ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার পর নেতাকর্মীদের প্রতি এক কঠোর ও আপসহীন সতর্কবার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে লিপ্ত হলে নিজের ভাই বা নিকটাত্মীয়কেও তিনি বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উত্তরার নিজ বাসভবনে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “আমার ভাইও যদি এমন কোনো অপরাধ করে যাতে দলের সামান্যতম ক্ষতি হয়, তবে আমি ভাই চিনব না; তাঁর সঙ্গে মুহূর্তেই সম্পর্ক ছিন্ন করব।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন:
অপকর্ম ও অবৈধ ব্যবসা বন্ধ: তিনি সবাইকে অবৈধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে হালাল ও বৈধ ব্যবসা করার পরামর্শ দেন। তিনি সতর্ক করেন যে, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো অন্যায়ে জড়ায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানা ও বিচার ব্যবস্থা: নবনির্বাচিত এই এমপি নেতাকর্মীদের থানায় অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগে সাধারণ মানুষ থানায় বিচার পেত না, কিন্তু এখন থেকে প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “এলাকাভিত্তিক সালিশ বা সামাজিক বিচার-আচার কমিয়ে দিন। আইনের মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হবে। পক্ষপাতমূলক বিচারের অভিযোগ উঠলে আমি কাউকেই রেহাই দেব না।”
সরাসরি অভিযোগ জানানোর আহ্বান: সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেন যে, যদি তাঁর দলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা হয়রানির অভিযোগ থাকে, তবে যেন সরাসরি তাঁকে জানানো হয়। অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ পেলে তিনি নিজেই বাদী হয়ে দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
উন্নয়ন ও জনসেবা: নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “জনগণের সেবাই আমার মূল লক্ষ্য। এলাকার কোন কাজগুলো আগে করা প্রয়োজন, তা স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।”
বিজয় পরবর্তী এই অনুষ্ঠানে এস এম জাহাঙ্গীরের এমন কঠোর ও নীতিবান অবস্থান স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এমন দায়িত্বশীল আচরণ দেশের সুস্থ রাজনৈতিক ধারাকে আরও মজবুত করবে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার পর নেতাকর্মীদের প্রতি এক কঠোর ও আপসহীন সতর্কবার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে লিপ্ত হলে নিজের ভাই বা নিকটাত্মীয়কেও তিনি বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উত্তরার নিজ বাসভবনে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “আমার ভাইও যদি এমন কোনো অপরাধ করে যাতে দলের সামান্যতম ক্ষতি হয়, তবে আমি ভাই চিনব না; তাঁর সঙ্গে মুহূর্তেই সম্পর্ক ছিন্ন করব।” নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন: অপকর্ম ও অবৈধ ব্যবসা বন্ধ: তিনি সবাইকে অবৈধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে হালাল ও বৈধ ব্যবসা করার পরামর্শ দেন। তিনি সতর্ক করেন যে, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো অন্যায়ে জড়ায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানা ও বিচার ব্যবস্থা: নবনির্বাচিত এই এমপি নেতাকর্মীদের থানায় অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগে সাধারণ মানুষ থানায় বিচার পেত না, কিন্তু এখন থেকে প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “এলাকাভিত্তিক সালিশ বা সামাজিক বিচার-আচার কমিয়ে দিন। আইনের মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হবে। পক্ষপাতমূলক বিচারের অভিযোগ উঠলে আমি কাউকেই রেহাই দেব না।” সরাসরি অভিযোগ জানানোর আহ্বান: সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেন যে, যদি তাঁর দলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা হয়রানির অভিযোগ থাকে, তবে যেন সরাসরি তাঁকে জানানো হয়। অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ পেলে তিনি নিজেই বাদী হয়ে দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। উন্নয়ন ও জনসেবা: নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “জনগণের সেবাই আমার মূল লক্ষ্য। এলাকার কোন কাজগুলো আগে করা প্রয়োজন, তা স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।” বিজয় পরবর্তী এই অনুষ্ঠানে এস এম জাহাঙ্গীরের এমন কঠোর ও নীতিবান অবস্থান স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এমন দায়িত্বশীল আচরণ দেশের সুস্থ রাজনৈতিক ধারাকে আরও মজবুত করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভাবনীয় উত্থানে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমগুলোতে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জামায়াতের এই বিজয়কে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় ধরণের ‘হুমকি’ ও ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে অভিহিত করে ধারাবাহিক বিশ্লেষণ প্রচার করছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি, ভারতবিরোধী হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী এখন বাংলাদেশের সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জামায়াত ও তাদের নতুন মিত্র জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পাওয়ায় দিল্লির নিরাপত্তা সমীকরণ ও কৌশলগত হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে এই জোটের জয় ভারতকে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। ইন্ডিয়া টুডে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জামায়াত ও এনসিপি সীমান্ত অঞ্চলে তাদের দখল মজবুত করেছে যা ভারতের 'সেভেন সিস্টার্স' বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইস্টার্ন কমান্ডের সাবেক জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানাপ্রতাপ কলিতা মনে করেন, গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী মানুষের ভারতবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়েই জামায়াত এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও নিউজ১৮-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে এটি জামায়াতের সবচেয়ে বড় উত্থান। ১৯৯১ সালে ১৮টি ও ২০০১ সালে ১৭টি আসন পেলেও এবার একলাফে তারা ৬৮টি আসন জিতেছে। প্রতিবেদনে সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও লালমনিরহাটের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত জেলাগুলোতে জামায়াতের জয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অঞ্চলে ধর্মীয় মেরুকরণ ও পাকিস্তানঘনিষ্ঠ আদর্শ ভারতের জন্য ‘সিঁদুরে মেঘ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এএনআই এবং হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াত জোটের ৬৮টি আসনের মধ্যে ৫১টিই ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়। এটি ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। এমনকি ভারতের ডানপন্থি নিউজ পোর্টাল অপইন্ডিয়া দাবি করেছে, এই নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে এক ধরণের তীব্র ভারতবিরোধী মনোভাব কাজ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় মিডিয়াগুলো নরেন্দ্র মোদি সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের আগামী দিনের ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে নয়াদিল্লিকে এখন এক নতুন ও কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক সৌজন্যতার অংশ হিসেবে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দলীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে তারেক রহমান রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় চরমোনাই পীরের বাসভবনে পৌঁছে দুই নেতার মধ্যে কুশল বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ের পর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই সাক্ষাতকে দেখা হচ্ছে। এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। উভয় ক্ষেত্রে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমন্বয় ও সংহতি প্রকাশ করাই তারেক রহমানের এই সফরের লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটের শরিকদের সঙ্গে তাদের বর্তমান আসন সংখ্যা ২১২। নির্বাচন কমিশন গত শুক্রবার রাতে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর বিকেলেই বঙ্গভবনে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।