আমেরিকা

জোন্স অ্যাক্ট

শত বছরের পুরনো আইন স্থগিত স্থগিত করলেন ট্রাম্প, কী এই জোন্স অ্যাক্ট?

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক শতাব্দী প্রাচীন নৌ-পরিবহন আইন ‘জোন্স অ্যাক্ট’ (Jones Act) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৬০ দিনের জন্য এই আইনটি শিথিল করার ফলে এখন থেকে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজগুলো আমেরিকার এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে তেল, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করতে পারবে।


হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়লার মতো অতি প্রয়োজনীয় সম্পদগুলো যাতে দ্রুত মার্কিন বন্দরগুলোতে পৌঁছাতে পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”


কী এই জোন্স অ্যাক্ট?
১৯২০ সালে পাস হওয়া ‘মার্চেন্ট মেরিন অ্যাক্ট’, যা ‘জোন্স অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, অনুযায়ী আমেরিকার অভ্যন্তরীণ জলপথে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে অবশ্যই আমেরিকায় নির্মিত হতে হবে, মার্কিন নাগরিকদের মালিকানাধীন হতে হবে এবং জাহাজের কর্মীদের অধিকাংশকেই মার্কিন নাগরিক হতে হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন নৌ-শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এই আইন করা হয়েছিল। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা জরুরি প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট এই আইন স্থগিত করার ক্ষমতা রাখেন।


কেন এই জরুরি পদক্ষেপ?
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯ ডলারে ঠেকেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল মাত্র ৭০ ডলার। আমেরিকায় সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতেই বিদেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।


মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে বাজার বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অভ্যন্তরীণ নৌ-শিল্প মালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘আমেরিকান মেরিটাইম পার্টনারশিপ’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন শ্রমিকরা কাজ হারাতে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি মার্কিন নৌ-শিল্পের ক্ষতি করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শিথিলতা খুচরা বাজারে তেলের দাম গ্যালন প্রতি ৩ থেকে ১০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করতে পারে।


উল্লেখ্য, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সামাল দিতে ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ার ওপর থেকেও কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থাও (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সেই চাপ সামলানোর একটি প্রাথমিক চেষ্টা মাত্র।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

আমেরিকা

View more
শত বছরের পুরনো আইন স্থগিত স্থগিত করলেন ট্রাম্প, কী এই জোন্স অ্যাক্ট?

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক শতাব্দী প্রাচীন নৌ-পরিবহন আইন ‘জোন্স অ্যাক্ট’ (Jones Act) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৬০ দিনের জন্য এই আইনটি শিথিল করার ফলে এখন থেকে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজগুলো আমেরিকার এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে তেল, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করতে পারবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়লার মতো অতি প্রয়োজনীয় সম্পদগুলো যাতে দ্রুত মার্কিন বন্দরগুলোতে পৌঁছাতে পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” কী এই জোন্স অ্যাক্ট? ১৯২০ সালে পাস হওয়া ‘মার্চেন্ট মেরিন অ্যাক্ট’, যা ‘জোন্স অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, অনুযায়ী আমেরিকার অভ্যন্তরীণ জলপথে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে অবশ্যই আমেরিকায় নির্মিত হতে হবে, মার্কিন নাগরিকদের মালিকানাধীন হতে হবে এবং জাহাজের কর্মীদের অধিকাংশকেই মার্কিন নাগরিক হতে হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন নৌ-শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এই আইন করা হয়েছিল। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা জরুরি প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট এই আইন স্থগিত করার ক্ষমতা রাখেন। কেন এই জরুরি পদক্ষেপ? ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯ ডলারে ঠেকেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল মাত্র ৭০ ডলার। আমেরিকায় সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতেই বিদেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে বাজার বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অভ্যন্তরীণ নৌ-শিল্প মালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘আমেরিকান মেরিটাইম পার্টনারশিপ’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন শ্রমিকরা কাজ হারাতে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি মার্কিন নৌ-শিল্পের ক্ষতি করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শিথিলতা খুচরা বাজারে তেলের দাম গ্যালন প্রতি ৩ থেকে ১০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করতে পারে। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সামাল দিতে ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ার ওপর থেকেও কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থাও (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সেই চাপ সামলানোর একটি প্রাথমিক চেষ্টা মাত্র।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
শাহেদ ড্রোন

ওয়াশিংটনের আকাশে রহস্যময় ড্রোন: মার্কিন ভূখণ্ডে ইরানের পাল্টা হামলা শুরু?

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

কোল্ডপ্লে কনসার্টে ‘কিস ক্যাম’ কেলেঙ্কারি — বসের সঙ্গে ধরা পড়ে জীবন ওলটপালট নারীর

কোল্ডপ্লে কনসার্টে ‘কিস ক্যাম’ কেলেঙ্কারি — বসের সঙ্গে ধরা পড়ে জীবন ওলটপালট নারীর

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কোটি ডলার প্রতারণা, এফবিআইর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত কেনি প্যাটেল
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কোটি ডলার প্রতারণা, এফবিআইর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত কেনি প্যাটেল

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগে কালপেশকুমার রসিকভাই প্যাটেল, যিনি কেনি প্যাটেল নামেও পরিচিত, তাকে খুঁজছে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI)।   এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনি একটি সংগঠিত প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বহু মানুষকে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বড় অঙ্কের টাকা পাঠাতে বাধ্য করত।   ভুক্তভোগীদের বলা হতো যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য বা পরিচয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, এবং সমস্যা এড়াতে হলে নগদ টাকা বা প্রিপেইড ডেবিট কার্ড নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠাতে হবে।   এফবিআই জানিয়েছে, এই প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তথ্য দিলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোন বা অনলাইনে পরিচয় যাচাই না করে টাকা পাঠালে এমন প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফাইল ছবি: রয়টার্স

জ্বালানির দাম বেড়ে চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, সমস্যার কথা স্বীকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের

ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় পরকীয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, প্রমাণিত হলে হতে পারে জেল!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

কাউন্টারটেররিজম প্রধানের পদত্যাগে সন্তুষ্ট ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ অভিযানে না বলায় ন্যাটোকে ‘বোকামি’ বললেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অনীহাকে ‘মারাত্মক বোকামি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ন্যাটোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান সত্ত্বেও মিত্র দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসছে না, যা তার কাছে বিস্ময়কর।   ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের রক্ষা করি, কিন্তু প্রয়োজনের সময় তারা আমাদের পাশে দাঁড়ায় না।” তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ায় ন্যাটো দেশগুলোর সহায়তা এখন আর প্রয়োজন নেই।   এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও ন্যাটোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, বেশিরভাগ মিত্র দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।   এ বিষয়ে European Union-এর ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান কাজা কাল্লাস জানান, চলমান সংঘাতে জড়ানোর কোনও আগ্রহ ইউরোপীয় দেশগুলোর নেই এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নিতে চায় না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ডেমোক্র্যাট নেতা হাকীম জেফ্রিস

‘বেপরোয়া যুদ্ধ’ নীতি, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন ডেমোক্র্যাটরা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ২০০

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের উৎসাহের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেওয়া উচিত ছিল: ট্রাম্প

0 Comments