সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায় করতে চায় ইরান: সংকটে মার্কিন ৫ম নৌবহর!

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৫:৪১
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত হিসেবে তেহরান দুটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। 


ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তেহরান এখন থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর 'টোল' বা মাশুল আরোপ করতে চায়। একই সাথে, অঞ্চলটি থেকে সমস্ত মার্কিন যুদ্ধকালীন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিও জোরালো করেছে তারা।


এই পরিস্থিতিতে সবচাইতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই টোল কি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপরও প্রযোজ্য হবে? বাহরাইনে সদর দপ্তর অবস্থিত মার্কিন ৫ম নৌবহরের (5th Fleet) জন্য এটি একটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কারণ, এই নৌবহরটি পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ভারত মহাসাগরের বিশাল জলসীমার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী ছাড়াও সুয়েজ খাল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে।


আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক কলিন কোহ-এর মতে, যদি ইরান সফলভাবে টোল আদায় শুরু করে, তবে পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তার মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্টকমের (CENTCOM) পুরো অবস্থান পরিবর্তন না করেন, তবে এই টোল ব্যবস্থা মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
থাইল্যান্ডের রানি অনন্য ইতিহাস, একাই আকাশে ওড়ালেন সুপারসনিক যুদ্ধবিমান
থাইল্যান্ডের রানি অনন্য ইতিহাস, একাই আকাশে ওড়ালেন সুপারসনিক যুদ্ধবিমান

বিশ্বের রাজপরিবারের ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন থাইল্যান্ডের রানি সুথিদা। প্রথম ক্ষমতাসীন রানি হিসেবে একাই সুপারসনিক যুদ্ধবিমান চালানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সুরাত থানি প্রদেশের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে সুইডেনের তৈরি জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে ওড়েন ৪৮ বছর বয়সী এই রানি। প্রায় ৪১ মিনিটের সফল উড্ডয়ন শেষে নিরাপদে অবতরণ করেন তিনি। পুরো সময় মাটিতে থেকে রানির উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ করেন তাঁর স্বামী থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন।   থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ ও দেশটির বিমানবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রানি সুথিদা সুরাত থানি প্রদেশের ফুন ফিন জেলার উইং ৭ বিমানঘাঁটিতে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। এটি ছিল এক আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে তাঁর প্রথম একক ফ্লাইট। এ অর্জনের মাধ্যমে তিনি থাইল্যান্ডের প্রথম নারী গ্রিপেন পাইলট হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন।   থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৬ মিনিটে রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল সেকসান কান্থাসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। এরপর রাজা ও রানি ফ্লাইট পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।   উড্ডয়নের আগে রানি সুথিদা নিজেই যুদ্ধবিমানটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর নির্ধারিত রানওয়ে ২২ দিয়ে বিমানটি উড্ডয়ন করেন। প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা অনুযায়ী আকাশে নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করে তিনি নিরাপদে বিমানঘাঁটিতে ফিরে আসেন। বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।   সফলভাবে উড্ডয়ন শেষ করার পর রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন রানিকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তাঁর পোশাকে পরিয়ে দেন সম্মানসূচক গ্রিপেন অর্ডার গোল্ডেন প্যাচ। গ্রিপেন যুদ্ধবিমান চালানোর স্বীকৃতি হিসেবে এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদের প্রকাশিত ছবিতে রানিকে যুদ্ধবিমান থেকে নেমে রাজার কাছ থেকে অভিনন্দন গ্রহণ করতে দেখা যায়।   তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিমান চালনার অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ। রানি সুথিদা ২০১০ সালের ১৩ মে প্রথম বিমান চালনার প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ওই দিন ব্যাংককের উইং ৬ বিমানঘাঁটিতে সেসনা টি ৪১ডি বিমান চালান তিনি। এরপর বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।   থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজে রানির মোট ফ্লাইট অভিজ্ঞতা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৮ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটে। ছোট প্রশিক্ষণ বিমান থেকে শুরু করে বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চালানোর যোগ্যতাও রয়েছে তাঁর। রাজকীয় সফরে তিনি একাধিকবার রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে একক উড্ডয়নের আগে তাঁকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, নিরাপত্তা পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ ৪৫টি বিষয়ে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর সিমুলেটরে ২০টি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনা করেন।   পরবর্তী ধাপে দুই আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯ডি গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রায় ১০ ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন রানি সুথিদা। এই পর্যায়ে যুদ্ধবিমানের নিয়ন্ত্রণ, উড্ডয়ন, অবতরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। সব প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তাঁকে এক আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।   সুইডেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাবের তৈরি গ্রিপেন একটি আধুনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত উড়তে পারে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা, আকাশ থেকে ভূমিতে হামলা ও নজরদারিসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়। তুলনামূলক ছোট রানওয়ে থেকে পরিচালনার সক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বিমানটি বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।   থাইল্যান্ডের রয়্যাল এয়ারফোর্সও দীর্ঘদিন ধরে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। দেশটির বিমানবাহিনীর উইং ৭ ঘাঁটি এসব যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২৬ সালে থাইল্যান্ডে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ব্যবহারের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনও করা হয়েছে।   রানি সুথিদার বিমান চালনার অভিজ্ঞতা অবশ্য রাজপরিবারে যোগ দেওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। তিনি একসময় থাই এয়ারওয়েজে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং রাজকীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্বেও যুক্ত হন। ২০১৯ সালে রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি থাইল্যান্ডের রানি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন নিজেও একজন অভিজ্ঞ পাইলট। বিমান চালনার প্রতি আগ্রহের কারণে রাজা ও রানিকে বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে রাজকীয় উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভুটানের পারো বিমানবন্দরে রাজকীয় বিমান অবতরণের সময়ও তাঁরা একসঙ্গে ককপিটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।   থাইল্যান্ডের রানি সুথিদার এই উড্ডয়নকে রাজপরিবারের পাশাপাশি দেশটির সামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসেও উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে একজন ক্ষমতাসীন রানি হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে এক আসনবিশিষ্ট সুপারসনিক যুদ্ধবিমান একাই পরিচালনার ঘটনা বিরল।   দীর্ঘ ১৬ বছরের বিমান চালনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে এবার যুক্ত হলো যুদ্ধবিমান পরিচালনার নতুন যোগ্যতা। প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে জেএএস ৩৯সি গ্রিপেনের ককপিটে একাই বসে আকাশে উড্ডয়ন এবং নিরাপদে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ডের প্রথম নারী গ্রিপেন পাইলট হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন রানি সুথিদা।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:১৭
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিলাই

শান্তিতে নোবেল পেলেন ইসরায়েলকে গণ হ ত্যায় দোষী সাব্যস্ত করা বিচারক

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

সমাজের সব প্রতিকূলতা জয় করে মুই থমাস আজ একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক ও রাগবি রেফারি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জন্মের দিনই ফেলে যায় পরিবার, দত্তক নেওয়া বাবা-মায়ের ভালোবাসায় সেই মুই আজ সফল রাগবি রেফারি

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪৫টি ড্রোন ও বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের তথ্য প্রকাশ করেছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ক্ষতি ৪০ হাজার কোটি টাকা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে। এসব উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে সম্ভাব্য ব্যয় ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি থেকে ৪০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উড়োজাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ উঠে এসেছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে দেশটির কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সিআরএসের ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো উড়োজাহাজের তথ্য সংকলন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সরকারি নথি ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা সব উড়োজাহাজ স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়েছে, এমন নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু উড়োজাহাজ মেরামতের পর আবারও সামরিক কাজে ফিরিয়ে আনা হয়ে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজের তালিকায় রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান এবং সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চালকবিহীন আকাশযান। তালিকাভুক্ত ৮১টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৪৫টিই এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত এসব ড্রোনের একাধিকটি হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সরঞ্জামগত ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ছাড়া তালিকায় বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সামরিক আকাশযানও রয়েছে। সিআরএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা একই কারণে ঘটেনি। কিছু উড়োজাহাজ শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু ভূপাতিত হয়েছে, আবার কিছু যুদ্ধাঞ্চলে দুর্ঘটনা বা নিজেদের পক্ষের গোলাবর্ষণের ঘটনায় হারানো হয়েছে। কয়েকটি উড়োজাহাজ মাটিতে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ৮১ সংখ্যাটি কেবল ইরানের হামলায় ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের হিসাব নয়, বরং যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো আকাশযানের সম্মিলিত সংখ্যা। সামরিক তথ্যের কিছু অংশ গোপন থাকা এবং সংঘাত অব্যাহত থাকার কারণে এই সংখ্যা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নৌ কর্মকর্তা ও সরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কিলোওয়েন গ্রুপের চেয়ারম্যান হারলান উলম্যান আল-জাজিরাকে বলেন, আধুনিক যুদ্ধে সামরিক শক্তির পার্থক্য থাকলেও ছোট দেশ বা তুলনামূলক সীমিত সামরিক সক্ষমতার পক্ষও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পারে। তাঁর মতে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে কিছুটা সাফল্য পেয়েছে। বিশেষ করে কম খরচে তৈরি করা যায় এমন চালকবিহীন আকাশযান বড় সামরিক স্থাপনার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব আকাশযানের সহজলভ্যতা ও ব্যবহার যুদ্ধের প্রচলিত কৌশলকে বদলে দিচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেট। যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ও সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টি সামনে রেখে এই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়, সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন কতটা হবে, তা নিয়ে কংগ্রেসের সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি জ্বালানি এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমের ব্যয়ও বাড়তে পারে। গত মাসে ৪৫ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও একজন স্বতন্ত্র সিনেটর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়ে যুদ্ধের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে কংগ্রেসের বিবেচনার আগে ব্যয়ের স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রয়োজন। সিনেটরদের চিঠিতে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন করদাতাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্য, গৃহঋণ ও বিমান টিকিটের মতো খাতে আরও ৬ হাজার কোটি ডলার বাড়তি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে এসব ব্যয়ের হিসাব সিনেটরদের দেওয়া দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, স্বাধীনভাবে যাচাই করা চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে নয়। সিবিওর সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাবে যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত আরও এক মাস চললে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বাড়তে পারে প্রায় ২০০ কোটি ডলার। আর যুদ্ধের তীব্রতা জুলাই মাসের পর্যায়ে পৌঁছালে এক মাসে ব্যয় ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এসব হিসাব যুদ্ধের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সামরিক তৎপরতার মাত্রার ওপর নির্ভরশীল। ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রত্যাশিত ছিল কি না এবং এসব ক্ষতি মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে আল-জাজিরা পেন্টাগনের কাছে জানতে চেয়েছিল। জবাবে পেন্টাগন জানায়, তাদের নতুন করে কিছু বলার নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধের ব্যয় ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে উলম্যানের মতে, অনেক মার্কিন নাগরিক সামরিক অভিযানে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতিকে প্রত্যাশিত ঘটনা হিসেবে দেখতে পারেন। তাই শুধু এই প্রতিবেদনই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে, এমনটা তিনি মনে করেন না। সূত্র: আল-জাজিরা

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২৩:৬
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ

বাংলাদেশের মতো ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস

বাংলাদেশের মতো ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপির

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার ফ্রান্সের মুসলিম মেয়র
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার ফ্রান্সের মুসলিম মেয়র

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে কাঁদানে গ্যাসের শিকার হয়েছেন সাঁ দেনি শহরের মেয়র বালি বাগায়োকো। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার থামার আহ্বান জানাতে দেখা যায় তাঁকে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এই কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বাগায়োকো। বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে তিনি দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়ান। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে তাঁকে বারবার থামতে বলতে শোনা যায়।   পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে বাগায়োকো নিজেও আক্রান্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে চোখের অস্বস্তিতে ভুগতে এবং অন্যদের সহায়তায় চোখে স্যালাইন নিতে দেখা যায়। পরে তাঁকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।   বুধবার (৭ অক্টোবর) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাগায়োকো জানান, পুলিশ যখন শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি, উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থী পুলিশের প্রতি কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি। তা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেয়র বলেন, রাস্তায় আন্দোলনরত স্কুলশিক্ষার্থীরা তাঁর নিজের সন্তানও হতে পারত। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।   প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের সাঁ দেনি শহরটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসের এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা ও জনবলের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বাগায়োকোর মতে, বিত্তশালী এলাকার তুলনায় শ্রমজীবী মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।   ফ্রান্সে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থাও সন্তোষজনক নয়।   আন্দোলন চলাকালে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের অভিযানে বহু শিক্ষার্থী আটক হয়েছে। অন্যদিকে সহিংসতায় পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।   পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফরাসি সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ ধরনের বিস্ফোরক গ্রেনেড ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, একটি সংঘর্ষে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত হারানোর ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের বলপ্রয়োগসংক্রান্ত ১৮টি ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে।   এদিকে বিক্ষোভে বাগায়োকোর ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজের সদস্য। চলতি বছরের মার্চে সাঁ দেনির মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বাগায়োকোর বাবা-মা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির নাগরিক ছিলেন। নিজ শহরের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় রয়েছেন।   শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের একাংশের আপত্তিও রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্যারিসের পুলিশ প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধসংক্রান্ত আন্দোলনে কথিত আইনভঙ্গের উসকানির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে বাগায়োকো সহিংসতাকে আন্দোলনের পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।   মেয়রের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের দাবি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। শুধু পুলিশ মোতায়েন করে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উসকানি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু অক্টোবরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়নযোগ্য কিছু প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি অব্যাহত রেখেছেন।   এর মধ্যে বাগায়োকোর ঘটনাটি ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগের সমতা দাবি করছেন, অন্যদিকে সরকারকে জননিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ০:৩৬
মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

মিসর, কুয়েত ও আমিরাতকে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে প্রদর্শিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ ভাস্কর্য। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

ফিজিক্সে নোবেলজয়ীর ২৩০ পৃষ্ঠার সিভি! গবেষণাজীবনের বিস্ময়কর দলিল

ফিজিক্সে নোবেলজয়ীর ২৩০ পৃষ্ঠার সিভি! গবেষণাজীবনের বিস্ময়কর দলিল

0 Comments