যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য আইসিইর, নতুন নির্দেশনা
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসী গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়াতে আইসিই এজেন্টদের নতুন মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন আগের তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৈনিক তিন হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করেছে, অভিবাসী গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তাদের কোনো নির্দিষ্ট কোটা নেই।
বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার আইসিই নেতৃত্ব দেশজুড়ে কর্মরত এজেন্টদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের পুরোনো লক্ষ্য আবারও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আইসিই প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সংখ্যা আরও এক হাজার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে মোট ১৯ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে এজেন্টদের।
সিএনএনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে সাধারণত অভিযান কম হয় এবং মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক কমসংখ্যক এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে দৈনিক তিন হাজারের লক্ষ্য থাকলেও সাপ্তাহিক হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার।
সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ডিপোর্টেশনের উদ্দেশ্যে যত বেশি সম্ভব অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করতে এজেন্টদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।
তবে এই নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সিএনএনের প্রতিবেদনে এটিকে আইসিই নেতৃত্বের মৌখিক নির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য এবারই প্রথম সামনে আসেনি। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিইকে একই লক্ষ্য অর্জনের নির্দেশ দিয়েছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিন গ্রেপ্তার করার লক্ষ্য পূরণে সংস্থাটি আগেও সমস্যার মুখে পড়েছে। এবার নতুন করে সেই লক্ষ্য সামনে আসায় আইসিইর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত জুনের শেষ দিকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ জনের কিছু বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছিল আইসিই। ওই সময়ের হিসাবে এটি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা।
নতুন সাপ্তাহিক লক্ষ্য সেই সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা আর বাস্তবে সমসংখ্যক অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা এক বিষয় নয়। ফলে প্রতিদিন তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাস্তবে কতটা অর্জন করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা নিয়ে সিএনএনের প্রশ্নের জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র সরাসরি দাবি করেছেন, আইসিইর কোনো গ্রেপ্তার কোটা নেই।
ওই মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তাঁর দাবি, প্রশাসন আইনসম্মত সব উপায় ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন আইন কার্যকর করছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে।
ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে সিএনএনের সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদন এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক নির্দিষ্ট সংখ্যার লক্ষ্য থাকার কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ডিএইচএস এ ধরনের কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
নতুন নির্দেশনার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ইমিগ্রেশন নীতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির কিছু নেতার মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁদের গ্রেপ্তার ও ডিপোর্টেশনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কৃষি ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর খাতের প্রতিনিধিরাও এর আগে জানিয়েছেন, ব্যাপক ইমিগ্রেশন অভিযানের কারণে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কর্মক্ষেত্রেও প্রভাব পড়েছে।
এদিকে অভিযান বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইসিই তাদের বিভিন্ন অফিসে আটক ব্যক্তিদের রাখার জায়গা সম্প্রসারণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথিতে অভিযান ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব জায়গায় আটক ব্যক্তিদের রাখা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পরিচালনার ব্যবস্থা থাকতে পারে।
তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে আইসিই সম্প্রতি গাড়ি থামিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনায় নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এজেন্টদের গাড়ি থামানোর অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মে আইসিই এজেন্টদের দ্রুতগতিতে গাড়ি ধাওয়া করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামানোর অভিযানকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় সংস্থাটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির জন্য নতুন গ্রেপ্তারের লক্ষ্যের খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যাবে কি না, তা তাঁর নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। দৈনিক গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাড়ানোর খবরের অর্থ এই নয় যে সব অভিবাসী একই ধরনের আইনি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা চলমান থাকা, ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকা, অ্যাসাইলামের আবেদন বিচারাধীন থাকা কিংবা বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনুমোদিত ইমিগ্রেশন লইয়ারের পরামর্শ নেওয়া এবং কোর্টের নোটিশ ও শুনানির তারিখ সম্পর্কে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
সিএনএনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া বিষয় হলো, আইসিই নেতৃত্ব প্রতিদিনের গ্রেপ্তার বাড়ানোর জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু সরকার নির্দিষ্ট গ্রেপ্তার কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর অভিযান বাস্তবে কতটা বাড়বে এবং দৈনিক তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না, তা পরবর্তী সরকারি পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম থেকে পরিষ্কার হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসী গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়াতে আইসিই এজেন্টদের নতুন মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন আগের তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৈনিক তিন হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করেছে, অভিবাসী গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তাদের কোনো নির্দিষ্ট কোটা নেই। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার আইসিই নেতৃত্ব দেশজুড়ে কর্মরত এজেন্টদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের পুরোনো লক্ষ্য আবারও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আইসিই প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সংখ্যা আরও এক হাজার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে মোট ১৯ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে এজেন্টদের। সিএনএনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে সাধারণত অভিযান কম হয় এবং মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক কমসংখ্যক এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে দৈনিক তিন হাজারের লক্ষ্য থাকলেও সাপ্তাহিক হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ডিপোর্টেশনের উদ্দেশ্যে যত বেশি সম্ভব অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করতে এজেন্টদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তবে এই নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সিএনএনের প্রতিবেদনে এটিকে আইসিই নেতৃত্বের মৌখিক নির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য এবারই প্রথম সামনে আসেনি। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিইকে একই লক্ষ্য অর্জনের নির্দেশ দিয়েছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিন গ্রেপ্তার করার লক্ষ্য পূরণে সংস্থাটি আগেও সমস্যার মুখে পড়েছে। এবার নতুন করে সেই লক্ষ্য সামনে আসায় আইসিইর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত জুনের শেষ দিকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ জনের কিছু বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছিল আইসিই। ওই সময়ের হিসাবে এটি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা। নতুন সাপ্তাহিক লক্ষ্য সেই সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা আর বাস্তবে সমসংখ্যক অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা এক বিষয় নয়। ফলে প্রতিদিন তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাস্তবে কতটা অর্জন করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা নিয়ে সিএনএনের প্রশ্নের জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র সরাসরি দাবি করেছেন, আইসিইর কোনো গ্রেপ্তার কোটা নেই। ওই মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আইনসম্মত সব উপায় ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন আইন কার্যকর করছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে সিএনএনের সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদন এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক নির্দিষ্ট সংখ্যার লক্ষ্য থাকার কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ডিএইচএস এ ধরনের কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। নতুন নির্দেশনার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ইমিগ্রেশন নীতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির কিছু নেতার মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁদের গ্রেপ্তার ও ডিপোর্টেশনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কৃষি ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর খাতের প্রতিনিধিরাও এর আগে জানিয়েছেন, ব্যাপক ইমিগ্রেশন অভিযানের কারণে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কর্মক্ষেত্রেও প্রভাব পড়েছে। এদিকে অভিযান বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইসিই তাদের বিভিন্ন অফিসে আটক ব্যক্তিদের রাখার জায়গা সম্প্রসারণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথিতে অভিযান ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব জায়গায় আটক ব্যক্তিদের রাখা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পরিচালনার ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে আইসিই সম্প্রতি গাড়ি থামিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনায় নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এজেন্টদের গাড়ি থামানোর অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মে আইসিই এজেন্টদের দ্রুতগতিতে গাড়ি ধাওয়া করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামানোর অভিযানকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় সংস্থাটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির জন্য নতুন গ্রেপ্তারের লক্ষ্যের খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যাবে কি না, তা তাঁর নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। দৈনিক গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাড়ানোর খবরের অর্থ এই নয় যে সব অভিবাসী একই ধরনের আইনি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা চলমান থাকা, ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকা, অ্যাসাইলামের আবেদন বিচারাধীন থাকা কিংবা বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনুমোদিত ইমিগ্রেশন লইয়ারের পরামর্শ নেওয়া এবং কোর্টের নোটিশ ও শুনানির তারিখ সম্পর্কে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সিএনএনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া বিষয় হলো, আইসিই নেতৃত্ব প্রতিদিনের গ্রেপ্তার বাড়ানোর জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু সরকার নির্দিষ্ট গ্রেপ্তার কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর অভিযান বাস্তবে কতটা বাড়বে এবং দৈনিক তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না, তা পরবর্তী সরকারি পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম থেকে পরিষ্কার হবে।
নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড, জেনে নিন পারমিট থেকে রোড টেস্টের নিয়ম
ফ্লাইট দেরি, বাতিল আর দীর্ঘ যাত্রাপথে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ যে বিমানবন্দর
ব্যঙ্গ করে ‘মোহাম্মদ’ নামে আবদুল এল-সাইয়েদকে সম্বোধন ট্রাম্পের, সঙ্গে দিলেন ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ তকমাও
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জেডি ভ্যান্সের উত্থানের গল্প অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। ওহাইওর মিডলটাউনে আর্থিক সংকট ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এই রাজনীতিকের শৈশব কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। তাঁর মা মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করেছেন। আর বাবার অনুপস্থিতিতে জীবনের বড় একটি সময় দাদা-দাদির সান্নিধ্যেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। শৈশবের সেই অভিজ্ঞতাগুলোই পরে তাঁর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলিজি’র অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। জেডি ভ্যান্সের পুরো নাম জেমস ডেভিড ভ্যান্স। ১৯৮৪ সালের ২ আগস্ট ওহাইওর মিডলটাউনে তাঁর জন্ম। একসময় শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের জন্য পরিচিত ছিল শহরটি। তবে সময়ের সঙ্গে সেখানে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে ভ্যান্সের পরিবারেও। মায়ের আসক্তি ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড় স্থিরতার জায়গা হয়ে ওঠেন দাদা-দাদি। বিশেষ করে তাঁর দাদি, যাকে ভ্যান্স ‘মামাও’ নামে উল্লেখ করেছেন, তাঁর বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। উচ্চবিদ্যালয় শেষ করে ভ্যান্স সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে যোগ দেন। প্রায় চার বছর সামরিক বাহিনীতে কাজ করেন তিনি এবং ইরাকেও দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক জীবন শেষ করার পর উচ্চশিক্ষায় মন দেন ভ্যান্স। ভর্তি হন ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে দর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইয়েল ল স্কুল। ইয়েলে পড়ার সময় ভ্যান্সের জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হয়। সেখানে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় উষা ভ্যান্সের। ২০১৩ সালে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। পরে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতেও কাজ করেন। একই সময়ে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং আমেরিকার শ্রমজীবী মানুষের জীবন নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। ২০১৬ সালে প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলিজি’ তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়। বইটিতে ওহাইও ও অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলের শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং সামাজিক পরিবর্তনের নানা দিক তুলে ধরেন ভ্যান্স। বইটি দ্রুত বেস্টসেলার হয়ে ওঠে। পরে ২০২০ সালে এটি চলচ্চিত্রেও রূপ নেয়। লেখক ও বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন ভ্যান্স। ২০২২ সালে ওহাইও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হন তিনি। এর মাত্র দুই বছর পর, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে রিপাবলিকান দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেছে নেন। সে সময় ভ্যান্সের বয়স ছিল ৩৯ বছর। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটি জয়ী হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ৪০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন জেডি ভ্যান্স। এর মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এক তরুণের জীবনে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। ভ্যান্সের জীবনকে অনেকেই ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। কারণ তাঁর জীবনের পথচলায় রয়েছে কঠিন শৈশব, মেরিন কোরে কাজ, উচ্চশিক্ষা, ইয়েল ল স্কুল থেকে ডিগ্রি, লেখালেখি, ব্যবসা এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান। তবে তাঁর গল্পকে শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। দাদা-দাদির সহায়তা, শিক্ষা এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া সুযোগও তাঁর এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আজ জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া জীবন থেকে মেরিন কোর, ইয়েল ল স্কুল, লেখালেখি, ব্যবসা ও সিনেট হয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে পৌঁছানো তাঁর যাত্রা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।
স্ত্রী মেলানিয়া তাকে ‘স্যার’ বলে ডাকেন, টেক্সাসের সমাবেশে জানালেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের ৯০ ডলারের মেডিকেয়ার সহায়তা বিতরণ শুরু, বাদ পড়ছেন লাখো সুবিধাভোগী
‘মেয়েকে হয়তো ঘরে নিতে পারব না’, শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েননি চার সন্তানের মা
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ইউনিয়ন স্কয়ারে ৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে বিক্ষোভ হয়েছে। বুধবার রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে একদল বিক্ষোভকারী তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান থেকে মামদানির কাছে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান। ‘ইসরায়েলিজ ফর পিস’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে ইউনিয়ন স্কয়ারে ওই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় নিহত ইসরায়েলি ও ইহুদি ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরবর্তী সংঘাতে নিহত ফিলিস্তিনিদেরও স্মরণ করা হয় অনুষ্ঠানে। মোমবাতি হাতে অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েছিলেন মামদানি। এ সময় সিটি হল এলাকা থেকে মিছিল করে আসা একদল বিক্ষোভকারী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে তাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ মামদানিকে ‘কাপুরুষ’ বলে স্লোগান দেন এবং তাকে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। ‘মেয়র মামদানি, অবস্থান নিন’ এবং ‘আপনার জন্য লজ্জা’ ধরনের স্লোগানও শোনা যায়। কেফিয়াহ পরা কিছু বিক্ষোভকারী স্মরণসভায় ঢুকে পড়ার পর সেখানে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে মামদানি পুরো সময়ই শান্ত ছিলেন এবং সাবেক নিউইয়র্ক সিটি কন্ট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারের পাশে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যান। এই বিক্ষোভের আগে নিউইয়র্ক সিটি হলের সামনেও একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফিলিস্তিন ইস্যুতে মামদানির অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে একই দিনে ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে স্মরণসভা, বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণেও বিভিন্ন কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কে এবারের কর্মসূচিগুলো আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল। তৃতীয় বার্ষিকীতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মামদানি নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি গাজায় পরবর্তী মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। মামদানির ওই বিবৃতিতে তিনি ৭ অক্টোবরের ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে হামলায় নিহত ইসরায়েলিদের জন্য শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেন এবং ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর কথা তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে নিউইয়র্কের ইহুদি ও ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ইউনিয়ন স্কয়ারের স্মরণসভায় একই জায়গায় ইসরায়েলপন্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন পক্ষের উপস্থিতি থাকায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গথামিস্ট জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন স্কয়ারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল এবং দুই পক্ষের সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হন। পরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ স্মরণসভায় গিয়ে প্রতিবাদ জানায়। মেয়র মামদানি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থান নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে আছে। ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীতে তার দেওয়া বক্তব্য এবং ইউনিয়ন স্কয়ারের স্মরণসভায় অংশগ্রহণ সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বুধবারের স্মরণসভায় মামদানিকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ হলেও অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত চলতে থাকে। ৭ অক্টোবরের হামলা ও পরবর্তী ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ঘিরে নিউইয়র্কে মতপার্থক্য ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। একই দিনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ হামলায় নিহতদের স্মরণ, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি এবং সংঘাতের অবসানের দাবি জানিয়েছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়, এবিসি৭ নিউইয়র্ক
পাঁচ আয়া থাকলেও সন্তানদের ঘুম পাড়ানো থেকে স্কুলে নেওয়া, সবই করেন কিম কার্দাশিয়ান
গ্রাহকদের ২০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে অ্যামাজন, কারা পাবেন এই অর্থ