সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে বিপাকে ট্রাম্প পরিবার? আইনি প্রতিরক্ষায় বিশেষ তহবিল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৫:০
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে বিপাকে ট্রাম্প পরিবার? আইনি প্রতিরক্ষায় বিশেষ তহবিল
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে বিপাকে ট্রাম্প পরিবার? আইনি প্রতিরক্ষায় বিশেষ তহবিল

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে নিজের পরিবারকে সম্ভাব্য তদন্তের হাত থেকে রক্ষা করতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হতে পারে।

 

এমন আশঙ্কায় ট্রাম্প তাঁর ‘মাগা ইনক’ (MAGA Inc.) সুপার প্যাকের ৪০ কোটি ডলারের বিশাল তহবিল থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার সরিয়ে একটি নিজস্ব আইনি প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করছেন। যদিও রিপাবলিকানদের প্রত্যাশা ছিল, এই অর্থ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় ব্যয় করা হবে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেলে ট্রাম্প পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগগুলোকে সামনে আনবেন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা। এর আগে প্রথম মেয়াদে দুই দফায় অভিশংসনের মুখোমুখি হওয়া ট্রাম্প এবারও পারিবারিক সদস্যদের নিয়ে আইনি ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

 

বিশেষ করে ব্যারন ট্রাম্পের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেটের সাথে তাঁর কথিত যোগাযোগ এবং প্রথম নারী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে অ্যামাজনের চার কোটি ডলারের তথ্যচিত্র নিয়ে ইতোমধ্যেই ডেমোক্র্যাটদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সৌদি তহবিল গ্রহণ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতাও ডেমোক্র্যাটদের নজরে রয়েছে।

 

তবে এসব তৎপরতাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেমোক্র্যাটরা ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর পরিবারকে নিশানা বানিয়ে আসছে।

 

প্রশাসন যখন মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি নিয়ে কাজ করছে, তখন বিরোধীরা কেবল রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরিতে মগ্ন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস মিলছে, ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির জয় হলে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের শেষভাগে এসে গুরুতর আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্পের হাতে কালশিটে, স্যুটের নিচে রহস্যময় ফোলা অংশ, স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
ট্রাম্পের হাতে কালশিটে, স্যুটের নিচে রহস্যময় ফোলা অংশ, স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ‘এ নিউ গোল্ডেন এজ’ শীর্ষ সম্মেলনে পুরস্কার বিতরণের সময় তার ডান হাতের একটি বড় কালশিটে দাগ ঢাকতে পুরু মেকআপ ব্যবহার করার বিষয়টি সবার নজরে আসে।   মার্কিন ইনস্টিটিউট অব পিস (বর্তমানে 'ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অব পিস' নামে পরিচিত)-এ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কসহ শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের হাতে ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স তুলে দেন ট্রাম্প। একই মঞ্চে তিনি তার প্রয়াত চাচা জন জি. ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি মরণোত্তর সম্মাননাও গ্রহণ করেন। তবে এই জমকালো আয়োজনের চেয়ে বেশি আলোচনা ছড়িয়েছে খোদ প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য ইস্যু নিয়ে।   রয়টার্সের ফটোগ্রাফার ইভান ভুচির তোলা একটি ক্লোজ-আপ ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের শুষ্ক ও লালচে হাতের কালশিটে ঢাকতে গোলাকারভাবে কমলা রঙের মেকআপ লাগানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই চোখ এড়ানোর মতো ছিল না। হোয়াইট হাউসে তার দ্বিতীয় মেয়াদে একাধিকবার তার উভয় হাতে এমন কালশিটে দেখা গেছে।   ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, এই মেকআপ করতে তার "প্রায় ১০ সেকেন্ড" সময় লাগে। এর আগে হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল, অতিরিক্ত অ্যাসপিরিন গ্রহণ এবং ঘন ঘন হাত মেলানোর কারণেই এই কালশিটে তৈরি হয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল অবশ্য ট্রাম্পকে ‘আমেরিকান ইতিহাসের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ, জনসম্পৃক্ত ও উদ্যমী প্রেসিডেন্ট’ বলে আখ্যা দিয়ে এই জল্পনা উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।   তবে কেবল হাতের কালশিটে নয়, ট্রাম্পের স্যুটের নিচে একটি রহস্যময় ফোলা অংশও দেখা গেছে, যা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। গত আগস্টে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে এবং সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের একজন সহকারীর শেয়ার করা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও এই ফোলা অংশটি নজরে আসে।   অনলাইনে কেউ কেউ এটিকে কোনো মেডিকেল ডিভাইস, কোলোস্টোমি ব্যাগ বা এমনকি অ্যাডাল্ট ডায়াপার বলেও জল্পনা করছেন। পাশাপাশি হাত-পা ফুলে যাওয়া, একটানা তন্দ্রাচ্ছন্নভাব, অস্পষ্ট কথা এবং হঠাৎ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার মতো লক্ষণগুলো প্রেসিডেন্টের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএনের মতো শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোও ট্রাম্পের স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে এরই মধ্যে গভীর বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৫:৩৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে বিপাকে ট্রাম্প পরিবার? আইনি প্রতিরক্ষায় বিশেষ তহবিল

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে বিপাকে ট্রাম্প পরিবার? আইনি প্রতিরক্ষায় বিশেষ তহবিল

নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা

নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা

ফ্লোরিডায় দুই সন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা, সন্তানদের আনতে গিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখলেন মা

ফ্লোরিডায় দুই সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আ ত্মহ ত্যা, সন্তানদের আনতে গিয়ে তিনজনের ম রদেহ দেখলেন মা

বিমান ধরতে যাচ্ছিলেন কনে
বিয়ের পোশাক ট্রেনে ফেলে বিমান ধরতে যাচ্ছিলেন কনে, শেষ মুহূর্তে উদ্ধার করল নিউ জার্সির কর্মীরা

নিউ জার্সিতে এক কনের বিয়ের আনন্দের মুহূর্তটি শেষ পর্যন্ত বড় দুশ্চিন্তায় পরিণত হতে যাচ্ছিল। তিনি নিউ জার্সি ট্রানজিটের একটি ট্রেনে নিজের বিয়ের পোশাক ফেলে রেখে বিমান ধরতে নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলে যান। পোশাকটি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বিপাকে পড়েন।    খবরটি জানার পর নিউ জার্সি ট্রানজিটের কর্মীরা দ্রুত তৎপর হন। পরিবহন সংস্থার কর্মীরা বিভিন্ন ট্রেনের অবস্থান শনাক্ত করেন, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ট্রেনের কামরাগুলোতে পোশাকটি খুঁজতে থাকেন।   সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে পোশাকটি উদ্ধার করে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে কনে বিমানে ওঠার আগেই নিজের বিয়ের পোশাক ফিরে পান। পরিবহন সংস্থাটি ঘটনাটিকে ‘২০ মিনিটের অলৌকিক সাফল্য’ বলে বর্ণনা করেছে।  ব্যস্ত সময়ে ট্রেনে ব্যাগ, নথি বা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ফেলে যাওয়া সহজেই ঘটে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবহন সংস্থার কর্মীদের জানানো এবং ট্রেনের নম্বর, যাত্রার সময় ও ওঠানামার স্টেশন জানাতে পারলে জিনিস খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, দ্রুত যোগাযোগ ও কর্মীদের সমন্বয় কীভাবে একজন যাত্রীর বিশেষ দিন নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১২:৫৫
নিউজার্সিতে খামারের পার্কিংয়ে এসইউভির চাপায় প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর

নিউজার্সিতে খামারের পার্কিংয়ে এসইউভির চাপায় প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর, অল্পের জন্য বাঁচলেন দাদি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে তীব্র ঝাঁকুনি

আকাশে তীব্র ঝাঁকুনি, আতঙ্কের পর হাসপাতালে ৮ যাত্রী! মিয়ামিতে নামল নিউইয়র্কগামী বিমান

নিউজার্সিতে ট্রেনে বিয়ের গাউন ফেলে গেলেন কনে, ২০ মিনিটেই উদ্ধার করে দিল এনজে ট্রানজিট

নিউজার্সিতে ট্রেনে বিয়ের গাউন ফেলে গেলেন কনে, ২০ মিনিটেই উদ্ধার করে দিল এনজে ট্রানজিট

নিউইয়র্কে পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমানের
নিউইয়র্কে পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমানের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর লকপোর্টে একটি পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ওসমান। বাফেলো শহরের বাসিন্দা ওসমানের উদ্যোগে ভবনটি মুসলমানদের নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমের উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া বিবরণে জানা গেছে। একসময় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত ভবনটির বাইরে এখন মসজিদের নামসংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে। তবে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর সময় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   গত ৩১ আগস্ট লকপোর্ট শহর পরিদর্শনের একটি বিবরণে পুরোনো গির্জাটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, শহরটিতে কোনো বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা না হলেও একটি গির্জা ভবনকে মসজিদে রূপান্তরের কাজ নজরে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন বাফেলোপ্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমান।   লকপোর্ট নিউইয়র্কের নায়াগ্রা কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্র। ঐতিহাসিক ইরি খালের পাশে গড়ে ওঠা শহরটি বাফেলো থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। কানাডা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির মতো বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি এখানে না থাকলেও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন দেশের মানুষের বসবাস রয়েছে।   মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগে যে পুরোনো গির্জাটিকে মসজিদে রূপান্তরের কথা জানা গেছে, সেটি আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে ভবনটির আগের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় বলে পাওয়া বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে সেটিকে নতুন ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।   তবে গির্জাটির পূর্ববর্তী নাম, সুনির্দিষ্ট ঠিকানা, মালিকানা হস্তান্তরের তারিখ এবং ক্রয়মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভবনটির সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভবনটির সংস্কার ও ব্যবহারসংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।   এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে বসবাস করেন। বাফেলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসতি গড়ে ওঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন, বাড়ি কেনার সুযোগ এবং জীবনযাত্রার খরচের কারণে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বাফেলোতে বসবাস শুরু করেছেন।   ২০০৬ সালের পর থেকে নিউইয়র্ক সিটি, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর বাফেলোতে আসার প্রবণতা বাড়ে বলে স্থানীয় কমিউনিটির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। ধীরে ধীরে শহরটিতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গ্রোসারি স্টোর, রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন গড়ে ওঠে।   বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে বাফেলোতে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের চাহিদাও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার করে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বাফেলোর ওয়ালডেন অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত বাফেলো ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, যা মসজিদ বাইতুল আমান নামেও পরিচিত, স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির একটি পরিচিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন পরিচালিত হয়।   বাফেলোর ইস্ট সাইড এলাকাতেও পুরোনো গির্জা ভবন নতুনভাবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক সেন্ট অ্যানস চার্চ অ্যান্ড শ্রাইন ভবন ২০২২ সালের নভেম্বরে বাফেলো ক্রিসেন্ট হোল্ডিংসের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ডাউনটাউন ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ভবনটি একটি ইসলামিক ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা ছিল।   তবে সেন্ট অ্যানস চার্চের প্রকল্পটি লকপোর্টে মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগ থেকে পৃথক। সেন্ট অ্যানস ভবনটি বাফেলো শহরে অবস্থিত এবং সেটি নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাফেলো টরন্টো পাবলিক মিডিয়া ও ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ওই স্থাপনায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ভবনটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সমস্যার কারণে মালিকপক্ষকে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়।   এই প্রেক্ষাপটে বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় পুরোনো ধর্মীয় ভবন নতুন কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো গির্জার নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভবনগুলো বিক্রি করা হয়। নতুন মালিকেরা স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব স্থাপনা ধর্মীয়, শিক্ষামূলক কিংবা সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করতে হলে শুধু ভবন কেনা বা সংস্কার করাই যথেষ্ট নয়। ভবনটির বর্তমান অনুমোদিত ব্যবহার, স্থানীয় জোনিং বিধি, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তার শর্ত এবং জনসমাগমের উপযোগিতা বিবেচনা করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ও থাকতে পারে।   লকপোর্টের প্রকল্পটির ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি। একইভাবে নতুন মসজিদে কতজন মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে ইসলামিক শিক্ষা বা কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, মোহাম্মদ ওসমানের মূল লক্ষ্য পুরোনো ভবনটিকে মুসলমানদের ইবাদতের উপযোগী করে তোলা। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভবনটি কিনেছেন, নাকি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।   বাফেলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার মধ্যে নিকটবর্তী লকপোর্টে এমন একটি উদ্যোগ স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা পূরণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সেখানে বর্তমানে কতটি মুসলিম পরিবার বসবাস করে কিংবা সম্ভাব্য মসজিদটি কতজন ব্যবহার করবেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।   একসময় খ্রিষ্টানদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত একটি ভবনকে নতুন করে মুসলমানদের নামাজের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল অভিবাসী সমাজের একটি দিক তুলে ধরছে। তবে লকপোর্টের পুরোনো গির্জাটি কবে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ হিসেবে চালু হবে, তা নির্ভর করছে সংস্কারকাজ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং উদ্যোক্তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রতিনিধি দিয়েও সংগ্রহের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রতিনিধি দিয়েও সংগ্রহের সুযোগ

হানিমুনে জলহস্তীর আক্রমণ থেকে স্বামীকে বাঁচাতে জলহস্তীকেই ঘুষি মারলেন স্ত্রী

হানিমুনে জলহস্তীর আক্রমণ থেকে স্বামীকে বাঁচাতে জলহস্তীকেই ঘুষি মারলেন স্ত্রী

দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের

দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের, ছবি ঘিরে বিস্ময়

0 Comments