মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত যখন চরমে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে নিজেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও জর্ডানের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে হোয়াইট হাউজ। বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে এক ‘জরুরি অবস্থা’ বিরাজ করছে। আর এই বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার নিয়মটি বাতিল করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অস্ত্র চুক্তির বিস্তারিত: সংযুক্ত আরব আমিরাত: আমিরাতের জন্য প্রায় ৮.৪০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত মাঝারি পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল (AMRAAM), এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদ এবং শত্রু ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম অত্যাধুনিক ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিফিট সিস্টেম’। এছাড়াও থাকছে দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা যা থাড (THAAD) মিসাইল ডিফেন্সের সাথে যুক্ত করা হবে। কুয়েত: আকাশপথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে কুয়েতের কাছে ৮ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সেন্সর রাডার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জর্ডান: জর্ডানের জন্য ৭০.৫ মিলিয়ন ডলারের ‘এয়ারক্রাফট ও মিউনিশন সাপোর্ট’ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার আওতায় যুদ্ধবিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করা হবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলার মুখে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে মিত্র দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই অস্ত্রের দাবি জানিয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই ইসরায়েলের কাছেও কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১২ হাজার বোমা বিক্রির অনুরূপ একটি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইডেন প্রশাসনের সময় থমকে যাওয়া এই বিশাল অস্ত্র চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের পূর্ণ সামরিক নিরাপত্তা দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিল। তবে এই সরঞ্জামগুলো কবে নাগাদ পৌঁছাবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা (VOA) পুনরায় চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরাসরি 'অবৈধ' বলে ঘোষণা করেছেন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। বিচারক রয়েস ল্যামবারথ গত মঙ্গলবার এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। রায়ে কেবল প্রতিষ্ঠানটি চালুর নির্দেশই দেওয়া হয়নি, বরং ট্রাম্পের নির্দেশে চাকরি হারানো সাংবাদিকদের অবিলম্বে সপদে পুনর্বহালের আদেশও দেওয়া হয়েছে। আদালত কর্তৃপক্ষকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্প্রচার কার্যক্রম পুনরায় সচল করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি অপপ্রচারের মোকাবিলা করতে ভিওএ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে এটি বন্ধ করে দেন। তার প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, সংবাদমাধ্যমটি 'বামঘেঁষা' মতাদর্শ প্রচার করছে। একই সাথে তিনি রেডিও ফ্রি ইউরোপ ও রেডিও ফ্রি এশিয়ার মতো সংস্থাগুলোকেও যতটা সম্ভব সংকুচিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই পদক্ষেপ বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেল।
ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি। এই হামলা কি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেতে হয়েছে, নাকি ইসরায়েল একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, দক্ষিণ পার্সে হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটনের ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এই হামলা সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতার কথা জানালেও, বিশ্লেষকরা তা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। এলমাসরি বলেন, "এমনটা ভাবা অস্বাভাবিক নয় যে ট্রাম্প সত্য গোপন করছেন এবং তার অনুমতি নিয়েই এই হামলা হয়েছে। আবার এটাও অসম্ভব নয় যে, নেতানিয়াহু আবারও তার চতুরতায় ট্রাম্প প্রশাসনকে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আর কিছু করার ছিল না।" বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অনেক দিকই মূলত ইসরায়েল নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি ট্রাম্পের নিজের কট্টর সমর্থক গোষ্ঠীও এখন ইসরায়েলের সঙ্গে এই অসম সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। এই হামলার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে এলমাসরি বলেন, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানে রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় সৃষ্টি করা এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়া। এর ফলাফল উপসাগরীয় দেশগুলো, ইউরোপ এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ ও 'বিপর্যয়কর' হতে পারে।
ইরানের শাসনব্যবস্থা বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা হুমকি বিষয়ক এক সংসদীয় শুনানিতে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শাসনব্যবস্থা এখনও টিকে থাকলেও তা আগের তুলনায় অনেক বেশি 'দুর্বল' ও 'ক্ষতিগ্রস্ত'। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার এই শুনানিতে গ্যাবার্ডের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে মার্কিন অভিযান শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর প্রথম কোনো প্রকাশ্য ব্রিফিং। শুনানির মূল আলোচিত বিষয়সমূহ: হরমুজ প্রণালি সংকট: তুলসী গ্যাবার্ড দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জাহাজ চলাচল পথটি ইরান দখল করতে পারে, এমন পূর্বাভাস গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেই দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী পেন্টাগন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পারমাণবিক সক্ষমতা: মার্কিন মূল্যায়নে দেখা গেছে, ১২ দিনের যুদ্ধের ফলে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো তছনছ হয়ে গেছে। তবে শুনানিতে গ্যাবার্ডের লিখিত বক্তব্য ও মৌখিক বক্তব্যের মধ্যে কিছুটা অসংগতি লক্ষ্য করা যায়, যা নিয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা প্রশ্ন তোলেন। অভ্যন্তরীণ বিতর্ক: ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সদ্য পদত্যাগকারী পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো 'অনিবার্য হুমকি' ছিল না। তবে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ইরানকে এখনও একটি 'তাৎক্ষণিক হুমকি' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সিনেটরদের প্রশ্নের জবাবে সিআইএ প্রধান জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিত গোয়েন্দা ব্রিফিং পেতেন এবং সেই আলোকেই সামরিক সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। তবে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুহূর্তে তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি।
"জন্ম থেকেই কিউবার নাম শুনে আসছি, এবার কোনো না কোনোভাবে আমরা কিউবা নিয়ে নেব।"— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই একটি বাক্যেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দান। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কিউবা দখলের এক প্রকার প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন তিনি। সংকটে কিউবা: অন্ধকারে ডুবছে দ্বীপরাষ্ট্র বর্তমানে কিউবা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎহীনতায় কিউবার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল জানিয়েছেন, গত তিন মাসে কোনো জ্বালানি তেল কিউবায় প্রবেশ করতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর সেখান থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় কিউবার পাওয়ার গ্রিডগুলো অচল হয়ে পড়েছে। সুর নরম থেকে চরম: ট্রাম্পের ৮ দিনের পরিবর্তন মাত্র আট দিন আগে গত ৯ই মার্চ ট্রাম্প কিউবার সংকট নিরসনে 'বন্ধুত্বপূর্ণ অধিগ্রহণে'র (Friendly Acquisition) প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৭ই মার্চ তার সুর সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা কিউবাকে স্বাধীন করতে পারি, অধিগ্রহণ করতে পারি বা যা খুশি করতে পারি। সত্যি বলতে, ওরা এখন অত্যন্ত দুর্বল একটি রাষ্ট্র।" ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: ২০০ বছরের আধিপত্যের লড়াই বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউবার প্রতি ট্রাম্পের এই মনোভাব কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি আমেরিকার দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। ১৯০২ সালে কিউবা নামমাত্র স্বাধীনতা পেলেও মার্কিন 'প্ল্যাট সংশোধনী'র মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বজায় রাখে ওয়াশিংটন। পরবর্তীতে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লব এবং চে গেভারার গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে কিউবা আমেরিকার প্রভাবমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলেও তা চিরস্থায়ী শত্রুতার জন্ম দেয়। ১৯৬১ সালের ব্যর্থ 'বে অফ পিগস' অভিযান থেকে শুরু করে বর্তমানের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—আমেরিকা সবসময়ই কিউবাকে একটি 'কমিউনিস্ট হুমকি' হিসেবে দেখে এসেছে। আদর্শগত যুদ্ধ ও মারকো রুবিও ফ্যাক্টর ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও, যিনি নিজে একজন কিউবান শরণার্থীর সন্তান, কিউবায় সরকার পরিবর্তনের কট্টর সমর্থক। ট্রাম্প এমনকি রুবিওকে কিউবার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিউবা এখন ট্রাম্পের কাছে একটি 'আদর্শগত যুদ্ধ' বা 'আইডিওলজিক্যাল ব্যাটল' হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেনেজুয়েলার পর কিউবা কি তবে আমেরিকার পরবর্তী লক্ষ্য? ট্রাম্পের এই 'অধিগ্রহণ' বার্তার পর লাতিন আমেরিকার রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র: বিবিসি।
ইরাকের আকাশসীমায় জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৬ মার্কিন সেনার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ডোভারে পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউস থেকে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে তিনি ডেলাওয়ারের ডোভোর বিমান ঘাঁটিতে রওনা হন। এই শোকাবহ যাত্রায় তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। গত সপ্তাহে পশ্চিম ইরাকে একটি নিয়মিত অভিযান চলাকালীন মার্কিন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোনো শত্রু পক্ষের হামলা বা নিজেদের ভুলবশত গুলিতে নয়, বরং এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল। নিহতদের মধ্যে তিনজনই ওহিও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকছেন ওহিও’র গভর্নর মাইক ডিওয়াইন ও তাঁর স্ত্রী। উল্লেখ্য যে, চলতি মাসেই কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত আরও ৬ সেনার মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেনাদের এই ‘ডিগনিফাইড ট্রান্সফার’ বা শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের এই উপস্থিতি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি তাঁর সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। বেইজিংয়ের এই অনীহার ফলে ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সংবাদ সংস্থা এপি (Associated Press) এবং বোস্টন হেরাল্ডের তথ্যমতে, ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। এই সংকটের সমাধানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনসহ অন্তত সাতটি দেশকে তাদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বেইজিং এই সামরিক জোটে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উল্টো সব পক্ষকে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা উদ্বেগের। আমরা সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাই।” তবে ট্রাম্পের সামরিক জোট বা যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে চীন কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাথে যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে হোয়াইট হাউস এখন বেশ চাপের মুখে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, চীন তাদের তেলের ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আমদানি করে, তাই এই পথ সচল রাখার দায়িত্ব চীনেরও। এমনকি চীনের সহায়তা না পেলে তিনি আগামী ৩১ মার্চ নির্ধারিত বেইজিং সফর স্থগিত করার হুমকিও দিয়েছিলেন। তাজা খবরে জানা গেছে, ওয়াশিংটন এবং বেইজিং উভয় পক্ষই এই মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় সফরটি পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে একমত হতে পারে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'দ্য এশিয়া গ্রুপ'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রেট ফেটারলি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যখন সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে, তখন কমান্ড-ইন-চীফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফর করা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কঠিন। অন্যদিকে, চীনও হয়তো কিছুটা সময় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বুঝতে চাইছে।” উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন এই সরাসরি সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ থাকায় এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি জ্বালানি সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তার প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ক্যারি প্রিজিন বোলার বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সরকার বর্তমানে একটি বিদেশি রাষ্ট্র অর্থাৎ ইসরায়েলের দ্বারা ‘অধিকৃত’ বা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্লোগান ‘মাগা’ (MAGA- মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) আন্দোলনকে তিনি ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোলার এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি এখন আর আমাদের প্রেসিডেন্টকে (ট্রাম্প) চিনতে পারছি না। আমার মনে হয় আমরা এখন একটি অধিকৃত জাতি। একটি বিদেশি রাষ্ট্র আমাদের সরকারকে দখল করে রেখেছে এবং আমরা দেখছি মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই বিদেশি শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন।” বোলার সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বারবার যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং মার্কিন নীতিনির্ধারণীতে তার প্রভাবই ইরান যুদ্ধের মূল কারণ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতানিয়াহু এখানে প্রায় আটবার এসেছেন। এটি লজ্জাজনক। আমরা কি করে একটি বিদেশি রাষ্ট্রকে আমাদের সরকার পরিচালনা করতে দিচ্ছি?” ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। সাধারণ মার্কিনীরা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং তারা মনে করছে ট্রাম্প তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বোলারের মতে, ট্রাম্প যে ‘সোয়াম্প’ বা দুর্নীতির আখড়া পরিষ্কার করার এবং বিদেশি যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মাসেই বোলারকে হোয়াইট হাউসের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার এই সাম্প্রতিক মন্তব্য ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের (MAGA base) মধ্যে বিদ্যমান বিভক্তিকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক জো কেন্টও ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং শুধুমাত্র ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী লবিংয়ের চাপেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরে যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল, বোলারের এই বক্তব্য তারই বহিঃপ্রকাশ।
জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের (ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার) পরিচালক জো কেন্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি পদত্যাগপত্রে ইরানে চলমান যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন এবং ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। নিজের পদত্যাগের ঘোষণা কেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা চিঠিতে দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “নিজের বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে আমি ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন দিতে পারি না। ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না। ইসরায়েল এবং তাদের প্রভাবশালী মার্কিন লবির চাপেই আমরা এই যুদ্ধে যুক্ত হয়েছি।” কেন্ট আরও উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রথম মেয়াদে যে নীতি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো তিনি সমর্থন করেন। তবে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বোঝা উচিত ছিল যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলো মূলত একটি ফাঁদ, যা আমেরিকান নাগরিকের জীবন ও দেশের সম্পদ ক্ষয় করেছে। তিনি বলেন, “আমার অভিজ্ঞতা ও ১১ বার যুদ্ধময়দানে দায়িত্ব পালন করা একজন সৈনিক হিসেবে আমি এমন এক যুদ্ধে প্রজন্মকে পাঠাতে পারি না, যা জনগণের কল্যাণে নয় এবং এতে জীবনের কোনো ন্যায্যতা নেই। আমি প্রার্থনা করি, প্রেসিডেন্ট আবার ভেবে দেখবেন আমরা ইরানে কী করছি এবং কাদের স্বার্থে করছি।” পদত্যাগপত্রে কেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন, “সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখন। আপনি চাইলে বর্তমান পথ থেকে সরে এসে আমাদের জাতির জন্য এক নতুন পথ তৈরি করতে পারেন, নতুবা আরও পতন ও বিশৃঙ্খলার দিকে দেশকে ঠেলে দিতে পারেন।” কেন্ট চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তার প্রশাসনে কাজ করা এবং দেশের সেবা করতে পারা ছিল তার জন্য সম্মানের বিষয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো জটিল অবস্থার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সাহায্যের আহ্বান করা হলেও, ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেবেন না। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এটি শুরু করিনি এবং আমরা কূটনৈতিক সমাধান চাই।” ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে, কিন্তু কোনো পরিবর্তন করা হবে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বলেছেন, “আমার নেতৃত্বের লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ স্বার্থ অটল রাখা। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য আমরা ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি, কিন্তু যুদ্ধে জড়ানো হবে না।” ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ও পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কিও একইভাবে জানিয়েছেন, তাদের দেশের নৌবাহিনী হরমুজে কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না। ইতালির একটি যুদ্ধজাহাজ যদিও ফ্রান্সের বিমানবাহী রণতরির সঙ্গে উপস্থিত, তবে কার্যক্রম কেবল পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সীমিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় নেতারা একটি দ্বিমুখী সংকটে রয়েছেন। যদি তারা কোনো পদক্ষেপ না নেন, তবে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া হলে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে পারে। ইউরোপীয় নেতাদের ওপর আরেকটি চাপ ট্রাম্পের অভিযোগের মাধ্যমে এসেছে যে, ন্যাটোর দেশগুলো প্রতিরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যয় করছে না। রোববার ট্রাম্প বলেন, “কোনো দেশ আমাদের এই ছোট প্রচেষ্টায় সাহায্য করবে না, সেটা দেখাটা বেশ মজার হবে।” বর্তমানে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানে ধ্বংসস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ ও বিমান বাহিনী হরমুজ প্রণালির বাইরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সীমাবদ্ধ।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার সময় হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, কিউবাকে ‘দখল’ করা তার জন্য অসম্ভব নয়, বরং এটি হতে পারে ‘একটি সম্মানের বিষয়’। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিছক আবেগপ্রসূত নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে কিউবা সংকটকে ব্যবহার করে ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। কিউবার অর্থনৈতিক অবস্থা এই হুমকিকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় দেশটি বিদ্যুৎ, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পড়েছে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘দুর্বল রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি চাইলে কিউবার ওপর ‘যেকোনো কিছু’ করতে পারেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে ‘দখল’ শব্দটি সরাসরি সামরিক অভিযান নির্দেশ করছে না। বরং এটি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সরকার পরিবর্তন বা যুক্তরাষ্ট্রপন্থী কাঠামো প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই কিউবার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা কিউবারকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ট্রাম্প প্রশাসন কিছু বক্তব্যে ‘ফ্রেন্ডলি টেকওভার’ বা বন্ধুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথাও উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রপন্থী অর্থনৈতিক কাঠামো বা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। মূলত এটি একটি কৌশলগত চাপ সৃষ্টির ভাষা, যার লক্ষ্য হলো আলোচনায় সুবিধা নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা। ইরান যুদ্ধ ও কিউবা সংকট, যদিও দুটি ভিন্ন ইস্যু, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি স্পষ্ট: একাধিক অঞ্চলে একযোগে চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা এবং বৈশ্বিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনার জবাবে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (Taoiseach) মাইকেল মার্টিন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক বৈঠকে ট্রাম্প যখন স্টারমারকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন, তখন তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন আইরিশ নেতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, হরমুজ প্রণালীতে মাইনসুইপার না পাঠানো বা ইরান যুদ্ধে পর্যাপ্ত সহায়তা না দিয়ে স্টারমার তাকে হতাশ করেছেন। ট্রাম্প বিদ্রূপ করে বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত কিয়ার স্টারমার উইনস্টন চার্চিল নন। তিনি হয়তো চমৎকার একজন মানুষ, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে তিনি ফলাফল দেখাতে পারছেন না।" এ সময় যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতি নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সাথে সাথে দ্বিমত পোষণ করেন মাইকেল মার্টিন। তিনি স্টারমারের পক্ষ নিয়ে বলেন, "ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যকার ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে আমাদের মধ্যে অনেক সমস্যা থাকলেও আমরা তা সমাধান করেছি।" তিনি আরও যোগ করেন, "কিয়ার স্টারমার আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের সম্পর্ক উন্নয়নে অভাবনীয় কাজ করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি তিনি একজন অত্যন্ত আন্তরিক ও নির্ভরযোগ্য মানুষ, যার সাথে মিলেমিশে কাজ করার সামর্থ্য আপনার (ট্রাম্পের) আছে।" মার্টিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাণিজ্য সংঘাতের মতো অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়েও ইউরোপ ও আমেরিকা দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।
আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাবেক গোয়েন্দা পরিচালক জো কেন্টের পদত্যাগকে বেশ অবজ্ঞার সুরেই উড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, কেন্ট নিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ট কঠোর ছিলেন না এবং ইরান যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি নয়—কেন্টের এই মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভুল। তবে কেন্টের এই পদত্যাগ ও পরবর্তী সমালোচনাকে সাধারণ কোনো আমলাতান্ত্রিক বিদ্রোহ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ বাহিনীর হয়ে একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ সেনাসদস্য ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক এবং 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' (MAGA) আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। কেন্টের মূল অভিযোগটি বেশ বিস্ফোরক: তার দাবি, ইসরায়েলি লবিস্টরা ভুল তথ্য দিয়ে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্ররোচিত করেছে। ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী মার্কিন নাগরিকদের কাছে কেন্ট একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হওয়ায়, তার এই 'ড্যামিং স্টেটমেন্ট' বা গুরুতর অভিযোগ ট্রাম্পের নিজস্ব ভোটব্যাংকে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটে যোগ দিচ্ছে না জার্মানি ও পোল্যান্ড। ইরান ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনার মাঝে পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধে তার দেশ কোনো ধরনের সেনা মোতায়েন করবে না। সরকারি এক বৈঠকের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টাস্ক জানান, ইরান সীমান্তে কোনো অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা পোল্যান্ডের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পোল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা সন্দেহের অবকাশ নেই। পোল্যান্ড বর্তমানে ইউক্রেন সীমান্তের যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকেই বেশি মনোযোগী। টাস্ক উল্লেখ করেন, পোল্যান্ডের স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী বর্তমানে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। তাই দূরবর্তী কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়ারশ। অন্যদিকে, জার্মান চ্যান্সেলরও একই সুরে কথা বলেছেন। তার মতে, চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই। বরং আলোচনার মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
সম্ভাব্য বেইজিং সফরের আগে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে চীনের প্রতি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বেইজিং যদি প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে সহায়তা না করে, তবে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হতে পারে। সোমবার (১৬ মার্চ) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফর এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক নিয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, চীন–মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নির্দেশকের ভূমিকা পালন করে। তবে ন্যাটো বা চীনের ওপর ট্রাম্পের চাপ প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে লিন জিয়ান বলেন, বর্তমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে সহযোগিতা না করে, তাহলে তাঁর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক স্থগিত হতে পারে। এমনকি এ অনুরোধ উপেক্ষা করা হলে তা চীনের মিত্র এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ভবিষ্যতের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করতে পারেন। তবে বেইজিং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের তারিখ নিশ্চিত করেনি। এদিকে সম্ভাব্য এই সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে প্যারিসে দুই দেশের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য ট্রাম্প–শি বৈঠকে বাণিজ্য ইস্যুই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক ক্ষমতা খর্ব করতে নতুন করে ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। হাউজ মাইনোরিটি লিডার হাকিম জেফরিস আজ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আগামী সোমবার অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হবে। জেফরিস জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের একটি প্রস্তাব অল্প ভোটের ব্যবধানে পাস হতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গতবার যে চারজন ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এখন এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমএস নাউ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেফরিস বলেন, "আমরা আগের বার লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও এবার হাল ছাড়ছি না। আমাদের বেশ কয়েকজন সহকর্মী জানিয়েছেন যে পরবর্তী সময়ে এই প্রস্তাব আনা হলে তারা এটি সমর্থনে প্রস্তুত।" আগামী সোমবার হাউস অধিবেশনে ফিরলে এই ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি ভোটাভুটির জন্য পেশ করা হবে।
জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ জানান, ইরান সরকারের নতুন এই অধ্যায়কে ওয়াশিংটন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে তিনি এই নতুন নেতাকে নিয়ে সন্তুষ্ট নন। অনেক সূত্রের মতে মোজতবা খামেনি একজন চরমপন্থী ধর্মীয় নেতা, তবে তিনি আসলেই ক্ষমতায় আছেন কি না তা দেখার বিষয়।” ওয়াল্টজ আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “এই মুহূর্তে তিনি আদৌ জীবিত কি না, সেটিই অস্পষ্ট। আর বেঁচে থাকলেও দেশটির ওপর তার কতটুকু নিয়ন্ত্রণ আছে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।” এর আগে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “আমি জানি না তিনি বেঁচে আছেন কি না। এখন পর্যন্ত কেউ তাকে জনসমক্ষে দেখাতে পারেনি।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে সৃষ্ট এই অস্থিতিশীলতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহাড়ায় জাপানি নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি এক বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রোববার জাপানের সরকারি সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপান, চীন, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিনির্ধারক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানান, আইনি দিক থেকে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে না দিলেও, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জাহাজ পাঠানো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সামরিক হস্তক্ষেপের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণের জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা জাপানের নেই। আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বৈঠকের আগে এই দাবি টোকিওকে বেশ চাপে ফেলেছে। শুল্ক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনার কথা থাকলেও এখন ট্রাম্পের এই সামরিক দাবিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোবায়াশি আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে জাপানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার উত্তেজনা এখন আর কেবল বাগযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওই পথে মিত্রদেশগুলোকে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই আহ্বানে মিত্রদের পক্ষ থেকে এখনো মেলেনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, বরং প্রতিটি দেশই হাঁটছে সতর্ক পথে। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আমদানি করে, সেই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে সরাসরি এই নিরাপত্তা মিশনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে কেবল সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়াটা মিত্রদের জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, দেশটির সংবিধান অনুযায়ী বিদেশের মাটিতে বা জলসীমায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা আইনিভাবে অত্যন্ত দুরূহ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জাপানি সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির অস্তিত্ব সরাসরি হুমকিতে না পড়লে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে না। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এখনই কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ফ্রান্স এই অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল জোট গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, আর যুক্তরাজ্য তাদের মিত্রদের সাথে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইরানও পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পাল্টাপাল্টি হিসেবে রোববার ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। যদিও সৌদি আরবের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করার খবর পাওয়া গেছে, তবে তেহরান সেই ড্রোনগুলোর সাথে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন এক অস্থির সময় পার হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের হাতে অবরুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী। এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যত অচল করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে সুরক্ষা দিতে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছেন। তবে এই পরিকল্পনাকে 'ভয়াবহ বিপজ্জনক এক মিশন' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক। তার মতে, এই সরু জলপথের উত্তর দিকে ইরানের শক্তিশালী অবস্থান থাকায় তারা সহজেই ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাতে পারে। প্রণালীটি এতটাই সংকীর্ণ যে, উপকূল থেকে হামলা চালানো হলে মার্কিন বা অন্য দেশের যুদ্ধজাহাজের পক্ষে তা ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্প সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছেন যে, তিনি আশা করছেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোও এই পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকার সাথে যোগ দেবে। যদিও কোন কোন দেশ প্রকৃতপক্ষে রাজি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ১৭টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আপাতত কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেয়া এক একান্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, ইরান একটি চুক্তিতে আসার জন্য মুখিয়ে থাকলেও তিনি নিজে এই মুহূর্তে তা করতে ইচ্ছুক নন। বর্তমান শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট সন্তোষজনক নয় বলে মনে করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, যেকোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হতে হবে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি পরিত্যাগ করা। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বেশ কিছু দেশ এই লজিস্টিক কার্যক্রমে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেননি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে ইরানের তেলের বাজারের ওপর হামলা প্রসঙ্গে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জ্বালানি রপ্তানির মূল কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। আক্রমণাত্মক মেজাজে তিনি আরও বলেন, কেবল আনন্দের ছলে সেখানে আরও কয়েকবার হামলা চালানোর সক্ষমতা ও মানসিকতা তার প্রশাসনের রয়েছে। বিশ্বজুড়ে তেলের ক্রমবর্ধমান বাজারমূল্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্প তা উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, বর্তমানে বিশ্বে তেল ও গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার সামান্য বিঘ্ন খুব দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূত্র: বিবিসি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস