২ জনের সঙ্গে লাঞ্চ করতে ৯০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করলেন এক ধনকুবের
বিশ্বখ্যাত বাস্কেটবল তারকা স্টিফেন কুরি এবং কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট এর সঙ্গে একান্ত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিতে ৯০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন এক ধনকুবের দরদাতা। এই চ্যারিটি নিলাম ঘিরে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ এই দাতব্য নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা স্টিফেন কারি ও ওয়ারেন বাফেটের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটানো ও মধ্যাহ্নভোজের সুযোগ পান। তবে বিষয়টি শুধু বিলাসী অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নিলাম থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থই বিভিন্ন দাতব্য ও মানবিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, নিলামে ওঠা অর্থের সমপরিমাণ অর্থ নিজেও অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ওয়ারেন বাফেট। ফলে পুরো আয়োজন থেকে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার দাতব্য খাতে যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্টিফেন কারি কেবল এনবিএর জনপ্রিয় খেলোয়াড়ই নন, সমাজসেবামূলক কাজেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। শিক্ষা সহায়তা, শিশুদের পুষ্টি এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য নানা কর্মসূচিতে তার ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ওয়ারেন বাফেট বিশ্বের অন্যতম বড় দাতাদের একজন হিসেবে পরিচিত। তিনি বহু বছর ধরেই বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনুদান দিয়ে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের চ্যারিটি আয়োজন ধনী ব্যক্তিদের সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ। একই সঙ্গে জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণ দাতব্য কার্যক্রমকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-এর ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা এক নজিরবিহীন মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে টানা নয় মাস ধরে সাগরে অবস্থান করছে এই রণতরী। আধুনিক সামরিক ইতিহাসে কোনো রণতরীর টানা ২৫০ দিন ডাঙা স্পর্শ না করার এটি একটি নতুন রেকর্ড। এই দীর্ঘ সমুদ্রবাস ও জাহাজের ভেতরের চরম প্রতিকূল পরিবেশের কারণে নাবিকদের মানসিক চাপ চরমে পৌঁছেছে। সামরিক বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম 'নেভি টাইমস' এবং 'স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি সইতে না পেরে একাধিক নাবিক সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক আবেগঘন টাউন হল মিটিংয়ে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা নিজেদের চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী মন্ত্রী হাং কাও এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রায় ২০০ পরিবারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওই সভায় এক নারী জানান, তার স্বামী তাকে মেসেজ করে বলেছেন যে তিনি "আগামীকাল আর ঘুম থেকে উঠতে চান না।" সভায় উপস্থিত আরেকজন অভিযোগ করেন, নৌবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। নেভি টাইমসের প্রতিবেদনেও রণতরী থেকে লাফ দেওয়ার একাধিক চেষ্টার কথা উঠে এসেছে। অ্যানাবেল লোমা নামের এক নারী জানান, সাগরে অবস্থানের মেয়াদ বারবার বাড়ানোয় ক্যারিয়ার ধ্বংসের আশঙ্কায় তার স্বামী জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অন্য একটি ঘটনায় এক নাবিককে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার আগমুহূর্তে তার সহকর্মী টেনে এনে রক্ষা করেন বলেও জানা গেছে। জাহাজের ভেতরের মানবেতর পরিবেশ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সদস্য মাইক লেভিন উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, নাবিকদের শৌচাগার ও গোসলখানাগুলো ভাঙা ও স্যাঁতস্যাঁতে, কয়েক সপ্তাহ ধরে লন্ড্রি বন্ধ, গরম পানি নেই এবং খাবার হিসেবে সামান্য ভাত ও দুটি রুটি (টরটিলা) দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সাবান, ডিওডোরেন্ট বা টুথপেস্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও তাদের কাছে নেই। কলোরাডোর আরেক কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো সতর্ক করে বলেছেন, নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর মানসিক এই চাপ প্রতি সপ্তাহে বেড়েই চলেছে। মূলত গত ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল এই রণতরীটি। তবে পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এটিকে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মে মাসে এই মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে এর মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে। এই সুদীর্ঘ সময়ে মাত্র দুইবার—ডিসেম্বরে গুয়াম এবং জুলাইয়ে ওমানে নাবিকরা ডাঙায় নামার সুযোগ পেয়েছিলেন। গত এপ্রিলে জাহাজের নিম্নমানের খাবার ও মানবেতর পরিবেশের ছবি প্রকাশ্যে এলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগকে 'ভুয়া খবর' বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, যার কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সদস্য লেভিন। টানা এই মানসিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করলেও নৌবাহিনীর একজন দাপ্তরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কাছে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির কোনো তথ্য নেই। তিনি দাবি করেন, নাবিকদের পরিস্থিতি সামাল দিতে জাহাজে মনোবিজ্ঞানী ও ধর্মযাজকদের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি ও স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নৌবাহিনীর প্রায় অর্ধেক নাবিকই সাগরে অবস্থানকালে মানসিক চাপ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত সহায়তা পান না। এই পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার হলে পুলিশের করণীয় নির্ধারণ করলো ট্রাম্প প্রশাসন
ফ্লোরিডাসহ ৫ অঙ্গরাজ্যে কবরস্থান থেকে স্বজনদের গয়না-স্মারক চুরি, চক্রের ৩ সদস্যকে খুঁজছে পুলিশ
ইরাকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে ১ অক্টোবরকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বললেন প্রধানমন্ত্রী
ফ্লোরিডার প্রস্তাবিত সম্পত্তি কর সংশোধনী পাস হলে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়তে পারে ক্লিয়ারওয়াটার শহর। শহর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৮ ও ২০২৯ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ২ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। সেই ঘাটতি সামাল দিতে প্রায় ১৪০টি পদ বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনীটি আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ ফ্লোরিডার সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের সামনে যাবে। প্রস্তাবটি পাস করতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ভোট প্রয়োজন। এতে ২০২৭ সালে বসতবাড়ির মালিকদের করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ২০২৮ সালে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে। ক্লিয়ারওয়াটার কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তনের ফলে শহরের সাধারণ তহবিলে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব কমে যেতে পারে। ফলে ২০২৮ সালে প্রায় ৭৫টি পূর্ণকালীন পদ এবং ২০২৯ সালে আরও ৬৪টি পদ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। এই পদগুলো বিভিন্ন শহর বিভাগে ছড়িয়ে রয়েছে। সম্পত্তি কর থেকে পাওয়া অর্থ পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ, জনসেবা, পার্ক ও বিনোদনসহ শহরের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। রাজস্ব কমে গেলে পুলিশ বিভাগের কিছু প্রযুক্তি ও তদন্ত-সহায়ক সরঞ্জামের বাজেট কমানো এবং পার্ক ও বিনোদনমূলক সেবায় কাটছাঁটের মতো পদক্ষেপও নিতে হতে পারে বলে শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এখনই এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা অনিশ্চিত থাকায় শহর কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম বাজেট পরিকল্পনা করছে। ঘাটতি সামাল দিতে বিকল্প আয়ের পথও খুঁজছে ক্লিয়ারওয়াটার। এর মধ্যে রয়েছে বিনোদনমূলক সেবার ফি বাড়ানো, শহরের বিভিন্ন স্থাপনার চুক্তি পুনর্বিন্যাস এবং বেকেয়ার সাউন্ডের টিকিট বিক্রির রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি পুনরায় আলোচনা। পিয়ার ৬০ বেইট হাউসের দাম বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ফ্লোরিডার সম্পত্তি কর সংস্কার নিয়ে ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমর্থকেরা বলছেন, এতে বাড়ির মালিকদের করের বোঝা কমবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকারগুলো আশঙ্কা করছে, কর রাজস্ব কমে গেলে পুলিশ, অবকাঠামো, পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসেবায় চাপ তৈরি হবে।
বাংলাদেশি ও আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক যোগাযোগ জোরদারে নতুন উদ্যোগ
রাশিয়া-জাপান বিরোধের কেন্দ্র কুরিল দ্বীপপুঞ্জে প্রথমবার পুতিন, তীব্র প্রতিবাদ টোকিওর
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক, ক্যাম্পাস লকডাউন
নিউইয়র্কে স্ন্যাপ বা ইবিটি তোমার মাথায় কি উকুন সুবিধা নেওয়া অনেক বাসিন্দার জন্য নতুন কাজের নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের একটি অংশ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে তাদের স্ন্যাপ সুবিধা সীমিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশিসহ নিউইয়র্কে বসবাসরত যেসব পরিবার এই সুবিধা পান, তাদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মটি মূলত এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, যাদের ওপর নির্ভরশীল ছোট সন্তান নেই। একজন ব্যক্তির বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হলে, তার সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু বসবাস না করলে এবং শারীরিক বা মানসিক কারণে কাজ করতে অক্ষম হিসেবে ছাড় না থাকলে তিনি এই কাজের শর্তের আওতায় পড়তে পারেন। নতুন নিয়মে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তির সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল শিশু না থাকলে কাজের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তৃতীয়ত, কোনো বৈধ ছাড় না থাকলে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। মাসে ৮০ ঘণ্টার হিসাবে সপ্তাহে গড়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে হয়। কেউ চাকরি করলে সেই কাজের সময় গণনা হতে পারে। একইভাবে অনুমোদিত চাকরির প্রশিক্ষণ, শিক্ষা বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের নির্দিষ্ট সময়ও শর্ত পূরণে বিবেচিত হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিন মাসের সীমা। যাদের ওপর এই কাজের শর্ত প্রযোজ্য, তারা প্রয়োজনীয় কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রমে অংশ না নিলে এবং কোনো ছাড়ের আওতায় না থাকলে তিন বছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র তিন মাস স্ন্যাপ সুবিধা পেতে পারেন। এরপর আবার যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নতুন ফেডারেল আইনে এই কাজের শর্তের আওতায় পড়ার বয়সসীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ বয়স ছিল ৫৪ বছর। নতুন নিয়মে তা বাড়িয়ে ৬৪ বছর করা হয়েছে। ফলে ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী অনেক কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কও এখন এই শর্তের আওতায় আসতে পারেন। তবে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী হলেই সবার স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। গর্ভবতী নারী, শারীরিক বা মানসিক কারণে কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে বসবাসকারী ব্যক্তি কাজের এই বিশেষ সময়সীমা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ধরনের প্রতিবন্ধী ভাতা বা সম্পূরক নিরাপত্তা আয় গ্রহণকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সাধারণ কাজের শর্ত থেকে ছাড় থাকতে পারে। কারও পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নিজের ক্ষেত্রে নিয়মটি প্রযোজ্য কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। নতুন আইনে আগে বিশেষ ছাড় পাওয়া কয়েকটি শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। কিছু সাবেক সেনাসদস্য, গৃহহীন ব্যক্তি এবং পালক পরিবার থেকে বেরিয়ে আসা নির্দিষ্ট বয়সী তরুণ তরুণীর ক্ষেত্রেও নতুন কাজের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। যারা নিউইয়র্ক সিটির মানবসম্পদ প্রশাসন থেকে কাজের কার্যক্রমসংক্রান্ত চিঠি বা নোটিশ পেয়েছেন, তাদের সেটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। চাকরি, প্রশিক্ষণ বা অন্য অনুমোদিত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রমাণ চাওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। অনলাইনে নিজের সরকারি সুবিধার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া যায়। চাইলে নিকটস্থ মানবসম্পদ প্রশাসনের কার্যালয়েও যোগাযোগ করা যেতে পারে। কাজ করতে না পারার বৈধ কারণ থাকলে সেটিও কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রসহ অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। পারিবারিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও তথ্য হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু আপনার সঙ্গে বসবাস শুরু করলে সেটি আপনার ওপর কাজের বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির স্ন্যাপ সহায়তা নম্বর ৭১৮-৭৬২-৭৬৬৯। নিজের সুবিধার বর্তমান অবস্থা, নতুন কাজের শর্ত কিংবা কোনো ছাড় প্রযোজ্য কি না জানতে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি বাংলাদেশি বা অভিবাসী পরিবারগুলোর স্ন্যাপ সুবিধা একযোগে বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নয়। জাতীয়তা বা বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে কারও সুবিধা বন্ধ হবে না। কার ওপর নতুন কাজের শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে বয়স, কাজের সক্ষমতা, নির্ভরশীল শিশু, কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রম এবং প্রযোজ্য ছাড়ের ওপর। তাই যারা বর্তমানে নিউইয়র্কে স্ন্যাপ সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠি বা নোটিশ ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। নিজের ওপর নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হলে নির্ধারিত কাজের সময়ের তথ্য অথবা ছাড় পাওয়ার প্রমাণ সময়মতো জমা না দিলে স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
১৬ বছর পর একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের তিন অঙ্গরাজ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
হঠাৎ করে দৌড়ে এসে লন্ডন ব্রিজ থেকে পানিতে ঝাঁপ, কিশোরের মৃত্যু