বিশ্ব রাজনীতি

ইরানকে ড্রোন, খাদ্য ও ওষুধ দিচ্ছে রাশিয়া

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই ইরানকে সামরিক ও রসদ সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
Rassia
Rassia

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস দিয়ে সরাসরি ইরানকে সামরিক ও খাদ্য সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানকে ড্রোন, উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য সরবরাহ করছে মস্কো। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি ড্রোন রাশিয়া ব্যবহার করার পর থেকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এবার রাশিয়া পাল্টা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

রাশিয়ার এই সহায়তা কেবল সামরিক খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ইরানের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ক্রেমলিন। গতকাল প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। রাশিয়ার এমন পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তখন মস্কোর এই প্রকাশ্য অবস্থান তেহরানকে নতুন করে শক্তি জোগাবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের এই গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্ব মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে। দুই দেশের মধ্যে এই বিনিময় প্রথা বা 'পারস্পরিক সহযোগিতা' আগামী দিনে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। একদিকে রাশিয়া যেমন ইরানের কাছ থেকে ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে ইউক্রেন ফ্রন্টে সুবিধা পাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানও রাশিয়ার উন্নত মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ও রসদ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। এই জোটবদ্ধতা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন ব্লকের জন্ম দিচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

Advertisement

বিশ্ব রাজনীতি

View more
Rassia
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই ইরানকে সামরিক ও রসদ সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস দিয়ে সরাসরি ইরানকে সামরিক ও খাদ্য সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানকে ড্রোন, উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য সরবরাহ করছে মস্কো। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি ড্রোন রাশিয়া ব্যবহার করার পর থেকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এবার রাশিয়া পাল্টা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   রাশিয়ার এই সহায়তা কেবল সামরিক খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ইরানের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ক্রেমলিন। গতকাল প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। রাশিয়ার এমন পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তখন মস্কোর এই প্রকাশ্য অবস্থান তেহরানকে নতুন করে শক্তি জোগাবে।   বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের এই গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্ব মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে। দুই দেশের মধ্যে এই বিনিময় প্রথা বা 'পারস্পরিক সহযোগিতা' আগামী দিনে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। একদিকে রাশিয়া যেমন ইরানের কাছ থেকে ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে ইউক্রেন ফ্রন্টে সুবিধা পাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানও রাশিয়ার উন্নত মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ও রসদ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। এই জোটবদ্ধতা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন ব্লকের জন্ম দিচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি হোয়াইট হাউসের: আলোচনার সুযোগ হারালে ইতিহাসের ভয়াবহতম সামরিক আঘাতের হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার খবর নাকচ করলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লারিজানি হত্যাকাণ্ড ‘অগ্রহণযোগ্য’: ইসরায়েলর ওপর ক্ষুব্ধ চীন

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা
সৌদি, কুয়েত, কাতার ও আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনায় একযোগে হামলা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিশেষ বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) এই হামলা পরিচালনা করে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তেহরানের ওপর থেকে রিয়াদ তাদের শেষ আস্থাটুকুও হারিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সৌদি আরব নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত, কাতার এবং আরব আমিরাতের বেশ কিছু তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিহত করলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। পাল্টা হামলার শিকার ইরান: এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দাবি করেছেন যে, ইসরায়েল ইরানের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র 'সাউথ পার্স'-এ ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র বা কাতারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না; ইসরায়েল এককভাবেই এই আক্রমণ পরিচালনা করেছে। তবে এই বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: সংঘাতের এমন ভয়াবহ বিস্তার দেখে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে বাইডেন প্রশাসন। মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চলমান অভিযানে ইরানের শাসনব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হলেও তারা এখনো এই অঞ্চলে মার্কিন এবং মিত্রদের স্বার্থে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। মানবিক বিপর্যয় ও উদ্বেগ: এই সংঘাতের তিন সপ্তাহ পার হতে চললেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো প্রথমবারের মতো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে তিন ফিলিস্তিনি নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত কোনো যুদ্ধবিরতির সমঝোতায় না পৌঁছালে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

'আমার সন্তান কি বেঁচে আছে?', তেহরানে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মায়ের আকুতি

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদ

ইরানে হামলা ট্রাম্প প্রশাসনের 'সবচেয়ে বড় ভুল': ওমান

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও কি মার্কিন অর্থনীতি সুরক্ষিত?

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও কি মার্কিন অর্থনীতি সুরক্ষিত?

শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি ও বাসিজ প্রধান সোলেমান
েহরানে শোকের ছায়া: শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি ও বাসিজ প্রধান সোলেমানির জানাজা আজ

ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি এবং আধাসামরিক বাহিনী 'বাসিজ'-এর প্রধান গোলামরেজা সোলেমানির জানাজা আজ বুধবার রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে।  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে এই দুই প্রভাবশালী নেতার মৃত্যু ইরান সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, মঙ্গলবার তেহরানে ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত বিমান হামলায় তারা নিহত হন। আলী লারিজানি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের পরমাণু আলোচনা ও কৌশলগত নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। অন্যদিকে, জেনারেল গোলামরেজা সোলেমানি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বাসিজ ফোর্সের指挥 হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। জানাজা উপলক্ষে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে।  এই ঘটনা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধকে একটি নতুন এবং বিপজ্জনক মোড়ে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
Rasid

আফগানিস্তানের হাসপাতালে ভয়াবহ হামলা ও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে গর্জে উঠলেন রশিদ খানরা

গোলামরেজা সুলাইমানিক

ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান গোলামরেজা সুলাইমানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প শিবিরে অনুশোচনা, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে

0 Comments