সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব রাজনীতি

জাইনবাদের পতন ও নৈতিক বিপর্যয়: গাজা যুদ্ধের পর এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার উদয়

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৫, ২০২৬ ২১:১১
ছবি - সংগৃহিত
ছবি - সংগৃহিত

 

গাজায় চলমান নির্মম সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয় ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সাজানো নৈতিক ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এবং জাইনবাদের পতনের ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে দিয়েছে।

 

দশকজুড়ে ইসরায়েল নিজেকে নির্যাতিতদের আশ্রয়স্থল এবং মরুদ্যানে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে প্রচার করে আসলেও গাজার ধ্বংসস্তূপ সেই মিথকে আজ আক্ষরিক অর্থেই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে।

 

প্রভাবশালী সাংবাদিক ক্রিস হেজেস বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে পশ্চিমারা ইসরায়েলকে জাতিগত নিধন ও দখলের অবাধ লাইসেন্স দিয়েছে, যা আজ এক চরম ও অপূরণীয় নৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।

 

ইসরায়েলি সাংবাদিক গিডিয়ন লেভিও তার লেখনীতে স্বীকার করেছেন যে তাদের দেশ আজ পথ হারিয়েছে এবং এই দখলদারিত্ব কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয় বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ট্র্যাজেডি।

 

গাজার প্রতিটি শিশুর প্রাণহানি এবং প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল ইসরায়েলি প্রচারযন্ত্রের সাজানো গল্পগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছে যা কোনো তুখোড় কূটনীতিক আর কোনোভাবেই সংস্কার করতে পারবে না।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়।

 

জাতিসংঘের ‘লিস্ট অব শেম’ বা কলঙ্কিত তালিকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর তাদের অপরাধকে বিন্দুমাত্র আড়াল করছে না।

 

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার তরুণ প্রজন্ম এখন তাদের স্মার্টফোনে সরাসরি যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখছে এবং তারা পূর্ববর্তী প্রজন্মের মতো কোনো প্রকার বংশগত অপরাধবোধ বা নৈতিক চাপ অনুভব করছে না।

 

লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক এবং প্যারিস থেকে জাকার্তা—বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আজ ফিলিস্তিনের পক্ষে যে জনজোয়ার তৈরি হয়েছে তা মূলত একটি শোষক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআদালতের এক অমোঘ রায়।

 

জাইনবাদ এতদিন পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর যে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল তা এখন শেষলগ্নে এসে পৌঁছেছে এবং ইহুদিবিদ্বেষের তকমা দিয়ে সত্যকে আড়াল করার পুরোনো দিনগুলো চিরতরে ফুরিয়ে গেছে।

 

মার্কিন কংগ্রেসের মতো শক্তিশালী দুর্গগুলোতেও এখন ফিলিস্তিনের পক্ষে কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে যা কয়েক বছর আগে কল্পনা করাও অসম্ভব ছিল এবং এটি জাইনবাদের চরম পরাজয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যখন আনুষ্ঠানিকভাবে একে একটি সম্ভাব্য গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে তখন ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি এখন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

 

 

একটি রাষ্ট্র যখন তার নিজের হাতে গড়া মিথকে নিজেই ধ্বংস করে দেয় তখন ইতিহাসের পাতায় তার বিচার হয় অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে এবং ইসরায়েল এখন সেই চরম মুহূর্তেরই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

জাইনবাদ আজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে সে নিজের হাতেই নিজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায় আজ সেই ধ্বংসযজ্ঞের জীবন্ত ও এক নির্বাক সাক্ষী হয়ে আছে।

 

ইতিহাসের এক ধৈর্যশীল হিসাবরক্ষক আজ তার খাতা খুলে বসেছে এবং সেখানে ইসরায়েলের প্রতিটি পদক্ষেপের চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে যা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন সমীকরণ নির্ধারণ করবে।

 

জাইনবাদের পতন, গাজা যুদ্ধ ২০২৬, নেতানিয়াহু অপরাধ, ফিলিস্তিন সংহতি, আন্তর্জাতিক আদালত, বিশ্ব রাজনীতি, ইসরায়েল সংকট, জাইনবাদ বিতর্ক, গাজা গণহত্যা, মানবিক বিপর্যয়

 

এই আর্টিকেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জাইনবাদের নৈতিক পতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব রাজনীতি

View more
এল-সাঈদের পক্ষে প্রচারে নামছেন বারাক ওবামা
এল-সাঈদের পক্ষে প্রচারে নামছেন বারাক ওবামা, ডেট্রয়েটে ২৪ অক্টোবর সমাবেশ

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিশিগান সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সাঈদের পক্ষে প্রচারে নামছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে এল-সাঈদের সঙ্গে একটি নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাটদের প্রচারে ওবামার অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ওবামার ডেট্রয়েট সফরটি এমন দিনে অনুষ্ঠিত হবে, যেদিন মিশিগানে আগাম সরাসরি ভোট গ্রহণ শুরু হবে। ফলে ভোটের শেষ পর্যায়ে সমর্থকদের কেন্দ্রে আনতে ডেমোক্র্যাটদের প্রচারে তার উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ডেট্রয়েটের কর্মসূচির নির্দিষ্ট স্থান ও সময় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   আগস্টে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এল-সাঈদ। ৪ আগস্টের সেই প্রাইমারি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত অল্প ব্যবধানে জয় পান তিনি। সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স।   এল-সাঈদের প্রাইমারি জয়ের পর তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওবামা। এবার নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ শেষ কয়েক সপ্তাহে সরাসরি মিশিগানে গিয়ে তার পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে যাচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। ওবামা সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের সমর্থনে আরও সক্রিয় হয়েছেন।   এল-সাঈদের প্রচারে এর আগে যোগ দিয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। গত ২২ সেপ্টেম্বর ডেট্রয়েটে মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে এল-সাঈদের সঙ্গে অংশ নেন তিনি। সেখানে হ্যারিস প্রকাশ্যে এল-সাঈদের প্রতি সমর্থন জানান এবং মিশিগানের ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।   মিশিগানের এই সিনেট নির্বাচনকে জাতীয় রাজনীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আসনটি উন্মুক্ত হয়েছে। ফলে দুই দলই আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে বা নিতে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, সেই সমীকরণেও মিশিগানের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এল-সাঈদ এর আগে ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবারের সিনেট নির্বাচনে প্রাইমারিতে তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার একাধিক পরিচিত নেতা।   অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স মিশিগান থেকে সাবেক মার্কিন কংগ্রেসম্যান। ফলে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে দুই পরিচিত রাজনৈতিক মুখের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপেও মিশিগানের সিনেট লড়াইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা নির্বাচনের শেষ কয়েক সপ্তাহে দুই দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়িয়েছে।   ওবামার ২৪ অক্টোবরের কর্মসূচিতে মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর প্রার্থী জসলিন বেনসনেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে ডেট্রয়েটের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে সাবেক প্রেসিডেন্টের উপস্থিতির মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের ভোটারদের সংগঠিত করার পাশাপাশি প্রাইমারির পর দলের বিভিন্ন অংশকে এল-সাঈদের পক্ষে একত্রিত করার চেষ্টা করবে।   মিশিগানে আগাম ভোট শুরু হওয়ার দিনই ওবামার এই প্রচার কর্মসূচি হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারের শেষ অধ্যায়ে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন নজর থাকবে, ডেট্রয়েটে তার উপস্থিতি এল-সাঈদের প্রচারে কতটা গতি আনতে পারে এবং ৩ নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনের ফল কোন দিকে যায়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ০:৩৭
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাবকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছেন মানুষ

লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীন, বাড়ছে জনসমর্থন

ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে বাণিজ্য, শুল্ক ও পাকিস্তান ইস্যুতে বাড়ছে মতপার্থক্য

সন্ত্রা সবাদ থেকে শুল্ক ইস্যুতে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করছে মোদির ভারত

আই এ সের দখলের আগে দেইর এজ-জোর জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে প্রাচীন প্রত্নবস্তু

আই এ সের হাত থেকে ৩০ হাজার প্রাচীন নিদর্শন বাঁচাতে জীবন বাজি রাখেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা

হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প
ইরানকে খোঁচা দিয়ে হরমুজ প্রণালির নতুন নাম দিলেন ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। এবার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নাম নিজের নামে বদলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প একটি মানচিত্র শেয়ার করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। তাঁর প্রস্তাবিত নাম—‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’।   ট্রাম্পের এই পোস্ট আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই। পোস্টে তিনি দাবি করেন, জলপথটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপর প্রশ্ন তোলেন, হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করা উচিত কি না। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে থাকা মানচিত্রে নতুন নামটি স্পষ্টভাবে দেখানো হয়।   এর আগে আগস্টেও ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন। একই সময়ে তিনি জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। তবে হরমুজ প্রণালি কোনো একক দেশের মালিকানাধীন নয়। এটি ইরান ও ওমানের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।   হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব মূলত এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এই সরু জলপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে যায়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এক সপ্তাহান্তে মাত্র ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করে, যেখানে সংঘাতের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। কিছু জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে স্বয়ংক্রিয় অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখেও চলাচল করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগেরও চেষ্টা চলছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে তারা কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে ইরানি প্রতিনিধিরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন।   তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামটি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে হরমুজ প্রণালির সরকারি নাম হয়ে যায়নি। কোনো জলপথের নাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সরকারি ব্যবহারে পরিবর্তন আনা হলেও তা অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একই নাম ব্যবহার করতে বাধ্য করে না। হরমুজ প্রণালি বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত নামেই রয়েছে।   ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইরানের প্রতি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তবে সরাসরি নাম পরিবর্তনের চেয়ে তাঁর পোস্টে মূলত জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে।   ফলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামটি এখনই হরমুজ প্রণালির আনুষ্ঠানিক নতুন নাম নয়; এটি ট্রাম্পের দেওয়া একটি প্রস্তাব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা নাম। তবে হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলে বাধা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে তাঁর এই পোস্ট নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৭:৩
জাতিসংঘে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন নেতানিয়াহু।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান হারবে: জাতিসংঘে নেতানিয়াহু

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে আগ্রহ

শি-ট্রাম্প মুখোমুখি, বৈঠকের বাইরেও যে প্রশ্নে নজর বিশ্বের

বিশ্বের চোখ আজ ট্রাম্পের দিকে

বিশ্বের চোখ আজ ট্রাম্পের দিকে: জাতিসংঘের মঞ্চে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কী বার্তা দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে এআই-নির্মিত ভিডিও
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তবে রয়টার্সের যাচাইয়ে ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে নিশ্চিত হয়েছে এবং খার্গ দ্বীপে এমন হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  রোববার ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, “খার্গ দ্বীপ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে”। ভিডিওতে দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে ব্যাপক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরও সেখানে কোনো হামলার প্রমাণ মেলেনি।    ইরানের সরকারি ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্ড ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে বলেছেন, খার্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং তেল কার্যক্রম চালু আছে।  খার্গ দ্বীপ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ফলে সেখানে সত্যিকারের হামলা হলে ইরানের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।    ট্রাম্পের এই পোস্ট এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। এরপর ইরান জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন অবস্থানে হামলার কথা জানায়। জর্ডান কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি অস্বীকার করেছে।    এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এআই-নির্মিত যুদ্ধের ভিডিও নতুন করে তথ্য বিভ্রান্তি ও যুদ্ধকালীন ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৫:৪২
শুভেন্দু অধিকারী

‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু

গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী

গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

0 Comments