ঐতিহাসিক নজির ভেঙে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ঈদুল ফিতরের দিনে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথমবার ঈদের দিনে মুসল্লিদের জন্য মসজিদটি বন্ধ রাখা হলো বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনারা মসজিদের প্রধান ফটকগুলো বন্ধ করে দিলে শত শত ফিলিস্তিনি মুসল্লি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তারা মসজিদের প্রবেশদ্বার ও আশপাশের সড়কে ঈদের নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার থেকে মসজিদের ভেতরের চত্বরে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মুসল্লিরা দামেস্ক গেট এলাকায় জড়ো হয়ে নামাজ আদায় করেন, যেখানে গিয়ে তারা তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থান নিতে পেরেছেন। এ ঘটনায় জেরুজালেম গভর্নরেট তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ এবং ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন করে ‘ইহুদিকরণ’ বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং মসজিদটিকে ফিলিস্তিনি ও ইসলামি পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর গত ২১ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ-এ মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গাজা উপত্যকা-য় ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ঈদ পালন করেছেন ফিলিস্তিনিরা। খোলা জায়গা ও ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে তারা নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ১ হাজার ২৪০টি মসজিদের মধ্যে ১ হাজার ১০০টির বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে।
দখলকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রনে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরাসরি হেব্রনের একটি বিউটি স্যালনের ওপর এসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা 'ওয়াফা'র তথ্যমতে, নিহতরা হলেন ১৭ বছর বয়সী কিশোরী মাইস গাজী মুসালামেহ, ৫০ বছর বয়সী সাহেরা রিজক মুসালামেহ এবং ৩৬ বছর বয়সী আমাল সুবহি আবদেল করিম মুতাওয়া। ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি ধাতব ক্যারাভানে নির্মিত স্যালনের ওপর পড়লে ভেতরে থাকা আরও ১৩ জন নারী গুরুতর আহত হন। ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সুরক্ষিত শেল্টার বা বাঙ্কার থাকলেও, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য এমন কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং অস্থায়ী বসতিতে বসবাসের কারণে আকাশপথের যেকোনো হামলায় চরম ঝুঁকিতে থাকেন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি যুদ্ধের ডামাডোলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের চরম নিরাপত্তাহীনতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত অক্টোবর মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গাজা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। হামাস পরিচালিত এই পুলিশ বাহিনী বর্তমানে গাজার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছে। ইসরায়েলের এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গাজার বেসামরিক শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৮০০-এর বেশি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকেও কয়েক ডজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই হামলার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার মধ্য গাজার জাওয়াইদা এলাকায়। সেখানে একটি পুলিশ ভ্যানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য দাবি করেছে, তারা হামাসের একটি 'সশস্ত্র সেল'কে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যারা হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেহাম ওদা বলেন, "এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে চায় যে, গাজায় হামাসের কোনো ধরণের নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ তারা মেনে নেবে না। মূলত বেসামরিক শাসনব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়াই এসব হামলার লক্ষ্য।" অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই পুলিশ বাহিনীর ওপর এই আক্রমণ এক নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। হামাস চায় তাদের ১০ হাজার পুলিশ সদস্যকে নতুন প্রস্তাবিত নিরাপত্তা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে, কিন্তু ইসরায়েল সরাসরি এর বিরোধিতা করছে। গাজার সাধারণ মানুষ এই পুলিশ বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল। গাজা সিটির একটি তাবু শিবিরের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল-আরাইশা বলেন, "পুলিশ না থাকলে এখানে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো। তারা অপরাধ দমনে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করছে। তাদের ওপর এই হামলা মানে আমাদের নিরাপত্তার ওপর হামলা।" গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অক্টোবর মাসের যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ও হামলায় অন্তত ৬৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি চলন্ত যানবাহনকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলায় একটি সাদা রঙের জিপ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইয়াহিয়া আবু লাবদা, এহসান হামেদ আল-সামিরি এবং তামের বারাকা নামে এক শিশু নিহত হয়। এই হামলায় আরও ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯৯ জনই শিশু। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২,২৫০ ছাড়িয়ে গেছে। গাজায় হামলার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও দমন-পীড়ন জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার দিবাগত রাত ও মঙ্গলবার ভোরে হেবরন (আল-খলিল), রামাল্লাহ এবং নাবলুসের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। হেবরনের আল-আরউব শরণার্থী শিবিরে হানা দিয়ে অন্তত ১৫ জন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি সেনারা। রামাল্লাহর আল-আমামারি শরণার্থী শিবিরে অভিযানের সময় শব্দবোমা (stun grenades) ব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এদিকে নাবলুসের বেইতা এলাকার কাছে আল-ইয়াতমাউইতে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার শিকার পরিবারগুলোর সহায়তায় আসা অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বাধা দেয় তারা। এছাড়া জোসেফের সমাধির কাছেও ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারীরা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, গাজা এবং পশ্চিম তীরে একই সঙ্গে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও ইসরায়েলি অভিযান অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু, এক গর্ভবতী নারী এবং ৯ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (১৫ মার্চ) মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালানো হয়। আল-আকসা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় চারজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব এক দম্পতি, তাদের প্রায় ১০ বছর বয়সী ছেলে এবং পাশের বাড়ির ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহত নারীটি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ আল-মুহতাসেব জানান, গভীর রাতে তারা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বলেন, আঘাতটি খুবই প্রবল ছিল এবং হামলার আগে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। এছাড়া একই দিনে মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা শহরের প্রবেশমুখে একটি পুলিশ গাড়িকে লক্ষ্য করে আরেকটি হামলা চালানো হয়। ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে মধ্য গাজার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল ইয়াদ আবু ইউসুফও রয়েছেন। আল-আকসা হাসপাতাল জানিয়েছে, এই হামলায় আরও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, নিহত পুলিশ সদস্যরা পবিত্র রমজান মাসে বাজার তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে এ ঘটনায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা ও ‘গণহত্যা’ থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত গাজা সিটি এবং খান ইউনিসে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক উত্তজনা এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গাজা সিটি এবং খান ইউনিসের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় রাতভর বিমান ও স্থল হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রগুলো নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া খান ইউনিসে একটি পুলিশ পোস্টে হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর ঘোষিত তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ইসরায়েল শত শত বার লঙ্ঘন করেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতির নাটক শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৬৫৫ ছাড়িয়ে গেছে। ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই গাজায় আঘাত হেনেছে তীব্র ধূলিঝড়। এতে তাঁবুতে বসবাসকারী হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির কষ্ট কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। জীর্ণ তাঁবুর ভেতরে ধুলোবালি ঢুকে পড়ায় বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। রাফাহ সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকায় হাজার হাজার আহত ফিলিস্তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যেতে পারছেন না। ১২ বছর বয়সী হামদির মতো অনেক শিশু মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়ে পঙ্গুত্বের পথে। হামদির বাবা আমের হামাদি আল জাজিরাকে বলেন, "আমার ছেলে প্রতিদিন অন্য শিশুদের ফুটবল খেলা দেখে কাঁদে আর জিজ্ঞেস করে— বাবা, আমি কেন হাঁটতে পারি না?" চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জরুরি অস্ত্রোপচার করা গেলে হামদি হয়তো আবার হাঁটতে পারতেন, কিন্তু সীমান্ত বন্ধ থাকায় তার জীবন এখন অনিশ্চিত। দুই সপ্তাহ আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া সরাসরি সংঘাত গাজা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় খাদ্য ও জ্বালানি সংকট চরমে পৌঁছেছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে মানুষ প্লাস্টিক ও কাঠ পুড়িয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, গাজায় নারীদের বাঁচার ন্যূনতম পরিবেশ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এটি যুদ্ধের একটি পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল। গাজাবাসীর বর্তমান অবস্থাকে মানবিক সহায়তাকারীরা ‘নরকযন্ত্রণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা এক শিশুর আর্তনাদ এবার বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আসর অস্কারের মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হতে যাচ্ছে। ৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে ইসরায়েলি বাহিনীর হত্যার নৃশংস ঘটনা নিয়ে নির্মিত ডকু-ড্রামা ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ (The Voice of Hind Rajab) আসন্ন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ‘সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। আগামী রবিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য অস্কার অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল ও প্রত্যাশা। সেই ভয়াল স্মৃতি ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার মুখে সপরিবারে গাড়ি নিয়ে পালাচ্ছিল শিশু হিন্দ। পথে তাদের লক্ষ্য করে ৩৫০টিরও বেশি গুলি চালায় ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক। পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলেই নিহত হলেও হিন্দ প্রায় ১২ ঘণ্টা জীবিত ছিল। রেড ক্রিসেন্টের সাথে ফোনে তার সেই আকুতি— “আমাকে একা রেখে যেও না, আমি ভয় পাচ্ছি, আমাকে নিয়ে যাও”— পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া দুই অ্যাম্বুলেন্স কর্মীকেও সেদিন হত্যা করা হয়। ১২ দিন পর হিন্দের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। সিনেমা যখন প্রতিবাদের ভাষা তিউনিসিয়ান পরিচালক কাউথার বিন হানিয়া পরিচালিত এই ৮৯ মিনিটের চলচ্চিত্রে হিন্দের সেই প্রকৃত অডিও রেকর্ড ব্যবহার করা হয়েছে। ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের পর এটি টানা ২৩ মিনিট দাঁড়িয়ে সম্মাননা (Standing Ovation) পেয়েছিল। চলচ্চিত্রটির প্রযোজক ওডেসা রে আল-জাজিরাকে বলেন, “অস্কার হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। আমাদের লক্ষ্য এই কাহিনীকে পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দেওয়া। এই স্বীকৃতি শুধু সিনেমার জয় নয়, এটি ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর চলা নৃশংসতার বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ।” গাজাবাসীর প্রত্যাশা গাজার চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ আল-সাওয়ায়াফ বলেন, “গাজার মানুষের কাছে অস্কার হয়তো যুদ্ধ থামানোর কোনো জাদুকরী শক্তি নয়, কিন্তু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ফিলিস্তিনিদের কেবল একটি ‘সংখ্যা’ হিসেবে নয়, বরং রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।” অন্যদিকে, হিন্দের মা উইসাম হামাদা এখনও মেয়ের কণ্ঠস্বর শোনার সাহস করতে পারেন না। তবে তিনি সিনেমাটির সাথে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করছেন যাতে বিশ্ববাসী গাজার শিশুদের ওপর চলা এই বর্বরতার কথা জানতে পারে। অস্কার ও ন্যায়বিচারের দাবি দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সিইও ফাতেমা হাসান আলরেমাইহি বলেন, “অস্কার জয় কেবল শৈল্পিক শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি নয়, এটি হওয়া উচিত সত্যকে রক্ষা করার এবং নৃশংসতার বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি অঙ্গীকার।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতারা ‘জাস্টিস ফর হিন্দ রাজাব অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যার লক্ষ্য হিন্দের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই মহোৎসবে ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জয় করতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে শান্তিকামী বিশ্ব। তবে পুরস্কারের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে গাজার অবরুদ্ধ মানুষের কণ্ঠস্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের রেড কার্পেট পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় কথিত 'ইয়েলো লাইন' বা হলুদ রেখা অতিক্রম করার অভিযোগে চার ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর গাজায় এই ঘটনা ঘটে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, উত্তর গাজায় দায়িত্বরত তাদের সেনারা চার ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে যারা নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমানা বা 'ইয়েলো লাইন' অতিক্রম করেছিল। এরপরই সেনারা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। উল্লেখ্য, 'ইয়েলো লাইন' হলো গাজার ভেতরে একটি নির্দিষ্ট সীমানা, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা যুদ্ধ সমাপ্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। এই রেখাটি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং ফিলিস্তিনিদের বসবাসের এলাকার মধ্যে বিভাজন হিসেবে কাজ করে। একই দিনে উত্তর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো। এছাড়াও গাজা সিটিসহ উপত্যকার মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান হওয়ার কথা থাকলেও গাজায় সহিংসতার ঘটনা থামছে না। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৭০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো। জাতিসংঘ মনে করছে, এই বিধ্বস্ত জনপদ পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও বারবার এমন প্রাণঘাতী হামলা গাজায় স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা প্যালেস্টাইন সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিকস জানিয়েছে, চলমান গাজা যুদ্ধের ফলে নারীদের মধ্যে বিধবার সংখ্যা ও বেকারত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট গভীর হয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ফিলিস্তিনে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ নারী হবে, যার সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ৯০ হাজার নারী পশ্চিম তীরে এবং প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার নারী গাজা উপত্যকায় বসবাস করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ২২ হাজার ৫৭ জন নারী তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন। ফলে নারী-প্রধান পরিবারের হার যুদ্ধের আগে ১২ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গাজায় নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার মাত্র ১৭ শতাংশ, আর নারীদের বেকারত্বের হার বেড়ে ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে পুরুষদের বেকারত্বের হার ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে পশ্চিম তীরে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ প্রায় ১৯ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ ৭২ শতাংশ। সেখানে বেকারত্বের হার নারীদের মধ্যে ২৭ শতাংশ এবং পুরুষদের মধ্যে ২৮ শতাংশ। ১৯ থেকে ২৯ বছর বয়সী ডিপ্লোমা বা উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নারীদের বেকারত্ব ৮৬ শতাংশ এবং পুরুষদের ৭০ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে পরিবার, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারী ও শিশুদের ওপর।
ফিলিস্তিনি জনগণের স্বার্থ এবং অধিকার রক্ষায় কোনো অগ্রগতি না হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ (শান্তি বোর্ড) থেকে ইন্দোনেশিয়া নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) সরকারের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার এই বোর্ডে অংশগ্রহণ এবং গাজায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজ দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রাবোও। স্থানীয় বিভিন্ন ইসলামি দল ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে শামিল হওয়া ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘকালীন নীতি ও সমর্থনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামি সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও। বৈঠকে তিনি তার এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, দেশের ও ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার সামান্যতম সম্ভাবনা দেখা দিলেও তিনি এই জোট ত্যাগ করবেন। বৈঠক শেষে ইসলামিক ব্রাদারহুড ফ্রন্টের নেতা হানিফ আলাতাস বলেন, “প্রেসিডেন্ট আমাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, যদি তিনি দেখেন যে ফিলিস্তিনের জন্য এই বোর্ড আর কোনো উপকারে আসছে না এবং এটি ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হচ্ছে, তবে তিনি অবিলম্বে এটি থেকে সরে আসবেন।” ইন্দোনেশিয়ার প্রভাবশালী ওলামা কাউন্সিল (MUI) ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে এই বোর্ড থেকে নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন ‘নাহদলাতুল উলামা’ মনে করে, ইন্দোনেশিয়া এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো এর আগে জানিয়েছিলেন যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বোর্ড অফ পিস-এর সকল আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে প্রাবোও প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইন্দোনেশিয়া কোনো আপস করতে রাজি নয়। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্যোগটি শুরু থেকেই বিতর্কিত এবং গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা সংশয় রয়েছে।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শরণার্থী শিবির, বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশন পানি ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পৌরসভার সেবা প্রদানকারীরা জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশন সরাসরি সমুদ্রে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, শহরের ভেতরে পয়োনিষ্কাশন জমে থাকার চেয়ে এটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর ব্যবস্থা। গাজা সিটি পৌরসভার মুখপাত্র হুসনি মুহান্না জানান, ইসরায়েলি হামলায় শহরের প্রায় ২২০ কিলোমিটার পয়োনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক এবং ছয়টি পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সংকট সমাধানের জন্য যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেগুলো এখনো বাস্তব প্রতিশ্রুতির পর্যায়েও পৌঁছায়নি, ফলে পুরো গাজা ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে গাজার পূর্বাঞ্চলে থাকা তিনটি বড় পয়োনিষ্কাশন পরিশোধন কেন্দ্রও ধ্বংস হয়ে যায়। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউরোপীয় সহায়তায় নির্মিত এসব স্থাপনা তৈরি করতে বহু বছর সময় ও প্রায় পাঁচশ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। এগুলো কার্যকরভাবে গাজার পয়োনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। তবে এসব স্থাপনার ধ্বংস এবং এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কারণে গাজা আবারও ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সমুদ্রে পয়োনিষ্কাশন পানি প্রবাহিত হলে সামুদ্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং উপকূলে বসবাসরত বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্যও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে।
একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে বিশ্ব আজ এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ অস্থিরতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমি, আর ইউক্রেনের সমভূমি থেকে গাজার ধ্বংসস্তূপ— সর্বত্রই এখন কেবল বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের দামামা। কূটনৈতিক টেবিলের চেয়ে সামরিক শক্তির আস্ফালনই এখন ভূ-রাজনীতির প্রধান ভাষা হয়ে উঠেছে, যা মানবসভ্যতাকে ঠেলে দিচ্ছে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে। মধ্যপ্রাচ্যে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ ও ইরানি পাল্টা আঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে শুরু করেছে বিশাল সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বলে অভিহিত করলেও, ইরানও বসে নেই। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েল অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। এমনকি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের চরমপত্র দিয়েছেন, যা এই অঞ্চলের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এবার কেবল আকাশপথের হামলায় সীমাবদ্ধ না থেকে ইরান সরকারের পতনের ডাক দিয়েছেন, যা পুরো অঞ্চলের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ফ্রন্ট: পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ায় শুরু হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে পুরোদস্তুর যুদ্ধ। গত শুক্রবার কাবুল ও কান্দাহারে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগান বাহিনীও ইসলামাবাদ ও অ্যাবটাবাদে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ একে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও উগ্রবাদ দমনের আড়ালে থাকা এই দ্বন্দ্ব এখন এক বিশাল আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে পরাশক্তিগুলোর পরোক্ষ সমর্থন সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। পঞ্চম বছরে ইউক্রেন যুদ্ধ ও গাজার মানবিক বিপর্যয় ইউরোপের মাটিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পা দিয়েছে পঞ্চম বছরে। এটি এখন আর কেবল ভূখণ্ডের লড়াই নেই, বরং রূপ নিয়েছে ‘প্রযুক্তিগত যুদ্ধে’। ইউক্রেনের নিজস্ব প্রযুক্তির ‘ফ্ল্যামিংগো’ মিসাইল বনাম রাশিয়ার উৎপাদনমুখী সামরিক শক্তি— দুই পক্ষের এই লড়াইয়ে রক্তক্ষয় থামার কোনো লক্ষণ নেই। অন্যদিকে, গাজায় মার্কিন মধ্যস্থতায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে চলা এই যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজা এখন কেবল এক ধ্বংসস্তূপ আর মানবিক হাহাকারের নাম। খাদের কিনারায় বিশ্ব ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ‘গ্লোবাল অর্ডার’ বা বিশ্ব ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে। কূটনীতির পথ সংকুচিত হয়ে আসায় সামরিক শক্তিই এখন সমস্যা সমাধানের একমাত্র হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরাশক্তিগুলোর এই মরণজয়ী খেলায় বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবিক স্থিতিশীলতা আজ চরম ঝুঁকির মুখে। কাতার বা জর্ডানের মতো দেশগুলো থেকে বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া এবং আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশ্ব হয়তো একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সময় থাকতে বিশ্বনেতারা কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে, এই যুদ্ধের দামামা অচিরেই এক বৈশ্বিক মহাপ্রলয়ে রূপ নেবে।
২০২৫ সালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্বের ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য সরাসরি দায়ী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে মোট ৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই গাজার ফিলিস্তিনি। এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও ৩১ জন প্রাণ হারান। সিপিজে এটি তিন দশকের ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী একক হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ‘ইচ্ছাকৃত লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৮১ শতাংশের নেপথ্যে ইসরায়েল। তবে গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরেও পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নিহত ১২৯ জনের মধ্যে ১০৪ জন সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সুদানে ৯ জন, মেক্সিকোতে ৬ জন, ইউক্রেনে ৪ জন এবং ফিলিপাইনে ৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সিপিজের তথ্যে বলা হয়েছে, তিন দশকের তথ্য সংগ্রহের ইতিহাসে কোনো দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিকল্পিত সাংবাদিক হত্যার সঙ্গে যুক্ত।
গাজার নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতায় আন্তর্জাতিক বাহিনীকে স্বাগত জানালেও অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ মানবে না ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত শান্তি পর্ষদের বৈঠকে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পর এই অবস্থান পরিষ্কার করল সংগঠনটি। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, "আমরা এমন একটি শান্তিরক্ষী বাহিনী চাই যারা কেবল যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং দখলদার বাহিনীর সাথে একটি বাফার জোন হিসেবে কাজ করবে। তবে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব প্রশাসনিক বা অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে তাদের নাক গলানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।" উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী বৈঠকে পাঁচটি দেশ— ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া গাজায় সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আইএসএফের কমান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স জানিয়েছেন, এই বাহিনীতে ২০ হাজার সেনা রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ইন্দোনেশিয়া একাই ৮ হাজার পর্যন্ত সেনা পাঠাতে আগ্রহী। অন্যদিকে, মিশর ও জর্ডান সরাসরি সেনা না পাঠিয়ে ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের দায়িত্ব নিয়েছে। মূলত গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, হামাস শুরুতেই তাদের কাজের পরিধি নিয়ে নিজেদের লাল রেখা স্পষ্ট করে দিল।
গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকট এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জাতিসংঘে সোচ্চার হয়েছে চীন। গতকাল বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ সভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছং ইসরায়েলের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনা প্রতিনিধি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান সংকটের মূল কারণ হলো ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ নীতি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা। ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ও ন্যায়সঙ্গত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। ফু ছং তার বক্তব্যে গাজায় অবিলম্বে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য করা। গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে চীনের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, "গাজা ফিলিস্তিনিদের, তাই এর শাসনভার ফিলিস্তিনিদের হাতেই থাকা উচিত।" যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা প্রশাসনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধান ভূমিকা এবং পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি নজরদারিকে চীন পূর্ণ সমর্থন জানাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পবিত্র রমজান মাস শুরু হলেও ফিলিস্তিনের মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে বাসিন্দারা এখনও যুদ্ধ ও গণহত্যার ছায়া থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। শরণার্থী মাইসুন আল-বারবারাউই তার ৯ বছরের ছেলে হাসানের জন্য তাঁবু সাজিয়ে রেখেছেন, রঙিন আলপনা ও রমজানের লণ্ঠনের মাধ্যমে শিশুর জন্য কিছু খুশি মুহূর্ত তৈরি করার চেষ্টা করছেন। মাইসুন বলেন, “আমি চাইছিলাম, এই সাজসজ্জা গত দুই বছরের যুদ্ধ ও দুঃখের পরিবেশ থেকে মুক্তির এক ছোট উপায় হোক। প্রতিদিনও যাতে ওরা নিরাপদ থাকে।” গত দুই বছরের সংঘাতের সময় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমান যুদ্ধবিরতি কিছুটা শান্তি এনেছে, তবে এখনও গোলাবর্ষণ ও নিরাপত্তার শঙ্কা রয়ে গেছে। খাদ্য সংকটও চলমান; অনেক ফিলিস্তিনি মৌলিক চাহিদা মেটাতে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রমজানের প্রথম দিনে হানান আল-আত্তার একটি ত্রাণ সংস্থা থেকে খাবারের পার্সেল পেয়েছেন। আল আকসা মসজিদে উত্তেজনা প্রতিবারের মতো এবছরও রয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে, যার ফলে হামাস প্রতিবাদ জানিয়ে মসজিদে নিষিদ্ধ করার আদেশ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে। প্রতি রমজানেই মসজিদে বলপ্রয়োগের ঝুঁকি থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিছু দেশ ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়েছে, তবে ইরান, লেবানন, সিরিয়া, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ওমান, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সুদান এখনও অংশ নিচ্ছে না। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বুধবার দক্ষিণ গাজায় তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছে, যদিও নিজেদের গুলিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত আড়াই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি বন্দি মারা গেছেন, যার অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলার কারণে। ফিলিস্তিনিরা এই রমজানে শান্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছেন। মাইসুন বলেন, “যুদ্ধ থামেনি, ভয় ও শঙ্কা রয়ে গেছে। তবুও আমরা আশা করি, এই রমজান কিছু শান্তি নিয়ে আসবে।”
গাজায় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের দায়ে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাওইকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছে দেশটির একটি অভিবাসন আদালত। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাসন উদ্যোগকে নাকচ করে দিয়ে বিচারক এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। খবর রয়টার্স। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায় কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া মাহদাওইকে দেশান্তরী করতে চেয়েছিল বর্তমান প্রশাসন। তবে বিচারক নিনা ফ্রোস জানান, সরকারি আইনজীবীদের পদ্ধতিগত ত্রুটি ও যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থতার কারণে মামলাটি খারিজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই রায়ে স্পষ্ট হয় যে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাকে তাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। মাহদাওইয়ের প্রতিক্রিয়া এই বিজয়কে বাকস্বাধীনতার জয় হিসেবে দেখছেন মোহসেন মাহদাওই। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আদালতের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সরকার দমনের যে চেষ্টা চালিয়েছিল, এই রায় তার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা। ভয় দেখিয়ে শান্তি ও ন্যায়বিচারের কণ্ঠরোধ করা যায় না, এই রায় তারই স্বীকৃতি।" উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারে। আপাতত এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে মাহদাওইয়ের অবস্থান আইনগতভাবে বৈধতা পেল।
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় নতুন প্রাণের সঞ্চার ও মানবিক সহায়তার লক্ষ্যে এক বিশাল অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য দেশগুলো গাজা পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ প্রদানের অঙ্গীকার করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই তহবিলের ঘোষণা দেবেন বলে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, এই তহবিলের অর্থ সরাসরি গাজার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাসিন্দাদের জরুরি মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে। এছাড়া ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ-অনুমোদিত স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তবে এই বিশাল সহায়তার পেছনে একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সুবিধা পেতে হলে হামাসকে অবশ্যই পূর্বে স্বাক্ষরিত সকল চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। বোর্ড অব পিস সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, “এটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে এবং এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের।” উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোস সম্মেলনের ফাঁকে এই ‘বোর্ড অব পিস’ যাত্রা শুরু করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিত এই সংস্থার নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। গাজা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত এই বোর্ডে আর্জেন্টিনা, মিশর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মরক্কো, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কিছু দেশকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৈশ্বিক কূটনীতিতে এই সংস্থার উত্থানকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
গাজা উপত্যকায় প্রায় ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি কাঠামো গৃহীত হয়, তার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গাজায় সেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু করা প্রথম দেশ হতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাক জানিয়েছেন, সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য সেনাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গাজায় ইন্দোনেশীয় সেনারা সরাসরি যুদ্ধ কার্যক্রমে নয়, বরং চিকিৎসা সহায়তা, অবকাঠামো মেরামত এবং প্রকৌশল সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত একটি আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে এই উদ্যোগের আওতায় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) নামে একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বাহিনী গাজার সীমান্ত নিরাপত্তা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অঞ্চলটিকে সামরিক কার্যক্রমমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে শান্তি উদ্যোগের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন কাঠামো, একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। যদিও সেনা মোতায়েনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও দায়িত্ব এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এ বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার কারণে ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি ইসলামি সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও প্রেসিডেন্ট প্রাবোও বলেছেন, বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ইন্দোনেশিয়ার নৈতিক দায় রয়েছে। তার মতে, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে সহায়ক হবে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী একটি এলাকায় ইন্দোনেশীয় সেনাদের জন্য আবাসন ও ব্যারাক নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার সেনা অবস্থানের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি মুসলিম দেশ গাজায় সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে। তবে এসব দেশ জানিয়েছে, তারা কেবল শান্তিরক্ষী ভূমিকা পালন করবে এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বা সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।
ফিলিস্তিনের গাজার জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ২০ হাজার সেনা নিয়ে গঠিত হতে পারে, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া একাই ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্টোর মুখপাত্র প্রাসেত্যো হাদি মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার। গত বছর ইন্দোনেশিয়া গাজার শান্তিরক্ষা বাহিনীর জন্য ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে দেশটি জানিয়েছে, বাহিনীর ম্যান্ডেট বিস্তারিত জানার পরই চূড়ান্তভাবে সেনা মোতায়েন করা হবে। হাদি জানান, আমরা শুধু প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে কোনো চুক্তি হলে আমরা শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠাতে পারি। এর আগে জাকার্তায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর সঙ্গে নিরাপত্তা বৈঠক করেন দেশটির সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুনতাক। বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন, একটি ব্রিগেড সম্ভাব্যভাবে ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ সেনাকে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গত নভেম্বর প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং চলমান সহিংসতায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোওকে ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গাজায় চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে না। আল জাজিরা আরবির এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জনকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট গাজার আল-তাবিন স্কুলে ইসরায়েলি হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছেলে খুঁজতে গিয়ে ইয়াসমিন মাহানি সাদ মাহানির কোনো খোঁজ পাননি। হাসপাতাল ও মর্গে দিনের পর দিন অনুসন্ধান করেও তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, প্রতিটি হামলার পর ‘বিয়োজন পদ্ধতি’ অনুসরণ করা হয়। কোনো বাড়িতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় মরদেহ কম পাওয়া গেলে এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও কিছু না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তদন্তে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণে মানুষের দেহ মুহূর্তে ভস্মে পরিণত হচ্ছে। রুশ সামরিক বিশ্লেষক ভাসিলি ফাতিগারভ জানিয়েছেন, থার্মোবারিক বোমায় অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের ধাতব গুঁড়া ব্যবহৃত হয়, যা বিস্ফোরণে ২,৫০০–৩,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করে। এতে দেহের তরল অংশ দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়ে যায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেন, মানবদেহের বড় অংশই পানি, তাই চরম তাপ ও চাপের কারণে দেহের টিস্যু মুহূর্তেই বাষ্পীভূত হয়ে যায়। অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কিছু বিশেষ বোমার ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে, যেগুলো ভবনের কাঠামো অক্ষত রেখে ভেতরের মানুষ পুরোপুরি ধ্বংস করে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের দায় শুধু হামলাকারী ইসরায়েলের নয়, অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোরও। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু আলাদা করতে অক্ষম অস্ত্র ব্যবহার যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধাহতদের স্বজনদের কাছে এসব আইনি ব্যাখ্যার তেমন গুরুত্ব নেই। বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে চার সন্তান হারানো রফিক বদরান জানিয়েছেন, তাঁর সন্তানদের দেহের সামান্য অংশ ছাড়া কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ওরা কোথায় চলে গেল?” এই অনুসন্ধান বিশ্বের কাছে গাজার হামলার প্রকৃত মানবিক বিপর্যয়ের ছবি তুলে ধরছে, যেখানে বেসামরিক মানুষদের জীবন ও মর্যাদা ধ্বংসের শিকার হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস