বিশ্ব

১২ আগস্ট আকাশে মহাজাগতিক উৎসব, একসঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৪:৪৯
১২ আগস্ট আকাশে মহাজাগতিক উৎসব, একসঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি
১২ আগস্ট আকাশে মহাজাগতিক উৎসব, একসঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি

আগামী ১২ আগস্ট আকাশপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি দিন। একই সময়ের কাছাকাছি একাধিক মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে—এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময় এবং ভোরের আকাশে একসঙ্গে একাধিক গ্রহের উপস্থিতি। 

 

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি হলো সূর্যগ্রহণ। ১২ আগস্টের গ্রহণটি গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর, স্পেন ও পর্তুগালের একটি অংশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ ইউরোপ ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। 

 

নিউইয়র্কে এটি হবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। সেখানে গ্রহণ শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৭ মিনিটে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে ১টা ৫৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ২টা ৩৮ মিনিটে। পুরো ঘটনাটি স্থায়ী হবে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩১ মিনিট।

 

সূর্যগ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই প্রত্যয়িত সূর্যগ্রহণের চশমা ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়।

 

এরপর রাতের আকাশে শুরু হবে আরেক আকর্ষণ—পারসিড উল্কাবৃষ্টি। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময় হবে ১২ আগস্ট রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত। এ বছর নতুন চাঁদের কারণে আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার থাকবে, ফলে উল্কাবৃষ্টি দেখার পরিস্থিতিও বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

 

পারসিড উল্কাবৃষ্টি তৈরি হয় পৃথিবী যখন সুইফট-টাটল ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণার প্রবাহের মধ্য দিয়ে যায়। এসব ক্ষুদ্র কণা প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে ওঠে, আর তখনই আকাশে দেখা যায় আলোর ঝলকানি। 

 

উপযুক্ত অন্ধকার আকাশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণভিত্তিক পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো দৃশ্য পাওয়ার জন্য শহরের আলো থেকে দূরে গিয়ে চোখকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হয়েছে। 

 

তবে শুধু রাতের আকাশই নয়, ১২ আগস্ট ভোরের আগেও গ্রহ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকবে। শনি, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, ইউরেনাস ও নেপচুন একই সময় আকাশে দৃশ্যমান থাকার কথা। তবে এগুলো আসলে মহাকাশে সরলরেখায় সারিবদ্ধ হয়ে থাকবে না; পৃথিবী থেকে একই আকাশপটে একসঙ্গে দেখা যাওয়াকেই সাধারণভাবে গ্রহের সারিবদ্ধতা বলা হয়।

 

শনি ও বৃহস্পতি তুলনামূলক সহজে শনাক্ত করা গেলেও ইউরেনাস দেখতে দূরবীন এবং নেপচুন পর্যবেক্ষণে টেলিস্কোপের প্রয়োজন হতে পারে।

 

অর্থাৎ, ১২ আগস্ট দিনের আকাশে সূর্যগ্রহণ আর রাতের আকাশে পারসিড উল্কাবৃষ্টি—এর সঙ্গে ভোরের গ্রহ পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে আকাশপ্রেমীদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিরল এক মহাজাগতিক আয়োজন।

 

তবে আবহাওয়া পরিষ্কার না থাকলে এসব দৃশ্য দেখা কঠিন হতে পারে। তাই যারা এই মহাজাগতিক প্রদর্শনী দেখতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো আলো দূষণমুক্ত জায়গা বেছে নেওয়া এবং আকাশ পরিষ্কার থাকার বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
১২ আগস্ট আকাশে মহাজাগতিক উৎসব, একসঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি
১২ আগস্ট আকাশে মহাজাগতিক উৎসব, একসঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি

আগামী ১২ আগস্ট আকাশপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি দিন। একই সময়ের কাছাকাছি একাধিক মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে—এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময় এবং ভোরের আকাশে একসঙ্গে একাধিক গ্রহের উপস্থিতি।    সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি হলো সূর্যগ্রহণ। ১২ আগস্টের গ্রহণটি গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর, স্পেন ও পর্তুগালের একটি অংশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ ইউরোপ ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ।    নিউইয়র্কে এটি হবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। সেখানে গ্রহণ শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৭ মিনিটে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে ১টা ৫৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ২টা ৩৮ মিনিটে। পুরো ঘটনাটি স্থায়ী হবে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩১ মিনিট।   সূর্যগ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই প্রত্যয়িত সূর্যগ্রহণের চশমা ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়।   এরপর রাতের আকাশে শুরু হবে আরেক আকর্ষণ—পারসিড উল্কাবৃষ্টি। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময় হবে ১২ আগস্ট রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত। এ বছর নতুন চাঁদের কারণে আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার থাকবে, ফলে উল্কাবৃষ্টি দেখার পরিস্থিতিও বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।    পারসিড উল্কাবৃষ্টি তৈরি হয় পৃথিবী যখন সুইফট-টাটল ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণার প্রবাহের মধ্য দিয়ে যায়। এসব ক্ষুদ্র কণা প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে ওঠে, আর তখনই আকাশে দেখা যায় আলোর ঝলকানি।    উপযুক্ত অন্ধকার আকাশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণভিত্তিক পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো দৃশ্য পাওয়ার জন্য শহরের আলো থেকে দূরে গিয়ে চোখকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হয়েছে।    তবে শুধু রাতের আকাশই নয়, ১২ আগস্ট ভোরের আগেও গ্রহ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকবে। শনি, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, ইউরেনাস ও নেপচুন একই সময় আকাশে দৃশ্যমান থাকার কথা। তবে এগুলো আসলে মহাকাশে সরলরেখায় সারিবদ্ধ হয়ে থাকবে না; পৃথিবী থেকে একই আকাশপটে একসঙ্গে দেখা যাওয়াকেই সাধারণভাবে গ্রহের সারিবদ্ধতা বলা হয়।   শনি ও বৃহস্পতি তুলনামূলক সহজে শনাক্ত করা গেলেও ইউরেনাস দেখতে দূরবীন এবং নেপচুন পর্যবেক্ষণে টেলিস্কোপের প্রয়োজন হতে পারে।   অর্থাৎ, ১২ আগস্ট দিনের আকাশে সূর্যগ্রহণ আর রাতের আকাশে পারসিড উল্কাবৃষ্টি—এর সঙ্গে ভোরের গ্রহ পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে আকাশপ্রেমীদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিরল এক মহাজাগতিক আয়োজন।   তবে আবহাওয়া পরিষ্কার না থাকলে এসব দৃশ্য দেখা কঠিন হতে পারে। তাই যারা এই মহাজাগতিক প্রদর্শনী দেখতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো আলো দূষণমুক্ত জায়গা বেছে নেওয়া এবং আকাশ পরিষ্কার থাকার বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৪:৪৯
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সক্ষমতা দেখাল উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সক্ষমতা দেখাল উত্তর কোরিয়া

Mohsen Rezaee Secretary of the Supreme National Security Council of Iran

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে, কে এই কট্টরপন্থী রেজাই?

বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ

বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ! লন্ডন থেকে স্পেন মাত্র ২৬৫ পাউন্ডে

টানা অনুসন্ধানের পর মা ও ১৮ দিনের শিশুকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে ৩২ ঘণ্টা, জীবিত উদ্ধার মা ও ১৮ দিনের শিশু

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও আশার আলো দেখাল একটি উদ্ধার অভিযান। ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৩২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর এক মা ও তার মাত্র ১৮ দিন বয়সী নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শহর কালি (Cali)-তে ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে মা ও শিশুটি আটকা পড়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে টানা অনুসন্ধান চালানোর পর জরুরি সেবা বিভাগের সদস্য, দমকলকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ধাপে ধাপে ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর তারা প্রথমে শিশুটিকে এবং পরে তার মাকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসেন। উদ্ধারস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা এ সময় করতালি ও উচ্ছ্বাসে উদ্ধারকারী দলকে অভিনন্দন জানান।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর কালি শহরসহ পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। শত শত উদ্ধারকর্মী এখনো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে দিনরাত কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়।   এপি, দ্য টাইমস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।   এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মা ও তার ১৮ দিনের নবজাতককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে মানবিক সাহস, ধৈর্য এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার এক বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি লাখো মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছে এবং দুর্যোগের মাঝেও আশা হারিয়ে না ফেলার বার্তা দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ০:৩৬
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নজির গড়েছে লেবাননের পার্লামেন্ট। ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে গড়ল ইতিহাস

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ

সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল

ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ খুলে দিতে তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত সামনে আনায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর মতো শর্তও সামনে এসেছে।    ইরানের অবস্থান হলো, শুধু ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। বৃহত্তর মার্কিন-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবেই জলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ফলে এর কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তেল, গ্যাস ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে জলপথটি দ্রুত স্বাভাবিক করা ওয়াশিংটনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তবে ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো তিনি ইরানের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, অতীতে ইরানের কর্মকাণ্ডে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   ফলে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থ চাইছে, আর ট্রাম্প প্রশাসন বলছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বদলে ইরানেরই দায় স্বীকার করে অর্থ পরিশোধ করা উচিত।   এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের দাবির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এই অর্থের কাঠামো ও কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জলপথটি পুনরায় চালু করার শর্ত এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য দুই পক্ষের অন্তত এক পক্ষকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হতে পারে।   এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি এখন শুধু সামরিক সংঘাতের কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   একদিকে তেহরান ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্তে অনড়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের এসব দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ফলে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো—তিনটি বিষয়ই এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের একাধিক শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবস্থান দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৪:০
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো

গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো’: ট্রাম্প

গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা

গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা

উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট

আবারো চীনের ব্যর্থতা! উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট

0 Comments