কাশ্মিরে পাকিস্তানি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযান, নিহত ২০
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের রাওয়ালাকোটে নির্বাচন বর্জন আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাওয়ালাকোটের দ্রিক এইথ এলাকায় সমবেত জনতার ওপর কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাশ্মিরের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২৭ জুলাই থেকে নির্বাচন বর্জনের দাবিতে আন্দোলনরত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। নিহতদের মধ্যে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সঙ্গে যুক্ত উসমান নাজিরও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ৫ জুন থেকে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে নির্বাচনবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং স্থানীয় বিভিন্ন দাবিতে প্রতিবাদ করে আসছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালিয়েছে এবং বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
অধিকৃত কাশ্মিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী আকিল ভাই এক ভিডিও বার্তায় পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাওয়ালাকোটে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন বর্জনের প্রচারণায় যুক্ত নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আইনসভায় মোট ৫৩টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বাকি আসনগুলো নারী, বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত।
নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মিরপুর বিভাগের কয়েকটি আসনে ভোটগ্রহণের পর মোজাফফরাবাদ ও পুঞ্চ বিভাগের আসনগুলোতে পরবর্তী ধাপে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার অভিযোগের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহলও এখন পর্যন্ত ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreআর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের কিলমেস শহরে গাছ থেকে ঝরে পড়া অ্যাভোকাডোর আঘাতে ১২ দিনের এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির নাম লুকাস সেবাস্তিয়ান গোমেজ। গত ২২ অক্টোবর একটি শিশুশিক্ষাকেন্দ্রের সামনে মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় তার মাথায় ফলটি পড়ে। গুরুতর আঘাত নিয়ে কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘিরে গাছটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকালে মা জুলিয়ানা গোমেজ তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে কিলমেসের ৯৪৯ নম্বর শিশুশিক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে যান। এ সময় ১২ দিনের লুকাস ছিলেন তাঁর কোলে। শিক্ষাকেন্দ্রটির প্রবেশপথের কাছে থাকা একটি গাছ থেকে এক কেজির বেশি ওজনের অ্যাভোকাডোটি প্রায় ১০ মিটার ওপর থেকে পড়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথার খুলিতে একাধিক হাড় ভেঙে যায় এবং গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। ঘটনার পর আশপাশের অভিভাবক ও শিক্ষাকেন্দ্রের কর্মীরা মা ও শিশুটিকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় শিশুটির বাবা তাঁকে গাড়িতে করে কিলমেসের সানাতোরিও দে লা ত্রিনিদাদ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লুকাসের অস্ত্রোপচার করা হয় এবং তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কয়েক দিন পর শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারটি গভীর শোকের পাশাপাশি জরুরি সেবার সাড়া দেওয়ার সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। লুকাসের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের অভিযোগ, শিক্ষাকেন্দ্রটির সামনে থাকা গাছটি নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। তাঁদের দাবি, ফল পড়ে পথচারী ও শিশুদের আহত হওয়ার আশঙ্কায় গাছের ডাল ছাঁটা বা গাছটি সরানোর জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছিল। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এজেন্সিয়া নোতিসিয়াস আর্জেন্তিনাস জানিয়েছে, শিক্ষাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট গাছটি সরানোর আবেদন করেছিল। পরিবারের অভিযোগ, সেই আবেদনের পরও দুর্ঘটনার আগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যদের আরও দাবি, শিশুটির মৃত্যুর পর গাছটির ডাল ছাঁটা হয়। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে দ্য সান জানিয়েছে, গাছটি সুস্থ অবস্থায় ছিল এবং ফলটি স্বাভাবিকভাবেই ঝরে পড়েছিল। ফলে গাছটির অবস্থা, আগের আবেদন এবং রক্ষণাবেক্ষণে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে কিলমেসের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে আঘাতজনিত ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও শিশুটির মৃত্যুর পর মামলাটি অবহেলাজনিত মৃত্যুর ধারায় নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে শিশুটির চিকিৎসার নথি সংগ্রহ এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তদন্তে গাছের রক্ষণাবেক্ষণ, আগের অভিযোগের নথি এবং দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা পৌঁছানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। তথ্যসূত্র: আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এজেন্সিয়া নোতিসিয়াস আর্জেন্তিনাস, লা নাসিওন ও যুক্তরাজ্যের দ্য সান।
মালিকের মতোই খুঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করল কুকুর, চিকিৎসায় ৪০০ ডলার খরচের পর মিলল মজার ব্যাখ্যা
হোটেলের দরজায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে নববধূর মৃত্যু, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ
রোগীর জীবন বাঁচাতে টানা ৩২ ঘণ্টা অপরারেশন, ক্লান্তিতে মেঝেতে শুয়ে পড়লেন চিকিৎসকেরা
মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেকআপ ব্যবহার শুরু করেছিলেন চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জিলিন প্রদেশের এক তরুণী। এরপর ২২ বছর ধরে নিয়মিত মেকআপ ব্যবহার করলেও রাতে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করার অভ্যাস ছিল না তাঁর। এখন ৩৭ বছর বয়সে তাঁর মুখজুড়ে দেখা দিয়েছে লালচে ফুসকুড়ি, ফোলা ভাব ও ত্বকের প্রদাহ। জুন ২০২৫-এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বর্তমান অবস্থার একটি ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। অনলাইনে ‘নিউইয়োমিয়ান’ নামে পরিচিত ওই নারী জানিয়েছেন, পরদিন সকালে আবার মেকআপ করবেন ভেবে রাতে তা পুরোপুরি তুলে ফেলার প্রয়োজন মনে করতেন না তিনি। ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ত্বকের সমস্যা শুরু হয়েছিল ১৪ বছর বয়সে। তখন ব্রণ দূর করার জন্য একটি ক্রিম ব্যবহার করেছিলেন তিনি, যার পর ত্বকে অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বলে দাবি করেন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তখন তুলনামূলক কম দামের তরল প্রসাধনী ব্যবহার করে ত্বকের দাগ ঢাকার চেষ্টা করতেন। পরবর্তী সময়ে সৌন্দর্যচর্চা ও চুলের সাজসজ্জা শেখার সময় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শেও আসেন তিনি। তাঁর ধারণা, এসব অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের অনিয়মিত ত্বক পরিচর্যার সঙ্গে বর্তমান সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। চীনা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্বকের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করলে প্রথমে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে না গিয়ে একটি সৌন্দর্যচর্চা কেন্দ্রে চিকিৎসা নেন ওই নারী। সেখানে মুখে ইনজেকশন দেওয়ার পর তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। মুখে তীব্র চুলকানি ও অস্বস্তি অনুভব করেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বর্ণনায়, কখনো কখনো মনে হয় যেন মুখের ওপর দিয়ে হাজার হাজার ছোট পিঁপড়া হেঁটে যাচ্ছে। তবে কোন রোগ বা নির্দিষ্ট কারণে তাঁর ত্বকের এমন অবস্থা হয়েছে, তা নিশ্চিত করে এমন কোনো চিকিৎসা-নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। নিজের ত্বকের সমস্যাকে ওই নারী ‘হরমোন ফেস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এটি তাঁর ব্যবহৃত একটি বর্ণনা, নিশ্চিত চিকিৎসা-নির্ণয় নয়। দীর্ঘদিন মেকআপ ব্যবহার করা, মুখ যথাযথভাবে পরিষ্কার না করা, প্রসাধনীর উপাদানে অ্যালার্জি এবং বিভিন্ন প্রসাধনভিত্তিক চিকিৎসার প্রভাব, একাধিক বিষয় ত্বকের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মেকআপ না তোলাকেই মুখের বর্তমান অবস্থার একমাত্র কারণ বলা যায় না। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা-পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ত্বকের যত্নে নিয়মিত পরিচর্যার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, মেকআপ ব্যবহারের পর ত্বক উপযোগী পরিষ্কারক দিয়ে তা তুলে ফেলা এবং নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে তার উপাদান সম্পর্কে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী লালচে ভাব, ফোলা, চুলকানি বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে নিজে থেকে একের পর এক প্রসাধনী বা চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও হিন্দুস্তান টাইমস।
ফিলিস্তিনের গাজায় বিদ্যুৎ নেই, যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল শিক্ষার্থী কারিম
ভারত মহাসাগরে আটকে পড়া ৪০ ইরানি নাবিককে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরত পাঠাল শ্রীলঙ্কা
চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুলা দা সিলভা
মালয়েশিয়ার সাবাহ অঙ্গরাজ্যের সেম্পোরনায় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে চীনা এক নারী পর্যটকের কক্ষে ঢুকে তাঁকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১৮ বছর বয়সী এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে। ২৫ বছর বয়সী ওই পর্যটক পালিয়ে কাছের পাহাড়ি এলাকার ঝোপের মধ্যে আশ্রয় নেন এবং ভোর পর্যন্ত সেখানেই লুকিয়ে থাকেন। পরে অবকাশকেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৭ অক্টোবর তাঁকে অন্যের কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চীনা সংবাদমাধ্যম এইচকে০১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুয়াং পদবির ওই পর্যটক গত ১৯ সেপ্টেম্বর একা ভ্রমণের সময় সেম্পোরনার একটি অবকাশকেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন। ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে তিনি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কক্ষে ঢুকে পড়েন। ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান, ওই ব্যক্তি তাঁর হাত ধরে রেখেছেন এবং পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করছেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ব্যক্তিকে গোসল করতে যাওয়ার কথা বলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে পালানোর সুযোগ পান তিনি। তবে কক্ষ থেকে বের হওয়ার পরও বিপদ কাটেনি। পালানোর সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেন বলে পর্যটকটি জানিয়েছেন। এরপর তিনি কোনোভাবে সরে গিয়ে কাছের পাহাড়ের ঢালে ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৩টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তিনি সেখানে লুকিয়ে ছিলেন। এ সময় পিঁপড়া ও মশার কামড়ে তাঁর শরীরে ক্ষত তৈরি হয়। পরে অবকাশকেন্দ্রের এক কর্মী তাঁকে খুঁজে পান। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ওই নারী জানান, পুরো সময়টিতে তিনি ভয়ে ছিলেন এবং বারবার প্রার্থনা করছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রাতেই অবকাশকেন্দ্রের ভেতর থেকে ১৮ বছর বয়সী এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে। সেম্পোরনা জেলা পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট তান হিয়াপ ওয়াহ জানান, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৪৪৮ ধারায় অন্যের কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং ৩৫৪ ধারায় শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। পরে ৭ অক্টোবর সেম্পোরনা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে অভিযুক্তকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত তখনও শেষ হয়নি। পর্যটকটি আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক এবং তাঁর বৈধ অভিবাসন নথি ছিল না বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষে তাঁকে অভিবাসন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পর্যটকটির অভিযোগ, অবকাশকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব দেয়নি। বিষয়টি তিনি আইনজীবীর কাছে দিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে চীনা দূতাবাসের হস্তক্ষেপের পর সাবাহ পর্যটন বোর্ডের প্রতিনিধিরা ওই নারীর খোঁজখবর নিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাবাহ সরকারও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে পর্যটকটি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দামি অবকাশকেন্দ্রে অবস্থান করলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্তের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র: মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার ও এইচকে০১।
সৌন্দর্য ও ভালো বিয়ের আশায় মেয়েদের পা বেঁধে ছোট রাখার প্রথা ছিল প্রাচীন চীনে
ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ছয় মাসের সর্বোচ্চে তেলের দাম, বাড়ছে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ