ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
‘দারুণ মেয়ে’ লিখে এক নারীর ছবি পোস্ট করলেন ট্রাম্প. ছবির নারীটি কে, জানে না কেউ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রহস্যময় ছবি পোস্ট করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ছবিতে দেখা যায়, একটি সোফায় বসে আছেন স্বর্ণকেশী এক নারী। তবে ছবির নারীটি কে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। বরং ছবির সঙ্গে লিখেছেন, “দারুণ মেয়ে, আমার গর্ব!”—এমন একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা।   ফাদার্স ডের ঠিক আগে শনিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই জানতে চান, ছবির নারীটি আসলে কে এবং ট্রাম্প কাকে উদ্দেশ্য করে এই বার্তা দিয়েছেন।   ছবিটি দেখে অনেকে ধারণা করেন, এটি হয়তো ট্রাম্পের সাবেক স্ত্রী এবং সংগীতশিল্পী Marla Maples-এর পুরোনো কোনো ছবি। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি ব্যবসায়ী ও ট্রাম্প-সমর্থক ধনকুবের John Catsimatidis-এর স্ত্রী Margo Catsimatidis-এর ছবি হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একজন ব্যবহারকারী দাবি করেন, ছবিটি মার্গো ক্যাটসিমাটিডিসের এবং ট্রাম্প সম্ভবত তার মেয়ে ও ম্যানহাটন রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ্য করেই মন্তব্যটি করেছেন। পরে একই ধরনের আরও অনেক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে।   তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ছবির নারীটি আসলে কে কিংবা ‘দারুণ মেয়ে’ বলে ট্রাম্প কাকে উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসও কোনো মন্তব্য করেনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব মেলেনি। অস্পষ্ট এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে সাধারণ একটি শুভেচ্ছাবার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন পোস্টটির উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট নিয়ে।   ট্রাম্পের সমালোচকদের একটি অংশ পোস্টটিকে কেন্দ্র করে তার মানসিক সতর্কতা ও স্মৃতিশক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যদিও এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বহু পোস্টে বিভিন্ন ধরনের অনুমান ও ব্যাখ্যা সামনে আসে, যার বেশিরভাগই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই জনমত ও সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট বার্তা দিয়েও তিনি প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেন। এবারের পোস্টও তার ব্যতিক্রম নয়। উল্লেখ্য, ছবিটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর ফাদার্স ডে উপলক্ষে আরেকটি বার্তা দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সামরিক শক্তি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।   তবে রহস্যময় ওই নারীর পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা এখনও থামেনি। ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম। তার দাবি, আলোচনা ভেস্তে গেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন।   রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গ্রাহাম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে শুরু হওয়া আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।   গ্রাহামের ভাষায়, যুদ্ধ বা চাপ প্রয়োগের মতো বিকল্প ব্যবস্থার আগে কূটনৈতিক পথকে সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে তিনি মনে করেন, শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে একটি বিস্তৃত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। এই সময়ে উভয় পক্ষ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   তবে গ্রাহাম বলেন, যদি এই উদ্যোগ সফল না হয়, তাহলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর তার ধারণা হয়েছে যে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারে।   বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।   গ্রাহাম আরও বলেন, যদি ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ভবিষ্যতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানের ভূমিকাকে বিবেচনায় নিতে পারে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানকে সতর্ক করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও মিত্রদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়েও মন্তব্য করেছেন।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এ জলপথকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা দেখা গেছে। ফলে সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলোও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।   লিন্ডসি গ্রাহাম তার সাক্ষাৎকারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার করতে পারে। তার আশা, ২০২৬ সালের মধ্যেই সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় আনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।   গ্রাহামের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল। তবে ওই ঘটনার পর পুরো প্রক্রিয়া থমকে যায়।   মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলেও আপাতত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনাই আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান নজরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের অগ্রগতি অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, সিবিএস নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম। তার দাবি, আলোচনা ভেস্তে গেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন।   রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গ্রাহাম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে শুরু হওয়া আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।   গ্রাহামের ভাষায়, যুদ্ধ বা চাপ প্রয়োগের মতো বিকল্প ব্যবস্থার আগে কূটনৈতিক পথকে সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে তিনি মনে করেন, শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে একটি বিস্তৃত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। এই সময়ে উভয় পক্ষ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   তবে গ্রাহাম বলেন, যদি এই উদ্যোগ সফল না হয়, তাহলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর তার ধারণা হয়েছে যে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারে।   বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।   গ্রাহাম আরও বলেন, যদি ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ভবিষ্যতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানের ভূমিকাকে বিবেচনায় নিতে পারে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানকে সতর্ক করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও মিত্রদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়েও মন্তব্য করেছেন।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এ জলপথকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা দেখা গেছে। ফলে সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলোও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।   লিন্ডসি গ্রাহাম তার সাক্ষাৎকারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার করতে পারে। তার আশা, ২০২৬ সালের মধ্যেই সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় আনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।   গ্রাহামের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল। তবে ওই ঘটনার পর পুরো প্রক্রিয়া থমকে যায়।   মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলেও আপাতত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনাই আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান নজরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের অগ্রগতি অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, সিবিএস নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালিতে টোল বসানোর হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র টোল বা চলাচল ফি আরোপ করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে ক্যাম্প ডেভিডে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, “বর্তমান ব্যবস্থায় ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো টোল নেই। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি চূড়ান্ত চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থে এবং আমাদের মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবস্থার আওতায় টোল আরোপ করতে পারে।”   তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর একটি। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের শুল্ক বা অতিরিক্ত ব্যয় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র যে নিরাপত্তা ব্যয় বহন করেছে, তার একটি অংশ পুনরুদ্ধারের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছি। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সেই ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।”   তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক মহল এবং কিছু নীতিনির্ধারক প্রশ্ন তুলেছেন, হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সমঝোতায় ভবিষ্যতে টোল আরোপের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি কেন। সমালোচকদের মতে, বর্তমান সমঝোতা কেবল ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত চলাচলের নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শুল্ক বা ফি আরোপের সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছে, যা ভবিষ্যতে নতুন বিরোধের কারণ হতে পারে।   হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে রপ্তানিকৃত তেলের বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই বিশ্ববাজারে যায়। ফলে এই প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, বরং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনাও অনেকাংশে এর ওপর নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘আমার জনপ্রিয়তা নয়, নিজেরটা দেখুন’, ট্রাম্পকে কড়া জবাব মেলোনির

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। জি-৭ সম্মেলনকে ঘিরে একটি ছবি তোলার প্রসঙ্গ নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে জি-৭ সম্মেলনের সময় মেলোনি বারবার তার সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন এবং ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অকারণ ও ধারাবাহিক আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন।   শনিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, “জি-৭ সম্মেলনের সময় মেলোনি বারবার আমার সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ করেছিলেন।”   তিনি আরও দাবি করেন, ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করাই এর একটি কারণ। ট্রাম্প আরও বলেন, “এখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সাফল্য অর্জনের পর তিনি আবার সম্পর্ক উন্নত করতে চান, যাতে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারেন।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য দ্রুত ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এমনকি মেলোনির সমালোচকরাও এ ঘটনায় তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনার পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত একটি যুক্তরাষ্ট্র সফরও বাতিল করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে শনিবারই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মেলোনি। তিনি বলেন, “আপনার বন্ধু হওয়াটা আমার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করেনি।” এরপর তিনি আরও যোগ করেন, “আমি মনে করি, আপনার নিজের জনপ্রিয়তা নিয়েই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।”   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছর আগেও ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ডানপন্থি রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে মেলোনিকে ইউরোপে ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই নেতার সম্পর্কে দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ভ্যাটিকান এবং পোপকে ঘিরে ট্রাম্পের কিছু মন্তব্যের পর সেই সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়ে।   শুক্রবার মেলোনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রায়ই মিত্র দেশগুলোর প্রতিই কঠোর আচরণ করেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। এটি প্রথম ঘটনা নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিপক্ষদের ক্ষেত্রে একই দৃঢ়তা দেখান না।”   বিশ্লেষকদের ধারণা, এই উত্তেজনার পেছনে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিও ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোকে সিসিলির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে ইতালি রাজি হয়নি। আর এ কারণেই ট্রাম্পের অসন্তোষ আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   ইতালি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পরিচিত। ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক এই বাকযুদ্ধ সেই সম্পর্কে নতুন ধরনের অস্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প ও মেলোনির প্রকাশ্য বিরোধ শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের সংকট নয়, বরং ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েনেরও প্রতিফলন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ এ পি
কাতারের দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমান উন্মোচন করেছেন, যা এখন থেকে তাঁর সরকারি বাহন বা 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' হিসেবে ব্যবহৃত হবে। গত বছর কাতার সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিলাসবহুল বিমানটি গ্রহণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের উপকণ্ঠে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের একটি হ্যাঙ্গারে বিশাল এই বিমান থেকে নেমে এসে ট্রাম্প বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং উপস্থিত সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।   নতুন এই বিমানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এর মতো অনন্য বিমান সম্ভবত আর দ্বিতীয়টি তৈরি হবে না। আগের বিমানের চেয়ে আকারে বেশ বড় হওয়ায় এটি রাখার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ও বিশেষ একটি হ্যাঙ্গার নির্মাণ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেন, আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে ওয়াশিংটনের আকাশে এক বিশাল ফ্লাইওভারে নেতৃত্ব দেবে বিমানটির এই নতুন সংস্করণ।   মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্টের বাহন হিসেবে চূড়ান্তভাবে ব্যবহৃত হওয়ার আগে বিমানটি শিগগিরই এর 'চূড়ান্ত পরীক্ষা' বা কমিশনিং ফ্লাইটে অংশ নেবে। ইতোমধ্যে বিমানটিতে লাল, সাদা ও নীল রঙের নতুন প্রলেপ দেওয়া হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য এতে যুক্ত করা হয়েছে সামরিক পর্যায়ের অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি। তবে বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা নান্দনিকতার চেয়ে আভিযানিক নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় এর ভেতরের মূল নকশা, বিলাসবহুল চামড়ার আসন এবং কাঠের প্যানেলিংয়ে খুব একটা পরিবর্তন আনা হয়নি।   গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসা সামরিক গ্রেডের ৭৪৭-২ বিমানটির জায়গা নেবে নতুন এই এয়ার ফোর্স ওয়ান। বিদেশি সরকারের কাছ থেকে এত দামি উপহার নেওয়ায় স্বার্থের সংঘাত বা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে যে সমালোচনা উঠেছিল, তা আগেই কড়া ভাষায় নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যেখানে বিনা খরচে এমন একটি আধুনিক বিমান পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অযথাই সামরিক বাহিনী ও জনগণের করের শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ করার কোনো মানে হয় না। জানা গেছে, ২০২৮ সালে বিমানবাহিনীর কাছে বোয়িংয়ের নতুন বহর হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত কাতারের দেওয়া এই বিমানটিই মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রধান বাহন হিসেবে কাজ করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মেলোনি, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব দিলেন

জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-৭–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য “ভিক্ষা” করেছিলেন।   ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, শুরুতে ছবি না তোলার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে মেলোনির অনুরোধে তিনি সম্মত হন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মনগড়া বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, তিনি বা ইতালি কখনো কারও কাছে কিছু ভিক্ষা চায় না।   মেলোনি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন তার মিত্রদের প্রতি এমন ভাষা ব্যবহার করছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।   এক বার্তায় মেলোনি বলেন, তিনি জানেন না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের তুলনায় মিত্রদের ক্ষেত্রে এমন আচরণ হতাশাজনক।   এ ঘটনায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতালির প্রতি অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাজানি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য পুরো ইতালির প্রতি অপমান। এই পরিস্থিতিতে তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুন নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।   সূত্র: রয়টার্স

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘ওরা ঈর্ষান্বিত, খারাপ লোক অথবা নির্বোধ’, ইরান চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সমালোচকদের জবাবে এবার বেশ কড়া ভাষা ব্যবহার করেছেন তিনি। ইরানের বিষয়ে নিজের অবস্থানকে যথেষ্ট কঠোর নয় বলে যারা অভিযোগ করছেন, তাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছেন, তারা হয় “ঈর্ষান্বিত”, “খারাপ লোক” অথবা “নির্বোধ”।   বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে দেখা যাচ্ছে।   ট্রাম্প লিখেছেন, “যারা মনে করে আমি ইরানের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর ছিলাম না, তারা হয় ঈর্ষান্বিত, নয়তো খারাপ লোক, অথবা স্রেফ নির্বোধ। কারণ শেয়ারবাজার এখন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং তেলের দামও দ্রুত কমছে।”   তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক চলছে। দেশটির কিছু নীতিনির্ধারক, বিশ্লেষক এবং বিরোধী রাজনৈতিক মহলের দাবি, চুক্তির মাধ্যমে ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখানো হয়েছে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্য কতটা উপকারী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তিটি একটি ‘পারফরম্যান্সভিত্তিক’ কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ ইরান চুক্তির শর্তগুলো মেনে চললে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সুবিধা পাবে।   সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পর একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মতি হয়। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং নিষেধাজ্ঞা ইস্যুসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে।   তবে চুক্তির অনেক বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়ে সামনে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত নিজ সমর্থকদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি চুক্তি নিয়ে বাড়তে থাকা সমালোচনার জবাব। একই সঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক সূচক, বিশেষ করে শেয়ারবাজার ও জ্বালানি তেলের দামকে নিজের নীতির সফলতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।   এদিকে সমঝোতা স্মারকটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি এটিকে নিজের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেই দেখছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমরা ইরানের প্রচুর অর্থ নিয়েছি, সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।   ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের অনেক অর্থ আটকে রেখেছি। সেই অর্থ আমাদের নয়, ইরানের। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আমরা সেই অর্থ জব্দ করেছিলাম। আমার বিশ্বাস, একসময় সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে।”   তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ধরে রাখতে এ ধরনের বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, “যদি বৈধ অর্থ ফেরত না দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউই ডলারের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে চাইবে না।”   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।   চলমান আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো। বিশেষ করে লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম সীমিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্প জানান, ইরান যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল আচরণ করে এবং সমঝোতার শর্তগুলো মেনে চলে, তাহলে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সরাসরি কোনো অর্থ সহায়তা দিচ্ছি না। তবে ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে এবং ইতিবাচক পথে এগোয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন।” তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ইরান বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের মতে, দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।   সংবাদ সম্মেলনে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবং ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার মেনে চললে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো দুই দেশের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার আগে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথই নির্ধারণ করবে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
হিজবুল্লাহ মোকাবিলায় ইসরায়েলের বিকল্প হিসেবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে চান ট্রাম্প

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র নিজেরই সামলানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অতিমাত্রায় সাধারণ বা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে উল্লেখ করে ট্রাম্প এই পরামর্শ দেন।   তিনি মনে করেন, ইসরায়েল যদি সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে এই সংকট মোকাবিলা করতে না পারে, তবে সিরিয়ারই এই দায়িত্ব নেওয়া উচিত।   ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G-7) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ার নতুন নেতা দেশ পরিচালনায় একটি অসাধারণ কাজ করছেন।   ট্রাম্পের মতে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েল যদি সবাইকে হত্যা না করে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সিরিয়াই এই কাজটি করবে এবং আল-শারা নিজেই তা করে দেখানোর সক্ষমতা রাখেন।   সাবেক বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার ক্ষমতায় আসা সাবেক এই বিদ্রোহী যোদ্ধাকে বেশ শক্ত প্রকৃতির নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আহমেদ আল-শারা কোনো ‘বয় স্কাউট’ বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তি নন, বরং হিজবুল্লাহর সাথে ডিল করার ক্ষেত্রে তিনি বেশ পটু ও দক্ষ। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সিরিয়ার এই নতুন নেতা হিজবুল্লাহকে মোটেও পছন্দ করেন না।   ফলে হিজবুল্লাহ দমনে ইসরায়েলের বিকল্প হিসেবে সিরিয়াই সবচেয়ে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে কোনো অর্থ খরচ করবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘কোনো অর্থ খরচ’ করবে না। এ ধরনের দাবিকে তিনি গুজব ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তিকে ‘যথার্থ’ ও ‘দারুণ’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, গত সপ্তাহে তিনি ইরানের ওপর হামলা চালাতে চাননি। তবে পরিস্থিতির কারণে তাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। ট্রাম্প বলেন, “গত সপ্তাহে আমি তাদের ওপর হামলা করতে চাইনি। কিন্তু আমাদের হামলা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।”   ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছি। আমি ওটা মোটেও পছন্দ করিনি।” লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান পরিচালনার ফলে অতিরিক্ত প্রাণহানি ঘটছে।   তিনি বলেন, “কাউকে খুঁজে বের করার জন্য প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই ভবনগুলোতে অনেক মানুষ থাকে। তারা সবাই হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত নয়।” ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহ মোকাবিলার বিষয়টি সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।   তার ভাষায়, “আমি হিজবুল্লাহকে সামলানোর বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছি। কারণ আমার মনে হয় তারা এটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।” ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলেও ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি টিকে থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি বহাল থাকবে।   তিনি বলেন, “আমি এটিকে একটি ছোট যুদ্ধ মনে করি। ইরান হলো বড় বিষয়। তবে আমাদের জন্য সেখানে একটি ছোট কাঁটার মতো বিষয় রয়েছে, আর সেটি হলো হিজবুল্লাহ।” এর আগে শান্তি চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প জানান, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতোমধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং বহু তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সামরিক অভিযান বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   ইরানি গণমাধ্যমগুলো এই চুক্তিকে ইরানের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। ঘারিভাবাদি বলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরানে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের সামনে পরাজয় ও আত্মসমর্পণ মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না।   তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের গভীর অবিশ্বাস এখনো কাটেনি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি মূলত উত্তেজনা কমানোর একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে ট্রাম্প, ভ্যান্স ও গালিবাফের স্বাক্ষর

দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তারা এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করছেন।   মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।   এছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার বিষয়ও সমঝোতার অংশ বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। বরং এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।   তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ না হওয়ায় বেশ কিছু বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ব্যবহার, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।   ইরানি সূত্রগুলো বলছে, প্রণালিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি বা বিশেষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, খুব শিগগিরই কোনো অতিরিক্ত টোল বা বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল শুরু হবে।   মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা ইরানের স্থগিত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়গুলো তেহরানের সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ বর্তমান সমঝোতা একটি কাঠামোগত চুক্তি হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।   এদিকে সমঝোতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব বিষয়ে তাদের অবস্থান এক নয়। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা স্মারক তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার মতো জটিল প্রশ্নগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।   তা সত্ত্বেও, কয়েক মাসের সংঘাতের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়াকে কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্পের জন্মদিনে পুতিনের ফোন, মস্কো সফরে যেতে পারেন উইটকফ ও কুশনার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিনে তাকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনারের সম্ভাব্য মস্কো সফরের কথাও জানিয়েছে রাশিয়া।   পুতিনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার খুব শিগগিরই আবার রাশিয়া সফরে যেতে পারেন। তবে সম্ভাব্য এই সফরের বিষয়ে ওয়াশিংটন কিংবা সংশ্লিষ্ট মার্কিন প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।   রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে উইটকফ ও কুশনার ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। মস্কোর পক্ষ থেকে তাদের সফরের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা অন্য কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ইউক্রেন সফরের সম্ভাবনা নিয়েও কিয়েভ বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।   সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউরি উশাকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক নিয়েই ট্রাম্প ও পুতিনের আলোচনার বড় অংশ আবর্তিত হয়েছে। ক্রেমলিন আরও জানিয়েছে, ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিও উঠে এসেছে।   এদিকে সোমবার থেকে ফ্রান্সের এভিওঁ শহরে শুরু হতে যাচ্ছে জি-৭ সম্মেলন। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। সম্মেলনের আগে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ বৃদ্ধির এই খবর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রোববার তারও ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। জেলেনস্কির কার্যালয় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটের এই আলাপকে কূটনীতি, যুদ্ধ এবং শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি জানান, তিনি ট্রাম্পকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং দুই নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে শান্তি আলোচনার বিষয়টিও ছিল।   তিনি আরও জানান, ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান কীভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে, সে বিষয়েও ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন। জেলেনস্কির কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইউক্রেনবিষয়ক একটি ওয়ার্কিং সেশনে অংশ নিতে সম্মতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, দুই নেতার মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এখনো নির্ধারিত হয়নি।   ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন যে তিনি দ্রুত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান চান। তবে ইউক্রেনকে কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলায় কিয়েভ ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত বছর হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে জেলেনস্কিকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। ওই ঘটনার পর থেকে দুই নেতার সম্পর্ক কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।   অন্যদিকে পুতিন ইউক্রেন সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইউরোপীয় মধ্যস্থতার পরিবর্তে সরাসরি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কৌশল অনুসরণ করছেন। জি-৭ সম্মেলনের আগে মস্কোর এই বার্তা অনেকের কাছে এমন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ এখনো সক্রিয় রয়েছে।   এদিকে ইউরোপীয় নেতারা চাইছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের পাশ কাটিয়ে এককভাবে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছে। কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জি-৭ বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ। সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে অনেক নেতা জেনেভায় অবস্থান করায় সেখানে বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।   বিক্ষোভকারীরা জি-৭ জোটকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেন। পুলিশের হিসাবে মিছিল শুরুর সময় প্রায় ৭ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৫ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা বলা হয়। বিক্ষোভ চলাকালে একটি টেসলা গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
আলোচনার ভিত্তিতে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত হামলা বাতিল করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতে চলমান গঠনমূলক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ওপর পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা ও বোমা বর্ষণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এই আকস্মিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কেটে গেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প জানান, একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত শর্তাবলীতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই নীতিগতভাবে সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ছাড়াও ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিসরসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশ পূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে। বহুপাক্ষিক এই সম্মতির ভিত্তিতেই সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তবে হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কৌশলগত কারণে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ এখনই প্রত্যাহার করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই চুক্তির চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নৌ অবরোধটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর থাকবে। খুব শিগগিরই এই যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের বাধা পেরিয়ে ৭০ বিলিয়ন ডলারের অভিবাসন বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করে ৭০ বিলিয়ন বা ৭ হাজার কোটি ডলারের একটি নতুন অভিবাসন প্রয়োগ বিলে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন সংক্রান্ত এক অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের পর ডেমোক্র্যাটদের তীব্র আপত্তির মুখে এই বিলটি কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের সব বাধা পেরিয়ে বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এই বিলে স্বাক্ষর করেন তিনি। নতুন এই আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার পেট্রোল (সিবিপি)-এর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত জুলাইয়ে পাস হওয়া কর ও ব্যয় সংক্রান্ত অপর একটি বিল থেকে পাওয়া ১৪০ বিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি নতুন এই ৭০ বিলিয়ন ডলার অভিবাসন সংস্থাগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।   বিলটিতে স্বাক্ষরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সব ধরনের অর্থায়ন আটকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা সম্পূর্ণ অরক্ষিত করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, যা দেশটিকে পুনরায় অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প দেশজুড়ে গণ-বহিষ্কার বা 'মাস ডিপোর্টেশন' অভিযান পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। শুরুতে শুধু অপরাধের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তাদের ওপরও এই অভিযান সম্প্রসারিত করা হয়। লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নামের একটি সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম নয় মাসে আইসিই-এর রাস্তায় ধরপাকড় আগের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে, যার মধ্যে নির্দোষ বা আগে কোনো সাজা পাননি এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে অন্তত সাত গুণ।   মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলো অবশ্য এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের জবাবদিহিতা বা রক্ষাকবচ ছাড়াই এই বিপুল অর্থায়ন অভিবাসী সম্প্রদায়কে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। আইসিই এবং সিবিপি-এর বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য, মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিনা পরোয়ানায় তল্লাশির মতো অসাংবিধানিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালীন রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটি নামের দুই মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনার পরই মূলত ডেমোক্র্যাটরা এই বিলের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। তারা দাবি করেছিল, কর্মকর্তাদের আচরণের ওপর আইনি বাধ্যবাধকতা ও জবাবদিহিতা যুক্ত না করা পর্যন্ত তারা কোনো অর্থায়ন বিলে সমর্থন দেবে না। এর জেরে ডিএইচএস-এর অর্থায়ন আটকে যায় এবং ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ (টিএসএ) সংস্থাটির অপরিহার্য নয় এমন কার্যক্রম টানা ৭৬ দিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় প্রশাসন।   অবশেষে রিপাবলিকানরা সিনেটের বিশেষ ‘বাজেট রিকনসিলিয়েশন’ বা বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস করতে সক্ষম হয়। স্বাভাবিক নিয়মে এই বিল পাসের জন্য অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজন হলেও, এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তারা খুব সহজেই বাধা অতিক্রম করে। তবে এই অর্থায়নের কড়া সমালোচনা করে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের (এনওয়াইআইসি) প্রেসিডেন্ট মুরাদ আওয়াউদেহ এক বিবৃতিতে বলেন, অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানালে জনসাধারণের নিরাপত্তা বাড়বে—এমন এক মিথ্যা ধারণার ওপর ভিত্তি করেই করদাতাদের এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিলের ফলে আইসিই মিনিয়াপোলিস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে আগের মতোই আইনবহির্ভূত ও সহিংস কার্যক্রম চালানোর একটি অবাধ লাইসেন্স পেয়ে গেল, যা পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি গোটা সমাজ ব্যবস্থাকেই চরম অস্থিতিশীল করে তুলবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের পোস্টে আবারও ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ইরানকে উপহাস ও যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও এক অদ্ভুত ও তীব্র আক্রমণাত্মক পোস্ট দিয়েছেন। ইরানকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানকে উপহাস করতে গিয়ে নিজের পোস্টে ‘আল্লাহর প্রশংসা’ বা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন। বুধবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প মূলধারার গণমাধ্যম বা ‘ফেইক নিউজ মিডিয়া’র ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ নৌযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ও শক্তিশালী পদক্ষেপ।   ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন যে, আমেরিকা না চাইলে কোনো কিছুই সেখান দিয়ে পার হতে পারবে না এবং এই অবরোধ একটি ইস্পাত কঠিন প্রাচীরের মতো কাজ করছে। এর ফলে ইরানের ব্যবসা-বাণিজ্য এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং তারা তাদের সামরিক বাহিনী বা অন্য কোনো বিল পরিশোধ করতে পারছে না। ইরান দ্রুত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে দাবি করে তিনি উপহাসের ছলে ‘আল্লাহর প্রশংসা’ শব্দগুচ্ছটি যুক্ত করেন। ইরানকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের মুখে এই ধরনের ধর্মীয় শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে দেওয়া এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্টে তিনি একইভাবে ‘আল্লাহর প্রশংসা’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।   বুধবার ভোরের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য খুব বেশি সময় নষ্ট করে ফেলেছে এবং এখন তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে। সেই সাথে তিনি ইরানের সামরিক বাহিনীকে একটি সম্পূর্ণ এবং চরম বিশৃঙ্খলা হিসেবে বর্ণনা করেন। এদিকে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে।    হরমুজ প্রণালির ওপরে আমেরিকার একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নতুন হামলার ঘোষণা দেন। ট্রাম্প জানান, সোমবার সন্ধ্যার ওই হামলায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলেও এর দুই পাইলটকে নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন এই হামলার জবাবে তেহরানও পাল্টা তীব্র পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে এখন এক চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ওয়াশিংটনে পথ বন্ধ হচ্ছে নেতানিয়াহুর? ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত দুই নেতার মধ্যে বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে কৌশলগত অবস্থানে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ট্রাম্প যেখানে দ্রুত সংঘাতের অবসান ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সেখানে নেতানিয়াহু সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে রয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবির থেকেই সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে।   রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ এবং ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের মধ্যে নেতানিয়াহুর নীতির প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ায় ওয়াশিংটনে তার রাজনৈতিক পরিসর আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মতবিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একটি বড় সামরিক হামলা ঠেকাতে তিনি সরাসরি নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। তার দাবি, তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেছিলেন যে একতরফা পদক্ষেপ নিলে ইসরাইলকে শেষ পর্যন্ত একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।   ট্রাম্পের এই অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের নীতিতে ইসরাইলের নিরাপত্তা প্রশ্নে প্রায় নিঃশর্ত সমর্থনের ধারা বজায় থাকলেও এবার ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার প্রশাসনের অবস্থানই নির্ধারক হবে।   ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা।   প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।   অন্যদিকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে তার নেতৃত্ব নিয়ে ইসরাইলের ভেতরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান প্রদর্শন এখন তার জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে শক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখালে তাকে দুর্বল নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তার সমর্থকেরা। এ কারণে ট্রাম্পের চাপ থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু ইরান এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   সাম্প্রতিক সংঘাত চলাকালে ইরানের হামলার পর বড় ধরনের পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া সীমিত রাখা হয় বলে জানা যায়। এরপরও নেতানিয়াহু ইরান ও লেবাননের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অনুমোদন দেন। ট্রাম্প পরে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাকে অনুরোধ করেছিল যেন তিনি নেতানিয়াহুকে নতুন হামলা থেকে বিরত রাখেন। এরপর তিনি সরাসরি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।   মার্কিন সাবেক কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের বর্তমান রাজনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা। তার মতে, রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের একক প্রভাব এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।   তবে হোয়াইট হাউস দুই নেতার সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের সংকটের কথা অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিরাপত্তা সহযোগিতা আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী অবস্থানে আছে।   এদিকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করছেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু ইসরাইলের স্বাধীন কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদও অভিযোগ করেছেন, তার সময়ে ইসরাইলের নীতিনির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা ইসরাইলের রয়েছে। তার ভাষ্য, ইরান ও হিজবুল্লাহ এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে তারা হামলা চালাবে, কিন্তু ইসরাইল জবাব দিতে পারবে না। এমন পরিস্থিতি তিনি মেনে নেবেন না।   পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয় নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো ও আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   কিছু সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, ইরান বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব পর্যবেক্ষণ করছে এবং এই পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।   ইসরাইলের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যেও নেতানিয়াহুর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অতীতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সক্ষমতা আগের মতো কার্যকর নেই।   বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে মধ্যপ্রাচ্য নীতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চান। আর নেতানিয়াহু এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর পুরোনো কৌশল ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কাছে এখনো ২১–২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে : ট্রাম্প

ইরানের কাছে এখনো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান উত্তেজনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।   রোববার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছে এখনো কিছু সামরিক সক্ষমতা রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “তাদের এখনো সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কিছু ড্রোন আছে। আমি বলব, শতাংশের হিসেবে হয়তো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ২১ বা ২২ শতাংশ এখনো বাকি আছে।”   ট্রাম্পের এই মন্তব্য মে মাসে দেওয়া তার আগের এক বক্তব্যের তুলনায় ভিন্ন। ওই সময় তিনি ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র মজুত প্রায় ১৮ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও তিনি বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ফলে ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতা অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   চলমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী শুক্রবার দাবি করে, তারা ওমান উপসাগরে দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ‘সতর্কতামূলক’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।   এর দুই দিন আগে কুয়েত জানায়, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে, যা তারা “জঘন্য আগ্রাসন” হিসেবে উল্লেখ করে।   এই উত্তেজনার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। ট্রাম্প বলেন, ইরানের জন্য একটি চুক্তিতে আসা ছাড়া বিকল্প নেই। এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, “তারা শক্তিশালী, তারা গর্বিত, তবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা তারা কখনো করার কথা ভাবেনি, কিন্তু এখন তাদের সেগুলো করতেই হবে।”   বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক ঘটনার ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ডি-ডে দিবসে ওবামাকে কটাক্ষ করে এআই ছবি শেয়ার করলেন ট্রাম্প

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান ডি-ডে’র ৮২তম বার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একাধিক পোস্ট শেয়ার করে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিকে জরাজীর্ণ ও আবর্জনায় ঘেরা অবস্থায় দেখানো একটি ছবি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, শনিবার সকালে ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি এআই-নির্মিত সংগীত ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি তৈরি করেন নিউইয়র্কের কংগ্রেস প্রার্থী অ্যান্থনি কনস্টান্টিনো, যাকে সম্প্রতি সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প।   ভিডিওটিতে ট্রাম্পকে বিভিন্ন কাল্পনিক ও নাটকীয় দৃশ্যে দেখা যায়। কোথাও তিনি সিংহের পিঠে চড়ছেন, কোথাও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সঙ্গে খাবার খাচ্ছেন, আবার কোথাও হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি লড়াইয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। ভিডিওটির মূল বার্তা ছিল বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তুলে ধরা।   এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প আরেকটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিকে ভবিষ্যতে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় দেখানো হয়। ছবিতে ভবনটির চারপাশে গৃহহীনদের বসতি এবং ছাদের ওপর বিশাল আবর্জনার স্তূপ দেখানো হয়। ছবির সঙ্গে ট্রাম্প ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও যুক্ত করেন।   তবে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আরেকটি বিষয়। ডি-ডে’র মতো ঐতিহাসিক দিবসে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে কোনো সরাসরি স্মরণবার্তা দেখা যায়নি। বরং দিনের বাকি সময়েও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে পোস্ট করতে থাকেন।   অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন নেতা দিবসটি উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক বার্তা দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী Mark Carney, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer সামাজিক মাধ্যমে ডি-ডে স্মরণ করেন। হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরও ১৯৪৪ সালের ৬ জুন প্রাণ হারানো সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট প্রকাশ করে।   উল্লেখ্য, ১৯৪৪ সালের ৬ জুন মিত্রবাহিনী ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে অবতরণ করে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বৃহৎ আক্রমণ শুরু করে। ইতিহাসে এটি ডি-ডে নামে পরিচিত এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।   ডি-ডে উপলক্ষে ট্রাম্পের অবস্থান অতীতের তুলনায় এবার কিছুটা ভিন্ন ছিল। ২০২৪ সালে তিনি যুদ্ধের প্রবীণ সেনাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলাপচারিতার ভিডিও এবং নিহত সেনাদের স্মরণে বার্তা প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৩ সালেও তার পুনর্নির্বাচনী প্রচারণা দল ডি-ডে উপলক্ষে একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করেছিল।   এদিকে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ডি-ডে স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন উপকূলে বর্তমানে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।   তার এই বক্তব্য ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডি-ডে’র মতো একটি ঐতিহাসিক স্মরণ দিবসে ট্রাম্পের এআই-নির্মিত পোস্টগুলো আবারও দেখিয়েছে যে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক বার্তা ও প্রতিপক্ষকে আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে চলেছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানিরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও অহংকারী, তাই এখনও চুক্তি হয়নি—ট্রাম্প

ইরানের নেতারা অত্যন্ত ‘শক্তিশালী’ এবং ‘অহংকারী’ হওয়ার কারণেই চলমান যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সম্মত হননি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি যোগ করেছেন, শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে আসা ছাড়া তেহরানের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। শুক্রবার উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলস-এ এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে এল।   এর আগে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং কয়েক দফায় এর মেয়াদও বাড়ানো হয়েছিল। তবে সম্প্রতি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক মাস আগে ইরানের এই প্রণালি অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা ট্রাম্প ও ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান নেতাদের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যারা তাকে দ্রুত চুক্তির জন্য তাগিদ দিচ্ছেন, তাদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বছরের পর বছর সময় লাগে। ইরানি নেতারা ৪৭ বছর ধরে লড়াই করছেন এবং আমেরিকানদের ওপর আঘাত হানছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। আপনারা জানেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল। অথচ আমাদের মাত্র তিন মাস চলছে, আর এখনই সবাই বলছে, ‘আপনি কবে জিতবেন?’”   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, সংঘাতের এ পর্যায়ে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। বেশিরভাগ ড্রোন কারখানা, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এলাকাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ইরানের আর মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। তবে তেহরানের যে এখনও হামলার সক্ষমতা রয়েছে, তা তিনি স্বীকার করেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগরজুড়ে ধারাবাহিক হামলা এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হেনে ইরানও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। গত বুধবার দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ওপর যে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, তা সম্ভবত শ্রম দিবসের (লেবার ডে) পরও বহাল থাকবে।   ইরানের নেতাদের সাথে শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি চুক্তিতে সই করব নাকি অন্য পথে হাঁটব? আর অন্য পথটি কিন্তু মোটেও সুখকর হবে না।”

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা, ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের পক্ষে রায় মার্কিন আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আবেদনের নিষ্পত্তি স্থগিত করে যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তা অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে অবস্থিত ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এই রায় দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ৩৯টি আফ্রিকান, এশীয়, লাতিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক বেআইনি নীতি প্রয়োগ করেছিল।   মামলাটি দায়ের করে অভিবাসী সেবাদানকারী বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নের একটি জোট। গত মার্চ মাসে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করে যে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ইউএসসিআইএস এমন কিছু নীতি কার্যকর করেছে, যার ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সুবিধা সংক্রান্ত আবেদনগুলো কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।   বিতর্কিত এসব ব্যবস্থার আওতায় আশ্রয় আবেদন, কাজের অনুমতিপত্র, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছিল না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ট্রাম্পের ঘোষিত পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এসব নিষেধাজ্ঞাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেছিল।   রায়ে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, এসব নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চিত আইনি অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তাদের অনেকেই জানতেন না, তাদের আবেদন আদৌ নিষ্পত্তি হবে কি না কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হবে।   জন ম্যাককনেল সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর মনোনীত বিচারক। তিনি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক সংস্থাগুলো আইনের সীমার বাইরে গিয়ে কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এমন নীতি গ্রহণ করতে পারে না।   রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে হাজারো আবেদনকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিজয় হিসেবে দেখছেন।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এসব পদক্ষেপ নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক, অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, নির্দিষ্ট দেশ ও জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া এসব ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিবাসন ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   সাম্প্রতিক এই রায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বৈধতা নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0