যুক্তরাষ্ট্রে সিটি জবসহ সরকারি চাকরি কীভাবে পাবেন, কোথায় আবেদন করবেন এবং কী কী সুবিধা রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি চাকরি হতে পারে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সিটি, কাউন্টি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসন, হিসাবরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন, জননিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার নিয়ম বেসরকারি চাকরির মতো নয়। কোথায় চাকরিটি, কোন দপ্তরের অধীনে এবং পদটির জন্য পরীক্ষা বা বিশেষ যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, তার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে।
সবচেয়ে আগে বুঝতে হবে, সিটি জব, স্টেট জব এবং ফেডারেল জব আলাদা। কোনো শহরের চাকরি হলে সেটি সিটি সরকারের অধীনে, স্টেট জব হলে রাজ্য সরকারের অধীনে এবং ফেডারেল জব হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তাই চাকরি খোঁজার জায়গাটিও আলাদা। ইউএসএ গভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস প্রধান সরকারি প্ল্যাটফর্ম। আর স্টেট সরকারের চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেটের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে যেতে হয়। স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিটি বা কাউন্টির সরকারি ওয়েবসাইট দেখতে হয়।
নিউইয়র্ক সিটির চাকরি এর একটি ভালো উদাহরণ। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অধীনে তিন লাখের বেশি কর্মী এবং প্রায় ৮০টি এজেন্সি রয়েছে। ক্লেরিক্যাল ও প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে অর্থ ও হিসাব, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশায় চাকরির সুযোগ রয়েছে।
তবে নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সিটির ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে জীবনবৃত্তান্ত পাঠালেই অনেক ক্ষেত্রে হবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হতে পারে।
যে পদে পরীক্ষা প্রয়োজন, তার জন্য প্রথমে ওই পদের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ ভালোভাবে পড়তে হবে। সেখানে কাজের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষার পদ্ধতি, আবেদন করার সময়সীমা এবং পরীক্ষার ফি সম্পর্কে তথ্য থাকে। যোগ্যতা পূরণ করলে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেও আবেদন করা যায়।
পরীক্ষার ধরনও সব পদের জন্য এক নয়। কিছু পরীক্ষা নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠিত হয়। আবার কিছু পদে শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনলাইনে মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীর নাম নির্দিষ্ট তালিকায় আসে এবং নিয়োগকারী সিটি এজেন্সি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকতে পারে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির সব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না। কিছু পদে সরাসরি আবেদন করা যায়। এসব চাকরি সাধারণত সিটির চাকরির পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। তাই শুধু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার তালিকা দেখলেই হবে না, সরাসরি আবেদন করা যায় এমন চাকরিগুলোও নিয়মিত দেখা দরকার।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিদেশি ডিগ্রির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির কিছু চাকরিতে বিদেশ থেকে নেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান যাচাই করতে হতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা কেউ সরকারি চাকরিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সেটি দেখে নেওয়া উচিত।
এবার আসা যাক স্টেট সরকারের চাকরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় সরকারি চাকরির জন্য টিম জর্জিয়া ক্যারিয়ার্স পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। সেখানে রাজ্য সরকারের প্রায় ১০০টি এজেন্সিতে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কাউন্টি, কাজের ক্ষেত্র এবং পদের ধরন অনুযায়ী অনুসন্ধান করা যায়।
জর্জিয়া স্টেটের চাকরিতে শিক্ষা, সাধারণ প্রশাসন, নিয়ন্ত্রক কাজ, আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার আগে চাকরির দায়িত্ব, যোগ্যতা এবং আবেদনের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হয়। সব পদে একই ধরনের যোগ্যতা বা আবেদন পদ্ধতি থাকে না।
অন্য স্টেটেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট স্টেট সরকারের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ আপনি নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, নিউ জার্সি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্য কোনো স্টেটে থাকলে প্রথমে সেই স্টেট সরকারের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি নিজের শহর ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পেজও দেখা উচিত।
ফেডারেল সরকারের চাকরির প্রক্রিয়া আবার কিছুটা আলাদা। ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্ল্যাটফর্ম। আবেদন শুরু করতে প্রথমে লগইন ডট গভ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। এরপর ইউএসএজবস প্রোফাইল তৈরি করে জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যায়।
চাকরি খোঁজার সময় শুধু পদের নাম দেখলেই হবে না। ফেডারেল চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “হু মে অ্যাপ্লাই” এবং “হাউ টু অ্যাপ্লাই” অংশ বিশেষভাবে পড়তে হয়। কারণ সব ফেডারেল চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কোনো পদ সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে, আবার কোনো পদ নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা বিশেষ নিয়োগের আওতায় থাকতে পারে।
ফেডারেল চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউএসএজবস সাধারণত জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার পর আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সরকারি এজেন্সির নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থায় নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত তথ্য, প্রশ্নপত্র বা ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে। তাই ইউএসএজবসে “অ্যাপ্লাই” চাপার পরেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টে গিয়ে আবেদনটি সফলভাবে জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত করা উচিত।
আবেদন করার পর শুরু হয় বাছাই প্রক্রিয়া। সরকারি চাকরিতে অনেক সময় আবেদন পাওয়ার পর যোগ্যতা যাচাই, প্রাথমিক বাছাই, ইন্টারভিউ, নির্বাচন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মতো একাধিক ধাপ থাকে। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এরপর ইন্টারভিউ হতে পারে। নির্বাচিত প্রার্থীকে প্রথমে শর্তসাপেক্ষ চাকরির অফার দেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত অফার দেওয়া হয়।
সরকারি চাকরির অন্যতম আকর্ষণ হলো বেনিফিট। তবে সব সরকারি চাকরিতে একই সুবিধা পাওয়া যায় না। স্টেট, সিটি বা ফেডারেল সরকারের নিয়ম এবং চাকরির ধরন অনুযায়ী সুবিধা পরিবর্তিত হয়।
ফেডারেল সরকারের যোগ্য কর্মীরা হেলথ, ডেন্টাল, ভিশন ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফ্লেক্সিবল স্পেন্ডিং অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে লং টার্ম কেয়ার ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা পেতে পারেন। ফেডারেল কর্মীদের জন্য অবসরকালীন সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে।
জর্জিয়া স্টেটের সরকারি কর্মীদের জন্য মেডিকেল ও ডেন্টাল কভারেজ, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং অন্যান্য কর্মী সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেট সরকারের চাকরির সুবিধার মধ্যে কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অবসর পরিকল্পনাও রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রেও বেতন ছাড়াও বিভিন্ন কর্মী সুবিধা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কর্মী কোন সুবিধা পাবেন, সেটি তার পদ, চাকরির শ্রেণি, ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে শুধু বেতন নয়, সেই পদের বেনিফিট সম্পর্কিত তথ্যও দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি চাকরির কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, যোগ্যতার তালিকা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা একাধিক ধাপের কারণে চাকরি পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির পরীক্ষাভিত্তিক চাকরিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো, সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় সাধারণ একটি জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলেই সব সময় কাজ হয় না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্রে সেই যোগ্যতার সঙ্গে নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার মিল পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হয়। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র বা অতিরিক্ত ডকুমেন্টও লাগতে পারে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্বের নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির “হু মে অ্যাপ্লাই” অংশে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। তাই ইউএস সিটিজেন, গ্রিন কার্ডধারী বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়। প্রতিটি পদের যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
সরকারি চাকরিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতারণা থেকে সাবধান থাকা। সরকারি চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চাকরির আবেদন সব সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে করা উচিত। কেউ যদি চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে আগে টাকা চায় বা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিং তথ্য চায়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
তাহলে একজন বাংলাদেশি কোথা থেকে শুরু করবেন?
প্রথমে নিজের স্টেট, সিটি ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নিজের শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স এবং দক্ষতার সঙ্গে মেলে এমন পদ খুঁজতে হবে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখতে হবে পদটির জন্য কোনো পরীক্ষা দরকার কি না, ন্যূনতম যোগ্যতা কী, আবেদন কখন শেষ হবে এবং কী কী ডকুমেন্ট লাগবে। এরপর জীবনবৃত্তান্ত ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
নিউইয়র্কে থাকলে সিটি জবের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ও নিজের কাউন্টির চাকরিও দেখা যেতে পারে। জর্জিয়ায় থাকলে স্টেট সরকারের পাশাপাশি কাউন্টি ও সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা উচিত। একইভাবে অন্য স্টেটেও স্থানীয় সরকার, কাউন্টি এবং স্টেট সরকারের আলাদা আলাদা চাকরির সুযোগ থাকে। ফেডারেল চাকরির জন্য আলাদাভাবে ইউএসএজবস ব্যবহার করতে হবে।
সরকারি চাকরি সবার জন্য একই রকম নয় এবং সব পদের বেতন বা সুবিধাও এক নয়। তবে স্থায়ী ক্যারিয়ার, নিয়মিত আয়, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সরকারি চাকরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার অপশন হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিচিত কারও কাছ থেকে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি পড়ে আবেদন করা। কারণ একটি সিটি বা স্টেটের নিয়ম অন্য সিটি বা স্টেটে একই নাও হতে পারে। সঠিক জায়গায় চাকরি খোঁজা, যোগ্যতা যাচাই করা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে অনুসরণ করাই সরকারি চাকরিতে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট ফেডারেল শিক্ষাঋণের সুদে অস্থায়ী ছাড় পেতে বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে অটো পে চালু করতে হবে। সময়টি যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী। ইতোমধ্যে অটো পে চালু থাকা যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অটো পেতে আগে সুদের হারে ০ দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট ছাড় মিলত। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য মোট ছাড় বেড়ে হয়েছে ১ শতাংশ পয়েন্ট। অর্থাৎ এটি আগের ছাড়ের সঙ্গে আরও ১ শতাংশ পয়েন্ট যোগ হওয়ার ঘোষণা নয়। অতিরিক্ত ছাড়টি প্রযোজ্য ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পরে বিতরণ করা ফেডারেল ডাইরেক্ট লোনে। ঋণটি পরিশোধের পর্যায়ে থাকতে হবে এবং ছাড় ধরে রাখতে অটো পে চালু রেখে নিয়মিত কিস্তি দিতে হবে। এই বাড়তি সুবিধা চলবে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সব শিক্ষাঋণে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। অটো পে চালু করলে প্রতি মাসে নির্ধারিত কিস্তি ঋণগ্রহীতার ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়। আবেদন করতে হবে নিজের শিক্ষাঋণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে। ঋণ কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে আছে, তা ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড অ্যাকাউন্টে দেখা যায়। ছাড়টি ঋণের সুদের হারে, সরাসরি মাসিক কিস্তির অঙ্কে নয়। কত টাকা সাশ্রয় হবে, তা বকেয়া ঋণ, সুদের হার ও পরিশোধ পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে। ঋণ স্থগিত থাকলে বা পরিশোধের পর্যায়ে না থাকলে এই ছাড় পাওয়ার শর্তও বদলে যেতে পারে।
কানাডার মদ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেলে মার্কিন আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর
নিউইয়র্কের সরকারি ভবনে প্রায় ৪ হাজার এফোর্ডেবল হাউসিং নির্মাণের পরিকল্পনা মামদানির
ট্রাম্প এতই জঘন্য যে, আমার লেখা যেকোনো ভয়ের গল্পের চেয়েও তা ভয়ংকর : স্টিফেন কিং
নিউইয়র্কে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা ঠেকাতে নতুন কৌশল নিয়েছেন কিছু রেস্তোরাঁ মালিক। পুলিশে অভিযোগ করার পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ ও গ্রাহকদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে ঘটনাটি জনসমক্ষে আনা এবং বকেয়া বিল পরিশোধে অভিযুক্তদের চাপ তৈরি করা। কয়েকটি ঘটনায় এমন পোস্ট প্রকাশের পর দ্রুত বিল পরিশোধও হয়েছে। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে কি না, তার নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান নেই, কারণ অনেক রেস্তোরাঁ ছোট অঙ্কের ক্ষতির ঘটনায় পুলিশে অভিযোগই করে না। ব্রঙ্কসের মট হ্যাভেন এলাকায় তালাভেরা ক্যান্টিনার মালিক ব্রিটনি কারিনিও সম্প্রতি এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। গত ৫ মে, যুক্তরাষ্ট্রে সিনকো দে মায়ো উদ্যাপনের দিন, তিন নারী তার রেস্তোরাঁয় এসে টাকোস, চিপস, গুয়াকামোলে এবং চারটি ফ্রোজেন মার্গারিটা অর্ডার করেন। কারিনিওর ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানীয় নেওয়ার পর তারা ১১২ ডলারের বিল পরিশোধ না করে চলে যান। সেদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রেস্তোরাঁর বিল হিসাবের ব্যবস্থা সমস্যায় থাকায় বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়েনি। পরে অফলাইনে সম্পন্ন লেনদেন যাচাই করতে গিয়ে তিনি বকেয়া বিলটি দেখতে পান। এরপর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কারিনিও দেখতে পান, দলটির একজন নারী বিলের ট্রে নিজের ব্যাগের নিচে সরিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে রেস্তোরাঁ পরিচালনার মধ্যে এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম ঘটনা। পুলিশে ফোন করার বদলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ছবি ও ফুটেজ প্রকাশ করেন এবং জানান, বিল পরিশোধ করা হলে তিনি বিষয়টি আর এগিয়ে নিতে চান না। পোস্ট দেওয়ার পর ওই দলের একজনের বড় ভাই রেস্তোরাঁয় এসে পুরো ১১২ ডলারের বিল পরিশোধ করেন। কারিনিও নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবসায়ীদের এমন ঘটনার কথা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি উপায় তৈরি করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট অঙ্কের বিলের ক্ষেত্রে পুলিশে অভিযোগ করার পর তদন্ত, ফুটেজ দেখানো এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় সময় দিতে হয়। তাই তিনি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। লং আইল্যান্ড সিটির ভিয়েতনামি রেস্তোরাঁ শেফ পাপার মালিক জন ট্রুংও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তার দাবি, ফাহমিদা সুলতানা নামে একজন খাদ্যবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্মাতা প্রায় ২০০ ডলারের খাবার ও পানীয়ের বিনিময়ে তার রেস্তোরাঁর প্রচার করবেন বলে একটি সমঝোতা করেছিলেন। ট্রুংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি খাবার গ্রহণের পর কর্মীদের মাত্র ৬ ডলার বকশিশ দিয়ে চলে যান এবং প্রতিশ্রুত প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করেননি। পরে ট্রুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ঘটনাটি তুলে ধরেন। সেই ভিডিও প্রকাশের পর ওই নারী একটি তীব্র সমালোচনামূলক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছিলেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়। এসব দাবির বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। নিউইয়র্কে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে পেই ‘লু’ চুংয়ের ঘটনাও রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি পিটার লুগার, ফ্রাঁসি ও মিশির মতো রেস্তোরাঁয় বিল না দেওয়ার অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন এবং মোট সাতবার গ্রেপ্তারের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব ঘটনায় ওঠা অভিযোগগুলোর বিচারিক ফলাফল আলাদা বিষয়। পরে তাকে বিচার মোকাবিলার উপযুক্ত নয় বলে ঘোষণা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগ বাতিল করা হয়েছিল বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছিল। নিউইয়র্ক শহরের বাইরেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পকিপসির এরিন ও’নিলস পাব অ্যান্ড গ্রিল সম্প্রতি ৪১ ডলারের একটি বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করে। মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওতে এক নারী ও তার সঙ্গে থাকা এক পুরুষকে বিলের সঙ্গে থাকা একটি কার্ড নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। পোস্ট দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে একজন ওই পুরুষের ছবি ও পরিচয় জানিয়ে রেস্তোরাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ভিডিওটি প্রায় ৮ লাখবার দেখা হয় এবং ব্যবসাটির নতুন অনুসারীও বাড়ে। মালিকের মতে, ঘটনাটি তাদের জন্য এক ধরনের বিনামূল্যের প্রচারণায় পরিণত হয়। অন্যদিকে, কিছু প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদলে নিজেদের রেস্তোরাঁয় তথাকথিত ‘ওয়াল অব শেম’ তৈরি করেছে। ব্রঙ্কসের ইউএমআই হটপট সুশি অ্যান্ড সিফুড বুফে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগে কিছু গ্রাহকের ছবি ও বকেয়া রসিদ প্রদর্শন করছে। তবে কোনো ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি সত্যিই অর্থ না দিয়ে চলে গেছেন কি না, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করলে বিভ্রান্তি বা অন্য ধরনের আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। নিউইয়র্কের আইনে রেস্তোরাঁর খাবার ও সেবার মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়াকে ‘থেফট অব সার্ভিসেস’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ধরা হয়। নিউইয়র্কের আদালতের নির্দেশিকায় রেস্তোরাঁর বিল না পরিশোধকে নিউইয়র্ক পেনাল ল-এর ১৬৫.১৫ ধারার আওতায় রাখা হয়েছে। এটি ক্লাস এ মিসডিনিমারের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমান আইনে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৩৬৪ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে বাস্তবে ছোট অঙ্কের বকেয়া বিল নিয়ে পুলিশি প্রক্রিয়ায় সময় ও শ্রম দেওয়ার বিষয়টি অনেক ব্যবসার জন্য বড় বিবেচনা। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিসের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টোফার হারম্যান নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ৭৫ বা ১৫০ ডলারের একটি বিলের জন্য রেস্তোরাঁকে ব্যবসা থামিয়ে পুলিশ ডাকতে হতে পারে, কর্মকর্তাদের অপেক্ষা করতে হতে পারে, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দিতে হতে পারে এবং কর্মীদের বক্তব্যও দিতে হতে পারে। তাই অনেক মালিক সম্ভাব্য ক্ষতির তুলনায় এই প্রক্রিয়ার ব্যয় ও সময় বিবেচনা করে পুলিশে অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে এই সমস্যার প্রকৃত বিস্তার সরকারি অপরাধের পরিসংখ্যানে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে না। হারম্যান বলেন, অনেক রেস্তোরাঁ ঘটনা রিপোর্ট না করায় সরকারি তথ্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক মুখপাত্রও নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বিভাগটি এত নির্দিষ্টভাবে আলাদা করে সংরক্ষণ করে না। ফলে এই প্রবণতা কতটা বেড়েছে, সে বিষয়ে বর্তমানে অনেক তথ্যই ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর নির্ভর করছে। রেস্তোরাঁ ব্যবসার সীমিত লাভের কারণে এ ধরনের ছোট ক্ষতিও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ রেস্তোরাঁর কর-পূর্ব মুনাফার হার প্রায় ৫ শতাংশের মতো। একই হিসাবে ১১২ ডলারের সমপরিমাণ কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করতে প্রায় ২ হাজার ২৪০ ডলারের বিক্রি প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ ১১২ ডলারের একটি বিল না দেওয়া কেবল ওই দিনের একটি খাবারের দাম হারানো নয়, এটি সেই অর্থের সমপরিমাণ লাভ অর্জনের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত বিক্রির প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। হারম্যানের পরামর্শ, এমন ঘটনায় রেস্তোরাঁ মালিকদের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ, বিলের রসিদ এবং কর্মীদের বক্তব্য সংরক্ষণ করা উচিত। একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়ও তদন্তে কাজে আসতে পারে। তার মতে, আলাদা আলাদা ছোট ঘটনা একত্র হয়ে কোনো পুনরাবৃত্ত আচরণের ধরন স্পষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাও জরুরি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কে ডেলিভারি দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী, গ্রেপ্তার ১৪ বছরের কিশোর
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই থেকে ভিসা ইন্টারভিউ, কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মা ও তার প্রেমিককে হত্যায় ১৮ বছরের তরুণীর ৫০ বছরের কারাদণ্ড
খ্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে দুই শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবার কোনো নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেবে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য টেনেসি। ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দণ্ডিত পাইক বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী। নাশভিল, টেনেসি: যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০০ বছর পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ৫০ বছর বয়সী খ্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড আগামী বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর কার্যকর করার কথা রয়েছে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৮২০ সালের পর টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন পাইক। তারা দুজনই নক্সভিলের জব কর্পসে পড়াশোনা করতেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইক মনে করতেন স্লেমার তার প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে পাইক ও তার প্রেমিক টাডারিল শিপ স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার নৃশংসতা, জড়িতদের অল্প বয়স এবং নিহতের শরীরে শয়তানবাদ-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতীক খোদাই করার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। মামলায় শিপ স্বীকার করেছিলেন যে তিনিই স্লেমারের শরীরে পেন্টাগ্রাম বা পাঁচকোণা তারকা আকৃতির প্রতীকটি খোদাই করেছিলেন। পাইক তার অপরাধের দায় অস্বীকার করেননি। তবে তার আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন, ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উপযুক্ত নয়। তাদের দাবি, শৈশব থেকেই পাইক গুরুতর নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার শনাক্ত হয়। পাইকের আইনজীবী স্টিফেন ফেরেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই পাইক যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং ১১ ও ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তার আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণের সময় বিচারকদের সামনে তার শৈশবের এসব পরিস্থিতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথেষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনে পাইক নিজের অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি তখন মানসিকভাবে অসুস্থ ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী ছিলেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা বুঝতে তার অনেক বছর লেগেছে। তিনি স্বীকার করেছেন, তার কর্মকাণ্ডে একটি পরিবারের সন্তান, বোন ও বন্ধুকে হারাতে হয়েছে। পাইকের আইনজীবীরা আরও বলছেন, বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও শৈশবের মানসিক আঘাতের প্রভাব সম্পর্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা যায়। তাদের মতে, অপরাধের সময় পাইকের বয়স এবং তার শৈশবের পরিস্থিতি মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কারণ হওয়া উচিত। মামলায় পাইকের প্রেমিক টাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালে তার প্যারোলের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। আরেক কিশোর সহযোগী হিসেবে দায় স্বীকার করে পরীক্ষামূলক মুক্তির সাজা পেয়েছিল। টেনেসির গভর্নর বিল লি সোমবার জানিয়েছেন, তিনি পাইকের সাজা মওকুফ করবেন না। এর পর পাইকের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে টেনেসি সুপ্রিম কোর্টও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ বন্ধ করেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি নিয়ে পাইকের করা চ্যালেঞ্জ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। এদিকে নিহত কোলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মেয়ের মৃত্যুর পর প্রায় তিন দশক ধরে অপেক্ষা করছেন। তিনি পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষ্য, কোলিন মাত্র ১৯ বছর বয়সে মারা যান এবং বড় হয়ে ওঠার সুযোগ পাননি। মার্টিনেজ জানান, তার মেয়ে স্পেশাল অলিম্পিকসে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন, রোলার স্কেটিং পছন্দ করতেন এবং কম্পিউটার নিয়ে কাজ করার পেশাগত স্বপ্ন ছিল। কোলিনের হত্যাকাণ্ড নক্সভিল শহরেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তাকে ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় এবং বড় একটি পাথর বা অ্যাসফল্টের টুকরা দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ঘটনাটি ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের তথাকথিত ‘স্যাটানিক প্যানিক’ বা শয়তানবাদ নিয়ে সামাজিক আতঙ্কের আলোচনাকেও উসকে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা তুলনামূলকভাবে বিরল। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ওই সময়ের মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় ১ শতাংশ। ২০২৩ সালে মিসৌরিতে অ্যাম্বার ম্যাকলাফলিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার লিসা মন্টগোমেরির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, যা প্রায় সাত দশকের মধ্যে কোনো নারী ফেডারেল বন্দির প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ছিল। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের হিসাবে, আধুনিক মৃত্যুদণ্ডের যুগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮, ১৯ বা ২০ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য ২৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে এই বয়সসীমার ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বর্তমানে ক্রমেই বিরল হয়ে এসেছে। পাইক ১৯৯৬ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর প্রায় ৩০ বছর ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। তার মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর হলে টেনেসির ইতিহাসে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার (DPIC)
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াই ৪ বছরের এলেনার
নিউইয়র্কে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধ র্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ৭ শিক্ষার্থী