ট্রাম্প

নির্বাচন ব্যবস্থাকে 'জাতীয়করণ' করার আহ্বান ট্রাম্পের: তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সাবেক এফবিআই (FBI) কর্মকর্তা ড্যান বোঙ্গিনোর একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং পুরো ব্যবস্থাকে 'জাতীয়করণ' (Nationalize) করে।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "রিপাবলিকানদের বলা উচিত যে আমরা এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই। অন্তত ১৫টি স্থানে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা নিজেদের হাতে নেওয়া উচিত। রিপাবলিকানদের উচিত ভোটিং প্রক্রিয়াকে জাতীয়করণ করা।"   মূল কারণ ও অভিযোগ: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরের মতোই ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির ভিত্তিহীন দাবি পুনরায় উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেক রাজ্যে অবৈধভাবে ভোট গণনা করা হচ্ছে এবং নথিপত্র ছাড়াই অভিবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, ফেডারেল বা জাতীয় সরকার নয়, বরং প্রতিটি অঙ্গরাজ্য (States) তাদের নিজস্ব নির্বাচন পরিচালনা করে। ট্রাম্পের এই 'জাতীয়করণ'-এর প্রস্তাব সাংবিধানিকভাবে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে আইনজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অনেক ডেমোক্র্যাট নেতা একে 'গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত' এবং 'স্বৈরাচারী মনোভাব' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া: সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "ট্রাম্প কি আদৌ সংবিধান পড়েছেন? তিনি সরাসরি নির্বাচন ব্যবস্থা দখল করার কথা বলছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।"   প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন সম্প্রতি জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টিতে এফবিআই একটি তল্লাশি চালিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করছেন, এই তল্লাশির মাধ্যমে ২০২০ সালের নির্বাচনের অনেক 'গোপন তথ্য' বেরিয়ে আসবে। সামনেই ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন, যেখানে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প মনে করছেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিবর্তন না আনলে রিপাবলিকানদের জন্য জয় কঠিন হতে পারে।   এই ঘোষণার ফলে মার্কিন নির্বাচনী সুরক্ষা এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর অধিকার নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
ইউএস স্ট্র্যাটেজিক ক্রিটিক্যাল মিনারেলস রিজার্ভ
খনিজ সম্পদের সুরক্ষায় ‘প্রজেক্ট ভল্ট’, মার্কিন শিল্প খাতে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দিতে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমবারের মতো দেশটিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ইউএস স্ট্র্যাটেজিক ক্রিটিক্যাল মিনারেলস রিজার্ভ’, যা পরিচিতি পেয়েছে প্রজেক্ট ভল্ট নামে। এটি কেবল একটি মজুত ব্যবস্থা নয়, বরং বৈশ্বিক খনিজ রাজনীতির সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের এক শক্তিশালী অবস্থান।   কেন এই ‘প্রজেক্ট ভল্ট’ আপনার জানা জরুরি? শিল্প ও শ্রমিকের সুরক্ষা: পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের মতোই এখন খনিজ পদার্থের বিশেষ মজুত থাকবে, যা সংকটকালীন সময়ে মার্কিন শিল্পখাত ও কর্মীদের বেকার হওয়া থেকে রক্ষা করবে। করদাতাদের ওপর চাপ নেই: ১২ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের পাশাপাশি থাকছে বেসরকারি বিনিয়োগ। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপবে না, বরং ঋণের সুদ থেকে লাভের পথ তৈরি হবে। চীন-নির্ভরতা হ্রাসের কৌশল: বৈশ্বিক খনিজ সরবরাহে একক আধিপত্য কমাতে এবং সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করতে এটি একটি বড় কৌশলগত চাল। শক্তিশালী বৈশ্বিক জোট: ইতিমধ্যে ১১টি দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে এবং আরও ২০টি দেশ যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন এক ‘ক্লাব অফ নেশনস’ তৈরি করবে।   ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মতে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা সম্ভব নয়। খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সার্বভৌমত্বও এখন ঝুঁকির মুখে। তাই উন্নত উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে নিরাপদ রাখতেই এই মাস্টারপ্ল্যান।

ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
ভারতীয় পণ্যে ২৫ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এক ফলপ্রসূ টেলিফোনিক আলোচনার পর উভয় দেশ একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের শুল্ক যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নতুন সমঝোতা অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এর বিনিময়ে ভারত সরকারও মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক ও নন-ট্যারিফ বাধা পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   এই আলোচনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিকটি ছিল রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেল নিয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন। এর পরিবর্তে ভারত এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে প্রয়োজনীয় তেল আমদানি করবে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর এর আগে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক জরিমানা আরোপ করা হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র তা তুলে নেবে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তির আওতায় ভারত আগামী বছরগুলোতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমদানির এই তালিকায় রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানি, কৃষিপণ্য এবং কয়লা। ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল দুই দেশের অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করবে না, বরং বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনেও বড় ভূমিকা রাখবে।   অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই চুক্তি নিয়ে তাঁর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং বৃহৎ দুই অর্থনীতি যখন একযোগে কাজ করে, তখন তা উভয় দেশের জনগণের জন্য অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ বয়ে আনে।   উল্লেখ্য, গত আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার পর দুই দেশের বাণিজ্য তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। নতুন এই চুক্তি সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করে দুই দেশের মৈত্রীকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে সমঝোতা, ভারতীয় পণ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সমঝোতায় এক চুক্তি হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোন আলোচনার পর ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে। ট্রাম্প বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের শুল্ক এবং নন-ট্যারিফ বাধা শূন্যে নামানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আলোচনায় রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কেও সমন্বয় হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন এবং এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবেন। এর ফলে ভারতের বিরুদ্ধে রুশ তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও তুলে নেওয়া হবে।   এই সমঝোতার আওতায় ভারত আগামীতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে থাকবে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য এবং কয়লা। ট্রাম্পের মতে, এই সমঝোতা কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চুক্তি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি ও বৃহত্তম গণতন্ত্র একসাথে কাজ করলে উভয় দেশের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।”   উল্লেখ্য, গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। নতুন এই সমঝোতাকে সেই উত্তেজনা প্রশমনের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নুরুল্লাহ সাইদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
কেভিন ওয়ার্শ
ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে বড় ধরণের সিদ্ধান্ত নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, তিনি ফেডারেল রিজার্ভের ১৭তম চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন দিচ্ছেন।   ৫৫ বছর বয়সী কেভিন ওয়ার্শ বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির হুভার ইনস্টিটিউশনে ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কর্মরত। ট্রাম্প তাঁর বার্তায় ওয়ার্শকে একজন অত্যন্ত দক্ষ এবং বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ওয়ার্শ মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন।   উল্লেখ্য, বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ চলতি বছরের মে মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে যাওয়া কেভিন ওয়ার্শের ক্যারিয়ার অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। ২০০৬ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি ফেডারেল রিজার্ভের সর্বকনিষ্ঠ গভর্নর হিসেবে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। এছাড়া জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সময় তিনি হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময় আর্থিক সংকট মোকাবিলায় তাঁর কার্যকর ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল।   ট্রাম্পের এই মনোনয়নের ফলে মার্কিন মুদ্রানীতি এবং সুদের হারে বড় ধরণের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। এখন দেখার বিষয়, পাওয়েল পরবর্তী যুগে কেভিন ওয়ার্শ মার্কিন অর্থনীতিকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ কাশ্মীরে হস্তক্ষেপ করতে পারে, শঙ্কায় ভারত

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ নিয়ে এখন তুঙ্গে আন্তর্জাতিক জল্পনা। বিশ্বের বহু দেশ এই পর্ষদে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এমনকি এই পর্ষদ গঠনের ঐতিহাসিক সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিত ছিল দিল্লি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ‘কাশ্মীর ইস্যু’। ভারত আশঙ্কা করছে, এই আন্তর্জাতিক পর্ষদ যদি কাশ্মীরের অমীমাংসিত বিরোধ নিয়ে হস্তক্ষেপ করে, তবে তা দিল্লির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।   সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে এই পর্ষদ শুধু গাজার যুদ্ধবিরতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বের প্রতিটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এর কার্যক্রম প্রসারিত করা হবে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো যখন তিনি এক এক করে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প কৌশলে জাতিসংঘকে অপ্রাসঙ্গিক করে নিজের নিয়ন্ত্রিত একটি বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছেন।   ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ইতিমধ্যেই এই শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়ে বড় ধরণের কূটনৈতিক চাল চেলেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এটি ভারতের জন্য একটি ‘রেড সিগন্যাল’। যদি ট্রাম্প কাশ্মীর বিরোধকে তাঁর শান্তি পরিকল্পনায় যুক্ত করেন, তবে ভারতের জন্য আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী মোতায়েনের বিরোধিতা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। জাতিসংঘে ভারতের সাবেক দূত সৈয়দ আকবর উদ্দিন এবং প্রখ্যাত কূটনীতিক রণজিৎ রায়ও মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘পাওয়ার গেম’-এর বিরোধিতা করা ভারতের জন্য এখন সময়ের সবথেকে বড় পরীক্ষা। দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র আর কূটনীতি কি তবে বড় কোনো পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0