সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ট্রাম্প

ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন এল-সায়েদের, চান অ স্ত্র বিক্রিও বন্ধ হোক
ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন এল-সায়েদের, চান অ স্ত্র বিক্রিও বন্ধ হোক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন মিশিগানের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। বুধবার এনপিআর-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমি মনে করি এই নীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট সঠিক অবস্থানে আছেন।"   তবে এল-সায়েদ শুধু বিনামূল্যে সহায়তা বন্ধেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না; তিনি ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের মার্কিন অস্ত্র বিক্রিও পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "যেসব অস্ত্র গণহত্যা ও বর্ণবাদের মতো জঘন্য কাজে ব্যবহৃত হয়, আমরা চাই ইসরায়েলের কাছে সেই অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হোক।"   গত মঙ্গলবার মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েন এল-সায়েদ। নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করাই ছিল তার প্রচারণার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। নিজের বিজয় ভাষণেও তিনি এ বিষয়ের পুনরুল্লেখ করেছেন।   এছাড়া তিনি মিশর, সৌদি আরব, জর্ডান এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতেও মার্কিন সামরিক সহায়তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, মার্কিন করদাতাদের অর্থ বিদেশের বদলে দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নেই ব্যয় হওয়া উচিত।   এর আগে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে কয়েক মাস আগেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি চুক্তি হয়েছে। 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, নেতানিয়াহু নিজেই প্রথম এই সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   নেতানিয়াহুও এর আগে জানিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলকে স্বাবলম্বী করতে এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান মজবুত করতে আগামী এক দশকের মধ্যে মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চান তিনি। তবে সামরিক সহায়তা বন্ধ হলেও ইসরায়েল চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে পারবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগের মতোই অটুট থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ট্রাম্প।

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:০
আইল্যান্ডের ফেডারেল আদালত
অভিবাসন নীতির শর্তে সরকারি অনুদান বন্ধের চেষ্টা আটকাল আদালত, স্বস্তি পেল ২৩ অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনি বিরোধে নতুন মোড় এসেছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার শর্ত পূরণ না করলে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যকে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা খাতের নির্দিষ্ট সরকারি অনুদান দেওয়া হবে না—এমন শর্ত আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক।   রয়টার্সের ৪ নভেম্বর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল জুনিয়র এ বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষে রায় দেন। ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি কেন্দ্রীয় সরকারের ওই শর্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। নিউ জার্সির নেতৃত্বে এই আইনি লড়াইয়ে অংশ নেয় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য।   বিচারকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নির্দিষ্ট দুটি অনুদান কর্মসূচিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত যেসব শর্ত আরোপ করেছিল, সেগুলো আইনসম্মত নয়। আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে এসব শর্ত কার্যকর করা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিরত রেখেছেন।   বিতর্কের মূল বিষয় ছিল, অঙ্গরাজ্যগুলোকে নির্দিষ্ট ফেডারেল অনুদান পেতে হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এর মধ্যে অঙ্গরাজ্যের হেফাজতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং তাঁদের মুক্তির বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে অবহিত করার মতো শর্তও ছিল।   অঙ্গরাজ্যগুলোর যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের অনুমোদিত অনুদান কর্মসূচিতে বিচার বিভাগ নিজ উদ্যোগে এমন অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করতে পারে না। তাদের দাবি, এ ধরনের শর্ত আরোপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গরাজ্যগুলোকে ফেডারেল অভিবাসন নীতির সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।   নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ডেভেনপোর্ট আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ অর্থকে রাজনৈতিক বা অভিবাসন নীতির শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।   এই অনুদান কর্মসূচিগুলো অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন জননিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করে। এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরঞ্জাম কেনা, মাদক পাচার মোকাবিলা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং শিশু-কিশোরদের বিচারব্যবস্থাসংক্রান্ত কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হয়।   এর আগে ২০২৫ সালে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদানের সঙ্গে অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ওই অনুদানের শর্ত প্রত্যাহার করে প্রশাসন।   এবারের রায় নির্দিষ্ট কিছু ফেডারেল অনুদান কর্মসূচিতে অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত আরোপের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যগুলোর অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এটি আইসিইর অভিযান বা কেন্দ্রীয় সরকারের সব ধরনের অভিবাসন কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞাও নয়। আদালত মূলত নির্দিষ্ট সরকারি অনুদানের সঙ্গে যুক্ত করা শর্তগুলোর বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের জননিরাপত্তা কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় অনুদানের ভূমিকা রয়েছে। তবে এই রায় কোনো ব্যক্তির অভিবাসন মর্যাদা, গ্রিন কার্ড, ভিসা বা নির্বাসনসংক্রান্ত মামলায় সরাসরি পরিবর্তন আনে না।   আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ করা অভিবাসনসংক্রান্ত শর্তের মুখে পড়বে না। অভিবাসন নীতি ও অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিতর্কে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ঘটনা।

নুরুল্লাহ সাইদ নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল
‘আমি তোমার যত্ন নেব’ বলে ধর্ষণের অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক সুইস সুন্দরী ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে তাঁকে ধর্ষণ করেন ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে এই অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে হোয়াইট হাউস অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় কিউলের বয়স ছিল ২৪ বছর। তিনি সুইজারল্যান্ডে মডেলিংয়ের পাশাপাশি আর্থিক খাতে কাজ করতেন। ১৯৯৩ সালে ট্রাম্পের আয়োজিত একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিউইয়র্কে যান তিনি। সেখানেই ট্রাম্প ও পরবর্তী সময়ে যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।   কিউলের বর্ণনা অনুযায়ী, প্লাজা হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমি তোমার যত্ন নেব।’ এরপর ট্রাম্পের একজন প্রতিনিধি তাঁকে হোটেলের ওপরের তলায় একটি কক্ষে নিয়ে যান। কিউলের অভিযোগ, সেখানে প্রবেশের পর ট্রাম্প তাঁকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্ত প্রতিবেদনে কিউলের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর ট্রাম্প আবারও ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখতে বলে মন্তব্য করেন, ‘শো চলতেই হবে।’ কিউল জানান, এই অভিজ্ঞতার পর আতঙ্কিত অবস্থায় প্রতিযোগিতা শেষ করে সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান তিনি।   এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন কিউল। তবে তখন তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিবাদ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন। নতুন সাক্ষাৎকারে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন। আগের ও বর্তমান বর্ণনার এই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নতুন প্রতিবেদনে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হলেও অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টাইনের সম্পর্ক এবং বিভিন্ন নারীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সদস্যদের দাবি, অন্তত পাঁচজন নারী এপস্টাইনের উপস্থিতিতে বা তাঁর ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। আরও কয়েকজন নারীকে ট্রাম্পের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত কোনো অভিযোগই সত্য নয়। হোয়াইট হাউস এটিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, জেফরি এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে এই প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত বা বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে, এমন নয়।   ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময় যৌন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে লেখক ই. জিন ক্যারলের করা পৃথক দেওয়ানি মামলায় নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে যৌন নির্যাতন ও মানহানির জন্য দায়ী করেন। তবে সেই দেওয়ানি রায় এবং বিয়াট্রিস কিউলের নতুন ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ পৃথক ঘটনা। ক্যারলের মামলার সিদ্ধান্ত দিয়ে কিউলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এপস্টাইন-সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত এবং পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে। কিউলের অভিযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   SOURCE মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্ত প্রতিবেদন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; পিপল ম্যাগাজিন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; দ্য টেলিগ্রাফ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; দ্য ইনডিপেনডেন্টের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন।  

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় র‍্যাপার নিকি মিনাজ
‘নিকি মিনাজকে এত সুন্দর আগে লাগেনি’ বললেন ট্রাম্প, রিপাবলিকানদের প্রচারে র‍্যাপার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় র‍্যাপার নিকি মিনাজ। রোববার (২৫ অক্টোবর) মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হিউরনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেন তিনি। সেখানে নিকি মিনাজের সৌন্দর্য নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঞ্চে তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, ‘তাকে এর আগে কখনো এত সুন্দর লাগেনি।’ একই সমাবেশে নিকির শারীরিক সৌন্দর্য নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মিশিগানের ম্যাকমোরান প্লেস অ্যারেনায় এই নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স এবং গভর্নর প্রার্থী জন জেমসের পক্ষে প্রচার চালান ট্রাম্প। তাঁর সঙ্গে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে মিশিগানে পৌঁছান ৪৩ বছর বয়সী র‍্যাপার নিকি মিনাজ। সমাবেশে কয়েক হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উঠে নিকি রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান এবং ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প প্রথমে ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের শারীরিক গঠন নিয়ে আগের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। এরপর নিকি মিনাজের দিকে ইঙ্গিত করে তাঁর শরীরের একটি অংশের সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেন। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি নিকিকে দাঁড়াতে বলেন। নিকি উঠে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়লে সমাবেশস্থলে উল্লাস শুরু হয়। পরে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন নিকি তাঁর মন্তব্যে অপমানিত হননি। একই সঙ্গে তিনি জানান, নিকি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সমর্থন দিয়ে আসছেন।   এরপর মঞ্চে উঠে নিকি মিনাজ সমর্থকদের নিয়ে ট্রাম্পের নামে স্লোগান দেন। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স ও গভর্নর প্রার্থী জন জেমসের নামেও স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় পার করছে। তাই মিশিগানের ভোটারদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হবে। ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে নিকি বলেন, তাঁর ফিরে আসার পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বদলেছে এবং মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা আরও স্পষ্ট করেন নিকি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ানো তাঁর জন্য সম্মানের এবং তিনি ভবিষ্যতেও তাঁকে সমর্থন করে যাবেন। এমনকি ট্রাম্প আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁকেও সমর্থন দেবেন বলে জানান এই র‍্যাপার। নিকির বক্তব্য শেষ হলে ট্রাম্প আবার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তাঁর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নিকিকে আগে কখনো এত সুন্দর দেখায়নি। একই সঙ্গে তাঁকে একজন বুদ্ধিমান ও বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে জন্ম নেওয়া নিকি মিনাজ শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কের কুইন্সে বেড়ে ওঠেন। সংগীতজগতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছেন। এর আগে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন আয়োজনেও তাঁকে দেখা গেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি আর্থিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এই শিল্পী। মিশিগানের নির্বাচনী লড়াই এবার রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাঈদ। অন্যদিকে গভর্নর পদে জন জেমসের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জোসেলিন বেনসন। সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে আবদুল এল সাঈদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। এল সাঈদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।   নির্বাচনের আগে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজের সরাসরি প্রচারে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে সমাবেশে প্রার্থীদের পক্ষে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মন্তব্যও সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের সিনেট ও গভর্নর পদের ফলাফল কোন দলের পক্ষে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।  

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ট্রাম্প
নার্সিং হোমে নার্স নিয়োগে বড় উদ্যোগ ট্রাম্পের, তিন বছর কাজ করলে মিলতে পারে ৪০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে নার্সিং হোমে নার্সের ঘাটতি কমাতে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে ৪ হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যোগ্য আবেদনকারীরা শিক্ষাঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং অতিরিক্ত ১০ হাজার ডলারের ভাতা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট নার্সিং হোমে তিন বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক নাগরিকদের কল্যাণে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিচ্ছেন। তাঁর প্রশাসন দেশজুড়ে নার্স, নার্সিং হোম ও বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি সেবাকেন্দ্রে বিনিয়োগ করছে। ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে নার্সের প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্র (সিএমএস) যৌথভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে। এর মূল লক্ষ্য হলো নার্সিং হোমে নতুন নার্স নিয়োগের পাশাপাশি কর্মরত নার্সদের ধরে রাখা। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা ও যেসব অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মীর ঘাটতি বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নার্স নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।   কর্মসূচির মোট অর্থায়নের মধ্যে সিএমএস দেবে ১০ কোটি ডলার। বাকি অন্তত ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেবে অঙ্গরাজ্যগুলো। এ অর্থের উৎস হিসেবে নার্সিং হোমগুলোর ওপর আরোপিত দেওয়ানি আর্থিক জরিমানা থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে নতুন করে সাধারণ করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হবে না বলে দাবি করেছেন সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজ। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ নার্সদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি বয়স্কদের সেবার মান উন্নত করতে সহায়তা করবে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত নার্স (আরএন) অথবা লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল বা ভোকেশনাল নার্স (এলপিএন/এলভিএন) হিসেবে বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইড অনুমোদিত যোগ্য দীর্ঘমেয়াদি সেবাকেন্দ্রে চাকরি করতে হবে এবং সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করে তিন বছরের চাকরির অঙ্গীকারের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।   যোগ্য নার্সদের শিক্ষাঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তাঁরা ১০ হাজার ডলারের ভাতার জন্যও যোগ্য হতে পারেন। অর্থাৎ, শর্ত অনুযায়ী উভয় সুবিধা পেলে একজন অংশগ্রহণকারীর মোট সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। সুবিধা পাওয়ার জন্য কর্মসূচির যোগ্যতা ও চাকরির শর্ত পূরণ করতে হবে।   নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, এমন শিক্ষার্থীরাও আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। তবে অর্থ পাওয়ার আগে তাঁদের পড়াশোনা শেষ করতে হবে, প্রয়োজনীয় পেশাগত লাইসেন্স অর্জন করতে হবে এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে নতুন নার্সদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে কাজ করতে উৎসাহিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে চালু হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার সব নার্সিং হোম এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় নার্সের ঘাটতি বেশি, সেখানকার নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানও সহায়তার সুযোগ পাবে। তবে সব নার্সিং হোমের কর্মী এই সুবিধা পাবেন না; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো নার্স নিয়োগ ও ধরে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ ও বেশি প্রয়োজন রয়েছে এমন এলাকায় সেবার পরিধি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজের ভাষ্য, শিক্ষাঋণ পরিশোধে সহায়তা শুধু নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক চাপ কমাবে না, বরং পরিবারের সদস্যদের জন্যও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, নার্সদের সঙ্গে বয়স্ক বাসিন্দাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁদের জীবনযাপনের মান ও সুস্থতাও উন্নত হতে পারে। কর্মসূচির জন্য আবেদন শুরু হবে ২৬ অক্টোবর থেকে। আগ্রহীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট NursesforNursingHomes.cms.gov-এর মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে এবং আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের নার্সিং হোমগুলো দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে পর্যাপ্ত নার্স পাওয়া কঠিন। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে সেই ঘাটতি কমানো এবং বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার মান উন্নত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
৩ কোটি ডলারের সম্পদের তথ্য থেকে সংশোধিত হিসাবে ৯৫ হাজার ডলার, তদন্তের মুখে ইলহান ওমর
৩ কোটি ডলারের সম্পদের তথ্য থেকে সংশোধিত হিসাবে ৯৫ হাজার ডলার, তদন্তের মুখে ইলহান ওমর

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর দাবি করেছেন যে, তিনি সাধারণ কর্মজীবীদের মতো 'দিন এনে দিন খাই' অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি 'এমএস নাউ' (MS NOW)-এর একটি সাক্ষাৎকারে নিজেকে সাধারণ কর্মজীবী দাবি করে তিনি জানান, চার সন্তান নিয়ে একটি ২০১৬ মডেলের টয়োটা ক্যামরি গাড়ি চালিয়ে একেবারে সাদামাটা জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। অথচ এর আগেই তার আর্থিক বিবরণীতে সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা নিয়ে বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া তদন্ত চলছে।   গত বছর ইলহান ওমরের জমা দেওয়া আর্থিক বিবরণী ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ওই নথিতে তার স্বামী টিম মাইনেটের নামে থাকা একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ও একটি ওয়াইনারির বিপুল পরিমাণ শেয়ার দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ওমর দাবি করেন যে তার কাগজপত্রে ভুল ছিল এবং সংশোধিত বিবরণীতে নিজের সম্পদ ১৮ হাজার থেকে ৯৫ হাজার ডলারের মধ্যে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো নিশ্চিত করেছেন যে তার দল ওমরের এই আর্থিক বিবরণী নিয়ে তদন্ত করছে। উল্লেখ্য, কংগ্রেস সদস্য হিসেবে ওমর বছরে ১ লাখ ৭৪ হাজার ডলার বেতন পান, যা একজন সাধারণ পূর্ণকালীন মার্কিন কর্মীর গড় বেতনের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।   আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি ইলহান ওমরের নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়েও জোর তদন্ত চালাচ্ছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তদন্ত সংস্থা (এইচএসআই)। কয়েক দশক আগে তার বাবা যখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন, তখন ওমরের বয়স ১৭ নাকি ১৮ ছিল—তা নিয়েই মূলত তদন্ত চলছে।   এই তদন্তে জালিয়াতি প্রমাণিত হলে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হতে পারে। গত সপ্তাহে এইচএসআইয়ের এজেন্টরা তার ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে ভোরে অভিযান চালিয়ে প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করেন এবং তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেন।   সাক্ষাৎকারে ইলহান ওমর আরও জানান যে, বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ্যে চলে আসা এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি ডিসির ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ২০১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে তিনি নিজের ভাইকে বিয়ে করেছিলেন বলে যে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে, সেটিকেও তিনি ওই সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা
ট্রাম্পের ‘মাদার অব অল বোম্বস’র জবাবে ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ উন্মোচনের ঘোষণা দিল ইরান

‘ফাদার অব অল বোম্বস’ নামে একটি নতুন অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। বুধবার, ২১ অক্টোবর তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ করে ইরানের ইয়াং জার্নালিস্টস ক্লাব। তবে অস্ত্রটির ধরন, সক্ষমতা কিংবা উন্মোচনের নির্দিষ্ট সময় জানাননি তিনি।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলার পর এ ঘোষণা এল। তবে ট্রাম্প বোমাটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।    আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহেবি বলেছেন, তাঁরা নতুন অস্ত্রটি উন্মোচনের প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছেন এবং এটি প্রতিপক্ষের জন্য নতুন কিছু হবে। বিস্তারিত প্রকাশ না করায় ইরানের ঘোষিত অস্ত্রটি মার্কিন বোমার তুলনায় কতটা শক্তিশালী, তা নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়নি।  মার্কিন বোমাটির আনুষ্ঠানিক নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কিলোগ্রাম ওজনের এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম বড় প্রচলিত অ-পারমাণবিক বোমা। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে আইএসের একটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সে প্রথমবার এটি ব্যবহার করা হয়।    রয়টার্স জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবর রাতে নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন না এবং মার্কিন স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়ও বিবেচনা করছেন না বলে জানান।    মোহেবি আরও দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগের দেড় গুণ হয়েছে। তবে তিনি মজুতের নির্দিষ্ট সংখ্যা দেননি। নতুন অস্ত্রের ঘোষণার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নির্ভুলতা ও ধ্বংসক্ষমতা বৃদ্ধির কথাও দাবি করেন তিনি।   

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
সরকারি জালিয়াতির তথ্য দিলেই মিলবে ৩০ হাজার ডলার! নতুন উদ্যোগ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরকারি অর্থের জালিয়াতি শনাক্ত করতে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি কর্মসূচিতে সন্দেহজনক জালিয়াতির তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তা করা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার পেতে পারেন।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচিটির নাম ‘ফ্রড হুইসেলব্লোয়ার ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম’। বিচার বিভাগ এটি পরিচালনা করবে। fraud.gov ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনো জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া বা বড় ধরনের আইন প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তথ্যদাতা পুরস্কারের যোগ্য হতে পারেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি অর্থের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে শুধু অভিযোগ জমা দিলেই পুরস্কার পাওয়া যাবে না; তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন।    এই কর্মসূচি সরকারি অনুদান, সুবিধা ও অর্থায়ন ব্যবস্থায় জালিয়াতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এসেছে। তবে বাস্তবে কতটি মামলা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে এবং কতজন পুরস্কার পাবেন, তা এখনো জানা যায়নি।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন
করদাতাদের অর্থ রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিযান, দেশজুড়ে জোট গড়লেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অর্থের অপচয়, জালিয়াতি ও অনিয়ম ঠেকাতে দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।   হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে জালিয়াতি শনাক্ত করা, অর্থ ছাড়ের আগেই সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধ করা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।   ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের জালিয়াতি নির্মূলবিষয়ক টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জালিয়াতি প্রতিরোধের অঙ্গীকারে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতের সরকারি কর্মকর্তারা এতে সমর্থন জানিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।   সরকারি সহায়তার অর্থ অপব্যবহার হলে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই জালিয়াতি প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের অর্থ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সঠিক ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে সুবিধা হতে পারে।   তবে উদ্যোগ ঘোষণার অর্থ এই নয় যে সব ধরনের জালিয়াতি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়েছে কিংবা ঘোষিত সাশ্রয়ের সব অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মসূচিটির বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নে তদন্ত, অর্থ পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে জালিয়াতি কমার পরিমাপযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মূল্যবৃদ্ধির চাপে স্থবির মার্কিনিদের প্রকৃত মজুরি
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে হতাশা বাড়ছে, ট্রাম্পের আমলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি মার্কিনিদের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রকৃত মজুরি গড়ে বাড়েনি। অর্থাৎ, কর্মীদের বেতন বাড়লেও নিত্যপণ্য ও অন্যান্য সেবার মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সেই বৃদ্ধি তাল মেলাতে পারেনি। ফলে আগের তুলনায় বেশি বেতন পেয়েও অনেক মার্কিনির ক্রয়ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।   ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে পণ্য ও সেবার দামও বেড়েছে প্রায় একই হারে। ফলে মজুরি বৃদ্ধির বড় অংশই মূল্যবৃদ্ধির কারণে কার্যত হারিয়ে গেছে। মজুরি বাড়লেও সেই অর্থ দিয়ে আগের তুলনায় বেশি পণ্য বা সেবা কেনার সুযোগ তৈরি হয়নি। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর গড় ঘণ্টাপ্রতি প্রকৃত মজুরি কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ওই মাসে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছিল মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে, ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ, কর্মীদের আয় সামান্য বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় তার চেয়ে বেশি বেড়েছে। বার্ষিক হিসাবেও একই চাপ দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকৃত ঘণ্টাপ্রতি মজুরি কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে ৩ শতাংশ, কিন্তু ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। উৎপাদন ও তদারকির দায়িত্বে নেই—এমন কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রকৃত ঘণ্টাপ্রতি মজুরি এক বছরে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। গত ছয় মাস ধরে মূল্যস্ফীতি গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার আয়ের বড় অংশ খাবার, জ্বালানি, বাসাভাড়া ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করে, তাদের জন্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক এক মাসে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বেড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ি চালানোর খরচ নয়, পণ্য পরিবহন ও বিভিন্ন সেবার ব্যয়েও প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থনীতি, নিত্যপণ্যের দাম ও পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেক মার্কিনি মনে করছেন, তাঁদের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ এখনো কমেনি। চলতি বছরের শুরুতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টিও মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য অর্থনীতির চিত্রকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে আগ্রাসী অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপ বাইডেন প্রশাসনের সময়কার মূল্যস্ফীতির সংকটের প্রভাব কমিয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে, মজুরি বৃদ্ধি করেছে এবং বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। যেসব শিল্প ও কাজ একসময় দেশের বাইরে চলে গিয়েছিল, সেসব ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান তৈরির দাবি করেছে প্রশাসন। তবে প্রকৃত মজুরির হিসাব সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। শুধু বেতন কতটা বেড়েছে, তা দেখলেই পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না। সেই আয়ে আগের তুলনায় কতটা পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করতে হয়। মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির ব্যবধান না থাকলে আয় বাড়ার সুফল সীমিত হয়ে পড়ে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত গড় মজুরি বৃদ্ধির প্রায় পুরোটা মূল্যবৃদ্ধিতে সমন্বিত হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান আরও দেখাচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসে প্রকৃত মজুরি কমেছে। ফলে অর্থনীতি নিয়ে সরকারের ইতিবাচক বক্তব্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগও সামনে থাকছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভোটারদের মনোভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, সমালোচনা

মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর জর্জিয়ার ডালটনে নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্টের পদ নিয়ে উপহাস করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, তাঁর রসিকতায় উপস্থিত শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল সীমিত।    ডালটন মিউনিসিপ্যাল এয়ারপোর্টের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সংশয় হলে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই চলে। এতে নাম সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই সংখ্যার পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র দেননি। এরপর ইরানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বক্তব্যের একপর্যায়ে ‘মোহাম্মদ’ নামের কয়েকজনকে ওই পদ নিতে বলার ভঙ্গিও করেন তিনি।    ‘মোহাম্মদ’ মুসলিমদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি নাম। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি শ্রদ্ধা থেকে বহু মুসলিম পরিবার ছেলেসন্তানের এই নাম রাখে।    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে আসছেন মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, তাঁর ভাষা এসব জনগোষ্ঠীকে হেয় করে এবং নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে। তবে শুক্রবারের এই নির্দিষ্ট মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কোনো সংগঠনের পৃথক বিবৃতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।  

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করে বিপাকে ট্রাম্প, জবানবন্দি না দিলে নিষেধাজ্ঞার মুখে প্রেসিডেন্ট
বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করে বিপাকে ট্রাম্প, জবানবন্দি না দিলে নিষেধাজ্ঞার মুখে প্রেসিডেন্ট

ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে নিজেই ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা দায়ের করে এখন নির্ধারিত জবানবন্দি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। নিজের করা মামলাতেই অংশ না নেওয়ায় তাঁর ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) জারির কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক।   শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এনজোলিক এ. লেট এক আদেশে ট্রাম্পকে তাঁর জবানবন্দির বিষয়ে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে বিবিসির কাছে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের শিডিউল যথাযথভাবে মানতে ব্যর্থ হলে ট্রাম্পকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিচারক।   ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ২০২৪ সালের একটি তথ্যচিত্রে "বিভ্রান্তিকরভাবে" সম্পাদনা করে ট্রাম্পকে সহিংসতায় উসকানিদাতা হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ এনে বিবিসির বিরুদ্ধে এই বিশাল অঙ্কের মামলাটি করেন তিনি। কিন্তু মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে নির্ধারিত জবানবন্দিতে ট্রাম্প হাজির হননি।   তাঁর আইনজীবীরা বিবিসিকে জানান, "জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজের" কারণে ট্রাম্প এখন সাক্ষ্য দিতে পারবেন না এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে তাঁর পক্ষে সময় দেওয়া সম্ভব নয়—যদিও চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই পর্ব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।   বিবিসি আদালতকে জানিয়েছে, যিনি নিজেই মামলা করেছেন, তাঁকে অংশ নেওয়ানোর জন্য বারবার আদালতের হস্তক্ষেপ লাগা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। মামলাটি দায়ের করার মাধ্যমে তিনি যে আইনি বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছিলেন, তা ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিয়েছেন বিবিসির আইনজীবীরা। আগামী ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির পর জানা যাবে ট্রাম্প বা তাঁর আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আদালত কোনো শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে কি না।   উল্লেখ্য, এই মামলার অংশ হিসেবে ট্রাম্পের সন্তান ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, ইভানকা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের জবানবন্দিও চেয়েছে বিবিসি। সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষার কারণে এতদিন ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা না গেলেও আদালত বিকল্প উপায়ে সমন পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে।   তবে সাবেক হোয়াইট হাউস সহকারী ক্যাসিডি হাচিনসনের সাক্ষ্য নেওয়ার আবেদনটি আদালত খারিজ করে দিয়েছে। এদিকে বিবিসির বিতর্কিত সম্পাদনার জন্য তারা ট্রাম্পের কাছে আগেই দুঃখ প্রকাশ করেছিল, তবে মানহানির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে অসন্তোষ, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি শুল্কনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাণিজ্যনীতি, নিত্যপণ্যের দাম এবং উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের প্রভাব রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ৬৪ শতাংশের বেশি মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন। জানুয়ারিতে একই ধরনের প্রশ্নে এই হার ছিল ৫৮ শতাংশ। জরিপের এই ফল শুল্কনীতি নিয়ে জনমতের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও নির্বাচনে ভোটাররা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিশ্চিত করে না।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, দেশীয় কারখানায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাণিজ্যে অন্যায্য প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করা সম্ভব। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কারখানা নির্মাণ এবং উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের তথ্যকে নীতিটির সম্ভাব্য সুফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশের উদ্বেগ, আমদানি করা কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও ভোগ্যপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ও বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের কিছু অংশ পণ্যের দামে যুক্ত করলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের বেশি অর্থ দিতে হতে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর সাধারণত দুই অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ের শুল্ক আরোপ করেছে, যদিও বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে হার আলাদা এবং আইনি ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে তা ওঠানামা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারাসহ বিভিন্ন আইনি ভিত্তি ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শুল্কনীতির প্রভাব শুধু বিদেশি রপ্তানিকারকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানি করে, তাদের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিল্প আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজা, নতুন চুক্তি করা এবং পণ্যের দাম সমন্বয় করা ব্যয়বহুল হতে পারে।   শুল্কের কারণে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় সুবিধা পেতে পারেন—এমন যুক্তিও রয়েছে। তবে নতুন কারখানা নির্মাণ এবং স্থায়ী উৎপাদনভিত্তিক চাকরি তৈরির মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকে। কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বিপুলসংখ্যক স্থায়ী উৎপাদনকর্মীর চাকরি তৈরি হয় না।   নির্বাচনের আগে এ বিতর্কের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ভোটারদের কাছে মূল্যস্ফীতি, চাকরির নিরাপত্তা এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির বাস্তব ফলাফল নিয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকও প্রশ্ন তুলছেন।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ডিজেল সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্প ও পুতিনের সমঝোতা
ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের, আসছে লাখ লাখ টন জ্বালানি

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে মস্কো। আগামী নভেম্বরেও আরও কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগে জ্বালানির দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত সফল হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং এরপরপরই আরও ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর অবস্থা অনুকূলে থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন জ্বালানি সরবরাহ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভও দুই দেশের মধ্যে ডিজেল ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে ট্রাম্প ঘোষিত সব চালানের নির্দিষ্ট পরিমাণ ও সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর মধ্যে এই ঘোষণা এলো। কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং বাড়ি গরম রাখার কাজে ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ফলে এর দাম বাড়লে শুধু পরিবহন খরচ নয়, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। যুক্তরাষ্ট্রের মোটরচালক সংগঠন এএএর হিসাবে, গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ২৮ সেন্টে পৌঁছায়। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যু দ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান ও ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান যু দ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তা, কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের—বিশেষ করে কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের—জন্য দাম কমানো তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর মস্কোর জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল বিক্রি, সরবরাহ ও আমদানির অনুমতি দিয়ে একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে। এর ফলে ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্তে রাশিয়ার ডিজেল আমদানি করা যাবে। অর্থাৎ, জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ডিজেল উৎপাদন ও ব্যবহারের তুলনায় ঘোষিত প্রাথমিক চালানের পরিমাণ সীমিত। ফলে বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত ডিজেল এলেও দাম দীর্ঘ সময় কম থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এদিকে ডিজেলের উৎপাদন বাড়াতে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। শিল্প খাতের তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সরকারি বিভাগের প্রধানদের ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দিতে পারেন। এ নির্দেশনা প্রেসিডেন্টের স্মারকলিপির আকারে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে শীতল যু দ্ধের সময়কার প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ঋণ বা ঋণের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং জরুরি পণ্য সরবরাহে সরকারি চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করছে—এমন কিছু স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিধিনিষেধ পাশ কাটানোর উপায়ও খোঁজা হতে পারে। ইরানকে ঘিরে যু দ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নতুন শোধনাগার নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর দক্ষতা বাড়ানো বা সেগুলোর সম্প্রসারণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা বেশি কার্যকর হতে পারে বলে গত মাসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা। নতুন শোধনাগার নির্মাণে ব্যয় বেশি এবং কাজ শেষ করতেও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ডিজেলের পাশাপাশি পেট্রলের দামও কমার পূর্বাভাস দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর আশা, শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ১ ডলার ৮৫ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৯৫ সেন্টে নেমে আসবে। তবে শুক্রবার এএএর হিসাবে গড় দাম ছিল প্রায় ৪ ডলার ৩৭ সেন্ট। ফলে ট্রাম্পের এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
স্প্যারোজ পয়েন্ট, মেরিল্যান্ড।
মেরিল্যান্ডে ৩৭০ কোটি ডলারের কারখানা, ৩১০০ নতুন চাকরির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর এলাকায় ৩৭০ কোটি ডলারের একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল স্প্যারোজ পয়েন্টে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের বিভিন্ন উপাদান তৈরির জন্য নতুন উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৩১০০টি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে।   ৬ অক্টোবর স্প্যারোজ পয়েন্টে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এই বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন। এলাকাটি আগে বেথলেহেম স্টিলের বিশাল ইস্পাত কারখানার জন্য পরিচিত ছিল। সেই ইস্পাত কারখানা ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটির শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান কমে যায়।   নতুন প্রকল্পকে ওই অঞ্চলের শিল্প পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অ্যান্ডুরিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাবমেরিন নির্মাণে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।   প্রকল্পটির মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ফেডারেল সরকার প্রায় ২৯০ কোটি ডলারের পণ্য কেনার মাধ্যমে প্রকল্পটিকে সহায়তা করবে। নতুন স্থাপনাটি শুধু সরাসরি কর্মসংস্থানই তৈরি করবে না, এর সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারী, পরিবহন, নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যবসায়ও অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   অর্থনৈতিক দিক থেকে বাল্টিমোর অঞ্চলের জন্য এই বিনিয়োগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া এবং কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের কারণে স্প্যারোজ পয়েন্ট এলাকায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন ছিল। নতুন প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র সেই পুরোনো শিল্প এলাকাকে আবার বড় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।   ট্রাম্প অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোকে তাঁর প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।   প্রকল্পটি মেরিল্যান্ডের শ্রমবাজারের জন্যও বড় খবর। ৩১০০ সরাসরি চাকরি তৈরি হলে উৎপাদন, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্মাণপর্বে অস্থায়ীভাবে আরও অনেক কর্মী কাজের সুযোগ পেতে পারেন।   বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের জন্যও এ ধরনের শিল্প বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বড় উৎপাদন প্রকল্পের প্রভাব শুধু কারখানার কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। স্থানীয় পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, দোকান, আবাসন, নির্মাণ এবং বিভিন্ন সেবা খাতেও ব্যবসা বাড়তে পারে।   প্রকল্পটি মেরিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোগগুলোর একটি হতে পারে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে এবং ঘোষিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।   এই বিনিয়োগ এমন সময়ে আসছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত করা, সরবরাহ ব্যবস্থা দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্প্যারোজ পয়েন্টের প্রকল্পটি সেই বৃহত্তর শিল্পনীতি ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
বয়স্কদের জন্য ৯০ ডলারের মেডিকেয়ার পেমেন্ট
৯০ ডলারের এককালীন পেমেন্ট পাচ্ছেন লাখো বয়স্ক, শর্ত পূরণ না করায় বাদ ৪ কোটি

যুক্তরাষ্ট্রে লাখো বয়স্ক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এ সপ্তাহে ৯০ ডলারের এককালীন পেমেন্ট পৌঁছাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠানো এই অর্থ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কেন এই টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং কারা এটি পাওয়ার যোগ্য?   এই ৯০ ডলারের অর্থ মূলত মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে দেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০ মিলিয়নের বেশি মেডিকেয়ার সদস্যকে এই এককালীন অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে মেডিকেয়ারে থাকা সব বয়স্ক মানুষ এই অর্থ পাবেন না। প্রায় ৪ কোটি পার্ট বি সদস্য এই পেমেন্টের জন্য যোগ্য নন।   মেডিকেয়ার পার্ট বি সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ, বহির্বিভাগের চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, ল্যাব পরীক্ষা ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা ব্যয় কভার করে। এর মাসিক প্রিমিয়াম আয় ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৬ সালে পার্ট বি প্রিমিয়ামে বছরে ২০০ ডলারের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। আগামী বছরও প্রিমিয়াম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ৯০ ডলারের এই পেমেন্ট অনেকের জন্য কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে, যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের পুরোটা এটি সামাল দিতে পারবে না।   কারা পাবেন এই ৯০ ডলার?   সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি সদস্যরা এই পেমেন্টের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে তাদের প্রিমিয়ামের খরচ মেডিকেইডের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে না এবং আয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত মাসিক প্রিমিয়ামও দিতে হবে না। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা সদস্যরাও এই অর্থ পাবেন না।   সিএমএসের হিসাবে, মোট ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন আমেরিকান এই পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্য। অর্থাৎ পার্ট বি-তে থাকা প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ সদস্যের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৪ কোটি মানুষ বিভিন্ন কারণে এর বাইরে থাকছেন।   যারা মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে আছেন, যাদের প্রিমিয়াম মেডিকেইডের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়, যারা আয়ের কারণে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন না—তারা এই ৯০ ডলারের পেমেন্টের আওতায় পড়বেন না।   কীভাবে পাওয়া যাচ্ছে টাকা?   যোগ্য অধিকাংশ সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯০ ডলার পাবেন। সিএমএস জানিয়েছে, বেশির ভাগ যোগ্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ৮ অক্টোবরের আশপাশে এই অর্থ জমা হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে কিছু সদস্যের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে বা জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   যাদের সরাসরি ব্যাংক জমার ব্যবস্থা নেই, তারা ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে কাগজের চেক পাবেন। এসব চেক অক্টোবরের পরের দিকে ডাকযোগে পাঠানো হবে। চেকের সঙ্গে পেমেন্টটির উদ্দেশ্য উল্লেখ করা থাকবে।   এই অর্থ আসছে কোথা থেকে?   ৯০ ডলারের পেমেন্টের অর্থ আসছে মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে। কংগ্রেস ২০০৮ সালে এই তহবিল তৈরি করে অরিজিনাল মেডিকেয়ারের কার্যক্রম ও সেবা উন্নত করার জন্য। তহবিলে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। এবারই প্রথম এই তহবিল থেকে সরাসরি মেডিকেয়ার সদস্যদের প্রিমিয়াম কমাতে অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।   তবে অতীতে তহবিলটি একেবারে ব্যবহার করা হয়নি—এমন নয়। কেএফএফের স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ল্যারি লেভিট জানিয়েছেন, আগের প্রশাসনগুলো সরাসরি এই ধরনের পেমেন্ট না দিলেও কংগ্রেস বিভিন্ন সময় অন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বাজেট সংক্রান্ত কাজে তহবিল থেকে অর্থ সরিয়েছে। ২০১০ সালে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ওবামাকেয়ার বাস্তবায়নের অর্থায়নেও প্রায় ২০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হয়েছিল।   এই ৯০ ডলারের পেমেন্ট এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য ৫০০ ডলারের রিবেট পেমেন্টের কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।   যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে মেডিকেয়ার সদস্যরা ১-৮০০-মেডিকেয়ার নম্বরে ফোন করে ৯০ ডলারের পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে পারবেন। আর পেমেন্ট পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ১-৮০০-৭৭২-১২১৩ নম্বরে ১৫ অক্টোবর থেকে যোগাযোগ করা যাবে।   অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ ৯০ ডলার জমা পড়লে সেটি কোনো ভুল বা অতিরিক্ত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নয়। যোগ্য মেডিকেয়ার পার্ট বি সদস্যদের জন্য এটি অক্টোবর মাসের প্রিমিয়াম খরচ কিছুটা কমাতে দেওয়া এককালীন পেমেন্ট। তবে মেডিকেয়ারের ধরন, আয় এবং প্রিমিয়াম সহায়তার অবস্থার ওপর নির্ভর করে সবাই এই অর্থ পাবেন না।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সের শিক্ষার্থী বিক্ষোভে ইসলাম ও অভিবাসনকে দায়ী করে  ট্রাম্প
ফ্রান্সের শিক্ষার্থী বিক্ষোভে ইসলাম ও অভিবাসনকে দায়ী করে আলোচনাকে ভিন্ন খাতে নিলেন ট্রাম্প

ফ্রান্সে স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ইসলাম ও অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, ফ্রান্সের পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ‘নিয়ন্ত্রণহীন গণ-অভিবাসন’। তবে বিক্ষোভকারীদের প্রকাশিত দাবিতে ধর্ম বা অভিবাসনের বিষয়টি নেই।    পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বিক্ষোভটি স্কুল নিয়ে নয়; তাঁর ভাষায়, ইসলাম ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে শিক্ষকসংকট, শ্রেণিকক্ষের দুরবস্থা, দীর্ঘ স্কুলসময় এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব।    প্যারিসের একটি স্কুল ঘিরে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া আন্দোলন পরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের সমর্থনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও রাস্তায় নামেন। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সেদিন দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন; তাঁদের মধ্যে প্যারিসে ছিলেন প্রায় ৫৬ হাজার।   অধিকাংশ জায়গায় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। মঙ্গলবার প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন ৮৯১টি স্কুলে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ ছিল।    ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা, স্কুলের দীর্ঘ সময়সূচি পর্যালোচনা এবং পুরোনো ভবন মেরামতের বিষয়গুলো দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতেই ফ্রান্সের আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্য দিলেন।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
‘মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য
‘মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

শ্রেণিকক্ষে তীব্র শিক্ষক সংকট, স্কুলের সার্বিক অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা খাতে বাজেট কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফ্রান্সে টানা দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং প্রায় দুই হাজার স্কুলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা।   তবে শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিতর্কিত দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই বিক্ষোভ মূলত ফ্রান্সে মুসলিমদের দেশ দখলের অপচেষ্টা মাত্র।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্টে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ফ্রান্সে বর্তমানে যা ঘটছে তা অনিয়ন্ত্রিত ব্যাপক অভিবাসনের প্রত্যক্ষ ফলাফল। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো সাধারণ স্কুলের সমস্যা কিংবা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়; বরং এটি ইসলামের বিষয়, যা একসময়ের মহান রাষ্ট্র ফ্রান্সকে দখল করার চেষ্টা করছে। ব্যাপক অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার কারণেই ফ্রান্সে আজ এমন নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।   এদিকে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ফরাসি প্রশাসন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।   শিক্ষার্থীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ ক্লাস সময়সূচি পুনর্বিবেচনা, দুপুরের খাবারের সময় বাড়ানো, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার এবং সর্বোপরি শিক্ষা খাতের প্রস্তাবিত বাজেট কর্তনের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করা।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
সাইবেরিয়ায় প্লেগের আশঙ্কা নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমেরিকা
সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকর্মীর মৃ ত্যুর পর রাশিয়াকে সহায়তার কথা বলেছেন ট্রাম্প

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মৃ ত্যুর পর দেশটিকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের সমস্যায় পড়লে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে ওই কর্মী প্লেগে আ ক্রা ন্ত হয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি রুশ কর্তৃপক্ষ।   ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মী নিউমোনিয়ায় মৃ ত্যু বরণ করেছেন। তবে তাঁর অসুস্থতার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   গভর্নর কোবজেভ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়নি।   সাইবেরিয়ার ওই ঘটনার বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বিষয়টির ওপর নজর রাখছে। তবে ট্রাম্পের সহায়তার প্রস্তাবের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।   রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই কর্মীর মৃ ত্যুর সঙ্গে তাঁর গবেষণাগারের কাজের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষাগারে জীবাণু ব্যবস্থাপনার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার পক্ষেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকি কম বলে মনে হচ্ছে। তবে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে ঝুঁকির মাত্রা আবার মূল্যায়ন করা হবে।   রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্লেগ নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীর মৃ ত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে কর্মীর অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   তবে রুশ কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মীর মৃ ত্যু প্লেগ সংক্রমণের কারণে হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। একইভাবে গবেষণাগারে কোনো দুর্ঘটনা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, এমন দাবিরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প ও রুবিও। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেই মনে হচ্ছে। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়নও পরিবর্তন করা হতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের নৈশভোজে ডা. জুবাইদাসহ অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ট্রাম্পের নৈশভোজে ডা. জুবাইদাসহ অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ অংশ নেওয়ার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ৩ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করেন তিনি। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজের।   জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর রাতে ম্যানহাটনের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে নৈশভোজটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান অংশ নেন।    প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনেও ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে তাঁর অংশ নেওয়ার কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছিল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
মাদুরোকে ধরার আগে এআইয়ের সহযোগীতা নিলেন ট্রাম্প, ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ফাঁস!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করলে দেশটির জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রককে প্রশ্ন করেছিলেন বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে মাদুরোকে আটক করার প্রায় এক মাস আগে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে তিনি গ্রকের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তর করেন। এর মধ্যে ছিল তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি।   একপর্যায়ে ট্রাম্প জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র যদি মাদুরোকে আটক করে, তাহলে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ কীভাবে বিষয়টি গ্রহণ করবে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রক মাদুরোকে অত্যন্ত অজনপ্রিয় ও দমনমূলক শাসক হিসেবে বর্ণনা করে এবং ধারণা দেয় যে অনেক ভেনেজুয়েলান তাঁর পতনকে স্বাগত জানাতে পারেন।   এর প্রায় এক মাস পর, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। মার্কিন কর্মকর্তারা ওই অভিযানের আগে কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি ও মহড়া চালানোর কথা জানিয়েছিলেন।   অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গায় মাদুরোবিরোধী মানুষের আনন্দ প্রকাশের খবরও আসে। টাইমের সূত্রের দাবি, এ ঘটনা ট্রাম্পকে গ্রকের পূর্বাভাস সম্পর্কে আরও মুগ্ধ করে এবং তিনি চ্যাটবটটির সক্ষমতাকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করেন।   তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গ্রক সরাসরি ট্রাম্পকে মাদুরোকে আটক করার পরামর্শ দিয়েছিল—এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মূলত জানতে চেয়েছিলেন সম্ভাব্য আটকের পর ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে।   অর্থাৎ, “এআইয়ের পরামর্শ নিয়ে ট্রাম্প মাদুরোকে আটক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন”—এমন সরল দাবি এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। মাদুরোকে আটক করার অভিযানটি যে কয়েক মাসের সামরিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ফল ছিল, তা ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামরিক পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্রনীতিতে বাণিজ্যিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রশ্ন। বিশেষ করে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানের আগে সম্ভাব্য জনমত সম্পর্কে একটি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা করেছেন—এমন তথ্য এআইয়ের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০