ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড ভেঙে আবার কাজ, ট্রাম্পের কড়া নির্দেশ
হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড ভেঙে আবার কাজ, ট্রাম্পের কড়া নির্দেশ

হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্মাণাধীন নতুন হেলিপ্যাডের একটি বড় অংশ খুলে আবার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও হেলিপ্যাডের ঢালু অবস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করার পর ঠিকাদারদের নকশায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    হেলিপ্যাডের কেন্দ্রে বসানো প্রায় ১০০ ফুট চওড়া গ্রানাইটের প্রেসিডেন্সিয়াল সিল ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নির্মাণকর্মীদের ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সম্পন্ন কাজের কিছু অংশ ভাঙতে দেখা গেছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন এবং সাউথ লনের সামগ্রিক সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করতে প্রকল্পে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন আনা হচ্ছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাউথ লনের ভূমি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ঢালু। কিন্তু ট্রাম্প চান হেলিপ্যাডটি যেন দিগন্তের সঙ্গে সমতল দেখায়। সেই লক্ষ্য পূরণে হেলিপ্যাডের নকশা পরিবর্তনের পাশাপাশি আশপাশের জমির উচ্চতাও বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে নির্মাতারা বিবেচনা করছেন।    নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো মেরিন ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত নতুন ভিএইচ-৯২এ প্যাট্রিয়ট হেলিকপ্টারের কারণে হোয়াইট হাউসের লনের ক্ষতি ঠেকানো। আগের মডেলের তুলনায় নতুন হেলিকপ্টারটি বড় ও বেশি শক্তিশালী। এর ইঞ্জিন থেকে নিচের দিকে বের হওয়া প্রচণ্ড বাতাস ও তাপে ঘাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।    প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থ সরাসরি করদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। হেলিকপ্টার নির্মাতা লকহিড মার্টিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিকোরস্কি হেলিপ্যাডটির ব্যয় বহন করছে এবং কাজ শেষ হলে এটি ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করার কথা।    নির্মাণকাজ চলায় মেরিন ওয়ান সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনের পরিবর্তে কাছাকাছি এলিপস এলাকা ব্যবহার করছে। সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের আগে সংশোধিত কাজ শেষ করতে প্রশাসন আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    হেলিপ্যাডের কাজ নতুন করে শুরু হওয়ায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন সম্পন্ন হওয়া অংশ ভেঙে ফেলা হলো এবং পুনর্নির্মাণে অতিরিক্ত কত অর্থ লাগবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।    নতুন হেলিপ্যাডটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে নেওয়া একাধিক পরিবর্তনের অংশ। সাউথ লনের এই প্রকল্প ছাড়াও ভবনের বিভিন্ন অংশ ও আঙিনায় বড় ধরনের সংস্কার এবং নতুন নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের ব্যয়, ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর প্রভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও স্থাপত্য মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমলে আইসিইর গ্রেপ্তার বেড়েছে, তবে কমেছে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর অনুপাত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতি তিনজনের মাত্র একজনের পূর্বে কোনো ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (PNAS)-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের অনুপাত আগের তুলনায় কমেছে।   গবেষণায় অক্টোবর ২০১৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ আইসিই গ্রেপ্তারের সরকারি প্রশাসনিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মাত্র ৩৪ শতাংশের বিরুদ্ধে পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড ছিল। তুলনায়, জো বাইডেনের শেষ বছরে এ হার ছিল ৫২ শতাংশ, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে ৭০ শতাংশ এবং বারাক ওবামার শেষ বছরে ৭৯ শতাংশ।   গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার-এর অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ক্লোই ইস্ট বলেন, গবেষণার ফলাফল দেখায় যে, আইসিইর বাস্তব অভিযান সরকারের দীর্ঘদিনের জনসম্মুখের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। প্রশাসন যেখানে জননিরাপত্তার স্বার্থে মূলত গুরুতর অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেছে, বাস্তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশের বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো ফৌজদারি দণ্ড ছিল না।   তবে এই গবেষণার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS)। বিভাগটির এক মুখপাত্র বলেন, গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্যের যথার্থতা তারা নিশ্চিত করতে পারছে না। তাদের দাবি, আইসিইর গ্রেপ্তার করা অবৈধ অভিবাসীদের ৭০ শতাংশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি দণ্ড অথবা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিদেশে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি, গ্যাং সদস্য, সন্ত্রাসী বা ইন্টারপোলের নোটিশভুক্ত ব্যক্তিদের তথ্যও ওই গবেষণায় প্রতিফলিত হয়নি বলে দাবি করে DHS।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কমিউনিটি অ্যারেস্ট বা পাড়া-মহল্লা, কর্মস্থল, বিমানবন্দর ও জনসমাগমস্থল থেকে গ্রেপ্তারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছরে যেখানে মোট গ্রেপ্তারের ১৯ শতাংশ ছিল কমিউনিটি অ্যারেস্ট, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তা বেড়ে প্রায় ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে।   এদিকে, জুলাই মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিই সর্বোচ্চ সংখ্যক মাসিক গ্রেপ্তারের রেকর্ড গড়ে। অভ্যন্তরীণ DHS তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে ৪৬ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর অবস্থানসহ বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়।   গবেষণার লেখকরা অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, তাদের গবেষণায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা বিচারাধীন মামলার বিষয়টি নয়, শুধুমাত্র পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই গবেষণার ফলাফলকে সেই প্রেক্ষাপটেই বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  ছবি:সংগৃহীত
ইরানের নেতৃত্বকে ‘চরম ভণ্ডামিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে ক্ষেপলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এটিই তেহরানের জন্য “শেষ সুযোগ” বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। এরপরই দেশটির নেতৃত্বকে “চরম ভণ্ডামিপূর্ণ” বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প।   সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং চলমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর এটিই ইরানের শেষ সুযোগ। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তেহরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।   তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে যে যোগাযোগ রয়েছে, তা কেবল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও নৌ-নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা পারমাণবিক আলোচনা হচ্ছে না।   ইরানের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ইরানের নেতারা “চরম ভণ্ডামিপূর্ণ” আচরণ করছেন। তার অভিযোগ, একদিকে তারা গোপনে আলোচনার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নেই বলে দাবি করছে।   একই পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের “ওয়াল অব স্টিল” নিরাপত্তা বলয় কার্যকর রয়েছে এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়ে আসছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, ট্রাম্প
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ

যুক্তরাষ্ট্রের ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন অবৈধ ঘোষিত ট্রাম্প প্রশাসনের আমদানি শুল্ক থেকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যেসব গ্রাহক ওই শুল্কজনিত অতিরিক্ত খরচ বহন করেছিলেন এবং যাদের ক্ষেত্রে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।  অ্যামাজনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ব্রায়ান ওলসাভস্কি কোম্পানির আয়-সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে বলেন, যেসব লেনদেনে অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব সরাসরি নির্ধারণ করা যাবে, সেসব ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান নিজেই যোগাযোগ করবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেবে। আর যেসব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হবে না, সেখানে ফেরত পাওয়া অর্থ কম দামে পণ্য সরবরাহ ও গ্রাহকসেবায় বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে।    তবে ঠিক কতজন গ্রাহক এই অর্থ ফেরত পাবেন, কোন সময়ের কেনাকাটা এর আওতায় পড়বে বা কীভাবে ফেরতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি অ্যামাজন।  চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ওই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের শুল্ক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।  অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা তুলনামূলক কম অর্থ ফেরত পেয়েছে, কারণ নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য মজুত করেছিল। এছাড়া তাদের প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের আমদানিকারক ছিল তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা, ফলে সেসব পণ্যের শুল্ক ফেরতের দাবিদারও অ্যামাজন নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করেছে, অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে নিজেই বহন করেছে।      বিশ্লেষকদের মতে, বড় খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে শুল্ক ফেরতের অর্থ সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা বিরল। যদিও অন্যান্য বড় খুচরা প্রতিষ্ঠানও শুল্ক ফেরতের আবেদন করেছে, তাদের সবাই এখনো গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

Unknown জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
লিন্ডসে গ্রাহামকে ‘আমেরিকার অনন্য দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামকে ‘আমেরিকার সত্যিকারের এক অনন্য দেশপ্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথেড্রালে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মর্যাদার স্মরণসভায় ট্রাম্প বলেন, গ্রাহাম ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং দেশের জন্য কাজ করতেই তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।   ট্রাম্প বলেন, লিন্ডসে গ্রাহাম এমন একজন নেতা ছিলেন, যার প্রভাব ছাড়া ওয়াশিংটনে বড় কোনো আইন পাস করা কঠিন ছিল। তিনি ছিলেন একজন অকপট রাজনীতিক, দক্ষ আলোচক এবং এমন এক বন্ধু, যাকে কখনও ভোলা যাবে না।   ট্রাম্প আরও স্মরণ করেন, একসময় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পরবর্তীতে গ্রাহাম তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীতে পরিণত হন। তিনি বলেন, গ্রাহাম যেমন রসবোধে সবাইকে হাসাতে পারতেন, তেমনি রাজনৈতিক লড়াইয়েও ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়।   লিন্ডসে গ্রাহাম ২০০৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রতিনিধিত্ব করেন। গত ১১ জুলাই ৭১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষায় জানানো হয়েছে, তার মৃত্যুর কারণ ছিল অর্টিক ডিসেকশন—যেখানে শরীরের প্রধান ধমনী অর্টায় ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে গুরুতর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটে।   শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ক্যাপিটলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা উপস্থিত হন। অনেককে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়। সিনেটর ক্রিস কুনস কফিনের সামনে ক্রুশচিহ্ন আঁকেন, আর সাবেক সিনেটর রিচার্ড বার কফিনে চুম্বন করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।   স্মরণসভায় যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার সদস্য, কংগ্রেসের বর্তমান ও সাবেক সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বুধবার গ্রাহামের মরদেহ তার নিজ অঙ্গরাজ্য সাউথ ক্যারোলাইনায় নেওয়া হবে, সেখানে আরও কয়েকটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।   এদিকে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্রাহাম ছিলেন ইউক্রেনের একজন প্রকৃত বন্ধু। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তিনি একাধিকবার কিয়েভ সফর করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।   দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় সিনেটে দায়িত্ব পালনকারী লিন্ডসে গ্রাহামকে যুক্তরাষ্ট্রের সমকালীন রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তার অবস্থান ও সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি দেশ-বিদেশে পরিচিত ছিলেন।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসী গ্রেপ্তার করছে আইসিই I ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের ধরপাকড়ে দিনে ১,৪০০-এর বেশি অভিবাসী গ্রেপ্তার করছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের গ্রেপ্তারের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। হোয়াইট হাউসের নতুন নির্দেশনার পর দেশজুড়ে চলমান অভিযানের জেরে জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।   কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়া আইসিই-এর অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যানের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে একক মাস হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বছরে ১০ লাখ নথিপত্রহীন অভিবাসীকে দেশ থেকে বিতাড়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এ কারণেই মূলত গ্রেপ্তার অভিযানের মাত্রা দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন মাসেই ৩৯ হাজার ৫০০-এর বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে আইসিই-এর বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, যা গত ডিসেম্বরের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। জুলাই মাসের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তারের এই তীব্রতার মাঝেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। হিউস্টন ও মেইনে মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি ফ্লোরিডায় এজেন্টদের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।   গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে অভিযানের সময় দুজনের মৃত্যুর পর ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তারের হার কিছুটা কমলেও, এরপর থেকে তা আবার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) তথ্যমতে, চলতি মাসে বেশ কয়েকবার দৈনিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। মূলত দৈনিক গ্রেপ্তারের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার পর থেকেই অভিযানে এই গতি এসেছে। সামগ্রিকভাবে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর আইসিই-এর গ্রেপ্তারের হার ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তন হয়ে ট্রাম্প স্টেশন!
নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তন হয়ে ট্রাম্প স্টেশন! শুরু বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততম রেলকেন্দ্র নিউইয়র্কের পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্টেশনটির নতুন নাম নির্ধারণে কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি। তবে স্টেশনটির নাম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হতে পারে—এমন সম্ভাবনা সামনে আসায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।    কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতাদের কাছে পাঠানো অর্থায়ন প্রস্তাবে ডাফি অ্যামট্রাককে পেন স্টেশনের নাম বদলের নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো নতুন নাম প্রস্তাব করা না হলেও পুনর্নির্মিত স্টেশনের কিছু নকশায় ট্রাম্পের নাম ও প্রেসিডেন্টের সিল দেখা গেছে। এ কারণেই প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত ‘ট্রাম্প স্টেশন’ নামে পরিচিত হতে পারে বলে আলোচনা জোরালো হয়েছে।   ট্রাম্প বলেছেন, স্টেশনটির নাম তাঁর নামে রাখার প্রস্তাব তিনি নিজে দেননি। তাঁর দাবি, কয়েকজন রাজনীতিক ও নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়নের নেতা প্রথম এই ধারণা সামনে এনেছিলেন। তবে এর আগে পরিবহনমন্ত্রী ডাফিও প্রকাশ্যে ‘ট্রাম্প স্টেশন’ নামের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।   পেন স্টেশন পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনায় একটি বৃহৎ নতুন প্রবেশপথ, উঁচু ছাদ, প্রশস্ত কনকোর্স, উন্নত যাত্রী চলাচল ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন বর্তমান অবস্থানেই থাকবে, তবে এর থিয়েটারের অংশ সরিয়ে স্টেশনের জন্য উন্মুক্ত প্রবেশপথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালে পেন স্টেশন পুনর্গঠন প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির কাছ থেকে নিয়ে অ্যামট্রাকের হাতে দেয়। কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।   পেন স্টেশন প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রী ব্যবহার করেন। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির আঞ্চলিক ট্রেনের পাশাপাশি অ্যামট্রাকের দূরপাল্লার রেলসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এটি। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটির সংকীর্ণ পথ, কম আলো, অতিরিক্ত ভিড় এবং জটিল চলাচলব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে।   স্টেশনটির বর্তমান নাম এসেছে পেনসিলভানিয়া রেলরোড থেকে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নির্মিত মূল পেন স্টেশনটি বিশাল স্তম্ভ ও ধ্রুপদি স্থাপত্যের জন্য পরিচিত ছিল। ১৯৬০-এর দশকে সেটি ভেঙে বর্তমান ভূগর্ভস্থ স্টেশন ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন নির্মাণ করা হয়। ঐতিহাসিক ভবনটি ধ্বংসের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য সংরক্ষণ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হয়।   নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন নিউইয়র্কের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও যাত্রী অধিকার সংগঠন। পেন স্টেশন যে নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত, সেই এলাকার প্রতিনিধি জেরি ন্যাডলার প্রকল্পটিকে ব্যক্তিগত প্রচারের উদ্যোগ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। বিরোধীদের বক্তব্য, বিপুল সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন প্রকল্পের নামকরণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত নয়।   এর আগে ট্রাম্প নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মধ্যে হাডসন নদীর নিচে নতুন রেলসুড়ঙ্গ নির্মাণের জন্য আটকে থাকা প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে পেন স্টেশন ও ওয়াশিংটনের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তাঁর নামে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ট্রাম্প প্রশাসন ও তাঁর সমর্থকেরা অবশ্য নামকরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।   পেন স্টেশনের নাম শেষ পর্যন্ত বদলানো হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। কংগ্রেসের অনুমোদন এবং অ্যামট্রাকের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। তবে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরুর আগেই স্টেশনটির নতুন অবকাঠামোর চেয়ে নামকরণ ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে নতুন শর্ত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক ঠিক করার সময় হয়েছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, সৌদি আরবকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ যোগ দিতে হবে।   শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের এখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার সময় এসেছে। তিনি দাবি করেন, এই শর্ত নতুন নয়; বরং শুরু থেকেই এটি দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার অংশ ছিল। এর আগে বুধবার মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও সহায়তায় বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই পরমাণু চুক্তি কার্যকর হবে না। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হবে এবং এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না। শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করেননি। তবে তার দাবি, সৌদি আরব এবং সংশ্লিষ্ট সবাই জানত যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই চুক্তির অন্যতম শর্ত।   এদিকে ট্রাম্পের নতুন শর্তের বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। এই অবস্থান সৌদি আরব একাধিকবার প্রকাশ্যে পুনর্ব্যক্ত করেছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।   হোয়াইট হাউসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা কয়েক দশকব্যাপী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের চুক্তি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, চুক্তিটি কেবল শান্তিপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কয়েক ডজন বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকর করায় পোশাক, ইলেকট্রনিকস, খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রী ও গাড়িসহ অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ভোক্তাদের খরচ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকেরা।   নতুন ব্যবস্থায় ৬০টি দেশের আমদানি পণ্যের ওপর সাধারণভাবে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য ঠেকানোর যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, বিদেশি রপ্তানিকারকেরা নয়, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ক্রেতাদেরই এই বাড়তি ব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে পোশাক ও বস্ত্রপণ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বিপুল পরিমাণ জামাকাপড়, জুতা ও কাপড়জাত পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। যেসব উৎপাদনকারী দেশ নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে, সেসব দেশ থেকে পণ্য আনার খরচ বাড়লে খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়াতে পারেন।   ইলেকট্রনিকস খাতেও একই ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহৃত পণ্য ও যন্ত্রাংশের বড় অংশ চীন, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার একাধিক ধাপে শুল্ক যুক্ত হলে নতুন ডিভাইস কেনা কিংবা পুরোনো যন্ত্র মেরামতের খরচও বাড়তে পারে।   খাদ্য ও পানীয়ের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা কফি এবং কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয়ের দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি, সার এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও কৃষিপণ্য নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে না।   বাড়িঘর নির্মাণ ও সংস্কারের ব্যয়ও আরও বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কাঠ, ধাতব সামগ্রী, আসবাব, বৈদ্যুতিক উপকরণ এবং অন্যান্য নির্মাণপণ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশ থেকে আসে। এসব পণ্যের দাম বাড়লে নতুন বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি রান্নাঘর, বাথরুম কিংবা পুরোনো বাড়ি সংস্কারের খরচও বাড়তে পারে।   গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের বাজারেও বাড়তি চাপের আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িশিল্প কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। একটি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সীমান্ত পেরিয়ে একাধিকবার যাতায়াত করতে পারে। প্রতিটি ধাপে বাড়তি ব্যয় যুক্ত হলে নতুন ও ব্যবহৃত গাড়ির দাম, যন্ত্রাংশ এবং মেরামতের খরচেও তার প্রভাব পড়তে পারে।   এর পাশাপাশি কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর আলাদাভাবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় দেশটি থেকে আসা পণ্যের দাম বাড়লে মার্কিন বাজারের বেশ কয়েকটি খাতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন শুল্ক বিদেশি দেশগুলোকে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে শক্তিশালী করবে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়তে সময় লাগে; এর আগেই আমদানিকারকেরা বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন।   তবে শুল্ক কার্যকর হওয়া মানেই সব পণ্যের দাম তাৎক্ষণিকভাবে একই মাত্রায় বেড়ে যাবে, এমন নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান বাড়তি খরচের কতটা নিজে বহন করবে, কতটা ক্রেতার ওপর চাপাবে এবং বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে কি না, তার ওপর প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি নির্ভর করবে। এরপরও এমন সময়ে নতুন শুল্ক কার্যকর হলো, যখন খাবার, জ্বালানি ও আবাসন ব্যয় নিয়ে আগে থেকেই চাপে রয়েছে বহু মার্কিন পরিবার।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ
ট্রাম্পের অভিবাসন কড়াকড়ির মাঝে কোন মার্কিন ভিসা এখনো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ, বাড়তি নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। শিক্ষার্থী, কর্মসংস্থান ও পারিবারিক ভিসাসহ বিভিন্ন অভিবাসন ক্যাটাগরিতে কড়াকড়ির আলোচনা চললেও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগভিত্তিক ইবি-৫ কর্মসূচি এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে।   ইবি-৫ হলো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্ধারিত পরিমাণ বিনিয়োগ করে অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলে বিদেশি বিনিয়োগকারী, তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। ২০২২ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়া ইবি-৫ রিফর্ম আন্ড ইন্টেগ্রিটি এক্ট এর আওতায় বর্তমানে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করেছে।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি নতুন “গোল্ড কার্ড” কর্মসূচির প্রস্তাব সামনে আনলেও সেটি এখনো আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো অভিবাসন কর্মসূচি নয়। অন্যদিকে ইবি-৫ কংগ্রেস অনুমোদিত বিদ্যমান একটি কর্মসূচি হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী এখনো এটিকেই বেশি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।   ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবী রন ক্লাসকো বলেন, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তিনি ইবি-৫ এবং প্রস্তাবিত গোল্ড কার্ড কর্মসূচির আইনি পার্থক্য ব্যাখ্যা করেন। তার অভিজ্ঞতায়, অধিকাংশ ক্লায়েন্ট শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ইবি-৫ কর্মসূচিকেই বেছে নেন।   অন্যদিকে কর্নেল ল স্কুলের সাবেক অভিবাসন আইন অধ্যাপক ও দীর্ঘদিনের ইবি-৫ বিশেষজ্ঞ স্টিফেন ইয়েল-লোয়ের বলেন, ইবি-৫ কর্মসূচির অন্যতম কঠিন দিক হলো বিনিয়োগের অর্থের বৈধ উৎস কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। তার মতে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচি চালু হলেও একই ধরনের আর্থিক ও আইনি যাচাই অপরিহার্য হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চলতি অর্থবছরের ভিসা বরাদ্দ অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে ইবি-৫ ক্যাটাগরিতে মোট ১৩ হাজার ২০৬টি অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ রয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি তার স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের ভিসাও অন্তর্ভুক্ত থাকে।   বাংলাদেশের আবেদনকারীদের জন্যও তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক একটি দিক রয়েছে। চীন ও ভারতের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে ইবি-৫ আবেদনকারীর সংখ্যা এখনো কম। ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে সেই দেশগুলোর তালিকায় নেই, যাদের জন্য ইবি-৫ ভিসায় দীর্ঘ দেশভিত্তিক অপেক্ষা বা রেট্রোগ্রেশন রয়েছে। সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো “অল চার্জাবিলিটি এরিয়াস” বা সাধারণ বৈশ্বিক কোটার আওতায় রয়েছে, যা যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।   তবে আইনজীবীরা সতর্ক করে বলছেন, ইবি-৫ কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত মনে করার সুযোগ নেই। আবেদনকারীর বিনিয়োগের অর্থের বৈধ উৎস, প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্ত এবং জাতীয় নিরাপত্তা যাচাইসহ একাধিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই আবেদন অনুমোদিত হয়। ভুল প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও থেকে যায়।   অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা, কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা এবং অন্যান্য অভিবাসন ক্যাটাগরিতে বাড়তি নিরাপত্তা যাচাই, দীর্ঘ প্রসেসিং সময় এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে অনেক আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো মার্কিন ভিসা ক্যাটাগরিকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাবে না। তবে দীর্ঘদিনের আইনি কাঠামো, কংগ্রেসের অনুমোদন এবং চলমান কার্যক্রমের কারণে ইবি-৫ এখনো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসনের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা, ভিসা বুলেটিন এবং অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
কংগ্রেস শুনানিতে মুখোমুখি রাশিদা তালিব (বামে) ও রাসেল ভট (ডানে)
কংগ্রেস শুনানিতে রাসেল ভটকে কোণঠাসা করলেন মুসলিম কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব

ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট প্রধান এবং ভারপ্রাপ্ত কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো (সিএফপিবি) পরিচালক রাসেল ভটকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের হাউস ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির এক উত্তপ্ত শুনানিতে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন মুসলিম কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব। বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত শুনানিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিয়ে দু’জনের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়, যার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।    শুনানিতে রাশিদা তালিব রাসেল ভটকে প্রশ্ন করেন, তিনি কাদের জন্য কাজ করেন। জবাবে ভট বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের জন্য কাজ করেন। তখনই তালিব তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়বদ্ধতা প্রেসিডেন্টের প্রতি নয়, বরং মার্কিন জনগণের প্রতি। তিনি বলেন, “ভুল। আপনি প্রেসিডেন্টের জন্য নন, আপনি আমেরিকার জনগণের জন্য কাজ করেন।” এই সংলাপ শুনানির সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তে পরিণত হয়।    এদিনের শুনানির মূল বিষয় ছিল সিএফপিবির ছয় মাসের কার্যক্রম ও সংস্থাটির ভবিষ্যৎ। ভোক্তাদের আর্থিক অধিকার রক্ষার জন্য ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার নেতৃত্বে থেকে রাসেল ভট ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই, বিভিন্ন বিধিমালা বাতিল এবং সংস্থার কার্যক্রম সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এসব পদক্ষেপের বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি করেন।    শুনানিতে ভট তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, সিএফপিবি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তার দাবি, প্রশাসনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে সেই চাপ কমেছে এবং সংস্থাটি আরও জবাবদিহিমূলক হয়েছে। রিপাবলিকান সদস্যরাও তার এই অবস্থানকে সমর্থন করেন।    অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা অভিযোগ করেন, ভটের নেতৃত্বে সিএফপিবির মূল ভোক্তা সুরক্ষা কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম ঠেকাতে সংস্থাটির যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল, তা ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়েছে। শুনানিতে নিউইয়র্কের কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকস এবং কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট ম্যাক্সিন ওয়াটার্সও ভটের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের ইঙ্গিত দেন।    রাসেল ভট ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট পরিচালক (অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট-ওএমবি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রক্ষণশীল নীতিমালা প্রস্তাবনা ‘প্রজেক্ট ২০২৫’-এর অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে পরিচিত। ফেডারেল সরকারের আকার ছোট করা, নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং ব্যয় সংকোচনের পক্ষে তার অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।    হাউস ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির এই শুনানি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন সিএফপিবির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে সংস্থাটির স্থায়ী পরিচালক হিসেবে নতুন একজনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ফলে ভটের দায়িত্বকাল এবং তার নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে কংগ্রেসে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানি বংশসূত্রে আটক পুরো পরিবার
গ্রিন কার্ড থাকলেও উপায় নেই: ইরানি বংশসূত্রে আটক পুরো পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারী এক ইরানি পরিবারকে স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে তুরস্কে চলে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। পরিবারটির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ না থাকলেও, ১৯৭৯ সালের তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের অন্যতম আলোচিত মুখ মাসুমেহ এবতেকারের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের আটক রাখা হয়েছে বলে আদালতের নথি ও আইনজীবীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইয়্যেদ ঈসা হাশেমি, তার স্ত্রী মরিয়ম তাহমাসেবি এবং তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে গত এপ্রিল থেকে টেক্সাসের আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে রয়েছেন। তারা নিজেদের খরচে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তুরস্কে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।   ঈসা হাশেমি হলেন মাসুমেহ এবতেকারের ছেলে। ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলকারী শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার মুখপাত্র ছিলেন এবতেকার। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে তিনি “স্ক্রিমিং মেরি” নামে পরিচিতি পান। পরে তিনি ইরানের সরকারের পরিবেশবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।   পরিবারটির আইনজীবীরা জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত এপ্রিল মাসে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে হাশেমি, তার স্ত্রী এবং ছেলের গ্রিন কার্ড বাতিলের ঘোষণা দেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ, সহিংস কর্মকাণ্ড বা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়নি। সরকারের মামলা মূলত হাশেমির মায়ের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, হাশেমি পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হয়েছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, “যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকে, তাহলে তার গ্রিন কার্ড বাতিল করা হবে।”   আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিবারটি ইরানে ফিরতে চায় না। তাদের দাবি, সেখানে ফিরে গেলে নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে তারা নিজেদের খরচে তুরস্কে চলে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু ডিএইচএস সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরিবর্তে বহিষ্কারের আদেশের সঙ্গে আটক অব্যাহত রাখার অবস্থান নেয়।   পরিবারটির আইনজীবী মারিয়া কারি বলেন, এই পরিবার বহু বছর ধরেই ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করে এসেছে। তাই ইরানে ফিরলে তাদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।   মরিয়ম তাহমাসেবি ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস পিয়ার্স কলেজের মনোবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল তিনি ক্লাস নেওয়ার সময় জানতে পারেন, তার স্বামীকে আইসিই আটক করেছে। পরে তাকেও এবং তাদের ছেলেকেও আটক করা হয়।   আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাশেমি শিকাগো স্কুল অব প্রফেশনাল সাইকোলজি থেকে অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং সেখানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।   পরিবারটির আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন আটক থাকার কারণে তিনজনই উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগছেন। বিশেষ করে তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে, যে জীবনের বেশিরভাগ সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় কাটিয়েছে এবং কেবল ইংরেজিতে কথা বলতে পারে, সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদের দাবি, পূর্বপুরুষের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে একটি কিশোরকে শাস্তি দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়।   বর্তমানে পরিবারটির মামলা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা আইসিইর হেফাজতেই থাকবেন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে বিপন্ন প্রাণীর আবাসস্থল সুরক্ষা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কমল বন্যপ্রাণী সুরক্ষা, ঝুঁকিতে ক্যালিফোর্নিয়ার শত শত বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ‘এনডেঞ্জারড স্পিসিজ অ্যাক্ট’ (Endangered Species Act) বা বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বিধান বাতিল করেছে। শুক্রবার চূড়ান্ত হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করে খনন, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, বন উজাড় এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।   নতুন নিয়মে আইনের ‘ক্ষতি’ (harm) শব্দটির সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতদিন কোনো বিপন্ন প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করাও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো। এখন থেকে শুধু প্রাণীকে সরাসরি হত্যা বা আহত করার ঘটনাই ‘ক্ষতি’ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে আবাসস্থল ধ্বংসের বিরুদ্ধে যে আইনি সুরক্ষা ছিল, তা কার্যত তুলে নেওয়া হয়েছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম বলেন, আগের সংজ্ঞা ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করছিল এবং সাধারণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক জটিলতার মধ্যে ফেলেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়বে। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত বহু বিপন্ন প্রাণীকে বিলুপ্তির আরও কাছাকাছি ঠেলে দেবে। তাদের অভিযোগ, কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে এক ধাক্কায় দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।   সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্য। সেখানে ৬ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে। এনডেঞ্জারড স্পিসিজ অ্যাক্টের আওতায় সুরক্ষাপ্রাপ্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রজাতির মধ্যে প্রায় ৩০০টির আবাস ক্যালিফোর্নিয়ায়। এসবের মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া কনডর, ধূসর নেকড়ে, মরুভূমির কচ্ছপ, সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ, উত্তরাঞ্চলের স্পটেড পেঁচা, বিভিন্ন প্রজাতির সালামান্ডার, প্রজাপতি, মৌমাছি ও বিরল মাছ।   বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়া কনডর একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। আবাসস্থল রক্ষা ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমানে এ প্রজাতির সংখ্যা কয়েকশতে উন্নীত হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে সেই আবাসস্থল আবারও বন উজাড় ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে। সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উপকূলীয় আবাসন নির্মাণের কারণে এল সেগুন্দো ব্লু বাটারফ্লাই তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ আবাসস্থল হারিয়েছিল। সংরক্ষণ কর্মসূচির ফলে একসময় মাত্র এক হাজারে নেমে আসা এ প্রজাতির সংখ্যা এখন এক লাখ ২০ হাজারের বেশি হয়েছে।   পরিবেশবাদী সংগঠন আর্থজাস্টিসের আইনজীবী ক্রিস্টেন বয়েলস বলেন, কোনো প্রাণীর বসবাস, প্রজনন ও খাদ্য সংগ্রহের স্থান ধ্বংস করেও তাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় রাখা সম্ভব—এমন দাবি বৈজ্ঞানিক, আইনি বা জনসমর্থন—কোনোটিরই ভিত্তিতে টেকে না। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই করা হবে। সিয়েরা ক্লাবও ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, চার দশকের বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা সংরক্ষণ নীতিকে দুর্বল করে করপোরেট উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত এলাকাগুলো খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।   এটি পরিবেশনীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বিতর্কিত পদক্ষেপ নয়। এর আগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে নতুন করে তেল অনুসন্ধানের পরিকল্পনা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমি থেকে পুরোনো তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রকল্পও পরিবেশবাদীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। তাদের আশঙ্কা, এসব উদ্যোগ একত্রে ক্যালিফোর্নিয়ার বহু বিরল প্রাণী ও তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া ইরানিদের তথ্য তেহরানকে দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী ইরানি নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য ইরান সরকারের সঙ্গে শেয়ার করার অভিযোগ উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থী এবং ইরানে থাকা তাদের পরিবারকে চরম ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে—এমন গুরুতর দাবি তুলে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসি-র একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছে মানবাধিকার সংগঠন ‘ইরানিয়ান আমেরিকান লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড’ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া এসব ইরানিদের মধ্যে সিংহভাগই মূলত দেশটির গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সদস্য, যারা ইরানে নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন।   আইএএলডিএফ এর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অলাভজনক ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘পাবলিক সিটিজেন’ জানিয়েছে, তেহরানের কাছে তথ্য হস্তান্তর করায় আইনি প্রক্রিয়া বা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যাদের ইরানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে (চেইন রিফাউলমেন্ট), দেশে পৌঁছানোর পর তাদের চরম নিপীড়ন, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও ফেডারেল আইন অনুযায়ী, লজিস্টিকস বা যাতায়াত সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করার নিয়ম থাকলেও, কোনোভাবেই এমন কোনো তথ্য শেয়ার করা যাবে না যা থেকে স্পষ্ট হয় যে ওই ব্যক্তি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। সংস্থাটির দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষকে ইরানে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   মামলার নথিতে আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের কর্মকর্তারা আইসিই হেফাজতে থাকা ইরানিদের ফাইল, চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ এবং আশ্রয়ের আবেদনপত্র শেয়ার করতে নিয়মিত মাসিক বৈঠকে বসতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই সশরীরে বৈঠক বন্ধ হলেও, মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এখনো ইরানের ‘ইন্টারেস্ট সেকশন’-এ ডাকযোগে বা সরাসরি এসব নথিপত্র পাঠাচ্ছে বলে মামলায় দাবি করা হয়। এছাড়া বন্দীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আইসিই কর্মকর্তারা তাদের ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে বাধ্য করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।   তবে এই গুরুতর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রশাসন। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট পরিচালনাকারী সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র এবিসি নিউজকে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের তথ্য ইরান সরকারের সাথে শেয়ার করার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুবিধার্থে এবং তাদের আইনি অধিকার রক্ষায় কনস্যুলার প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে আইসিই অন্যান্য দেশের মতো ইরানের সাথেও প্রচলিত প্রোটোকল মেনে কাজ করছে মাত্র। অন্যদিকে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আটকে থাকা গ্রিন কার্ডের আবেদন আবার চালুর নির্দেশ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের রায়

ওহাইওর একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে স্থগিত থাকা নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন পুনরায় নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এ আদেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া আবারও শুরু করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-কে।   স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক অ্যালজেনন এল. মার্বলি এ বিষয়ে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা (প্রিলিমিনারি ইনজাংশন) জারি করেন। নিউজউইক জানিয়েছে, ২৫ জন বিদেশি নাগরিকের করা একটি মামলার শুনানি শেষে তিনি এই আদেশ দেন।   মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কয়েকটি দেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য অভিবাসন-সুবিধার আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্পত্তি না করে স্থগিত রাখা হয়েছে।   যাদের ওপর প্রভাব পড়বে   আদালতের এ রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত এবং আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অনেক অভিবাসীর জন্য স্বস্তি ফিরতে পারে। ইউএসসিআইএস গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি, নাগরিকত্ব, আশ্রয়সহ বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। এসব আবেদন দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলে আবেদনকারীদের কর্মসংস্থান, আইনি অবস্থান, বিদেশ ভ্রমণ এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। এই মামলার বাদীদের মধ্যে মিয়ানমার, কানাডা, ইরান, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, তানজানিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাগরিক রয়েছেন। বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট, একজন নিবন্ধিত নার্স, একজন ক্যানসার গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে চাকরির অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন স্নাতকও রয়েছেন।   আদালতের পর্যবেক্ষণ   রায়ে বিচারক মার্বলি বলেন, সরকারের চ্যালেঞ্জকৃত নীতিমালার কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে এবং তাদের জাতীয়তাকে আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার বাদীরা বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তি নন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং অনেকেই বহু বছর ধরে সেখানে রয়েছেন। তাদের অনেকেরই আগে থেকেই কাজ করার বৈধ অনুমতি রয়েছে। বিচারকের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বৈধভাবে অবস্থানরত আবেদনকারীদের ফাইল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখার যৌক্তিকতা সরকার দেখাতে পারেনি। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, "জাতীয় নিরাপত্তা এমন কোনো জাদুকরি শব্দ নয়, যা ব্যবহার করে সব আইনি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায়।"   আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়   আদালতের আদেশের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থানের অনুমতি পাবেন। বরং ইউএসসিআইএসকে এখন প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী প্রতিটি আবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। অর্থাৎ আবেদন অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। বিচারক বিশেষভাবে ইউএসসিআইএস ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-কে বাদীদের দাখিল করা ফর্ম আই-৪৮৫ (গ্রিন কার্ডের জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন) এবং ফর্ম আই-১৩১ (নির্দিষ্ট ভ্রমণ নথির আবেদন) পুনরায় প্রক্রিয়াকরণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ফর্ম আই-৭৬৫-এর আওতায় কর্মসংস্থানের অনুমতির আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এর আগেও প্রশ্ন তুলেছিল আদালত   এটি প্রথমবার নয় যে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-সংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে আদালত রায় দিল। গত মাসে রোড আইল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতও ইউএসসিআইএসের চারটি নীতিমালা বাতিল করে দেয়। ওই নীতিগুলোর আওতায় ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি, নাগরিকত্ব ও আশ্রয়ের আবেদন স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে ইউএসসিআইএস আদালতের রায়ের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করলেও জানায়, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে আদালতের নির্দেশ মেনে তারা সংশ্লিষ্ট নীতিমালা কার্যকর করবে না।   সামনে কী হতে পারে   আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তবে আপিলের আগে পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ কার্যকর থাকবে এবং ইউএসসিআইএসকে বাদীদের স্থগিত থাকা আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে হবে। আদালত আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নির্দেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদনও দাখিল করতে বলেছে সরকারকে।   অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের মতে, এ রায় যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বহু অভিবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। কারণ আবেদন বাতিল হলে আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে, কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য আবেদন ঝুলে থাকলে আবেদনকারীরা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
মেলোনি আমার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত, আইনি নিষেধাজ্ঞা দরকার’ ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে একটি আইনি নিষেধাজ্ঞা (রেস্ট্রেইনিং অর্ডার) দরকার।’ পোস্টটিতে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন যে মেলোনি নাকি তার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাচ্ছেন।   মন্তব্যটি প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্ক তৈরি করে।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ফলে তার ব্যক্তিগত এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।   এর আগে গত জুনে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের পরও ট্রাম্প একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নাকি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে মেলোনি প্রকাশ্যে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তিনি কোনো সময়ই এমন অনুরোধ করেননি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, ইতালি একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র এবং তিনি ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য এমন কোনো আচরণ করেন না।   সাম্প্রতিক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি কোনো নতুন অভিযোগ তোলেননি। বরং তিনি রসিকতা ও ব্যঙ্গের ভঙ্গিতে ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ বা আদালতের মাধ্যমে দূরে থাকার নির্দেশনার প্রসঙ্গ টানেন। যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের আদেশ সাধারণত হয়রানি, হুমকি বা অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের অভিযোগে আদালত থেকে জারি করা হয়। তবে ট্রাম্পের পোস্টে এমন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা ছিল না।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবেই তুলে ধরেছে।   ট্রাম্পের পোস্ট প্রকাশের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে ইতালির সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে এবং ব্যক্তিগত মন্তব্যকে তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি দীর্ঘদিনের ন্যাটো মিত্র। ইউরোপের নিরাপত্তা, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।   কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করলেও তা দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।   ট্রাম্প অতীতেও বিভিন্ন বিদেশি নেতা সম্পর্কে ব্যক্তিগত মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। তার বক্তব্য অনেক সময় সমর্থকদের কাছে রসিকতা হিসেবে বিবেচিত হলেও বিরোধীরা এগুলোকে অপ্রয়োজনীয় ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেন। জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অন্যদিকে, জর্জিয়া মেলোনি ইউরোপীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনির সাক্ষাৎ হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্যের কারণে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের এই পোস্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।   অনেক গণমাধ্যম উল্লেখ করেছে, এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য এবং এর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি উদ্যোগ বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই। এখন পর্যন্ত ইতালি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটি আপাতত রাজনৈতিক বাক্যযুদ্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে ন্যাটো সম্মেলনের সময় দুই নেতার সাক্ষাৎ বা নতুন কোনো মন্তব্য এ বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।   সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও দুই দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বা যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতায় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি সংগৃহীত
ইরানকে ‘শেষ বিদায়ের’ জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের, বক্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে ইরানকে নিয়ে করা মন্তব্যের কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা ভালো বলেই তাদের শেষ বিদায়ের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।   মাউন্ট রাশমোরে দেওয়া ওই ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “We gave them a week off for a funeral because we're nice।” তার বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের সময়কে কেন্দ্র করেই এই মন্তব্য করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানে খামেনির কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।   তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে এমন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত, নথি বা নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করেননি, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে “এক সপ্তাহ সময়” দিয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই তুলে ধরেছে, কোনো ঘোষিত মার্কিন নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।   এদিকে ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা কয়েক দিন ধরে চলবে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। রাজধানী তেহরানে শোকানুষ্ঠানে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ দেখা গেছে এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন শহরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে দাফন করা হবে।   প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইবি-৫ ভিসায় নতুন কড়াকড়ি আনছে ট্রাম্প প্রশাসন I ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডের পথ কঠিন হচ্ছে, ইবি-৫ ভিসায় নতুন কড়াকড়ি আনছে ট্রাম্প প্রশাসন

বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা সংকুচিত করার অংশ হিসেবে এবার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় 'ইবি-৫' (EB-5) ইনভেস্টর ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি ও সংস্কারের প্রস্তাব এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন একটি ফেডারেল রেজিস্টার ফাইলিংয়ের মাধ্যমে উন্মোচিত এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো জালিয়াতি রোধ, তহবিল উৎসের ওপর সরকারি নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নাগরিকত্ব বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার দীর্ঘদিনের কিছু প্রচলিত পথ বন্ধ করা।   ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের আমলে কংগ্রেসের পাস করা ‘ইবি-৫ রিফর্ম অ্যান্ড ইন্টিগ্রিটি অ্যাক্ট’-এর আলোকেই বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর কমপ্লায়েন্স ও তদারকি নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।   ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় সাধারণত বিদেশি নাগরিকরা মার্কিন ব্যবসায় ন্যূনতম ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার অথবা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও গ্রামীণ এলাকায় ৮ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে এবং অন্তত ১০টি স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাবে আঞ্চলিক বিনিয়োগ কেন্দ্রগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং জাতীয় নিরাপত্তা বা জালিয়াতির সংশয় থাকলে মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে আবেদন বাতিল কিংবা স্থায়ী নাগরিকত্বের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।   এছাড়া, আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন কোম্পানিগুলোর বিদ্যমান চাকরি রক্ষার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার 'ট্রাবলড বিজনেস' সুবিধাটি পুরোপুরি বাতিলের প্রস্তাব করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। অন্যদিকে, আবাসন খাতের ডেভেলপারদের ব্যবহৃত স্বল্পমেয়াদি 'ব্রিজ ফাইন্যান্সিং' বা অন্তর্বর্তীকালীন ঋণ সুবিধার ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা এটি পুরোপুরি বন্ধের প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা আবাসন প্রকল্পগুলোতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   নতুন এই নীতিমালায় ডিজিটাল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের বিষয়েও কড়া নজরদারির কথা বলা হয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এর আইনি উৎস, করের রেকর্ড এবং অ্যাকাউন্ট মালিকানার পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রমাণ দিতে হবে আবেদনকারীদের। ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর তথ্যমতে, ২০১৮ সালে এই ভিসার আবেদন যেখানে ৬ হাজার ৬২৬টি ছিল, তা কমে ২০২২ সালে মাত্র ৬৫৪টিতে নেমে আসে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং ২০২৫ অর্থবছরে আবেদনের সংখ্যা প্রাক-মহামারি আমলকে ছাড়িয়ে ৬ হাজার ৬৫৪টিতে পৌঁছায়। নতুন এই প্রস্তাবিত নীতিমালার কারণে বার্ষিক ৩ কোটি ৯০ লাখ থেকে ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার পর্যন্ত প্রশাসনিক তদারকি ও কমপ্লায়েন্স ব্যয় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত ৬০ দিনের জন্য সাধারণ মানুষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত থাকা এই প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা এবং গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন আইনি কঠোরতার সৃষ্টি হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
ইউনিফর্ম পরেই গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর মেজর। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে অপসারণের দাবিতে কংগ্রেস ভবনের সিঁড়িতে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার মার্কিন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের মাধ্যমে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের সিঁড়িতে বিক্ষোভ করার সময় মার্কিন বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   নিউজউইক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মার্কিন বিমান বাহিনীর মেজর জেসন ওয়াটসন ইউনিফর্ম পরেই ক্যাপিটল ভবনের সামনে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। তাতে লেখা ছিল, "Impeach, Convict, Remove" অর্থাৎ "অভিশংসন করুন, দোষী সাব্যস্ত করুন, পদ থেকে অপসারণ করুন।" প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াটসন বক্তব্যে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন, দোষী সাব্যস্ত এবং পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।"   ঘটনার শুরুতে তার সঙ্গে টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আল গ্রিন উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর পুলিশ ওয়াটসনকে জানায়, কংগ্রেসের কোনো সদস্য সঙ্গে না থাকলে ক্যাপিটল ভবনের ওই স্থানে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া যাবে না। নির্দেশ অমান্য করে তিনি ভবনের সিঁড়িতে উঠে অবস্থান নিলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াটসন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ডটি মাটিতে রেখে নিজের দুই হাত পেছনে নেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় উপস্থিত লোকজন করতালি দিয়ে সমর্থন জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন।   পরে এক ভিডিওবার্তায় কংগ্রেস সদস্য আল গ্রিন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাকে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের দাবিতে অবস্থান নিতে দেখেছেন। তার ভাষায়, অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে এমন সাহসের প্রয়োজন। বিক্ষোভের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিমুভাল কোয়ালিশন-এর প্রতিষ্ঠাতা জেসিকা ডেনসন। সংগঠনটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সদস্যদের ক্ষমতা থেকে অপসারণের পক্ষে প্রচারণা চালায়।   সংবাদ সম্মেলনে ডেনসন বলেন, মেজর জেসন ওয়াটসন বর্তমানে পোল্যান্ডে লজিস্টিকস রেডিনেস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ছুটিতে রয়েছেন। তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ন্যাটোর সঙ্গে কাজ করেছেন। ডেনসনের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াটসন নিজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই কর্মসূচির আয়োজন করতে অনুরোধ করেছিলেন।   বক্তব্যে ওয়াটসন বলেন, তিনি ডেমোক্র্যাট নন এবং আল গ্রিনের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও খুব বেশি জানেন না। তবে তার মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনে কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে আল গ্রিনই সবচেয়ে বেশি সাহসিকতা দেখিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আল গ্রিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং দায়িত্বে বহাল থাকলে তিনি সহিংসতা উসকে দেওয়া, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করার ঝুঁকি তৈরি করবেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটিতে সেই প্রস্তাব ২৩৭ ভোটে বাতিল হয়। পক্ষে ভোট পড়ে ১৪০টি।   এদিকে ফ্রি স্পিচ ফর পিপল-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জন বোনিফাজ এক বিবৃতিতে ওয়াটসনের প্রশংসা করে বলেন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ঝুঁকি নিয়েও তিনি নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন, যা অনেকের নীরবতার বিপরীত একটি উদাহরণ। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউজউইক।   ওয়াটসনের আইনি লড়াইয়ের জন্য ইতোমধ্যে একটি অনলাইন তহবিল গঠন করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দেশপ্রেমিক এই সামরিক কর্মকর্তার আইনগত ব্যয় বহনের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওই তহবিলে ২৪ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: গেটি ইমেজেস
ফেসিয়াল রিকগনিশন থেকে ড্রোন, অভিবাসী নজরদারিতে নজিরবিহীন বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে মার্কিন সরকারের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের খরচ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর নজরদারি সরঞ্জামের এই বিশাল ও আশঙ্কাজনক বিস্তৃতির তথ্য সামনে এসেছে।   অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'মিহেন্তে' (Mijente), আইনি সহায়তাকারী সংস্থা 'জাস্ট ফিউচারস ল' এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সার্ভেইল্যান্স রেজিস্ট্যান্স ল্যাব'-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রধান ১১টি কোম্পানির পেছনে মার্কিন সরকারের ব্যয় ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৩১ কোটি ডলারে পৌঁছায়। আর বর্তমান ২০২৬ সালে সেই ব্যয়ের পরিমাণ রেকর্ড ভেঙে এক লাফে প্রায় ৫১ কোটি ৩০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   গবেষকদের মতে, মার্কিন সরকারের এই বিশাল খরচের বড় অংশই যাচ্ছে ডেটা অ্যানালিটিক্স কোম্পানি 'প্যালান্টির' এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'অ্যান্ডুরিল'-এর পকেটে। অ্যান্ডুরিল মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত নজরদারি ব্যবস্থা, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ সীমান্ত টাওয়ার, ড্রোন এবং বিশেষ সেন্সর তৈরি করে থাকে।   করদাতাদের কোটি কোটি ডলারের এই অর্থ দিয়ে আইসিই এবং সিবিপি ডেটা ব্রোকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্র্যাপার, ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, মোবাইল হ্যাকিং ডিভাইস এবং স্পাইওয়্যারের মতো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি কিনছে। এর মাধ্যমে অভিবাসীদের পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও একটি উদ্বেগজনক দিক উন্মোচন করা হয়েছে যে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) কেবল এসব প্রযুক্তি কিনছেই না, বরং বিলিয়ন ডলারের তহবিল দিয়ে বিভিন্ন স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এসব স্বৈরাচারী নজরদারি ডিভাইস তৈরিতে অর্থায়ন করছে। ডিএইচএস-এর 'স্মল বিজনেস ইনোভেশন রিসার্চ' (এসবিআইআর) কর্মসূচির মাধ্যমে ২০০৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০০টি কোম্পানিকে প্রায় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই তহবিলের আওতায় এমন সব প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে যা দিয়ে মার্কিন এজেন্টরা সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন থেকে বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ করতে পারে এবং এআই ব্যবহার করে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাত্রীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য তালিকাভুক্ত করতে পারে।   এই প্রযুক্তিগত নজরদারির বিস্তৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। 'জাস্ট ফিউচারস ল'-এর নির্বাহী পরিচালক পারমিতা শাহ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের জবাবদিহিতার বাইরে গিয়ে আইসিই যেভাবে বিশাল তহবিল ব্যবহার করছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। 'মোবাইল ফোর্টিফাই'-এর মতো ফেসিয়াল রিকগনিশন অ্যাপের মাধ্যমে হাজার হাজার অভিবাসী এবং আন্দোলনকারীদের মুখ স্ক্যান করা হচ্ছে, যা কার্যত ভিন্নমতাবলম্বীদের একটি ডাটাবেজ তৈরির শামিল।   এছাড়া 'বার্লা আইভি' (গাড়ির ডিভাইস থেকে তথ্য চুরির প্রযুক্তি), 'ভেরিওয়াচ' (স্মার্টওয়াচের মতো ট্র্যাকিং ডিভাইস) এবং 'ট্যাঙ্গেলস' (সোশ্যাল মিডিয়া ও আর্থিক রেকর্ড ঘেঁটে মানুষের প্রোফাইল তৈরির এআই) এর মতো প্রযুক্তির ব্যবহার আমেরিকাকে একটি ডিস্টোপিয়ান বা অন্ধকার শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে টেক জায়ান্ট ও ধনকুবেররা নিজেদের স্বার্থে মার্কিন বাজেট কব্জা করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াল কংগ্রেস

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে অথবা যুদ্ধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মার্কিন সিনেট।   মঙ্গলবার রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। ভোটাভুটিতে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অবস্থান নেন, যা ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই দলের মধ্যেই বাড়তে থাকা উদ্বেগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে জুন মাসে প্রতিনিধি পরিষদেও একই প্রস্তাব পাস হয়েছিল। সেখানে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়ে প্রস্তাবটি অনুমোদনে সহায়তা করেন। প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের ফল ছিল ২১৫-২০৮।   তবে প্রস্তাবটি আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে না। কারণ এটি এমন একটি সমসাময়িক প্রস্তাব (কনকারেন্ট রেজুলেশন), যা প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয় না এবং আইনে পরিণত হওয়ার সুযোগও নেই। তবুও রাজনৈতিকভাবে এর গুরুত্ব অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’ কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো সামরিক অভিযান বন্ধ বা সীমিত করার আহ্বান জানিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ একই ধরনের প্রস্তাব অনুমোদন করল।   মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, গত ৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি নতুন করে সময় গণনার সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে আইনি সীমা লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠছে না।   হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তাই এমন কোনো সক্রিয় যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই, যেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দুই রিপাবলিকান সিনেটর অনুপস্থিত থাকায় প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। অনুপস্থিত ছিলেন মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক। সিনেটে রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল, লিসা মারকাওস্কি, সুসান কলিন্স এবং বিল ক্যাসিডি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে শুধু জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে মতপার্থক্যের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির বিরুদ্ধেও কিছু রিপাবলিকান সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমতও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ফলে সংঘাত দ্রুত শেষ করার জন্য হোয়াইট হাউসের ওপর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।   এদিকে মঙ্গলবারই পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে, যার বড় অংশ ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ব্যয় মেটানোর জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় পক্ষের হাতে ৬০ দিন সময় রয়েছে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেসের সর্বশেষ এই ভোট আইনি পরিবর্তন না আনলেও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে যুদ্ধ, সামরিক ব্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ যে বাড়ছে, এই ভোট তারই প্রতিফলন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০