জিও নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত
পবিত্র মহররম উপলক্ষে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৬ জুন সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে এমন কিছু ‘ধর্মীয় দৃশ্য’ দেখানো হয়, যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ওই ধরনের দৃশ্য ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার আশঙ্কা তৈরি করে।
এ ঘটনার পর রোববার এক বিবৃতিতে জিও নিউজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানটি ভুলবশত সম্প্রচারিত হয়েছিল এবং এটি চ্যানেলটির সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। একই সঙ্গে বিতর্কিত অংশটি তাদের সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
জিও নিউজের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সম্প্রচারিত ফুটেজে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মানুষের পালন করা কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান তুলে ধরা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতি প্রদর্শন করা, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতকে সমর্থন করা নয়।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, এ ক্ষেত্রে চ্যানেলটি যথাযথ সম্পাদকীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জিও নিউজকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি আরও পর্যালোচনার জন্য সংস্থার অভিযোগ কাউন্সিলে পাঠানো হয়েছে।
পাকিস্তানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং অন্যান্য নবী-রাসুলদের চিত্রায়ণ অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতে পশ্চিমা দেশগুলোতে এ ধরনের প্রকাশনা বা কার্টুনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে ধর্মীয় ইস্যু দ্রুত জনরোষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা থাকে। সে কারণে প্রতি বছর পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর পদক্ষেপ, সম্প্রচার স্থগিত এবং নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়তে দেখা গেছে।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের ২০২৬ সালের সূচক অনুযায়ী, ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম, যা দেশটির গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য বন্ধ থাকা একটি কর্মসূচি আবার চালু করছে দেশটির সরকার। নিরাপদ ও বৈধ পথে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের যুক্তরাজ্যে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়াই এর লক্ষ্য। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে চালু হওয়া কর্মসূচিতে শুরুতে কয়েকশ শরণার্থীকে নেওয়া হবে এবং এদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হতে পারেন আফগান নারী ও কিশোরী এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী। সোমবার লিভারপুলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থায় ন্যায্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধ, নিপীড়ন ও সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য নিরাপদ ও বৈধ পথ চালু রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রথম শরণার্থীদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে আসার কথা রয়েছে। নতুন পরিকল্পনাটি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। ইউএনএইচসিআর বিভিন্ন দেশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের শনাক্ত ও মূল্যায়নের মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য সুপারিশ করবে। এর আগে যুক্তরাজ্যের আফগানিস্তানভিত্তিক একটি পুনর্বাসন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হলো। সরকার জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির পাশাপাশি শরণার্থীদের জন্য আরও তিনটি নিরাপদ ও বৈধ পথ চালু করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থায় স্থানীয় সম্প্রদায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবাসন, সমাজে একীভূত হওয়া এবং কাজ খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। অক্টোবর থেকে দাতব্য ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রদায়ভিত্তিক পৃষ্ঠপোষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে। এই ব্যবস্থায় প্রথম শরণার্থীরা আগামী বছরের শরতে যুক্তরাজ্যে আসতে পারেন। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শরণার্থী শিক্ষার্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে। কর্মসংস্থানভিত্তিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের বসন্তে এবং ওই পথেও পরবর্তীতে শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ তৈরি হবে। যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, নতুন পুনর্বাসন কর্মসূচি ও তিনটি পৃষ্ঠপোষকতা পথ মিলিয়ে শুরুতে শরণার্থীর সংখ্যা কয়েকশ হবে। পরে অনিয়মিত অভিবাসন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বছরে কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রতি বছর মোট কতজনকে এসব বৈধ পথে নেওয়া হবে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা বা সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। সরকার বলছে, এর মাধ্যমে একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের জন্য বৈধ পথ রাখা হবে, অন্যদিকে অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করা হবে। শাবানা মাহমুদ বলেন, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের প্রতি ব্রিটিশ জনগণের মানবিক দায়িত্ববোধ এখনো রয়েছে। তবে তার মতে, শরণার্থী গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এবং নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। যেসব সম্প্রদায় নতুন শরণার্থীদের গ্রহণ করবে, তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সক্ষমতাও থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় বেশ কিছু কঠোর পরিবর্তনও আনছে। বৈধ পথে আসা কিছু অভিবাসীর স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। লেবার পার্টির ভেতর থেকেও এসব পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার সম্প্রতি বলেছেন, কিছু প্রস্তাবের কারণে অভিবাসীদের জন্য আগের নিয়মের তুলনায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে এবং তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের নিরাপদ ও বৈধ মানবিক পথগুলোতে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৩০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই অবস্থানরত মানুষের থাকার অনুমতি বাড়ানোর বিষয়। একই সময়ে শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কার্যক্রমও অব্যাহত ছিল। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন পুনর্বাসন নীতির আওতায় যারা আসবেন, তাদের পাঁচ বছরের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সরকার এটিকে অনিয়মিত পথে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার তুলনায় একটি নিয়ন্ত্রিত ও বৈধ বিকল্প হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর পদক্ষেপও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রয়টার্স
২৮০ কেজি সোনায় মোড়ানো কাবার দরজা তৈরির কারিগর থাইল্যান্ডের আবদুল্লাহ এখন সৌদি বাদশাহর অতিথি
ফেসবুক পোস্টে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার দায়ে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান কর্মীর মৃত্যুদণ্ড
হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৬০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী
লন্ডন থেকে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে হ্রদের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম (২০) নামে এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৬ সেপ্টেম্বর এ দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাঈম লন্ডন থেকে দুই বাংলাদেশি বন্ধুর সঙ্গে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আরটিভি অনলাইন জানিয়েছে, একটি লেকের পাশে ওজু করার সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান তিনি। নাঈম সাঁতার জানতেন না বলে জানা গেছে। নাঈম পানিতে পড়ে যাওয়ার পর পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তিনি পানিতে নেমে নাঈমকে খুঁজতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ লেকে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে।y প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধানের পর নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ওয়েলসের একটি হ্রদে ২০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ অনুসন্ধান চালানোর কথা জানানো হয়েছিল। নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। নাঈমের মামা মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পরিবার জানতে পারে স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে। খবর পাওয়ার পর নাঈমের বাবা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম পূর্ব লন্ডন থেকে দ্রুত ওয়েলসের উদ্দেশে রওনা হন। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান নাঈম যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার বাবা কেন্দ্রীয় কৃষক দলের একজন সদস্য বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নে। নাঈমের মরদেহ ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়েলস থেকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তার জানাজার সময় ও স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে। ওয়েলসের প্রাকৃতিক হ্রদ ও জলাশয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নিয়মিত সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে ঠান্ডা পানি, প্রবল বাতাস, পানির গভীরতা এবং তলদেশের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সাঁতার জানা ব্যক্তিদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সূত্র: আরটিভি অনলাইন, দ্য ডেইলি ড্যাজলিং ডন
২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে ৫৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের মা হলেন গ্রিসের নারী
‘গরুকে মা হিসেবে শ্রদ্ধা করি, জাতীয় প্রাণী ঘোষণার প্রয়োজন নেই’: যোগী আদিত্যনাথ
ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, হতে চান প্রধানমন্ত্রী
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে সড়ক প্রশস্ত করতে শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাতভর অবস্থান করেছেন স্থানীয় মুসলিমরা। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান রোববার রাতেও চলছিল। মসজিদের একটি অংশ সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সোমবার উচ্চ আদালতে শুনানির কথা রয়েছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ ধর্মীয় সমাবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উজ্জয়িনী পৌর কর্তৃপক্ষ একটি সড়ক প্রশস্ত করছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত ও যানজট সামলাতে কাজটি প্রয়োজন। প্রস্তাবিত সড়কের সীমানার মধ্যে শাহী মসজিদের একটি অংশ পড়েছে। মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দাবি, ভবনটি ১৩৯০ সালে নির্মিত। তাঁর আশঙ্কা, মসজিদের সামান্য অংশ ভাঙলেও পুরো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় মুসলিমরা মসজিদ অক্ষত রেখে সড়কের কাজ করার দাবি জানিয়েছেন। মসজিদটির বয়স নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য থাকায় ‘৬০০ বছরের পুরোনো’ দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। গত ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের একক বেঞ্চ পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা দুটি আবেদন খারিজ করে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ এরপর উচ্চ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন করেছে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর সেই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা। বিক্ষোভের মধ্যে মসজিদের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবারের শুনানির আগে মসজিদের অংশ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে, এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর অপহরণ করে নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাত্রা আফগান নাগরিকের
গোপনে উড়োজাহাজে আবুধাবি গেলেন নেতানিয়াহু, বৈঠক করলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে