বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য এক কোটি টাকা দাবি করে একটি প্রস্তাব এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুঠোফোনে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্যসহ নিজের বর্তমান জীবন, দেশে ফেরা, মামলা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, একটি পক্ষ যোগাযোগ করে জানায় এক কোটি টাকা দিলে তার নাম মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা ইতিমধ্যে দায়ের হওয়ায় এভাবে নাম প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তদন্ত ও পুলিশের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া বিষয়টি সমাধান হওয়া কঠিন।
দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নে সাকিব জানান, তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছেন। তবে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় বাধা হয়ে আছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বাভাবিক নিরাপত্তা এবং চলাচলের নিশ্চয়তা ছাড়া দেশে ফেরা সম্ভব নয়।
মামলার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, তার আইনজীবীরা বিষয়টি দেখছেন। তার ধারণা, তিনটি মামলার মধ্যে একটির অগ্রগতি দ্রুত হতে পারে। তবে বিস্তারিত আগে জানাতে চাননি।
জাতীয় দলে না খেলা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, জাতীয় দলের বাইরে থাকা সময়টা তার জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তবে তিনি এখনো জাতীয় দলের খেলা মিস করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সময় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং একা প্রস্তুতির বিষয়টি তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, সময়ের আগে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করেন। তবে সেটিকে তিনি ভুল হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আরও ভালোভাবে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে।
ফিটনেস ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে সাকিব জানান, কিছুদিন অনুশীলন করলে আগের অবস্থায় ফেরা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সুযোগ পেলে তিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে বেশি মনোযোগ দিতে চান এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করতে চান।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার বাইরে রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে তার চিন্তাভাবনা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে এবং অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিপক্ব করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে চমক দেখানো আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের ফুটবল দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসের বিরুদ্ধে এক নারী দোভাষীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দলের জন্য নিয়োজিত এক ব্রাজিলীয় দোভাষী দাবি করেছেন, মেন্দেস গত মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ড সফর চলাকালীন তার হোটেল রুমে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে ধর্ষণ করেন। ব্রাজিলের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম 'গ্লোবো'র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ঘটনার পর তিনি কেপ ভার্দে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অন্তত তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে বিচার চাইলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাননি। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় পরবর্তীতে তিনি নিউজিল্যান্ড পুলিশের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে নিউজিল্যান্ড পুলিশ অকল্যান্ডের ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে মেন্দেসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট গঠনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। বিবৃতিতে ওই দোভাষী উল্লেখ করেন, ফিফা সিরিজের ম্যাচ চলাকালীন কেপ ভার্দে দলের দোভাষী হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। চিলির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ শেষে তাকে একটি রুমে আলোচনার কথা বলে ডাকা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো দোভাষীর কাজ না থাকায় এবং সেটি একটি সামাজিক আড্ডা বুঝতে পেরে তিনি নিজের রুমে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই ৩৬ বছর বয়সী ফুটবলার রায়ান মেন্দেস তার রুমের দরজায় নক করেন এবং দরজা খোলামাত্রই ভেতরে ঢুকে তার ওপর চড়াও হন। আক্রান্ত নারী ইতিমধ্যে তার মুখে, গলায় এবং পায়ে লাগা আঘাতের বেশ কিছু ছবি পুলিশের কাছে প্রমাণ হিসেবে হস্তান্তর করেছেন। এই ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। যেকোনো ধরনের অসদাচরণের অভিযোগকে ফিফা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় তারা এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে কেপ ভার্দে যখন ফুটবল বিশ্বে রূপকথা তৈরি করছে, ঠিক তখনই অধিনায়কের বিরুদ্ধে এমন কলঙ্কজনক অভিযোগ দলটিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিল। কেপ ভার্দের হয়ে বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচেই খেলা এই তারকা ফুটবলার মেন্দেস অবশ্য এখনো এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
আর্লিং হালান্ডকে ছাড়া মাঠে নামা নরওয়ের জন্য গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল এক চরম দুঃস্বপ্নে। শুরুর একাদশে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে থাকলেও, মাঠের ফুটবলে সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন সদ্য ব্যালন ডি’অর জয়ী উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে। তার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ভর করে নরওয়েকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের পর্ব নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। ফলস্বরূপ, মাত্র সপ্তম মিনিটেই দলের প্রথম গোলটি আদায় করে নেন দেম্বেলে। এর কিছুক্ষণ পর, ২০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। দুই গোল হজমের পর নরওয়েও দ্রুত লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ২১তম মিনিটে থেলোনিয়াস আসগার্ডের দারুণ এক গোলে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনে তারা। কিন্তু ফরাসিদের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে নরওয়ের রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রতিরোধ ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে এক অসাধারণ দলীয় বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে। মাঝমাঠ থেকে অরেলিয়েন চুয়ামেনির বাড়ানো বল বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ এক বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি, যেখানে নরওয়ের গোলরক্ষকের তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। মাত্র ৩২ মিনিটে করা এই হ্যাটট্রিকটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক হিসেবে রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোশ্লোভাকিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রিয়ার সাবেক স্ট্রাইকার এরিক প্রবস্ট। বিরতির পর নরওয়ে ম্যাচে ফেরার একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেনাল্টি বক্সে অস্কার বব ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেনের নেওয়া দুর্বল স্পটকিকটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিঁয়া। এরপর ফরাসিদের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের মাঝেই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স।
বিশ্বকাপের মঞ্চে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল ইকুয়েডর। ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের নকআউট রাউন্ড নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তি। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হার এবং নবাগত কুরাসাওয়ের সঙ্গে হতাশার ড্রয়ের পর অনেকেই ইকুয়েডরের বিদায় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শক্তিশালী জার্মানদের হারিয়ে ঠিকই রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট আদায় করে নিয়েছে দলটি। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বিশ্বকাপে এসেছিল ইকুয়েডর। কিন্তু মূলমঞ্চে শুরুতে সেই চেনা ছন্দের দেখা মেলেনি। বিশেষ করে যে কুরাসাওকে জার্মানি ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল, তাদের সঙ্গেই পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছিল ইকুয়েডরকে। তবে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সেই জার্মানদের হারিয়েই ইতিহাস গড়ল তারা। এর আগে জার্মানির বিপক্ষে দুবারের দেখায় কখনোই জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। ২০০৬ বিশ্বকাপে স্বাগতিক জার্মানির কাছে ৩-০ এবং ২০১৩ সালের প্রীতি ম্যাচে ৪-০ গোলে হেরেছিল তারা। কাকতালীয়ভাবে সেই ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ ২০ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে পা রাখল ইকুয়েডর। ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য পিছিয়ে পড়েছিল ইকুয়েডর। দ্বিতীয় মিনিটেই ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে গোল করে জার্মানিকে লিড এনে দেন লেরয় সানে, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৮তম গোল। তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি টানা দুই জয়ে আগেই নকআউট নিশ্চিত করা জার্মানরা। নবম মিনিটে জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে পেদ্রো ভিতে পাস দেন নিলসন আঙ্গুলোকে। বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার এক ড্রিবলিং ও দুর্দান্ত শটে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে ইকুয়েডরকে সমতায় ফেরান তিনি। ম্যাচজুড়ে জার্মানদের রক্ষণে কড়া পরীক্ষা নেওয়া ইকুয়েডর কাঙ্ক্ষিত লিড পায় ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে। গঞ্জালো প্লাতা ইকুয়েডরের হয়ে দলের জয়সূচক গোলটি করেন। কর্নার থেকে উড়ে আসা একটি বল ধরতে ৪০ বছর বয়সী তারকা গোলরক্ষক নয়্যার এগিয়ে এলে তড়িৎ গতিতে বাঁ পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে ইকুয়েডরের ঐতিহাসিক জয় ও নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেন প্লাতা।