উত্তেজনার মধ্যে স্বস্তির এক টুকরো, শিশুর সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ড. ইউনূসের ছবি ভাইরাল
নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে উত্তেজনাকর ঘটনার খবরের মধ্যে শিশুর সঙ্গে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক বিতর্ক ও পক্ষে-বিপক্ষে নানা বক্তব্যের মধ্যে ছবিটি মানুষের নজর কেড়েছে।
ছবিতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে বসে আছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সামনে স্যুটকেসের ওপর বসে আছে একটি শিশু। শিশুটির পাশে একজন নারী দাঁড়িয়ে আছেন। ড. ইউনূসকে শিশুটির দিকে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। পুরো দৃশ্যটিতে ফুটে উঠেছে একটি স্বাভাবিক ও মানবিক মুহূর্ত।
সোমবার, ১২ অক্টোবর, নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে একদল ব্যক্তির স্লোগান ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে।
২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যকাল শেষ হয়।
বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন শিশুর সঙ্গে ড. ইউনূসের হাস্যোজ্জ্বল ছবিটি সামনে এসেছে ভিন্ন এক আবহ নিয়ে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিতর্কের বাইরে এমন একটি দৃশ্য অনেকের কাছে স্বস্তির মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
দিনের নানা উত্তেজনা ও মতবিরোধের মধ্যেও মানুষের হাসি, সৌজন্য ও মানবিক যোগাযোগের গুরুত্ব রয়েছে। শিশুর সঙ্গে ড. ইউনূসের এই হাসিমুখের ছবিটি সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreস্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন নারী ও জাতিগত সংখ্যালঘু রোগীদের ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি। ইরানি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন গবেষক ও তাঁর হেলদি মেশিন লার্নিং দল চিকিৎসার এআই মডেলকে আরও নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য করার উপায় খুঁজছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, সব রোগীর ওপর গড় হিসাবে ভালো ফল দেওয়া মডেলও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে। ঘাসেমি এমআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট ফর মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচিতিতে তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার লক্ষ্য, রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ন্যায্যতা উন্নত করা। এমআইটি নিউজের ২৫ নভেম্বর ২০২৪ প্রকাশিত পরিচিতিমূলক প্রতিবেদনে জানানো হয়, টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে একটি ইরানি মার্কিন পরিবারে বেড়ে ওঠেন ঘাসেমি। ছোটবেলা থেকেই ধাঁধা, ভিডিও গেম ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নে তাঁর আগ্রহ ছিল। পরে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যে নিজের কাজের ক্ষেত্র খুঁজে পান তিনি। পিএইচডি গবেষণার সময় রোগীর চিকিৎসার ফলাফল অনুমান করতে এআই মডেল তৈরি করছিলেন ঘাসেমি। তখন তাঁর গবেষণা কমিটির সদস্য লিও সেলি জানতে চান, মডেলগুলো বিভিন্ন লিঙ্গ, ইন্স্যুরেন্স ও জাতিগত পরিচয়ের রোগীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করছে কি না। আলাদাভাবে পরীক্ষা করে ঘাসেমি ফলাফলে ব্যবধান পান। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে চিকিৎসার এআইয়ে পক্ষপাত নিয়ে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে। সমস্যার একটি উৎস হলো মডেলকে শেখাতে ব্যবহৃত তথ্য। এমআইটির ২০২২ সালের প্রতিবেদনে ঘাসেমি ব্যাখ্যা করেন, চিকিৎসার তথ্য মানুষের সিদ্ধান্ত ও আচরণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। সেখানে বিদ্যমান পক্ষপাত এআইয়ের মধ্যেও প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু বিপুল পরিমাণ তথ্য দিয়ে মডেল তৈরি করলেই সব রোগীর জন্য সমান মানের ফল নিশ্চিত হয় না। ঘাসেমি যুক্ত ছিলেন এমন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআই মডেল বুকের এক্স-রেসহ বিভিন্ন মেডিকেল ছবি থেকে রোগীর স্বঘোষিত জাতিগত পরিচয় উচ্চ নির্ভুলতায় অনুমান করতে পারে। চিকিৎসকের কাছে ছবিতে সেই পরিচয়ের স্পষ্ট নির্দেশক না থাকলেও মডেল তা শনাক্ত করেছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এমন তথ্য মডেল অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যবহার করলে রোগ নির্ণয়ের সিদ্ধান্তে পক্ষপাত ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এমআইটির গবেষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, এক হাসপাতালে ভালো কাজ করা মডেল অন্য হাসপাতালের রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল নাও দিতে পারে। রোগীর ধরন ও তথ্যের পরিবর্তন বিবেচনায় না নিলে নির্ভুলতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ফলাফলের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। তাই ব্যবহারস্থলের রোগীদের ওপর আলাদাভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন তুলে ধরছেন ঘাসেমি ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের অনুসন্ধানে জনগোষ্ঠীভেদে পার্থক্য বিবেচনা করে মডেল প্রশিক্ষণ দিলে কিছু ব্যবধান কমানোর সুযোগ পাওয়া গেছে। তবে এই ফল সব হাসপাতাল বা সব রোগীর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। ঘাসেমির কাজ মূলত সেই সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা ও সমাধানের পথ খোঁজা। চিকিৎসায় এআই ব্যবহার করলেই বৈষম্য দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা এই গবেষণা দেয় না।
জর্জিয়ায় রোলার কোস্টার থেকে ছিটকে পড়ে ঝুলে ছিলেন বাবা, ঘটনার বর্ণনা দিলেন সহযাত্রী
স্বপ্নে মুহাম্মদ সাঃ কে দেখার পর ঘুম থেকে উঠেই শাহাদাহ পাঠ করে মুসলমান হন মার্কিন নাগরিক রবার্ট
উত্তেজনার মধ্যে স্বস্তির এক টুকরো, শিশুর সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ড. ইউনূসের ছবি ভাইরাল
আমেরিকায় সন্তানকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী অভিভাবকদের জন্য নিউইয়র্ক সিটিতে একাধিক ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রাম রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে কোরআন মুখস্থের পাশাপাশি একাডেমিক বিষয়ও পড়ানো হয়। তবে বয়সসীমা, সময়সূচি ও সাধারণ পড়াশোনার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। সব হিফজ প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত বলা যায় না; এমন দাবি থাকলে তার নথি আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ১. মুসলিম সেন্টার অব নিউইয়র্ক, ফ্লাশিং ফ্লাশিংয়ে মুসলিম সেন্টার অব নিউইয়র্কের ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি ৭ থেকে ১৩ বছর বয়সী ছেলেদের জন্য। ক্লাস চলে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ঠিকানা ১৩৭-৫৮ জেরানিয়াম অ্যাভিনিউ, ফ্লাশিং, নিউইয়র্ক ১১৩৫৫। যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৪৬০-৩০০০। হিফজের সঙ্গে সন্তানের একাডেমিক পড়াশোনা কীভাবে চলবে, তা ভর্তির আগে জানতে হবে। একই প্রতিষ্ঠানে ফুলটাইম হিফজের বাইরে বিকেলের কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়েদের জন্য এই ক্লাস কর্মদিবসে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে। সাধারণ স্কুলের পর কোরআন পড়া শিখতে আগ্রহী পরিবারের জন্য এটি আরেকটি সুযোগ। তবে এই ক্লাস ও ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রামের লক্ষ্য আলাদা। ২. দারুল আহনাফ নিউইয়র্ক, ব্রঙ্কস ব্রঙ্কসে দারুল আহনাফ নিউইয়র্কের ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রামে কোরআন মুখস্থ, তাজবিদ, প্রতিদিনের রিভিশন ও ইসলামিক স্টাডিজের পাশাপাশি গণিত, ভাষা, বিজ্ঞান এবং সামাজিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, একাডেমিক অংশটি হোমস্কুলভিত্তিক কাঠামোয় পরিচালিত হয়। ফলে অভিভাবকদের হোমস্কুলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শিক্ষার্থীর অগ্রগতি মূল্যায়নের পদ্ধতি বুঝে নেওয়া দরকার। দারুল আহনাফের ঠিকানা ৩০৯১ ডেকাটার অ্যাভিনিউ, ব্রঙ্কস, নিউইয়র্ক ১০৪৬৭। যোগাযোগের নম্বর ৬৪৬-৭৪৪-৮৯২০ অথবা ৬৪৬-৩৯৩-৬২৫০। প্রকাশিত সাধারণ সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হিফজ, পড়াশোনা, নামাজ, খাবার ও বিনোদনের বিভিন্ন পর্ব রয়েছে। একাডেমিক ক্লাস সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সন্তানের জন্য প্রযোজ্য উপস্থিতির সময় সরাসরি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, শিক্ষার্থীর সক্ষমতা, নিয়মিত অনুশীলন ও পরিবারের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে হিফজ সম্পন্ন করতে আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে। এটি নির্দিষ্ট সময়ে হিফজ শেষ করার নিশ্চয়তা নয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, হিফজ কার্যক্রম সারা বছর চললেও একাডেমিক অংশ স্কুলের শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি অনুসরণ করে। ৩. আল ফাওজ ইসলামিক স্কুল অব আমেরিকা আল ফাওজ ইসলামিক স্কুল অব আমেরিকাতেও ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ক্যাম্পাসের ঠিকানা ৭৭-১৭ সাটার অ্যাভিনিউ, ওজোন পার্ক, নিউইয়র্ক ১১৪১৭। ছেলেদের পৃথক ক্যাম্পাস ১২৩৫ বেলমন্ট অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০৮। যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৮৮০-২২৯৭। হিফজের ক্লাস কোন ক্যাম্পাসে হবে, তা স্কুলের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করতে হবে। আল ফাওজের হিফজ পাতায় ২০২৫ থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে সাত বছর বা তার বেশি বয়সী ছেলেদের কথা উল্লেখ রয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তির আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫। তাই সেটিকে বর্তমানে চলমান ভর্তি বিজ্ঞপ্তি হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। যদিও প্রতিষ্ঠানের মূল পাতায় নতুন শিক্ষার্থীদের আবেদন নেওয়ার কথা রয়েছে, বর্তমান শিক্ষাবর্ষের আসন, বয়সসীমা ও সময়সূচি সরাসরি জানতে হবে। স্কুলটি নিজস্ব হিফজ পাতায় নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব এডুকেশনের অনুমোদনের দাবি করেছে। তবে সেই দাবির স্বাধীন সরকারি সমর্থন নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যদিকে তাদের মূল পাতায় পাঠ্যক্রম নিউইয়র্ক স্টেটের কমন কোরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ রয়েছে। পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য ও সরকারি অনুমোদনকে একই অর্থে ব্যবহার না করে অভিভাবকদের সংশ্লিষ্ট নথি দেখতে চাওয়া উচিত। ভর্তির আগে যেসব বিষয় নিশ্চিত করবেন ভর্তির আগে টিউশন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, অতিরিক্ত খরচ, শিক্ষকপ্রতি শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং রিভিশনের পদ্ধতি জেনে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ পড়াশোনার রেকর্ড, পরবর্তী শ্রেণিতে অগ্রগতি ও অন্য স্কুলে স্থানান্তরের ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নিতে হবে। সন্তানের বয়স, শেখার সক্ষমতা ও দৈনিক রুটিনের সঙ্গে মিলিয়ে প্রোগ্রাম নির্বাচন করলে হিফজ এবং একাডেমিক পড়াশোনার পরিকল্পনা করা সহজ হবে।
নিউ ইয়র্কে ইন্স্যুরেন্স ছাড়াই কম খরচে দাঁতের চিকিৎসা কোথায় পাবেন? জেনে নিন তালিকা
জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ছেন তরুণেরা, সবচেয়ে বেশি যাচ্ছেন টেক্সাসে
অবসরপ্রাপ্তদের মাসিক ভাতায় আসতে পারে বাড়তি ৭৫ ডলার, অপেক্ষা সরকারি ঘোষণার
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে পুলিশ বিভাগে ইতিহাস গড়েছেন সারাহ শেন্ডি। তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মিসরীয়-আমেরিকান নারী হিসেবে পুলিশ লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এর আগে তিনি ওহাইওতে প্রথম মিসরীয়-মুসলিম নারী সার্জেন্ট হিসেবেও স্বীকৃতি অর্জন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অবদানের মধ্য দিয়ে তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। শেন্ডি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটি পুলিশ বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে তাঁর ১৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। অপরাধ বিচার বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেছেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন শেন্ডি। পুলিশের কাজে সাংস্কৃতিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরতে তিনি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি করেছেন। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তাদের আরও সচেতন ও দক্ষ করে তোলা। বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পুলিশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৭ সালে শেন্ডি আন্তর্জাতিক পুলিশপ্রধানদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব চিফস অব পুলিশের ‘ফর্টি আন্ডার ফোর্টি’ পুরস্কারও পান। ৪০ বছরের কম বয়সী প্রতিশ্রুতিশীল পুলিশ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার তাঁর পেশাগত অর্জনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। শেন্ডির পদোন্নতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের অগ্রগতি নয়; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে মিসরীয়-আমেরিকান ও মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পুলিশের নেতৃত্বের পর্যায়ে তাঁর এই অগ্রযাত্রা বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। তবে তাঁর পদোন্নতির আনুষ্ঠানিক তারিখ, নতুন দায়িত্বের বিস্তারিত পরিধি এবং এ অর্জন নিয়ে তাঁর নিজের বক্তব্য সম্পর্কে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ নেই। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অতিরিক্ত দাবি করা যাচ্ছে না।
জরায়ু অস্ত্রোপচারের পর ভয়াবহ পরিণতি, দুই পা-হাতসহ ঠোঁট ও জিহ্বার অংশ হারালেন ছয় সন্তানের মা
বিনা খরচে অটিজম থেরাপির সুযোগ হারানোর শঙ্কায় টেক্সাসের শত শত পরিবার