বিশ্ব রাজনীতি

ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্টে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিলের আবেদন: নজিরবিহীন আইনি লড়াই

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ছবি - সংগৃহিত

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিলের দাবিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে একটি উচ্চপর্যায়ের রিট পিটিশন দাখিল করেছেন দেশটির একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য।

 

ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা গিলাদ কারিভ সোমবার এই আবেদনটি জমা দেন যেখানে তিনি আইনটিকে বর্ণবাদী এবং চরমপন্থী বলে অভিহিত করেছেন যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে।

 

জিলাত ইনস্টিটিউট এবং রাব্বিস ফর হিউম্যান রাইটস নামক মানবাধিকার সংগঠনের সহযোগিতায় এই পিটিশনটি দাখিল করা হয়েছে যা বর্তমানে দেশটির বিচার বিভাগে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

 

গিলাদ কারিভ জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী ওতজমা ইহুদিত পার্টিকে এই জনতোষণমূলক ও জাতীয়তাবাদী প্রচারণার জন্য কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন এবং একে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি আরও উগ্র ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং আরিয়ে দেরির ধর্মীয় শাশ পার্টি অর্থের বিনিময়ে সব মূল্যবোধ বিক্রি করছে বলে তিনি কড়া মন্তব্য করেছেন।

 

আবেদনকারী দাবি করেছেন যে এই আইনটি কার্যকর হলে তা কেবল আন্তর্জাতিক আইনেই নয় বরং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বা আইডিএফ এবং কারা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের জীবনকেও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

 

ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সর্বোচ্চ বিচারিক কর্তৃপক্ষ এবং তারা যেকোনো আইন যদি দেশের মৌলিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তবে তা সরাসরি বাতিল করার অসীম ক্ষমতা রাখে যা এখন সময়ের দাবি।

 

আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মৃত্যুদণ্ড আইনটি আপাতত কার্যকর করা সম্ভব হবে না যা ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য এক সাময়িক স্বস্তি।

 

এর আগে গত ৩১ মার্চ মানবাধিকার সংগঠন আদলাহ এবং আরব সংসদ সদস্যরাও এই আইনের বিরুদ্ধে পৃথক রিট দাখিল করেছিলেন যা নিয়ে আদালত সরকারকে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

 

এই আইনটি মূলত সেইসব ফিলিস্তিনি বন্দিদের লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলিদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে এবং এতে অন্তত ১১৭ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন।

 

বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে ৯ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন যাদের মধ্যে ৩৫০ জন শিশু এবং ৭৩ জন নারী চরম মানবেতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

 

কারাগারে বন্দিদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, অনাহার এবং চিকিৎসার অবহেলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যা নিয়ে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

 

গিলাদ কারিভ আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকারের আইনি উপদেষ্টারাও আদালতের কাছে এই আইনের বিপক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন যাতে মানবতার স্বার্থে এই কালাকানুনটি চিরতরে বাতিল করা সম্ভব হয়।

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে ইসরায়েলের ভেতরে এই আইনি লড়াই বেইজিং ও মস্কোর মতো পরাশক্তিদের নজর কেড়েছে যারা শুরু থেকেই এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

 

সব মিলিয়ে ইসরায়েলের এই নতুন আইন কেবল ফিলিস্তিনিদের নয় বরং দেশটির নিজস্ব বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকেও এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বিশ্ব রাজনীতি

View more
ছবি - সংগৃহিত
জাইনবাদের পতন ও নৈতিক বিপর্যয়: গাজা যুদ্ধের পর এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার উদয়

  গাজায় চলমান নির্মম সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয় ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সাজানো নৈতিক ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এবং জাইনবাদের পতনের ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে দিয়েছে।   দশকজুড়ে ইসরায়েল নিজেকে নির্যাতিতদের আশ্রয়স্থল এবং মরুদ্যানে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে প্রচার করে আসলেও গাজার ধ্বংসস্তূপ সেই মিথকে আজ আক্ষরিক অর্থেই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে।   প্রভাবশালী সাংবাদিক ক্রিস হেজেস বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে পশ্চিমারা ইসরায়েলকে জাতিগত নিধন ও দখলের অবাধ লাইসেন্স দিয়েছে, যা আজ এক চরম ও অপূরণীয় নৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।   ইসরায়েলি সাংবাদিক গিডিয়ন লেভিও তার লেখনীতে স্বীকার করেছেন যে তাদের দেশ আজ পথ হারিয়েছে এবং এই দখলদারিত্ব কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয় বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ট্র্যাজেডি।   গাজার প্রতিটি শিশুর প্রাণহানি এবং প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল ইসরায়েলি প্রচারযন্ত্রের সাজানো গল্পগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছে যা কোনো তুখোড় কূটনীতিক আর কোনোভাবেই সংস্কার করতে পারবে না।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়।   জাতিসংঘের ‘লিস্ট অব শেম’ বা কলঙ্কিত তালিকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর তাদের অপরাধকে বিন্দুমাত্র আড়াল করছে না।   ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার তরুণ প্রজন্ম এখন তাদের স্মার্টফোনে সরাসরি যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখছে এবং তারা পূর্ববর্তী প্রজন্মের মতো কোনো প্রকার বংশগত অপরাধবোধ বা নৈতিক চাপ অনুভব করছে না।   লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক এবং প্যারিস থেকে জাকার্তা—বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আজ ফিলিস্তিনের পক্ষে যে জনজোয়ার তৈরি হয়েছে তা মূলত একটি শোষক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআদালতের এক অমোঘ রায়।   জাইনবাদ এতদিন পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর যে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল তা এখন শেষলগ্নে এসে পৌঁছেছে এবং ইহুদিবিদ্বেষের তকমা দিয়ে সত্যকে আড়াল করার পুরোনো দিনগুলো চিরতরে ফুরিয়ে গেছে।   মার্কিন কংগ্রেসের মতো শক্তিশালী দুর্গগুলোতেও এখন ফিলিস্তিনের পক্ষে কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে যা কয়েক বছর আগে কল্পনা করাও অসম্ভব ছিল এবং এটি জাইনবাদের চরম পরাজয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।   আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যখন আনুষ্ঠানিকভাবে একে একটি সম্ভাব্য গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে তখন ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি এখন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।     একটি রাষ্ট্র যখন তার নিজের হাতে গড়া মিথকে নিজেই ধ্বংস করে দেয় তখন ইতিহাসের পাতায় তার বিচার হয় অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে এবং ইসরায়েল এখন সেই চরম মুহূর্তেরই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। জাইনবাদ আজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে সে নিজের হাতেই নিজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায় আজ সেই ধ্বংসযজ্ঞের জীবন্ত ও এক নির্বাক সাক্ষী হয়ে আছে।   ইতিহাসের এক ধৈর্যশীল হিসাবরক্ষক আজ তার খাতা খুলে বসেছে এবং সেখানে ইসরায়েলের প্রতিটি পদক্ষেপের চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে যা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন সমীকরণ নির্ধারণ করবে।   জাইনবাদের পতন, গাজা যুদ্ধ ২০২৬, নেতানিয়াহু অপরাধ, ফিলিস্তিন সংহতি, আন্তর্জাতিক আদালত, বিশ্ব রাজনীতি, ইসরায়েল সংকট, জাইনবাদ বিতর্ক, গাজা গণহত্যা, মানবিক বিপর্যয়   এই আর্টিকেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জাইনবাদের নৈতিক পতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্টে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিলের আবেদন: নজিরবিহীন আইনি লড়াই

আলোচনার টেবিলে ইরানই আপাতত এগিয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা । ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ নয়, শান্তির পথ: যেভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি টানা যেতে পারে- ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপরেখা

ছবি - সংগৃহিত

'ইরানের শক্তি শেষ' - ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরেই ইসরায়েলে বড় হামলা

ছবি - সংগৃহিত
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এবার ইরানে স্প্লিন্টার ছাড়া গ্রেনেড ব্যাবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র

ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এই প্রথম সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির এক বিধ্বংসী হ্যান্ড গ্রেনেড নিজেদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করল মার্কিন সেনাবাহিনী। প্লাস্টিক বডির এই এম-১১১ গ্রেনেডটি মূলত প্রচণ্ড বায়ুচাপ বা শক ওয়েভের মাধ্যমে শত্রুকে মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে সক্ষম।   প্রথাগত গ্রেনেডগুলোর মতো এটি লোহার টুকরো বা স্প্লিন্টার ছড়িয়ে শত্রু মারে না। এর পরিবর্তে এটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে এমন এক বায়বীয় তরঙ্গ তৈরি করে, যা মানুষের ফুসফুস ও কানের পর্দা মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন করে দেয়।   দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর মার্কিন সামরিক বাহিনী এই প্রাণঘাতী অস্ত্রটি সরাসরি যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে ১৯৬৮ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সর্বশেষ নতুন প্রযুক্তির গ্রেনেড ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।   বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর বা ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শত্রুদের দমনে এই গ্রেনেডটি হবে মার্কিন সৈন্যদের প্রধান অস্ত্র। এর প্লাস্টিক বডি বিস্ফোরণের সময় বাষ্পীভূত হয়ে যায়, ফলে আশেপাশের দেয়াল বা সাধারণ মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি কমে।   আগের এম-৬৭ গ্রেনেডগুলো বিস্ফোরণের পর চারদিকে লোহার টুকরো ছড়িয়ে দিত, যা অনেক সময় দেয়াল ভেদ করে নিজেদের সৈন্য বা সাধারণ মানুষের প্রাণহানির কারণ হতো। নতুন এই গ্রেনেড সেই ঝুঁকি দূর করে কেবল নির্দিষ্ট কক্ষের শত্রুদের ধ্বংস করবে।   মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই গ্রেনেডের শক ওয়েভ দেয়াল বা আসবাবপত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শত্রুকেও রেহাই দেবে না। প্রচণ্ড চাপের এই ঢেউ মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে সংকুচিত ও প্রসারিত করে তাৎক্ষণিক মৃত্যু নিশ্চিত করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রচণ্ড বায়ুচাপ মানুষের কানের পর্দা, ফুসফুস, চোখ এবং পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে সক্ষম। এমনকি বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঢেউ মানুষের মস্তিস্কে আঘাত করে অঙ্গহানি পর্যন্ত ঘটাতে পারে বলে জানানো হয়েছে।   নিউ জার্সির পিকাতিনি আর্সেনালে তৈরি এই অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রটি মূলত ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করা হয়েছে। শহর অঞ্চলে ঘরবাড়ি দখলের লড়াইয়ে এটি সৈন্যদের জন্য এক নতুন গেম চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।   পুরনো এম-৩এ২ গ্রেনেডটি সত্তরের দশকে বাতিল করা হয়েছিল কারণ সেটিতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই শূন্যতা পূরণে দীর্ঘ সময় পর এই নিরাপদ কিন্তু শক্তিশালী প্লাস্টিক গ্রেনেডটি অন্তর্ভুক্ত করা হলো।   তবে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, পুরনো এম-৬৭ ফ্র্যাগমেন্টেশন গ্রেনেডগুলো এখনই পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। খোলা ময়দানে শত্রুর ওপর মারণাঘাত হানতে সেগুলো আগের মতোই ব্যবহার করা হবে, আর ঘর পরিষ্কারের অভিযানে ব্যবহৃত হবে নতুন এম-১১১।   নতুন এই গ্রেনেডে অত্যন্ত শক্তিশালী আরডিএক্স বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, যা ছোট আকৃতির হলেও বিশাল ধ্বংসক্ষমতা সম্পন্ন। হাতের তালুর সমান এই সিলিন্ডার আকৃতির অস্ত্রটি সহজেই বহনযোগ্য এবং ব্যবহার করাও অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভুল।   মার্কিন মেরিন কোরও একই ধরনের প্রযুক্তি সম্পন্ন এম-২১ গ্রেনেড সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা নরওয়ের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। আধুনিক যুদ্ধের কৌশল বদলে যাওয়ার সাথে সাথে অস্ত্রের ধরণও যে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে, এটি তারই একটি প্রমাণ।   পেন্টাগন মনে করছে, এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন যুদ্ধের ময়দানে লক্ষ্যভেদ নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ও ঘরের ভেতরে যুদ্ধের সময় নিজেদের সৈন্যদের জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।   ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিখ্যাত ‘পাইনঅ্যাপল’ গ্রেনেড থেকে শুরু করে আজকের এই প্লাস্টিক গ্রেনেড পর্যন্ত দীর্ঘ বিবর্তন ঘটেছে। প্রযুক্তির এই জয়যাত্রা মার্কিন সামরিক শক্তিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   ভবিষ্যতে এই গ্রেনেডটি কেবল মার্কিনিদের নয়, বরং নেটো জোটভুক্ত মিত্র দেশগুলোর অস্ত্রাগারেও জায়গা করে নিতে পারে। একুশ শতকের আধুনিক যুদ্ধে এ ধরনের স্মার্ট মারণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা এখন সবচাইতে বেশি বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সামরিক মহল।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি : চীনের গোপন পরমাণু প্রকল্পের রোমহর্ষক তথ্য ফাঁস

ছবি - সংগৃহিত

যুদ্ধ চলবে - এমন ঘোষণায় তেলের দাম বাড়লো আরো ১০ শতাংশ

ছবি - সংগৃহিত

ইরান যুদ্ধ থামাতে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: আসছে বড় ঘোষণা

ছবি - সংগৃহিত
মার্কিন দূতাবাসে হামলার তথ্য দিলেই ৩০ লাখ ডলার পুরস্কারের ঘোষণা ওয়াশিংটনের

ইরাকে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার পরিকল্পনাকারীদের ধরিয়ে দিতে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ওয়াশিংটনের 'রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস' বা ন্যায়বিচারের জন্য পুরস্কার কর্মসূচির আওতায় বুধবার এই বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়। মূলত বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস এবং এরবিল কনস্যুলেটে বারবার হামলার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা এই সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে সঠিক তথ্য দেবেন, তাদের কেবল অর্থই দেওয়া হবে না, বরং প্রয়োজনে অন্য দেশে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।   সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে অবস্থিত আমেরিকান কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দফায় দফায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে বাগদাদের কূটনৈতিক সহায়তা কেন্দ্রসহ বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত দূতাবাসে হামলা বন্ধে বিশ্বস্ত তথ্য প্রদানকারীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং পরিচয় গোপন রাখা হবে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের জেরেই ইরাকে এই হামলাগুলো তীব্রতর হয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।   ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা ইরাক ও জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।   মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অন্তত ২৩টি সফল সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে। এসব অভিযানে আমেরিকান ঘাঁটিগুলোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।   মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, স্থানীয় তথ্যদাতাদের সহায়তা ছাড়া এই গোপন হামলাকারীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। তাই সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতেই এই বিশাল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।   ওয়াশিংটন মনে করে, কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই হামলাকারীদের বিচারে সোপর্দ করতে তারা সব ধরনের কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা শক্তি ব্যবহার করতে বদ্ধপরিকর বলে সংবাদে প্রকাশ পেয়েছে।   যুদ্ধের এই ডামাডোলে ইরাকের সাধারণ নাগরিকরাও চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পুরস্কারের এই ঘোষণা হামলাকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করবে এবং গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পেন্টাগন।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন এক উত্তপ্ত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেখানে পুরস্কারের ঘোষণা এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগ—উভয় পথেই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।   বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই পুরস্কারের ঘোষণাটি ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত অংশ। এতে করে সাধারণ মানুষ ও গোয়েন্দাদের মধ্যে সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।   ইরাকের মাটিতে মার্কিন বিরোধী মনোভাব বাড়লেও ওয়াশিংটন তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাটি তারই একটি অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন।   আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আগেই নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হবে এবং দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা চূর্ণ করে তেল আবিবে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি - সংগৃহিত

ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ইসরায়েলি আইনের তীব্র নিন্দা জানাল পোল্যান্ড

ছবি - সংগৃহিত

গাজায় ত্রাণকর্মী নিহত: ইসরায়েলের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চাইল ব্রিটেন

0 Comments