মাকে হারানোর বেদনা থেকে গবেষণায় সাফল্য, ৩ কোটি ৬০ লাখ গবেষণাপত্র বিশ্লেষণে জর্জিয়া টেক শিক্ষার্থীর নতুন আবিষ্কার
মাকে প্রাণঘাতী স্নায়ুরোগে হারানোর বেদনাই যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক)-এর শিক্ষার্থী মেঘনা আইয়ারকে এমন এক গবেষণার পথে নিয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে ALS, আলঝেইমারস ও ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মতো জটিল স্নায়ুবিক রোগ নিয়ে গবেষণার ধরণ বদলে দিতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তিনি ও তার গবেষণা দল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ বায়োমেডিক্যাল গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে এই তিনটি রোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক সম্পর্কের সন্ধান পেয়েছেন।
জর্জিয়া টেক জানিয়েছে, মেঘনার মা সুনীতি আইয়ার অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (ALS) রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি রোগটি সম্পর্কে গভীরভাবে জানার আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম বছরেই তিনি অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের নেতৃত্বাধীন ‘ল্যাবরেটরি ফর প্যাথোলজি ডায়নামিকস’-এ গবেষণায় যুক্ত হন।
গবেষণায় এআই ব্যবহার করে বিশাল সংখ্যক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ALS, আলঝেইমারস এবং ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মধ্যে এমন কিছু জৈবিক মিল রয়েছে, যা গবেষকদের রোগগুলোকে আলাদা করে নয়, বরং একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই সম্পর্ক নতুন চিকিৎসা আবিষ্কার করে না, তবে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
২০২৫ সালের জুনে মেঘনার মা মারা যান। মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের দিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু ব্যক্তিগত সেই শোকই মেঘনাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। মায়ের মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর তিনি আবার গবেষণাগারে ফিরে আসেন এবং গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেন। পরে গবেষণাটি আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউ সাময়িকী Biomedicines-এ প্রকাশিত হয়। একজন স্নাতক শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণাপত্রটির প্রথম লেখক (ফার্স্ট অথর) হওয়ার বিরল কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি।
মেঘনার গবেষণার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে SemNet Explorer নামে একটি নতুন এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষকরা কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র দ্রুত বিশ্লেষণ করে রোগগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে বের করতে পারবেন। একই সঙ্গে এআই কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তার ব্যাখ্যাও দেখতে পারবেন গবেষকরা, যা ভবিষ্যৎ গবেষণাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে সহায়তা করবে।
জর্জিয়া টেকের অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের ভাষায়, মেঘনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও গবেষণার প্রতি অঙ্গীকার এই প্রকল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আর মেঘনার আশা, তার মাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলেও এই গবেষণা একদিন হয়তো অন্য কোনো পরিবারকে একই ধরনের বেদনা থেকে রক্ষা করার পথ তৈরি করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের চার সন্তানের মা কাইলি গ্রাইমস এক রাতে ৯১১-এ ফোন করেছিলেন সন্তানদের কোনো জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতির জন্য নয়, নিজের ভেঙে পড়ার মুহূর্তে সাহায্য চেয়ে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি, একসঙ্গে দুই সন্তানের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের যত্ন এবং চার সন্তান সামলানোর চাপের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, আর একা সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে। সেদিন স্বামী কাইল কাজে থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন কাইলি। এর আগের কয়েক মাসে পরিবারের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি হয়। তাদের ছোট ছেলে নোবেলের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এর ৬৩ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয় তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে গোল্ডিও। পরিবারের আগে এমন রোগের ইতিহাস ছিল না। দুই সন্তানের ডায়াবেটিসের যত্ন নিতে গিয়ে কাইলির ঘুম ও বিশ্রাম প্রায় হারিয়ে যায়। ছোট সন্তানের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ ও খাবারের হিসাবসহ প্রতিদিনের নানা দায়িত্ব তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল। ৩১ জুলাই রাতেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সন্তানরা রাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এর মধ্যেই ছোট নোবেল একটি ঘরের গাছের টবের মাটি মুখে নিয়ে ফেললে কাইলি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারেন, মানসিকভাবে তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। কাইলি প্রথমে স্বামীকে ফোন করে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তখনও প্রায় ৩০ মিনিট দূরে ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি ৯১১-এ ফোন করেন। ডিসপ্যাচার জানতে চান, জরুরি পরিস্থিতি কী। কাইলি বলেন, তিনি আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না, তিনি ভীষণ চাপে আছেন এবং সাহায্য প্রয়োজন। এরপর যখন আবার জানতে চাওয়া হয়, আসল জরুরি বিষয়টি কী, তখন তার উত্তর ছিল, “আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'।” কাইলি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে বা সন্তানদের ক্ষতি করতে যাচ্ছেন না। তিনি শুধু বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্যও তাকে কিছুটা সহায়তা নিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পুলিশ অফিসার বাড়িতে পৌঁছান। পরে অন্য ফার্স্ট রেসপন্ডাররাও আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। এই ঘটনার পর কাইলি পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে আরও সহায়তা নিতে শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে কোনো মা বা কেয়ারগিভার মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে সেটিকে লুকিয়ে রাখার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। কাইলির অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান বা পরিবারের সদস্যের অতিরিক্ত যত্নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, সাহায্যের প্রয়োজন হওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের সীমা বুঝে সময়মতো সহায়তা চাওয়াও দায়িত্বশীলতার অংশ। কাইলি পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাতৃত্ব, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সন্তানদের যত্ন এবং কেয়ারগিভার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তার এই খোলামেলা অবস্থান অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তান লালনপালনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন নিয়ে রিপাবলিকানদের কঠোর অবস্থান, প্রতিবাদে মুসলিমরা
২০ ডলারে শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর! নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ায় বাধা কাটল বাংলাদেশিদের, বাতিল হলো পুরোনো নিষেধাজ্ঞা
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নতুন কারাগারের ছবি প্রকাশের পর তার হাতঘড়ি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ক্ষমতায় থাকার সময় যেখানে তাকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলারের দামি সুইস ঘড়ি পরতে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের কারাগারে প্রকাশিত নতুন ছবিতে তার হাতে দেখা গেছে প্রায় ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি। ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে তোলা বলে প্রকাশিত ছবিতে মাদুরোকে ধূসর পোশাকে হাসিমুখে এবং দুই হাতে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। তার বাঁ হাতে থাকা ঘড়িটি ক্যাসিও জি-শক বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন কারা কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, কারাগারের ক্যান্টিনে এই ধরনের একটি ক্যাসিও ঘড়ির দাম ৪০ দশমিক ৩০ ডলার। তবে প্রকাশিত ছবির ঘড়িটি ঠিক কোন মডেলের, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘড়িটির দাম নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়ার মূল কারণ মাদুরোর আগের জীবনযাপন। ক্ষমতায় থাকাকালে তাকে একাধিক দামি ঘড়ি পরতে দেখা গেছে। ঘড়ি বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ওয়াচেস অব এসপিওনাজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মাদুরোর হাতে একটি হুবলো ক্লাসিক ফিউশন ক্রুজ-দিয়েজ প্লাটিনাম ট্যুরবিলন দেখা যায়। একই ধরনের ঘড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও মাদুরোকে প্রায় ৪০ হাজার ডলার মূল্যের হুবলো বিগ ব্যাং কিং পাওয়ার মারাদোনা ঘড়ি পরতে দেখা যায়। ঘড়িটি আর্জেন্টিনার প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা তাকে উপহার দিয়েছিলেন বলে ওয়াচেস অব এসপিওনাজ জানিয়েছে। তবে মাদুরোর ঘড়ির তালিকায় শুধু বিলাসী ব্র্যান্ডই ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তাকে অপেক্ষাকৃত কম দামের সিটিজেনসহ অন্য ঘড়িও পরতে দেখা গেছে। ফলে নতুন ছবিতে ক্যাসিও ঘড়ি দেখা যাওয়াকে তার কারাগারের বর্তমান জীবনযাপনের সঙ্গে আগের বিলাসী জীবনযাপনের একটি দৃশ্যমান পার্থক্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মাদুরোর কারাগারে যাওয়ার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের নাটকীয় পরিণতি। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি রাতের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। পরে নিউইয়র্কে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাদুরো ও তার সহযোগীরা ক্ষমতার অবস্থান ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলায় মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্র এবং কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রসহ চারটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে। মাদুরো ও ফ্লোরেস বর্তমানে ব্রুকলিনের কারাগারে আটক রয়েছেন। জুলাইয়ে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন তাদের মামলার বিচার শুরুর তারিখ ২০২৭ সালের ১ জুন নির্ধারণ করেন। মাদুরোর আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলের জন্য বিভিন্ন আইনি যুক্তি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারাগারে যাওয়ার পর মাদুরো নিজেকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল দাবি করে তার আইনি ব্যয়ের দায়িত্ব ভেনেজুয়েলা সরকারের নেওয়া উচিত বলেও বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর আগে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করার কথা জানানো হয়েছিল। এসব সম্পদের মধ্যে বাড়ি, গাড়ি, বিমান ও গয়না রয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি। মাদুরোর দীর্ঘ শাসনামলে তার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল। সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনীতি সংকটে থাকলেও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর একটি অংশ বিলাসী জীবনযাপন করত। নতুন কারাগারের ছবিতে ৪০ ডলারের ঘড়ি সেই বৈপরীত্যকে আবারও আলোচনায় এনেছে। তবে নতুন ছবির ঘড়িটি মাদুরোর নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কি না, কিংবা তিনি এটি কীভাবে পেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবিটি মূলত তার বর্তমান বন্দিজীবনের একটি দৃশ্য তুলে ধরছে, যা ক্ষমতায় থাকার সময়কার জীবনযাপনের সঙ্গে বেশ আলাদা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে মসজিদে হামলার লাইভ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কিশোরীর বিরুদ্ধে ৩ হত্যা মামলা
পুরোনো ম্যাট্রেস নিয়ম না মেনে ফেলে দেওয়ায় ৮ হাজার ডলার জরিমানার মুখে প্রবাসী বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে বসে অ্যামাজন ব্যবসা, নতুন উদ্যোক্তাদের শুরু করার আগে যা জানা জরুরি
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। হামলার পর ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী আরেক নারীও নিহত হয়েছেন। সোমবার ৩১ আগস্ট বিকেলে ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ৪১ থেকে ৪৩ স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ৪৯ বছর বয়সী কুইন্সের বাসিন্দা পামেলা সিসনেরোস। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দুটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে হঠাৎ পথচারীদের ওপর হামলা চালান। প্রথমে তিনি সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। দুই আহত ব্যক্তিকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৩২ বছর বয়সী নারী পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৬৮ বছর বয়সী পুরুষের অবস্থা স্থিতিশীল বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত নারী ও আহত পুরুষের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ছুরিকাঘাতের পর সিসনেরোস উত্তর দিকে গিয়ে টাইমস স্কয়ারের কাছে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের একটি সাবস্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পুলিশ সদস্যরা তাকে ছুরি ফেলে দিতে বারবার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টেজারও ব্যবহার করে। তবে এতে তিনি থামেননি এবং ছুরি হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে দুই পুলিশ সদস্য গুলি চালান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গুলিতে গুরুতর আহত সিসনেরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে এলোমেলো বা উদ্দেশ্যহীন হামলা বলে মনে হচ্ছে এবং এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, হামলাকারীর মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড ছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আগে কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার পর তদন্তের জন্য টাইমস স্কয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পুলিশ ব্যারিকেড বসানো হয় এবং সেভেন্থ অ্যাভিনিউর কয়েকটি অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। টাইমস স্কয়ার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা এবং ওয়ান টাইমস স্কয়ারের পাশেই ঘটনাটি ঘটে। সেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকের সমাগম হয়। ফলে ব্যস্ত এই এলাকায় এমন সহিংস ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।
নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের তথ্য যাচাইয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলবে মার্কিন ইমিগ্রেশন, ফিরল ৩৫ বছর আগের নিয়ম
এক সপ্তাহে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত ৭ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার