সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আমেরিকা

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মধ্যম আয় বেড়ে রেকর্ড ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে
রেকর্ড গড়ল আমেরিকানদের পারিবারিক আয়, ২০২৫ সালে বেড়েছে ২.৬ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির সেন্সাস ব্যুরোর নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন পরিবারের মধ্যম আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ২০২৪ সালের ৮৫ হাজার ২১০ ডলারের তুলনায় এই আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।   সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য বলছে, ১৯৬৭ সাল থেকে আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর ২০২৫ সালেই পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আয়েও পরিবর্তন দেখা গেছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যম আয় ৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক নন এমন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের আয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এশীয় ও হিস্পানিক পরিবারের মধ্যম আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।   নারী ও পুরুষের আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে নারীদের মধ্যম আয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, বিপরীতে পুরুষদের আয় সামান্য কমেছে। পূর্ণকালীন ও বছরজুড়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশের চেয়ে বেশি।   কর পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের হিসাবেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মধ্যম পোস্ট-ট্যাক্স পারিবারিক আয় ছিল ৭৩ হাজার ৭৬০ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৬০ ডলারে, যা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের গড় দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার।   শিশুদের দারিদ্র্যের হারও ২০২৫ সালে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই গোষ্ঠীর জন্যও রেকর্ড সর্বনিম্ন।   তবে কর, সরকারি সুবিধা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া ‘সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।   স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল না। এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি।   ২০২৫ সালে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে মেডিকেয়ারের আওতা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, অন্যদিকে মেডিকেইডের আওতা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতাও কমে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ার স্পেলম্যান কলেজের চমক, টানা ১৯ বছর ধরে আমেরিকার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে
জর্জিয়ার স্পেলম্যান কলেজের চমক, টানা ১৯ বছর ধরে আমেরিকার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে

কোনো বিশাল সংবাদ সম্মেলন বা চোখ ধাঁধানো প্রচারণা ছাড়াই জর্জিয়ার একটি ছোট লিবারেল আর্টস স্কুল প্রায় দুই দশক ধরে আমেরিকার সেরা কলেজগুলোর একটি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, স্পেলম্যান কলেজ নামক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি টানা ১৯ বছর ধরে (২০২৬ সালের র‍্যাঙ্কিং পর্যন্ত) দেশের ১ নম্বর এইচবিসিইউ (ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।   শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের জাতীয় লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর তালিকায় এটি ৩৭তম এবং 'সোশ্যাল মোবিলিটি' বা সামাজিক গতিশীলতায় ২য় স্থানে রয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও গ্র্যাজুয়েশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ২য় স্থান তাদের অভাবনীয় সাফল্যের প্রমাণ দেয়।   এই ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৮১ সালে, আটলান্টার ফ্রেন্ডশিপ ব্যাপটিস্ট চার্চের বেজমেন্টে। গৃহযুদ্ধের পর কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও মেয়েদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে সোফিয়া বি. প্যাকার্ড এবং হ্যারিয়েট ই. জাইলস এটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের লিবারেল আর্টস কলেজে পরিণত হয়েছে।   ছোট ক্লাস সাইজ, স্নাতক পর্যায়ে পড়ানোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের কারণে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় এতটা দক্ষ হয়ে ওঠে যে, স্টেম (STEM) ফিল্ডে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ডক্টরেট অর্জনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বাড়াতে স্টাডি অ্যাব্রড বা বিদেশে পড়াশোনার সুযোগও দিচ্ছে তারা।   স্পেলম্যান কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশাল অবদান রয়েছে। পুলিৎজার বিজয়ী লেখিকা এলিস ওয়াকার, স্যামস ক্লাব ও ওয়ালগ্রিনসের সাবেক সিইও রোজালিন্ড ব্রুয়ার এবং প্রখ্যাত রাজনীতিক স্টেসি আব্রামস এই কলেজেরই ছাত্রী ছিলেন।   প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা থেকেই ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ট্রাস্টি রোন্ডা স্ট্রাইকার ও উইলিয়াম জনস্টনের কাছ থেকে কলেজটি তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১০ কোটি ডলারের অনুদান লাভ করে। এছাড়া রিড হেস্টিংস, প্যাটি কুইলিন এবং অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনদের মতো ব্যক্তিত্বরাও বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েছেন। নীরব ও ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমেই যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়, ৩৫০ স্পেলম্যান লেনের ৩৯ একরের এই ক্যাম্পাসটি আজ তারই এক বাস্তব ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
লোহিত সাগরে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান, গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপ দখলে নিয়ে শক্তি দেখাল হুথিরা
লোহিত সাগরে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান, গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপ দখলে নিয়ে শক্তির জানান দিল হুথিরা

লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপ দখল করে নিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রকেট হামলার পর স্থল অভিযান চালিয়ে তারা এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় হুথি যোদ্ধাদের ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক, ইসরাইলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে তাদের এই সামরিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।   এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুথিরা কৌশলগত মোখা বন্দরনগরীরও নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, মোখা বন্দরটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, বন্দর শহরটিতে প্রবেশের সময়ও হুথিরা আমেরিকা ও ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দেয়। ইতোমধ্যে তারা পার্শ্ববর্তী হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে।   যাকার দ্বীপ এবং মোখা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের জন্য এক বিরাট সামরিক ও কৌশলগত বিজয়। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় এই অবস্থানগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই নৌপথ দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য বাজারে জ্বালানি তেল ও বিপুল পণ্য পরিবহন করা হয়।   উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের ওপর হুথিদের চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেল, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   এদিকে হুথিদের এই আকস্মিক অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের চলমান সংঘাত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এএফপির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে চলা তীব্র সংঘাতে অন্তত ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। সংঘাতের কারণে প্রাণভয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবও হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই লড়াই আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও হুথিদের ঠেকাতে মরিয়া হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ফোবানা অ্যালামনাই: ৩৪ বছরের গল্প, স্মৃতির পাতায় এক সকাল
ফোবানা অ্যালামনাই: ৩৪ বছরের গল্প, স্মৃতির পাতায় এক সকাল

গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার  সকাল ৯.৩০ মিনিট ইউনিভার্সেল হিলটনের একটি মাঝারি মানের রুমে বসেছিল ফোবানার এলামনাই এর মিলন মেলা। শুক্রবার রাতের দেরীতে ঘুমের পর সকালে অনেকের উঠতে দেরী হচ্ছিল৷ এলামনাই এর চেয়ারম্যান ড্ক্টর আব্দুস সাত্তার এর টেনশন৷  কেমন হবে এলামনাই এর মিটিং।   আগেরদিন তিনি আলাউদ্দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে সকালের নাস্তার অর্ডার করেন৷ আমার সাথে আলাউদ্দিনে দেখা৷ বললেন, নাস্তা এখন থেকে নিচ্ছি। বললাম, নেন৷ ভাল হবে। বললেন নিউজ করেন। নিউজ করে সবাইকে জানালাম।    শনিবার সকাল পৌনে দশটা।  সবাই সময়মত আসবেন বললেও  সবাই আসলে দেরীতে ৷ সকাল ১০ টার পর আমরা আনুষ্ঠানিক এলামনাই এর অনুষ্ঠান শুরু করলাম৷  জনাব আব্দুস সাত্তার শুরু করলেন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পড়ল মাহবুব রহিম এর উপর৷ চমৎকার কথা বলেন তিনি। সবাই আসন গ্রহণ করলেন। মঞ্চে আসন গ্রহণ করলেন, ফোবানার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। রেহান রেজা, জসিম উদ্দিন, এটর্নি আলমগীর, ডিউক খান, দিলু মওলা, এম রহমান জহির, ডক্টর জয়নাল আবেদীন, ফারুক আহমদ, হাসমত মোবিন, রবিউল করিম বেলাল ইন্জিনিয়ার আবু হানিফ, মিসেস নার্গিস।   মঞ্চের বাহিরেও হল রুমে অনেকেই বসলেন। মাহবুব রহিম সহজ সরল উপস্থাপনায় জমিয়ে রাখলেন।  ফোবানায় ৩৩/৩৪  বছর যাদের তাদের আলোচনা শুরু হল। তারপর ৩২ বছর, ৩০ বছর হিসাবে সিনিয়ররা বলতে লাগলেন ফোবানায় জড়িত হবার সুখ দু:খের গল্প।  ডিউক খান, দিলু মওলা সবচেয়ে প্রবীন ফোবানায়। একই সাথে হাসমত মোবিন, এম রহমান জহির, নুরুল আমিন নুরু বললেন তাদের গল্প। মিসেস নুরু কথা বললেন, কথা বললেন নাহিদা নাসের ইয়াামিন৷ তিনি জানালেন। ফোবানার এই পরিবার তাকে নতুন করে সাংগঠনিক হতে শক্তি যোগায় ।  তিনি বলতে লাগলেন, ফোবানার সবাই তাকে এত সম্মান করেন যে, তিনি ফোবানার সাথেই আছেন সব সময়।    ডিউক খান বলেন, লস এনজেলস থেকে ফোবানার সাথে সম্পৃক্ত, এখন আটলান্টায় থাকলেও ফোবানার সাথে সাড়ে তিন দশক। জসিম উদ্দিন বলেন, ফোবানার সাথে তার সম্পর্কের কথা,আটলান্টায় একাধিক ফোবানার করার গল্প। হাসমত মোবিন বলেন সাড়ে তিন দশক কিভাবে ফোবানার  সাথে ছিলেন। নুরুল আমিন নুরু বলেন, ফোবানায় সব সময় পরিবার নিয়ে আসেন।   রাতে খাবার পাওয়া যায় না, উনার স্ত্রী ও মিসেস করিম কিভাবে ভাত তরকারি নিয়ে আসেন৷ তাদের দুজনের কনট্রিবিউশন মাহবুব রহিম সুন্দর করে বলতে থাকেন। মিসেস নুরু, মিসেস করিম তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাদেরকে সম্মানিত করায় ধন্যবাদ জানান।    ফোবানার এলামনাই, এর গেট টুগেদার এর খবর ছড়িয়ে পড়লে, হোটেলের ফোবানার সবাই হল রুমে আসেন। চেয়ার পর্যাপ্ত ছিল না, অনেকেই দাড়িয়ে কথা শুনেন। মাহবুব রহিম ফোবানার নির্বাচনের উত্তাপে কি হচ্ছে হোটেলের রুমে বলেন মজা করে।    নাস্তা আসে নাই দুপুর ১২ টা, তখন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান সহ ৩ দশক বা ২ দশক থেকে যারা ফোবানায় আসেন তাদের গল্প, স্মৃতিচারণ করতেই থাকেন।  আটলান্টার আরেফিন বাবুল, চমৎকার করে বলতে থাকেন৷ তিনি কিভাবে এজিএম এ প্রতিবাদ করে যান বছরের পর বছর। সবার কাছে মাপ ও চান ভুল কিছু হলে।  ফোবানার এলামনাই ৮ বছর পর আবার ড. আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সচল হওয়ায় উনাকে ধন্যবাদ দেন সবাই৷    নিউইয়র্কের  মিসেস নার্সিস আহমেদ  , নিউজার্সির  ফারুক আহমদ ফোবানার স্মৃতি চারন করেন৷। নাস্তার সময় পেরিয়ে যায়, গল্প চলতেই থাকে। মাহবুব রহিম একজন অনন্য সঞ্চালক, মজার মজার কথা বলে আটকে রাখেন সবাইকে। সবার জন্য চা ছিল। আলাউদ্দিন থেকে নাস্তা আসতে দেরী হচ্ছিল, আর কথার ফুলঝুরি চলতেই থাকে।    ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল ও নতুন চেয়ারম্যান এম রহমান জহির বলেন তাদের গল্প৷ নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আবির আলমগীর বলেন তিনি প্রায় তিন দশকের মত ফোবানায়।  সোয়া বারোটায় আব্দুস সাত্তারের অর্ডার করা নাস্তা আসে ১০০ জনের মত তখন ছিলেন, সবাইকে টেবিলে নাস্তা দেয়া হয়৷ তখনও কথা চলতেই থাকে।  সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন মাত্র ২ বছর ফোবানায় আসছেন, উনাকে  কিছু বলতে বললে তিনি  কিছুই বলেন নাই, কারন সবাই নাস্তাই চাচ্ছেন। কথা শুনবেন না কেউ৷  এক স্মৃতির নাটক চলতেই থাকে। ফোবানা নিয়ে সবার দীর্ঘদিনের ভালবাসার এক বন্ধন দৃশ্যমান হতে থাকে।  পাবেল আহমদ ৪১ তম ফোবানায় সবাইকে দাওয়াত করেন। ইনস্টলমেন্টে প্যাকেজ কেনার ঘোষনা দেন৷ তিনি বলেন ১০০ ডলার করে দিতে শুরু করেন৷ পাবেল আহমদ সবাইকে সপরিবারে হিউস্টনে আমন্ত্রন জানান।  মাহবুব ভুইয়া সবাইকে বিজনেস লাঞ্চ এ আহবান জানান৷  সমাপতির বক্তব্য ড. আব্দুস সাত্তার ফোবানায় সাংবাদিকদের অবদান স্বীকার করে ধন্যবাদ জানান। ফোবানায় পজেটিভ নিউজ থাকে বলেই ফোবানা গতিশীল ৷  তিনি আরও বলেন। ফোবানা এলামনাই আগামীতে আরও বড় ভুমিকা রাখবে৷    ২ ঘন্টার এলামনাই ব্রেকফাষ্ট মিটিংটা হয়ে উঠেছিল এক স্মৃতি রোমান্থন।  সবাই ফোবানাকেই ভালবাসেন৷ ফোবানা করতে করতে অনেকের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে তারাও ফোবানায় আসতে শুরু করেছে। ফোবানার ভেটারান এটিএম আলম,বলেন - ফোবানার গল্প বলে শেষ করা যাবে না৷ অনেকেই এসেছেন। চলেও গেছেন। আমরা ফোবানাকে ভালবেসেই আছি। জি আই রাসেল, ফোবানার একাধিক কনভেনশন এর কনভেনর৷ দীর্ঘ দিন ফোবানায় আছেন৷ রাসেল বলেন - চক্রান্ত করে গত ৫ বছর তাকে বাহিরে রাখা হলেও মুল ফোবানা ছাড়েন নাই৷ তিনি জানেন না কি তার অপরাধ ছিল?   এখন আর জানতেও চান না৷ সবার সাথেই থাকবেন।    ৪০ বছরের ফোবানায় এখনও অনেকেই আছেন যারা ৩৩ বা ৩৪ টি ফোবানায় এসেছেন৷ তাদের গল্পের শেষ নাই৷ সেই সময়টায় নানা শহরে এত মানুষ জন ছিল না৷ সংগঠন ছিল না৷ কিছু স্বপ্নবোনা মানুষ ফোবানা তৈরী করেছিলেন৷ তাদের অনেকেই ছিলেন এই এলামনাই মিটিং এর রুমে।। সুখ দুঃখের গল্পের শেষ নাই৷  আটলান্টার ডাক্তার মানিক ও মিসেস মানিক লস এনজেলস কমিউনিটির সবাইকে ও ফোবানা পরিবারকে স্মরন করে বলেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। মিসেস মানিক এই ফোবানা পরিবারকে একটি অনন্য প্লাটফর্ম দাবী করে সবার জন্য শুভেচ্ছা জানান।    ফোবানা এলামনাই এর গেট টুগেদার ব্রেকফাষ্ট এ আরও উপস্থিত ছিলেন ডক্টর প্রিয়লাল কর্মকার , মহিউদ্দিন দুলাল, কাজী নাহিদ ও মিসেস নাহিদ, বাবুল হাই, রানা খান,মিম খান,সাম রিয়া, সামসুূূ্দ্দিন, শামসুদ্দিন সাগর,এস আই জুয়েল, আবু রুমি,করিম সালাউদ্দিন, ফরহাদ হোসেন, মোহাম্মদ ইকবাল, জাবেদ চৌধুরী, মারুফ ভুইয়া, মুজিব উদ্দিন, জুয়েল সাদত,রিয়াজ আহমেদ, এন্থনি পিউস গোমেজ, সানি, মোহাম্মদ কাজল, মিসেস কাজল সহ আরো অনেকেই। প্রায় শতাধিক উপস্থিতি ছিল।    এই গল্প আমাদের অমিমাংসিত রয়ে গেল, আবার আমরা শুনব হিউষ্টনে।   

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
চাঁদের পাশাপাশি জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আমেরিকার মালিকানার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প
এবার চাঁদের মালিকানাও দাবি ট্রাম্পের, ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক

‘চাঁদ আমাদের’—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে চাঁদের ছবি ও মার্কিন পতাকার সঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ লেখা ছিল। ট্রাম্পের এই পোস্ট সামনে আসার পরই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। চাঁদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আমেরিকার মালিকানার ইঙ্গিত দেওয়া পোস্ট করেছেন তিনি। তবে চাঁদ কোনো দেশের মালিকানাধীন নয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। ফলে ট্রাম্পের ‘চাঁদ আমাদের’ মন্তব্যটি বাস্তব মালিকানার দাবি নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট—তা নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন স্থান ও ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই লেক ওন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এবার সেই বিতর্কের সঙ্গে যেন নতুন করে যুক্ত হলো চাঁদ। একই সময়ে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাবও দেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অনেকেই নাকি এমন নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এমনকি ‘নিউ মেক্সিকো’ নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বেরও আগের। ট্রাম্পের ধারাবাহিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর গভর্নরের মতে, এ ধরনের প্রস্তাবের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়ও রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য তিনি এ বিষয়ে কতটা সিরিয়াস ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সব মিলিয়ে ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্টটি এখন শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য, তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চাঁদ নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় দরকার, নতুন হিসাব
আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় দরকার, নতুন হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় শুধু ৬ অঙ্কের বেতন পেলেই স্বচ্ছন্দে থাকা নিশ্চিত হচ্ছে না। ২০২৬ সালের এক নতুন বিশ্লেষণ বলছে, সন্তানহীন একক একজন প্রাপ্তবয়স্কের যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যভেদে এই প্রয়োজন আরও অনেক বেশি। হাওয়াইয়ে একজনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, আর নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলার।    স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণে আবাসন, খাবার, পরিবহন, হেলথ কেয়ারসহ মৌলিক খরচ বিবেচনা করা হয়েছে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বার্ষিক প্রি-ট্যাক্স আয় হিসাব করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচ, ৩০ শতাংশ ইচ্ছাধীন ব্যয় এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধের জন্য ধরা হয়েছে।    অর্থাৎ সর্বনিম্ন হিসাব অনুযায়ী, একজন একক ব্যক্তির মাসিক প্রি-ট্যাক্স আয় প্রায় ৬ হাজার ৮০০ ডলার বা তার বেশি হলে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে থাকা মাসিক বেতন নয়। কর ও অন্যান্য কর্তনের পর হাতে পাওয়া অর্থ এর চেয়ে কম হবে।   অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যবধানও বড়। সবচেয়ে কম খরচের অঙ্গরাজ্য হিসেবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য বছরে প্রায় ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার প্রয়োজন। বিপরীতে হাওয়াইয়ে প্রয়োজন ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার। নিউইয়র্কে প্রয়োজন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৭ ডলার।    বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। টেক্সাসে একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য বছরে প্রায় ৯০ হাজার ৫৬৩ ডলার প্রয়োজন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পেনসিলভেনিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ৯৭ হাজার ১১ ডলার। নিউ জার্সিতে এই অঙ্ক প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৭৬ ডলার।    পরিবার নিয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় আয় আরও বেড়ে যায়। দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪০টিতেই বছরে অন্তত ২ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটসে, প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। বিপরীতে মিসিসিপিতে চার সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার।    জীবনযাত্রার ব্যয়ের বড় অংশই যায় বাসস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে ইউএসএফ্যাক্টস জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ভাড়াটিয়া পরিবারের গড় মাসিক ভাড়া, ইউটিলিটিসহ, ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৭ ডলার। একই সময়ে ভাড়াটিয়া পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫৩৭ ডলার। অর্থাৎ গড়ে আয়ের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ ভাড়ায় চলে গেছে।    তবে বাস্তবে কোনো পরিবার কত আয় করলে ভালোভাবে চলতে পারবে, তা শুধু অঙ্গরাজ্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। একই অঙ্গরাজ্যের মধ্যেও শহর ও এলাকার ভিত্তিতে রেন্ট, যাতায়াত, চাইল্ড কেয়ার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য খরচে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।   গবেষণাটির হিসাবও মূলত একটি আর্থিক মানদণ্ড, কোনো পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট বেতনসীমা নয়। গবেষণায় ব্যবহৃত মৌলিক জীবনযাত্রার খরচের তথ্য নেওয়া হয়েছে এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর থেকে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতির ভিত্তিতে স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণ করা হয়েছে।    ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বসবাস শুরু করা বা অন্য অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, বরং রেন্ট, কর, গাড়ি ও ইন্স্যুরেন্স, হেলথ কেয়ার, চাইল্ড কেয়ার এবং সঞ্চয়ের খরচ একসঙ্গে হিসাব করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
১৩ বছর পর আমেরিকা ছেড়ে জার্মানির পথে ইউএস আর্মির বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার
১৩ বছর পর আমেরিকা ছেড়ে জার্মানির পথে ইউএস আর্মির বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার

চাকরির কারণে ১৩ বছরের পরিচিত জীবন পেছনে ফেলে আমেরিকা থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার। পরিবার, বন্ধু, পরিচিত শহর আর অসংখ্য স্মৃতি ছেড়ে নতুন দেশে যাত্রা তার জন্য যেমন আবেগের, তেমনি নতুন অভিজ্ঞতারও।   ভোর রাতে মিজৌরির সেন্ট লুইস এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হয় পঙ্কজের যাত্রা। সেন্ট লুইস থেকে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, এরপর বাল্টিমোর থেকে জার্মানির রামস্টেইন এয়ার বেস। সেখান থেকে আরও প্রায় ছয় ঘণ্টার বাসযাত্রা শেষে পৌঁছান নিজের নতুন ইউনিটে।   অচেনা জায়গা আর অচেনা মানুষ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মনে ছিল নানা ভাবনা। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর রিসেপশনে পাওয়া আন্তরিক অভ্যর্থনা অনেকটাই স্বস্তি দেয় তাকে। সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল আলাদা একটি রুম, বাথরুম ও কিচেনসহ পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট।   দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যে এই আয়োজনই যেন হয়ে ওঠে নতুন জীবনের প্রথম স্বস্তি। আগামী কয়েক বছর এই জায়গাটিই হবে পঙ্কজের ঠিকানা। অচেনা এই পরিবেশেই তৈরি হবে নতুন গল্প, নতুন অভিজ্ঞতা আর নতুন স্মৃতি।   তবে নতুন জীবনের শুরু হলেও নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে আসার অনুভূতি সহজ নয়। শহরটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের দীর্ঘ ১৩ বছরের অসংখ্য স্মৃতি। নিউইয়র্কের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যেমন অনেক স্বপ্ন দেখেছেন, তেমনি সেখানে পেয়েছেন আনন্দের মুহূর্ত এবং কঠিন সময় পার করার অভিজ্ঞতাও।   তাই নিউইয়র্ক ছেড়ে আসা তার কাছে কেবল একটি শহর ছেড়ে যাওয়া নয়। এটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সাময়িকভাবে পেছনে রেখে নতুন অধ্যায়ের পথে যাত্রা।   প্রিয় নিউইয়র্ক এখন পেছনে, সামনে জার্মানি। নতুন দেশ, নতুন ঠিকানা, নতুন মানুষ আর নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো পঙ্কজ তালুকদারের জীবনের আরেকটি অধ্যায়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইর অভিযান জোরদার
“আমেরিকান সড়ক, আমেরিকান গাড়িচালক” - ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইর অভিযান জোরদার

“আমেরিকান সড়ক, আমেরিকান গাড়িচালক” - এই স্লোগান সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ায় কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স বা সিডিএল জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট - আইসিই।   আইসিইর সান ফ্রান্সিসকো কার্যালয়ের স্পেশাল এজেন্টরা স্টকটন, স্যাক্রামেন্টো ও সান হোসে এলাকায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অংশ নিচ্ছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আইসিইর ভাষ্য, সিডিএল জালিয়াতির কারণে সড়ক নিরাপত্তায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় সিডিএল নিয়ে ফেডারেল সরকারের কড়াকড়িও বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে ফেডারেল সরকারের নির্দেশে প্রায় ১৩ হাজার নন-ডোমিসাইলড কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে ডিএমভি স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট সব লাইসেন্সধারী জালিয়াতি করেছেন - এমন নয়; অনেকেই তখন বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজের অনুমতি নিয়ে লাইসেন্স পেয়েছিলেন।   ফেডারেল নিয়মে নন-ডোমিসাইলড সিডিএল ইস্যুর ক্ষেত্রে অনিয়ম নিয়ে তদন্তের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় লাইসেন্স ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত মেয়াদের বৈধ উপস্থিতির ভিত্তিতে নন-ডোমিসাইলড সিডিএল দেওয়া স্থগিত রেখেছে ক্যালিফোর্নিয়া ডিএমভি।   ডিএমভির তথ্য অনুযায়ী, জালিয়াতির মাধ্যমে বা অযোগ্য ব্যক্তির হাতে লাইসেন্স গেলে তা সরাসরি সড়ক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে জালিয়াতির তথ্য পেলে ডিএমভি লাইসেন্স যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।   আইসিইর সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতেও দেশজুড়ে সিডিএল জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি দাবি করছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য আমেরিকার সড়ক নিরাপদ রাখা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সিডিএল পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড থেকে আজ পিএইচডি-এমডি-এমবিএধারী চিকিৎসক রাসেল
সিকিউরিটি গার্ড থেকে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী, অসম্ভবকে সম্ভব করলেন রাসেল

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার লেক চার্লসে দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের মধ্যে বেড়ে ওঠা রাসেল জে. লেডেট একসময় ব্যাটন রুজ জেনারেল হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন। কাজের ফাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে এবং চিকিৎসকদের ছায়াসঙ্গী হওয়ার সুযোগ খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত তিনি অর্জন করেছেন মলিকিউলার অনকোলজিতে পিএইচডি, টুলেন ইউনিভার্সিটি থেকে এমডি ও এমবিএ। বর্তমানে তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ট্রিপল বোর্ড প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত।  রাসেলের শৈশব কেটেছে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে। তার মা ছিলেন একজন সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং একাই দুই সন্তানকে বড় করেছেন। পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেও অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। এই বাস্তবতাই রাসেলকে স্থির আয়ের আশায় যুক্তরাষ্ট্রের নেভিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করে। পরে নেভিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষার পথ বেছে নেন।  কলেজে পড়ার সময় পরিবারকে সহায়তা করতে ব্যাটন রুজ জেনারেল হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেন রাসেল। হাসপাতালের পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে খুব কাছ থেকে চিকিৎসকদের কাজ এবং রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার দৃশ্য দেখার সুযোগ পান তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। কাজের ফাঁকে তিনি ফ্ল্যাশকার্ড নিয়ে পড়াশোনা করতেন এবং চিকিৎসকদের কাছে শ্যাডো করার সুযোগ চাইতেন। তবে অনেকেই তাকে বলেছিলেন, সিকিউরিটি গার্ডরা চিকিৎসক হতে পারে না। তবে একজন চিকিৎসক তার সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন। ব্যাটন রুজ জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি রেসিডেন্ট ডা. প্যাট্রিক গ্রিফেনস্টেইন তাকে রাউন্ডে সঙ্গে থাকার সুযোগ দেন। সেই সুযোগ রাসেলের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং চিকিৎসা ও গবেষণার পথে এগিয়ে যেতে তাকে আরও অনুপ্রাণিত করে। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে মলিকিউলার অনকোলজি ও টিউমার ইমিউনোলজিতে পিএইচডি অর্জন করেন রাসেল। এরপর টুলেন ইউনিভার্সিটিতে এমডি ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। তার শিক্ষাজীবনের এই দীর্ঘ পথ তাকে একই সঙ্গে চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করেছে।  চিকিৎসা পেশায়ও রাসেলের পথ ছিল ব্যতিক্রমী। তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রিপল বোর্ড প্রোগ্রামে ভর্তি হন, যেখানে পেডিয়াট্রিকস, জেনারেল সাইকিয়াট্রি এবং চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে তিনি এই প্রোগ্রামে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ হিসেবে ম্যাচ করেন এবং ২০২৭ সালে তার প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার কথা।  চিকিৎসা ও গবেষণার পাশাপাশি কমিউনিটিতে প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেও কাজ করছেন রাসেল। ২০১৯ সালে টুলেন ইউনিভার্সিটির আরও ১৪ জন কৃষ্ণাঙ্গ মেডিকেল শিক্ষার্থীর সঙ্গে লুইজিয়ানার হুইটনি প্ল্যান্টেশনে সাদা কোট পরা অবস্থায় ছবি তোলেন তিনি। দাসপ্রথার ইতিহাস বহনকারী ওই স্থানে তোলা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে এই উদ্যোগ থেকেই গড়ে ওঠে দ্য ১৫ হোয়াইট কোটস।  দ্য ১৫ হোয়াইট কোটস এখন একটি অলাভজনক সংগঠন হিসেবে চিকিৎসা পেশায় কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে। সংগঠনটি স্কলারশিপ, মেন্টরশিপ ও মেডিকেল স্কুলে ভর্তির প্রস্তুতিতে সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপ্রেরণামূলক ছবি পৌঁছে দিচ্ছে। সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তাদের ছবি বিশ্বের ১০ হাজারের বেশি শিক্ষাঙ্গনে পৌঁছেছে এবং তারা চিকিৎসা পেশায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তাও দিয়ে আসছে।  রাসেলের গল্প তাই শুধু একজন সিকিউরিটি গার্ডের চিকিৎসক হয়ে ওঠার গল্প নয়। দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও সীমিত সুযোগের মধ্য থেকেও শিক্ষা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের পথ তৈরি করার পাশাপাশি তিনি এখন এমন একটি প্রজন্মকে উৎসাহিত করছেন, যারা একসময় হয়তো চিকিৎসক হওয়াকেও নিজেদের জন্য অসম্ভব মনে করত।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
একসময় ঝকঝকে ও চকচকে থাকা জাহাজটির নিচের অংশজুড়ে এবার বড় বড় জায়গায় দেখা দিয়েছে মরিচা
ঝকঝকে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী আব্রাহাম লিংকন এখন মরিচায় জর্জরিত!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ফিরছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দেশে ফেরার আগে গত বুধবার থাইল্যান্ডের উপকূলে নোঙর করে রণতরীটি। আর সেটি দেখতে সমুদ্রতীরে ভিড় করেন বহু মানুষ।   তবে রণতরীটির বর্তমান অবস্থা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। একসময় ঝকঝকে ও চকচকে অবস্থায় দেখা গেলেও এবার এর নিচের অংশে বড় বড় জায়গাজুড়ে মরিচা দেখা গেছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠেছে—এত শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক একটি মার্কিন রণতরীর এমন অবস্থা হলো কেন?   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে মূল কারণ দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করা।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর টানা প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেছে রণতরীটি। এ সময় এটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং নৌ-অবরোধে অংশ নেয়।   দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরীর পানির নিচের অংশে মরিচা পড়া স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দীর্ঘ সময় ধরে ধাতব অংশের সংস্পর্শে থাকায় এ ধরনের ক্ষয় তৈরি হয়।   মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল স্কুসজার, যিনি আব্রাহাম লিংকনের মতো রণতরীতে তিনবার সমুদ্র অভিযানে ছিলেন, সিএনএনকে বলেন, কোনো জাহাজ ৬০ দিন বা তার বেশি সময় সমুদ্রে মোতায়েন থাকলে পানির নিচের অংশে মরিচা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।   তার মতে, যুদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে থাকা অবস্থায় সমুদ্রে থাকা জাহাজের এই মরিচা সাধারণত পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। কারণ মরিচা পরিষ্কার ও নতুন করে রং করতে হলে জাহাজের পানির স্তরের নিচের অংশে গিয়ে কাজ করতে হয়।   সাবেক এই নৌ কর্মকর্তা জানান, রণতরীটি বন্দরে ফেরার পর মরিচা পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ থাইল্যান্ডে অবস্থানকালেও সম্পন্ন করা হতে পারে।   অর্থাৎ, রণতরীটির নিচের অংশে মরিচা দেখা দিলেও এটি বড় ধরনের ক্ষতির লক্ষণ নয়। বরং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থেকে সামরিক দায়িত্ব পালনের স্বাভাবিক ফল হিসেবেই বিষয়টিকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
মিনিয়াপোলিসের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ অন্তত তিনজন নিহত
মিনিয়াপোলিসে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলা, সন্দেহভাজনসহ নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।   স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে শহরের কেন্দ্রস্থলের ১৫ ইস্ট গ্র্যান্ট স্ট্রিটের একটি উঁচু ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মিনিয়াপোলিস পুলিশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিল পিটারসন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটের দিকে ভবনটিতে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে একাধিক ব্যক্তি ফোন করে গুলির শব্দ শোনার কথা জানালে ঘটনাটিকে দ্রুত সক্রিয় বন্দুকধারীর হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।   পুলিশ কর্মকর্তারা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে দেখতে পান এবং গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে কর্মকর্তারা গুলির শব্দ অনুসরণ করে ভবনের ওপরের একটি তলায় পৌঁছান। সেখানে ঘন কুয়াশার মতো একটি আবরণ থাকায় তাদের দৃষ্টিসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে ওই আবরণটি কী কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজন হামলাকারীর গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত হন। তবে তিনি কীভাবে নিহত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট করেনি পুলিশ। পুলিশ প্রধান বিল পিটারসন ঘটনাটিকে ‘একজন সহিংস বন্দুকধারীর কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   হামলায় গুলিবিদ্ধ পাঁচজনের মধ্যে দুইজন মিনিয়াপোলিস পুলিশের কর্মকর্তা। আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ না হলেও অন্যভাবে আহত হয়েছেন। তিন পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থাই স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে হেনেপিন কাউন্টি মেডিকেল সেন্টার। নিহত সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় বুধবার পর্যন্ত প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি পুলিশের অপরিচিত ছিলেন না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগে থেকেই তাকে চিনত। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প ও সহযোগীদের ইরানকেন্দ্রিক নতুন কৌশল
নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখতে চান ট্রাম্পের সহযোগীরা, এরপর বাড়তে পারে হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আপাতত আর বড় আকারে বাড়াতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। অন্তত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন হোয়াইট হাউসের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবারও জোরালো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের আলোচনা সম্পর্কে জানেন—এমন চারজন ব্যক্তি বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পাল্টা হামলা বা অন্য কোনো ঘটনা পরিস্থিতি বদলে দিলে এই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে।   এই মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে, তবে নভেম্বরের নির্বাচনও এখন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।   এর পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও রয়েছে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই অল্প ব্যবধানে। ফলে নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ আরও বড় আকার নিলে সেটি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।   এরই মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষও বাড়ছে। রয়টার্স ও ইপসসের আগস্টের শেষের দিকের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে ৬৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানির বাড়তি দাম, যা সাধারণ মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করছে।   যুদ্ধের গতি কিছুটা কমানোর পেছনে সামরিক কারণও রয়েছে। কয়েক মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকটাই কমে গেছে। ফলে সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত আবার পূরণ করার জন্য সময় দেওয়াও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।   কিন্তু সমস্যা হলো, যুদ্ধকে চাইলেই নভেম্বর পর্যন্ত শান্ত রাখা নাও যেতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা করে। এর জবাবে ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।   এরপর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আরও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ের পর এটিকে সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব হামলায় ইরানে সামরিক সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন।   বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা ছাড়াও মার্কিন ও উপসাগরীয় মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে তেহরান।   এতে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পাল্টা জবাব দেওয়ার চাপ বাড়বে। এক পক্ষের হামলার জবাবে অন্য পক্ষের হামলা—এভাবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বাড়াতে না চাইলেও ঘটনাপ্রবাহ তাদের আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের দিকে ঠেলে দিতে পারে।   এর মধ্যে ট্রাম্প নিজেও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইরান যদি সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাব দেয়, তাহলে দেশটির ওপর আরও কঠিন ও বড় মাত্রার হামলা চালানো হবে।   তবে পরদিন কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নতুন করে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে নভেম্বরের নির্বাচন ইরানবিষয়ক তার নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও দাবি করেন।   ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে নির্বাচনে লড়ছেন না, তার দল লড়ছে এবং তিনি দলকে সহায়তা করবেন। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।   যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতির ‘সময়সূচি বদলে গেছে’। আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ক্যালেন্ডারই ইরানকে পরিচালিত করছে।’ অর্থাৎ নভেম্বরের নির্বাচন এখন ইরান নীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।   সামরিক অভিযান কিছুটা সীমিত রাখার পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধও অব্যাহত আছে।   তবে শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানকে নত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা সত্ত্বেও ইরানের নেতৃত্ব তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি। বরং চাপ আরও বাড়লে ইরান সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।   তার ওপর চীনের মতো বড় শক্তিগুলো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় পুরোপুরি সহযোগিতা করছে না। ফলে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর কৌশল কতটা সফল হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।   সব মিলিয়ে, নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ফলে নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত সীমিত থাকবে, নাকি তার আগেই আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হবে—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
শিকড়ের টানে ভার্জিনিয়ায় এক হচ্ছেন ফেনীবাসীরা, আয়োজিত হচ্ছে প্রথম পুনর্মিলনী
শিকড়ের টানে ভার্জিনিয়ায় এক হচ্ছেন ফেনীবাসীরা, আয়োজিত হচ্ছে প্রথম পুনর্মিলনী

আমেরিকার ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল পেরিয়ে শিকড়ের টানে একত্রিত হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফেনী জেলার প্রবাসীরা। প্রবাসে ফেনীবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’র প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ২০২৬।   “একসাথে মিলি বন্ধন গড়ি, আমরা সবাই ফেনীবাসী”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক সংগঠন ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত মনোরম ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই মহা মিলনমেলার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান শুরু হবে দুপুর ১২টায়।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসে ফেনীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখা, শৈশব ও কৈশোরের বন্ধুদের সঙ্গে পুরোনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ফেনীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।   দিনব্যাপী এই পুনর্মিলনীতে প্রবাসী ফেনীবাসীদের জন্য থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। থাকবে স্মৃতিময় আড্ডা, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ এবং ছোট-বড় সবার জন্য আনন্দঘন পরিবেশ। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে থাকছে বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য থাকবে ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময় খাবারের আয়োজন।   পুনর্মিলনীর অন্যতম আকর্ষণ হবে জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ড. সীমা খান ও জহির। ফেনীর মাটি ও মানুষের গানসহ ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত পরিবেশন করবেন কণ্ঠশিল্পী ইসরাত শর্মী। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় সাজাবেন জনপ্রিয় সঞ্চালিকা রূপা।   আয়োজকরা জানান, কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের মাঝেও ফেনীর মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।   ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’র পরিচালনা ও অ্যাডমিন প্যানেল পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল ফেনী প্রবাসী, তাঁদের স্বজন ও পরিবারবর্গকে সপরিবারে এই পুনর্মিলনীতে অংশ নেওয়ার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।   আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাটির টান ও নাড়ির বন্ধনে সাড়া দিয়ে বিপুলসংখ্যক ফেনীবাসী এই মিলনমেলায় অংশ নেবেন এবং দিনটি প্রবাসে ফেনীবাসীদের জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় প্রিয়জনের মৃত্যুতে খরচের চাপে পরিবারগুলো
মৃত্যুও এখন ব্যয়বহুল! আমেরিকায় প্রিয়জনের মৃত্যুতে খরচের চাপে পরিবারগুলো

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর পর পরিবারের ওপর পড়া আর্থিক চাপও বাড়ছে। শেষকৃত্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের এই বাড়তি বোঝা বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলছে।   দেশটিতে একের পর এক বেবি বুমার প্রজন্মের মানুষ জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শেষকৃত্যের খরচও অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক উদ্বেগ হয়ে উঠছে। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি পরিবারকে সামলাতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয়।   মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর এই চাপ তুলনামূলক বেশি। কারণ এসব পরিবারের অনেকেই বড় ধরনের উত্তরাধিকার পাওয়ার সুযোগ কম থাকায় প্রিয়জনের শেষকৃত্যের খরচ সামলাতে নিজেদের সঞ্চয় বা আয় থেকে অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হন।   ফলে অনেক পরিবারের কাছে মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতাগুলোও ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। শেষকৃত্য, দাফন বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন আর্থিক পরিকল্পনাতেও চাপ তৈরি হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে যখন পরিবারগুলো আগে থেকেই বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে, তখন মৃত্যুর পরের এই ব্যয় আরেকটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রিয়জনের শেষকৃত্যের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা

কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করে, তাদের সদর দপ্তর ও উৎপাদন কার্যক্রম আমেরিকায় সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কানাডীয় কোম্পানিগুলোকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসার আহ্বান জানান।   ট্রাম্প বলেন, কানাডীয় কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সদর দপ্তর ও উৎপাদন কার্যক্রম স্থানান্তর করলে নতুন করে আরোপিত শুল্ক এড়াতে পারবে। তার প্রশাসনের নতুন শুল্ক ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।    ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়েছে এবং দুই দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করছে। ট্রাম্প কিছু কানাডীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে দুগ্ধজাত পণ্য ও কাঠও রয়েছে। অন্যদিকে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে।  ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে সুবিধা নিয়েছে। তবে বাস্তবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের আন্তঃসীমান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম হয় বলে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির তথ্য উল্লেখ করেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।    ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে বিশেষভাবে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখনো কানাডাসহ অন্যান্য দেশের ওপর যন্ত্রাংশ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্ভরশীল। ফলে নতুন শুল্কের কারণে মার্কিন গাড়ি শিল্পেও বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তিনি ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে বলেন, এমন পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।    কানাডার পাল্টা শুল্কের পর যুক্তরাষ্ট্রও আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ আরও দীর্ঘায়িত হলে সীমান্তবর্তী ব্যবসা, গাড়ি শিল্প এবং দুই দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডাকে পেছনে ফেলে অবসরপ্রাপ্তদের নতুন ঠিকানা ডেলাওয়্যার
ফ্লোরিডাকে পেছনে ফেলে অবসরপ্রাপ্তদের নতুন ঠিকানা ডেলাওয়্যার, কম কর আর সৈকতই মূল আকর্ষণ

অবসর কাটাতে উষ্ণ আবহাওয়া, তুলনামূলক কম খরচ ও শান্ত পরিবেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোরিডা ছিল বয়স্ক আমেরিকানদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে এখন সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেক বেবি বুমার ফ্লোরিডার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের ডেলাওয়্যারের সমুদ্রঘেঁষা এলাকাগুলোতে বসতি গড়ছেন।   ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে ডেলাওয়্যারের সাসেক্স কাউন্টিতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে বসতি গড়েছেন। এতে কাউন্টিটির জনসংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যা একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের প্রায় পাঁচ গুণ।   বয়স্কদের আগমনেও ডেলাওয়্যার এগিয়ে আছে। ২০২০ সালের পর রাজ্যটিতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেড়েছে, যা দেশের যেকোনো রাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ। এর পেছনে সাসেক্স কাউন্টিতে বিপুলসংখ্যক বেবি বুমারের স্থানান্তর অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   অবসরপ্রাপ্তদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ কর ও জীবনযাত্রার খরচ। ডেলাওয়্যারে ইনকাম ট্যাক্স থাকলেও কোনো সেলস ট্যাক্স নেই। পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে প্রপার্টি ট্যাক্সও কম।   ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানার ব্র্যাড ট্রাভিস জুনিয়র ব্লুমবার্গকে বলেন, নিউ জার্সি থেকে ডেলাওয়্যারে যাওয়া কোনো কোনো বাড়ির মালিক বছরে প্রায় ১৮ হাজার ডলারের প্রপার্টি ট্যাক্সের পরিবর্তে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি দিতে পারেন।   ডেলাওয়্যারের লুইস ও রেহোবোথ বিচ এখন অবসরপ্রাপ্তদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। সমুদ্রসৈকত, তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ এবং বড় শহরের তুলনায় কম খরচ অনেককে আকৃষ্ট করছে।   নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী অ্যানেট বাবিচও তাদের একজন। অবসর কাটানোর জন্য অনলাইনে বিভিন্ন জায়গা খুঁজতে গিয়ে তিনি ডেলাওয়্যারের লুইসের সন্ধান পান। ২০১৮ সালে সেখানে গিয়ে এক রিয়েলটরের পরামর্শে তিনি সমুদ্র থেকে কিছুটা ভেতরের মিল্টন এলাকায় বাড়ি কেনেন।   বাবিচের ভাষায়, নিউইয়র্কের তুলনায় ডেলাওয়্যারে তার নতুন বাড়িটির দাম ছিল অবিশ্বাস্য রকম কম। পরে তিনি নিউইয়র্কের প্রায় এক ডজন বন্ধুকেও ডেলাওয়্যারে চলে আসতে উৎসাহিত করেছেন।   তবে বয়স্কদের এই ঢল ডেলাওয়্যারের জন্য নতুন কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। সমুদ্রসৈকতের দিকে যাওয়ার সড়কগুলোতে যানজট বাড়ছে। চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে এবং বাড়তে থাকা আয় ও সম্পত্তির দাম স্থানীয় শিক্ষক ও হেলথ কেয়ার কর্মীদের জন্যও বসবাসের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।   সাসেক্স কাউন্টির গড় বয়সও দ্রুত বাড়ছে। গত বছর কাউন্টিটির মধ্যম বয়স দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ২ বছর, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় পাঁচ বছর বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১৪ বছর বেশি।   সাসেক্সে বসবাসকারী ৭৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার অধ্যাপক জো পিকা বলেন, এলাকায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে যানজট, দৈনন্দিন নানা ঝামেলা ও মানসিক চাপও বেড়েছে। তিনি জানান, কোলনোস্কপির জন্য তাকে নয় মাস এবং ডেন্টাল অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ১৮ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। ত্বকের চিকিৎসকের কাছে যেতে তাকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে যেতে হয়।   জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডেভেলপাররাও এখন উপকূলের বাইরে কৃষিজমি এলাকায় নতুন আবাসিক কমিউনিটি তৈরি করছেন। এর মধ্যে অনেকগুলো বিশেষভাবে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের জন্য বাজারজাত করা হচ্ছে।   তবে স্থানীয়দের একটি অংশের আশঙ্কা, অতিরিক্ত উন্নয়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি ডেলাওয়্যারের ছোট শহরের স্বতন্ত্র পরিবেশ নষ্ট করে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যটির ধীরগতির জীবনযাত্রার কারণে যে ‘লোয়ার, স্লোয়ার ডেলাওয়্যার’ পরিচিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও হুমকির মুখে পড়তে পারে।   ফলে অবসরপ্রাপ্তদের কাছে ডেলাওয়্যার যতই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, নতুন বাসিন্দাদের এই ঢল রাজ্যটির জন্য একই সঙ্গে সুযোগ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় উপস্থিতি কয়েকটি স্টেটকে ঘিরে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশের বসবাস নিউইয়র্কে।   ১. নিউইয়র্ক বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র নিউইয়র্ক। প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার বাংলাদেশি সেখানে বসবাস করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ। নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশি ব্যবসা, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই কমিউনিটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।   ২. মিশিগান প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে মিশিগানও বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় কেন্দ্র। বিশেষ করে ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন।   ৩. ক্যালিফোর্নিয়া প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসেসহ বিভিন্ন মহানগর এলাকায় শিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও পেশাজীবী খাতে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।   ৪. টেক্সাস প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে টেক্সাসও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাংলাদেশি কমিউনিটির স্টেটগুলোর একটি। হিউস্টন, ডালাস ও অস্টিনসহ বড় শহরগুলোতে বাংলাদেশিদের ব্যবসা, পেশাজীবী কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।   ৫. নিউ জার্সি প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি নিউ জার্সিতে বসবাস করেন। নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে স্টেটটি বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকের কিছু বেশি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বিভিন্ন স্টেটে ছড়িয়ে পড়ছে। নিউইয়র্ক এখনো সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও বাংলাদেশিদের শক্তিশালী ও স্থায়ী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।   তবে এখানে ব্যবহৃত জনসংখ্যার হিসাব শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে নিজেদের উল্লেখ করা মানুষদের নিয়ে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এই হিসাবের মধ্যে যারা বাংলাদেশি পরিচয়ের পাশাপাশি অন্য কোনো জাতিগত বা এশীয় পরিচয়ও উল্লেখ করেছেন, তারা এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে থাকতে পারেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইসরাইলপন্থি মেলিসাকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আয়েশা ওয়াহাব
ইসরাইলপন্থি মেলিসাকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আয়েশা ওয়াহাব

ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আয়েশা ওয়াহাব। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া আসনটি পূরণ করতে এই বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।    মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটের ফল বৃহস্পতিবার রাতে স্পষ্ট হওয়ার পর ওয়াহাবের জয় নিশ্চিত হয়। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী তিনি ৫৩.১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট মেলিসা হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৬.৯ শতাংশ। আলামেডা কাউন্টির ফলাফলেও ওয়াহাবের ৫৩.০৯ শতাংশ এবং হার্নান্দেজের ৪৬.৯১ শতাংশ ভোট পাওয়ার তথ্য রয়েছে।   সোয়ালওয়েল চলতি বছরের এপ্রিলে যৌন অসদাচরণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মধ্যে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার পদত্যাগের পর ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট বে এলাকার এই আসনটি শূন্য হয়ে যায়।    ওয়াহাবের জয় শুধু একটি আসন পূরণের ঘটনা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আফগান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এর আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম ও প্রথম আফগান-আমেরিকান সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। এবার সেই পথ পেরিয়ে তিনি ফেডারেল পর্যায়ে কংগ্রেসে জায়গা করে নিলেন।    বিশেষ নির্বাচনের প্রচারণায় ওয়াহাব প্রগ্রেসিভ ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত অবস্থান ধরে রাখেন। আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ তার প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানও নির্বাচনী লড়াইয়ে আলোচনায় আসে।    অন্যদিকে হার্নান্দেজ তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রচারণা চালান। নির্বাচনী লড়াইয়ে তার পক্ষে বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। এআইপিএসি-সংশ্লিষ্ট একটি সুপার প্যাক ওয়াহাবকে আক্রমণ করে বিজ্ঞাপনে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    আয়েশা ওয়াহাব তার জয়ের পর প্রচারণায় বিপুল বাইরের অর্থের প্রবাহ ও তার বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এসবের মধ্যেও তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে সমর্থন করেছেন।   তবে এই জয় ওয়াহাবের জন্য আপাতত পূর্ণ মেয়াদের কংগ্রেস সদস্যপদ নিশ্চিত করছে না। বিশেষ নির্বাচনে তিনি সোয়ালওয়েলের অবশিষ্ট মেয়াদ পূরণ করবেন, যা জানুয়ারিতে শেষ হবে। এরপর ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে একই আসনের পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য আবারও ওয়াহাব ও হার্নান্দেজ মুখোমুখি হবেন।    হার্নান্দেজ ইতোমধ্যে নভেম্বরের লড়াই নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নতুন করে নির্ধারিত ১৪তম ডিস্ট্রিক্টের সীমানায় প্রায় ২৬ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা করছেন, নিজের সাবেক মেয়র এলাকা ডাবলিন থেকে আরও সমর্থন আদায় করতে পারবেন।   ফলে বিশেষ নির্বাচনে ইতিহাস গড়ার পর ওয়াহাবের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার এই ডেমোক্র্যাট-প্রধান আসন থেকে পূর্ণ দুই বছরের জন্য কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করবেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
অফিসে একজন কর্মকর্তা কাজ করছেন প্রতীকী। ছবি: সংগ্রহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নিয়োগের গতি কমলেও ছাঁটাই এখনো কম

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন নিয়োগের গতি ধীর হয়ে পড়লেও কর্মরত মানুষের মধ্যে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা এখনো দেখা দেয়নি। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটিতে বেকার ভাতার জন্য নতুন করে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯ হাজার মানুষ। এর আগের সপ্তাহে সংশোধিত হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ।   অর্থনীতিবিদেরা ২ লাখ ৫ হাজার আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে নতুন আবেদনের সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়েও কিছুটা বেশি হয়েছে।   তবে এক সপ্তাহের এই বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বড় ধরনের দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। গত চার সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদনের গড় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সময়ে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা ২২ হাজার কমে প্রায় ১৭ লাখ ৮০ হাজারে নেমেছে।   শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদেরা অনেকটা এমন একটি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক থাকলেও বিদ্যমান কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করছে না। এর ফলে যারা ইতিমধ্যে চাকরিতে আছেন, তাদের চাকরির নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।   চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬১ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। গত বছর এই গড় ছিল মাত্র ৯ হাজার ৭০০। তবে মহামারি পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে যে দ্রুতগতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক দুর্বল। ওই দুই বছরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল।   সর্বশেষ চাকরির হিসাবেও শ্রমবাজারের ধীরগতির চিত্র ফুটে উঠেছে। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার কারণে বেকারত্বের হার কমলেও সেটিকে পুরোপুরি শক্তিশালী চাকরির বাজারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে না।   উচ্চ সুদের হার, বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্ক অবস্থান নতুন নিয়োগের ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কর্মী বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের ধরে রাখার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।   তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখনো বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের ঢেউ দেখা যায়নি। গত এক বছরে প্রতি সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদন সাধারণত ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজারের মধ্যে ছিল, যা ঐতিহাসিক বিবেচনায় তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে চাকরিতে থাকা মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল বলে মনে করা হচ্ছে।   অর্থনীতিবিদদের জন্য মূল উদ্বেগ তাই বর্তমানে শুধু কত মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন, তা নয়; বরং নতুন চাকরি কতটা তৈরি হচ্ছে, সেটিও। নিয়োগের গতি দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল থাকলে চাকরি পরিবর্তন করতে চাওয়া এবং নতুন করে কর্মসংস্থানে প্রবেশ করতে চাওয়া মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।   সর্বশেষ পরিসংখ্যানের সামগ্রিক চিত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনো ভেঙে পড়েনি। তবে দ্রুতগতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সময়ও আর নেই। কম নিয়োগ এবং কম ছাঁটাইয়ের এই ভারসাম্য কতদিন বজায় থাকবে, সেটিই আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

Unknown আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যে ভুলে হাতছাড়া হতে পারে হাজার ডলারের রিফান্ড
আমেরিকায় ট্যাক্স ফাইল করছেন? যে ভুলে হাতছাড়া হতে পারে হাজার ডলারের রিফান্ড

আমেরিকায় আয়কর বিবরণী জমা দিলেই সরকারকে বাড়তি টাকা দিতে হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেকের বেতন থেকে সারা বছর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আয়কর কেটে রাখা হয়। আবার সন্তান, স্বল্প ও মাঝারি আয় কিংবা উচ্চশিক্ষার খরচের কারণে অনেকে বিশেষ করছাড়ের যোগ্য হন। এসব ক্ষেত্রে বছর শেষে আয়কর হিসাব করার পর শত শত কিংবা হাজার হাজার ডলার ফেরত পাওয়া সম্ভব। তবে সবার ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, আয়কর ফেরত পাওয়া কোনো সরকারি উপহার বা অতিরিক্ত ভাতা নয়। একজন করদাতার কাছ থেকে সারা বছর যে পরিমাণ আয়কর কেটে রাখা হয়েছে, চূড়ান্ত হিসাবে তার প্রকৃত করের পরিমাণ এর চেয়ে কম হলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। এর সঙ্গে ফেরতযোগ্য করছাড় যুক্ত হলে ফেরতের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।   সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার একটি হলো শিশু করছাড়। ২০২৫ করবর্ষে যোগ্য প্রতিটি সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত শিশু করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে করবর্ষের শেষে সন্তানের বয়স ১৭ বছরের নিচে থাকতে হয়। পাশাপাশি সন্তানকে নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে দেখানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসহ অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।   এই শিশু করছাড়ের একটি অংশ ফেরতযোগ্য হতে পারে। অর্থাৎ কারও প্রদেয় আয়কর কমে শূন্য হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যোগ্য হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে পরিবারের আয়, কর জমার ধরন এবং সন্তানের যোগ্যতার ওপর প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করে।   কম ও মাঝারি আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অর্জিত আয় করছাড়। এটি ফেরতযোগ্য করছাড়। ফলে যোগ্য ব্যক্তির প্রদেয় কর শূন্য হলেও করছাড়ের একটি অংশ অর্থ হিসেবে ফেরত পাওয়া সম্ভব। সন্তান রয়েছে এমন অনেক নিম্ন ও মাঝারি আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।   পড়াশোনার খরচের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট করসুবিধা রয়েছে। যোগ্য কলেজ বা উচ্চশিক্ষার ব্যয়ের জন্য একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত বিশেষ শিক্ষা করছাড়ের সুযোগ পেতে পারেন। এর একটি অংশ ফেরতযোগ্যও হতে পারে। তবে শুধু পড়াশোনার জন্য টাকা খরচ করলেই এই সুবিধা পাওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীর অবস্থান, যোগ্য শিক্ষা ব্যয় এবং পরিবারের আয়ের সীমাসহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়।   কাজের জন্য গাড়ি ব্যবহার করলেও কিছু ক্ষেত্রে বৈধভাবে ব্যবসায়িক খরচ দেখানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা সব চাকরিজীবীর জন্য নয়। যারা নিজের ব্যবসা করেন বা স্বাধীনভাবে কাজ করে আয় করেন, তারা ব্যবসার কাজে গাড়ি ব্যবহারের যোগ্য অংশ নির্দিষ্ট নিয়মে খরচ হিসেবে দেখাতে পারেন।   ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি ব্যবহার কিংবা বাসা থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ সাধারণভাবে ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে দেখানো যায় না। এ ধরনের সুবিধা দাবি করতে হলে ব্যবসার কাজে কত মাইল গাড়ি চালানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।   বাসার একটি অংশ অফিস হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। যারা নিজের ব্যবসা বা স্বাধীন পেশার কাজ করেন এবং বাসার একটি নির্দিষ্ট জায়গা নিয়মিত ও শুধু ব্যবসার কাজে ব্যবহার করেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে গৃহ কার্যালয় বাবদ করছাড়ের সুযোগ পেতে পারেন।   তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ বেতনভুক্ত কর্মী শুধু বাসা থেকে কাজ করছেন বলে কেন্দ্রীয় আয়কর বিবরণীতে গৃহ কার্যালয়ের খরচ দেখাতে পারেন না। ফলে কোন খরচ বৈধভাবে বাদ দেওয়া যাবে, সেটি নিজের কর্মসংস্থানের ধরন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।   বেতনভুক্ত চাকরির পাশাপাশি স্বাধীন কাজ, গাড়িতে যাত্রী পরিবহন, খাবার সরবরাহ, অনলাইনে কাজ কিংবা ছোট ব্যবসা থেকে আয় করা ব্যক্তিদের আয়কর হিসাব আরও জটিল হতে পারে। কারণ স্বাধীন কাজের আয় থেকে সাধারণ চাকরির বেতনের মতো সবসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর কেটে রাখা হয় না।   স্বাধীনভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় আয়করের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কর্মসূচির জন্য স্বনিয়োজিত করও দিতে হতে পারে। স্বনিয়োজিত কাজ থেকে নিট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণভাবে এই কর প্রযোজ্য হতে পারে।   অনেকের আরেকটি ভুল ধারণা হলো নগদ অর্থে আয় করলে সেটি আয়কর বিবরণীতে দেখাতে হয় না। বাস্তবে করযোগ্য আয় নগদে পাওয়া হলেও সাধারণভাবে তা দেখাতে হয়। কোনো কাজের জন্য আলাদা আয়সংক্রান্ত কাগজ পাওয়া যায়নি বলেই সেই আয় করমুক্ত হয়ে যায় না।   একই কারণে বৈধ খরচ দেখানোর পাশাপাশি সব করযোগ্য আয় সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়িক খরচের রসিদ, গাড়ি চালানোর হিসাব, শিক্ষা ব্যয়ের কাগজপত্র, সন্তান দেখাশোনার খরচ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করলে আয়কর জমা দেওয়ার সময় ভুলের ঝুঁকি কমে।   যারা আগের বছরগুলোতে আয়কর বিবরণী জমা দেননি, তাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারও নামে আগের কোনো বছরের অর্থ ফেরত পাওনা থাকলেও অনির্দিষ্টকাল সেই অর্থ দাবি করার সুযোগ থাকে না। সাধারণভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরোনো আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে ফেরত দাবি করতে হয়। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রাপ্য অর্থ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।   তাই “আমেরিকায় আয়কর জমা দিলেই টাকা কেটে নেয়” যেমন ভুল ধারণা, তেমনি “আয়কর জমা দিলেই হাজার হাজার ডলার ফেরত পাওয়া যায়” কথাটিও সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়। কেউ বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত পেতে পারেন, আবার কাউকে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হতে পারে।   কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে বা দিতে হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির মোট আয়, সারা বছর কেটে রাখা কর, বিবাহ ও পারিবারিক অবস্থা, সন্তান, যোগ্য করছাড়, ব্যবসায়িক আয় এবং বৈধ খরচের ওপর।   বিশেষ করে চাকরির পাশাপাশি স্বাধীন কাজ বা ব্যবসা থেকে আয় থাকলে একজন অনুমোদিত হিসাবরক্ষক বা যোগ্য আয়কর বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। কোনো করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা না থাকলে শুধু বেশি অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় সেটি দাবি করা উচিত নয়।   আমেরিকায় আয়কর ব্যবস্থাকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে নিজের বৈধ সুযোগগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে আয়কর বিবরণী জমা দিলে একদিকে যেমন করসংক্রান্ত আইন মেনে চলা যায়, অন্যদিকে নিজের প্রাপ্য করছাড় ও অতিরিক্ত পরিশোধ করা অর্থও ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে।   এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার জন্য। এটি ব্যক্তিগত আয়কর, আর্থিক বা আইনি পরামর্শ নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য আয়কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
২০ বছরের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সামা সাফি অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি কারাগারে
২০ বছরের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সামা সাফি অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি কারাগারে, মুক্তির দাবি রাশিদা তালিবের

ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সামা সাফিকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি সামরিক হেফাজতে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব। সামার মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   সামা সাফি পশ্চিম তীরের বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ২ জুন ভোরে রামাল্লার কাছে পরিবারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আটক করে। একই অভিযানে বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন নারী শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ওইদিন পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে মোট ৩১ জনকে আটক করা হয়েছিল।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সামা ও অন্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈরী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রচার এবং অন্যান্য সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তবে সামার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আইনজীবীও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।   সামার পরিবার জানিয়েছে, তার একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে এবং নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এ কারণে হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও তার আটকের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।   সামার মুক্তির দাবিতে এরই মধ্যে কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা সরব হয়েছেন। ১২ জুন দেওয়া এক বক্তব্যে রাশিদা তালিব বলেন, সামা একজন ২০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ও শিক্ষার্থী এবং তার একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। তার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন সরকারকে তাকে মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।   মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেনও সামার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ভোরে সামাকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে গেলেও তাকে কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তার পরিবার বা মার্কিন দূতাবাসকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি।   সামাকে প্রথমে পশ্চিম তীরের ওফার সামরিক কারাগারে নেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাকে জেরুজালেমের একটি ইন্টারোগেশন সেন্টারে স্থানান্তরের তথ্যও এসেছে। সামার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হেফাজতে রয়েছেন।   সামার ঘটনা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের আটকের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এসব আটকের পক্ষে অবস্থান নিলেও, ফিলিস্তিনি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০