সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

গাজা

ফিলাডেলফিয়ায় কনসার্টে বক্তব্য দিচ্ছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। ছবি: সংগৃহীত
'গাজায় ইসরায়েলের হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়': মঞ্চে কেঁদে বললেন এড শিরান

গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বিপর্যয়কর, অন্যায্য ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্টে কথা বলার সময় গাজায় বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। শনিবার রাতে লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে কনসার্টের শুরুতে এ বক্তব্য দেন শিরান।   এটি ছিল র‍্যাপার ম্যাকলমোরকে নিজের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের প্রথম কনসার্ট। ম্যাকলমোর এর আগে মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় বিতর্কে জড়ান। তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের বেশ কয়েকজন উদ্বোধনী শিল্পীও সফর থেকে সরে দাঁড়ান।   কনসার্টে নিজের বক্তব্যের শুরুতে শিরান বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে রাজনৈতিক সংগীতশিল্পী হিসেবে তুলে ধরতে চাননি। তার সংগীত ও পরিবেশনা যেন বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং রাজনীতির পরিবর্তে মানবিকতার কথা বলে, সেটিই তিনি চেয়েছেন।   তবে গাজা পরিস্থিতিকে তিনি কেবল রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছেন না বলে জানান। শিরান বলেন, এটি একটি মানবিক সংকট এবং এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি আর গোপন করতে পারছেন না।   ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং ওই দিনের একটি সংগীত উৎসবে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে শিরান বলেন, এর সঙ্গে ইহুদি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বেদনার বিষয়ও জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি।   মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন শিরান। তিনি বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার হৃদয় ভেঙে গেছে। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিতেও যে অবিচার চলছে, সেটি উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।   নিজের বক্তব্যে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতের প্রসঙ্গও তোলেন শিরান। তিনি বলেন, এই সংঘাত নিয়ে কথা বলা তার জন্য সহজ নয়। তবে মানবিক সংকটের কারণে তিনি এ বিষয়ে নীরব থাকতে পারছেন না।   এর আগে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, গাজা ও ফিলিস্তিনের পক্ষে তার বক্তব্যের পর সফর থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে শিরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের নয়, বরং সফরের আয়োজকদের সিদ্ধান্ত ছিল।   ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের অন্য কয়েকজন শিল্পীও শিরানের সঙ্গে আর না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে ছিলেন অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম, বেওগা এবং ফিনিয়াস। তাদের কেউ কেউ ম্যাকলমোরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।   এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ায় শিরানের কনসার্টের আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও হয়। স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন কনসার্টস্থলের কাছে সমাবেশের আয়োজন করে।   তবে বিতর্কের মধ্যেও শিরান সফর চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে তিনি বলেন, ভক্তদের প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই উদ্বোধনী শিল্পী ছাড়াই তিনি মঞ্চে উঠেছেন।   মঞ্চে তিনি আরও বলেন, কোনো শিল্পীর পরিবেশনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করার ধারণা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন পরিস্থিতি দেখা গেলেও মুক্ত সমাজে এটি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বক্তব্যের পর দর্শকদের কাছ থেকে করতালি পান শিরান। এরপর তিনি নিয়মিত পরিবেশনায় ফিরে গিয়ে ‘ক্যাসল অন দ্য হিল’ গানটি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন দর্শক পরে তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে তিনি যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ফিলিভয়েস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মঞ্চনাটকে  তুলে ধরছেন সেখানকার অভিনেতারা
যে যুদ্ধের মধ্যে বেঁচে আছেন, সেই যুদ্ধই মঞ্চে অভিনয় করছেন গাজার শিল্পীরা

গাজায় যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা এবার মঞ্চনাটকে তুলে ধরছেন সেখানকার অভিনেতারা। ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নামের এই নাটকে অভিনয় করা শিল্পীদের অনেকেই নিজেরাই যুদ্ধের ক্ষত, ঘর হারানো ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মঞ্চে তারা যে গল্প বলছেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।   ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরা যুদ্ধের আগে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। যুদ্ধের সময় তার উত্তর গাজার আল-তাওয়াম এলাকার বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের নিচে একটি কক্ষে থাকেন তিনি। প্রতিদিন পরিবারের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করে রান্নার ব্যবস্থা করার পর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে মহড়ায় যেতে হয় তাকে।   নাটকে কাদ্দুরা এমন এক চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি যুদ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন এবং অ্যানেসথেশিয়া ছাড়াই নিজের সন্তানের পা কেটে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। দৃশ্যটি একজন বাস্তব গাজাবাসী বাবার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিজের সন্তানদের কথা মনে পড়ায় দৃশ্যটি অভিনয় করতে গিয়ে কাদ্দুরা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মহড়ার মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়লেও পরে আবার মঞ্চে ফিরে একই দৃশ্য অভিনয় করেন।   নাটকটির পরিচালক আলি আবু ইয়াসিন গাজায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। যুদ্ধের কারণে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বা শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি স্থাপনাও রয়েছে।   ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ প্রকল্পটির শুরু ২০২৬ সালের এপ্রিলে নাট্যরচনা কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত আটজন এতে যুক্ত থাকতে পারেন। পরে তারাই নাটকটি মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন   শুরুতে তাদের কোনো স্থায়ী মঞ্চ ছিল না। তাঁবু টাঙিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের গাড়ি রাখার জায়গায় মহড়া চলেছে। পরে গোলাগুলির কারণে স্থান পরিবর্তন করে একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাফের ছোট কক্ষে মহড়া করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল না। কাঠের সংকট থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠ দিয়ে শিল্পীরাই মঞ্চের সেট তৈরি করেন।   ২৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী ইমান ওদাও নিজের জীবনের ভয়কে চরিত্রের মধ্যে খুঁজে পান। এক মহড়ার সময় কাছাকাছি বিস্ফোরণ হলে অভিনেতারা মহড়া বন্ধ করে পরিবারের খোঁজ নিতে ফোন করেন। নিজের বাবার মৃত্যুর স্মৃতিও নাটকের একটি চরিত্রের নামের সঙ্গে জড়িয়ে তার আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে।   অভিনেতা তামের নাজমের গল্পও নাটকের সঙ্গে মিশে গেছে। যুদ্ধের আগে তিনি গাজা সিটির নাসের এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য বহু বছর সঞ্চয় করেছিলেন। সেই বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন বাড়ি, ফুটপাত ও তাঁবুতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। নাটকে তিনি এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি পরিবার ও সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় থাকেন।   অবশেষে গাজা সিটির আল-ওয়াহদা স্ট্রিটের এ.এম. কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয় ১৯ জুলাই। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়। পরে জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজার দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে নাটকটির প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি প্রদর্শনীতে ৫০০ জনের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।   গাজার এই শিল্পীদের কাছে নাটকটি শুধু বিনোদন নয়; নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ ও যুদ্ধের বাস্তবতা নথিবদ্ধ করার একটি মাধ্যম। যুদ্ধের মধ্যেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা এমন গল্প বলছেন, যেগুলোর অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবন থেকে উঠে এসেছে। আর অভিনয় শেষ হওয়ার পরও তাদের যুদ্ধ থেমে থাকে না—মঞ্চ থেকে ফিরে আবার শুরু হয় খাবার, আশ্রয় ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তব লড়াই।   Source: আল জাজিরা

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য ১০ লাখ ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন ইউটিউব তারকা মিস র‍্যাচেল। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ১০ লাখ ডলার দিচ্ছেন ইউটিউব তারকা মিস র‍্যাচেল

ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোরের ১০ লাখ ডলারের অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউব তারকা ও শিশুদের শিক্ষামূলক কনটেন্ট নির্মাতা মিস র‍্যাচেল। তাঁর আসল নাম র‍্যাচেল অ্যাকুরসো। ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য কাজ করা একটি ত্রাণ সংস্থায় এই অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।   ১৭ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মিস র‍্যাচেল জানান, ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের অনুদানের সঙ্গে সমপরিমাণ অর্থ দিতে চান তিনি। তাঁর অনুদান যাবে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ডে, যা ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে।   মিস র‍্যাচেল তাঁর পোস্টে শিশুদের সুরক্ষা ও মানবাধিকারের পক্ষে জনপরিচিত ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি অন্য ধনী তারকাদেরও একই ধরনের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ইউটিউবে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান তৈরি করে পরিচিতি পাওয়া মিস র‍্যাচেলের ২১ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক রয়েছে।   ম্যাকলমোর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এ উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া তাঁর ১০ লাখ ডলারের আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনের মধ্যে দান করবেন। এই ঘোষণা আসে তাঁকে শিরানের যুক্তরাষ্ট্রের সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর।   এর আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি কনসার্টে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। পরে তাঁর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয় এবং তাঁকে এড শিরানের সফরের বাকি অনুষ্ঠানগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়।   ম্যাকলমোরের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন গায়িকা পিংকও। তিনি ইহুদি দর্শকদের অনুভূতির বিষয়টি তুলে ধরে ম্যাকলমোরের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ২০১৪ সালে ম্যাকলমোরের একটি বিতর্কিত পোশাক পরার ঘটনাও উল্লেখ করেন। ওই ঘটনার জন্য ম্যাকলমোর তখন প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন।   পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোর ইহুদি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বার্তা শান্তি, ভালোবাসা এবং সব মানুষের মর্যাদা, সম্মান ও সমতার পক্ষে।   এদিকে এড শিরান জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর একক সিদ্ধান্ত ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চাপের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিরান একই সঙ্গে বলেছেন, সংঘাত নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মত রয়েছে, তবে তিনি সেগুলো প্রকাশ্যে না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের আরও কয়েকজন সহযোগী শিল্পী সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে ফিনিয়াস, অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম ও বিওগা রয়েছেন।   ম্যাকলমোরের অনুদানের ঘোষণার পর মানবিক সহায়তায় অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিরান ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটও। প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের অর্থ কোন কোন সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া হবে, তা সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়।   মিস র‍্যাচেলের অনুদানের ফলে ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের উদ্যোগটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে গাজা ও ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মানবিক সহায়তায় বিনোদন জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ন্যাশনাল

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান
নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের রাজনীতিতে এবার জড়িয়ে পড়েছেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ পপ আইকন এড শিরান। নিজের ‘লুপ ট্যুর’-এর কনসার্ট থেকে ফিলিস্তিনপন্থী মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও বয়কটের মুখে পড়েছেন তিনি।   গত ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের কনসার্টে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' নিয়ে কথা বলেছিলেন ম্যাকলমোর। এরপরই বিলিয়নিয়ার রবার্ট ক্রাফটসহ মার্কিন স্টেডিয়াম মালিকদের চাপে ম্যাকলমোরকে পরবর্তী কনসার্টগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা শিরানের ক্যারিয়ারে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের জন্ম দিয়েছে।   ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সংগীতজগতের অনেকেই শিরানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। বিলি আইলিশের ভাই ও গায়ক ফিনিয়াসসহ আরও তিন সহশিল্পী শিরানের ট্যুর থেকে ওয়াকআউট করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিনিয়াস লেখেন, নির্যাতিতদের পক্ষে কথা বললে শিল্পীদের কখনোই থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়।   প্রবীণ ব্রিটিশ গায়ক বিলি ব্র্যাগ পরিস্থিতি বিবেচনায় শিরানকে অহংকার ভুলে ট্যুর বাতিলের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনি সংগঠন পিএসিবিআই (PACBI) ম্যাকলমোরকে ট্যুরে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই কনসার্ট বয়কটের জন্য ভক্ত, সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।   সমালোচনার জবাবে এড শিরান দাবি করেছেন যে, তিনি তার পেশাদার প্ল্যাটফর্মকে রাজনীতির জন্য ব্যবহার করেন না। তবে সমালোচকরা তার এই দাবি মানতে নারাজ। কারণ, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তিনি ইউক্রেনপন্থী কনসার্টে পারফর্ম করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ব্রেক্সিট নিয়েও সরব ছিলেন।   ডারহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্রেচেন লারসেন এবং সংগীত বিশ্লেষক নিল মার্চের মতে, ক্ষমতাধরদের চাপে অন্য শিল্পীদের চুপ করিয়ে রাখাকে সমর্থন করা এবং চুপ থাকাও এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মৃতদেহসহ এই সংখ্যা প্রায় ২ লাখ হতে পারে।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েল তা প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে, যার জেরে নতুন করে আরও বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার দানের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনকে ট্যুরের ১০ লাখ ডলার আয়ের পুরোটাই দিচ্ছেন ম্যাকলমোর

এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া নিজের পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ট্যুরের উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া এই অর্থ ছয়টি সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর পর রবার্ট ক্রাফট জানিয়েছেন, এড শিরান ও তিনি প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে ওই অঞ্চলের মানবিক সহায়তায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   ফিলিস্তিনের পক্ষে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার পর এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বাকি অংশ থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। ম্যাকলমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চান।   ম্যাকলমোর জানান, তাঁর ১০ লাখ ডলারের পুরো নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংস্থাকে দেওয়া হবে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড, হিল প্যালেস্টাইন, গাজা স্যুপ কিচেন, মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস, ইউএনআরডব্লিউএ ইউএসএ ন্যাশনাল কমিটি এবং আনেরা।   ম্যাকলমোর একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক ও গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটকে তাঁর অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রাফট একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি জানান, এড শিরান তাঁকে ফোন করে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি সেই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রাফট নিজেও আরও ২০ লাখ ডলার দেওয়ার কথা জানান।   ক্রাফটের বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকলমোরের প্রকাশ্য আহ্বানের আগেই শিরানের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিরান ২০ লাখ ডলার দিতে চেয়েছেন এবং তিনি নিজেও একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিরান অন্যান্য স্টেডিয়াম মালিকের সঙ্গেও এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যোগাযোগ করবেন বলেও ক্রাফট জানান।   এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের সঙ্গে সফরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের পর ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি আবেদন শুরু করে।   পরবর্তী সময়ে ম্যাকলমোর জানান, সফরের কয়েকটি ভেন্যুর মালিক তাঁকে সঙ্গে রেখে অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অবস্থান নিয়েছেন। সফরের প্রোমোটার মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপও জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাকি অনুষ্ঠানগুলোতে ম্যাকলমোর আর অংশ নেবেন না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, কয়েকজন স্টেডিয়াম মালিক তাঁর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন।   এড শিরান পরে স্পষ্ট করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সফরের প্রোমোটার ও ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেন্যু ও প্রোমোটারের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়।   ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের বাকি উদ্বোধনী শিল্পীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং বেওগা সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁরা ম্যাকলমোরের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন।   রবার্ট ক্রাফট অবশ্য ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাশাপাশি অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগও সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল। ম্যাকলমোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, এই অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।   ম্যাকলমোরের ট্যুর থেকে বাদ পড়ার ঘটনাটি এখন সংগীতাঙ্গনের বাইরেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিল্পীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন ক্যাপারনিকও ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।   তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মানবিক সহায়তার বিষয়টি। ম্যাকলমোর তাঁর ট্যুরের আয় থেকে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্রাফটের বিবৃতি অনুযায়ী, শিরান ও ক্রাফটের পক্ষ থেকে আরও ৪০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে। ফলে তিন পক্ষের ঘোষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে মোট ৫০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থের ব্যবহার ও কোন কোন সংস্থা তা পাবে, বিশেষ করে শিরান ও ক্রাফটের ঘোষিত ৪০ লাখ ডলারের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান-

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়
বিয়ের চার মাস না যেতেই ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হলো গাজার নবদম্পতির স্বপ্নের ঘর

গাজার জেইতুন এলাকায় নিজেদের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ২৮ বছর বয়সী নেভিন আবু হাতাব ও তার স্বামী মোহাম্মদ। বিয়ের চার মাসও পূর্ণ হয়নি তাদের। যুদ্ধের মধ্যেই অল্প সামর্থ্যে নতুন সংসার গুছিয়ে স্থিতিশীল জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা।   হঠাৎ মধ্যরাতে প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় দুজনের। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তারা। সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পান শুধু একটি ব্যক্তিগত ব্যাগ ও কাজের একটি ল্যাপটপ।   বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ধ্বংস হয়ে যায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টসহ পুরো ভবন।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন নেভিন। সেই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার ভাষায়, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জীবনের সবকিছু হারিয়ে গেছে।   যুদ্ধের কারণে আগেই তাদের বিয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলেও নতুন সংসার গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি দিন পাননি তারা। সীমিত সম্পদের মধ্যেই ঘর সাজিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন এই দম্পতি।   এদিকে গাজায় হামলা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক রাতের হামলায় হামাসের দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।   ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, হামাসের কয়েকটি অস্ত্র সংরক্ষণস্থল ধ্বংস করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে তাদের দাবি।   অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল সব ধরনের হামলা বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।   যুদ্ধের অবসান ও পরবর্তী শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে গাজায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগও অব্যাহত রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত সাত বছরের শিশু ইসরা আল-হিসি। ছবি: সংগৃহীত
জীবন শুরু হওয়ার আগেই ইসরায়েলি বুলেট কেড়ে নিল ফিলিস্তিনি শিশুর নিষ্পাপ শৈশব

মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ইসরা আল-হিসি নামে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব দেইর আল-বালাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে ফ্রান্স ২৪ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় গুলি চালালে ইসরা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, নিহত ইসরা আল-হিসির বয়স ছিল সাত বছর। তার মরদেহ দাফনের আগে পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানান।   ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই দিনে গাজায় আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, পৃথক একটি হামলায় অন্তত দুই শিশু ও এক নারী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় দুটি গাড়িও হামলার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরা আল-হিসির মৃত্যুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে।   সূত্র: ফ্রান্স ২৪, বিবিসি আরবি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪৪৯, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ আরও হাজারো

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় আরও নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে নয়জনের মরদেহ পৌঁছেছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর আহত ফিলিস্তিনির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জনে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে আরও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।   মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলা বা অন্যান্য লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩১৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৬১ জন আহত হয়েছেন।   এদিকে গাজায় নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্রের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে গাজায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। সংগঠনটি ৩১৭টি নথিভুক্ত ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই অনুমান করেছে।   সংগঠনটি জানিয়েছে, বিশ্লেষণ করা ৩১৭টি ঘটনার মধ্যে ৩০২টি ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তি ছিলেন পুরুষ এবং ১৫টি ঘটনায় ছিলেন নারী। এসব ঘটনার মধ্যে ৪১ জন শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ১৭ জন মানুষও ছিলেন। গাজা শহরে নথিভুক্ত ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি ৮৯টি। এরপর উত্তর গাজায় ৭৪টি, খান ইউনিসে ৫৯টি, মধ্য গাজায় ৩৭টি এবং রাফাহতে ৩২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে ৭৬টি ঘটেছে বাড়িতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বা কোনো এলাকার অবরোধের সময়। আরও ৬০টি ঘটনা ঘটেছে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের সময়। বাস্তুচ্যুতি কিংবা সামরিক তল্লাশিচৌকি অতিক্রমের সময় ৪২টি এবং খাবার খোঁজা বা মানবিক সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় ৩৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   এ ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র অবরোধ বা দখল এবং রোগী স্থানান্তরের সঙ্গে ২২টি ঘটনা যুক্ত ছিল। সাংবাদিক বা মাঠপর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটি আলাদাভাবে জানিয়েছে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মানুষ চাপা পড়ে নিখোঁজ থাকতে পারেন। তবে এসব ঘটনাকে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।   নিখোঁজ ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে এর আগে ফিলিস্তিনের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ১১ হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ বা জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি নারী ও শিশু ছিলেন।   ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্র নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পেতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থারও আহ্বান জানানো হয়েছে।   এদিকে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। যুদ্ধের ফলে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে।   সূত্র: ডেইলি সাবাহ

তাবাস্সুম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে
খেলাধুলার বয়সে কারাগারে, খাবার-পানির সংকটে প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু

ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টের শুরু পর্যন্ত প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের অধিকাংশকে মেগিদ্দো ও ওফার কারাগারে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা ৯ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তির মধ্যে এসব শিশুও রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে শিশুদের আটক এখন নিয়মিত গ্রেপ্তার অভিযানের অংশ হয়ে উঠেছে।   সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম থেকে ২৭৬ ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক আটক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে আটক রাখা যায় এবং পরবর্তী সময়ে সেই মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি আটককেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বন্দিদের মারধর, পর্যাপ্ত খাবার ও পানি না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার বিষয় রয়েছে।   তবে এসব তথ্য ও অভিযোগ মূলত ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। আটক শিশুদের সংখ্যা এবং তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
'পায়ে ব্যথা, আর হাঁটতে পারছি না, জানি না কোথায় যাচ্ছি
'পায়ে ব্যথা, আর হাঁটতে পারছি না, জানি না কোথায় যাচ্ছি’: গাজার শিশু

গাজায় চলমান সংঘাত ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির মধ্যে এক ফিলিস্তিনি শিশুর অসহায় কথোপকথনের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্কের সংবাদ টেলিভিশন চ্যানেল উলুসাল কানালের প্রচারিত ওই ভিডিওতে শিশুটিকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়।   ভিডিওতে শিশুটিকে বলতে শোনা যায়, “আমার পায়ে ব্যথা করছে। আমি আর হাঁটতে পারছি না। আমরা কোথায় যাচ্ছি, সেটাও জানি না।” দীর্ঘ সময় ধরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যেতে বাধ্য হওয়া মানুষের শারীরিক ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তার চিত্র ফুটে ওঠে তার কথায়।   গাজায় সংঘাতের কারণে বহু পরিবার বারবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি গভীর মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।   উলুসাল কানালের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির প্রেক্ষাপট ও শিশুটির পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই ভিডিওতে থাকা বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রচারিত তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি বাস্তব ঘটনার বা ওই শিশুর প্রকৃত ছবি নয়। এটি কেবল প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু বোঝাতে তৈরি করা একটি প্রতীকী ছবি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় ইউনিসেফের পুষ্টি সহায়তার গুদাম ধ্বংস এবং তীব্র সংকটের মধ্যে শিশুদের খাবার পানি সংগ্রহের চেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪ শিশু নিহত, ধ্বংস ইউনিসেফ-সহযোগিতায় নির্মিত পানির স্থাপনা

গাজা উপত্যকায় গত পাঁচ দিনে বিভিন্ন হামলায় অন্তত চার শিশু নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। একই সময়ে একটি হামলায় ৭৭ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ইউনিসেফের পুষ্টি সহায়তা রাখা একটি গুদাম ধ্বংস হয়েছে। এতে শিশু ও পরিবারের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা আরও সংকটে পড়েছে।    ইউনিসেফের ২৮ আগস্টের বিবৃতি অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে পৃথক হামলায় নিহত ২ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলে, তাঁবুর ভেতরে থাকা অবস্থায় গুলিতে আহত হয়ে নিহত ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং আগের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পরে মারা যাওয়া ১৬ বছর বয়সী এক ছেলে।   ২৫ আগস্ট আরও কয়েকজন শিশু হামলায় আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের মধ্যে ৮, ১০ ও ১৭ বছর বয়সী তিন শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। একই ঘটনায় ১১ বছর বয়সী আরও দুই শিশু শার্পনেলের আঘাতে আহত হয়। আহত শিশুদের কয়েকজনের গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।   ওই দিনই কাছাকাছি একটি হামলায় ধ্বংস হয় ইউনিসেফের পুষ্টি সহায়তা রাখা একটি গুদাম। সেখানে ৭ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের পুষ্টি সামগ্রী ছিল। এসব সামগ্রী ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী ৪০ হাজার ৫০০-এর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু এবং ৪ হাজার ৯০০ গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর জন্য ব্যবহারের কথা ছিল।   এর এক দিন আগে, ২৪ আগস্ট, দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি পানির কূপ ও ডিস্যালিনেশন ফ্যাসিলিটিও কাছাকাছি হামলায় গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই স্থাপনা থেকে নিরাপদ পানি পেতেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার শিশু। স্থাপনাটি সচল না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।    ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজার পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে উপত্যকার ৬৩ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন জনপ্রতি অন্তত ৬ লিটার পানীয় পানিও পাচ্ছেন না। গরমের সময়ে শিশুদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানির সংকট বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।    এর আগে ২৪ আগস্ট প্রকাশিত ইউনিসেফের এক জরিপেও গাজার শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির ঝুঁকির কথা উঠে আসে। জরিপে দেখা যায়, ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী মাত্র ২২ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাবার পাচ্ছে। একই বয়সী ৭৩ শতাংশ শিশু জরিপের আগের দিন অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েছিল।    ইউনিসেফ শিশুদের জীবন রক্ষা, বেসামরিক অবকাঠামো ও জরুরি সেবা সুরক্ষা এবং দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন শেয়ারবাজারে আসছে গাঁজা কোম্পানি, তালিকাভুক্তি নিয়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লড়াই
মার্কিন শেয়ারবাজারে আসছে গাঁজা কোম্পানি, তালিকাভুক্তি নিয়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই শেয়ারবাজার—নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (এনওয়াইএসই) ও নাসডাকের মধ্যে তালিকাভুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা নতুন নয়। তবে এবার এই লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে দেশটির বৈধ গাঁজা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।   বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম ‘অন দ্য মানি’ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় আইনি প্রতিবন্ধকতা শিথিল হতে শুরু করায় গাঁজা কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আনার তোড়জোড় ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।   রাজ্য পর্যায়ে বৈধতা থাকলেও কেন্দ্রীয় কড়াকড়ির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এতদিন ব্যাংকিং সুবিধা এবং মূলধন বাজারে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে গাঁজাকে ‘শিডিউল ৩’ নিয়ন্ত্রিত দ্রব্যের তালিকায় নামিয়ে আনা হয়।   এর ফলে এটি আর হেরোইনের মতো মারাত্মক মাদক হিসেবে গণ্য না হয়ে চিকিৎসায় ব্যবহারের পথ সুগম হয়। পরবর্তীতে গত এপ্রিলে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ডিইএ) বিষয়টিকে আইনি রূপ দেয়।   নতুন নিয়মে ডিইএ-তে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে প্রবেশে আর কোনো বাধা থাকছে না।   বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে ৫০ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্প ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় কোম্পানিগুলোকে নিজেদের তালিকায় টানতে মুখিয়ে আছে দুই এক্সচেঞ্জই।   এই দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে এনওয়াইএসই। ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচভিত্তিক গাঁজা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লাস হাউস ব্র্যান্ডস’ গত ৩০ জুন এনওয়াইএসইতে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।   এর কয়েক সপ্তাহ আগে ফ্লোরিডার প্রতিষ্ঠান ‘ট্রুলাইভ’-কেও নিজেদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে তারা। গ্লাস হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, এনওয়াইএসইর সঙ্গে আলোচনার মাঝেই নাসডাকও তাদের দ্রুততম সময়ে তালিকাভুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল।   সাধারণত এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও অ্যামাজনের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পছন্দ নাসডাক; অন্যদিকে এনওয়াইএসইতে ব্যাংক, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতের আধিপত্য বেশি।   তবে সম্প্রতি রিটেল জায়ান্ট ওয়ালমার্টকে এনওয়াইএসই থেকে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে টেনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে নাসডাক। তালিকাভুক্তির কম খরচও (এনওয়াইএসইতে বার্ষিক প্রায় ৫ লাখ ডলারের বিপরীতে নাসডাকে অর্ধেকেরও কম) নাসডাকের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে।   ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার প্রস্তুতির পাশাপাশি গাঁজা শিল্প এখন এই দুই এক্সচেঞ্জের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   খাত সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিগগিরই গাঁজাকে ‘শিডিউল ৩’ থেকে আরও শিথিল করে ‘শিডিউল ৪’ বা ‘৫’-এ নিয়ে আসবেন। এতে করে এটি পুরোপুরি কার্যকর বৈধতা পাবে এবং সাধারণ বিনোদনমূলক ব্যবহারের পণ্য তৈরিতেও মূলধন বাজারের বিপুল তহবিল ব্যবহারের চূড়ান্ত দ্বার উন্মোচিত হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
গত ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত একবার তীব্র খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বহু পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
পেটে তীব্র ক্ষুধা নিয়েই রাতে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছে গাজার প্রায় অর্ধেক পরিবার: ডব্লিউএফপি

গাজায় জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক পরিবার জানিয়েছে, গত ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত একবার তাদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাতে ঘুমাতে যেতে হয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আগস্টের খাদ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ শতাংশ পরিবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।   ওই ৩০ দিনের মধ্যে ৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তারা ১০ বারের বেশি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাতে ঘুমাতে গেছে। একই সময়ে জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক পরিবার জানিয়েছে, অন্তত একবার তাদের ঘরের খাবার পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছিল।   বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, জরিপ করা ২১ শতাংশ পরিবার দিনে মাত্র একবেলা খাবার খাচ্ছে। প্রায় ৩৮ শতাংশ পরিবার প্রতিদিনের খাবারের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ১৭ শতাংশ পরিবার শিশুদের খাবারকে অগ্রাধিকার দিতে প্রতিদিন প্রাপ্তবয়স্কদের খাবারের পরিমাণ সীমিত করেছে।   খাদ্য কেনা ও বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে পরিবারগুলো। জরিপে অংশ নেওয়া তিন-চতুর্থাংশ পরিবার জানিয়েছে, বাজারে যেতে বা প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করতে তারা বাধার মুখে পড়ছে। নগদ অর্থের সংকট এবং খাদ্যের উচ্চমূল্য এসব সমস্যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।   ইসরায়েলি বিধিনিষেধের মধ্যে গাজায় খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রবেশ এখনো মারাত্মকভাবে সীমিত রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, গত বছরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২১৭টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রতিদিন ৬০০টি ট্রাক প্রবেশের কথা ছিল।   সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যেও গাজায় খাদ্যসংকটের ভয়াবহতা উঠে এসেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসাবে, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ এখনো তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার উচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি এবং পরিবারগুলোর বড় অংশ মৌলিক খাদ্য চাহিদা পূরণে সংগ্রাম করছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলি
গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলির অভিযোগ

গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় পানি সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে একটি ইসরায়েলি সামরিক কোয়াডকপ্টার থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে পানি বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুরা ট্রলিতে জেরিক্যান নিয়ে পানি সংগ্রহ করছিল। এ সময় আকাশে থাকা কোয়াডকপ্টারটি তাদের দিকে গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   বেইত লাহিয়া উত্তর গাজার অন্যতম সংঘাতপ্রবণ এলাকা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও সেখানে ড্রোন ও সামরিক বাহিনীর গুলিতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ২১ আগস্ট বেইত লাহিয়ায় একটি বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আহত ১৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর পরে মারা যায় বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছিল।   গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে নিরাপদ পানি পাওয়াও সাধারণ মানুষের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, বাস্তুচ্যুতি এবং পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে গাজায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।   পানি সংগ্রহের মতো দৈনন্দিন ও মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেও বেসামরিক মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিশুদের পানি সংগ্রহের সময় গুলি চালানোর এই অভিযোগ সেই ঝুঁকিরই নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ঘটনার স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী

গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী কয়েকটি সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও শিন বেতের কার্যক্রমের কার্যত সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের ওই অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠীকে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে। এর মধ্যে আর্টিলারি ও ড্রোন সহায়তা এবং অভিযানের সময় নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে হামাসকে মোকাবিলায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, হামাসের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থের মিল রয়েছে।   তবে ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের বক্তব্যের বরাতে হারেৎজ জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিছু এলাকায় এসব সশস্ত্র সদস্যকে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি অবাধে চলাফেরা করতে এবং শক্তি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   এক ইসরায়েলি সেনার সাক্ষ্যের বরাতে প্রতিবেদনে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরোধের সময় এক বন্দুকধারী অন্য এক ব্যক্তির পায়ে গুলি করেন। ওই সেনার দাবি, ঘটনাটি সেখানে শাস্তির একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল এবং ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান।   আরেক ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মিলিশিয়া সদস্য পিকআপ ট্রাকে করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে গুলি চালানো, বাড়িঘরে লুটপাট এবং স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।   হারেৎজের অনুসন্ধানে গাজার বেইত হানুন, শুজাইয়া, দেইর আল বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় অন্তত পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজার অন্যান্য এলাকায় পুনর্গঠন কার্যক্রম থমকে থাকলেও এসব ঘাঁটির কিছু সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি, কংক্রিটের প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং মোবাইল আবাসন স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পপুলার ফোর্সেস’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম স্ট্রাইক ফোর্স’ নামে পরিচিত কয়েকটি গোষ্ঠী ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভাজনরেখার কাছে মোতায়েন রয়েছে। তারা হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান, নিষিদ্ধ পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।   হারেৎজের সঙ্গে কথা বলা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব গোষ্ঠীর নেতাদের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত নেতা হিসেবে দেখছেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক গ্যাং সদস্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কিংবা হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাও তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন।   ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের দৃষ্টিতে এসব গোষ্ঠী নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে ইসরায়েলি সামরিক সুরক্ষা ও সহায়তা ছাড়া এসব গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা সীমিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে, হামাসবিরোধী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, এসব ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিলুপ্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তবে নেতানিয়াহু ওই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে হামাসও জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকা অবস্থায় তারা অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি নয়। ফলে এসব স্থানীয় মিলিশিয়াকে ঘিরে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান শান্তি আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
গাজায়  মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও
গাজায় জীবিতদের আশ্রয় নেই, মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়।   যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে।   গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।   খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।   হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।    পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না।   আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে।    এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ
গাজায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ ,পণ্য পৌঁছাতে প্রতিটি ধাপেই অর্থ দিতে হয় ইসরায়েলি সেনাদের

গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আরব নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পণ্যের সীমিত সরবরাহ ও প্রবেশে নানা বাধার কারণে খাবার, জ্বালানি, ব্যাটারি ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে।   গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বড় একটি অংশ যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় বাজারে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক নেই।   এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। যুদ্ধের আগে প্রায় ১৪০ ডলারে বিক্রি হওয়া একটি গাড়ির ব্যাটারির দাম এখন ২ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি। একইভাবে সোলার প্যানেলের দামও যুদ্ধের আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে।   সিগারেট ও তামাকের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্যাকেটের দাম সাম্প্রতিক সময়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। পূর্ণ অবরোধের সময় দাম আরও অনেক বেশি হয়েছিল।   শুধু সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পণ্য নয়, হাসপাতালগুলোও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে পড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধার কারণে হাসপাতাল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিকল্প পথে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে।   আরব নিউজের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, গাজায় পণ্য পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষকে বাড়তি অর্থ দিতে হয় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং সীমান্ত পারাপারের বিভিন্ন ধাপে এই অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয় গিয়ে যোগ হচ্ছে পণ্যের দামের সঙ্গে।   ইসরায়েল কিছু পণ্যের প্রবেশ সীমিত করেছে এবং কংক্রিট, স্টিলের পাইপ, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও এক্স-রে মেশিনসহ বেশ কিছু পণ্যকে ‘ডুয়াল-ইউজ’ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে। ইসরায়েলের দাবি, এসব পণ্য সামরিক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।   তবে গাজার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খাবার, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।   এই সংকটের মধ্যে সীমিত সরবরাহ, অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় এবং পণ্য প্রবেশের নানা বাধা মিলে গাজার বাজারে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মূল্যচাপ। ফলে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের সংকটও সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে বাধ্য হয়েই চড়া দামে পণ্য কিনছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিধিনিষেধে গাজায় জমজমাট কালোবাজার: মুনাফা লুটছে ইসরায়েলি সেনা ও ব্যবসায়ীরা, নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা

ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে বিশাল এক কালোবাজার বা চোরাচালান অর্থনীতি। সাধারণ ফিলিস্তিনিদের চড়া দামে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ব্যাটারি বা ওষুধ কিনতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই চোরাচালানের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনা, মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী এবং গাজার হামাস সরকার সবাই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আদালতের নথি, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এপি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ইসরায়েল। বর্তমানে এই পণ্যটি চোরাকারবারিদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক খাতে পরিণত হয়েছে।   শুধু সিগারেট নয়, আইফোন, সোলার প্যানেল থেকে শুরু করে জ্বালানি ও চেতনানাশক ওষুধও অবৈধভাবে গাজায় ঢুকছে। ইসরায়েল কিছু পণ্যের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে এবং অনেক পণ্যকে 'দ্বৈত ব্যবহারের' অজুহাতে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। ইসরায়েলের দাবি, কংক্রিট, গাড়ির যন্ত্রাংশ বা এক্স-রে মেশিনের মতো জিনিসগুলো হামাস সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারে। গাজায় পণ্য প্রবেশের ওপর ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে বাধ্য হয়েই অনেকেই চোরাচালানের পথ বেছে নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালক জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর কিছু সদস্য অর্থের বিনিময়ে এই অবৈধ বাণিজ্যে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এক ব্যবসায়ী বলেন, দখলদাররা তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা রাখেনি, তাই চোরাচালান এখন রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে তাদের এবং ইসরায়েলি সেনাদের লাভ হওয়ার পাশাপাশি গাজার মানুষও অন্তত খাবার বা পণ্যটুকু পাচ্ছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা চোরাচালান রোধে কঠোরভাবে কাজ করছে এবং কোনো সেনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় সব ধরনের পণ্য প্রবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইসরায়েল। বর্তমানে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থার পাশাপাশি মাত্র ১২ জন ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীকে গাজায় বাণিজ্যিকভাবে পণ্য আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি চালানের আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা তাই চোরাকারবারিদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এমনকি হাসপাতালগুলোও জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য এই কালোবাজারের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসায়ীরা জানান, তারা 'সমন্বয়ক' বা কো-অর্ডিনেটরদের কাছে পণ্যের তালিকা পাঠান। এই সমন্বয়করা ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরের মধ্যস্বত্বভোগী। পণ্যগুলো মূলত দক্ষিণ গাজার কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে ঢোকে। চোরাকারবারিরা অনেক সময় ইসরায়েলি সেনাদের ঘুষ দিয়ে ট্রাক পার করে, আবার কখনো কখনো সরাসরি সামরিক যানে করেও পণ্য ভেতরে আনা হয়। আদালতের নথিতে 'আবু বাসেল' নামে এক রহস্যময় চোরাচালান সমন্বয়কের নাম উঠে এসেছে, যার সাথে ইসরায়েলি পুলিশের গভীর সখ্যতা রয়েছে। গাজার ব্যবসায়ীদের মতে, আবু বাসেল এই জগতের অঘোষিত সম্রাট; তার ইশারা ছাড়া গাজায় কিছুই ঢোকে না।   গাজার ব্যবসায়ীদের দাবি, চোরাচালান হওয়া পণ্যের ওপর হামাস পরিচালিত সরকারও মোটা অঙ্কের 'কর' বা ভাগ বসায়। ফিলিস্তিনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বারবাখ জানান, ব্যবসায়ীরা নিজে থেকে জানালে সরকার পণ্যের মূল্যের ২০ শতাংশ নেয়। কিন্তু না জানিয়ে ধরা পড়লে তা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। হামাস প্রশাসনের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চোরাচালান হওয়া পণ্য থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবী ও পুলিশদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি আদালতেও চোরাচালানে জড়িত থাকার দায়ে বেশ কয়েকজন রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে শিন বেত-এর প্রধানের ভাই বেজালেল জিনির নামও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সামরিক যানে করে সিগারেট পার করার জন্য তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ঘুষ নিয়েছিলেন। এছাড়া আলগারাবলি নামের দুই ভাই মাত্র তিন মাসে চোরাচালান থেকে প্রায় ২২ লাখ ডলার আয় করেছেন।   কালোবাজারের এই রমরমা বাণিজ্যের চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে গাজার সাধারণ মানুষকে। যুদ্ধের আগে যে গাড়ির ব্যাটারির দাম ছিল ১৪০ ডলার, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ ডলারে। ১৬ সেন্টের সোলার প্যানেল বিক্রি হচ্ছে ৩.২৫ ডলারে। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সিগারেটের। এক প্যাকেট সিগারেটের দাম কখনো কখনো ১৪০ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের সম্পূর্ণ অবরোধের সময় এটি ১০০০ ডলারেও বিক্রি হয়েছিল। রাফাহ শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া মোহাম্মদ আবুয়েল-এনেইন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ফ্যানের মতো সাধারণ জিনিসও ইসরায়েল ঢুকতে দিচ্ছে না। ক্রসিং দিয়ে ফ্যান ঢুকলে কী ক্ষতি হবে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ফ্যান দিয়ে কেউ রকেট বানাবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, তীব্র গরমে বাচ্চাদের গায়ে পানি ছিটিয়ে তাদের দিন পার করতে হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু,ডোনাল্ড ট্রাম্প,ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হামাস রাজি, নেতানিয়াহু নারাজ - গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলে ট্রাম্পের জামাতা

গাজায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শান্তি পরিকল্পনাকে আবারও সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মিসরের কায়রোতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বিরল সরাসরি বৈঠকের একদিন পর জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পরও মূল বিরোধের সমাধান হয়নি।   কুশনারের এই সফরের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা রোডম্যাপ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা। পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার বেসামরিক শাসন নতুন ব্যবস্থার হাতে তুলে দেওয়া এবং এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে। হামাস পরিকল্পনাটিতে সম্মতি জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিন্তু কোন পদক্ষেপটি আগে বাস্তবায়িত হবে - সেটিই এখন সবচেয়ে বড় বাধা।   ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট - হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র হওয়ার আগে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে চান না প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে হামাস চায় ইসরায়েল প্রথমে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে স্পষ্ট ও কার্যকর প্রতিশ্রুতি দিক। এই দুই অবস্থানের ব্যবধানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।    এর আগে কায়রোতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন জ্যারেড কুশনার। আলোচনায় মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরাও যুক্ত ছিলেন। হামাস নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির এমন সরাসরি আলোচনা এখনো বিরল ঘটনা - ফলে বৈঠকটিকে গাজা নিয়ে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ⁠   কুশনারের সঙ্গে হামাসের এটিই প্রথম পরিচিত সরাসরি যোগাযোগ নয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্টিভ উইটকফকে সঙ্গে নিয়ে হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। তবে এবারের আলোচনা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো সামনে চলে এসেছে। ⁠   কায়রোর আলোচনা শেষে জেরুজালেমে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন কুশনার। বৈঠকটিকে ইসরায়েলি পক্ষ ‘গভীর ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইসরায়েলের পূর্ণ সম্মতি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও গাজা পরিকল্পনার মূল বাধা এখনো কাটেনি। ⁠   তবে বৈঠক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। গাজার নিরস্ত্রীকরণ এবং অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করতে দুটি পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে নেতানিয়াহু ও কুশনার একমত হয়েছেন। গাজার পুনর্গঠনের আগে অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ⁠   কুশনার জানিয়েছেন, হামাসের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক বক্তব্য পাওয়া গেলেও এখন কথার পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় ওয়াশিংটন। তার মতে, অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া এবং হামাসের ব্যবহৃত টানেল বন্ধের মতো দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হলে আগামী ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে সেটি পুরোপুরি নির্ভর করছে পরিকল্পনার শর্ত বাস্তবায়নের ওপর। ⁠   অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধ করার কথা বলেছেন। এমন সময়ে এই মন্তব্য এসেছে, যখন তার দূত কুশনার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনায় এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। ⁠   এই কূটনৈতিক তৎপরতায় মিসর, কাতার ও তুরস্কের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কায়রোর আলোচনায় তিন দেশের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্ত ছিলেন এবং হামাস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগের পথ তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। ফলে গাজা নিয়ে বর্তমান আলোচনা শুধু ওয়াশিংটন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই - পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ⁠   সবচেয়ে বড় বাধা এখনো একই জায়গায় - কে আগে পদক্ষেপ নেবে। হামাস ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চায়, আর নেতানিয়াহু চান আগে হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। কয়েক ঘণ্টার কুশনার-নেতানিয়াহু বৈঠকেও এই মৌলিক ব্যবধান দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে গাজা শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে দুই পক্ষের মধ্যে এই আস্থার সংকট কত দ্রুত কাটানো যায় তার ওপর। ⁠   তবে একটি বিষয় পরিষ্কার - যুক্তরাষ্ট্র এবার শুধু মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত সরাসরি হামাস নেতৃত্বের সঙ্গে বসছেন, পরদিনই আলোচনা করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। গাজার যুদ্ধ থামানো এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা তাই নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।   এখন নজর থাকবে দুটি বিষয়ে - হামাস বাস্তবে নিরস্ত্রীকরণের পথে পদক্ষেপ নেয় কি না এবং তার বিপরীতে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয় কি না। এই দুই প্রশ্নের সমাধান না হলে বৈঠক যতই বাড়ুক, গাজা নিয়ে স্থায়ী সমঝোতার পথ খোলা কঠিনই থেকে যাবে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
গাজার ভয়াবহতা ভুলতে না পেরে আত্মহ ত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা
গাজার ভয়াবহতা ভুলতে না পেরে আত্মহ ত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা

গাজায় যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরার পর ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি উরিয়েল মোল্তো গেতাহোন নামের ২৪ বছর বয়সী এক মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) আত্মহত্যা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার কর্মরত না থাকা অবস্থায় তিনি নিজের জীবন কেড়ে নেন বলে হিব্রু সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট (Ynet) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে।   গাজায় অভিযানের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে নিহত ওই সেনাসদস্যের এক আত্মীয় জানান, সেনারা শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও তাদের মনের ভেতর এমন গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা বাইরের কেউ দেখতে পায় না।   এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গঠিত একটি কমিটির প্রাথমিক পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, গেতাহোনের মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর সামরিক দায়িত্ব পালনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মূলত গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ১৭ জন সেনাসদস্য আত্মহত্যা করেন, যার মধ্যে ৭ জনই ৭ অক্টোবরের পরের ঘটনা। এরপর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ জনে এবং ২০২৫ সালে তা ২১ থেকে ২২ জনে পৌঁছায়, যা গত প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে বার্ষিক সর্বোচ্চ আত্মহত্যার রেকর্ড। এছাড়া ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষভাগ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন সক্রিয় সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।   দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মোট ১২৪ জন সক্রিয় সেনা (বাধ্যতামূলক চাকরি, ক্যারিয়ার এবং সক্রিয় রিজার্ভ) আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দেখা যায় ২০২৪ সালে, যেখানে আত্মহত্যাকারীদের ৭৮ শতাংশই ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনা; পূর্ববর্তী বছরগুলোতে এই হার ছিল মাত্র ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ।   গাজা, লেবানন এবং অন্যান্য ফ্রন্টে দীর্ঘমেয়াদি হামলার জন্য বিপুলসংখ্যক রিজার্ভ সেনাকে তলব করায় আত্মহত্যার ঘটনায় তাদের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি এই পরিসংখ্যানে কেবল কর্মরত সেনাদের তথ্য থাকায় প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিভিন্ন পৃথক প্রতিবেদন ও তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক ডজনেরও বেশি সাবেক সেনাসদস্য চাকরি ছাড়ার পর মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় দুই ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল ২১ ফিলিস্তিনির কঙ্কাল, খোঁজ নেই আরও ৪০ জনের
গাজায় দুই ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল ২১ ফিলিস্তিনির কঙ্কাল, খোঁজ নেই আরও ৪০ জনের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র প্রতিদিনই নতুন করে সামনে আসছে। এবার গাজার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনির কঙ্কালসার দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল। শনিবার গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   বিবৃতিতে জানানো হয়, উদ্ধারকারীরা পূর্ব গাজা সিটির ‘আসকুলা’ এলাকায় একটি বিধ্বস্ত বাড়ির নিচ থেকে ১২ জনের এবং পশ্চিম গাজার ‘কাতিবা’ এলাকার আরেকটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ৯ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।   দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় মরদেহগুলো সম্পূর্ণ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তবে তারা ঠিক কবে হামলার শিকার হয়েছিলেন, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   এদিকে, এই উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি আরও একটি ভয়াবহ তথ্য জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স। মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গাজার জেইতুন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অপর একটি ভবনের নিচে অন্তত ৪০ জনের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে আছে বলে তারা নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছেন।   এই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানেও অবিলম্বে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। গাজায় টানা সংঘাত ও হামলার কারণে এমন অসংখ্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০