ট্রাম্প প্রশাসনের বিজ্ঞাপনে সরকারি অর্থের ব্যবহার, প্রশ্নের মুখে ২ কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের অর্থে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুলে ধরে তৈরি কয়েকটি বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ২ কোটি ডলার সরকারি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনপ্রণেতা ও নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন, কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি অর্থ এ ধরনের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা আইনসঙ্গত কি না।
বিজ্ঞাপনগুলো গত সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, কেবল চ্যানেল এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পের বক্তব্য, তার প্রশাসনের নীতির প্রশংসা এবং দেশপ্রেমমূলক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পকে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়। পাশাপাশি পর্দায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় কর কমানো, দেশটির উৎপাদন ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশকে সমর্থনের মতো বার্তা দেখানো হয়।
আরেকটি প্রায় এক মিনিটের বিজ্ঞাপনে রাতে মাউন্ট রাশমোরের দৃশ্যের সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া তার বক্তব্যের অংশও রয়েছে।
তৃতীয় বিজ্ঞাপনটি ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার একটি বিজ্ঞাপনের সঙ্গে প্রায় একই ধরনের। সাদা-কালো ফুটেজে ট্রাম্পকে একটি করিডোর দিয়ে হাঁটতে দেখা যায় এবং তার কণ্ঠে ‘চূড়ান্ত লড়াই’ ও বৈশ্বিক রাজনীতির বিভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা শোনা যায়। বিজ্ঞাপনের শেষে লেখা রয়েছে—‘পেইড ফর বাই দ্য ইউএস গভর্নমেন্ট’, অর্থাৎ বিজ্ঞাপনটির অর্থ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
হাউস ডেমোক্র্যাটদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থ থেকে ২ কোটি ডলার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য সরানো হয়। পরদিন ‘ন্যাশনাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন’ নামে একই পরিমাণের একটি চুক্তি মেরিল্যান্ডভিত্তিক এলএমডি এজেন্সিকে দেওয়া হয়।
অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি বিজ্ঞাপনে গত সাত দিনে ২৫ লাখ ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। তবে প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে ও ক্রিস মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে বিজ্ঞাপনের অর্থ ও চুক্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তাদের বক্তব্য, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জন্য বরাদ্দ করা অর্থ রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা সরকারি অর্থ ব্যবহারের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
তবে এ নিয়ে শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই প্রশ্ন ওঠেনি। রিপাবলিকান সিনেটর ও সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও বলেছেন, এ ধরনের বিজ্ঞাপনের অর্থ করদাতাদের অর্থ থেকে দেওয়া উচিত নয়। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস আবার ট্রাম্পের বিজ্ঞাপনগুলোর সঙ্গে হাঙ্গেরির সাবেক নেতা ভিক্টর অরবানের ব্যবহৃত বিজ্ঞাপনের তুলনা করেছেন।
বিজ্ঞাপনগুলো আইনসঙ্গত কি না, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। কয়েকজন আইন ও নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ ব্যবহার করে সরকারি প্রচার বা রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের ওপর থাকা বিধিনিষেধের সঙ্গে বিজ্ঞাপনগুলো সাংঘর্ষিক হতে পারে।
তবে সরকারি অর্থে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি—এমন সিদ্ধান্তও এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সরকারি জবাবদিহি সংস্থা জিএওর ব্যাখ্যায় সরকারি প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা গোপন করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান বিজ্ঞাপনগুলোতে সরকারি অর্থে প্রচারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস বিজ্ঞাপনগুলোকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছে না। প্রশাসনের ভাষ্য, এগুলো ‘পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট’ বা জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন, যার উদ্দেশ্য দেশপ্রেম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসার বার্তা তুলে ধরা। প্রশাসন অতীতের বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের উদাহরণও দিয়েছে।
তবে সমালোচক ও কিছু বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, আগের অনেক সরকারি বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে নির্দিষ্ট সরকারি কর্মসূচি বা সেবা সম্পর্কে জানানো। বর্তমান বিজ্ঞাপনগুলোর ক্ষেত্রে সেই উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় বলে তারা মনে করছেন। নির্বাচনের আগে সরকারি অর্থে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার হওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। বিজ্ঞাপনগুলো সরকারি জনসচেতনতামূলক প্রচারের সীমার মধ্যে রয়েছে, নাকি রাজনৈতিক প্রচারণার পর্যায়ে পড়ছে—এ নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে কাঁচা দুধ ও কাঁচা দুধ দিয়ে তৈরি পণ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক একটি পনির প্রত্যাহার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি খামারকে ঘিরে তদন্তে দেখা যাচ্ছে, অপরিশোধিত বা পাস্তুরাইজেশন না করা দুধজাত পণ্যের সঙ্গে যুক্ত খাদ্যজনিত অসু স্থতায় ছোট শিশুরাই বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। কাঁচা দুধ বলতে এমন দুধকে বোঝায়, যা ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বং স করার জন্য পাস্তুরাইজেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ওয়েলনেস বা স্বাস্থ্যসচেতন গোষ্ঠীর মধ্যে কাঁচা দুধ পান জনপ্রিয় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রও বিভিন্ন সময়ে কাঁচা দুধের কথিত উপকারিতার পক্ষে কথা বলেছেন এবং এর ওপর খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করেছেন। তবে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কাঁচা দুধের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাদের মতে, পাস্তুরাইজেশন না করা দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি থাকে, যা গুরুতর অসু স্থতার কারণ হতে পারে। পনিরে ই কো লাই সং ক্রমণ সম্প্রতি কাঁচা দুধ আবার আলোচনায় আসে সিয়েরা নেভাদা চিজ কোম্পানির তৈরি গ্র্যাজিয়ার্স ব্র্যান্ডের কাঁচা দুধের পনির ঘিরে। এসব পনিরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক অঙ্গরাজ্যে ই কো লাই সং ক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর পণ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা পণ্যের মধ্যে ছিল মিডিয়াম চেডার, শার্প চেডার, জালাপেনো জ্যাক এবং মন্টেরি জ্যাক। এগুলো ৮ ও ১৬ আউন্স প্যাকেটের পাশাপাশি ৫ পাউন্ডের বড় লোফ আকারেও বিক্রি করা হয়েছিল। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা, ওরেগন, ইউটাহ, কলোরাডো, জর্জিয়া, টেনেসি, কেনটাকি ও মিশিগান—এই ৯ অঙ্গরাজ্যে মোট ১৩ জন অসু স্থ হয়েছেন। আক্রান্তদের অর্ধেকেরও বেশি বয়স ৫ বছর বা তার কম। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তিনজনের হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম বা এইচইউএস হয়েছে। এটি একটি বিরল কিন্তু গুরুতর জটিলতা, যা কিডনি বিকল হওয়া এমনকি মৃ ত্যুর কারণও হতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই এই জটিলতায় তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হয়। কাঁচা দুধের আরও একটি ঘটনা কাঁচা দুধের ঝুঁকি নিয়ে এটি একমাত্র ঘটনা নয়। প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অনুমোদনহীন খামারের কাঁচা দুধ পান করার পর দুই শিশু গুরুতর অসু স্থ হয়ে পড়ে। পরে রাজ্য কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে এবং খামারটিকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কাঁচা দুধ খাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত শত শত অসু স্থতার ঘটনা ঘটেছে। কেন শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে? খাদ্যজনিত সং ক্রমণে শিশুরা বড়দের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হতে পারে। অসু স্থ হলে ছোট শরীরের কারণে শিশুরা দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। ই কো লাইয়ের মতো ব্যাকটেরিয়ার সং ক্রমণে তাদের গুরুতর জটিলতা তৈরি হওয়ার এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকিও বেশি। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, কাঁচা দুধে সালমোনেলা, ই কো লাই ও লিস্টেরিয়ার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। সংস্থাটি দুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাস্তুরাইজেশনকে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে সমর্থন করে। বর্তমানে ভোক্তাদের কাঁচা দুধ ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রত্যাহার সংক্রান্ত সরকারি সতর্কতা খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন পনির থাকলে ফ্রিজে থাকা পণ্যগুলো প্রত্যাহার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পরামর্শ রয়েছে।
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা, ‘ভালো-মন্দ যেকোনো উপায়ে’ শিগগিরই ইতি টানার ইঙ্গিত
ট্রাম্প প্রশাসনের বিজ্ঞাপনে সরকারি অর্থের ব্যবহার, প্রশ্নের মুখে ২ কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক কারখানা হচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন সচল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা কতটা
দ্রুত নগরায়ণ, আবাসন সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতের বাড়িঘর কেমন হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন স্থপতি ও প্রকৌশলীরা। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে মাটির নিচে বা মাটিকে বাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করে বসবাসের ধারণা। চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমানো এবং জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বাড়ির সম্ভাবনা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু বড় প্রকৌশলগত, আর্থিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ। মাটির নিচে বাড়ির ধারণা নতুন নয় মাটিকে ব্যবহার করে ঘরকে প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণ বা ঠান্ডা রাখার পদ্ধতি আধুনিক স্থাপত্যের অনেক আগের। আইসল্যান্ডে শত শত বছর ধরে মাটি ও ঘাস দিয়ে ঘরের দেয়াল ও ছাদ আচ্ছাদিত করে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বাতাস থেকে সুরক্ষা নেওয়া হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যে সেই ধারণাকেই উন্নত জলরোধী ব্যবস্থা, প্রকৌশল ও নকশার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। উত্তর চীনে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড হাউস অব দ্য ফিউচার’ নামে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পে মাটির নিচে ভল্ট আকৃতির কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার স্কটসডেলেও মাটির নিচে নামানো উঠানকে ঘিরে বাড়ির নকশা দেখা গেছে। মেক্সিকোর স্থপতি হাভিয়ের সেনোসিয়াইনের ‘কাসা অর্গানিকা’ও এ ধরনের নকশার উদাহরণ। বাড়িটির ওপর ঘাস ও মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা শীতকালে তাপ ধরে রাখতে এবং গ্রীষ্মে ঘর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। কোবার পেডিতে বাস্তব উদাহরণ অস্ট্রেলিয়ার খনিশহর কোবার পেডি ভূগর্ভস্থ বসবাসের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণগুলোর একটি। সেখানে আনুমানিক অর্ধেক মানুষ মাটির নিচের বাড়িতে বসবাস করেন। ভূগর্ভস্থ এসব ঘরে সারা বছর প্রায় ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় থাকে। এর কারণ, মাটির কয়েক ফুট নিচের তাপমাত্রা বাইরের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। স্থপতি এরলা দোগ ইনজালদোত্তিরের মতে, সঠিক জায়গায় মাটিকে বাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করলে তাপমাত্রার ওঠানামা কমানো, গরম ও ঠান্ডা করার প্রয়োজনীয়তা কমানো এবং কিছু চরম আবহাওয়া থেকে বাড়িকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। দাবানল ও অতিরিক্ত গরমে সুবিধা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ, দাবানল ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মাটির নিচে বা আংশিকভাবে মাটিতে আবৃত বাড়ি কিছু এলাকায় বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে। জলবায়ু-সহনশীল আবাসন নিয়ে কাজ করা দ্য পাওলেলে হালে অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডেভিড গিলিল্যান্ড বলেন, উপযুক্ত ভৌগোলিক এলাকায় মাটিকে বাড়ির বাইরের আবরণ হিসেবে ব্যবহার করলে তাপমাত্রার বড় ওঠানামা কমানো এবং গরম ও ঠান্ডা করার চাহিদা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাতাস, দাবানল ও কিছু চরম আবহাওয়ার প্রভাব থেকেও সুরক্ষা মিলতে পারে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও নগর ভূগর্ভস্থ স্থানকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্পদের ঘাটতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পানি থেকে আলো পর্যন্ত বড় প্রকৌশল চ্যালেঞ্জ তবে মাটির নিচে বাড়ি নির্মাণ যতটা আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা ততটা সহজ নয়। পানি ঢোকা ঠেকানো, নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মাটির চাপ, রেডন গ্যাস, বায়ু চলাচল, প্রাকৃতিক আলো, জরুরি সময়ে বের হওয়ার পথ এবং দীর্ঘমেয়াদি জলরোধী ব্যবস্থা—সবকিছুর পরিকল্পনা শুরু থেকেই করতে হয়। গিলিল্যান্ডের মতে, এসব সুবিধা বাস্তব হলেও প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জও যথেষ্ট। সঠিকভাবে তৈরি হলে ভূগর্ভস্থ বাড়ি কার্যকর ও টেকসই হতে পারে। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় আর্থিক সমস্যায় ফেলতে পারে। ইনজালদোত্তিরও সতর্ক করে বলেছেন, জলরোধী ব্যবস্থা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ভুল করার সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতেও দক্ষ নকশা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাটির চাপ সামলানোর কারণে কাঠামোগত ব্যয় সাধারণ কাঠ বা স্টিলের বাড়ির তুলনায় বেশি হতে পারে। মাটির নিচে আসলে কী আছে? ভূগর্ভস্থ মানচিত্র তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এক্সোডিগোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেরেমি সুয়ার্ডের মতে, ভূগর্ভে নির্মাণের সবচেয়ে কঠিন বিষয় শুধু প্রকৌশল নয়—বরং মাটির নিচে আগে থেকেই কী রয়েছে, সেই অনিশ্চয়তা। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইনের পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত মাটি, পাথর ও ভূগর্ভস্থ পানিও নির্মাণকাজে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কমন গ্রাউন্ড অ্যালায়েন্সের এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে সুয়ার্ড জানান, ভূগর্ভস্থ পরিষেবা লাইনের ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এক বছরে ৮৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় এবং প্রায় ৬ লাখ ৬৯ হাজার ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে মানুষের পছন্দ প্রকৌশলগত সমস্যার পাশাপাশি মানুষের মানসিক পছন্দও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। অধিকাংশ মানুষ ঘরে প্রাকৃতিক আলো, বাইরের দৃশ্য, খোলা বাতাস এবং প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ চান। ইনজালদোত্তিরের মতে, এটাই হয়তো মাটির নিচের বাড়িকে মূলধারায় নিয়ে আসার সবচেয়ে বড় বাধা। উঠান, আলো ঢোকার ব্যবস্থা ও বড় জানালার মাধ্যমে কিছু সমস্যা কমানো গেলেও অনেক মানুষ পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ বাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারেন। পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ নয় বরং আংশিক মাটিসুরক্ষিত বাড়ি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসের জন্য পুরোপুরি জানালাবিহীন ভূগর্ভস্থ বাড়ির চেয়ে আংশিকভাবে মাটিতে আবৃত বাড়িই বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। পাহাড়ের ঢালে বাড়ি তৈরি করে কয়েকটি দিক মাটি দিয়ে সুরক্ষিত করা এর একটি উদাহরণ। ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফান শ্যাভেজ-নর্গার্ডের মতে, অনেক এলাকার বর্তমান জোনিং, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা ভূগর্ভস্থ বাড়িকে মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। ফলে এ ধরনের নতুন আবাসন অনুমোদন ও নির্মাণে সময় এবং বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, গ্রামীণ বা অনিবন্ধিত কিছু এলাকায় তুলনামূলক নমনীয় নির্মাণবিধির কারণে এ ধরনের বাড়ি আগে দেখা যেতে পারে। তবে এর জনপ্রিয়তা নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া, নির্মাণ ব্যয়, জ্বালানির দাম, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ওপর। বিশেষজ্ঞদের সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো, মাটির নিচের বাড়ি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের মূলধারায় পরিণত হবে না। বরং দাবানল ও অতিরিক্ত গরমপ্রবণ এলাকায় মাটি, ঘাস ও সবুজ ছাদকে বাড়ির নকশায় কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে আংশিক মাটিসুরক্ষিত আবাসন ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের H-1B ভিসা ফি আবারও আটকে দিল আদালত
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার না দিয়ে দুই কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা
যুক্তরাষ্ট্রের EB-1A ভিসায় গ্রিন কার্ড, যে ৫ ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যায়
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া থেকে তিন বছরের কম সময়ে পিএইচডি সম্পন্ন করে একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভা। ভিন্ন একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে নতুন একটি গবেষণাক্ষেত্রে কাজ করে এই অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ। ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার তথ্য অনুযায়ী, নুসরাত ২০২৩ সালে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস বিভাগে পিএইচডি শুরু করেন। পরের বছর ২০২৪ সালে তিনি ক্রপ অ্যান্ড সয়েল সায়েন্সেস বিভাগে গবেষণার ক্ষেত্র পরিবর্তন করেন। তাঁর গবেষণার মূল আগ্রহ ছিল রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার উপায় খুঁজে বের করা। বাংলাদেশে নুসরাতের একাডেমিক ভিত্তিও কৃষিবিষয়ক। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তিতে স্নাতক এবং ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে এসে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ায় পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত হন। পিএইচডি গবেষণায় নুসরাত বাণিজ্যিক চিনাবাদাম ক্ষেতে উচ্চ রেজোলিউশনের হাইপারস্পেকট্রাল ও লাইডার ডেটা ব্যবহার করেছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য ছিল চিনাবাদামে অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা। পাশাপাশি রিমোট সেন্সিং, আবহাওয়ার তথ্য ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে চিনাবাদামের বৃদ্ধি ও ফলন নির্ধারণের পদ্ধতিও নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ২০২৫ সালে নুসরাতের গবেষণার একটি অংশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনেও উপস্থাপিত হয়। সেখানে তাঁর গবেষণায় ড্রোনের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে চিনাবাদামের ফলন আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নির্ধারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। গবেষণাটি কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাও দেখায়। নুসরাতের এই একাডেমিক যাত্রায় একটি প্রিয় উদ্ধৃতিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ। হেনরি ডেভিড থোরোর সেই উদ্ধৃতির মূল বক্তব্য হলো, শুধু ব্যস্ত থাকাই যথেষ্ট নয়, মানুষ কী কাজে ব্যস্ত রয়েছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। নুসরাতের গবেষণা ও একাডেমিক পথচলার সঙ্গে এই ভাবনাটিকেই যুক্ত করেছে সংগঠনটি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ নুসরাত জাহান নিভাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও একাডেমিক নিষ্ঠার প্রশংসা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর এই পথচলা বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে উঠেছে।
ডেটিং সাইটে চীনা গুপ্তচরের ফাঁদে মার্কিন ফেড কর্মকর্তা, গোপন তথ্য শেয়ারে ৩৮ মাসের জেল
ওবামাকেয়ারের প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার ফেরত, কারা পাবেন এই টাকা?