গাজা

চাপা পড়ে থাকা ১১২ ফিলিস্তিনির মরদেহ
ধ্বংসস্তূপের নিচে দুই বছর পর মিলল ১১২ মরদেহ, গাজায় গণদাফন

গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ১১২ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করে গণদাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের মরদেহ একসঙ্গে দাফন করা হয়।    স্থানীয় সূত্র জানায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ধীরে ধীরে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ভারী যন্ত্রপাতির সংকট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত ছিল।    উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা জানান, গাজাজুড়ে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাও জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও নিরাপদ প্রবেশাধিকার না থাকায় বহু পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের দাফন করতে পারেনি।    মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, দীর্ঘদিন পর মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত করা শুধু একটি মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং স্বজনদের জন্য মানসিকভাবে শোক কাটিয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
গাজার খান ইউনিসে আয়োজিত ৫০০ মিটারের একটি দৌড় প্রতিযোগিতা। ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুদ্ধে বাবা-মা হারানো ১০০ শিশুর দৌড়, গাজায় অনাথদের পাশে থাকার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে অন্তত একজন অভিভাবক হারানো ১০০ শিশু দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আয়োজিত ৫০০ মিটারের একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। যুদ্ধে অনাথ হয়ে পড়া শিশুদের মানসিকভাবে সাহস জোগানো এবং সমাজের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।    আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতাটি শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; বরং যুদ্ধের মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে শিশুদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরির একটি প্রচেষ্টা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও সামাজিক কার্যক্রমও রাখা হয়।    অংশগ্রহণকারী শিশুদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, যুদ্ধ তাদের জীবন আমূল বদলে দিয়েছে। অনেক শিশু বাবা, মা অথবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে। তবুও দৌড়ে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে যায়নি।    জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বহুবার সতর্ক করেছে, গাজায় যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার শিশু এতিম হয়েছে বা পরিবারের প্রধান অভিভাবককে হারিয়েছে। এসব শিশুর জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবারও জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।    প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাতে খান ইউনিসসহ গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং শিশুদের বড় একটি অংশ শিক্ষা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই বাস্তবতায় আয়োজকেরা বলছেন, এমন সামাজিক উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে একটি ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গাজায় অস্ত্র ছাড়বে হামাস? ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে একটি ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মাধ্যমে এই সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি একে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথে ‘স্মরণীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো সংশয় প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় হামাস এবং গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী ধাপে ধাপে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে। একই সঙ্গে তাদের টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হবে এবং গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে সরে যাবে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ দিনের ধাপভিত্তিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামাসের ভারী ও হালকা অস্ত্র, অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো এবং টানেল নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় করার কথা রয়েছে। এরপর একটি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গাজার শাসনভার গ্রহণ করবে।    এই উদ্যোগ সফল করতে মিসর, কাতার ও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলে ট্রাম্প তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে গাজাকে আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হতে দেওয়া হবে না।  তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা হামাসের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দিহান। অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইসরায়েল যদি নিজস্ব প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে বা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।    ‘বোর্ড অব পিস’ ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক রূপান্তর তদারকি করা। তবে এই কাঠামোর বৈধতা, প্রতিনিধিত্ব এবং কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতা এবং কিছু পশ্চিমা দেশের অনাগ্রহ নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।    বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সমঝোতা বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে নিরস্ত্রীকরণ, নিরাপত্তা হস্তান্তর এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপরই পুরো পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
গাজা নিয়ে নতুন শান্তি পরিকল্পনায় শর্তসাপেক্ষ নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। ছবি: সংগৃহীত
গাজা সংকটে ঐতিহাসিক মোড়: সেনা প্রত্যাহারের শর্তে ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণে রাজি হামাস

গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন একটি শান্তি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি ধাপভিত্তিক রোডম্যাপে শর্তসাপেক্ষে নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। তবে সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করলেই কেবল তারা নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ জানিয়েছেন, নিরস্ত্রীকরণ কোনো একতরফা পদক্ষেপ হবে না। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ইসরায়েল চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে কি না তার ওপর। তার ভাষায়, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর নিশ্চয়তা মিললেই ধাপে ধাপে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দাবি করেন, ‘বোর্ড অব পিস’ হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার দাবি, এই পরিকল্পনার আওতায় ধাপে ধাপে হামাসের অস্ত্র অপসারণ করা হবে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলও পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কারিগরি কমিটির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণের কথা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে গাজায় নতুন একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর হয়নি। হামাস বলছে, ইসরায়েল যদি সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং পুনর্গঠনের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল সরকারও এখন পর্যন্ত পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়নি এবং এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আপত্তি রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   এই পরিকল্পনা মূলত চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত একটি ১৫ দফা রোডম্যাপের ধারাবাহিকতা। সেখানে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, গাজার প্রশাসন একটি নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির হাতে হস্তান্তর, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ এবং পরে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজার দীর্ঘ সংঘাত নিরসনের পথে বড় অগ্রগতি হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং চুক্তির প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়নের জটিলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে  ২,৫৯৬ অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত
গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে ২,৫৯৬ অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ভারত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েলে অন্তত ২ হাজার ৫৯৬টি চালানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাঠানো চালানগুলোর মধ্যে ছিল মেশিনগানের যন্ত্রাংশ, ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলা, ড্রোনের ওয়ারহেড, সাঁজোয়া যানের উপাদান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। অ্যামনেস্টির দাবি, এসব চালানের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার বিস্ফোরক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং প্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।    অ্যামনেস্টি বলেছে, তারা উন্মুক্ত বাণিজ্য তথ্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত রক্ষণশীল পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করেছে। ফলে প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়েও ভারতের প্রকৃত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটির ধারণা। প্রতিবেদনে ভারতের নয়টি কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিবেচনায় ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে সহায়তার শামিল হতে পারে। তিনি দেশগুলোর প্রতি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানান।  প্রসঙ্গত, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে একাধিক দেশের নীতির সমালোচনা করে আসছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে ভারতের বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টির সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে প্রায় অর্ধেক আমেরিকান
যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে প্রায় অর্ধেক আমেরিকান, জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেই তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মনে করেন দেশটির প্রায় অর্ধেক নাগরিক।   সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপের ফলাফলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সাধারণ আমেরিকানদের পাশাপাশি রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এই দাবির পক্ষে সায় দিয়েছেন।   প্রকাশিত জরিপের তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া নাগরিকদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত।   অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন ভূখণ্ডে গাজা যুদ্ধের কোনো অভিযোগ তুলে নেতানিয়াহুকে কখনোই গ্রেপ্তার করতে দেওয়া হবে না।   উল্লেখ্য, গাজা সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বিগত এক বছরে নেতানিয়াহু বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন।   মার্কিন প্রশাসনের নীতি ও রাজনৈতিক আশ্বাস সত্ত্বেও সাধারণ আমেরিকান এবং ট্রাম্প সমর্থকদের এক বড় অংশের মাঝে নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার নিয়ে এমন মনোভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
লিয়ানের ভিডিওর জবাবে গাজার শিশু ও ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে আবেগঘন বার্তা স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজার একটি ভবনের দেয়ালে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ম্যুরাল এঁকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন ফিলিস্তিনি কিশোরী লিয়ান আল-কাওকা। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্বয়ং সানচেজ ভিডিওবার্তায় লিয়ান, গাজার শিশু এবং ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশে সংহতি ও ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন।    ভিডিওতে লিয়ান বলেন, এটি শুধু একটি দেয়ালচিত্র নয়; বরং গাজার মানুষের পক্ষ থেকে স্পেনের জনগণ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক অবস্থানের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বার্তা স্পেনের মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং গাজার মানুষের অনুভূতি তুলে ধরবে।    এর জবাবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে পেদ্রো সানচেজ লিয়ান এবং ম্যুরাল তৈরিতে অংশ নেওয়া শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এত কষ্ট ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও তারা স্পেনের প্রতি ভালোবাসার যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তা স্পেনের মানুষের জন্য গভীরভাবে স্পর্শকাতর।   গাজার শিশু ও তাদের পরিবারের উদ্দেশে সানচেজ বলেন, “স্পেনের পুরো সমাজ তোমাদের কথা শুনছে, তোমাদের দেখছে, তোমাদের কথা ভাবছে এবং তোমাদের ভুলে যায়নি।” একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই গাজার শিশুরা ভয়মুক্ত পরিবেশে আবার স্কুলে ছবি আঁকতে পারবে এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।    স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে লিয়ান আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, জীবনে এই প্রথম কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী তার নাম ধরে ভিডিওবার্তার জবাব দিয়েছেন। ভাষা আলাদা হলেও মানবিক অনুভূতির কোনো সীমান্ত নেই উল্লেখ করে তিনি স্পেনের জনগণ, প্রধানমন্ত্রী এবং ম্যুরাল তৈরিতে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।    গাজা যুদ্ধ নিয়ে শুরু থেকেই ইউরোপের অন্যতম উচ্চকণ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত পেদ্রো সানচেজ। তিনি বারবার যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে স্পেন নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, যা গাজা ইস্যুতে দেশটির অবস্থানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গাজার শিশুদের আঁকা ছবি অফিসে রাখি
‘গাজার শিশুদের আঁকা ছবি অফিসে রাখি, যেন ভুলে না যাই: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

গাজায় চলমান মানবিক সংকটের কথা যেন কখনো ভুলে না যান, সে জন্য গাজার শিশুদের আঁকা একটি ছবি নিজের সরকারি কার্যালয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেছেন, ছবিটি প্রতিদিন তাকে গাজার শিশু ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং মানবিক সংকটের কথা মনে করিয়ে দেয়।   সানচেজের ভাষ্য, একটি শিশুর আঁকা এই ছবির প্রতীকী গুরুত্ব তার কাছে অনেক বেশি। এটি শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং যুদ্ধের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের বাস্তবতা ও অসহায় অবস্থার একটি স্মারক। তাই তিনি ছবিটি এমন জায়গায় রেখেছেন, যেখানে প্রতিদিন কাজের সময় তার চোখে পড়ে।   স্পেনের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে আসছেন। তিনি বারবার অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে গাজায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন।   ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্পেন সবচেয়ে সক্রিয় অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর একটি। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সেই সময় স্পেনের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নরওয়েও একই সিদ্ধান্ত নেয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সানচেজ একাধিকবার বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। তার মতে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে নিরীহ শিশু ও সাধারণ মানুষকে, আর গাজার শিশুদের আঁকা সেই ছবিটি প্রতিদিন তাকে সেই বাস্তবতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে হামলা। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় জানাজারত অবস্থায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৪

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতাল।   স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় অবস্থিত আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জানাজার নামাজ শেষ হওয়ার পর মরদেহ বহন করছিলেন শোকাহত স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় সেখানে একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হলে ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।   হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী সেলকে’ লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।   অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি সত্ত্বেও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে।   এদিন গাজার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক হামলাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। আজ-জাওয়ায়দা এলাকায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এছাড়া নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে গোলাবর্ষণে আরও একজনের মৃত্যু হয়।   গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই দিনে খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।   আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির দাবি থাকা সত্ত্বেও মে মাস থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলার মাত্রা বেড়েছে। সংস্থাটির হিসাব বলছে, গত মাসে ৪০টিরও বেশি বিমান হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এক মাসে সর্বোচ্চ। এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত নয় মাসে গাজায় অন্তত ২৭৪ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।   অন্যদিকে, ইসরাইলের দাবি, তাদের সামরিক অভিযান শুধুমাত্র হামাসের সশস্ত্র সদস্য ও সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনে এক অনন্য নজির স্থাপন করল নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত
গাজার মানুষের জন্য ফুটবল ম্যাচের টিকিটের পুরো অর্থ দান করল নরওয়ে

ফুটবল শুধু মাঠের লড়াই বা ট্রফি জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এবার সেই বার্তাই নতুন করে তুলে ধরেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ইউরোপীয় বাছাইপর্বে ইসরায়েলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে দান করেছে সংস্থাটি।   ওসলোর উলেভাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে নরওয়ে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে ইসরায়েলকে হারায়। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের মানবিক উদ্যোগ। টিকিট বিক্রি থেকে সংগৃহীত অর্থ আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (Médecins Sans Frontières–MSF)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি গাজাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ এলাকায় জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে।   নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসা ক্লাভেনেস এক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। তাই সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তারা নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব মনে করেন। তার ভাষায়, গাজায় প্রতিদিন জীবন রক্ষার কাজ করে যাচ্ছে এমন একটি সংস্থার হাতে এই অর্থ তুলে দিতে পেরে তারা গর্বিত।   তিনি আরও বলেন, ফুটবল মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। সেই শক্তিকে মানবিক কল্যাণে ব্যবহার করা গেলে খেলাধুলার প্রকৃত মূল্য আরও বাড়ে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজার বেসামরিক মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।   মানবিক এই উদ্যোগে নরওয়ের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানও অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত ৩০ লাখ নরওয়েজিয়ান ক্রোনার, যা প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে গাজার জন্য মানবিক সহায়তার মোট তহবিল আরও বড় আকার ধারণ করেছে।   আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তায় নরওয়ের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শরণার্থী সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগেও দেশটি নিয়মিত ভূমিকা রেখে আসছে।   এদিকে মাঠের খেলাতেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে নরওয়ে। ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা শেষ ষোলো পর্বে শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। তবে শেষ আটের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়।   ফুটবলের সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগের কারণে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, খেলাধুলা সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে নরওয়ের এই উদ্যোগ তারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
Men carry the body of one of several victims who were killed after a police station was was hit by Israeli bombardment in the Jabalia camp.
গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৫, যুদ্ধবিরতির পর বেড়েছে হামলার মাত্রা

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।    স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার তুফাহ এলাকায় একটি বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ট্যাংকের গোলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া পশ্চিম গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় একজন এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে একটি গাড়িতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও বিমান হামলার খবর দিয়েছেন।   এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে ইসরায়েল বরাবরের মতোই বলছে, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতেই তারা লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে।   ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। হামাস তাদের নিজস্ব যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত প্রকাশ করে না। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।   অন্যদিকে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, জুন মাসে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলার সংখ্যা ৪০টির বেশি ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যা।   সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী গবেষণা ব্যবস্থাপক নাসের খদুর বলেছেন, আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হামাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান নিতে পারেন।   ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্তপারের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উভয় পক্ষের এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েল ইস্যুতে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে নীতিগত বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিলেন শতাধিক ডেমোক্র্যাট

ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) শতাধিক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি পাস না হলেও, এই ভোটাভুটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান নীতিগত বিভাজনকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টমাস ম্যাসি একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।   ভোটাভুটিতে সংশোধনীটি ৩১৪ ভোটে নাকচ হয়। এর বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩১৪টি এবং পক্ষে পড়ে ১০৪টি ভোট। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পক্ষে দেওয়া ১০৪ ভোটের মধ্যে ১০৩ জনই ছিলেন ডেমোক্র্যাট এবং একজন ছিলেন রিপাবলিকান সদস্য।   অন্যদিকে ৯৮ জন ডেমোক্র্যাট প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন এবং ১০ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। এই ফলাফল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট করেছে।   দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও ভিন্ন অবস্থান দেখা গেছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিস এবং পিট অ্যাগুইলার সংশোধনীর বিপক্ষে ভোট দেন। তবে দলের হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়ে আলোচনার জন্ম দেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। মাত্র দুই বছর আগে একই ধরনের একটি প্রস্তাবে ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন মাত্র ৩৭ জন ডেমোক্র্যাট। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ১০৩-এ পৌঁছেছে।   ভোটের পর কংগ্রেসনাল প্রোগ্রেসিভ ককাসের চেয়ারম্যান গ্রেগ ক্যাসার বলেন, প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলের কাছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা পাঠানোর পক্ষে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।   তার দাবি, এই ভোট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। তার ভাষায়, যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিঃশর্ত সমর্থনের সময় শেষ হয়ে আসছে এবং এই ভোট ভবিষ্যতের মার্কিন নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   তবে ক্যাথরিন ক্লার্ক বলেছেন, রিপাবলিকানদের আনা সংশোধনীটি তার দৃষ্টিতে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কারণ এতে গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তাও বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার বার্তা দিতেই প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।   অন্যদিকে ভোটদানে বিরত থাকা ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড হাফম্যান বলেন, ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।   দলের অভ্যন্তরে বিভাজন আরও গভীর না করতে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ভোট নির্দেশনা বা 'হুইপ' জারি করেনি। ফলে সদস্যরা নিজ নিজ বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।   বিশ্লেষকদের মতে, সংশোধনীটি পাস না হলেও এই ভোটাভুটি মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবস্থানের পরিবর্তনশীল চিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আগামী দিনে এ ইস্যুতে কংগ্রেসে আরও বিতর্ক এবং নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   সূত্র: সিএনএন ও আল-জাজিরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের প্রতি তুরস্কের আদালতের আনুষ্ঠানিক আবেদন

গাজামুখী আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছে তুরস্কের একটি আদালত। তবে এই নির্দেশের অর্থ এই নয় যে ইন্টারপোল ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে। বিষয়টি এখন ইন্টারপোলের নিজস্ব পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।   তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং আদালতের নথি অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের ১১তম হাই ক্রিমিনাল কোর্ট চলমান বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছে। আদালতের ভাষ্য, বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ইন্টারপোলে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। কোনো সদস্য রাষ্ট্র আবেদন করলে ইন্টারপোল সেটি তাদের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করে। অনুমোদন পেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত প্রতিটি সদস্য দেশের নিজস্ব আইনের ওপর নির্ভর করে।   মামলাটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে ঘিরে। তুরস্কের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী ত্রাণবহরটি আটক করে, জাহাজে থাকা বেসামরিক যাত্রীদের আটক ও নির্যাতন করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে অভিযান পরিচালনা করে। এ ঘটনায় তুর্কি নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।   ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর কার্যালয় গত এপ্রিলে নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, নির্যাতন, ইচ্ছাকৃত আহত করা, সম্পদের ক্ষতি, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং পরিবহনযান অবৈধভাবে দখলের মতো একাধিক অভিযোগ।   এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তুরস্কের একটি আদালত নেতানিয়াহুসহ ৩৭ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। বর্তমান সিদ্ধান্তকে সেই বিচারিক প্রক্রিয়ারই পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তুরস্কের আদালতে বিচার কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। ইসরায়েল এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ বিষয়ে বিভিন্ন আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান । ছবি: আল জাজিরা
গাজা–পশ্চিম তীর দখলে গতি বাড়িয়েছে ইসরায়েল, শিশু হত্যা নিয়ে ‘গণহত্যার ইঙ্গিত’

গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও বসতি সম্প্রসারণ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি মন্ত্রীরা যে পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই সপ্তাহে তার বাস্তবায়নের বিভিন্ন লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে এবং এটি গণহত্যার উদ্দেশ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ সম্প্রতি হেবরন চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। একই সময়ে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো সরকারের পরিকল্পিত ‘নীরব সংযুক্তিকরণ’ কৌশল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সপ্তাহজুড়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা।   হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ করে এবং মসজিদের খোলা চত্বরে ইস্পাতের বিম বসানোর কাজ শুরু করে। মসজিদের পরিচালক এই পরিবর্তনকে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির চরিত্রে মৌলিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে সেখানে টানা দেড় সপ্তাহ ধরে মুসলিমদের আজান বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।   গাজায় নতুন করে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাও প্রকাশ্যে এনেছেন স্মতরিচ। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সেটেলমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গাজার উত্তরাঞ্চলে তিনটি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তা অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে গাজার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণসীমা নির্দেশকারী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পাশে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সিমেন্টের সীমাচিহ্ন আরও পশ্চিমে সরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরও বিস্তৃত হয়েছে।   নেতানিয়াহু আলাদাভাবে জানিয়েছেন, ইসরায়েল গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।   পশ্চিম তীরেও বসতি সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ দেখা গেছে। রামাল্লাহর উত্তরে সিনজিল এলাকার কাছে ৪৬৫ দুনাম বা ০.৪৬৫ বর্গকিলোমিটার জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় জমি’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল গিভাত হারোয়েহ আউটপোস্টকে পশ্চাৎমুখীভাবে বৈধতা দেওয়া এবং রুট-৬০ বরাবর বৃহত্তর বসতি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা। আউটপোস্টটি ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক বসতিতে রূপান্তরিত হয়।   ওয়াফা ও স্থানীয় কর্মী নেটওয়ার্কগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীরা কোবার ও বেইতিল্লুর কাছে ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিলিস্তিনি জমিতে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে এবং আল-মাজরা আশ-শারকিয়া ও কাফর মালেকের মাঝখানে নতুন আউটপোস্ট গড়তে জমি ঘিরে ফেলেছে।   জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২৩ জুন মধ্যরাতে বেইত লাহিয়ার কাছে একটি কোয়াডকপ্টার থেকে দাহ্য গোলাবারুদ ফেলা হয় বলে জানা গেছে। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষের তিনটি তাঁবুতে আগুন লাগে। ঘটনার পর ইসরায়েলি বাহিনী আশ্রয়শিবিরের পাশে একটি হলুদ সিমেন্ট ব্লক স্থাপন করে, যা নিয়ন্ত্রণরেখা আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।   জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে এই রেখার আশপাশে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা ‘প্রবেশ-সীমাবদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   ২৩ জুন জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং হত্যা করেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশ।   কমিশনের ভাষ্য, শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেদিটিকে ‘মানহানিকর প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেছে।   এর কয়েক দিন পর ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৪১ জন ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি এমন এক নীতির ফল, যা কার্যত কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের হত্যাকে সম্ভব করেছে।   ২৯ জুন রামাল্লাহ সংলগ্ন এল-বিরেহ শহরে ১৫ বছর বয়সী আহমদ জাওয়াদ জাবের ইসরায়েলি অভিযানের সময় মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। রামাল্লাহর গভর্নর লাইলা ঘান্নাম ঘটনাটিকে ‘দিবালোকে সংঘটিত স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন।   গাজার চিকিৎসাসূত্র ও ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সী আইলিন আল-ফারা স্প্লিন্টারের আঘাতে মারা যায়। দেইর আল-বালাহর কাছে আট বছর বয়সী মালিক আবু শাওয়িশ নিহত হয়। একই দিন আল-মাওয়াসিতে একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় ২৩ বছর বয়সী ডায়ানা আবু দারাজ এবং তাঁর শিশু কন্যা সুয়ার নিহত হয়। যুদ্ধবিরতির আওতায় ওই এলাকাকে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।   রামাল্লাহ অঞ্চলের দার ফাজা ও পূর্ব তাইবেহ এলাকায় নতুন আউটপোস্ট প্রতিষ্ঠার পর ১১টি বসতি স্থাপনকারীর হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ওসিএইচএ। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা স্থানীয়দের একমাত্র পানির উৎস নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ২০০ জনের বেশি মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। একই সড়কপথের ১০টি বেদুইন সম্প্রদায়ের মধ্যে ৯টি এলাকা ইতিমধ্যে প্রায় খালি হয়ে গেছে।   তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ১৪ জুন দেইর দিবওয়ানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছয়জন বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন ১৮ বছর বয়সী। ওই হামলায় যানবাহন ও একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছিল।   এ ছাড়া ২৫ জুন বেইত আনোটের একটি বসতি আউটপোস্টে কয়েকটি ঘর ভেঙে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন বসতি স্থাপনকারী নেতারা। একই সময়ে ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যাহত ছিল। এ সময় ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে রেড ক্রসের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করতে আনা একটি বিলও ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হয়নি। অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় আইনপ্রণেতাদের ভোট বর্জনের কারণে বিলটি আটকে যায়।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতির প্রায় নয় মাস পর যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী নিহতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪৫ জনে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে ২৫ জুন বেইত লাহিয়ায় একটি হামলায় একজন নিহত হন। ২৬ জুন মাঘাজি শরণার্থীশিবিরের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ২৭ জুন আল-মাওয়াসিতে আরেক হামলায় দুই ভাইবোন নিহত হয়।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, প্রয়োজনীয় সরবরাহ না থাকায় গাজার প্রায় অর্ধেক ডায়ালাইসিস মেশিন অচল হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে ইসরায়েলের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ওসিএইচএ জানিয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ২৫ শতাংশেরও কম পেয়েছে।

Unknown জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
বামদিকে: ইসরায়েলি কারাগারে যাওয়ার আগে ড. আবু সাফিয়া। ডানদিকে: ইসরায়েলি কারাগারে দেড় বছর কাটানোর পর । ছবি: সংগৃহীত
গাজা ইস্যুতে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নীরবতার প্রতিবাদে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ

শিকাগো: গাজায় স্বাস্থ্যখাতের সংকট এবং ফিলিস্তিনি শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হুসাম আবু সাফিয়ার আটক নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (এএমএ)-এর সমালোচনা করেছেন একদল অধিকারকর্মী। সংগঠনটির বার্ষিক সম্মেলনের বাইরে তারা বিক্ষোভ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে চিকিৎসকদের এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।   এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক কর্মী দাবি করেন, শিকাগোতে অনুষ্ঠিত এএমএর সম্মেলনে তারা ডা. হুসাম আবু সাফিয়ার আটক এবং গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিস্থিতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের অবহিত করতে লিফলেট বিতরণ করছিলেন। সে সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। এমনকি সংগঠনের এক কর্মীও তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   নিবন্ধে বলা হয়েছে, শিশু ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ ডা. হুসাম আবু সাফিয়া ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের হেফাজতে রয়েছেন। লেখকের দাবি, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি এসব দাবির স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।   লেখক আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর স্বাস্থ্যখাতের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এএমএ দ্রুত বিবৃতি দিয়েছিল এবং সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, হাসপাতাল ধ্বংস এবং চিকিৎসাকর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ে সংগঠনটি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।   নিবন্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত বলে দাবি করা ডা. আবু সাফিয়ার একটি ছবিরও উল্লেখ রয়েছে। লেখকের ভাষ্য, ছবিতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির চিহ্ন দেখা যায়। তবে ছবিটির সত্যতা কিংবা সেখানে নির্যাতনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   এ বিষয়ে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়নি।

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গাজায় পুনর্গঠন শুরু করতে ইসরায়েলকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ না করলেও গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইসরায়েলের কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার আলোকে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।   প্রস্তাবের বিষয়বস্তু থেকে ইঙ্গিত মিলছে, গাজায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র এখন ইসরায়েল সরকারের কাছ থেকে এই শান্তি উদ্যোগে লিখিত সম্মতি বা আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর চাইছে, যাতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা যায়।   মার্কিন পরিকল্পনায় গাজার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা পুনরায় চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে এসব খাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, যা গাজার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।   তবে প্রস্তাবটি নিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সরকার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় টানা সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক মহলে পুনর্গঠন নিয়ে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে দ্রুত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার জরুরি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে অচলাবস্থা থাকলেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলেছে, অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা ছাড়া এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।   এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান কূটনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় চিকিৎসাসেবায় ভয়াবহ সংকট, বাইরে চিকিৎসার অনুমতি পেয়েছেন মাত্র ৩৬ শতাংশ রোগী

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির আওতায় প্রায় ২১ হাজার মানুষের চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত অনুমতি পেয়েছেন ৭ হাজার ৫০০ জনেরও কম, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৬ শতাংশ।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী গাজার বাইরে যাওয়ার কথা ছিল এমন ব্যক্তিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী রোগী। প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে দুইজন করে সহযাত্রীর অনুমতি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে হাজারো গুরুতর অসুস্থ রোগী এখনও গাজায় আটকা রয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে তাদের অনেকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সীমিত সক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে নাসের হাসপাতাল। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের তীব্র সংকটে হাসপাতালটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   এদিকে খান ইউনিসে সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েলি হামলায় একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি নাসের হাসপাতালে দুই দফা অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।   স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাম্বুলেন্সগুলোর গায়ে গুলির অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। অধিকাংশ যানবাহনের জানালা ও ভেতরের আসন আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া অতিরিক্ত ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।   গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং রোগীদের বাইরে পাঠানোর সুযোগ দ্রুত বাড়ানো না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
গাজা-লেবাননসহ একাধিক ফ্রন্টে অভিযানে ইসরায়েলের ব্যয় ২০৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
গাজা-লেবাননসহ একাধিক ফ্রন্টে অভিযানে ইসরায়েলের ব্যয় ২০৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

গত প্রায় তিন বছরে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের মোট ব্যয় প্রায় ২০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে দেশটির একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম জমান ইসরায়েল—যা দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের হিব্রু সংস্করণ—এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি পরে আন্তর্জাতিক মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডও উল্লেখ করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতগুলোর ফলে ইসরায়েল সরকারের সরাসরি ব্যয়ই ১১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ব্যাংক অব ইসরায়েলের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, বেসামরিক বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার এবং ঋণের সুদ পরিশোধে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সামরিক সহায়তার আর্থিক মূল্যও এই হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামসহ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।   তবে ব্যয় শুধু সরকারি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংঘাতের কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের উৎপাদন ক্ষতিও হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছে। আর ২০২৬ সালের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্ত করলে তা ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।   সব মিলিয়ে সরকারি ব্যয়, বিদেশি সামরিক সহায়তা এবং উৎপাদন ক্ষতি একত্রে বিবেচনা করলে সংঘাতগুলোর মোট অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ২০৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এই বিশ্লেষণে ব্যক্তিগত ক্ষতি বা বেসরকারি খাতের সব ধরনের লোকসান পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত অর্থনৈতিক চাপ আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্টরা। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় করের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে এবং এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক সংঘাতকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক সময় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই যুদ্ধগুলোর আর্থিক অভিঘাত আগামী বহু বছর ধরে দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ছবি।
ভয়াবহ গবেষণা: দেশের ৮২ লাখ মাদকসেবীর মধ্যে ৬১ লাখই গাঁজাখোর

দেশে মাদক ব্যবহারের যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করছেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো গাঁজা এবং এককভাবে গাঁজাসেবীর সংখ্যা প্রায় ৬১ লাখ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।   গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবহারের হার বিবেচনায় ময়মনসিংহ শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ৬ দশমিক ০২ শতাংশ মানুষ মাদকাসক্ত। এর পরেই রয়েছে রংপুর (৬ শতাংশ) ও চট্টগ্রাম (৫ দশমিক ৫০ শতাংশ) বিভাগ। তবে সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এই সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ ৯০ হাজার। গাঁজার পাশাপাশি ইয়াবা, অ্যালকোহল, কফ সিরাপ ও হেরোইনের মতো মাদকের ব্যাপক উপস্থিতিও গবেষণায় নথিবদ্ধ করা হয়েছে।   এই গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক হারে মাদকাসক্ত হয়ে পড়া। তথ্যমতে, ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছেন। এছাড়া ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে মাদক গ্রহণের হার ৫৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা, হতাশা ও মানসিক চাপের পাশাপাশি মাদকের সহজলভ্যতা তরুণদের এই অন্ধকার পথে ঠেলে দিচ্ছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৯০ শতাংশ মাদকসেবী স্বীকার করেছেন যে, তাদের কাছে মাদক সংগ্রহ করা অত্যন্ত সহজ।   চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গবেষণায় বড় ধরনের ঘাটতির চিত্র ফুটে উঠেছে। তথ্যানুযায়ী, মাত্র ১৩ শতাংশ মাদকসেবী এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সুবিধা পেয়েছেন। অধিকাংশ মাদকসেবীই চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, মাদক সমস্যা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট।   এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও গবেষণাভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, ঝুঁকি বিবেচনায় সরকার ইতোমধ্যে সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে এবং পরিবার ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
‘ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরান গাজার মতো ধ্বংস হতো’—পাকিস্তানে পেজেশকিয়ানের মন্তব্য

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে দেশটিকে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হতো—এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিই ইরানকে সম্ভাব্য বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা করছে।   বুধবার (২৪ জুন) সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তান সফরকালে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গাজায় চলমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করেছে।   প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি না থাকলে শত্রুরা ইরানের শিশু কিংবা বৃদ্ধ—কাউকেই রেহাই দিত না।” তিনি আরও বলেন, আত্মরক্ষার প্রশ্নে ইরান কোনো ধরনের আপস করবে না এবং সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখা দেশের জন্য অপরিহার্য।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইসলামাবাদে পৌঁছান পেজেশকিয়ান। রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এ সময় ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দামও উপস্থিত ছিলেন।   এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও ওমান থেকে এসে প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান।   বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া। গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের উদাহরণ টেনে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।   ইরানের দৃষ্টিতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এ কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও দেশটি বরাবরই বলে আসছে, এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

নীলুফা নিশাত জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
লিডসে আয়োজিত চ্যারিটি ওয়াকে অংশ নেয় শিশু-কিশোররা । ছবি: সংগৃহীত
গাজার অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়াতে লিডস শহরের শিশুদের মানবিক উদ্যোগ

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করেছে যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডের লিডস শহরের একদল শিশু-কিশোর। ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রতীকী পদযাত্রায় (চ্যারিটি ওয়াক) অংশ নিয়ে তারা এই অর্থ সংগ্রহ করে।   গত শনিবার লিডসের মিনউড পার্কে অনুষ্ঠিত এই চ্যারিটি ওয়াকে কয়েক ডজন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। গাজায় চলমান মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানাতে এবং তাদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।   পদযাত্রার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি, আফ্রিকান এবং স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ কমিউনিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শিশুদের উৎসাহিত করেন এবং মানবিক এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।   আয়োজক সংস্থা ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র এক মুখপাত্র জানান, ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার অঞ্চলের মধ্যে লিডসের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। তাদের সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ সাত হাজার পাউন্ডেরও বেশি। এই অর্থ দ্রুত গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় পাঠানো হবে।   পদযাত্রা শেষে অংশগ্রহণকারী শিশুদের সোনালি রঙের সম্মাননা মেডেল প্রদান করা হয়। মেডেল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিশুরা। একই সঙ্গে সন্তানদের এমন মানবিক উদ্যোগে অংশ নিতে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন অভিভাবকরাও।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা শুধু তহবিল সংগ্রহই করেনি, বরং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতির মূল্যবোধও শিখেছে। তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারে।   গাজায় চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শিশুদের এই উদ্যোগ স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Unknown জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০