ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে আন্তর্জাতিকভাবে স্মরণীয় করে রাখতে এক নজিরবিহীন উদ্যোগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতার বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার ভ্রাতৃত্ব ও কূটনীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। যদিও আমন্ত্রিত অতিথিদের চূড়ান্ত তালিকা এবং শপথের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এমন একটি জোরালো সংকেত আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিশাল জয় পেয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বিএনপি। একই সাথে দেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে জামায়াতে ইসলামী হতে যাচ্ছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল। এমন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি নতুন সরকারের জন্য এক বড় ধরণের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দ্রুত ইরান যুদ্ধের ইতি টানা। এমনকি যদি ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জিত না হয়, তবুও তারা এই সংঘাতের অবসান চান বলে রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘসময় ধরে হলেও এই লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। সাধারণ মানুষের এই অনীহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন কৌশলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে জরিপের তথ্য অনুযায়ী, খোদ রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর মতভেদ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের দলের প্রায় ৪০ শতাংশ সমর্থক দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে মত দিলেও ৫৭ শতাংশ মনে করেন লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা জরুরি। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের ৬০ শতাংশ আমেরিকান ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার সরাসরি বিরোধিতা করেছেন, যেখানে মাত্র ৩৫ শতাংশ নাগরিক এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। ১ হাজার ২১ জন নাগরিকের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ কমছে এবং তারা এর পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়ছেন। যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে ভোটারদের এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আমেরিকার সাধারণ মানুষের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একটি জ্বালানি মূল্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকেই তেলের এই চড়া দাম কার্যকর হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনই আশঙ্কা করছেন যে, আগামী এক বছরে তেলের দাম আরও বাড়বে। এমনকি ৪ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থকও এই উদ্বেগের সাথে একমত পোষণ করেছেন। অর্ধেকেরও বেশি উত্তরদাতা মনে করেন, এই যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন মুদ্রাস্ফীতির চাপে পিষ্ট, তখন সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে এই ব্যয়বহুল অভিযান নিয়ে তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই জনমত ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান দলের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে। আগামী নভেম্বরে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা নির্ধারণ করবে প্রতিনিধি সভা ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ টিকে থাকবে কি না। সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলো সব সময়ই কঠিন হয়, আর যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অস্থিরতা সেই ঝুঁকিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটাররা যদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ক্ষুব্ধ থাকেন, তবে তার প্রতিফল সরাসরি ভোটের বাক্সে পড়বে। মুদ্রাস্ফীতি এবং তেলের দামের উর্ধ্বগতি আসন্ন নির্বাচনে প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠতে পারে, যা বর্তমান প্রশাসনের জন্য মোটেও সুখকর কোনো সংকেত নয়। সব মিলিয়ে, ইরানের সাথে এই সংঘাত কেবল সামরিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। অধিকাংশ নাগরিকই এখন মনে করছেন যে, অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে থাকার চেয়ে একটি সম্মানজনক প্রস্থান বা দ্রুত যুদ্ধ বিরতিই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। ট্রাম্প প্রশাসন যখন তাদের ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে অনড় অবস্থানে রয়েছে, তখন খোদ নিজ দেশের জনগণের এমন অনীহা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা হোয়াইট হাউসের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। বিশ্ববাজারের টালমাটাল অবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এক মাস পার হওয়ার পর এবার নতুন এক মোড় নিতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন যুদ্ধের একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছেন। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’কে ঘিরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের পেতে রাখা মাইন এবং তেহরানের পক্ষ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণার ফলে এই নৌপথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। পেন্টাগন এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হোক বা না হোক, তিনি যুদ্ধের তীব্রতা কমিয়ে একটি আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা যাচাই করছেন। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী এবং তিনি চান মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সাথে নিয়ে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে। ইতিমধ্যেই তিনি অন্যান্য দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ না পড়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ‘বিকল্প পথ’ খোঁজার অর্থ হতে পারে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রেখে একটি সমঝোতায় আসা। একদিকে যখন ব্রিটেন আন্ডারওয়াটার ড্রোন মোতায়েন করে মাইন সরানোর কাজ করছে, অন্যদিকে ট্রাম্প কূটনৈতিক চ্যানেলে তেহরানের সাথে একটি অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের অস্থিরতা এই শান্তি প্রক্রিয়াকে কতটা সফল হতে দেবে, তা নিয়ে এখনও গভীর সংশয় রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বিষয়ে বড় ধরনের কোনো ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিরিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে সিরিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিপান হামো জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলের কার্সাক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরাক থেকে চারটি ড্রোন ছোড়া হয়। তবে সেগুলো আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই হামলার জন্য ইরাককে দায়ী করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” এর আগে সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-তানফ ঘাঁটিতেও একই ধরনের ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। ওই ঘাঁটিতে আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি ছিল। আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও এসব গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী বিশেষ করে ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনভিত্তিক সংগঠনগুলো ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।