সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তাঁকে সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দেখার জল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের দল, নেতা ও প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। জনগণের এই ম্যান্ডেটের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিজয়ের আনন্দ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে ভাগাভাগি করার সংস্কৃতি গড়ে উঠছে যা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক বলে তিনি মনে করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দেখার আহ্বান প্রসঙ্গে মুশফিকুল ফজল আনসারী লেখেন, “আমার ব্যক্তিগত কোনো অভিলাষ নেই। পছন্দ কিংবা ভালোবাসা থেকে আমাকে নানা জায়গায় দেখতে চেয়ে যারা আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ করছেন, এমন প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আন্তরিক অনুরোধ জানাই।”
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে ‘যোগ্যতম নেতৃত্ব’ পেয়েছে এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ আধুনিক, স্বনির্ভর ও মর্যাদাশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনে জয়ী হলে তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে করা এক গোপন চুক্তির কারণে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র-এর অনুমতি নিতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজিস, বাংলাদেশ। ড. দেবপ্রিয় বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট এমন এক নীতিগত পরিবেশে তৈরি হয়েছে, যেখানে সরকারের কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা সীমিত। তার ভাষায়, বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির কিছু ধারা—বিশেষ করে ‘নন-মার্কেট কান্ট্রি’ সম্পর্কিত বিধান—বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি কৌশলকে সংকুচিত করছে। তিনি জানান, তুলনামূলক কম দামের উৎস থেকে তেল আমদানি, যেমন রাশিয়া, এখন আর সহজ নয়। এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ছাড় প্রয়োজন হচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাজারের অস্থির সময়ে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, জ্বালানি সংকট এখন দেশের রাজস্বনীতি, বৈদেশিক লেনদেন ও মুদ্রানীতিতে একযোগে চাপ সৃষ্টি করছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর সংস্কার শর্তের মধ্যে একটি অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের শর্ত পূরণ এবং একই সঙ্গে বড় অঙ্কের ভর্তুকি বজায় রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বছরে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশের সমান। এতে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে এবং টাকার অবমূল্যায়নের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, কারণ বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ ওই অঞ্চল থেকেই আসে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে কঠিন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, রাজস্ব সুরক্ষায় জ্বালানি কর কাঠামো বজায় রাখা হবে, নাকি ভোক্তাদের চাপ কমাতে তা হ্রাস করা হবে—এই দ্বিধায় রয়েছে সরকার। এদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর প্রায় ৫৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলায় কিছু ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো প্রভাব অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রয়োগ করা হলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে বর্তমানে জিডিপির প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। পরিশেষে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এমন নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে রাজস্ব শৃঙ্খলা, বৈদেশিক স্থিতিশীলতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। অন্যথায় এই সংকট বড় ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।
বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসে গ্রাহক পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়ছে না। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা’ অনুসরণ করে নতুন মাসের এই দর ঠিক করা হয়েছে। ফলে এপ্রিলে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২৬ টাকা, পেট্রোল ১২২ টাকা এবং কেরোসিন ১০৮ টাকা দরেই বিক্রি হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না। রমজান ও আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দাম অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
দিনাজপুরের হিলিতে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সিমু। সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি দাম্পত্য জীবনের নানা সংকট ও মানসিক কষ্টের কথা তুলে ধরেন। পরে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। স্বজনরা রাত ৮টার দিকে তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানকার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসা আল আশারী জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিমুকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েনের কারণে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ গ্রহণ করতেন। তবে ওইদিন তিনি অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ গ্রহণ করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এছাড়া জানা যায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর শিবলী সাদিক আত্মগোপনে রয়েছেন। সেই সময় থেকে খাদিজা হিলি শহরের সিপি রোড এলাকায় তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২০১৯ সালের ৮ জুন তাদের বিয়ে হয়। ফেসবুক পোস্টে খাদিজা নিজের দীর্ঘদিনের মানসিক কষ্ট, দাম্পত্য জীবনের নানা অভিযোগ এবং হতাশার কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, বহু বছর ধরে চলা অবিচার ও মানসিক চাপ আর সহ্য করতে পারছিলেন না। একই সঙ্গে নিজের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সন্তানের জন্য দোয়া রেখে যান। উল্লেখ্য, শিবলী সাদিক এর আগে ২০১১ সালে কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমাকে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক দ্বন্দের জেরে ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ২০১৯ সালে খাদিজা মল্লিক সিমুর সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।