সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
সুইজারল্যান্ডে ইরানি আলোচকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা বাতিল করার পর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা বৈঠকটি আর হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, আলোচনার লজিস্টিক ব্যবস্থা শুরু থেকেই জটিল ছিল এবং তা সবসময় পূর্বানুমানযোগ্য ছিল না। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেই জেডি ভ্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল সফরের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে বুর্গেনস্টক পাহাড়ি রিসোর্টে নির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নির্ধারিত বৈঠকও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আলোচনার প্রয়োজন হলে তারা সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, বুধবারের ১৪ দফা চুক্তির পর অন্তত ৬০ দিনের জন্য অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ করা হলে তারা খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে। ইরানের কর্মকর্তারা আরও বলেছিলেন, আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষণ দেখতে চান তারা।
আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স সফর বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত ইরানের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আগে জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনাকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করে জানায়, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। এতে অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
যুদ্ধবিরতির পরও অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর থাকবে।
ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ না হওয়ায় দেশটি নিজস্ব সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান হামলা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের একাংশ কংগ্রেসে প্রশ্ন তুলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গিয়ে প্রশাসন অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে কি না।
ট্রাম্প পূর্বে বলেছিলেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া যুদ্ধের অবসান ঘটবে না। তবে সাম্প্রতিক সমঝোতার আওতায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক মার্কিন ছাড় দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, ট্রাম্প ‘হতাশার কারণে’ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা সহজ হবে না। তিনি বলেন, “যদি মার্কিন পক্ষ অতিরিক্ত দাবি করে, আমরা তা গ্রহণ করব না।”
চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আলোচকদের ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
এছাড়া ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়টিও আলোচনায় রাখতে চায়।
যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের খরচ এবং অন্যান্য বিল পরিশোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, যাতে দেশটি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন কমানো এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল।
তবে সমঝোতা স্বাক্ষরের সময় এসব লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ইরান আবারও জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। পাশাপাশি দেশটি সীমিত মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পরিদর্শনে সম্মত হয়েছে। তবে এসব উপাদান দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
তেলবাজার ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি
ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। একই সঙ্গে নতুন জাহাজ চলাচল ফি আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে, যদিও ৬০ দিনের আলোচনাকালীন সময়ে তা কার্যকর হবে না।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার পর সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দাম কমেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
অন্যদিকে লেবাননে নতুন ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, হামলাগুলো হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছে।
চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির কথা উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং নতুন করে দখলকৃত অঞ্চল মানচিত্রে যুক্ত করার কথাও জানিয়েছে দেশটি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলকে কতটা চাপ দিতে পারবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreসুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পবিত্র কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার ঘটনায় উগ্র ডানপন্থী কর্মী জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ৩০ অক্টোবর স্টকহোম জেলা আদালত এ রায় দেন। ৫০ বছর বয়সী স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্যান্ডবার্গকে প্রতিদিন ১০০ ক্রোনা হিসাবে মোট ৩ হাজার ক্রোনা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা তহবিলে ১ হাজার ক্রোনা এবং সরকারি আইনজীবীর খরচ বাবদ রাষ্ট্রকে ১৭ হাজার ক্রোনা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে জরিমানা ও অন্যান্য খরচ বাবদ তার ওপর ২১ হাজার ক্রোনা আর্থিক দায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালে স্টকহোমের একটি মসজিদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘আমরা আমাদের রাস্তায় কোনো মুসলিম দেখতে চাই না’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আদালত ওই বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ২০২৪ সালের কোরআন অবমাননার ঘটনায় দণ্ডিত হলেও পরের বছরের ওই অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন স্টকহোমের ওডেনপ্লান স্কয়ারে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআনের একটি কপি পোড়ান জেড স্যান্ডবার্গ। এরপর বইটিতে লাথি মারেন তিনি। পুরো ঘটনাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেন। সুইডেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হলেও দেশটির আইনে কোনো জাতিগত বা জাতীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো কিংবা তাদের অবমাননা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্মীয় মতাদর্শের সমালোচনা এবং কোনো ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য বা আচরণের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। স্যান্ডবার্গের মামলার রায়েও ২০২৪ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
১০ লাখের বেশি কর্মী নিয়ে শীর্ষে চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি, পেছনে ফেলল টেসলা, টয়োটা ও ফোর্ডকে
৫ হাজার বছর আগেই ভারতের উড়ন্ত গাড়ি ছিল, ইলন মাস্কের টেসলার সঙ্গে রামায়ণের পুষ্পক রথের তুলনা রণবীরের
ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে সমর্থন না পেয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ছাড়লেন কানাডীয় নারী
দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন অক্ষত অবস্থায় আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার বিকেলে উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেটি ভূপাতিত করা হয় বলে জানিয়েছে বাহিনীটির মহাকাশ বিভাগ। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের মার্কিন ড্রোন অক্ষত অবস্থায় তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড্রোনটি কেশম দ্বীপের আকাশে শনাক্ত করার পর ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। পরে বাহিনীর সদস্যরা সেটি অক্ষত অবস্থায় জব্দ করেন। তবে ড্রোনটি কী ধরনের নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বাহিনীটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে এ খবর প্রকাশ করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশে একই মডেলের আরেকটি মার্কিন ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছিল আইআরজিসির নৌবাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট ড্রোনটির দিকনির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করায়। ড্রোনটি পারস্য উপসাগরীয় উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত ছিল বলেও দাবি করে বাহিনীটি। আইআরজিসি নৌবাহিনীর দাবি, ড্রোন থেকে উদ্ধার করা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলের একটি দেশ থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে কোন দেশ থেকে এটি উড়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবারের ড্রোন আটকের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ইরানের বক্তব্যকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। শুক্রবার কেশম দ্বীপে ড্রোন আটকের নতুন দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমকিউএম-১৭০ মডেলের ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিফন অ্যারোস্পেস নির্মিত ‘আউটল’ সিরিজের একটি চালকবিহীন আকাশযান। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির অনুকরণে ব্যবহারের জন্য তৈরি। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এতে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ও ক্যামেরা যুক্ত করা যায়। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এর নির্দিষ্ট সরঞ্জাম ও মিশনসংক্রান্ত তথ্য জানা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা এবং ড্রোনসংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে কেশম দ্বীপে ড্রোন আটকের সর্বশেষ দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: পার্স টুডে, আনাদোলু এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য।
ইংল্যান্ডে লিভারপুল মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও ৬০০ ব্রিটিশকে ইসলামে দীক্ষিত করেন আইনজীবী উইলিয়াম হেনরি
কারখানার শ্রমিক থেকে প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, চীনের শীর্ষ ধনী নারী ঝৌ কুনফেই
নারী সেজে মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আতিকুরের কারাদণ্ড
মেক্সিকোর একটি স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পোশাকে আগুন লেগে শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় হিদালগো অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে ‘ডে অব দ্য ডেড’ উৎসবের আয়োজন চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে ছাত্রীর পোশাক দ্রুত পুড়ে যেতে শুরু করলে সহপাঠী ও শিক্ষকেরা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) হুয়াসকা দে ওকাম্পো এলাকার তেওদোমিরো মানজানো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত পোশাক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। এ সময় জাইরা ওসোরিও নামের ওই ছাত্রীর পরনে ছিল সোনালি রঙের একটি পোশাক, যা তামালে তৈরিতে ব্যবহৃত শুকনো ভুট্টার পাতা দিয়ে বানানো হয়েছিল। মঞ্চের পেছনে সাজানো একটি টেবিলে জ্বলছিল কয়েকটি মোমবাতি। একপর্যায়ে পোশাকটি মোমবাতির সংস্পর্শে এলে তাতে আগুন ধরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পোশাকে আগুন লাগার পর এক সহপাঠী প্রথমে হাত দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সে চেষ্টা সফল হয়নি। এ সময় মঞ্চে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে থাকে। পরে স্কুলের দুই কর্মী ছুটে এসে জাইরাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন। আগুন নেভাতে উপস্থিত কয়েকজন নিজেদের জ্যাকেট ও পোশাক ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে একজন বালতি ভর্তি পানি এনে তাঁর শরীরে ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুর্ঘটনার পর জাইরাকে প্রথমে হুয়াসকা দে ওকাম্পোর একটি শিশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মেক্সিকো সিটিতে স্থানান্তর করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তিনি দ্বিতীয় মাত্রার দগ্ধ হওয়ার ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর চিকিৎসায় নিয়মিত পরিচর্যা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। এদিকে মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহনে সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন তাঁর বাবা হোসে ওসোরিও। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে মেয়ের চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। পরিবারের সামর্থ্য দিয়ে সব খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই মেয়ের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এমন গুরুতর ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ, জবাবদিহি ও সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন। ঘটনার পর হিদালগো অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। এক বিবৃতিতে বিভাগটি জানিয়েছে, কী পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। স্কুলের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার নিয়মকানুন আরও জোরদার করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলে অগ্নিদাহ্য বস্তু ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ওই অনুষ্ঠানে মোমবাতি ব্যবহারের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ইনফোবায়ে ও হিদালগো অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ।
ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়ে আজীবন বিলাসবহুল জাহাজে থাকার পরিকল্পনা, এক মাসেরও কম সময়ে ভেঙে গেল স্বপ্ন
এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি মদ পান করে ভারতে ১৩ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা, গ্রেপ্তার ১১