সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছেন ট্রাম্প, উদ্বেগে শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২২:২০
শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়ে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়ে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশে শিশুদের জন্য নতুন "গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড চাইল্ডহুড ভ্যাকসিন রেকমেন্ডেশনস" চালুর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আওতায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হাম, মাম্পস ও রুবেলার (এমএমআর) যৌথ টিকাকে ভবিষ্যতে তিনটি পৃথক টিকায় বিভক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের টিকাদান সূচি, টিকার ধরন এবং প্রয়োগ পদ্ধতি নতুন করে মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে (এইচএইচএস) আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বর্তমান টিকাদান কর্মসূচি পর্যালোচনা করে নতুন সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

 

নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সমমানের অনেক দেশের তুলনায় শিশুদের জন্য বেশি সংখ্যক টিকা সুপারিশ করা হয়। তাই টিকা দেওয়ার সময়, ক্রম এবং কোন টিকা কীভাবে দেওয়া হবে, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে।

 

এমএমআর টিকা বর্তমানে একসঙ্গে হাম, মাম্পস ও রুবেলা এই তিনটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব হলে এই তিনটি রোগের জন্য আলাদা আলাদা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে যতটা সম্ভব প্রতিটি টিকা আলাদা চিকিৎসা-সাক্ষাতে দেওয়ার নির্দেশনাও রাখা হয়েছে। ফলে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আগের তুলনায় আরও বেশি বার যেতে হতে পারে।

 

হোয়াইট হাউসে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের আগে ট্রাম্প বলেন, নতুন সুপারিশ বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে, যার মধ্যে অটিজমও রয়েছে। তবে আদেশের লিখিত অংশে অটিজমের কোনো উল্লেখ নেই।

 

নতুন নীতিতে শিশুদের টিকাকে তিনটি ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমটি সব শিশুর জন্য নিয়মিত সুপারিশকৃত টিকা, দ্বিতীয়টি কেবল উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য এবং তৃতীয়টি চিকিৎসক ও পরিবারের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

 

এতে আরএসভি প্রতিরোধী মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, হেপাটাইটিস এ ও বি, মেনিনগোকক্কাল বি, মেনিনগোকক্কাল এসিডব্লিউওয়াই এবং ডেঙ্গু টিকাকে উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া নিরাপদ শিশু টিকাবিষয়ক এইচএইচএস টাস্কফোর্সকে ৯০ দিনের মধ্যে একক রোগভিত্তিক টিকার সুযোগ বাড়ানো, টিকার উপাদান, নিরাপত্তা তথ্য এবং নজরদারি ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে টিকাদান নীতি হালনাগাদ করা এবং অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আরও বাড়ানো।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

 

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ও কিশোরস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মেলিসা স্টকওয়েল নিউজউইককে বলেন, এমএমআর টিকাকে তিনটি আলাদা ইনজেকশনে ভাগ করার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণ নেই।

 

তার ভাষায়, এতে পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে এবং শিশুদের আরও বেশি ইনজেকশন নিতে হবে, অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোনো অতিরিক্ত উপকার নেই। বরং আলাদা আলাদা টিকা দেওয়ার ফলে নির্ধারিত সময়ে সব ডোজ সম্পন্ন না হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং শিশুরা দীর্ঘ সময় রোগের ঝুঁকিতে থাকবে।

 

তিনি বলেন, হাম, মাম্পস ও রুবেলা কোনো সাধারণ শৈশবকালীন রোগ নয়। হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে, মাম্পস শ্রবণশক্তি হারানোর কারণ হতে পারে এবং রুবেলা গর্ভবতী নারীর জন্য গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব বা জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়।

 

স্টকওয়েল আরও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এমএমআর-এর পৃথক টিকা বাজারে নেই। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত যৌথ এমএমআর টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ এবং মাম্পসের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৬ শতাংশ সুরক্ষা দেয়।

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, টিকা বিলম্বিত করা বা অতিরিক্ত বিরতি দিয়ে দেওয়া শিশুর নিরাপত্তা বাড়ায় না; বরং সংক্রমণের ঝুঁকি দীর্ঘায়িত করে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, প্রেসিডেন্টের এমন পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ জ্ঞান নেই। তার মতে, শিশুদের টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং অটিজমের সঙ্গে এর কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই।

 

ক্যাসিডি বলেন, একই সুরক্ষা পেতে যদি শিশুদের একাধিকবার চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়, তাহলে অনেক পরিবার টিকা নেওয়া পিছিয়ে দিতে পারে। এতে প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

 

এদিকে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা স্কুলে ভর্তির টিকা সংক্রান্ত নিয়মে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সুপারিশ অনুসরণ নাও করতে পারে। জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সুপারিশে আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আইওয়ায় শিক্ষা সফরে গিয়ে  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার
আইওয়ায় শিক্ষা সফরে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার, চলছে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফর চলাকালে একটি জলাধার থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক ও তাঁর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ম্যাকব্রাইড নেচার রিক্রিয়েশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন কোরালভিলের বোরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষক হান্না জর্গেনসেন, বয়স ২৪ বছর, এবং শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমান, বয়স ১০ বছর। তাঁদের মৃত্যুর পরিস্থিতি তদন্ত করছে জনসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তর।    শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কোরালভিল জলাধারের পানি ছাড়ার স্থানের কাছে দুজন পানিতে থাকার খবর পায় কর্তৃপক্ষ। ওই দিনই হান্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহমেদের মরদেহ পাওয়া যায় পরদিন। তাঁরা কীভাবে পানিতে পড়েছিলেন, তা কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি।    আইওয়া সিটি কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, বোরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে গিয়েছিল। ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সহায়তায় কাউন্সেলর রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইওয়ার গভর্নর কিম রেনল্ডসও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১০:৩৮
সোশ্যাল সিকিউরিটির পূর্ণ অবসরভাতা ৬০ বছরেই! তবে সবার জন্য প্রযোজ্য নয়

সোশ্যাল সিকিউরিটির পূর্ণ অবসরভাতা ৬০ বছরেই! তবে সবার জন্য প্রযোজ্য নয়

নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন? সারাবছর নিয়োগ হয়, জেনে নিন এমন ১০ পেশা

নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন? সারাবছর নিয়োগ হয়, জেনে নিন এমন ১০ পেশা

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকুতি

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকুতি

অভিজ্ঞতা কম থাকলেও নিউইয়র্কে চাকরি খোঁজার কয়েকটি সরকারি সুযোগ রয়েছে
অভিজ্ঞতা ছাড়াও নিউ ইয়র্কে চাকরি খোঁজার সাতটি পথ, জেনে নিন

নিউইয়র্কে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়। সিটি সরকারের চাকরির পোর্টাল, নিয়োগ মেলা, বিনামূল্যের ক্যারিয়ার সহায়তা ও প্রশিক্ষণের মতো বেশ কিছু পথ রয়েছে। তবে কোথাও অংশ নিলেই সরাসরি চাকরি মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি পদের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা করে দেখে আবেদন করতে হবে।   চাকরি খোঁজার প্রথম জায়গা হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি সরকারের চাকরির পোর্টাল। সেখানে প্রতিটি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের ধরন, অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা এবং আবেদন করার নিয়ম দেওয়া থাকে। শুধু চাকরির নাম দেখে আবেদন না করে ‘মিনিমাম কোয়ালিফিকেশনস’ বা ন্যূনতম যোগ্যতার অংশটি আগে ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।   দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার খবর নিয়মিত দেখা। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএস প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথমবার পরীক্ষায় আবেদনকারীদের জন্য পরীক্ষার ফি মওকুফের সুযোগ চালু হয়েছে। তবে এই সুবিধা সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় নয়, তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নিয়ম দেখে নিতে হবে।   তৃতীয় পথ হলো জবস এনওয়াইসি হায়ারিং হল। এসব আয়োজনে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতারা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। কিছু ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানস্থলেই ইন্টারভিউ নেওয়া হতে পারে। তবে ইন্টারভিউ বা চাকরি কোনোটিই নিশ্চিত নয়। সিটির তালিকায় ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একটি হায়ারিং হলের তথ্য রয়েছে। তবে ওই সরকারি পাতায় অনুষ্ঠানের শিরোনামে কুইন্স উল্লেখ থাকলেও ঠিকানায় স্টেটেন আইল্যান্ড দেওয়া হয়েছে। তাই যাওয়ার আগে সিটির সর্বশেষ ঘোষণায় অনুষ্ঠানস্থল নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।   চতুর্থ পথ হলো ওয়ার্কফোর্স ওয়ান ক্যারিয়ার সেন্টার। চাকরি খোঁজা, রিজিউমে তৈরি বা ঠিকঠাক করা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে এখানে বিনামূল্যে সহায়তা পাওয়া যায়। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ করে রিজিউমে কীভাবে সাজাতে হবে বা ইন্টারভিউতে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে এই সেবা কাজে আসতে পারে।   পঞ্চম পথ ইনডিভিজুয়াল ট্রেনিং গ্রান্ট। যোগ্য প্রার্থীরা নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের টিউশন, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার ফি এবং বইয়ের খরচে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গ্রান্টের সংখ্যা সীমিত এবং আবেদন করলেই অনুমোদন নিশ্চিত নয়। কোথাও ১ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ ডলারের ভাউচারের কথা বলা হলেও, এই পরিমাণ সবার জন্য নির্ধারিত—এমন তথ্য সিটির নির্দেশনায় নেই। একইভাবে কোনো কোর্স শেষ করলেই সেটিকে চাকরির অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা হবে, এমনও কোনো সাধারণ নিয়ম নেই।   ষষ্ঠত, এমটিএ ও ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সিটি ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরির বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখা যেতে পারে। পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন বা অফিসের মতো বিভিন্ন ধরনের পদে সুযোগ আসতে পারে। তবে প্রতিটি চাকরির যোগ্যতা আলাদা। সব এন্ট্রি-লেভেল পদে অভিজ্ঞতা লাগবে না, আবার শুধু একটি সেফটি সার্টিফিকেট থাকলেই সব পদে আবেদন করা যাবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়।   সপ্তম পথ হলো প্রতিবন্ধী যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সিটির ৫৫-এ কর্মসূচি। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু সিভিল সার্ভিস পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে। তবে শুধু এই কর্মসূচির আওতায় পড়লেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রার্থীর প্রতিবন্ধিতার যোগ্যতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষা, দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার শর্তও পূরণ করতে হয়।   চাকরি খোঁজার আগে নিজের একটি হালনাগাদ রিজিউমে তৈরি করে রাখা সবচেয়ে ভালো। এরপর নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন কয়েকটি পদ বেছে নিয়ে নিয়মিত আবেদন করা যেতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো পোস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা আগের নিয়োগ মেলার তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।   কারণ চাকরির সংখ্যা, আবেদনের সময়সীমা, যোগ্যতা এবং নিয়োগের নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই ‘অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি চাকরি’, ‘নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিলেই চাকরি’ কিংবা ‘মেলায় গেলেই নিয়োগ’—এ ধরনের দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না ধরে সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।   নিউইয়র্কে নতুনদের জন্য চাকরি পাওয়া সহজ নাও হতে পারে, কিন্তু সঠিক জায়গায় খোঁজ করলে সুযোগ পাওয়া সম্ভব। সরকারি চাকরির পোর্টাল নিয়মিত দেখা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার খবর রাখা, ক্যারিয়ার সেন্টারের সহায়তা নেওয়া এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগানো—চাকরি খোঁজার শুরুতে এসব পদক্ষেপই সবচেয়ে বেশি কাজে আসতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৮:৪০
কার্ড পেতে সাজানো বিয়ের মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন আন্তোনিয়া মিরচা

নিউ জার্সিতে গ্রিন কার্ড পেতে সাজানো বিয়ে, আদালতে দোষ স্বীকার রোমানীয় নারীর

নিউইয়র্কে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা খুঁজছেন নতুন অভিবাসীরা

নিউইয়র্কে বাসা খুঁজছেন? বাংলাদেশিদের কাজে আসবে এই ৫ সাইট ও জরুরি কিছু নিয়ম

আদালতে পোশাক নিয়ে বিচারকের আপত্তির কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মারিয়া মেডিনা

হাতাকাটা পোশাকেই আদালতে বিপত্তি, আইনজীবীকে ব্লেজার পরতে বললেন বিচারক

উচ্চ সুদের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি
আমেরিকায় বাসার সংকট কাটেনি, উচ্চ সুদের মধ্যে কমছে নতুন নির্মাণ

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকটের চাপ এখনো কাটেনি। উচ্চ মর্টগেজ সুদ, নির্মাণ ব্যয় এবং ক্রয়ক্ষমতার চাপের মধ্যে আগস্টে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি কমেছে। একই সময়ে সাশ্রয়ী বাসার সংকটও রয়ে গেছে বলে সাম্প্রতিক আবাসন বাজারের তথ্য ও গবেষণায় উঠে এসেছে।   আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। আরও বড় পতন হয়েছে নির্মাণ শেষ হওয়া বাড়ির সংখ্যায়—এক বছরের ব্যবধানে তা ২৭ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।   তবে সব ধরনের নির্মাণে একই চিত্র দেখা যায়নি। একক পরিবারের বাড়ির নির্মাণ শুরু জুলাইয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে একাধিক পরিবারের জন্য নির্মিত ভবনের কাজ শুরু আগের মাসের তুলনায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।   নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমের উচ্চ ব্যয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন আবাসন নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের দাম ৪২ শতাংশ এবং নির্মাণশ্রমিকের কর্মসংস্থান ব্যয় ২৪ শতাংশ বেড়েছে।   বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য মর্টগেজ সুদও বড় চাপ হয়ে আছে। ফ্রেডি ম্যাকের ২৪ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের গড় সুদ ৭ দশমিক ০৩ শতাংশে উঠেছে। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।   অন্যদিকে ভাড়ার বাজার কিছুটা ঠান্ডা হলেও সাশ্রয়ী বাসার সংকট কাটেনি। হার্ভার্ডের জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণ কার্যক্রম দুর্বল হচ্ছে এবং ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিক—উভয়ের আবাসন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। আর মার্চের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে পেশাদারভাবে পরিচালিত অ্যাপার্টমেন্টের চাওয়া ভাড়া এক বছরের ব্যবধানে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমলেও বহু পরিবারের জন্য বাসা এখনো নাগালের বাইরে।   দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঘাটতির বিষয়টিও এই বাজারের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ প্রকাশিত জাতীয় ঘাটতির হিসাবে, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৩৭ লাখ হাউজিং ইউনিট কম ছিল। এটি ২০২৬ সালের বর্তমান ঘাটতির হিসাব নয়; তবে প্রতিষ্ঠানটির ওই গবেষণা দেখায়, কয়েক বছর ধরে নতুন বাড়ি যুক্ত হওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি বড় রয়ে গেছে।   সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক চিত্রে একদিকে কিছু রেন্টাল মার্কেটে ভাড়া স্থিতিশীল বা কমছে, অন্যদিকে উচ্চ মর্টগেজ সুদ, নির্মাণ ব্যয় এবং নতুন বাড়ি সম্পন্ন হওয়ার ধীরগতি আবাসন বাজারের ওপর চাপ ধরে রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সংকট এখন শুধু কত বাড়ি আছে সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়—মানুষের নাগালের মধ্যে কত বাসা পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।   সূত্র: ফ্রেডি ম্যাক, হার্ভার্ড জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজ, রিয়েলটর ডটকম

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৭:১১
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সিনেটে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবে ভোট চলছে

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিতের পক্ষে ৪ রিপাবলিকান, এক ভোটে ব্যর্থ প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনের ফি থেকে নির্দিষ্ট ৭ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় আবেদন ফি নেই ৭ ক্যাটাগরির, কারা পাবেন এই সুবিধা

সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপ প্রবাহ ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

সুপার এল নিনোতে বাড়বে তাপপ্রবাহ, বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ৫১ হাজার মৃ ত্যুর আশঙ্কা

0 Comments