিনয়ের এই পরিবর্তন আসলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেডিকেইড ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রথম ধাপগুলোর একটি। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন ফেডারেল নিয়মে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি বা সিএইচআইপির যোগ্যতা মূলত গ্রিন কার্ডধারী, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী, সিওএফএ দেশের নাগরিক এবং কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তির মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে গ্রিন কার্ড ছাড়া শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিসহ আরও কয়েকটি বৈধ অভিবাসী গোষ্ঠী ফেডারেলভাবে অর্থায়িত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বাদ পড়েছেন।
কেএফএফের হিসাবে, শুধু মেডিকেইড ও সিএইচআইপির যোগ্যতা সীমিত করার বিধানই ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যবিমাহীন করে তুলতে পারে। একই আইনের অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরিবর্তন ধরলে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন বলে কেএফএফের পূর্বাভাস।
ইলিনয়ে এখন নতুন নিয়মের বাস্তব প্রভাব শুরু হলেও বিষয়টি পুরোপুরি এখানেই শেষ নয়। যাদের অভিবাসনগত অবস্থান যাচাই করা নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রাজ্য অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের সময়ও দিতে পারে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও যোগ্য অভিবাসনগত অবস্থান প্রমাণিত হলে তিনি নতুন নিয়ম অনুযায়ী কভারেজ ধরে রাখতে পারেন।
সূত্র: শিকাগো ট্রিবিউন, ইলিনয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ, কেএফএফ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে মাত্র ৩০ ডলারে কেনা একটি পুরোনো চিত্রকর্ম শেষ পর্যন্ত নিলামে বিক্রি হয়েছে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৬ কোটি টাকার বেশি। প্রায় ৭৫ বছর জনসম্মুখের বাইরে থাকা চিত্রকর্মটি মার্কিন শিল্পী গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বির আঁকা ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’। নিউইয়র্কে ফ্রিম্যানসের নিলামে বিক্রির মাধ্যমে এটি শিল্পীর কাজের নতুন বিশ্ব নিলাম রেকর্ডও গড়েছে। ফ্রিম্যানসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সালে আঁকা ছোট আকারের এই চিত্রকর্মটি চলতি বছরের গ্রীষ্মে মিশিগানের একটি এস্টেট সেলে খুঁজে পান এক সংগ্রাহক। পুরোনো রেকর্ড ও মধ্য শতাব্দীর আসবাবপত্র সংগ্রহে আগ্রহী ওই ব্যক্তি বাড়ির একটি অন্ধকার করিডরের কোণে ছবিটি দেখতে পান। ছবিতে ‘অ্যাবারক্রম্বি’ স্বাক্ষর দেখে তাঁর সন্দেহ হয় এটি সাধারণ কোনো চিত্রকর্ম নয়। মাত্র ৩০ ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার টাকায় ছবিটি কিনে নেন তিনি। এরপর ছবিটির প্রকৃত পরিচয় অনুসন্ধান শুরু হয়। গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বির শিল্পকর্ম নিয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীর ক্যাটালগে ১৯৫২ সালের শিকাগো ট্রিবিউনের একটি পুরোনো ছবিতে একই চিত্রকর্মের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে অ্যাবারক্রম্বির কাজ নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞ ড. সুসান ওয়াইনিঙ্গার চিত্রকর্মটির সত্যতা যাচাই করেন। এরপর সেটি নিলামের জন্য ফ্রিম্যানসের কাছে দেওয়া হয়। ফ্রিম্যানস জানিয়েছে, ১ অক্টোবর নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠানটির পোস্ট ওয়ার অ্যান্ড কনটেম্পোরারি আর্ট নিলামে ছবিটি তোলা হয়। নিলামের আগে এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ ডলার। ৮০ হাজার ডলার থেকে দর শুরু হওয়ার পর পাঁচজন ফোন বিডার এবং একাধিক অনলাইন বিডারের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ক্রেতার প্রিমিয়ামসহ চূড়ান্ত দাম দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলার। ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’ ১৯৫১ সালে আঁকেন অ্যাবারক্রম্বি। ছোট আকারের ছবিটিতে বিভিন্ন ধরনের ঝিনুক ও শামুকের খোলস দেখা যায়। এগুলো ছিল তৎকালীন শিকাগো সিটি কাউন্সিল সদস্য রবার্ট মেরিয়ামের সংগ্রহের অংশ। মেরিয়াম ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত শিকাগোর পঞ্চম ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ওই এলাকার অন্তর্ভুক্ত হাইড পার্কেই বসবাস ও কাজ করতেন অ্যাবারক্রম্বি। চিত্রকর্মটির ইতিহাসও বেশ ব্যতিক্রমী। ফ্রিম্যানস ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫২ সালে চিকিৎসাসেবার বিনিময়ে ছবিটি কালামাজুর চিকিৎসক জন রেনল্ডসকে দিয়েছিলেন অ্যাবারক্রম্বি। পরবর্তী কয়েক দশক ছবিটি ওই পরিবারের কাছেই ছিল। দীর্ঘ সময় জনসম্মুখের বাইরে থাকার পর রেনল্ডস পরিবারের এস্টেট সেলেই আবার এটি সামনে আসে। ১৯০৯ সালে জন্ম নেওয়া গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বি শিকাগোর শিল্পজগতে একজন স্বতন্ত্র সুররিয়ালিস্ট শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৭৭ সালে মারা যান। তাঁর কাজ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’-এর নিলামমূল্য আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রিম্যানস জানিয়েছে, এটি অ্যাবারক্রম্বির কোনো চিত্রকর্মের জন্য এখন পর্যন্ত পাওয়া সর্বোচ্চ নিলামমূল্য। মাত্র ৩০ ডলারে একটি এস্টেট সেল থেকে পাওয়া ছবিটি কয়েক মাসের ব্যবধানে ১৩ লাখ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শিল্পবাজারেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন আইনে ইলিনয়ে মেডিকেইড হারালেন ৯ হাজার ৩০০ অভিবাসী
নতুন আইনে মিয়ামির হাজারো কর্মীর মজুরি ঘণ্টায় ২২ ডলার থেকে নামতে পারে ১৫ ডলারে
ট্রাম্পের নতুন আইনে মেডিকেইড সুবিধা হারাতে পারেন হাজারো বৈধ অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) পরিচালক কাশ প্যাটেল দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও কান্ট্রি সংগীতশিল্পী অ্যালেক্সিস উইলকিন্সের সঙ্গে বাগদান করেছেন। রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তারা নিজেদের বাগদানের খবর জানান। উইলকিন্স একটি সাদাকালো ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি প্যাটেলের পাশে দাঁড়িয়ে হাতে পরা আংটি দেখান। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “Went and got the law involved”, যার ভাবার্থ, ‘আইনকেও শেষ পর্যন্ত জড়িয়ে ফেললাম’। প্যাটেলও পরে ছবিটি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। ২৭ বছর বয়সী উইলকিন্স ও ৪৬ বছর বয়সী প্যাটেলের সম্পর্ক শুরু হয় প্যাটেল এফবিআইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই। ২০২৫ সালে এফবিআই পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্যাটেলের শপথ অনুষ্ঠানে উইলকিন্সও উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে। বাগদানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পর্যায়ে পৌঁছাল। অ্যালেক্সিস উইলকিন্স কান্ট্রি সংগীতের পাশাপাশি রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবেও পরিচিত। ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম অ্যালবাম। রক্ষণশীল ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। নিজের ওয়েবসাইটে উইলকিন্স জানিয়েছেন, তিনি কান্ট্রি সংগীতের ঐতিহ্যকে সম্মান করেন এবং এর সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করার চেষ্টা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতিও নজর কেড়েছে। বাগদানের খবর প্রকাশের পর প্যাটেলের সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সরকারি বিমানে তার ভ্রমণ নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন কয়েকটি ভ্রমণে এফবিআইয়ের বিমান ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যেগুলোর সঙ্গে স্পষ্ট কোনো আইনশৃঙ্খলা বা তদন্তসংক্রান্ত দায়িত্বের সম্পর্ক জানা যায়নি। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার স্টেট কলেজে একটি পেশাদার কুস্তি অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনাটিও রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে উইলকিন্স জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে প্যাটেল ও উইলকিন্সকে একসঙ্গে দেখা যায়। একটি ছবিতে উইলকিন্সের হাতে বড় আকারের সোনালি চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্টও দেখা যায়। সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং এ ধরনের ব্যক্তিগত বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে সরকারি বিমানের ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্যাটেল এর আগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। উইলকিন্স চলতি বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’-এও সংগীত পরিবেশন করেন। ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে কয়েকজন শিল্পী পরে নিজেদের সরিয়ে নেন। তাদের কেউ কেউ জানান, অনুষ্ঠানটি দলনিরপেক্ষ জাতীয় উদযাপন হবে বলে তারা ধারণা করেছিলেন। তবে পরে এর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কাশ প্যাটেল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এফবিআই পরিচালক হিসেবে তার ব্যক্তিগত জীবন ও সরকারি কর্মকাণ্ড তাই প্রায়ই জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এবার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা অ্যালেক্সিস উইলকিন্সের সঙ্গে বাগদানের খবরও সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
‘টাকা নয়, শান্তি খুঁজছিলাম’: আড়াই লাখ ডলারের চাকরি ছেড়ে নিউইয়র্কে ক্যাফে দিলেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহবিচ্ছেদের নিয়ম বদলাচ্ছে, গৃহিণীদের জন্য আইনজীবীর সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ডিটেনশন ক্যাম্পে তিন মাস, অবশেষে সন্তানদের কাছে ফিরলেন অভিবাসী মা
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ভেটেরিনারি ক্লিনিক (পশুচিকিৎসালয়) থেকে শত শত ডলারসহ অনুদানের একটি বাক্স চুরির অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির পরদিনই ওই নারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। 'পেটভেট৩৬৫ সাউথ হিলস' নামের ওই ক্লিনিক থেকে চুরি যাওয়া বাক্সটিতে 'ডেইজি ফান্ড'-এর অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছিল, যা মূলত আর্থিক সংকটে থাকা মালিকদের পোষা প্রাণীদের চিকিৎসায় সহায়তা করে থাকে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) প্লেজেন্ট হিলস এলাকার ওই ক্লিনিকে এই চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ওই নারী কাউন্টারের কাছে এসে অনুদানের বাক্সটি হাতে নেন। এরপর বাক্সটির গায়ে লাগানো ডেইজি ফান্ডের ব্যাখ্যামূলক ব্যানারটি খুলে একপাশে সরিয়ে রাখেন এবং বাক্সটি নিজের জ্যাকেটের নিচে লুকিয়ে ক্লিনিক থেকে বীরদর্পে বেরিয়ে যান। ক্লিনিকের অন্যতম মালিক ডা. অ্যাশলে স্মিথ-মিলার জানান, চুরি যাওয়া বাক্সটিতে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার ছিল। বাক্স থেকে ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এর মানে হলো ওই নারী খুব ভালো করেই জানতেন যে তিনি কিসের টাকা চুরি করছেন। এটি আক্ষরিক অর্থেই পেটে লাথি মারার মতো একটি জঘন্য ও ন্যক্কারজনক কাজ।" তবে এই চোরকে ধরতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ঘটনার পরদিন প্লেজেন্ট হিলস এলাকার রাস্তায় এক নারীকে ভিক্ষা করতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয় এবং তারা তাকে ক্লিনিক চুরির সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে। সিবিএস পিটসবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই নারীর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে সম্পদ চুরির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। চুরির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অপরাধীকে ধরতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে ফুটেজটি শেয়ার করেছিল, যদিও তারা তখনো জানত না যে পুলিশ ইতোমধ্যে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। চুরি যাওয়া টাকা এখনো উদ্ধার না হলেও ডা. স্মিথ-মিলার আশা প্রকাশ করেছেন যে, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার মাধ্যমে ডেইজি ফান্ডের বিষয়টি আরও বেশি মানুষের নজরে আসবে এবং অবলা প্রাণীদের চিকিৎসায় নতুন করে আরও অনুদান জমা পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ব্লক পার্টিতে নির্বিচার গোলাগুলি, নিহত ২, আহত ৩৫
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন নীতির জেরে বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো শিশু, বড় হচ্ছে অন্যের হাতে