ঘরে বসে অ্যামাজনে ব্যবসা, আমেরিকায় মাসে ৫০০০ ডলার পর্যন্ত আয়ের নতুন সুযোগ
নিউইয়র্কে সন্তান সামলানোর পাশাপাশি ঘরে বসে আয় করতে চান অনেক বাংলাদেশি মা। তাঁদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি মাধ্যম হতে পারে অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন। নিজের পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে অন্যের পণ্য প্রচারের মাধ্যমে কমিশন আয়, ঘরে বসেই এসব ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে মাত্র ৩০ দিনে ৫ হাজার ডলার আয়ের নানা গল্প। কিন্তু বাস্তবে অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করা কতটা সহজ, কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের আয়ের সম্ভাবনাই বা কতটুকু?
অ্যামাজনের মাধ্যমে ব্যবসার অন্যতম পরিচিত পদ্ধতি হলো ফুলফিলমেন্ট বাই অ্যামাজন বা এফবিএ। এই ব্যবস্থায় উদ্যোক্তা নিজে পণ্য সংগ্রহ করে অ্যামাজনের ওয়্যারহাউসে পাঠান। ক্রেতারা অর্ডার করলে পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকিং, ডেলিভারি এবং সংশ্লিষ্ট অনেক গ্রাহকসেবার দায়িত্ব সামলায় অ্যামাজন।
ফলে যাঁরা চাকরি বা সংসারের ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন পণ্য প্যাকিং ও শিপিং করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি সুবিধাজনক হতে পারে। তবে ওয়্যারহাউসে পণ্য পাঠিয়ে দিলেই ব্যবসা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পণ্য নির্বাচন, দাম নির্ধারণ, প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞাপন এবং গ্রাহকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে বিক্রি।
অন্য একটি পদ্ধতি হলো ফুলফিলমেন্ট বাই মার্চেন্ট বা এফবিএম। এখানে উদ্যোক্তা নিজেই পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকিং ও ডেলিভারির ব্যবস্থা করেন। ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে এই পদ্ধতি বিবেচনা করা যায়। তবে অর্ডার বাড়লে প্যাকিং, শিপিং ও রিটার্ন সামলানোর চাপও বাড়তে পারে।
নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে রিটেইল আরবিট্রাজ এবং অনলাইন আরবিট্রাজও পরিচিত। এসব পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম দামে বৈধভাবে সংগ্রহ করা পণ্য অ্যামাজনে পুনরায় বিক্রির চেষ্টা করা হয়। তবে সব ব্র্যান্ড বা পণ্য অবাধে বিক্রির অনুমতি নেই। কিছু পণ্যের জন্য অ্যামাজনের অনুমোদন, গ্রহণযোগ্য সাপ্লায়ারের ইনভয়েস এবং নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলতে হয়।
তৃতীয় আরেকটি সুযোগ হলো অ্যামাজন ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম। এটি সরাসরি পণ্য কেনাবেচার ব্যবসা থেকে আলাদা। এখানে যোগ্য কনটেন্ট ক্রিয়েটররা পণ্য সম্পর্কে ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কমিশন আয় করতে পারেন। তবে প্রোগ্রামে অনুমোদন পাওয়া, কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার ওপর আয় নির্ভর করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু উদ্যোক্তার বছরে এক লাখ ডলার বা তার বেশি আয়ের গল্প প্রচার করা হয়। আবার সন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে অবসর সময়ে কাজ করে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা গড়ে তোলার দাবিও বিভিন্ন উদ্যোক্তা বিষয়ক কনটেন্টে দেখা যায়। কিন্তু এসব ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্পকে নতুন উদ্যোক্তাদের সাধারণ আয়ের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মায়েরা অ্যামাজনে ব্যবসা করে নিয়মিত কত আয় করছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কমিউনিটিভিত্তিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের মধ্যে কতজন ইতিমধ্যে এই ব্যবসায় সফল হয়েছেন বা মাসে কত আয় করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
অনলাইন ব্যবসা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান জাঙ্গল স্কাউটের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে অ্যামাজন বিক্রেতাদের আয় ও বিনিয়োগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে অংশ নেওয়া বিক্রেতাদের ২৫ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা এক হাজার ডলারের কম অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আর ৬৪ শতাংশ বিক্রেতার প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল পাঁচ হাজার ডলারের কম।
অর্থাৎ অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করতে প্রত্যেকের তিন হাজার থেকে দশ হাজার ডলার বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। তবে নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য তৈরি, বড় পরিসরে ইনভেন্টরি কেনা এবং বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
একই জরিপে ৫৮ শতাংশ বিক্রেতা জানিয়েছেন, ব্যবসা শুরুর প্রথম বছরের মধ্যে তাঁরা লাভের মুখ দেখেছেন। অন্যদিকে ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যবসা তখনো লাভজনক হয়নি। জরিপের এই ফলাফল নতুন উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ আয়ের নিশ্চয়তা দেয় না।
জাঙ্গল স্কাউটের ২০২৫ সালের গবেষণাতেও অ্যামাজন ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ব্যবসার প্রতিনিধিরা পণ্য সংগ্রহ, শিপিং এবং বিজ্ঞাপনের খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে শুধু বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো নয়, ব্যবসার প্রকৃত লাভ হিসাব করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে ৩০ দিনে পাঁচ হাজার ডলার আয়ের প্রচারণা কতটা বাস্তবসম্মত? বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যামাজনে এত পরিমাণ বিক্রি করা সম্ভব হলেও নতুন একজন বিক্রেতার প্রথম মাসেই এই অঙ্কের লাভ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখানে বিক্রি ও লাভের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো উদ্যোক্তা এক মাসে পাঁচ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করলে সেই পুরো অর্থ তাঁর আয় বা লাভ নয়। পণ্য কেনার দাম, অ্যামাজনের ফি, শিপিং, বিজ্ঞাপন, রিটার্ন এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, সেটিই ব্যবসার প্রকৃত লাভ।
অ্যামাজনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রেতাদের জন্য দুটি প্রধান সেলিং প্ল্যান রয়েছে। ইন্ডিভিজুয়াল প্ল্যানে প্রতি পণ্য বিক্রিতে ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হয়। অন্যদিকে প্রফেশনাল প্ল্যানে মাসিক চার্জ ৩৯ ডলার ৯৯ সেন্ট। এর বাইরে পণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী রেফারেল ফি এবং এফবিএ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত খরচ প্রযোজ্য হতে পারে।
কোন পণ্য বিক্রি করবেন, সেটিও ব্যবসা শুরুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। হিজাব, বেবি প্রোডাক্ট, কিচেন গ্যাজেট কিংবা ফোন অ্যাকসেসরিজের মতো পণ্য নিয়ে উদ্যোক্তারা বাজার যাচাই করতে পারেন। তবে এসব ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা, পণ্যের মান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পর্কে আগে জানা জরুরি।
বিশেষ করে শিশুদের ব্যবহার্য পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন প্রযোজ্য হতে পারে। আবার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অ্যামাজনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে। তাই শুধু কম দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেই বড় অর্ডার দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবসা নিবন্ধন ও ট্যাক্স সংক্রান্ত নিয়ম। অ্যামাজনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেলার অ্যাকাউন্ট খুলতে এলএলসি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত পরিচয়েও অ্যামাজনে সেলার হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
তবে এলএলসি ছাড়া অ্যামাজন অ্যাকাউন্ট খোলা এবং নিউইয়র্কে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, অনুমতি ও ট্যাক্স সংক্রান্ত দায়িত্ব আলাদা হতে পারে।
নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের নিয়ম অনুযায়ী, বাসা থেকে করযোগ্য পণ্য বিক্রি করলেও সাধারণভাবে সেলস ট্যাক্সের জন্য নিবন্ধন প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি শুধু অ্যামাজনের মতো মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বিক্রি করলেও নিউইয়র্কভিত্তিক বিক্রেতাদের জন্য সার্টিফিকেট অব অথরিটি প্রয়োজন হতে পারে।
অ্যামাজন নির্দিষ্ট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে সেলস ট্যাক্স সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করলেও বিক্রেতার নিজস্ব নিবন্ধন ও ট্যাক্স রিটার্ন সংক্রান্ত দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না।
অ্যামাজন সেলার অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রযোজ্য ট্যাক্স তথ্য দিতে হয়। ব্যবসার কাঠামো অনুযায়ী ইআইএন প্রয়োজন হতে পারে, তবে প্রত্যেক ব্যক্তিগত বিক্রেতার জন্য আলাদা ইআইএন বাধ্যতামূলক নয়।
যাঁরা নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করতে চান, তাঁদের জন্য ট্রেডমার্ক এবং অ্যামাজন ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সাধারণভাবে পণ্য বিক্রির জন্য ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক নয়। ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রিতে যোগ দেওয়ার জন্য অ্যামাজনের নির্ধারিত ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।
ব্যবসা শুরু করার আগে পণ্যের বাজারদর, প্রতিযোগী বিক্রেতা, সম্ভাব্য লাভ এবং অ্যামাজনের বিভিন্ন ফি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন নতুন উদ্যোক্তারা। এ ক্ষেত্রে জাঙ্গল স্কাউটের মতো প্রোডাক্ট রিসার্চ টুল ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি অ্যামাজনের নিজস্ব রেভিনিউ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সম্ভাব্য খরচ ও আয়ের একটি হিসাবও করা সম্ভব।
তবে এসব টুলের পূর্বাভাস নিশ্চিত বিক্রির নিশ্চয়তা দেয় না। নতুন পণ্যের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে ইনভেন্টরি অবিক্রীত থেকে যেতে পারে। আবার বিজ্ঞাপনের খরচ বেড়ে গেলে ভালো বিক্রির পরও লাভ কমে যেতে পারে।
অনলাইন ব্যবসা নিয়ে ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভিডিও এবং দ্রুত আয়ের প্রচারণা দেখা যায়। কোনো কোনো কনটেন্টে তিন মাসে দশ হাজার ডলার বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব ভিডিও ব্যবসার প্রাথমিক ধারণা দিতে পারলেও এগুলোকে নিশ্চিত আয়ের পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বেশি দামে কোর্স কেনা বা ঋণ নিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য সংগ্রহের আগে ব্যবসার প্রকৃত খরচ ও ঝুঁকি যাচাই করা প্রয়োজন।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মায়েদের জন্য ঘরে বসে অ্যামাজনভিত্তিক ব্যবসা একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প আয়ের পথ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সংসার ও সন্তান সামলানোর পাশাপাশি নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য ছোট পরিসরে শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
তবে ব্যবসার জন্য পর্যাপ্ত সময়, প্রাথমিক বিনিয়োগ, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং নিয়মিত হিসাব রাখার সক্ষমতা প্রয়োজন। সন্তান ঘুমিয়ে থাকার কয়েক ঘণ্টা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হলেও ব্যবসার দায়িত্ব কেবল ওই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
সব মিলিয়ে অ্যামাজনে ৩০ দিনে পাঁচ হাজার ডলার আয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু এটিকে সাধারণ বা নিশ্চিত উপার্জন হিসেবে প্রচার করারও ভিত্তি নেই। বরং বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ, সঠিক পণ্য নির্বাচন, অ্যামাজনের নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং আয়ব্যয়ের হিসাব রাখাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যাঁরা এ ধরনের ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য অ্যামাজন সেলার সেন্ট্রালের নির্দেশনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একজন সিপিএ বা ব্যবসা বিষয়ক পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া কার্যকর হতে পারে। কারণ অনলাইন ব্যবসায় সফল হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রথম মাস থেকেই নিয়মিত আয় বা মুনাফা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউ জার্সির কর্মজীবী ও নিয়মিত ট্রেনযাত্রীদের জন্য আবারও উদ্বেগের খবর এসেছে। ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিউ জার্সি ট্রানজিট মোট ১ হাজার ৭১৫টি ট্রেন বাতিল করেছে। গত বছরের একই সময়ে বাতিল হয়েছিল ১ হাজার ৬৪৬টি ট্রেন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাতিলের সংখ্যা আরও বেড়েছে। নিউ জার্সি মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের গ্রীষ্মে অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং শক্তিশালী ঝড় ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জুলাই মাসে প্রচণ্ড গরম ও ঝড়ের কারণে বাতিল ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে যায়। শুধু আবহাওয়াই নয়, পুরোনো ট্রেন ও যন্ত্রপাতিও সমস্যার বড় কারণ। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ৪৫৯টি ট্রেন চলেনি। যদিও এই সংখ্যা গত বছরের ৬৩৪টির তুলনায় কম, তবু পুরোনো রেল বহর নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সি ট্রানজিটের কিছু ট্রেন কয়েক দশক ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু ট্রেন প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলাচল করছে। পুরোনো ট্রেনের যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন হওয়ায় মেরামতের কাজও অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে। চরম গরমের সময় রেললাইনের বিভিন্ন অবকাঠামো ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার শক্তিশালী ঝড়ে গাছ পড়ে রেললাইন ও বিদ্যুৎ সরবরাহের তার ক্ষতিগ্রস্ত হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। এবারের গ্রীষ্মে আবহাওয়াজনিত কারণে ৬৫৭টি ট্রেন বাতিল হয়েছে। গত বছর একই ধরনের কারণে বাতিল হয়েছিল ২৮৮টি ট্রেন। চলতি বছরের এই সংখ্যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বেশি। আমট্রাকের সমস্যাও কিছু ক্ষেত্রে নিউ জার্সি ট্রানজিটের ওপর প্রভাব ফেলেছে। নিউ জার্সি ট্রানজিটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট আমট্রাকের মালিকানাধীন রেলপথ ও অবকাঠামো ব্যবহার করে। অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুৎ সরবরাহের তারে সমস্যা হলে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। কর্মী সংকটও আরেকটি বিষয়। বিশেষ করে ট্রেন চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে দীর্ঘ সময় লাগে। নতুন একজন চালককে পুরোপুরি প্রশিক্ষিত করতে প্রায় ২০ মাস সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবসর নেওয়া কর্মীদের জায়গায় নতুন কর্মী দ্রুত তৈরি করা তাই সহজ নয়। নিউ জার্সি ট্রানজিট অবশ্য পুরোনো ট্রেনের সমস্যা সমাধানে নতুন ট্রেন কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সংস্থাটি মোট ৩৭৪টি নতুন বহুতল ট্রেনের বগি কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রথম নতুন ট্রেন চলতি বছর চালু করার প্রত্যাশা রয়েছে। নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় পরিবারের জন্য এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। যারা প্রতিদিন ট্রেনে নিউইয়র্ক, জার্সি সিটি বা আশপাশের কর্মস্থলে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য ট্রেন বাতিল বা বিলম্ব মানে কর্মস্থলে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় এবং বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ। বর্তমানে নিউ জার্সি ট্রানজিটের বিভিন্ন রেলপথ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে বলে সংস্থার বর্তমান পরিষেবা তথ্য জানাচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট দিনে নির্মাণকাজ বা অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে কিছু রুটে পরিবর্তন থাকতে পারে। তাই নিয়মিত ট্রেনযাত্রীদের যাত্রার আগে পরিষেবার সর্বশেষ অবস্থা দেখে বের হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছানো জরুরি হলে বিকল্প ট্রেন বা বাসের ব্যবস্থা আগে থেকে জানা থাকলে ভোগান্তি কমানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বাড়ায় গ্যাসের খরচ বাড়ার আশঙ্কা, চাপে নিউইয়র্কবাসী
ঘরে বসে অ্যামাজনে ব্যবসা, আমেরিকায় মাসে ৫০০০ ডলার পর্যন্ত আয়ের নতুন সুযোগ
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের মাস্টার্স ও পিএইচডিতে ফান্ডিং, বছরে ৩৩ হাজার ডলার
নিউ জার্সির এনগেলউডে বৃহস্পতিবার ভোরে একটি এনজে ট্রানজিট বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাড়িতে ধাক্কা দিয়েছে। দুর্ঘটনায় বাসটির চালক আহত হয়েছেন এবং তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল প্রায় ৫টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। ১৬৬ নম্বর রুটের বাসটি ওরাডেল গ্যারেজ থেকে বের হয়ে দিনের যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন বাসটি রাস্তায় থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাড়িটির দিকে চলে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসে কোনো যাত্রী ছিলেন না। ফলে যাত্রীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাসটি বাড়ির সামনের অংশে গিয়ে আঘাত করে এবং ঘটনাস্থলে জরুরি বিভাগের কর্মীরা ছুটে যান। চালকের আঘাত কতটা গুরুতর, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। বাড়িটির ভেতরে কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এনগেলউড পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। কেন বাসটি রাস্তা ছেড়ে বাড়ির দিকে চলে গেল, সেটি তদন্তের পর পরিষ্কার হবে।
গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ
নিউইয়র্কে বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড পাবেন যেখানে, জেনে নিন যোগাযোগ ও আবেদনের নিয়ম
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন
নিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ানসহ একাধিক পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এসব চাকরির মধ্যে কয়েকটিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পরিবর্তে নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের আবেদনের শেষ সময় ১৩ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির পোর্টাল স্টেটজবসএনওয়াইতে ৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুকলিনে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ম্যানহাটনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ। দুটি পদই এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির আওতাভুক্ত। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষায় আবেদন গ্রহণ চলছে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ব্রুকলিনে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ নিউইয়র্ক স্টেটের ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্রুকলিনের কিংস কাউন্টিতে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ পদে নিয়োগ দিচ্ছে। এই পদের ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৯০ এবং স্যালারি গ্রেড ৬। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বার্ষিক বেতন ৩৭ হাজার ৮৬২ থেকে ৪৬ হাজার ৮৪৩ ডলার। এটি একটি ফুলটাইম স্থায়ী পদ। সপ্তাহে সাড়ে ৩৭ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং নিয়মিত কর্মদিবস সোমবার থেকে শুক্রবার। পদটিতে নির্বাচিত কর্মীকে অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন ডকুমেন্ট যাচাই, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সহায়তার কাজ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর। আবেদনের শেষ সময় ২২ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন করার সময় ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৯০ ব্যবহার করে সরকারি পোর্টালে পদের বিস্তারিত যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি দেখে নিতে হবে। ম্যানহাটনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সুযোগ নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ অথবা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনি পদে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এই পদের ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৮৫। কর্মস্থল নিউইয়র্ক কাউন্টি, অর্থাৎ ম্যানহাটন। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর এবং আবেদনের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির আওতায় থাকা এই পদে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে ট্রেইনি পর্যায় থেকেও নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে ট্রেইনি হিসেবে আবেদন করতে পারা মানেই কোনো অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই চাকরি পাওয়া যাবে, এমন নয়। আবেদনকারীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে হবে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্টে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনও চলমান রয়েছে। এই পদে কর্মরত ব্যক্তিরা ৯১১ ইমার্জেন্সি কল গ্রহণ, জরুরি সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরীক্ষার নম্বর ৭৩০৭। প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৫১ হাজার ৭৯০ ডলার। আবেদনের শেষ সময় ১৩ অক্টোবর ২০২৬ এবং লিখিত পরীক্ষার কার্যক্রম ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরীক্ষার আবেদন ফি ৬৮ ডলার। তবে বেকার ব্যক্তি, নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত আবেদনকারী এবং যোগ্য অন্য কিছু শ্রেণির প্রার্থীদের ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এই পদে রাতের শিফট, সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে কাজের সময়সূচি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ নিউইয়র্ক স্টেটের এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির অন্যতম সুবিধা হলো, অন্তর্ভুক্ত পদগুলোতে সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পাওয়া যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল সার্ভিস জানিয়েছে, এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা পূরণকারী ব্যক্তিদের স্থায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ইন্টারভিউ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ থাকলেও চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের বার্ষিক বেতন ৪২ হাজার ২০৯ থেকে ৬১ হাজার ৭৬ ডলার। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনি ১ পদে আবেদন করতে অন্তত ছয় মাসের প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ট্রেইনি ২ পদের জন্য এক বছর এবং পূর্ণাঙ্গ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ পদের জন্য দুই বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট বিষয়ে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি বা স্বীকৃত সার্টিফিকেশন থাকলে অভিজ্ঞতার শর্তে বিকল্প যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এই পদের কাজের মধ্যে রয়েছে আইনি নথি ব্যবস্থাপনা, অফিসের প্রশাসনিক সহায়তা, ডেটা এন্ট্রি, রিপোর্ট প্রস্তুত এবং অ্যাটর্নিদের প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কাজে সহযোগিতা করা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা স্পনসর করবে না। বেসরকারি খাতেও চাকরির বিজ্ঞপ্তি সরকারি চাকরির পাশাপাশি নিউইয়র্কের বেসরকারি খাতেও বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। চাকরির প্ল্যাটফর্ম জব টুডের একটি সংকলনে ম্যানহাটনে ১৬১টি ক্যারিয়ার জব এবং নিউইয়র্ক স্টেটে ১৮৯টি চাকরির বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলো ৮ অক্টোবর নতুন প্রকাশিত স্বতন্ত্র শূন্যপদের সংখ্যা হিসেবে নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের এক্সিকিউটিভ শেফ পদে বছরে ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ডলার বেতনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বোনাসের সুযোগের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার বর্তমান বিজ্ঞপ্তি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই পদটি এখনো আবেদন গ্রহণ করছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসে স্টাফ নার্স নিয়োগের তথ্যও রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পদের নির্দিষ্ট আবেদনসীমা, বেতন ও যোগ্যতার শর্ত নিশ্চিত না হওয়ায় আগ্রহীদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টালে বিজ্ঞপ্তি যাচাই করতে হবে। আবেদন করবেন যেভাবে নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের চাকরিতে আবেদন করতে স্টেটজবসএনওয়াইয়ের সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে গিয়ে পদের নাম অথবা ভ্যাকেন্সি নম্বর দিয়ে খুঁজতে হবে। সেখানে কাজের বিবরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদনপদ্ধতি এবং শেষ তারিখ উল্লেখ থাকে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির জন্য সিটির নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টাল এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষায় আগ্রহীদের ১৩ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এই পদে নিয়োগের জন্য শুধু আবেদন করাই যথেষ্ট নয়। নির্ধারিত পরীক্ষা ও পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এদিকে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সময়সীমার পাশাপাশি আবেদনকারীদের কাজের অনুমতি, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির যাঁরা নতুন চাকরি খুঁজছেন কিংবা বেসরকারি চাকরি থেকে সরকারি খাতে যেতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এনওয়াই হেল্পসের পদগুলো বিশেষভাবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে সব পদ এন্ট্রি লেভেল নয় এবং সব চাকরির জন্য একই ধরনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় না। ফলে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে পদ নির্বাচন করাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের আবেদন শেষ হবে ২২ অক্টোবর, ম্যানহাটনের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের ১৮ অক্টোবর এবং পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পরীক্ষার আবেদন শেষ হবে ১৩ অক্টোবর। আবেদনের সময়সীমা কাছাকাছি হওয়ায় আগ্রহীদের নির্ধারিত তারিখের আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য আইসিইর, নতুন নির্দেশনা
নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড, জেনে নিন পারমিট থেকে রোড টেস্টের নিয়ম