জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য ফ্লোরিডায় কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় ডেঙ্গু প্রা দু র্ভাব, ভ্রমণে সতর্কতা জারি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ডেঙ্গু প্রা দু র্ভাব দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালে রাজ্যটিতে স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি আ ক্রা ন্ত হয়েছে টাম্পা শহরসহ হিলসবরো কাউন্টি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি কাউন্টিতে ম শা বা হিত রোগের সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ম শা নিয়ন্ত্রণে জোরদার কার্যক্রম চালাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ফ্লোরিডায় যে ডেঙ্গু প্রা দু র্ভাব চলছে, সেটি মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়। উপলব্ধ সরকারি তথ্য ও পুরোনো স্বাস্থ্য রেকর্ড অনুযায়ী, অন্তত ১৯৪০-এর দশকের পর কোনো একটি অঙ্গরাজ্যে এক বছরে এত বেশি স্থানীয় ডেঙ্গু সং ক্র মণ দেখা যায়নি। ফ্লোরিডায় এর আগে ২০২৩ সালে প্রায় ২০০টি স্থানীয় সং ক্র মণ শনাক্ত হয়েছিল।
চলতি বছরের আ ক্রা ন্তদের বড় অংশই হিলসবরো কাউন্টির বাসিন্দা। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শুধু এই কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৯-এ পৌঁছেছিল। এরপর সং ক্র মণ দ্রুত বাড়ে। টাম্পা ও আশপাশের এলাকায় ম শা নিধনে দিনের পাশাপাশি রাতেও স্প্রে করা হচ্ছে। বাড়িঘরের আশপাশে জমে থাকা পানি ও ম শার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত করতেও অভিযান চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, পাশের পাসকো কাউন্টিতেও স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সং ক্র মণ শনাক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সেখানে তৃতীয় স্থানীয় রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ম শা বা হিত রোগের সতর্কতা জারি করা হয়। অরেঞ্জ ও পোলক কাউন্টিতেও স্থানীয় সং ক্র মণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
চলতি বছরের প্রা দু র্ভাবে ফ্লোরিডায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃ ত্যুও নিশ্চিত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, টাম্পার এক বয়স্ক নারী ৪ সেপ্টেম্বর মৃ ত্যু বরণ করেন। ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ পরে মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও রোগীর বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি।
ডেঙ্গু এডিস প্রজাতির সং ক্র মিত ম শার কামড়ে ছড়ায়। এটি একজন আ ক্রা ন্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তির শরীরে সাধারণ যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায় না। সং ক্র মণের পর অনেক মানুষের কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। আবার কারও ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে।
গুরুতর ডেঙ্গুতে র ক্ত ক্ষরণ, র ক্ত চাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া এবং শকের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। ডেঙ্গুতে তীব্র শরীর ও হাড়ের ব্যথা হতে পারে বলে রোগটি অনেক সময় ‘ব্রেকবোন ফিভার’ নামেও পরিচিত।
কেন এবারের প্রা দু র্ভাব টাম্পা এলাকায় এত বড় আকার নিয়েছে, তার একক কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চল থেকে ফ্লোরিডায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক যাতায়াত একটি সম্ভাব্য কারণ। বিদেশে আ ক্রা ন্ত কোনো ব্যক্তিকে ফ্লোরিডার এডিস ম শা কামড়ানোর পর সেই ম শা অন্য মানুষকে কামড়ালে স্থানীয় সং ক্র মণের চক্র শুরু হতে পারে।
চলতি বছর পরিস্থিতির একটি ব্যতিক্রমী দিক হলো, ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত রোগীর সংখ্যা বিদেশ ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী স্থানীয় সং ক্র মণ ছিল ২৫২টি, আর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত সং ক্র মণ ছিল ২৪৫টির মতো।
বিশেষজ্ঞরা ফ্লোরিডার উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়াকেও ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন। এডিস ম শা উষ্ণ পরিবেশে দ্রুত বংশবিস্তার করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বিস্তৃত এলাকায় এ ধরনের ম শার বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও গবেষকেরা সতর্ক করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত ডেঙ্গুর অধিকাংশ ঘটনাই পুয়ের্তো রিকোতে হয়েছে। তবে মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লোরিডার পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী। অতীতে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো উষ্ণ অঙ্গরাজ্যে বিচ্ছিন্ন স্থানীয় সং ক্র মণ দেখা গেলেও এত বড় প্রা দু র্ভাব বিরল।
ফেডারেল পর্যায়েও পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে। সিডিসি ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য বিভাগকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় অর্থসহায়তা দিয়েছে। তবে ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সিডিসির রোগ তদ ন্তকারী দলকে সরাসরি মাঠপর্যায়ে পাঠানোর অনুরোধ করেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফ্লোরিডায় বসবাসকারী এবং রাজ্যটিতে ভ্রমণকারীদের ম শার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ডিইইটি, পিকারিডিন বা অনুমোদিত অন্যান্য উপাদানযুক্ত ম শা প্রতিরোধক ব্যবহারের পাশাপাশি লম্বা হাতার পোশাক ও লম্বা প্যান্ট পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দরজা ও জানালায় স্ক্রিন ব্যবহার এবং সম্ভব হলে এয়ার কন্ডিশনড জায়গায় থাকার কথাও বলা হচ্ছে।
বাড়ির আশপাশে বালতি, ফুলের টব, পোষা প্রাণীর পানির পাত্র, পুরোনো টায়ার কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমে থাকতে না দেওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অল্প পরিমাণ স্থির পানিতেও এডিস ম শা বংশবিস্তার করতে পারে।
ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জ্বর বা ব্যথার জন্য সাধারণত অ্যাসিটামিনোফেন বা প্যারাসিটামল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনের মতো কিছু ওষুধ র ক্ত ক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সেগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সং ক্র মণ নিয়ন্ত্রণে শুধু ম শা নিধন কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়। বাসিন্দাদেরও নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি সরিয়ে ম শার প্রজননস্থল কমাতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে টাম্পা ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী কিংবা সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ম শার কামড় এড়াতে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের কাছে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, খাবার থেকে শুরু করে বাড়ি কেনার খরচ, দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাপ অনুভব করছেন অনেক আমেরিকান। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ভোটারদের বড় বিবেচনা হয়ে উঠেছে কে কীভাবে জীবনযাত্রার খরচ সামলানোর পরিকল্পনা দিচ্ছেন। রয়টার্স ও ইপসসের আগস্টের এক জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসতে দেখা যায়। ৯৫১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে ৩৬ শতাংশ মনে করেন, জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পরিকল্পনা তুলনামূলক ভালো। রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা রেখেছেন ২৮ শতাংশ। তবে ৩৭ শতাংশ ভোটার কোনো দলকেই এগিয়ে রাখেননি অথবা নিশ্চিত কোনো মত দেননি। এই উদ্বেগের পেছনে বড় কারণ মূল্যস্ফীতি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। একই সময়ে খাবারের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এনার্জির দাম ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করছে জ্বালানি। আগস্টে শুধু এক মাসেই গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। আর এক বছর আগের তুলনায় গ্যাসোলিনের মূল্যসূচক বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে যেসব অঙ্গরাজ্যে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা বেশি, সেখানে পাম্পের বাড়তি খরচ সরাসরি পারিবারিক বাজেটে প্রভাব ফেলছে। মিশিগানের ৩১ বছর বয়সী ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস্ট ও হাইস্কুল ফুটবল কোচ জ্যাক ওয়েনের অভিজ্ঞতাও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিশিগানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে দুই থেকে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানো অস্বাভাবিক নয়। তাই গ্যাসের দাম তাঁর মতো ভোটারদের কাছে শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, বরং প্রতিদিনের খরচের বিষয়। প্রার্থীরা গ্যাসের দাম কমানোর বিষয়ে কী পরিকল্পনা দিচ্ছেন, সেটিও তাঁর ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু গ্যাস নয়, বিদ্যুতের বিল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে দ্রুত বাড়তে থাকা এআই ডেটা সেন্টার ভবিষ্যতে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুতের খরচে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন রাজনৈতিক আলোচনাতেও জায়গা পাচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রার্থীরা বড় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত খরচ এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। আবাসন খাতেও স্বস্তি নেই। বাড়ির দাম ও মর্টগেজ রেটের চাপ নতুন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন করে তুলেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা প্রায় সাড়ে ১২ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এর পেছনে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, ব্যয়বহুল মর্টগেজ এবং চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে দুই প্রধান প্রার্থীও আবাসনের খরচ নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা সামনে এনেছেন। রিপাবলিকান মাইক রজার্স ডাউন পেমেন্ট সহায়তা, বাড়ি কেনার খরচ কমানো এবং নতুন বাড়ি নির্মাণে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলছেন। ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ স্থানীয় বিধিনিষেধ সহজ করে বাড়ি নির্মাণ বাড়ানো, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে রেন্ট নির্ধারণে বিধিনিষেধ এবং ডাউন পেমেন্ট সহায়তা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্যারিফও নির্বাচনী অর্থনীতির আলোচনায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আরোপিত বিভিন্ন ট্যারিফ আমদানিনির্ভর ব্যবসার খরচে প্রভাব ফেলেছে। মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স কানাডার ওপর কিছু ট্যারিফের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর যুক্তি, সীমান্তের দুই পাশের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক খাবার ও বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়াতে পারে। তাঁর ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনও ট্যারিফের বিরোধিতা করছেন। তবে অর্থনীতির চিত্র পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে ছিল। কিন্তু চাকরি থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ রয়ে গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিয়োগের গতি কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির একটি অংশ খেয়ে ফেলছে। ফলে অর্থনীতির সামগ্রিক সূচক এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে অর্থনীতি শুধু কর্মসংস্থান বা শেয়ারবাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। গ্যাস স্টেশনে কত ডলার দিতে হচ্ছে, মাস শেষে বিদ্যুতের বিল কত আসছে, গ্রোসারির খরচ কতটা বেড়েছে এবং একটি বাড়ি কেনা কতটা নাগালের মধ্যে আছে, এসব দৈনন্দিন হিসাবই অনেক ভোটারের কাছে অর্থনীতির বাস্তব চেহারা। আগামী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটের ৩৫টি আসন ভোটের মুখোমুখি হচ্ছে। তাই জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা দুই দলের প্রচারেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন দল বা প্রার্থীকে বেছে নেবেন, তা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট হবে।
প্রেস সেক্রেটারি পদ ছাড়ার পর কোথায় যাচ্ছেন ক্যারোলিন লেভিট! মিলল উত্তর
ফিলাডেলফিয়ার বিয়েতে ব্যাটমোবাইল, মার্কেট স্ট্রিটে নজর কাড়লেন নবদম্পতি
মামদানিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই চমক, বিশ্বের ১ নম্বর শহরের স্বীকৃতি পেল নিউইয়র্ক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়েও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া ক্রিস্টা পাইকের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করার দাবি জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও বেঁচে থাকা ৫০ বছর বয়সী পাইক বর্তমানে হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় যে ভয়াবহ শারীরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে, তার পর আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা ন্যায়বিচার হবে না। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। মামলার নথি অনুযায়ী, টেনেসির নক্সভিলে স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। পরের বছর পাইককে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যায় টেনেসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পেন্টোবারবিটালের দুই ডোজ দেওয়ার পরও তাঁর মৃত্যু হয়নি। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ব্যর্থ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে কেন্দ্র করে টেনেসির এক্সিকিউশন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পাইকের আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁর দুই হাত ফুলে ছিল এবং সেখানে পোড়া ও ফোসকার মতো ক্ষত দেখা যায়। পরবর্তী কয়েক দিনেও তিনি জ্ঞান ফিরে পাননি এবং তাঁকে ভেন্টিলেটরের সহায়তায় রাখা হয়েছে। তিনি পুরোপুরি সুস্থ হবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পাইকের আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল টেনেসির গভর্নর বিল লির কাছে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পাইক যে অপরাধ করেছেন সেটি অত্যন্ত গুরুতর, কিন্তু ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। এ অবস্থায় আবার তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করলে তা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বদলে আরও আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করবে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার পর গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন এবং কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন বলেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় রাজ্যের অনুমোদিত প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে এখন বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ ঘটনার পর টেনেসির কারেকশন কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। রাজ্য প্রশাসন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও বিস্তৃত তদন্ত করছে। পাইকের আইনজীবীরা একই সঙ্গে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সম্পর্কিত সব নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণের আবেদন করেছেন। ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা এর আগেও তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁরা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য, শৈশবে নির্যাতনের ইতিহাস এবং হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁর অল্প বয়সের বিষয়টি সামনে আনেন। তবে গভর্নর তাঁর ক্ষমার আবেদন নাকচ করেন এবং শেষ মুহূর্তের আইনি লড়াইয়ের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে যায়। এই মামলায় পাইকের সঙ্গে অভিযুক্ত টাডারিল শিপকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন। ফলে একই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাইকই একমাত্র আসামি যাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পাইক শারীরিকভাবে সুস্থ হলে টেনেসি আবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করবে কি না। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর শারীরিক বা মানসিক অবস্থায় স্থায়ী ক্ষতি হলে ভবিষ্যতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের যোগ্যতা নিয়েও নতুন আইনি লড়াই শুরু হতে পারে। আপাতত তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং গভর্নরের কাছে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করার আবেদন জানিয়ে যাচ্ছে তাঁর আইনি দল।
যুক্তরাষ্ট্রের পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ড ও পেইড অ্যাসিস্ট্যানশিপে উচ্চশিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ
জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য ফ্লোরিডায় কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় ডেঙ্গু প্রা দু র্ভাব, ভ্রমণে সতর্কতা জারি
ব্রাজিলের ভোটকে ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বলে উল্লেখ করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে মাত্র ৩০ ডলারে কেনা একটি পুরোনো চিত্রকর্ম শেষ পর্যন্ত নিলামে বিক্রি হয়েছে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৬ কোটি টাকার বেশি। প্রায় ৭৫ বছর জনসম্মুখের বাইরে থাকা চিত্রকর্মটি মার্কিন শিল্পী গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বির আঁকা ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’। নিউইয়র্কে ফ্রিম্যানসের নিলামে বিক্রির মাধ্যমে এটি শিল্পীর কাজের নতুন বিশ্ব নিলাম রেকর্ডও গড়েছে। ফ্রিম্যানসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সালে আঁকা ছোট আকারের এই চিত্রকর্মটি চলতি বছরের গ্রীষ্মে মিশিগানের একটি এস্টেট সেলে খুঁজে পান এক সংগ্রাহক। পুরোনো রেকর্ড ও মধ্য শতাব্দীর আসবাবপত্র সংগ্রহে আগ্রহী ওই ব্যক্তি বাড়ির একটি অন্ধকার করিডরের কোণে ছবিটি দেখতে পান। ছবিতে ‘অ্যাবারক্রম্বি’ স্বাক্ষর দেখে তাঁর সন্দেহ হয় এটি সাধারণ কোনো চিত্রকর্ম নয়। মাত্র ৩০ ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার টাকায় ছবিটি কিনে নেন তিনি। এরপর ছবিটির প্রকৃত পরিচয় অনুসন্ধান শুরু হয়। গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বির শিল্পকর্ম নিয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীর ক্যাটালগে ১৯৫২ সালের শিকাগো ট্রিবিউনের একটি পুরোনো ছবিতে একই চিত্রকর্মের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে অ্যাবারক্রম্বির কাজ নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞ ড. সুসান ওয়াইনিঙ্গার চিত্রকর্মটির সত্যতা যাচাই করেন। এরপর সেটি নিলামের জন্য ফ্রিম্যানসের কাছে দেওয়া হয়। ফ্রিম্যানস জানিয়েছে, ১ অক্টোবর নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠানটির পোস্ট ওয়ার অ্যান্ড কনটেম্পোরারি আর্ট নিলামে ছবিটি তোলা হয়। নিলামের আগে এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ ডলার। ৮০ হাজার ডলার থেকে দর শুরু হওয়ার পর পাঁচজন ফোন বিডার এবং একাধিক অনলাইন বিডারের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ক্রেতার প্রিমিয়ামসহ চূড়ান্ত দাম দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলার। ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’ ১৯৫১ সালে আঁকেন অ্যাবারক্রম্বি। ছোট আকারের ছবিটিতে বিভিন্ন ধরনের ঝিনুক ও শামুকের খোলস দেখা যায়। এগুলো ছিল তৎকালীন শিকাগো সিটি কাউন্সিল সদস্য রবার্ট মেরিয়ামের সংগ্রহের অংশ। মেরিয়াম ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত শিকাগোর পঞ্চম ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ওই এলাকার অন্তর্ভুক্ত হাইড পার্কেই বসবাস ও কাজ করতেন অ্যাবারক্রম্বি। চিত্রকর্মটির ইতিহাসও বেশ ব্যতিক্রমী। ফ্রিম্যানস ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫২ সালে চিকিৎসাসেবার বিনিময়ে ছবিটি কালামাজুর চিকিৎসক জন রেনল্ডসকে দিয়েছিলেন অ্যাবারক্রম্বি। পরবর্তী কয়েক দশক ছবিটি ওই পরিবারের কাছেই ছিল। দীর্ঘ সময় জনসম্মুখের বাইরে থাকার পর রেনল্ডস পরিবারের এস্টেট সেলেই আবার এটি সামনে আসে। ১৯০৯ সালে জন্ম নেওয়া গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বি শিকাগোর শিল্পজগতে একজন স্বতন্ত্র সুররিয়ালিস্ট শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৭৭ সালে মারা যান। তাঁর কাজ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’-এর নিলামমূল্য আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রিম্যানস জানিয়েছে, এটি অ্যাবারক্রম্বির কোনো চিত্রকর্মের জন্য এখন পর্যন্ত পাওয়া সর্বোচ্চ নিলামমূল্য। মাত্র ৩০ ডলারে একটি এস্টেট সেল থেকে পাওয়া ছবিটি কয়েক মাসের ব্যবধানে ১৩ লাখ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শিল্পবাজারেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন আইনে ইলিনয়ে মেডিকেইড হারালেন ৯ হাজার ৩০০ অভিবাসী
নতুন আইনে মিয়ামির হাজারো কর্মীর মজুরি ঘণ্টায় ২২ ডলার থেকে নামতে পারে ১৫ ডলারে