আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এবং তার দাসদের ইতিহাস সংরক্ষণে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ফেডারেল কোর্ট। ফিলাডেলফিয়ায় ওয়াশিংটনের বাড়িতে দাসদের স্মরণে তৈরি স্থায়ী প্রদর্শনী এবং ভিডিও ইনস্টলেশন সরিয়ে ফেলার যে তোড়জোড় চলছিল, আদালত তাতে সরাসরি বাধা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশেষ একজিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে আমেরিকার পাঠ্যক্রম ও সংস্কৃতি থেকে 'কলঙ্কিত ইতিহাস' সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা জনকদের নেতিবাচক ভাবমূর্তি আড়াল করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
তবে আদালতের বিচারক ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টাকে জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাস '১৯৮৪'-এর সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে ইতিহাস বিকৃত করার চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। বিচারকের স্পষ্ট বার্তা—কোনো রাজনৈতিক নির্দেশে বাস্তব ইতিহাসকে মুছে ফেলা সম্ভব নয় এবং এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। এই রায়ের ফলে আমেরিকার দাসপ্রথার সেই নির্মম ইতিহাস জনসমক্ষে প্রদর্শিত হওয়ার অধিকার বজায় থাকল।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এবং তার দাসদের ইতিহাস সংরক্ষণে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ফেডারেল কোর্ট। ফিলাডেলফিয়ায় ওয়াশিংটনের বাড়িতে দাসদের স্মরণে তৈরি স্থায়ী প্রদর্শনী এবং ভিডিও ইনস্টলেশন সরিয়ে ফেলার যে তোড়জোড় চলছিল, আদালত তাতে সরাসরি বাধা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশেষ একজিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে আমেরিকার পাঠ্যক্রম ও সংস্কৃতি থেকে 'কলঙ্কিত ইতিহাস' সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা জনকদের নেতিবাচক ভাবমূর্তি আড়াল করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে আদালতের বিচারক ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টাকে জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাস '১৯৮৪'-এর সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে ইতিহাস বিকৃত করার চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। বিচারকের স্পষ্ট বার্তা—কোনো রাজনৈতিক নির্দেশে বাস্তব ইতিহাসকে মুছে ফেলা সম্ভব নয় এবং এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। এই রায়ের ফলে আমেরিকার দাসপ্রথার সেই নির্মম ইতিহাস জনসমক্ষে প্রদর্শিত হওয়ার অধিকার বজায় থাকল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিতে যাচ্ছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসিন রেজাই এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি এবার কোনো কারণে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তাতে কোনো ধরনের ‘যুদ্ধবিরতি’র সুযোগ থাকবে না। রেজাই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “আলোচনার পথ বেছে নেওয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক। কিন্তু যদি আমেরিকা সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তবে ইরান এমন এক যুদ্ধে জড়াবে যেখানে শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো থামাথামি নেই।” তেহরান থেকে আসা এই কঠোর বার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এই উত্তজনা মূলত শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত দুই দেশের পরোক্ষ আলোচনার পর থেকে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করলেও, ওয়াশিংটন এখন ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিকেও আলোচনার শর্ত হিসেবে যুক্ত করতে চাইছে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মিসাইল ইস্যু নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অচলাবস্থা নিরসনে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম ‘এক্ষিওস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “হয় আমাদের সাথে একটি সম্মানজনক চুক্তি হতে হবে, অন্যথায় ইরানের জন্য খুব কঠিন কিছু অপেক্ষা করছে। আমাদের একটি বিশাল নৌবহর বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সম্ভবত আরও একটি বড় নৌবহর সেখানে পাঠাব।” বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের গোপন বৈঠক যদি ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পের এই ‘টফ অ্যাকশন’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। একদিকে মার্কিন রণতরীর মহড়া, অন্যদিকে ইরানের ‘যুদ্ধবিরতিহীন’ যুদ্ধের হুমকি—সব মিলিয়ে বিশ্ব এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কূটনীতির জয় হয় নাকি বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে পারস্য উপসাগর।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কায়রোতে কয়েক দিন ধরে চলা পরোক্ষ আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না যাওয়ায় ইসরাইল ও হামাস—উভয় পক্ষই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। এর ফলে গাজার ভেতরে ও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, জিম্মি ও বন্দি বিনিময় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের নিশ্চয়তা। তবে ইসরাইল গাজায় হামাসের সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ছাড়া কোনো চুক্তিতে সম্মত না হওয়ায় আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও মধ্যাঞ্চলে নতুন করে স্থল অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় একাধিক বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ইসরাইলই দায়ী। সংগঠনটি বলেছে, তারা যে কোনো নতুন হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত এবং ইসরাইলি ভূখণ্ডে পাল্টা রকেট হামলার সক্ষমতা এখনও রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় রকেট সতর্কতা জোরদার করেছে ইসরাইল। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার নতুন করে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই দূরত্বে যে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির সময়কাল ও গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে মতপার্থক্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল কার্যত অচল, খাবার ও ওষুধের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার জনসংখ্যার বড় অংশ এখন দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে সহায়তা প্রবেশ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে পড়া শুধু গাজা নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। হিজবুল্লাহ, ইরান ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করছে। সব মিলিয়ে, গাজা যুদ্ধ আবারও একটি সংকটপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে সামনে আরও রক্তক্ষয়ী অধ্যায় অপেক্ষা করছে—এমন আশঙ্কাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান উদ্বেগ