সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাবা ও মেয়েকে মারধর আইসিই এজেন্টকে গুলি করলেন ৭২ বছরের বৃদ্ধ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৯:৩৭
ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের গুলিতে আহত আইসিই এজেন্ট ডেভিড গঞ্জালেজ। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের গুলিতে আহত আইসিই এজেন্ট ডেভিড গঞ্জালেজ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও তাঁর মেয়েকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর ওই ব্যক্তির গুলিতে আহত হয়েছেন এক আইসিই এজেন্ট। ডেভিড গঞ্জালেজ নামের ৩২ বছর বয়সী ওই ফেডারেল এজেন্টকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

 

স্থানীয় সময় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ভোরে ইস্ট ডাডলি অ্যাভিনিউ ও নর্থ ব্রডওয়ে স্ট্রিটের কাছে একটি বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। ফ্রেসনো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৩০ জানিয়েছে, গঞ্জালেজ টেক্সাসের বাসিন্দা এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইতে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি ডিউটিতে ছিলেন না। 

 

পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই বাড়ির এক নারী বাসায় ফিরে সামনের লনে গঞ্জালেজকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। তিনি বিষয়টি তাঁর ৭২ বছর বয়সী বাবাকে জানান। এরপর বাবা বাইরে গিয়ে গঞ্জালেজকে বাড়ির জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বলেন।

 

ঘুম থেকে ওঠার পর গঞ্জালেজকে মদ্যপ ও উত্তেজিত বলে মনে হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই বৃদ্ধকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে মাটিতে ফেলে দেন। বাবাকে রক্ষা করতে মেয়ে এগিয়ে গেলে তাঁকেও আক্রমণ করেন গঞ্জালেজ।

 

পুলিশ জানিয়েছে, নিজের ও মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় ওই ব্যক্তি একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গঞ্জালেজকে লক্ষ্য করে একবার গুলি করেন। গুলিটি তাঁর পেটের অংশে লাগে। এর কিছুক্ষণ পর ওই নারীর প্রেমিক ঘটনাস্থলে এসে গঞ্জালেজকে হাতকড়া পরান। তিনি একজন পুলিশ অফিসার এবং তখন ডিউটির বাইরে ছিলেন।

 

ভোর ৩টা ১৯ মিনিটের দিকে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনার বিষয়ে একাধিক নাইন ওয়ান ওয়ান কল পায় ফ্রেসনো পুলিশ। অফিসাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গঞ্জালেজকে হাতকড়া পরানো ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পান। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

 

এবিসি৩০-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে গঞ্জালেজের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের পর্যায়ের হামলা বা ফেলনি অ্যাসল্টের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

 

অন্যদিকে, গুলি চালানো ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধভাবে ছিল। 

 

টেক্সাসের ওই এজেন্ট কেন ফ্রেসনোর এই আবাসিক এলাকায় ছিলেন, তা তদন্ত করছে পুলিশ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিবাসন অভিযানের অংশ ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানায়নি। সংঘর্ষের বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় দুই শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে পেরি স্ট্রিট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সিবিএস-এর অধিভুক্ত সংবাদমাধ্যম ‘ইরি নিউজ নাও’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ব্যক্তি রাস্তায় এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর পর একটি বাড়িতে প্রবেশ করেছে— প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ।   সেখানে পৌঁছে রাস্তা থেকে প্রথমে দুই নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে ওই বাড়ির ভেতর থেকে আরও বেশ কয়েকজনের লাশ পাওয়া যায়। সন্দেহভাজন হামলাকারী নিজেও নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে হামলাকারী নিজেও অন্তর্ভুক্ত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে বন্দুকধারীর মৃত্যুর পর জননিরাপত্তার জন্য আপাতত আর কোনো হুমকি নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরি পুলিশের প্রধান রিক লোরাহ এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, এত বড় ট্র্যাজেডি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।   নিহতদের এবং তাদের স্বজনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুলিশ এখনই তদন্তের বিস্তারিত বা হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য বা জল্পনা-কল্পনা করতে রাজি হয়নি। বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ কারণ উদ্ঘাটনে নিরলসভাবে কাজ করছেন।   এদিকে, ইরি শহরের মেয়র দারিয়া ডেভলিন এবং নগর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে শহরবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিবৃতিতে তারা নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।   এই ভয়াবহ ঘটনার পর শনিবার সকালে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোও একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি মেয়র ডেভলিনের সাথে কথা বলে তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং রাজ্যের নিহত ৯ নাগরিকের স্বজন ও পুরো ইরি সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করার কথা উল্লেখ করেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১১:৬
নিউইয়র্ক সিটিতে অনুমোদন ছাড়া বেজমেন্ট বা গ্যারেজ ভাড়া দিলে থাকছে জরিমানা ও আইনি ঝুঁকির আশঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে অবৈধ বেজমেন্ট ভাড়ায় বড় জরিমানা, বৈধ করার সুযোগ রয়েছে শর্তসাপেক্ষে

সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন না ভ্যান্স, ঘোর আপত্তি

ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

ন্যাচারালাইজড আমেরিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিল ট্রাম্প প্রশাসন, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে হার্ট স্ক্যান করতে গিয়ে ক্যানসার শনাক্ত, এক বছরের লড়াই শেষে সুস্থ ৭২ বছরের ভিকি
যুক্তরাষ্ট্রে হার্ট স্ক্যান করতে গিয়ে ক্যানসার শনাক্ত, এক বছরের লড়াই শেষে সুস্থ ৭২ বছরের ভিকি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ৭২ বছর বয়সী বুকস্টোর মালিক ভিকি টিটকম্বের কাছে ২০২৫ সালের মার্চ মাসটি ছিল আর দশটা সাধারণ সময়ের মতোই। ছেলেকে দেখতে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার আগে 'ম্যাস জেনারেল ব্রিগ্যাম' হাসপাতালে একটি রুটিন হার্ট স্ক্যান করিয়েছিলেন তিনি।   কিন্তু সেই সাধারণ পরীক্ষাতেই তার অগ্ন্যাশয়ে (প্যানক্রিয়াস) একটি অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে, যা পরে অন্যতম প্রাণঘাতী অগ্ন্যাশয় ক্যানসার হিসেবে শনাক্ত হয়। এর আগে ২০১২ সালে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও এবার তিনি ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ইন্টারনেটে এই রোগের ভয়াবহতা নিয়ে পড়াশোনা করা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখেন।   অগ্ন্যাশয় ক্যানসার সাধারণত অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার পরই ধরা পড়ে, ফলে এর পাঁচ বছর মেয়াদি বেঁচে থাকার হার মাত্র ১৩ শতাংশ। তবে ভিকির ক্ষেত্রে রুটিন পরীক্ষার কারণে রোগটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়েছিল। একইসঙ্গে তার শরীরে স্তনের ক্যানসার এবং ডিম্বাশয়ে একটি টিউমারও ধরা পড়ে।   চিকিৎসকরা প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডিম্বাশয়ের টিউমারটি অপসারণ করেন, যা পরবর্তীতে নিরীহ (বিনাইন) বলে প্রমাণিত হয়। এরপর ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. টমাস ক্ল্যান্সির তত্ত্বাবধানে তার অগ্ন্যাশয় এবং স্তন ক্যানসারের মূল চিকিৎসা শুরু হয়। টিউমারটিকে সঙ্কুচিত করার লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে তাকে নিবিড় কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন দেওয়া হয়।   কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনের পর টিউমারের আকার ছোট হয়ে এলে গত বছরের নভেম্বরে ‘বিশ্ব অগ্ন্যাশয় ক্যানসার দিবসে’ ভিকির শরীরে জটিল 'হুইপেল' (Whipple) সার্জারি করা হয়। রোবোটিক পদ্ধতিতে করা এই আধুনিক অস্ত্রোপচারটি সফল হয় এবং মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান।   ক্যানসার যেন ফিরে আসতে না পারে সে জন্য সতর্কতা হিসেবে তাকে আরও দুই মাস কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। অবশেষে দীর্ঘ এক বছরের লড়াই শেষে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে চিকিৎসকরা ভিকিকে সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত বলে ঘোষণা করেন।   বর্তমানে ক্যানসারকে জয় করে আবারও স্বাভাবিক ও হাসিখুশি জীবনে ফিরেছেন ভিকি টিটকম্ব। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নিজের বুকস্টোর সামলাতে আবারও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নিজের এই ভয়াবহ কিন্তু অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন এই বৃদ্ধা।   আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, "১০ বছর আগে ক্যানসার ধরা পড়লে হয়তো এর পরিণতি ভিন্ন হতো। আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করি, কারণ ভাগ্য সত্যিই সবকিছু বদলে দেয়।"  

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১০:৫
যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএসপিএসে তথ্য দিলেই সব নথি আপডেট হয় না। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় ঠিকানা বদলালে ইউএসসিআইএসে জানানোর সময়সীমা ১০ দিন, জেনে নিন নিয়ম

ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের গুলিতে আহত আইসিই এজেন্ট ডেভিড গঞ্জালেজ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাবা ও মেয়েকে মারধর আইসিই এজেন্টকে গুলি করলেন ৭২ বছরের বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অ্যারিজোনার মরুভূমিতে বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, উৎপাদনের ৯০ শতাংশ কিনবে টেসলা

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনায় লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন হাজারো আমেরিকান
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনায় লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন হাজারো আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ইউরোপের ছোট দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রতি আমেরিকানদের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার পরিবর্তে ভবিষ্যতের বিকল্প হিসেবে ইউরোপের একটি দেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।   শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৩ হাজার ৫৭৪ জনের নাম নতুন করে লুক্সেমবার্গের নাগরিক হিসেবে সরকারি নিবন্ধনে যুক্ত হয়েছে। দেশটির নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে এই হিসাবের সবাই নতুন আবেদন করে নাগরিকত্ব পাননি। তাঁদের অনেকেই পারিবারিক বংশসূত্রের কারণে আগে থেকেই দেশটির আইনে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন।   অন্যদিকে লুক্সেমবার্গের বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৬৫৭ জন আমেরিকান আনুষ্ঠানিক আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। দুই ধরনের হিসাবের পার্থক্যের কারণ হলো, একটি পরিসংখ্যানে আগে থেকেই আইনগতভাবে নাগরিকত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের নিবন্ধনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যটিতে শুধু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের গণনা করা হয়েছে।   অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত নতুন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬৯০ জনে। তুলনায় প্রতিবেশী জার্মানিতে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ২২ হাজার ৯২৫ জন। শুধু ৩০ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা আরও ৯৫২ জন বেড়েছে।   নাগরিকত্ব গ্রহণের এই প্রবণতার পেছনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার মান এবং ইউরোপে বসবাসের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে উদ্বিগ্ন কিছু আমেরিকান ইউরোপীয় নাগরিকত্বকে ভবিষ্যতের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করছেন।   কলোরাডোর ডেনভারে বসবাসকারী ৩৫ বছর বয়সী ক্যারিস ক্যাসিডি তাঁদের একজন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ইউরোপে বসবাসের ইচ্ছা ছিল। পরে পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের একজন লুক্সেমবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। উনিশ শতকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে শিকাগো এবং পরে মিনেসোটা, আইওয়া ও কানসাসে বসতি স্থাপন করেছিলেন।   বংশপরিচয়ের নথিপত্র সংগ্রহ করতে ক্যাসিডির প্রায় এক বছর সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পান। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে যান। নিউজউইককে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগ তাঁর দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। তবে পরে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং ইউরোপের কোন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন।   লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির পূর্বপুরুষ থাকার বিষয়টি অনেক আমেরিকানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির নাগরিকত্ব আইনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে কয়েক প্রজন্ম আগের পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতেও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব। তবে শুধু পরিবারের কেউ একসময় লুক্সেমবার্গে বসবাস করেছেন, এমন তথ্য থাকলেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করতে হয়।   লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা পরামর্শক ড্যানিয়েল অ্যাটজ নিউজউইককে জানান, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও আমেরিকানদের মধ্যে দেশটির নাগরিকত্ব নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই আগ্রহ আরও অনেক বেশি হয়েছে।   অ্যাটজ নিজেও পারিবারিক বংশসূত্রের মাধ্যমে ২০১৪ সালে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর প্রপিতামহী মার্গারিট ক্রুখটেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লুক্সেমবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে চলে আসেন। নাগরিকত্বের আবেদন করতে গিয়ে তিনি ইউরোপে বসবাসকারী দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন আত্মীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করেন।   বর্তমানে অ্যাটজ একটি নাগরিকত্ব পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আমেরিকানদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়। ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে গত বছর তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা ২ জন থেকে বাড়িয়ে ১৫ জন করতে হয়েছে।   তবে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়া মানেই যে আমেরিকানরা দলে দলে দেশ ছাড়ছেন, এমন নয়। অ্যাটজের মতে, তাঁর কাছে সহায়তা নেওয়া ব্যক্তিদের খুব অল্প অংশেরই লুক্সেমবার্গে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা রয়েছে। অনেকেই দেশটির পাসপোর্টকে ইউরোপে ভবিষ্যতে বসবাস ও কাজের সুযোগ তৈরির মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।   এর একটি বড় কারণ হলো, লুক্সেমবার্গ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে অন্যান্য সদস্যদেশে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান, যদিও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক নিয়ম ও শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে শুধু লুক্সেমবার্গ নয়, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশেও বসবাসের সুযোগ তৈরি হয়।   অন্যদিকে লুক্সেমবার্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় বেশি। দেশটিতে পণ্য ও সেবার ভোক্তামূল্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তুলনামূলক সীমিত। এসব কারণে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অনেকে লুক্সেমবার্গের পরিবর্তে ইউরোপের অন্য দেশে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন।   এদিকে লুক্সেমবার্গ সরকারের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা স্টেটেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৮ হাজার ২২৩ জন বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৪১৫। অর্থাৎ এক বছরে নাগরিকত্ব অর্জনের সংখ্যা বেড়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। নতুন নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৪৪ জন বিশেষ যোগ্যতাভিত্তিক প্রক্রিয়ায়, ১ হাজার ২৯৮ জন সাধারণ ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় এবং ৩৮১ জন নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে লুক্সেমবার্গের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৯৬ জন ছিলেন আমেরিকান। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানেও দেশটির নাগরিকত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।   তবে নাগরিকত্বের নিয়ম নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। লুক্সেমবার্গের ২০১৭ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৮৯ অনুচ্ছেদের অধীনে ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারিতে লুক্সেমবার্গের নাগরিক ছিলেন, এমন পূর্বপুরুষের বংশধরদের জন্য বিশেষ নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার সময়সীমা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ওই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নতুন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না।   তবে এর অর্থ এই নয় যে, বংশসূত্রে বা অন্য কোনো বৈধ প্রক্রিয়ায় লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পাওয়ার সব সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির প্রচলিত আইনে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য নাগরিকত্বের অন্যান্য পথ এখনো চালু রয়েছে। আবেদনকারীর পারিবারিক ইতিহাস, জন্মসংক্রান্ত তথ্য ও আইনি যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে কোন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারিত হয়।   বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আমেরিকানদের মধ্যে দ্বিতীয় নাগরিকত্বের এই আগ্রহ শুধু রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া নয়। ইউরোপে বসবাসের সুযোগ, পরিবারের ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থান এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়গুলোও তাঁদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছে।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, অনেক আমেরিকান এখনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে প্রস্তুত নন। বরং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে অন্য দেশে বসবাসের আইনি সুযোগ নিশ্চিত রাখতে চাইছেন। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ সেই প্রবণতারই একটি উদাহরণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৮:১৯
টেক্সাসে দুই স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ, হাতকড়া পরা চালকের গলা চেপে ধরলেন পুলিশ প্রধান

টেক্সাসে দুই স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ, হাতকড়া পরা চালকের গলা চেপে ধরলেন পুলিশ প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রে নদী-হ্রদের দূষণ শনাক্তে রোবট তৈরি, প্রায় ২ লাখ ডলার অনুদান পেলেন তৌহিদুল আলম

যুক্তরাষ্ট্রে নদী-হ্রদের দূষণ শনাক্তে রোবট তৈরি, প্রায় ২ লাখ ডলার অনুদান পেলেন তৌহিদুল আলম

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি

0 Comments