ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতা ঢাকতেই লেবানন সীমান্তে সংঘাত জিইয়ে রাখছেন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন এক চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। একদিকে ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির গুঞ্জন, অন্যদিকে নিজের দেশের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে নিজের গদি টিকিয়ে রাখতে তিনি এখন লেবানন ফ্রন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের 'চূড়ান্ত বিজয়', ইরানি হুমকির অবসান এবং ওই অঞ্চলে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, যার নাম দেওয়া হয়েছিল 'লায়ন’স রোর' বা সিংহের গর্জন, সেটিকে এখন ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকা 'মাআরিভ'-এর সামরিক বিশ্লেষকরা 'হাউলিং ক্যাটস' বা বিড়ালের আর্তনাদ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালী অবরোধ এবং ইরানি শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে, যা তেহরানের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রমাণ করে।
এই রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই এখন দক্ষিণ লেবাননে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে রাখছেন নেতানিয়াহু। মূলত ভোটারদের এটা বোঝাতে চাইছেন যে, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।
এদিকে নেতানিয়াহুর এই রণকৌশলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় 'রাজনৈতিক বিপর্যয়' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
লাপিদ বলেন: "সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, জনগণ অসীম ধৈর্য দেখিয়েছে, কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিজের নির্ধারিত একটি লক্ষ্যও পূরণ করতে পারেননি। তার ঔদ্ধত্য এবং অদূরদর্শিতার কারণে দেশের যে কৌশলগত ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বছরের পর বছর সময় লাগবে।"
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreগ্রীষ্মের ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান টিকিটের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর ২৩ আগস্টকে ‘ন্যাশনাল চিপ ফ্লাইট ডে’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক দিবস নয়। বরং আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত সময়টিকে তুলনামূলক কম দামে ফ্লাইট পাওয়ার সম্ভাবনাময় সময় হিসেবে দেখা হয়। গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে শুরু করায় এই সময়ে ভ্রমণের চাহিদা সাধারণত কমে যায়। ফলে যাত্রী কমে যাওয়ার কারণে এয়ারলাইনগুলো আসন পূরণ করতে বিভিন্ন রুটে ভাড়া কমাতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর সময়টি এই কারণে বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে বুক করা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের গড় ভাড়া আগস্টের শুরুর তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম হতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কমার হার গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে রুট, ভ্রমণের তারিখ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত ভাড়া ভিন্ন হতে পারে। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৩ আগস্টকে আলাদা কোনো ‘ম্যাজিক ডে’ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। বরং আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের শুরুর কয়েক সপ্তাহে ভাড়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা বেশি কার্যকর। Fareportal-এর প্রধান সাপ্লাই ও রেভিনিউ কর্মকর্তা যুবরাজ দত্তের মতে, গ্রীষ্মের চাহিদা কমার সময় বিভিন্ন বিকল্প তুলনা করে বুকিং করলে যাত্রীরা ভালো দামের সুযোগ পেতে পারেন। ফ্লাইট বুকিংয়ের সময় নিয়েও প্রচলিত কিছু ধারণা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে যাত্রার ৩০ থেকে ৬০ দিন আগে বুকিং করলে তুলনামূলক ভালো ভাড়া পাওয়ার সুযোগ থাকে। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে টিকিট কাটার অপেক্ষা না করে আগে থেকেই বিভিন্ন তারিখের ভাড়া তুলনা করা বেশি কার্যকর হতে পারে। টিকিটের দাম কমানোর জন্য বারবার ব্রাউজারের কুকি মুছে ফেলা বা একই ফ্লাইট বারবার সার্চ করার মতো প্রচলিত কৌশলও খুব একটা কার্যকর নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং ফ্লাইটের ভাড়া কমলে জানানোর জন্য ফেয়ার অ্যালার্ট চালু করা এবং আগে থেকে পাওয়া ট্রাভেল পয়েন্ট বা মাইল ব্যবহার করা সাশ্রয়ের ভালো উপায় হতে পারে। তবে কম ভাড়ার সুযোগ পেলেই দ্রুত বুক করার আগে লাগেজ ফি, সিট নির্বাচন, পরিবর্তন বা বাতিলের নিয়ম এবং অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ দেখে নেওয়া জরুরি। কারণ কম মূল্যের টিকিটের সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত হলে শেষ পর্যন্ত মোট খরচ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হতে পারে। সব মিলিয়ে, গ্রীষ্মের ভ্রমণ মৌসুম শেষ হওয়ার এই সময়টি যাদের সামনে ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের জন্য ভাড়া তুলনা করার ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারে। নির্দিষ্ট একটি দিনকে কেন্দ্র না করে আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ভাড়ার ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করাই হতে পারে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার বাস্তবসম্মত কৌশল।
সন্তান থাকলে দম্পতিদের বিয়ে করা উচিত, বললেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার
ইরানে ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান, মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি
জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, চার শ্রেণির বিদেশিদের জন্য সহজ শর্তে সেটেলমেন্ট পারমিট
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চীন। কানাডার সঙ্গে চীনের বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং উত্তর আমেরিকার বাজারে চীনা পণ্য প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে চীনে উৎপাদিত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্য কানাডা বা মেক্সিকোর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারে—এমন আশঙ্কা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য অন্য দেশে পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়াকে ট্রান্সশিপমেন্ট বলা হয়। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, উত্তর আমেরিকার সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রভাব সীমিত রাখতে কানাডাকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে চীনা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম যাতে ঘুরপথে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে কানাডার কাছ থেকে বাড়তি নিশ্চয়তা চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে কানাডার দাবি, চীনা ইস্পাত আমদানি নিয়ন্ত্রণে তারা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। যেসব দেশের সঙ্গে কানাডার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই, সেসব দেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু ইস্পাত আমদানিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সীমা ছাড়ালে ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও আরোপ করা হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে কানাডা। মার্চে চীন কানাডার কয়েকটি কৃষি ও সামুদ্রিক পণ্যের জন্য বাজার আবার খুলে দেয়। এর মধ্যে ক্যানোলা, মটরশুঁটি, লবস্টার ও কাঁকড়াও রয়েছে। এ ছাড়া চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য বছরে ৪৯ হাজার গাড়ির একটি কোটা নির্ধারণ করেছে কানাডা। এসব গাড়ির ওপর আগের ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের পরিবর্তে ৬ দশমিক ১ শতাংশ শুল্কহার প্রযোজ্য হবে। কিছু চীনা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপরও শুল্ক ছাড় বাড়িয়েছে কানাডা। চীন বর্তমানে কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম পণ্য বাণিজ্য অংশীদার। কানাডার ভাষ্য, নতুন বাজার তৈরি ও বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমাতেই তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনে এ পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর আমেরিকাকে চীনের প্রভাব থেকে আরও সুরক্ষিত রাখতে চাইছে। ফলে কানাডা যদি বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করে, সেটি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের নতুন বিরোধের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
কানাডার ভিসা আবেদনে প্রতারণা বাড়ছে, ভুয়া ওয়েবসাইট ও দালাল থেকে সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ
সাইকেলে চাপা দেওয়া প্রতিবেশীর মুরগির ছানাকে বাঁচাতে নিজের সব টাকা নিয়ে হাসপাতালে শিশু
শিশুর ফোসকায় ওষুধ লাগানো নিয়ে ঝগড়া, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হামলায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নিহত
ওয়েলসের পার্লামেন্ট সেনেড নির্বাচনে প্রার্থীদের মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে। ১৭ মার্চ ২০২৬ ভোটের মাধ্যমে পাস হওয়া এই আইনে নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন বিধান তৈরির বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। ‘সেনেড সাইমরু (মেম্বার অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড ইলেকশনস) বিল’ নামে পরিচিত এই আইনটির মূল লক্ষ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি বাড়ানো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার প্রবণতা মোকাবিলা করা। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আইনের মাধ্যমে ওয়েলশ মন্ত্রীরা সেনেড নির্বাচনের নিয়মে মিথ্যা তথ্য নিষিদ্ধ করার বিধান আনতে বাধ্য থাকবেন। তবে নতুন বিধানটি ২০২৬ সালের মে মাসের সেনেড নির্বাচনে কার্যকর হয়নি। আইনটি পাস হওয়ার সময়ই জানানো হয়েছিল, প্রয়োজনীয় বিধি তৈরি ও পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে এই ব্যবস্থা ২০৩০ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ওয়েলশ সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিষয়টি বাস্তবায়নে বিস্তারিত কাজ ও পরামর্শ প্রয়োজন। বর্তমানে ওয়েলসে নির্বাচনী আইনে কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র বা আচরণ সম্পর্কে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে এই কাঠামো আরও বিস্তৃত করার পথ তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মতভেদও রয়েছে। সেনেডের বিভিন্ন কমিটি সতর্ক করেছে, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলে নতুন বিধান স্বাধীন মতপ্রকাশ ও নির্বাচনী বিতর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোন বক্তব্যকে মতামত এবং কোনটিকে মিথ্যা তথ্য হিসেবে গণ্য করা হবে, সেটি নির্ধারণে সতর্কতা প্রয়োজন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। নতুন আইনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে ইচ্ছাকৃত প্রতারণা মোকাবিলায় ওয়েলস একটি নতুন কাঠামো তৈরি করছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ, অপরাধের সংজ্ঞা ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়গুলো পরবর্তী বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
যুক্তরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে কার্বন ছড়াবে নিউইয়র্কগামী ৮,৪৮০ ফ্লাইটের সমান
ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে ১০ হাজার মানুষ হাজির