আমেরিকা

মাকে হারানোর বেদনা থেকে গবেষণায় সাফল্য, ৩ কোটি ৬০ লাখ গবেষণাপত্র বিশ্লেষণে জর্জিয়া টেক শিক্ষার্থীর নতুন আবিষ্কার

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ২৩:৫০
মায়ের স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা করে স্নায়ুবিক রোগ নিয়ে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন জর্জিয়া টেকের শিক্ষার্থী মেঘনা আইয়ার। ছবি: সংগৃহীত
মায়ের স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা করে স্নায়ুবিক রোগ নিয়ে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন জর্জিয়া টেকের শিক্ষার্থী মেঘনা আইয়ার। ছবি: সংগৃহীত

মাকে প্রাণঘাতী স্নায়ুরোগে হারানোর বেদনাই যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক)-এর শিক্ষার্থী মেঘনা আইয়ারকে এমন এক গবেষণার পথে নিয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে ALS, আলঝেইমারস ও ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মতো জটিল স্নায়ুবিক রোগ নিয়ে গবেষণার ধরণ বদলে দিতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তিনি ও তার গবেষণা দল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ বায়োমেডিক্যাল গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে এই তিনটি রোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক সম্পর্কের সন্ধান পেয়েছেন। 

 

জর্জিয়া টেক জানিয়েছে, মেঘনার মা সুনীতি আইয়ার অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (ALS) রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি রোগটি সম্পর্কে গভীরভাবে জানার আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম বছরেই তিনি অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের নেতৃত্বাধীন ‘ল্যাবরেটরি ফর প্যাথোলজি ডায়নামিকস’-এ গবেষণায় যুক্ত হন। 

 

গবেষণায় এআই ব্যবহার করে বিশাল সংখ্যক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ALS, আলঝেইমারস এবং ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মধ্যে এমন কিছু জৈবিক মিল রয়েছে, যা গবেষকদের রোগগুলোকে আলাদা করে নয়, বরং একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই সম্পর্ক নতুন চিকিৎসা আবিষ্কার করে না, তবে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। 

 

২০২৫ সালের জুনে মেঘনার মা মারা যান। মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের দিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু ব্যক্তিগত সেই শোকই মেঘনাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। মায়ের মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর তিনি আবার গবেষণাগারে ফিরে আসেন এবং গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেন। পরে গবেষণাটি আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউ সাময়িকী Biomedicines-এ প্রকাশিত হয়। একজন স্নাতক শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণাপত্রটির প্রথম লেখক (ফার্স্ট অথর) হওয়ার বিরল কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি। 

 

মেঘনার গবেষণার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে SemNet Explorer নামে একটি নতুন এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষকরা কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র দ্রুত বিশ্লেষণ করে রোগগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে বের করতে পারবেন। একই সঙ্গে এআই কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তার ব্যাখ্যাও দেখতে পারবেন গবেষকরা, যা ভবিষ্যৎ গবেষণাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে সহায়তা করবে। 

 

জর্জিয়া টেকের অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের ভাষায়, মেঘনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও গবেষণার প্রতি অঙ্গীকার এই প্রকল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আর মেঘনার আশা, তার মাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলেও এই গবেষণা একদিন হয়তো অন্য কোনো পরিবারকে একই ধরনের বেদনা থেকে রক্ষা করার পথ তৈরি করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নতুন গবেষণায় মানুষের দীর্ঘায়ুর সম্ভাব্য জৈবিক সীমা নিয়ে গাণিতিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত
মানুষ কি ১৫৬ বছর বাঁচতে পারে? নতুন গবেষণায় উঠে এলো মানুষের সর্বোচ্চ আয়ু

মানুষ সর্বোচ্চ কত বছর বাঁচতে পারে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বহুদিন ধরেই গবেষণা চলছে। এবার একদল বিজ্ঞানী নতুন একটি গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, যদি বার্ধক্যের প্রায় সব উল্টানো সম্ভব এমন প্রক্রিয়া একদিন নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবুও মানুষের সম্ভাব্য আয়ুর একটি জৈবিক সীমা থেকে যেতে পারে। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, সেই তাত্ত্বিক গড় সীমা প্রায় ১৫৬ বছর।   গবেষণাটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী npj Aging-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে গবেষকরা বার্ধক্যের বিভিন্ন জৈবিক কারণ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, কোন উপাদানটি মানুষের আয়ু সীমিত করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।   গবেষণার মূল পর্যবেক্ষণ হলো, মানুষের শরীরে সময়ের সঙ্গে জমতে থাকা সোমাটিক মিউটেশন বা দেহকোষের ডিএনএ-তে স্থায়ী পরিবর্তনই দীর্ঘায়ুর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হতে পারে। এ ধরনের ডিএনএ পরিবর্তন জন্মের পর শরীরের সাধারণ কোষে তৈরি হয় এবং এটি পরবর্তী প্রজন্মে বংশগতভাবে ছড়ায় না। বর্তমানে এ ধরনের ক্ষতি সম্পূর্ণভাবে দূর করার কোনো প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।   গবেষকরা একটি কাল্পনিক মডেল তৈরি করেন, যেখানে একে একে বার্ধক্যের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে বাদ দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, যদি সোমাটিক মিউটেশন ছাড়া বার্ধক্যের অন্য সব কারণ দূর করা যায়, তবুও মানুষের সম্ভাব্য আয়ু ১৪৬ থেকে ১৯৪ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং গাণিতিকভাবে এর মধ্যম মান দাঁড়ায় প্রায় ১৫৬ বছর।   গবেষণার সহলেখক ইভজেনি এফিমভ বলেছেন, মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন এবং হৃদ্‌যন্ত্রের কার্ডিওমায়োসাইট কোষই দীর্ঘায়ুর প্রধান সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করে। কারণ এই কোষগুলো সাধারণত বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি করতে পারে না। ফলে সময়ের সঙ্গে জমতে থাকা ডিএনএ ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে এসব অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে।   অন্যদিকে যকৃতের মতো যেসব অঙ্গ নিয়মিত নতুন কোষ তৈরি করতে পারে, সেগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ডিএনএ ক্ষতি সামলে নিতে সক্ষম। এ কারণেই বার্ধক্যে ডিমেনশিয়া, হৃদ্‌রোগ বা হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতার মতো রোগ বেশি দেখা যায়, কারণ এসব রোগ এমন অঙ্গকে প্রভাবিত করে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সহজে প্রতিস্থাপিত হয় না।   নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি গ্রসম্যান স্কুল অব মেডিসিন–এর সহকারী অধ্যাপক জর্ডান ওয়েইস, যিনি এই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, বলেন, গবেষণার ফল বাস্তব পর্যবেক্ষণের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, মানুষের সুস্থ জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয় ঠিক সেই অঙ্গগুলোতে, যেগুলো নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ নতুন করে তৈরি করতে পারে না।   গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকরা প্রথমে এমন একটি কাল্পনিক "বার্ধক্যহীন মানুষ"-এর মডেল তৈরি করেন, যার মৃত্যুঝুঁকি বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়ে না। সেই অবস্থায় তাত্ত্বিকভাবে মানুষের গড় আয়ু প্রায় ১ হাজার ৭৫৯ বছর হতে পারত। কিন্তু সোমাটিক মিউটেশনকে আবার মডেলে যুক্ত করার পর সম্ভাব্য আয়ু নেমে আসে প্রায় ১৫৬ বছরে। গবেষকদের মতে, এই ডিএনএ ক্ষতিই তাত্ত্বিক দীর্ঘায়ু ও বাস্তব জীবনের আয়ুর মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি করে।   তবে গবেষকরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই গবেষণার অর্থ এই নয় যে মানুষ শিগগিরই ১৫৬ বা ১৯০ বছর বাঁচতে পারবে। বরং এটি দেখায়, বার্ধক্যের কোন জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো মানুষের আয়ু সবচেয়ে বেশি কমিয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে কোন ক্ষেত্রগুলোতে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।   এখন গবেষকরা তাদের মডেলে বার্ধক্যের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—যেমন মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা হ্রাস, এপিজেনেটিক পরিবর্তন, টেলোমিয়ার ছোট হয়ে যাওয়া এবং প্রোটিনের গুণগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়া—অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। তাদের লক্ষ্য, এমন একটি পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক কাঠামো তৈরি করা, যা বার্ধক্যের প্রতিটি প্রক্রিয়া মানুষের আয়ু কতটা কমায়, তা পরিমাপ করতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতের চিকিৎসা গবেষণার দিকনির্দেশনা দেবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ২৩:৫৯
মায়ের স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা করে স্নায়ুবিক রোগ নিয়ে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন জর্জিয়া টেকের শিক্ষার্থী মেঘনা আইয়ার। ছবি: সংগৃহীত

মাকে হারানোর বেদনা থেকে গবেষণায় সাফল্য, ৩ কোটি ৬০ লাখ গবেষণাপত্র বিশ্লেষণে জর্জিয়া টেক শিক্ষার্থীর নতুন আবিষ্কার

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বন্ড ব্যবস্থার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডে ১ লাখ ডলারের বন্ড নিয়ে আলোচনা, যা জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

ফ্যালকোনেট প্রযুক্তিসংবলিত নজরদারি গাড়ি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার রাস্তায় ঘুরছে ইসরায়েলি ‘স্পাই ভ্যান’, নজরদারিতে থাকতে পারে আপনার ফোন

ডিএনএ পরীক্ষায় ৩৮ বছর পর জন্মের সময় অদলবদলের ঘটনা জানতে পারেন কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসন। ছবি: সংগৃহীত
ডিএনএ পরীক্ষায় ৩৮ বছর পর জানা গেল জন্মের সময় অদলবদল, হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দুই পরিবারের

জন্মের প্রায় ৩৮ বছর পর একটি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন, তারা আসলে ভুল পরিবারের কাছে বড় হয়েছেন। অবিশ্বাস্য এই সত্য সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই ব্যক্তি ও তাদের পরিবার। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভুলের কারণে তারা এমন একটি জীবন হারিয়েছেন, যা প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রাপ্য ছিল।   মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসন নামে দুই ব্যক্তি গত সপ্তাহে নর্থ ডাকোটার অঙ্গরাজ্য আদালতে ইউনিটি মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, ১৯৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি নর্থ ডাকোটার গ্রাফটন শহরের ওই হাসপাতালেই তাদের জন্ম হয় এবং কোনো এক পর্যায়ে দুই নবজাতককে ভুল পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। সে দিন ওই হাসপাতালে জন্ম নেওয়া একমাত্র দুই নবজাতক ছিলেন তারা।   অবিশ্বাস্য এই ঘটনার সূত্রপাত হয় একেবারে কাকতালীয়ভাবে। কাইল বাইলিন একটি পারিবারিক ক্রিসমাস উপহার বিনিময় অনুষ্ঠানে বাড়িতে বসে করা যায় এমন একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পান। কৌতূহলবশত পরীক্ষা করার পর একটি বংশতালিকা-ভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার সঙ্গে এক নারীর জৈবিক আত্মীয়তার মিল পাওয়া যায়। পরে ওই নারীর ভাতিজা জেরেমি মরিসনও ডিএনএ পরীক্ষা করান। ফলাফলে নিশ্চিত হয়, জন্মের সময় দুই শিশুকে ভুল পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছিল।   বাইলিন বলেন, "ফলাফল দেখার পর আমি সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে যাই। কখনো কল্পনাও করিনি যে জন্মের সময় সত্যিই আমাদের অদলবদল করা হয়েছিল।" অন্যদিকে, মরিসন জানান, বাইলিনের ভাইয়ের ছবি দেখেই তার সন্দেহ হয়েছিল। তার ভাষায়, ছবিতে নিজের সঙ্গে আশ্চর্যজনক মিল দেখে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারেননি।   মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাইলিনের কাছে এখনো হাসপাতালের সেই নবজাতকের পরিচয়-বন্ধনী (হাসপাতালের ব্রেসলেট) সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে ভুল করে তাকে "কাইল বাইলিন" হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। অথচ জৈবিকভাবে তিনি আসলে জেরেমি মরিসন ছিলেন।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে কোনো এক সময় দুই নবজাতকের অদলবদল হয়েছিল। তবে তাদের দাবি, হাসপাতালের কর্মীরা এ ঘটনার জন্য দায়ী ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। হাসপাতাল এক বিবৃতিতে জানায়, প্রায় চার দশক পেরিয়ে যাওয়ায় সে সময়ের চিকিৎসা নথি ও কর্মীদের রেকর্ড আর সংরক্ষিত নেই। এছাড়া ওই সময় প্রসূতি বিভাগে কর্মরত কেউ বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত নন। ফলে কীভাবে এই ভুল ঘটেছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।   কাইলকে লালন-পালন করা ইভলিন নিউটন বলেন, "কাইল এখনো আমার ছেলে, এটা কখনো বদলাবে না। কিন্তু আমার জৈবিক সন্তানের সঙ্গে কাটানোর যে জীবন ছিল, তা আমি হারিয়েছি। প্রথম হাঁটা, গাড়ি চালানো শেখা, বিয়ে—এসব মুহূর্ত আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।" জেরেমি মরিসনও জানান, এই সত্য জানার পরও যেসব বাবা-মা তাকে বড় করেছেন, তাদের প্রতিই তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আগের মতোই রয়েছে। তিনি বলেন, "একটি ডিএনএ পরীক্ষা আমার ৩৮ বছরের স্মৃতি মুছে দিতে পারে না।"   বর্তমানে মরিসন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানে ওয়েল্ডিং পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে বাইলিন একাডেমিক পেশায় যুক্ত। দুজনই এখন তাদের জৈবিক বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। যদিও তারা স্বীকার করেছেন, সম্পর্ক গড়ে তোলার এই যাত্রা আবেগঘন এবং কিছুটা অস্বস্তিকরও। তবে একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।   মামলায় দুই পরিবার মানসিক ক্ষতি, অবহেলা এবং চিকিৎসাগত গাফিলতির অভিযোগে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তাদের আইনজীবী টিম ও'কিফ জানান, মামলা করার আগে প্রায় এক বছর হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ইলেকট্রনিক পরিচয় যাচাই, বারকোডযুক্ত পরিচয়-বন্ধনী এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার কারণে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সেন্টার ফর বায়োএথিক্সের শিক্ষক ও শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. জনাথন ম্যারনের ভাষায়, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এমন ভুল "প্রায় কখনোই হওয়ার কথা নয়"।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ২২:৫২
নাবালিকাকে অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে শোষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত। ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে ১৭ বছরের দাবি করে ১৩ বছরের কিশোরীর সঙ্গে ৫০-বারের শারীরিক সম্পর্ক, ভিডিও রেডিটে ভাইরাল

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

নিজের দপ্তরের তদন্তাধীন এক মামলার অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে আলোচনায় মার্কিন প্রসিকিউটর। ছবি: সংগৃহীত

যৌন নিপীড়নের অভিযুক্ত আপরাধীর সাথে প্রসিকিউটরের সম্পর্ক, পালাতে সহায়তা করায় হারালেন পদ

১৮% বেতন বৃদ্ধি নেবেন না মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
মেয়রের বেতন বাড়লেও অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করবেন না জোহরান মামদানি

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেতন ১৮ শতাংশ বাড়ানোর একটি বিল অনুমোদন করেছে। তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এই বেতন বৃদ্ধি থেকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করবেন না।   বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মামদানি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে কথা বলে কখনো তার মনে হয়নি যে শহরের মানুষের প্রধান উদ্বেগ মেয়রের বেতন কম হওয়া। বরং তিনি মনে করেন, সরকারি অর্থ এমন খাতে ব্যয় হওয়া উচিত, যা অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা মানুষের উপকারে আসে।   তিনি বলেন, “মানুষের সঙ্গে কথা বলে আমি কখনো অনুভব করিনি যে তাদের প্রধান সমস্যা হলো মেয়রের বেতন। আমি চাই এই অর্থ এমন মানুষের কাজে লাগুক, যারা এই শহরে অর্থনৈতিকভাবে সংগ্রাম করছেন।”   নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অনুমোদিত বিল অনুযায়ী, মেয়রসহ বিভিন্ন নির্বাচিত কর্মকর্তার বেতন ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে মামদানি স্পষ্ট করেছেন, আইনে বেতন বৃদ্ধির সুযোগ থাকলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করবেন না।   নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেতন সময়ে সময়ে একটি স্বাধীন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়। এরপর সিটি কাউন্সিলের অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়।   মেয়র জোহরান মামদানির এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি সরকারি ব্যয় ও জনস্বার্থের প্রতি তার অবস্থানের বার্তা বহন করে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ২১:৩৩
মেয়ের শোবার ঘরে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার কেন্দ্রা স্কট। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ের শোবার ঘরে অপরিচিত যুবককে দেখে গুলি করে হত্যা করলেন মা

লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তে আলোচিত বহুবিবাহ ও প্রতারণার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ পুরুষকে বিয়ে করে লাখো ডলার হাতিয়ে নিলেন চীনা তরুণী

ম্যানহাটনের ৫০৯ ওয়েস্ট ৪৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত নতুন এই আবাসিক ভবনে বিভিন্ন আয়ের মানুষের জন্য একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ম্যানহাটনে মাত্র ১,০৩১ ডলারে নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় ২০ জুলাই

0 Comments