যুক্তরাষ্ট্রে ৬৬০ কর্মী ছাঁটাই করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট, চাপে চাকরির বাজার
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট একসঙ্গে প্রায় ৬৬০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ৭ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকেন্দ্রিক নতুন ব্যবসায়িক কৌশলের সঙ্গে সাংগঠনিক কাঠামো সামঞ্জস্য করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন হাবস্পটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিনি রঙ্গন। তবে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ঠিক কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন, তা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
বস্টন ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাবস্পট দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মার্কেটিং, সেলস, কাস্টমার সার্ভিস এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার তৈরি করে আসছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। শুধু সফটওয়্যার সরবরাহের পরিবর্তে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের সরাসরি ব্যবসায়িক ফলাফল অর্জনে সহায়তা করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিতে ইয়ামিনি রঙ্গন জানান, গত এক বছরে হাবস্পটের ব্যবসায়িক কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়ছে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য, মূল্য নির্ধারণ এবং গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার পদ্ধতিতে। নতুন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোও পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
তবে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন হাবস্পটের প্রধান নির্বাহী। তাঁর দাবি, এআই প্রযুক্তি মানুষের কাজ প্রতিস্থাপন করছে কিংবা এআই ব্যবহারের ফলে কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে, এমন কারণে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, এটি শুধু পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নয়। বরং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মী ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাবস্পটের বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক টিম পুনর্গঠন করা হবে। আগে পৃথক সফটওয়্যার ও সেবার ভিত্তিতে টিম পরিচালিত হলেও এখন গ্রাহকদের চাহিদা ও প্রত্যাশিত ফলাফলকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব ভাগ করা হবে। ফলে একটি টিম গ্রাহকসেবার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত থাকবে।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কাঠামোও সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের ম্যানেজমেন্ট কমিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত করা হবে। কর্মীদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে একাধিক বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের জটিলতা কমে আসে।
হাবস্পট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন কাঠামো নির্ধারণের পর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার, রাজস্ব অর্জনের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মীর সংখ্যা এবং নেতৃত্বসহ ছয়টি বিষয় বিবেচনা করে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে চাকরি হারাতে যাওয়া কর্মীদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও ক্যারিয়ার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
হাবস্পটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়া কর্মীরা সাধারণভাবে মূল বেতনের ২০ সপ্তাহের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর চাকরির জন্য অতিরিক্ত এক সপ্তাহের বেতন যোগ হবে। তবে মোট ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ৩০ সপ্তাহের মূল বেতনের সমপরিমাণ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের জন্য পাঁচ মাসের কোবরা হেলথ ইন্স্যুরেন্স সুবিধার সমপরিমাণ অর্থ এককালীন দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরি হারানো কর্মীরা নতুন চাকরি খুঁজতে ছয় মাসের ক্যারিয়ার সহায়তা পাবেন।
কোম্পানি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা তাদের ব্যবহৃত হাবস্পটের ল্যাপটপ এবং বাসা থেকে কাজের জন্য দেওয়া মনিটর, কিবোর্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জামও রাখতে পারবেন। তবে ল্যাপটপে থাকা প্রতিষ্ঠানের তথ্য দূর থেকে মুছে ফেলা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ এবং চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
এদিকে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর হাবস্পটের পরিচালনা পর্ষদ এই পুনর্গঠন পরিকল্পনা অনুমোদন করে। কর্মী ছাঁটাই ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক ৬ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের শেষ নাগাদ পুনর্গঠনের অধিকাংশ কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০০৬ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির দুই সাবেক শিক্ষার্থী ব্রায়ান হ্যালিগান ও ধর্মেশ শাহ হাবস্পট প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। বিপণন, বিক্রয়, কাস্টমার সার্ভিস এবং ব্যবসায়িক তথ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সফটওয়্যারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত।
প্রযুক্তি খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেলেও পরিবর্তন আসছে। হাবস্পটের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এসেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, এই ছাঁটাইকে সরাসরি এআইয়ের মাধ্যমে মানুষের চাকরি প্রতিস্থাপনের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
হাবস্পটের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৬৬০ জনকে চাকরি ছাড়তে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কতজন কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাঁদের মধ্যে কেমব্রিজের সদর দপ্তরে কর্মরত কতজন রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মাইক্রোসফটকে বিদেশি কর্মীদের জন্য স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে। এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রম বিভাগের স্থায়ী শ্রম অনুমোদন কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারে। কর্মসূচিটি স্থগিত হওয়ায় মাইক্রোসফটের জন্য বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে রাখার প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মাইক্রোসফটের সব বিদেশি কর্মীর এইচ-১বি ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে গেছে। নতুন সিদ্ধান্তটি মূলত স্থায়ী বসবাসের পথ বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করেছে। ফলে বর্তমানে বৈধ এইচ-১বি অবস্থানে থাকা কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি বা ভিসা হারাচ্ছেন—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাইক্রোসফট বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের কর্মী ছাঁটাই ও বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই অভিযোগ করেছেন। তবে মাইক্রোসফট মার্কিন কর্মীদের বদলে বিদেশি কর্মী বসিয়েছে—এমন অভিযোগের সব দাবির স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করতে ভিসা ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। মাইক্রোসফট বহু বছর ধরে বিদেশি প্রযুক্তি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান। ২০২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক দশকে সংখ্যাটি ৫৩ হাজারের বেশি বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। এর ফলে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে বিষয়টি বিশেষ আগ্রহের কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য দক্ষ কর্মীদের একটি বড় অংশ এইচ-১বি ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। একই দিনে প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশাসন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহারের বিষয়েও তদন্তের কথা জানিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং পরে চাকরির মাধ্যমে দেশটিতে থাকার পরিকল্পনা করা তরুণদের জন্য অভিবাসন নীতির পরিবর্তন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে নেওয়া বর্তমান পদক্ষেপের মেয়াদ কতদিন থাকবে এবং কোম্পানিটি কীভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ নিয়ে মাইক্রোসফট ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্ত শুধু মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার ওপর একই ধরনের চাপ তৈরি হবে।
নিউ জার্সিতে কর সহায়তার টাকা পাঠানো শুরু, যোগ্য বাসিন্দাদের ব্যাংক হিসাব দেখার পরামর্শ
যুক্তরাষ্ট্রে ৬৬০ কর্মী ছাঁটাই করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট, চাপে চাকরির বাজার
নিউ জার্সিতে ট্রেন বাতিল বেড়েছে, ভোগান্তিতে কর্মজীবী যাত্রীদের বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। এর ফলে সামনে গ্যাসোলিন ও ঘর গরম করার জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৪ ডলারের ওপরে উঠে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মানুষের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিদিন গাড়িতে অফিস, স্কুল, ব্যবসা বা অন্যান্য কাজে যাতায়াত করা পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে জ্বালানির খরচ সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের খুচরা দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। এর সঙ্গে টোল, পার্কিং ও অন্যান্য যাতায়াত ব্যয় যোগ হওয়ায় নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারকারীদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। এর প্রভাব শুধু গাড়ির মালিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। পরে সেই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব পণ্য পরিবহন, খাবার ও অন্যান্য দৈনন্দিন পণ্যের দামেও পড়তে পারে। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলে জীবনযাত্রার খরচ এমনিতেই বেশি। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলের ভোক্তা মূল্য আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে জ্বালানির দাম বেড়েছিল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। তাই যারা প্রতিদিন দীর্ঘ দূরত্বে গাড়ি চালিয়ে কাজে যান, তাদের জন্য সামনে জ্বালানি খরচের দিকে বিশেষ নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘরে বসে অ্যামাজনে ব্যবসা, আমেরিকায় মাসে ৫০০০ ডলার পর্যন্ত আয়ের নতুন সুযোগ
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের মাস্টার্স ও পিএইচডিতে ফান্ডিং, বছরে ৩৩ হাজার ডলার
নিউ জার্সিতে বাড়িতে ঢুকে পড়ল যাত্রীবিহীন বাস, আহত চালক হাসপাতালে ভর্তি
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাতের পর হত্যার অভিযোগে দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করা এক নারী অবশেষে ১৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ২০১৮ সালে গর্ভের সন্তান হারানোর পর পেশেন্স রুশো নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে নেভাদার হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের সমঝোতা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী পেশেন্স রুশো ২০১৮ সালে নেভাদার উইনেমুকা শহরে বসবাস করতেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। ওই বছরের এপ্রিল মাসে গর্ভের সন্তান হারানোর প্রায় এক মাস পর স্থানীয় শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি করা হয়েছিল নেভাদার ১৯১১ সালের একটি পুরোনো আইনের ভিত্তিতে। ওই আইনে গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে ওষুধ বা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার করে গর্ভপাত ঘটানোর ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনার বিধান রয়েছে। ঘটনার শুরু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন দুই সন্তানের মা রুশো জানতে পারেন, তিনি আবারও অন্তঃসত্ত্বা। তবে গর্ভধারণের কত সপ্তাহ পার হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর নিশ্চিত ধারণা ছিল না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশো ওই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখতে চাননি। এ কারণে তিনি রেনো শহরের একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করানোর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে তাঁর গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে ইন্টারনেটে গর্ভপাতের উপায় খুঁজতে শুরু করেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশো ভারী জিনিস তোলা এবং অতিরিক্ত দারুচিনি খাওয়ার মতো কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী সময়ে আদালতে জানান, দারুচিনি খাওয়ার কারণে গর্ভপাত ঘটে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ওই বছরের এপ্রিল মাসে রুশোর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। তিনি একটি মৃত পুত্রসন্তান প্রসব করেন। শিশুটির নাম রেখেছিলেন অ্যাবেল। পরে সন্তানের মরদেহ নিজ বাড়ির পেছনের উঠানে সমাহিত করেন। ঘটনার প্রায় এক মাস পর এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৬ মে কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। তিন দিন পর রুশোকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের সময় শিশুটির দেহাবশেষে মেথামফেটামিন ও মারিজুয়ানার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, রুশো ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবহার করেছিলেন। তবে মামলার শুনানিতে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সেগুলোর কারণে গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই। শিশুটির মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণও নিশ্চিত করা যায়নি। রুশো স্বীকার করেছিলেন, তিনি নিয়মিত মারিজুয়ানা এবং মাঝেমধ্যে মেথামফেটামিন ব্যবহার করতেন। তবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে এসব মাদক গ্রহণ করেছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ২০১৯ সালে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত ডিফেন্স আইনজীবীর পরামর্শে রুশো অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। লাস ভেগাসের ফ্লোরেন্স ম্যাকক্লুর উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারে বন্দি অবস্থায় তাঁকে অন্য কয়েদিদের কাছ থেকে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অনেকেই তাঁকে নিজের সন্তান হত্যাকারী হিসেবে দেখতেন। পরবর্তী সময়ে প্রজনন অধিকারবিষয়ক আইনজীবী লরা ফিটজসিমন্স তাঁর মামলার বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেন। নতুন আইনজীবীর যুক্তি ছিল, রুশোর মাদক ব্যবহারের কারণে গর্ভপাত ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। একই সঙ্গে রুশো নিজেই জানতেন না তাঁর গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হয়েছিল কি না। আইনজীবীরা আরও বলেন, আগের ডিফেন্স আইনজীবী তাঁকে যথাযথ আইনি সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই যুক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালে তাঁর দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়। একই বছরের ৮ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান রুশো। তত দিনে দুই বছরের বেশি সময় তাঁকে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে বিচারক চার্লস ম্যাকগি মামলাটিকে বিচারব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, দারিদ্র্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন রুশো। মুক্তির পরও রুশোর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। কারাভোগের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টকে তিনি জানিয়েছেন, কারাগারে থাকার সময় তাঁর দুই সন্তানও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন। এদিকে চলতি বছরের মার্চে রুশোর আইনজীবীরা হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং তিনি গুরুতর মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ আলোচনার পর আগস্ট মাসে ১৬ লাখ ডলারে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। সম্প্রতি সেই অর্থ পেয়েছেন রুশো। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেভাদা রাজ্য সরকারও তাঁকে এক লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটি হামবোল্ট কাউন্টির সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা থেকে আলাদা। তবে এত অর্থ পাওয়ার পরও হারিয়ে যাওয়া সময় এবং পরিবারের ওপর পড়া ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রুশো। ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে বাড়ির খরচ মেটানো, নতুন ব্যবসা শুরু করা এবং মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এই মামলায় আরও একটি বিতর্কিত অভিযোগ সামনে এসেছে। রুশোর আইনজীবীদের দাবি, তদন্তে যুক্ত একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গর্ভে মারা যাওয়া শিশুটির দেহাবশেষ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। পরে তিনি অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাওয়ার সময়ও তা সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ সমঝোতার অংশ হিসেবে ওই দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ আদালতে আলাদাভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। রুশোর মামলা যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতসংক্রান্ত আইন এবং গর্ভের সন্তান হারানোর ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ আনার সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নেভাদার যে আইনের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটি ১৯১১ সালে প্রণীত। প্রজনন অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের মতে, আইনটির প্রয়োগ গর্ভপাত ও স্বাভাবিক গর্ভপাতের মধ্যকার পার্থক্য নির্ধারণে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে রুশোর দণ্ডাদেশ বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত নেভাদার সংশ্লিষ্ট আইনটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। তাঁর মামলায় পর্যাপ্ত আইনি প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি দণ্ডাদেশ বাতিলের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল। দীর্ঘ আট বছর পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মাধ্যমে রুশোর আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে কারাভোগের কারণে তাঁর পরিবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা এখনো তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্কে বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড পাবেন যেখানে, জেনে নিন যোগাযোগ ও আবেদনের নিয়ম
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন