পাকিস্তান

আহত পুলিশ সদস্য ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতার অবসান ও শান্তি সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত অন্তত ১৪

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলার কাবাল এলাকায় শান্তির দাবিতে আয়োজিত এক জনসমাবেশ শেষ হওয়ার পর আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য এবং নয়জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন দুই ডজনেরও বেশি মানুষ।    রোববার কাবাল থানা চত্বরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘সোয়াত পিপলস পিস আপরাইজিং’ সমাবেশে জঙ্গি সহিংসতার অবসান এবং উপত্যকায় স্থায়ী শান্তির দাবিতে শত শত মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা চলে যাওয়ার সময় আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।   এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, এর পেছনে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা তাদের সহযোগী কোনো গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোয়াত উপত্যকায় টিটিপির তৎপরতা আবারও বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত শান্তি সমাবেশ করে আসছেন।    একসময় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গিমুক্ত ঘোষণা করা সোয়াত উপত্যকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আবারও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ হামলা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিল।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানের ব্রড শৃঙ্গে তুষারধসে বিশ্বখ্যাত নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজা নিহত। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে তুষারধসে নিহত বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ ১০ জন

পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড শৃঙ্গে তুষারধসে বিশ্বখ্যাত নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার নির্মল পুরজার অভিযান আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘এলিট এক্সপেড’ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই অভিযানে নিখোঁজ থাকা অন্য সদস্যরাও বেঁচে নেই বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   প্রতিষ্ঠানটি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানায়, ব্রড শৃঙ্গে তুষারধসের কবলে পড়ে নির্মল ‘নিমসদাই’ পুরজা প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযানের বাকি সদস্যদেরও মৃত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় বা দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য জানানো হয়নি।   ৪৩ বছর বয়সী নির্মল পুরজা ও অন্য নয়জন পর্বতারোহী গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের ৮ হাজার ৫১ মিটার উচ্চতার ব্রড শৃঙ্গে তুষারধসের কবলে পড়েন। বিশ্বের ১২তম সর্বোচ্চ এই পর্বতটি কঠিন আরোহনের জন্য পরিচিত।   পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গম এলাকায় নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করা গেলেও এখন পর্যন্ত সব মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীরা ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। তবে দুর্ঘটনাস্থলের প্রতিকূল পরিবেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কারণে উদ্ধার অভিযান ধীরগতিতে চলছে।   সেভেন সামিট ট্রেকসের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ছাং দাওয়া শেরপা জানান, তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর অবস্থান শনাক্ত হলেও সেগুলো নিচে নামিয়ে আনা যায়নি। তিনি বলেন, নেপালের মতো পাকিস্তানে হেলিকপ্টার থেকে রশি ব্যবহার করে উদ্ধার পরিচালনার ব্যবস্থা নেই। তাই উদ্ধারকারীদের হেঁটে ও পর্বতারোহণ করে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।   গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের পর্যটন বিভাগের উপ-পরিচালক সাজিদ হোসেনও জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষ্য, মরদেহের অবস্থান নিশ্চিত করা গেলেও সেগুলো নিরাপদে নামিয়ে আনা এখনো সম্ভব হয়নি।   নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জন নেপালের নাগরিক। এছাড়া পাকিস্তান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের একজন করে পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। সেভেন সামিট ট্রেকসের তিনজন শেরপা গাইডও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।   নির্মল পুরজা ২০১৯ সালে মাত্র ছয় মাসে বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া জয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। পরে তার এই অভিযানের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘১৪ পিকস: নাথিং ইজ ইম্পসিবল’ মুক্তির পর তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের ১৪টি আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার চূড়া জয় করা অত্যন্ত বিরল অর্জন, যা এখন পর্যন্ত অল্পসংখ্যক পর্বতারোহীই সম্পন্ন করতে পেরেছেন।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
দুর্ঘটনার পর ধসে পড়া খনিতে চলছে উদ্ধার অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে কয়লাখনিতে ভয়াবহ মিথেন বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩২ শ্রমিক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযানে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। খনির ভেতরে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।   দুর্ঘটনাটি বৃহস্পতিবার কোয়েটার অদূরে সোরাঞ্জ এলাকার একটি কয়লাখনি কমপ্লেক্সে ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে অতিরিক্ত মিথেন গ্যাস জমে শক্তিশালী বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের পর খনির একটি অংশ ধসে পড়ে, ফলে ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা আটকা পড়েন। বেলুচিস্তানের খনি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরণের সময় খনির ওই অংশে ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আরও কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। খনির গভীরে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং ধসে পড়া অংশের কারণে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাশের আরও দুটি খনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তা বাহিনী এবং খনি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে খনির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস এবং ধসে পড়া কাঠামোর কারণে অভিযান চালাতে উদ্ধারকর্মীদের চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। বেলুচিস্তানের খনিজ ও খনি বিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নওশেরওয়ানি নিহতদের পরিবারের জন্য জনপ্রতি পাঁচ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন এই দুর্ঘটনার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও অবহেলাকে দায়ী করেছে। শ্রমিক সংগঠনটির অভিযোগ, অধিকাংশ খনিতেই পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, মিথেন গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। তারা নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।   পাকিস্তানে, বিশেষ করে বেলুচিস্তানে কয়লাখনিতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন নয়। নিরাপত্তার দুর্বল মান, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশের কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। দারিদ্র্য ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে হাজারো শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
কাশ্মিরে পাকিস্তানি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযান
কাশ্মিরে পাকিস্তানি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযান, নিহত ২০

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের রাওয়ালাকোটে নির্বাচন বর্জন আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাওয়ালাকোটের দ্রিক এইথ এলাকায় সমবেত জনতার ওপর কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   কাশ্মিরের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২৭ জুলাই থেকে নির্বাচন বর্জনের দাবিতে আন্দোলনরত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। নিহতদের মধ্যে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সঙ্গে যুক্ত উসমান নাজিরও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।   গত ৫ জুন থেকে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে নির্বাচনবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং স্থানীয় বিভিন্ন দাবিতে প্রতিবাদ করে আসছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালিয়েছে এবং বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।   অধিকৃত কাশ্মিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী আকিল ভাই এক ভিডিও বার্তায় পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাওয়ালাকোটে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।   আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন বর্জনের প্রচারণায় যুক্ত নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।   স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।   পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আইনসভায় মোট ৫৩টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বাকি আসনগুলো নারী, বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত।   নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মিরপুর বিভাগের কয়েকটি আসনে ভোটগ্রহণের পর মোজাফফরাবাদ ও পুঞ্চ বিভাগের আসনগুলোতে পরবর্তী ধাপে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার অভিযোগের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহলও এখন পর্যন্ত ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
চীন ও পাকিস্তানের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় আগামী ১০ বছরে ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত
চীন-পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য ভারতের

ভারত আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিজেদের নৌবাহিনীর জাহাজের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। চীন ও পাকিস্তানের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও চীনের তৈরি আধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ নিজেদের নৌবহরে যুক্ত করেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি।   এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারত সম্প্রতি নিজেদের তৈরি দুটি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেলথ প্রযুক্তির ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব জাহাজকে ভারতের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে স্বনির্ভরতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীতে প্রায় ১৫০টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ নির্মাণাধীন রয়েছে।   ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্র বলেন, দেশীয়ভাবে তৈরি জাহাজের ওপর নির্ভর করে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ জাহাজের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে।   তিনি বলেন, বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতিতে ভারতের অন্তত দুটি শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর প্রয়োজন। তবে এমন সক্ষমতা গড়ে তুলতে আরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ প্রয়োজন হবে।   নৌবহর সম্প্রসারণের গতি বাড়াতে ভারত প্রতি ছয় সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময়ে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করছে। গত দেড় মাসেই দেশটি নিজস্ব উপকরণ ও প্রযুক্তিতে তৈরি পাঁচটি জাহাজ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করেছে।   ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে জাহাজ নির্মাণে সম্পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জন করা। তবে এই লক্ষ্য পূরণের পথে বিশেষায়িত ইস্পাত ও অন্যান্য উপাদানের জন্য আমদানিনির্ভরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পুরনো জাহাজ নির্মাণ অবকাঠামোর মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সর্বশেষ র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বের চতুর্থ দুর্বলতম পাসপোর্টের তকমা পেয়েছে পাকিস্তান। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের চতুর্থ দুর্বলতম পাসপোর্টের তালিকায় পাকিস্তান

পাসপোর্টের বৈশ্বিক শক্তিমত্তায় আবারও বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এর সর্বশেষ র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বিশ্বের চতুর্থ দুর্বলতম পাসপোর্টের তকমা পেয়েছে দেশটি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে। সূচকে ১০১তম অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের এই সবুজ পাসপোর্টের অধিকারীরা বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ২৯টি দেশে বিনা ভিসায় বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ পাচ্ছেন।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলে অ্যান্ড পার্টনার্স মূলত বিশ্বজুড়ে ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যের বিপরীতে ১৯৯টি দেশের পাসপোর্টের মান যাচাই করে এই তালিকা প্রকাশ করে থাকে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বা পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রবেশের সুবিধার ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই স্কোর নির্ধারিত হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানের ঠিক এক ধাপ ওপরেই রয়েছে পাকিস্তানের অবস্থান। তবে স্বস্তি মিলছে না প্রতিবেশীদের সঙ্গে তুলনা করলে; যেখানে চীন ৬০তম, ভারত ৮১তম এবং ইরান ৯৬তম অবস্থানে থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে।   সূচকের তথ্য বলছে, পাকিস্তানি নাগরিকরা বর্তমানে বার্বাডোস, কুক দ্বীপপুঞ্জ, ডোমিনিকা, হাইতি, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, রুয়ান্ডা, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন দ্বীপপুঞ্জ, দ্য গাম্বিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং ভানুয়াতুতে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করছেন।   পাশাপাশি বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মোজাম্বিক, নেপাল, নিয়ু, পালাউ দ্বীপপুঞ্জ, সামোয়া, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, তিমুর-লেস্টে এবং টুভালুতে পৌঁছানোর পর ভিসা বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া কেনিয়া, সেশেলস এবং শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ পেতে সক্ষম তারা।   অন্যদিকে, পাসপোর্টের শক্তিমত্তার এই বৈশ্বিক লড়াইয়ে ১৯২ স্কোর নিয়ে বরাবরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। পাশাপাশি, ১৮৮ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), আর ১৮৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন।   সূত্র: জিও নিউজ

তাবাস্সুম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের নিন্দা: ৩৩ মাস ধরে একাকী কারাবাসে ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে দীর্ঘদিন ধরে একাকী কারাবাসে (সলিটারি কনফাইনমেন্ট) রাখা হচ্ছে এমন অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সময়ে কারাগারে তার অবস্থার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, তাকে দীর্ঘ সময় ধরে অন্য বন্দিদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্বজন ও দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, এই পরিস্থিতি তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।    এদিকে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আদিয়ালা জেল সুপারিনটেনডেন্ট, কারা বিভাগের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে আদৌ একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছে কি না। যদি রাখা হয়ে থাকে, তবে কোন আইনের আওতায়, কতদিন এবং কী কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো তার পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ শুনানি ছাড়াই উপেক্ষা করা যায় না। আদালত কারা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।  অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে অতীতে দাবি করা হয়েছে, ইমরান খানকে আইন অনুযায়ী কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তার সঙ্গে প্রচলিত বিধি অনুসারেই আচরণ করা হচ্ছে। তবে একাকী কারাবাসের অভিযোগ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।    ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি-সংক্রান্ত একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও তিনি সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। তার দলও অভিযোগ করে আসছে, রাজনৈতিকভাবে তাকে নিষ্ক্রিয় রাখতেই এসব মামলা ও কারাবন্দিত্ব ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বরাবরই বলছে, সব আইনি প্রক্রিয়া আদালতের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
চার দিন ধরে কোনো সরকারি উদ্ধারকারী দল না পৌঁছানোয় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে রয়েছেন বহু দুর্গত মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
মৌসুমি বৃষ্টিতে প্লাবিত পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল, নৌকা নিয়ে ঘর ছাড়ছে মানুষ

পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাবি প্রদেশের মুররিকে জেলায় ভারী মৌসুমি বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য গ্রাম। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে নৌকা নিয়ে জলমগ্ন মাঠ পাড়ি দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চারদিকে পানি থৈ থৈ করায় জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।   এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবকদের ভাড়া করা ছোট মোটরবোটে করে কিছু মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্গত এলাকার বহু মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে রয়েছেন। পানিবন্দী এক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান যে গত চার দিন ধরে কোনো ধরনের সরকারি বা আনুষ্ঠানিক উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। এলাকায় কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং তাদের কাছে থাকা সব খাবার ফুরিয়ে গেছে।   সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুনের পর থেকে দেশটিতে বন্যাজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনা যেমন পানিতে ডুবে যাওয়া এবং ঘরবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় মোট ১০৯ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে শুধু পাঞ্জাবি প্রদেশেই। স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকর্মীরা নৌকা নিয়ে প্রায় এক ডজনেরও বেশি প্লাবিত গ্রাম থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার এবং তাদের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিধি অনেক বড় হওয়ায় সবার কাছে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।   উদ্ধার পাওয়ার পরও দুর্গত মানুষের কষ্টের শেষ নেই। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কোনোমতে নিরাপদ স্থানে আসার পর ক্ষতিগ্রস্তদের অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তীব্র গরমে ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় তাদের বসবাস করতে হচ্ছে ছোট ছোট তাঁবুতে, যা স্থাপন করা হয়েছে বিশাল জলরাশি ও রাস্তার ঠিক মাঝখানে। অনেকেই তাদের সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেছেন। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাতের আঁধারে আকস্মিকভাবে প্রবল বেগে পানি ঘরে ঢুকে পড়ার কারণে তারা কোনো জিনিসপত্র বা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার বিন্দুমাত্র সময় পাননি। চোখের সামনে সব ভেসে যাওয়ায় এখন তাদের হাতে কিছুই নেই।   জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবের মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ ও অবকাঠামোর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যগত মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর কৃষিকাজ বহুলাংশে নির্ভরশীল হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই বৃষ্টিপাত এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিয়মিত, চরমভাবাপন্ন এবং ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০২২ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যাকে 'স্টেরয়েডের ওপর মৌসুমি বৃষ্টি' হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, সেই ভয়াবহ বন্যায় পুরো পাকিস্তানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং দেশের বিশাল অংশ পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।

তাবাস্সুম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
হুথি হামলার পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি-পাকিস্তানের আলোচনা
হুথি হামলার পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি-পাকিস্তানের আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। শনিবার এক টেলিফোন আলাপে দুই নেতা লোহিত সাগর ও আরব উপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।   সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ফোনালাপে দুই মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং পারস্পরিক সমন্বয় ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক সমাধানে পৌঁছানোর অংশ হিসেবে উত্তেজনা কমানো এবং আরব উপসাগর ও লোহিত সাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় নেতাই একমত পোষণ করেছেন।   মূলত লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়।   উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেই সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকদের এই আলোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
করাচি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বহনের দায়ে কানাডীয় নাগরিক রাহিল ধন্নানির আট বছরের কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত
করাচি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বহন: কানাডীয় নাগরিকের ৮ বছরের কারাদণ্ড

পাকিস্তানের করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুমতি সীমার অতিরিক্ত মার্কিন ও কানাডিয়ান ডলার বহনের অপরাধে এক কানাডিয়ান নাগরিককে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কাস্টমস, ট্যাক্সেশন অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং বিষয়ক বিশেষ আদালত এই রায় দেন।   দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম রাহিল ধন্নানি। বিশেষ আদালতের বিচারক ড. শাবান ওয়াহিদ কাস্টমস আইনের বিভিন্ন ধারায় তাকে পাঁচ ও তিন বছর করে মোট আট বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।   মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি রাহিল ধন্নানি তার পরিবারসহ ব্যাংকক হয়ে করাচি থেকে কানাডার ভ্যানকুভারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সে সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা তাকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে আছে কি না তা জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।   তবে তার লাগেজ তল্লাশি করে ১ লাখ ১১ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার এবং ৩১ হাজার ৪২৫ কানাডিয়ান ডলার উদ্ধার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নাইমাতুল্লাহ সুমরো জানান, আইনগত সীমার অতিরিক্ত এই বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।   অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, অভিযুক্তকে কোনো ডিক্লেলারেশন ফর্ম দেওয়া হয়নি এবং কাস্টমস তল্লাশির চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করার আগেই তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে আদালত ডিফেন্সের এই যুক্তি খারিজ করে দেন।   আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী হওয়ায় কাস্টমস নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন। কাস্টমস কর্মকর্তার সরাসরি প্রশ্নের পরও মিথ্যা বলা এবং কোনো সন্তোষজনক বৈধ ব্যাখ্যা না দেওয়ায় এটি স্পষ্ট যে তিনি জেনেশুনে এবং সচেতনভাবে আইন লঙ্ঘন করে মুদ্রা পাচারের চেষ্টা করেছিলেন। সব তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।   সূত্র: ডন

তাবাস্সুম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ঘাঁটিতে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা
পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ঘাঁটিতে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, ১২ সেনাসহ নিহত ১৫; দায় স্বীকার টিটিপির

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একটি যৌথ নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ১২ জন সেনাসদস্যসহ মোট ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   আফগান সীমান্তের কাছে অবস্থিত ট্যাঙ্ক জেলায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যবর্তী রাতে এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। সামরিক বাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, শুরুতে সশস্ত্র জঙ্গিরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওই যৌথ নিরাপত্তা চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের তীব্র সংঘর্ষ হয়। তবে কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর, হামলাকারীরা একটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে চৌকির বাইরের দিকের শক্ত দেয়ালে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণেই বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে।   এই আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন সেনা সদস্যের পাশাপাশি ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বন বিভাগের ১ জন সরকারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এক আবেগঘন বার্তায় নিহতদের 'বীর সন্তান' আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, তারা দেশের জন্য চূড়ান্ত আত্মত্যাগ স্বীকার করে শাহাদাত বরণ করেছেন। উল্লেখ্য, ট্যাঙ্ক জেলাসহ এই সীমান্ত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র জঙ্গিদের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের এই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা ও চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।   এদিকে, ভয়াবহ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে স্থানীয় সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় তাদের চারজন আত্মঘাতী সদস্য অংশ নিয়েছিল। প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকার উৎখাত করে দেশটিতে নিজেদের কট্টর ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে এই তালেবান গোষ্ঠীটি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
সৌদির পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ট্রাম্পের সমর্থন, নেপথ্যে পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক ছাতা’ নিয়ে নতুন জল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক অবস্থান। একই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে রিয়াদের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সামনে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন—ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিপরীতে সৌদি আরব কি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ছাতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারে?   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা।   ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের অংশ হলেও, পারমাণবিক বিস্তার রোধ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করলে একটি দেশ ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচিকে আরও উন্নত করার সুযোগ পেতে পারে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এখন পর্যন্ত সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি মূলত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকেন্দ্রিক।   তারপরও সৌদি আরবের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্বেগের পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক বাস্তবতা। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে একই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের কথা বিবেচনা করতে পারে।   এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।   পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। দেশটির সঙ্গে সৌদি আরবের বহু বছরের সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি এই সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।   এই চুক্তির পর থেকেই বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সৌদি আরব কি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের কাছ থেকে কোনো ধরনের কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে? কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য ‘পারমাণবিক ছাতা’ হিসেবে দেখছেন।   তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ বা দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগির কোনো প্রকাশ্য ও নিশ্চিত চুক্তির তথ্য এখনো নেই।   তবে পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু বক্তব্য এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক পর্যায়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে পাকিস্তানের কৌশলগত সক্ষমতা সৌদি আরবের জন্য ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। যদিও এই বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট অর্থ এবং বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে পরবর্তীতে নানা ব্যাখ্যা এসেছে।   এখন সৌদি আরব একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে চাইছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে জোরদার করছে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা।   ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষণে একটি নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে।   একদিকে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, অন্যদিকে ইসরায়েলের ঘোষিত ও অঘোষিত পারমাণবিক সক্ষমতা—এর মাঝখানে সৌদি আরব যদি বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করে এবং একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও গভীর করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে তার প্রভাব পড়তে পারে।   তবে সৌদি আরব এখনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। বরং বর্তমানে যে চিত্রটি স্পষ্ট, তা হলো—রিয়াদ নিজের জ্বালানি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান—দুই দেশের সঙ্গেই কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করছে।   এখন দেখার বিষয়, সৌদি আরবের এই পারমাণবিক কর্মসূচি কতটা বেসামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে এবং ভবিষ্যতে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে রিয়াদের কৌশল কতটা বদলে যায়।   কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হলে তার প্রভাব শুধু সৌদি আরব, ইরান বা পাকিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবের ওপর হামলাকে নিজেদের ওপর হামলা বলে ঘোষণা দিল পাকিস্তান। ছবি: সংগৃহীত
‘সৌদি আরবে হামলা মানেই পাকিস্তানের ওপর হামলা’, ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদের

সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা ইরানকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে এই ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতাকে ইসলামাবাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসলামাবাদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে ইরানকে এই কঠোর বার্তা পৌঁছে দেয়।   গত বছর পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর বহিরাগত আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি আরবের কৌশলগত এলাকাগুলোতে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যা তাদের সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।   গত সোমবার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার অভিযোগ তুলে হুতিরা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। যদিও এই সহিংসতা এখন পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে আছে, তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এতটা আকস্মিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে তা ইসলামাবাদের ধারণার বাইরে ছিল।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংকট পাকিস্তানের জন্য বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে লোহিত সাগরে হুতিদের সম্ভাব্য হামলার কারণে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যার ওপর পাকিস্তানের অর্থনীতি বিশেষভাবে নির্ভরশীল। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়েছিল এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। মূলত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পাকিস্তান গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সম্পাদনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, গত সেপ্টেম্বরে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা চুক্তিটি প্রমাণ করে যে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এককভাবে নির্ভর করতে পারছে না এবং তারা পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছে। পাকিস্তানের একটি দায়িত্বশীল সূত্র দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ হওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক, তবে সৌদি আরব যদি সামরিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানায়, তবে পাকিস্তান নিশ্চিতভাবেই তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।   সূত্র: জিও নিউজ

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ৪৪০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
চীনের সঙ্গে বড় চুক্তি পাকিস্তানের, নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস শাহবাজের

পাকিস্তান ও চীনের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের ৯টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তানে কর্মরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার সরকার "কোনো ধরনের প্রচেষ্টারই কমতি রাখবে না।"   শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান-চীন বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) ফার্মাসিউটিক্যাল, স্বাস্থ্যসেবা ও বায়োটেকনোলজি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনে পাকিস্তান ও চীনের সরকারি প্রতিনিধি, ওষুধ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রায় ৩০০ জন চীনা প্রতিনিধি অংশ নেন।   শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তার ভাষায়, "আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, পাকিস্তানে অবস্থানরত আমাদের চীনা ভাই-বোনদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কোনো প্রচেষ্টাই বাদ দেব না।"   প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের স্থানীয় উদ্যোক্তারা দেশের ওষুধশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাস্তবায়নের মাধ্যমে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)-এর দ্বিতীয় ধাপকে আরও গতিশীল করবে। তিনি বলেন, "আজ আমরা পাকিস্তান ও চীনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রায় ৪৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী হয়েছি।"   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন, বায়োটেকনোলজি, ওষুধ উৎপাদন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, হেপাটাইটিস প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগ নিয়ে মোট ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা নিয়ে একটি পৃথক সমঝোতাও হয়েছে।   শাহবাজ শরিফ চীনকে পাকিস্তানের "সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু" হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সব আন্তর্জাতিক ফোরামে চীন পাকিস্তানের পাশে থেকেছে এবং সিপিইসি ১.০-এর আওতায় প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাকিস্তানের অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সাফল্যের প্রশংসা করেন।   বক্তব্যে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার বিষয়েও মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং এ প্রচেষ্টায় চীনসহ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সহযোগিতা পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান-চীন সম্পর্ক "হিমালয়ের চেয়েও উঁচু, মধুর চেয়েও মিষ্টি এবং ইস্পাতের চেয়েও শক্তিশালী।"   নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কেন?   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে চীনা প্রকৌশলী ও নাগরিকদের ওপর একাধিক সশস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তা ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেওয়ার পর খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে। এসব হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি চীনা নাগরিক ও সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।   সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের সাইন্দাক তামা ও স্বর্ণখনি এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। কারণ নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেখানে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। খনিটি পরিচালনা করছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত মেটালার্জিক্যাল করপোরেশন অব চায়না (এমসিসি)।   উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চীনা প্রকৌশলীদের বহনকারী বাসে আত্মঘাতী হামলায় ১০ জন চীনা নাগরিক নিহত হন। ২০২৪ সালে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বেসহামে আরেক আত্মঘাতী হামলায় পাঁচ চীনা প্রকৌশলীসহ ছয়জন নিহত হন। একই বছর করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণেও দুই চীনা প্রকৌশলী নিহত হন। এসব ঘটনার পর পাকিস্তান চীনা নাগরিক ও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
K2 Airways Boeing 737 cargo plane that crashed in the Arabian Sea
পাকিস্তানে কার্গো বিমান বিধ্বস্ত: ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন নিহতদের স্বজনরা

আরব সাগরে বিধ্বস্ত পাকিস্তানের কেটু এয়ারওয়েজের কার্গো বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন নিহত পাঁচ ক্রু সদস্যের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান চালিয়ে ফ্লাইট রেকর্ডার উদ্ধার করা জরুরি।   গত ৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচি যাওয়ার পথে বোয়িং ৭৩৭ কার্গো বিমানটি আরব সাগরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হলেও ব্ল্যাক বক্স এখনো পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলের পানির গভীরতা প্রায় ৩ হাজার মিটার, যা উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।   বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, এত গভীর সমুদ্রে ব্ল্যাক বক্স খুঁজে বের করতে বিশেষ প্রযুক্তি, রিমোটচালিত পানির নিচের যান এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। অতীতে এয়ার ফ্রান্স ফ্লাইট ৪৪৭ দুর্ঘটনার তদন্তেও একই ধরনের আন্তর্জাতিক অভিযান চালানো হয়েছিল।   নিহত ক্যাপ্টেন রিজওয়ান ইদরিসের ছেলে ইয়াশিব রিজওয়ান রয়টার্সকে বলেন, “অনুসন্ধান অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক—যে সম্পদই প্রয়োজন হোক, তা ব্যবহার করা উচিত। আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি স্বচ্ছ তদন্ত।”   অপর ক্রু সদস্য প্রকৌশলী মুহাম্মদ আরিফ সিদ্দিকীর ছেলে আবদুর রাফায় সিদ্দিকীও প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মরদেহ উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় দুই পরিবার ইতোমধ্যে জানাজার নামাজ আদায় করেছে।   দুর্ঘটনার আগে বিমানটির পাইলট নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়েছিলেন। এরপর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সহায়তার চেষ্টা করা হলেও মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে রাডার থেকে বিমানটির সংকেত হারিয়ে যায়। ফ্লাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে পরে আবার কিছুটা ওপরে উঠে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সমুদ্রে আছড়ে পড়ে।   স্বজনদের দাবি, উড্ডয়নের আগে শারজাহে বিমানটির একটি ইনারশিয়াল রেফারেন্স ইউনিট (আইআরইউ) পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই যন্ত্রটি বিমানের অবস্থান, গতি ও দিকনির্দেশনা সংক্রান্ত তথ্য ককপিটে সরবরাহ করে। তবে এই যন্ত্র পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   এদিকে পাকিস্তান সরকার এক সপ্তাহ ধরে ব্ল্যাক বক্স অনুসন্ধান বা আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করেনি। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সমুদ্রতল অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানও জানিয়েছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো সহায়তার অনুরোধ আসেনি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে শাহীন-৩ সারফেস-টু-সার্ফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। ছবি:সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন করে পাকিস্তানকে কঠিন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে ফেলেছে। ইসলামাবাদ এখন একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখার চাপের মুখে, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সম্পর্কও অক্ষুণ্ন রাখতে চাইছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে পাকিস্তান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।    ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই হামলার পর পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, সৌদি আরব যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক সহায়তা চায়, তাহলে দুই দেশের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কারণে ইসলামাবাদকে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরবে পাকিস্তানের সেনাসদস্য ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাও অব্যাহত আছে।   একই সময়ে পাকিস্তান ইরানের সঙ্গেও প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগাভাগি করে। সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ। সংঘাত বিস্তৃত হলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, অস্ত্র ও মাদক পাচার এবং নতুন করে শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।    পাকিস্তানের জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ অর্থনীতি। দেশটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি কিংবা লোহিত সাগরের নৌপথে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে।   এতে পাকিস্তানের আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে হুথিদের লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হামলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।   কূটনৈতিক পর্যায়ে পাকিস্তান এখনো সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করছে। দেশটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে এবং উভয় পক্ষকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যুদ্ধ বিস্তার রোধ করাই তাদের অগ্রাধিকার।    তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয় এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে পাকিস্তানের সামনে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ইসলামাবাদকে অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের মধ্যে ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যুদ্ধ এড়াতে চাইলেও আঞ্চলিক বাস্তবতা দেশটিকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ওসামা বিন লাদেন,ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যুর আগের রাতে ওসামার মুখে ছিল মাত্র চারটি শব্দ, প্রকাশ করলেন স্ত্রী

আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার আগে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে তার লুকিয়ে থাকার শেষ মুহূর্তের ঘটনা নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে একাধিক পুরোনো সাক্ষ্য ও স্মৃতিচারণ। ২০১১ সালের ২ মে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী নেভি সিল টিম সিক্সের পরিচালিত ‘অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার’-এ নিহত হওয়ার ঠিক আগে স্ত্রী আমাল আল-সাদাহকে কী বলেছিলেন, সে বর্ণনা নতুন করে প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।   সানডে টাইমসকে ২০১৭ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসামার সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী আমাল আল-সাদাহ জানান, গভীর রাতে হেলিকপ্টারের শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওসামা তার এক ছেলেকে অস্ত্র নিয়ে ওপরে আসতে বলেন এবং স্ত্রীদের নিচতলায় চলে যেতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ওরা আমাকে চায়, তোমাদের নয়।”   তবে আমাল দুই বছরের ছেলে হুসাইনকে নিয়ে কক্ষেই থেকে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ভবনের ভেতরে প্রবেশের শব্দ শোনার পর ওসামা তার দিকে ফিরে শেষবারের মতো বলেন, “আলো জ্বালিও না।”   আমালের দাবি, তিনি দরজার দিকে ছুটে গেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে পায়ে আঘাত পান। এরপরই কক্ষে প্রবেশ করে নেভি সিল সদস্যরা এবং ওসামা বিন লাদেনকে গুলি করে হত্যা করে। ওই অভিযানের মাধ্যমে প্রায় এক দশক ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সমাপ্তি ঘটে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন ওসামা। বাড়িটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে বাইরের কেউ সহজে ভেতরে দেখতে না পারে।   টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানের সময় ওসামার পোশাকের ভেতরে কিছু অর্থ সেলাই করা ছিল এবং তার কাছে দুটি ফোনও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোর কোনোটিই তাকে পালাতে সাহায্য করেনি।   অন্যদিকে, অভিযানে অংশ নেওয়া সাবেক নেভি সিল সদস্য রবার্ট জে. ও'নিল—যিনি নিজেকে ওসামাকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী গুলি ছোড়া ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন—নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র ‘আমেরিকান ম্যানহান্ট: ওসামা বিন লাদেন’-এ সেই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।   ও'নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষে ঢুকে তিনি মাত্র কয়েক ফুট দূরে ওসামাকে দেখতে পান। তার দাবি, ওসামা আত্মসমর্পণের কোনো ইঙ্গিত দেননি এবং তিনি তাকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন। এরপর তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।   তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় ওসামার দুই বছরের ছেলেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। শিশুটির কোনো দায় ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তবে অভিযানের পর ওসামার মরদেহ আরব সাগরে দাফন করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত ছিলেন না বলেও জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য কোনো সমাধিস্থলকে উগ্রপন্থীদের তীর্থস্থানে পরিণত হওয়া থেকে ঠেকাতেই সমুদ্রে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   ২০১১ সালের এই অভিযানের মাধ্যমে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া দীর্ঘ অনুসন্ধানের অবসান ঘটে। ওই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন এবং এর জবাব হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ছবি:সংগৃহীত
বন্যা-ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক, বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক শোকবার্তায় বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংবাদ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রতি অবিচল সংহতি প্রকাশ করছে।   পৃথক এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জানান। একই সঙ্গে তিনি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার সফলতা কামনা করেন।   পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও বাংলাদেশের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী, জরুরি সেবা সংস্থা, চিকিৎসাকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তা, দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাফল্য কামনা করেন।   সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ধসের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   বাংলাদেশে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাও শোক ও সংহতি প্রকাশ করছে। পাকিস্তানের এই বার্তা দুই দেশের জনগণের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা এবং দুর্যোগের সময় পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
করাচির ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া শিশুদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে ৩ বছর বয়সী শিশুসহ ৮০ জনের এইচআইভি শনাক্ত, হাসপাতালকে ঘিরে বিতর্ক

পাকিস্তানের করাচির কুলসুম বাই ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আরও দুই শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ জনে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।   পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, নতুন শনাক্ত হওয়া দুই শিশুর একজন করাচির মেট্রোভিল এলাকার মাত্র তিন বছর বয়সী একটি শিশু। তার বাবা জানান, বুকের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য তাকে সিন্ধ এমপ্লয়িজ' সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (SESSI) পরিচালিত ভ্যালিকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়ে।   শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে অতিরিক্ত পরীক্ষা করানোর পর এইচআইভি শনাক্ত হয়। এর আগে সিন্ধ প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ ঘানি জানিয়েছিলেন, ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অন্তত ৭৮ শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ আরও দুই শিশুর সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ জনে পৌঁছেছে।   ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে সাঈদ ঘানি বলেন, কীভাবে এতসংখ্যক শিশু সংক্রমিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এদিকে চলতি মাসের শুরুতে সিন্ধ হাইকোর্ট প্রাদেশিক সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। একটি রিট আবেদনের শুনানিতে আদালত এ নির্দেশ দেন। ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হাসপাতালের অবহেলার কারণে প্রায় ২০০ শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে।   আবেদনকারী পক্ষের দাবি, ২০২৫ সালে হাসপাতালটিতে দূষিত সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহারের কারণে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এ অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।   আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করতে সিন্ধ এমপ্লয়িজ' সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (SESSI) ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি ব্যয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তহবিল থেকে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচআইভি সংক্রমণের উৎস নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধে জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
বেলুচিস্তানে চার দিনে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় নিহত ৯৬ I ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে রক্তে রঞ্জিত চার দিন, হামলা ও পাল্টা অভিযানে নিহত ৯৬

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় চার দিনে দেশটির পুলিশ, সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জোরালো অভিযানে অন্তত ৫৪ জন সন্ত্রাসী প্রাণ হারিয়েছে। বুধবার দেশটির সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে বড় ধরনের তিনটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর মহাপরিচালক জানান, নিহত ৫৪ জন সন্ত্রাসী ভারতের মদতপুষ্ট ছিল। অন্যদিকে মাতৃভূমি রক্ষা করতে গিয়ে সামরিক-বেসামরিক নাগরিকসহ ৪২ জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তিনি জানান, প্রথম হামলার ঘটনাটি ঘটে গত ৪ ও ৫ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী রাতে হান্না উরাক এলাকায়। সেখানে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামের একটি প্রক্সি গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা স্থানীয় জনগণের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে ওই সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। এই হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হন।   দ্বিতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটে গত ৬ জুলাই মাঙ্গি বাঁধের কাছে একটি পুলিশি তল্লাশি চৌকিতে। আইএসপিআরের তথ্যমতে, সন্ত্রাসীরা ওই চৌকিতে হামলা চালালে পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করেন এবং প্রাথমিক লড়াইয়েই ১৫ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেন। তবে এই লড়াইয়ে পুলিশের ৯ সদস্যও নিহত হন।   নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়তি সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে ফেলে এবং নিজেদের ১৫ সন্ত্রাসীর মরদেহ ফেলে রেখে যায়। জিম্মি হওয়া সব পুলিশ সদস্যই বেলুচিস্তানের স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন বলে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   জিম্মি ঘটনার পর ৬ জুলাই থেকেই জিয়ারতের পাহাড়ি অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানের তীব্রতা টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা জিম্মি থাকা ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আইএসপিআর জানায়, ওই অভিযানে আরও ১১ জন সন্ত্রাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সব মিলিয়ে মাঙ্গি তল্লাশি চৌকিতে হামলায় ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ২৬ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আইএসপিআর মহাপরিচালক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা নাগরিক ও সন্তানদের ওপর হামলা করে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হবে না। যেকোনো মূল্যে এই লড়াইয়ে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিজয় অর্জন করবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
নিখোঁজ কেটু এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ কার্গো উড়োজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
আরব সাগরের আকাশে হঠাৎ গায়েব বোয়িং ৭৩৭ বিমান, ৫ আরোহীর সন্ধানে সাগরে তল্লাশি

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর একটি বোয়িং ৭৩৭ কার্গো উড়োজাহাজের সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরব সাগরে বিমানটির সন্ধানে নৌ ও আকাশপথে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উড়োজাহাজটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানায়, করাচিভিত্তিক বেসরকারি কার্গো এয়ারলাইন কেটু এয়ারওয়েজ পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭-৪০০ উড়োজাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাত ৯টা ১৮ মিনিটের দিকে পাইলট বিমানটির নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানানোর মাত্র তিন মিনিট পর রাডারে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে এবং হঠাৎ দিক পরিবর্তন করছে। এরপরই রাডার ও বেতার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে সময় বিমানটি করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার) পশ্চিমে অবস্থান করছিল।   ঘটনার পরপরই পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র সক্রিয় করে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ, নৌবাহিনীর টহল বিমান এবং জাতীয় শিপিং করপোরেশনের জাহাজসহ একাধিক সংস্থা আরব সাগরে যৌথ অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে উড়োজাহাজটি প্রথমে দ্রুত উচ্চতা হারায়, এরপর কিছুটা ওপরে ওঠে এবং তারপর আবার আকস্মিকভাবে নিচে নামতে শুরু করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।   কেটু এয়ারওয়েজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ পাঁচ ক্রু সদস্যের নিরাপদ উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে নির্মিত এই বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি প্রথমে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে ২০১২ সালে এটিকে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে রূপান্তর করা হয়। ২০২৪ সালে এটি কেটু এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটিই এয়ারলাইনটির একমাত্র উড়োজাহাজ।   বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিলেও একটি উড়োজাহাজ কিছু সময় ভেসে চলতে পারে। কিন্তু এই উড়োজাহাজের হঠাৎ দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উড়োজাহাজটির অবস্থান এবং পাঁচ আরোহীর ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০