আন্দোলনের মাঝে হামলার শিকার ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক
ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। সোমবার শহীদ স্মারক প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার ঘটনায় অন্তত ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনইইটি) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা খাতের অনিয়ম ও বেকারত্ব সমস্যার প্রতিবাদে গত ৬ জুন দিল্লিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই সমাবেশ থেকে দলটি ঘোষণা দিয়েছিল, এক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন জোরদার করা হবে।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার জয়পুরের শহীদ স্মারক প্রাঙ্গণে প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট এবং বেকারত্ব দূরীকরণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সমাবেশ চলাকালে অভিজিৎ দীপক সমর্থকদের কাঁধে চড়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার গলায় থাকা কাপড় ধরে নিচের দিকে টেনে নামানোর চেষ্টা করেন। পরে ওই ব্যক্তি এবং তার সঙ্গে থাকা আরেকজন মিলে তাকে চড়-থাপ্পড় ও আঘাত করেন।
হামলার পরপরই উপস্থিত সমর্থকেরা অভিযুক্তদের আটক করেন। পরে তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দীপক লিখেছেন, “শারীরিক হামলা ভয় ও কাপুরুষতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমি গান্ধী ও আম্বেদকরের অনুসারী। শান্তি ও ভালোবাসা দিয়েই আমি এই লড়াই চালিয়ে যাব। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।”
এদিকে হামলার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জয়পুরের বিধায়কপুরী থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডিউটিরত এক পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের নাম-পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রোববার রাত পর্যন্ত এই বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। পরে কিছু শর্তসাপেক্ষে সমাবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রশাসনের নির্ধারিত শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল, সমাবেশে ৮০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারবেন না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreমেক্সিকোর একটি স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পোশাকে আগুন লেগে শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় হিদালগো অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে ‘ডে অব দ্য ডেড’ উৎসবের আয়োজন চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে ছাত্রীর পোশাক দ্রুত পুড়ে যেতে শুরু করলে সহপাঠী ও শিক্ষকেরা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) হুয়াসকা দে ওকাম্পো এলাকার তেওদোমিরো মানজানো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত পোশাক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। এ সময় জাইরা ওসোরিও নামের ওই ছাত্রীর পরনে ছিল সোনালি রঙের একটি পোশাক, যা তামালে তৈরিতে ব্যবহৃত শুকনো ভুট্টার পাতা দিয়ে বানানো হয়েছিল। মঞ্চের পেছনে সাজানো একটি টেবিলে জ্বলছিল কয়েকটি মোমবাতি। একপর্যায়ে পোশাকটি মোমবাতির সংস্পর্শে এলে তাতে আগুন ধরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পোশাকে আগুন লাগার পর এক সহপাঠী প্রথমে হাত দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সে চেষ্টা সফল হয়নি। এ সময় মঞ্চে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে থাকে। পরে স্কুলের দুই কর্মী ছুটে এসে জাইরাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন। আগুন নেভাতে উপস্থিত কয়েকজন নিজেদের জ্যাকেট ও পোশাক ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে একজন বালতি ভর্তি পানি এনে তাঁর শরীরে ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুর্ঘটনার পর জাইরাকে প্রথমে হুয়াসকা দে ওকাম্পোর একটি শিশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মেক্সিকো সিটিতে স্থানান্তর করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তিনি দ্বিতীয় মাত্রার দগ্ধ হওয়ার ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর চিকিৎসায় নিয়মিত পরিচর্যা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। এদিকে মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহনে সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন তাঁর বাবা হোসে ওসোরিও। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে মেয়ের চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। পরিবারের সামর্থ্য দিয়ে সব খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই মেয়ের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এমন গুরুতর ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ, জবাবদিহি ও সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন। ঘটনার পর হিদালগো অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। এক বিবৃতিতে বিভাগটি জানিয়েছে, কী পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। স্কুলের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার নিয়মকানুন আরও জোরদার করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলে অগ্নিদাহ্য বস্তু ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ওই অনুষ্ঠানে মোমবাতি ব্যবহারের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ইনফোবায়ে ও হিদালগো অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ।
ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়ে আজীবন বিলাসবহুল জাহাজে থাকার পরিকল্পনা, এক মাসেরও কম সময়ে ভেঙে গেল স্বপ্ন
এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি মদ পান করে ভারতে ১৩ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা, গ্রেপ্তার ১১
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের সমালোচনা করে পোস্ট, সাময়িক বরখাস্ত ব্রিটিশ চিকিৎসক
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে শিশুদের স্কুলবাস চালানোর সময় বিতর্কিত পোশাক পরা এবং বাসের নাম ‘ললিটা লাইন’ রাখাকে কেন্দ্র করে চাকরি হারানো এক চালক মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন। এল.জেড. নামে পরিচিত ওই চালকের অভিযোগ, লিঙ্গপরিচয় ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় ইয়র্ক ক্যাথলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড এবং বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডমার্ক বাস লাইনসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল। ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে ২০২৫ সালের জুনে। অন্টারিওর উডব্রিজ এলাকার সেন্ট মাইকেল দ্য আর্চেঞ্জেল ক্যাথলিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ওই চালককে গোলাপি রঙের ছোট স্কার্ট, সাদা ফ্রিলযুক্ত পোশাক ও হাঁটু পর্যন্ত লম্বা মোজা পরা অবস্থায় দেখা যায়। বাসের সামনের জানালায় ‘ললিটা লাইন’ লেখা একটি সাইনবোর্ডও লাগানো ছিল। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন অভিভাবক চালকের সঙ্গে কথা বলেন এবং পোশাক ও বাসের নাম নিয়ে আপত্তি জানান। তখন চালক বলেন, প্রতিদিনই তিনি এভাবে কাজ করেন এবং এতে কোনো সমস্যা দেখেন না। ‘ললিটা’ নামটি রুশ-মার্কিন লেখক ভ্লাদিমির নাবোকভের ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত উপন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। উপন্যাসটিতে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির ১২ বছর বয়সী একটি শিশুর প্রতি যৌন আসক্তি ও নির্যাতনের বিষয় উঠে এসেছে। এ কারণে স্কুলবাসের সঙ্গে নামটির ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই সময় ইয়র্ক ক্যাথলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড জানায়, অন্টারিওতে স্কুলবাস পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানি বিষয়টি জানার পর চালককে স্কুলটির রুট থেকে সরিয়ে দেয় এবং বোর্ডকে আশ্বস্ত করে যে ভবিষ্যতে ওই চালক তাদের কোনো স্কুলে শিক্ষার্থী পরিবহনের দায়িত্ব পালন করবেন না। বোর্ড আরও জানায়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চাকরি হারানোর পর এল.জেড. গত ১৬ মার্চ ২০২৬ সালে অন্টারিওর মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গপরিচয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে কর্মসংস্থানে বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে ইয়র্ক ক্যাথলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড ও ল্যান্ডমার্ক বাস লাইনসকে বিবাদী করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, এল.জেড. নিজেকে একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এদিকে, পরিচয় গোপন রাখার আবেদনও করেছিলেন ওই চালক। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি, হয়রানি ও বৈষম্যমূলক আচরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তাঁর পরিচয় প্রকাশ না করার আবেদন মঞ্জুর করে। এ বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয় ২৩ অক্টোবর। ন্যাশনাল পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মামলাটির শুনানি এখনো শুরু হয়নি এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনো রায়ও দেওয়া হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অন্টারিওর মানবাধিকার ট্রাইব্যুনাল বকেয়া বেতন, আর্থিক ক্ষতিপূরণ কিংবা পূর্বের পদে পুনর্বহালের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা খারিজও হতে পারে। ফলে চাকরিচ্যুতির পেছনে বৈষম্য ছিল কি না, তা নির্ধারণের বিষয়টি এখন ট্রাইব্যুনালের বিবেচনাধীন। সংবাদসূত্র: ন্যাশনাল পোস্ট ও নাউ টরন্টো।
১৪ কোটি বছর আগের জীবাশ্মের সন্ধান, উটাহে নতুন ডাইনোসর প্রজাতি আবিষ্কারের সম্ভাবনা
উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যা ও খেয়ে ফেলার অভিযোগে কথিত সিরিয়াল কিলার গ্রেপ্তার
সরকারি কাজে ১ হাজার ৭০০টির বেশি এআই রোবট মোতায়েনের পরিকল্পনা দক্ষিণ কোরিয়ার
কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে ফরাসি ভাষায় দক্ষ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বিশেষ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির এক্সপ্রেস এন্ট্রি ব্যবস্থায় ফরাসি ভাষায় দক্ষ প্রার্থীদের ১২টি বিশেষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মোট ৬০ হাজার ৫০০টি আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। কানাডার অভিবাসন নীতিতে ফরাসিভাষী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব আমন্ত্রণ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কুইবেক প্রদেশের বাইরে ফরাসিভাষী দক্ষ কর্মী আকৃষ্ট করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও ৫ হাজার প্রার্থীকে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার আমন্ত্রণ জানিয়েছে কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি)। এ দফায় আমন্ত্রণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন কমপ্রিহেনসিভ র্যাঙ্কিং সিস্টেমের (সিআরএস) স্কোর ছিল ৪০৭। অর্থাৎ নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী প্রার্থীদের মধ্যে যাঁদের স্কোর ৪০৭ বা তার বেশি ছিল, তাঁরাই এ দফায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে একই স্কোরধারীদের ক্ষেত্রে প্রোফাইল জমা দেওয়ার সময়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১২টি ফরাসিভাষী প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বছরের প্রথম দিকে ৬ ফেব্রুয়ারির একটি প্রক্রিয়ায় ৮ হাজার ৫০০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দফায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ জন পর্যন্ত প্রার্থীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আমন্ত্রণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৫০০। এই পরিসংখ্যান কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় ফরাসি ভাষায় দক্ষ প্রার্থীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরছে। তবে আমন্ত্রণ পাওয়ার অর্থ সরাসরি কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া নয়। নির্বাচিত প্রার্থীরা কেবল স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার সুযোগ পান। এরপর তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অন্যান্য শর্ত যাচাই করা হয়। সব প্রক্রিয়া সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে ৬০ হাজার ৫০০টি আমন্ত্রণকে সরাসরি স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কানাডা সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফরাসিভাষী জনগোষ্ঠীর বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটির সরকারি ভাষা দুটি, ইংরেজি ও ফরাসি। তবে ফরাসিভাষী জনগোষ্ঠীর বড় অংশ কুইবেক প্রদেশে বসবাস করে। এ কারণে কুইবেকের বাইরের অন্যান্য প্রদেশেও ফরাসিভাষী মানুষের সংখ্যা বাড়াতে অভিবাসন কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক খাতে দক্ষ কর্মী যুক্ত করাও এ নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। ফরাসি ভাষায় দক্ষতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হতে হলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদনকারীদের স্বীকৃত ভাষা পরীক্ষায় ফরাসি ভাষার চারটি দক্ষতা, অর্থাৎ শোনা, বলা, পড়া ও লেখার প্রতিটিতে ন্যূনতম এনসিএলসি-৭ (NCLC 7) অর্জন করতে হয়। পাশাপাশি এক্সপ্রেস এন্ট্রির আওতাভুক্ত ফেডারেল দক্ষ কর্মী, কানাডীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মী অথবা ফেডারেল দক্ষ পেশাজীবী কর্মসূচির অন্তত একটির যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। শুধু ফরাসি ভাষা জানলেই এ কর্মসূচিতে আবেদন বা আমন্ত্রণ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এদিকে কানাডার ২০২৬-২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনায় কুইবেকের বাইরে ফরাসিভাষী স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা মোট স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের ৯ শতাংশ বা ৩০ হাজার ২৬৭ জন। ২০২৭ সালে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বা ৩১ হাজার ৮২৫ জন এবং ২০২৮ সালে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বা ৩৫ হাজার ১৭৫ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে কতজন স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে অনুমোদন পাবেন, তার পরিকল্পিত হিসাব। এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে দেওয়া আমন্ত্রণের সংখ্যার সঙ্গে এর সরাসরি সমতা নেই। বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্যও এ কর্মসূচি একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ফরাসি ভাষা শিখছেন, তাঁদের জন্য কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে স্বীকৃত ভাষা পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় ফলাফল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সিআরএস স্কোর সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া জরুরি। সূত্র: কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি), কানাডা সরকারের ২০২৬-২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনা।
ক্ষুদ্রাকৃতির টি-রেক্সের আত্মীয় ডাইনোসরের কঙ্কাল নিলামে বিক্রি হলো ৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে
স্বামীর সঙ্গে উচ্চতার ব্যবধান নিয়ে পরিচিতি ইনফ্লুয়েন্সার শাও ইউ ২৬ বছর বয়সে মারা গেলেন