ইউক্রেন যুদ্ধে পরিস্থিতি নতুন করে নাটকীয় রূপ নিয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক স্থল ও আকাশ অভিযান শুরু করায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে চাপের মুখে পড়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। গত ৭২ ঘণ্টায় দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক সীমান্তবর্তী এলাকায় রাশিয়ার সেনারা একযোগে ট্যাংক, আর্টিলারি ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে যুদ্ধের গতিপথ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোনেৎস্ক অঞ্চলের অন্তত তিনটি ফ্রন্টলাইনে রুশ বাহিনী একসঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে আভদিভকা ও চাসিভ ইয়ার এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে। এই অঞ্চলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা অবস্থান কয়েক মাস ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যা রাশিয়া এখন কৌশলগতভাবে কাজে লাগাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা একাধিক ইউক্রেনীয় সামরিক ঘাঁটি ও গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে নতুন করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কয়েকটি গ্রামকে ‘নিরাপদ এলাকা’ ঘোষণা করেছে মস্কো। তবে ইউক্রেন এই দাবিকে আংশিকভাবে অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে, কিছু এলাকায় কৌশলগত পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যা পিছু হটা নয়।
এই নতুন আক্রমণের বড় কারণ হিসেবে ইউক্রেনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের সংকটকে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা দেরিতে পৌঁছানো এবং কিছু প্রতিশ্রুত অস্ত্র এখনও সরবরাহ না হওয়ায় ফ্রন্টলাইনে চাপ বাড়ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে বলেছেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বিলম্ব হলে তার মূল্য দিতে হয়।”
অন্যদিকে রাশিয়া এই আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার আগে শক্ত অবস্থান তৈরি করাই মস্কোর লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া চায় ভবিষ্যৎ কোনো সমঝোতা হলে তা যেন তাদের দখলকৃত অঞ্চলকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিয়েই হয়।
মানবিক পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। নতুন করে সংঘর্ষ বাড়ায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবায় মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে কয়েকটি শহরে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল না হলে বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এই অবস্থায় ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। সামরিক সহায়তা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক চাপ—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে, আগামী মাসগুলোতে যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়। তবে বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় স্পষ্ট, যুদ্ধ শেষ হওয়ার বদলে আরও গভীর ও জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি সপ্তাহে বিতর্কিত স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নৌবাহিনীর জাহাজ মুখোমুখি অবস্থানে আসে, যা অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়মিত টহল পরিচালনার সময় চীনা নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি সামরিক বিমান দ্বারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের মুখে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র অনুযায়ী, উভয় পক্ষের জাহাজ এক পর্যায়ে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থান করছিল। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি” এবং এটি চীনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগর আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং সেখানে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা চীন নিজস্ব বলে দাবি করে, যদিও ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন অংশের ওপর দাবি জানিয়ে আসছে। এই জলপথ দিয়ে প্রতিবছর প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবাহিত হয়, যা একে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ জোরদার করবে। ইতোমধ্যে ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করেও বেইজিং কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান ইস্যু, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা এখন সরাসরি সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে এমন মুখোমুখি পরিস্থিতি ভুল বোঝাবুঝি বা দুর্ঘটনার মাধ্যমে বড় সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আঞ্চলিক কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলেছেন, উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামরিক সংযম জরুরি হয়ে উঠেছে। অন্যথায়, এই কৌশলগত জলপথ অচিরেই বৈশ্বিক শক্তি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধে পরিস্থিতি নতুন করে নাটকীয় রূপ নিয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক স্থল ও আকাশ অভিযান শুরু করায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে চাপের মুখে পড়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। গত ৭২ ঘণ্টায় দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক সীমান্তবর্তী এলাকায় রাশিয়ার সেনারা একযোগে ট্যাংক, আর্টিলারি ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে যুদ্ধের গতিপথ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোনেৎস্ক অঞ্চলের অন্তত তিনটি ফ্রন্টলাইনে রুশ বাহিনী একসঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে আভদিভকা ও চাসিভ ইয়ার এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে। এই অঞ্চলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা অবস্থান কয়েক মাস ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যা রাশিয়া এখন কৌশলগতভাবে কাজে লাগাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা একাধিক ইউক্রেনীয় সামরিক ঘাঁটি ও গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে নতুন করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কয়েকটি গ্রামকে ‘নিরাপদ এলাকা’ ঘোষণা করেছে মস্কো। তবে ইউক্রেন এই দাবিকে আংশিকভাবে অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে, কিছু এলাকায় কৌশলগত পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যা পিছু হটা নয়। এই নতুন আক্রমণের বড় কারণ হিসেবে ইউক্রেনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের সংকটকে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা দেরিতে পৌঁছানো এবং কিছু প্রতিশ্রুত অস্ত্র এখনও সরবরাহ না হওয়ায় ফ্রন্টলাইনে চাপ বাড়ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে বলেছেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বিলম্ব হলে তার মূল্য দিতে হয়।” অন্যদিকে রাশিয়া এই আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার আগে শক্ত অবস্থান তৈরি করাই মস্কোর লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া চায় ভবিষ্যৎ কোনো সমঝোতা হলে তা যেন তাদের দখলকৃত অঞ্চলকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিয়েই হয়। মানবিক পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। নতুন করে সংঘর্ষ বাড়ায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবায় মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে কয়েকটি শহরে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল না হলে বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। এই অবস্থায় ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। সামরিক সহায়তা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক চাপ—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে, আগামী মাসগুলোতে যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়। তবে বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় স্পষ্ট, যুদ্ধ শেষ হওয়ার বদলে আরও গভীর ও জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সামরিক উত্তেজনার মাঝে ওমানের মাস্কাটে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে ইরানের পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা শেষ হয়েছে। এই আলোচনাকে একটি ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার এই নিবিড় বৈঠকে পারমাণবিক ইস্যুতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হলেও মার্কিন হামলার ক্রমবর্ধমান শঙ্কা দূর করতে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত এই পরোক্ষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) প্রধান ব্র্যাড কুপার। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আল বুসাইদি দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, “দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইরানের অবস্থান ও উদ্বেগ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক পরিবেশে শুরু হয়েছে এবং আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সংলাপ শুধুমাত্র পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং অন্য কোনো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো কথা হয়নি। আরাগচি আরও জানান, ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের জেরে গত আট মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে যে গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পারমাণবিক আলোচনা সফল হতে হলে অবশ্যই একটি শান্ত পরিবেশ এবং উত্তেজনা ও হুমকিমুক্ত অবস্থা প্রয়োজন। আলোচনার পরবর্তী ধাপ ও পদ্ধতি ওমানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজধানী থেকে আসা নির্দেশনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। বিশ্ব রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনারের এই বৈঠকে উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন হয়তো নতুন কোনো কৌশলে ইরানের সাথে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে। তবে চূড়ান্ত সমাধান কতদূর, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর। সূত্র: আল জাজিরা