মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে বিগত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (AAA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশটিতে প্রতি গ্যালন রেগুলার গ্যাসের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে ৩.৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবরের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে তেলের সর্বোচ্চ মূল্য। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে যে রেকর্ড উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই ভয়াবহতাকেও মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষত, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে ৯০ সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশটির আটটি অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই এবং ওয়াশিংটনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে এই দাম ৫ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক শতাব্দী প্রাচীন নৌ-পরিবহন আইন ‘জোন্স অ্যাক্ট’ (Jones Act) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৬০ দিনের জন্য এই আইনটি শিথিল করার ফলে এখন থেকে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজগুলো আমেরিকার এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে তেল, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করতে পারবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়লার মতো অতি প্রয়োজনীয় সম্পদগুলো যাতে দ্রুত মার্কিন বন্দরগুলোতে পৌঁছাতে পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” কী এই জোন্স অ্যাক্ট? ১৯২০ সালে পাস হওয়া ‘মার্চেন্ট মেরিন অ্যাক্ট’, যা ‘জোন্স অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, অনুযায়ী আমেরিকার অভ্যন্তরীণ জলপথে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে অবশ্যই আমেরিকায় নির্মিত হতে হবে, মার্কিন নাগরিকদের মালিকানাধীন হতে হবে এবং জাহাজের কর্মীদের অধিকাংশকেই মার্কিন নাগরিক হতে হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন নৌ-শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এই আইন করা হয়েছিল। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা জরুরি প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট এই আইন স্থগিত করার ক্ষমতা রাখেন। কেন এই জরুরি পদক্ষেপ? ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯ ডলারে ঠেকেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল মাত্র ৭০ ডলার। আমেরিকায় সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতেই বিদেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে বাজার বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অভ্যন্তরীণ নৌ-শিল্প মালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘আমেরিকান মেরিটাইম পার্টনারশিপ’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন শ্রমিকরা কাজ হারাতে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি মার্কিন নৌ-শিল্পের ক্ষতি করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শিথিলতা খুচরা বাজারে তেলের দাম গ্যালন প্রতি ৩ থেকে ১০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করতে পারে। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সামাল দিতে ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ার ওপর থেকেও কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থাও (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সেই চাপ সামলানোর একটি প্রাথমিক চেষ্টা মাত্র।
ইরান ইস্যুতে এবার সরাসরি ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্জ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে মার্কিন-ইসরায়েলি যে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে, তা নিয়ে জার্মানির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চ্যান্সেলর মেয়ার্জ আজ বুন্দেসট্যাগে (জার্মান পার্লামেন্ট) দেওয়া এক ভাষণে স্পষ্ট করে বলেন, এই অভিযানের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট বা দূরদর্শী কৌশল জার্মানির নজরে পড়েনি। মেয়ার্জ জানান, এই অভিযানের আগে ওয়াশিংটন বার্লিনের সাথে কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন মনে করেনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমেরিকা যদি আগে আমাদের সাথে পরামর্শ করত, তবে আমরা অবশ্যই এই ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দিতাম।" চ্যান্সেলর আরও যোগ করেন, এই সামরিক অভিযান সফল করার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা এখনও বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় ন্যাটোর সহযোগিতা চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হরমুজ প্রণালীতে জার্মান যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন মেয়ার্জ। ইরান ইস্যুতে প্রথমে কিছুটা নীরব থাকলেও বর্তমানে নিজ অবস্থানে অনড় ও কঠোর মনোভাব পোষণ করছেন এই জার্মান নেতা। বিশেষ করে যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই মূহুর্তে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। একদিকে আমেরিকার ভয়াবহ বোমাবর্ষণ, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা আঘাত—সব মিলিয়ে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে তেহরান। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ধৃত ব্যক্তিরা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও নিরাপত্তা বিভাগের গোপন নথি তেল আভিভের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল। যদিও সমালোচকদের দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই এই গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ইরানের সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা চেকপয়েন্টগুলোতে ইসরায়েলি নিখুঁত হামলা প্রমাণ করে যে, ভেতর থেকেই কেউ তথ্য সরবরাহ করছে। শনিবার ভোরে ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে আমেরিকার ভয়াবহ হামলার পর থেকেই পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর বোমাবর্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, ওই দ্বীপের সমস্ত সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের এই আবহে বিশ্ব অর্থনীতিও বড়সড় ঝুঁকির মুখে। ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে মিসাইল মোতায়েন করে রেখেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। পাশাপাশি ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীরা বাব এল-মান্ডেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক মহাপ্রলয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে মধ্যপ্রাচ্য।
উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা নিজেদের সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড (THAAD) সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসব সরঞ্জাম তড়িঘড়ি করে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার এই পদক্ষেপ এশীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-সহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওংজু (Seongju) ঘাঁটিতে থাকা থাড ইন্টারসেপ্টরগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এই সিদ্ধান্তে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে জানান, তারা এই স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও মার্কিন সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, থাড সরিয়ে নিলেও উত্তর কোরিয়াকে ঠেকানোর মতো সক্ষমতা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রয়েছে। অন্যদিকে, চীন শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড মোতায়েনের বিরোধী। বেইজিংয়ের দাবি, এই ব্যবস্থার শক্তিশালী রাডার চীনের অভ্যন্তরীণ সামরিক কার্যক্রম নজরদারি করতে সক্ষম। থাড সরিয়ে নেওয়ার খবর আসার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় তাদের আগের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা এশিয়ার মিত্রদের মধ্যে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে যে, সংকটকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রয়োজনে যেকোনো অঞ্চল থেকে সামরিক সমর্থন প্রত্যাহার করতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি জাপান ও তাইওয়ানও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত পরিবর্তন এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আধিপত্য বিস্তারের পথ আরও সুগম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে, উত্তর কোরিয়া এই সুযোগে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং উস্কানি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান বনাম আমেরিকা-ইসরায়েল জোটের সরাসরি যুদ্ধ আজ তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করল। পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনীতি এখন খাদের কিনারায়, যেখানে একদিকে তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি আর অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বিধ্বংসী সামরিক অভিযান বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। খারাগ দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ ও জ্বালানি যুদ্ধের হুমকি ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র 'খারাগ দ্বীপে' মার্কিন বিমান বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপ দিয়েই রপ্তানি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত তেল অবকাঠামো রক্ষা করা হলেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাল্টা জবাবে আইআরজিসি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে ঘোষণা করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। আমেরিকা তাঁর তথ্যের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে এ পর্যন্ত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন। লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৭৩ জন। যুদ্ধ এখন আর ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কাতার, বাহরাইন ও ওমানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে। সৌদি আরব পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। ওমানে ড্রোন পতনে দুইজন নিহত হওয়ার পর আঞ্চলিক নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তার খাতিরে বাহরাইন ও সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য 'ফর্মুলা ওয়ান' রেস স্থগিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ২,৫০০ মেরিন সেনাসহ যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ত্রিপোলি' মোতায়েন করেছে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী। সংকট মোকাবিলায় কানাডা জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বিমান ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ব এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়বে। কূটনৈতিক প্রভাব হ্রাসের ভয়ে অনেক দেশ এখন ওয়াশিংটনকে এড়িয়ে সরাসরি তেহরানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।
২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের নিশানায় এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন নিউজম। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে আদতে দেশটির লাভই হচ্ছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিউজম বিদ্রুপ করে লেখেন, “আমেরিকাবাসী, দুশ্চিন্তার কিছু নেই! আপনাদের গ্যাসোলিন বা জ্বালানির দাম বাড়ছে ঠিকই—কিন্তু এতে ট্রাম্পের প্রচুর অর্থ উপার্জন হচ্ছে। তাই সব ঠিক আছে।” মূলত সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা খরচ করে ট্রাম্প নিজের ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছেন কি না, নিউজম তার শ্লেষাত্মক বার্তার মাধ্যমে সেই প্রশ্নই তুলেছেন। তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও ট্রাম্প সেটাকে ইতিবাচকভাবে দেখায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানের ড্রোন হামলার যে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তা মূলত একটি অসমর্থিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ছিল বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এফবিআই-এর সেই সতর্কবার্তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া জনমনে আতঙ্ক দূর করতেই এই স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দেওয়া এফবিআই-এর সেই বিশেষ সতর্কতাটি মূলত একটি একক ইমেইলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। সেই ইমেইলে দেওয়া তথ্যটি ছিল সম্পূর্ণ যাচাইহীন বা আনভেরিফাইড। এর আগে এফবিআই-এর তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, চলতি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ইরান সমুদ্রপথে ড্রোন ব্যবহার করে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অতর্কিত হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে লেভিট এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, "পরিষ্কারভাবে বলতে চাই: আমাদের জন্মভূমিতে ইরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো হুমকির অস্তিত্ব নেই এবং কখনো ছিলও না।"
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন পাঁচ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক এবং ভবিষ্যতে দাম কমে আসবে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব উল্টো হতে পারে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হলে তেল ও গ্যাসের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তিনি বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফলভাবে সম্পন্ন হলে জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে এবং দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের হুমকি দিতে পারবে না। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় মূল্য ছিল প্রতি গ্যালন ৩.৪৮ ডলার, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। মঙ্গলবার এই দাম আরও বাড়িয়ে ৩.৫৪ ডলারে পৌঁছেছে, ফলে বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে দামের পার্থক্য স্পষ্ট। ক্যালিফোর্নিয়ায় যেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম প্রায় ৫.২০ ডলার, সেখানে কানসাসে একই পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২.৯২ ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় পারস্য উপসাগর থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। সোমবার এক পর্যায়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো এই স্তরে পৌঁছায়। ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় অনেক তেলবাহী ট্যাংকার বন্দরেই অপেক্ষা করছে। এতে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও সতর্কতার কারণে উৎপাদন ও রপ্তানিতে কিছুটা সংযম দেখাচ্ছে। আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে। ইরান সেখানে মাইন পেতে নৌপথ বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পরিস্থিতিতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকারগুলোর জন্য বিশেষ বিমা সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী এসব জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ও তার জ্বালানি বিষয়ক দল বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জ্বালানি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপনীয়তার নীতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। একটি রুদ্ধদ্বার গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে সিনেট সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের এই পরিকল্পনা কেবল ক্যাপিটল হিলের গোপন কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; মার্কিন জনগণের সামনে এর যৌক্তিকতা স্পষ্ট করতে হবে। সিনেটর টিম কেইন এই গোপনীয়তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাই। সাধারণ মানুষ জানতে চায় তাদের সন্তান বা জীবনসঙ্গীদের কি আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে? অথচ আমি অনেক কিছু জানলেও গোপনীয়তার কারণে তা আমার ভোটারদের বলতে পারছি না। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, যখন স্বাস্থ্যসেবা বা শিশুদের কল্যাণে অর্থের কথা আসে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলে তাদের কাছে টাকা নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বোমা ফেলার জন্য প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঠিকই খরচ হচ্ছে। এমন এক যুদ্ধের পেছনে অর্থ ঢালা হচ্ছে যার লক্ষ্য কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আইনপ্রণেতাদের মূল দাবি একটাই—প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে যে, এই সামরিক অভিযানের শেষ কোথায় এবং এর মাধ্যমে আসলে কী অর্জিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে নিজ দেশের জনগণের তীব্র চাপের মুখে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিশেষ করে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক বা 'বেস' ভোটারদের পক্ষ থেকেই যুদ্ধ বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে। যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনে পড়তে শুরু করায় এই অসন্তোষ এখন জনরোষে রূপ নিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই যুদ্ধের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান আইইডি (IED) তৈরি করে মার্কিন সেনাদের আহত করেছে, তাই এই পদক্ষেপ জরুরি। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ব্যাখ্যা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারছে না। মার্কিন নাগরিকদের প্রধান উদ্বেগের জায়গা হলো এই সংঘাত আর কতদিন চলবে? গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত সাতটি দেশে বোমাবর্ষণ করলেও সাধারণ মার্কিনিদের তার সরাসরি মাসুল দিতে হয়নি। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সামনেই চাষাবাদের মৌসুম, অথচ এই যুদ্ধকবলিত অঞ্চল থেকে সার আমদানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পেন্টাগন এখন মরিয়া হয়ে এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, এই সংঘাত ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কিন্তু আমেরিকানরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই সামরিক অভিযান সমর্থন করছে না। নিজের জনসমর্থন ধরে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন যুদ্ধ শেষ করার পথ খুঁজছে।
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস শহর। স্থানীয় সময় শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ শহরে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে এই সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিল করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘ইরানে যুদ্ধ বন্ধ করো’, ‘গণতন্ত্রের নামে আগ্রাসন নয়’ এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনো’— এমন সব স্লোগান দেখা যায়। বক্তারা বলেন, যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি হলের সামনে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, যুদ্ধবিরোধী কর্মী এবং প্রবাসী ইরানি নাগরিকরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের মতে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এর ফলে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। সমাবেশ থেকে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা সামরিক পথ পরিহার করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরে ইরানের ওপর পরিচালিত এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসেই নয়, বরং আমেরিকার অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এই সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ না করা হয়, তবে তাদের আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা দিতে নতুন একটি অর্থ সহায়তা পরিকল্পনার প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যোগ্য আমেরিকানদের প্রত্যেককে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য রো খান্না। তাদের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ধনী বিলিয়নিয়ারদের ওপর অতিরিক্ত সম্পদ কর আরোপ করে সেই অর্থ সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিতরণ করা যেতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, তারা এই সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি ৩ হাজার ডলার এবং চার সদস্যের একটি পরিবার সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। তবে এই অর্থ সহায়তা এখনই কার্যকর হচ্ছে না। কারণ প্রস্তাবটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আলোচনাধীন এবং এটি এখনো আইন হিসেবে পাস হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি কার্যকর হতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অনুমোদন পেতে হবে এবং পরে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। এরপরই এটি আইন হিসেবে কার্যকর হতে পারে। প্রস্তাবদাতারা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের সময় সাধারণ মানুষের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা আনা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিনিধি সভায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করার কথা রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য বর্তমান সামরিক অভিযানগুলোতে হোয়াইট হাউসের একচ্ছত্র আধিপত্য কমিয়ে আনা। তবে এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের পূর্ণ সমর্থন এবং রিপাবলিকান শিবিরের কিছু সদস্যের ভোটে প্রতিনিধি সভায় প্রস্তাবটি পাস হতে পারে, কিন্তু মার্কিন আইন অনুযায়ী এটি কার্যকর হওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ, এর আগে উচ্চকক্ষ তথা সেনেটে একই ধরনের একটি প্রস্তাব ভোটাভুটিতে হেরে গেছে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার কোনো একটি কক্ষে প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেলে তা আইনে পরিণত হওয়ার সুযোগ হারায়। বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো আইনি পদক্ষেপ বা মামলা দায়ের করা সম্ভব কি না। তাত্ত্বিকভাবে এমন সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কঠিন। কারণ, মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা এখনো দেশটির সংবিধানের স্বীকৃত কাঠামোর মধ্যেই বিষয়টির সমাধান খুঁজতে আগ্রহী। ফলে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার একক ক্ষমতা খর্ব করার এই চেষ্টা আপাতত রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সময়োচিত পদক্ষেপই ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়া থেকে বিরত রেখেছে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে আঘাত না করতাম, তবে তারা পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত। পাগলাটে মানুষের হাতে এমন বিধ্বংসী অস্ত্র থাকা মানেই ভয়াবহ বিপর্যয়।” এদিকে ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘শান্তিপূর্ণ’ বলে দাবি করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-র মহাপরিচালক এই দাবিতে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইরান পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে এমন অকাট্য প্রমাণ না থাকলেও, তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুদ এবং পরিদর্শকদের কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া যুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে তীব্র মতপার্থক্য ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। হোয়াইট হাউস যখন তেহরানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করছে, তখন আইনপ্রণেতাদের একাংশ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন এবং এর সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের পক্ষ থেকে কথিত ‘আসন্ন হুমকি’ মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সামরিক কৌশলের বিষয়ে আইনপ্রণেতারা স্পষ্টত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে। এই হুমকি মোকাবিলায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মনে করছেন। রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থী অনেক নেতা এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের আগ্রাসন রুখতে কঠোর পদক্ষেপের সময় এসেছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অধিকাংশ সদস্য এবং কিছু যুদ্ধবিরোধী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই গোয়েন্দা তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, প্রশাসন যুদ্ধের সপক্ষে যে প্রমাণগুলো উপস্থাপন করছে তা অপর্যাপ্ত এবং অতিরঞ্জিত হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন অনেকটা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে ভ্রান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। অনেক আইনপ্রণেতা এখন ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ (War Powers Act) ব্যবহারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের এই ক্ষমতা সীমিত করার দাবি তুলছেন। তারা জোর দিয়ে বলছেন, কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করা যাবে না। ওয়াশিংটনের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও যুদ্ধের দামামা বিশ্ব রাজনীতিতেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় মিত্ররা আগে থেকেই এই উত্তেজনার সমালোচনা করে আসছে এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাথে এই সংঘাত যদি শেষ পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে ক্যাপিটল হিলে এই বিতর্ক তুঙ্গে এবং আগামী দিনগুলোতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে এবার কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তিনি। সিডনির লোয়ি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্নি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তার এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কানাডার অবস্থানের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিকতম ঘটনায় কুয়েতের আকাশে আমেরিকার আরও একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তেহরান টাইমসের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টিভি জানিয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে এই বিমানটি ধ্বংস হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৪ মার্চ) সকালে কুয়েতের আকাশসীমায় টহলরত বা অভিযানে থাকা একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি কুয়েতের মাটিতে আছড়ে পড়ে। তবে এটি এই সপ্তাহের প্রথম ঘটনা নয়; গত সোমবারও কুয়েতে ইরানের হামলায় তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি করেছিল তেহরান। ইরানি সংবাদ সংস্থা 'ইরনা' (IRNA) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি যুদ্ধবিমান আগুনের গোলার মতো নিচে পড়ে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে দাবি করেছিল যে, বিমানগুলো ইরানের সরাসরি হামলায় নয়, বরং 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' বা কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলক্রমে ছোড়া গোলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বুধবারের নতুন এই ঘটনা নিয়ে পেন্টাগন থেকে এখনও বিস্তারিত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। গত শনিবার ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরান 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪' (Operation True Promise 4) এর আওতায় কুয়েত, দুবাই এবং আবুধাবিতে থাকা মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। দুবাই, কুয়েত এবং দোহার মতো প্রধান শহরগুলোতে গত কয়েকদিনে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুবাই এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান একের পর এক ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনাগুলো যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ইরান যেখানে এটিকে তাদের সামরিক শক্তির প্রদর্শন বলছে, সেখানে আমেরিকা ও তার মিত্ররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ওয়াশিংটন থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং ধৈর্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের হিসাব-নিকাশ বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকরা এখন দেরিতে হলেও এটা উপলব্ধি করছেন যে, তেহরানকে সামরিক চাপে নতিস্বীকার করানো যতটা সহজ ভাবা হয়েছিল, বাস্তবতা তার উল্টো। অপ্রতিরোধ্য সামরিক কাঠামো ও সমন্বয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার পরও দেশটির সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে তেহরান অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাদের অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে। এই সমন্বয় ও শৃঙ্খলা প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সহ্য ক্ষমতাকে অত্যন্ত হালকাভাবে নিয়েছিল। বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা ইরানের পক্ষ থেকে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিমা কোম্পানিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে। ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ফরেন পলিসি আরও দাবি করেছে, ইরানের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। যুদ্ধের খরচ এবং সক্ষমতার এই ভারসাম্য ধীরে ধীরে ইরানের অনুকূলে চলে যাচ্ছে, যা পেন্টাগনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফের বন্দুকবাজের হামলায় রক্তাক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস। সপ্তাহের শেষে যখন উৎসবে মেতেছিল অস্টিন শহর, ঠিক তখনই একটি জনপ্রিয় পানশালায় নেমে এল মৃত্যুর ছায়া। অজ্ঞাতপরিচয় এক আততায়ীর এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩ জন। পুলিশের পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয়েছে খোদ হামলাকারীরও। অস্টিন পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানিয়েছেন, শনিবার রাত ১টা ৩৯ মিনিট নাগাদ শহরের একটি অত্যন্ত জনাকীর্ণ পানশালায় আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে এক বন্দুকবাজ। খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ হামলাকারীকে আত্মসমর্পণ করতে বললেও সে উল্টো গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই বন্দুকধারীর। জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, আততায়ীর গুলিতে পানশালার ভেতরেই ৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্দুকবাজের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও তার পরিচয় এখনও গোপন রাখা হয়েছে। কী কারণে এই নৃশংস হামলা চালানো হলো, তার নেপথ্যে কোনো গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে টেক্সাস পুলিশ। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে শোক ও উত্তেজনার আবহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তার শেষ জনসভার একটি ভিডিও। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহিত হওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে দেওয়া ওই ভাষণে আমেরিকাকে একটি 'ক্ষয়িষ্ণু সাম্রাজ্য' হিসেবে অভিহিত করেছিলেন তিনি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে ১৯৭৮ সালের তাবরিজ গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় শেষবারের মতো জনসমক্ষে বক্তব্য রাখেন ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই ভাষণে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। আমেরিকার পতন নিয়ে খামেনির ভবিষ্যৎবাণী ভাষণে খামেনি বলেছিলেন, "আমি যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যা বর্তমানে সত্যিকার অর্থেই পতনের দিকে এগোচ্ছে। এটি একটি ক্ষয়িষ্ণু সাম্রাজ্য যার পতন অনিবার্য।" তিনি আরও যোগ করেন, "তাদের অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমাজ—সবক্ষেত্রেই গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। এমনকি আমেরিকার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ তাদের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে পছন্দ করে না।" তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কের টানাপোড়েন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণ উল্লেখ করে খামেনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ইরানকে গ্রাস করতে চায় বলেই এই সমস্যার সৃষ্টি। তিনি বলেন, "আমাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মূল সমস্যা হলো তারা ইরানকে গিলে খেতে চায়, আর ইরানি জাতি তাদের সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে প্রাচীর হয়ে আছে।" ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে খামেনি বলেছিলেন, গত ৪৭ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি—প্রেসিডেন্টের এই স্বীকারোক্তিই সত্য। তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "আপনিও আমাদের কিছুই করতে পারবেন না।" তিনি আরও সতর্ক করেছিলেন যে, বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও অনেক সময় এমন আঘাত পেতে পারে যেখান থেকে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারে না। এক্স হ্যান্ডেলে রহস্যময় শেষ বার্তা খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার দাপ্তরিক এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একটি রহস্যময় পোস্ট করা হয়। ফার্সি ভাষায় লেখা ওই বার্তায় শিয়া ইসলামের প্রথম ইমাম হযরত আলী (আ.)-এর পবিত্র নাম 'হায়দার' উল্লেখ করা হয়, যা ইরানি সংস্কৃতিতে যুদ্ধের ডাক হিসেবেও পরিচিত। পোস্টে একটি জলন্ত তলোয়ার হাতে থাকা এক ধর্মীয় নেতার ছবিও দেখা গেছে। উল্লেখ্য, রোববার ভোরে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ অভিযানে খামেনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস