সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

বিমান দুর্ঘটনায় মা নিহত, আমাজনের গভীর জঙ্গলে ৪০ দিন বেঁচে ছিল চার শিশু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১১:৪১
আমাজনের গভীর জঙ্গলে ৪০ দিন বেঁচে ছিল চার শিশু
আমাজনের গভীর জঙ্গলে ৪০ দিন বেঁচে ছিল চার শিশু

বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মা ও অন্য দুই প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু। চারদিকে ঘন আমাজন জঙ্গল, বিষধর সাপ ও বন্য প্রাণীর ঝুঁকি। সঙ্গে ১১ মাস বয়সী এক শিশু। এমন পরিস্থিতিতেও ১৩  বছরের বড় বোনের নেতৃত্বে চার ভাইবোন টানা ৪০ দিন নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছিল। ২০২৩ সালে কলম্বিয়ার আমাজনে ঘটে যাওয়া এই অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল।

 

ঘটনাটি ২০২৩ সালের ১ মে। একটি সেসনা ২০৬ উড়োজাহাজ কলম্বিয়ার কাকেতা অঞ্চলের আরারাকুয়ারা থেকে সান হোসে দেল গুয়াভিয়ারে যাচ্ছিল। উড়োজাহাজটিতে চার শিশুসহ সাতজন ছিলেন। যাত্রাপথে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পাইলট জরুরি সংকেত পাঠান। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি আমাজনের দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়।

 

উড়োজাহাজে থাকা চার ভাইবোন লেসলি, সোলেইনি, তিয়েন নোরিয়েল ও ক্রিস্টিন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। সে সময় তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ১৩, ৯, ৪ বছর এবং প্রায় ১১ মাস। পরে জঙ্গলের মধ্যে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ থেকে তিন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিশুদের মা মাগদালেনা মুকুতুই।

 

দুর্ঘটনার পর চার শিশুর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে ধ্বংসাবশেষের আশপাশে পাওয়া বিভিন্ন চিহ্ন দেখে উদ্ধারকারীরা ধারণা করেন, শিশুরা বেঁচে আছে এবং জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে। এরপর তাদের উদ্ধারে বড় পরিসরে শুরু হয় ‘অপারেশন এসপেরানজা’ বা ‘অপারেশন হোপ’।

 

চার ভাইবোনকে বাঁচিয়ে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বড় বোন লেসলির জঙ্গল সম্পর্কে জ্ঞান। শিশুরা আদিবাসী উইতোতো জনগোষ্ঠীর সদস্য। ছোটবেলা থেকেই বনজ ফল চেনা, জঙ্গলে চলাচল এবং বিপদ এড়িয়ে টিকে থাকার বিষয়ে তাদের পারিবারিক ও ঐতিহ্যগত শিক্ষা ছিল।

 

দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ থেকে পাওয়া কাসাভার আটা কিছুদিন তাদের খাবারের প্রধান উৎস ছিল। সেটি শেষ হয়ে গেলে জঙ্গল থেকে পরিচিত ফল ও বীজ সংগ্রহ করে খেতে শুরু করে তারা। লেসলি ছোট ভাইবোনদের জন্য ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ও তৈরি করেছিল। সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব ছিল তখনো এক বছর পূর্ণ না হওয়া ছোট বোন ক্রিস্টিনকে নিরাপদ রাখা।

 

শিশুদের খুঁজে বের করতে কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর শতাধিক সদস্যের পাশাপাশি বহু আদিবাসী অনুসন্ধানকারী জঙ্গলে নামেন। দুর্গম ভূখণ্ড সম্পর্কে আদিবাসীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তি ও উদ্ধার সক্ষমতার সমন্বয় করা হয়।

 

হেলিকপ্টার থেকে জঙ্গলে খাবারের প্যাকেট ফেলা হয়। শিশুদের দাদির কণ্ঠে রেকর্ড করা বার্তাও লাউডস্পিকারে বাজানো হয়েছিল। সেখানে শিশুদের এক জায়গায় থাকার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে উদ্ধারকারীরা সহজে তাদের খুঁজে পেতে পারেন।

 

দিন যত গড়াচ্ছিল, জঙ্গলে একের পর এক আলামত পাওয়া যাচ্ছিল। শিশুর ব্যবহৃত বোতল, অস্থায়ী আশ্রয়, খাওয়া ফলের অংশ এবং ছোট ছোট পায়ের ছাপ উদ্ধারকারীদের আশা জাগিয়ে রাখে। এসব চিহ্নই নিশ্চিত করছিল, শিশুরা দুর্ঘটনার পরও বেঁচে ছিল এবং জঙ্গলের মধ্যে চলাচল করছিল।

 

অবশেষে ২০২৩ সালের ৯ জুন, দুর্ঘটনার ঠিক ৪০ দিন পর চার শিশুকে জীবিত খুঁজে পান সেনাসদস্য ও আদিবাসী অনুসন্ধানকারীদের যৌথ দল। উদ্ধারের সময় তারা অপুষ্ট ও অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তবে চারজনই জীবিত ছিল। পরে তাদের হেলিকপ্টারে করে বোগোটার একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

কলম্বিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো চার শিশুর জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে পুরো দেশের জন্য আনন্দের খবর হিসেবে বর্ণনা করেন। চার ভাইবোনের বেঁচে থাকার পেছনে তাদের আদিবাসী জ্ঞান ও জঙ্গলের সঙ্গে পরিচিতির গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

 

এই অভিযানের আরেক আলোচিত সদস্য ছিল উইলসন নামের একটি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে উইলসন জঙ্গলে হারিয়ে যায়। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের আঁকা ছবিতে একটি কুকুরের উপস্থিতি দেখা যায় এবং তারা জানিয়েছিল, জঙ্গলে একটি কুকুর কিছু সময় তাদের সঙ্গে ছিল।

সেটি উইলসন ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। ব্যাপক অনুসন্ধানের পরও উইলসনকে আর পাওয়া যায়নি।

 

আমাজনের দুর্গম পরিবেশে চার শিশুর ৪০ দিন বেঁচে থাকার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত শুধু একটি উদ্ধার অভিযানের গল্প হয়ে থাকেনি। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও আদিবাসীদের শতাব্দীপ্রাচীন বনজ জ্ঞানের সমন্বয় কীভাবে জীবন বাঁচাতে পারে, কলম্বিয়ার ‘অপারেশন হোপ’ তার একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
পরিত্যক্ত স্যুটকেসে সবজি ও ভেষজ চাষ করছে টোকিওর হোটেল নিওয়া। ছবি: সংগৃহীত
অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেসে সবজি চাষ, টোকিওর হোটেলের ছাদে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেস এবার আর আবর্জনা হিসেবে ফেলে দিচ্ছে না টোকিওর একটি হোটেল। সেগুলোকে রূপান্তর করা হচ্ছে সবজি ও ভেষজ চাষের পাত্রে। টোকিওর চিয়োদা ওয়ার্ডে অবস্থিত হোটেল নিওয়া টোকিওর ছাদে এভাবেই গড়ে উঠেছে একটি ব্যতিক্রমী বাগান, যেখানে উৎপাদিত কিছু সবজি ও ভেষজ আবার হোটেলের রেস্তোরাঁয় অতিথিদের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।   হোটেলটি ২০২২ সালে ‘ইকো-নিওয়া’ নামে পরিবেশবান্ধব একটি উদ্যোগ শুরু করে। এর লক্ষ্য ছিল হোটেলের বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা এবং ছাদে বাগান গড়ে তোলা। শুরুতে কফি বিন বহনে ব্যবহৃত শণজাতীয় বস্তা গাছ লাগানোর পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এসব বস্তা যথেষ্ট টেকসই না হওয়ায় মাটি বেরিয়ে যেত এবং পানি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছিল। পরে অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেস ব্যবহার করার ধারণা আসে।   হোটেলের মহাব্যবস্থাপক কাজুয়া ওকাওয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ১০টি স্যুটকেস অতিথিরা হোটেলে রেখে যান। হোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ অতিথিই বিদেশি। করোনাভাইরাস মহামারির পর জাপানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করলে ফেলে যাওয়া স্যুটকেসের সংখ্যাও বেড়েছে। মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসব স্যুটকেস সংরক্ষণ করা হয়। সেই সময়ের মধ্যে কেউ নিতে না এলে উপযোগী স্যুটকেসগুলোর কিছু বাগানের কাজে ব্যবহার করা হয়।   ছাদবাগান প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ইয়োকো তাকাতা জানান, বিশেষ করে প্লাস্টিকের তৈরি এমন স্যুটকেস, যেগুলোর চাকা অক্ষত রয়েছে, গাছ লাগানোর জন্য বেশ কার্যকর। স্যুটকেসের কাঠামো মাটি ও পানি ধরে রাখতে পারে। পাশাপাশি চাকা ও হাতল থাকায় প্রয়োজন হলে সেগুলো সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো যায়। ফলে সাধারণ আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়ার বদলে পুরোনো স্যুটকেসগুলোকে ব্যবহার করে শহরের মধ্যেই নতুন করে সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   বর্তমানে হোটেলটির ছাদবাগানে প্রায় ৪০ ধরনের সবজি ও ভেষজ উৎপাদন করা হচ্ছে। হোটেলের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেসসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত উপকরণ ব্যবহার করে এসব ফসল চাষ করা হয়। বাগান থেকে পাওয়া কিছু সবজি ও ভেষজ হোটেলের দুটি রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয়। তবে ফসলের মৌসুমের ওপর নির্ভর করে রেস্তোরাঁয় ছাদবাগানের উৎপাদিত খাবারের প্রাপ্যতা পরিবর্তিত হতে পারে।   ছাদবাগানের উৎপাদিত খাবার অতিথিদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করছে। তাকাতা বলেন, অতিথিরা যখন জানতে পারেন যে তাদের খাবারে ব্যবহৃত উপকরণ কিছুক্ষণ আগেই হোটেলের ছাদ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তখন তারা আনন্দিত হন। আবার অনেক অতিথি প্রথমবার হোটেলে এসে জানতে পারেন যে ভবনের ছাদেই একটি সবজির বাগান রয়েছে। শহরের ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যে এমন একটি উদ্যোগ হোটেলের অতিথিদের জন্যও আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।   হোটেলের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম অবশ্য শুধু স্যুটকেস পুনর্ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হোটেলের চারটি বাগান থেকে সংগ্রহ করা শুকনো পাতা প্রক্রিয়াজাত করে মাটির উর্বরতা বাড়ানোর উপাদান তৈরি করা হয়। রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য ও খাবারের ডিমের খোসাও বাগানের কাজে ব্যবহার করা হয়। ২০২৪ সাল থেকে হোটেলের ছাদে মৌমাছি পালনের উদ্যোগও রয়েছে এবং সেখান থেকে উৎপাদিত মধু হোটেলের খাবার ও পানীয়তে ব্যবহার করা হয়।   পরিত্যক্ত স্যুটকেসকে গাছ লাগানোর পাত্র হিসেবে ব্যবহারের ধারণাটি এর আগে থেকেই হোটেলটির পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ ছিল। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, হোটেলের ছাদে স্যুটকেস ব্যবহার করে বেগুন, টমেটো, মরিচ, তরমুজ, শিসো ও তুলসিসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হচ্ছিল। তখন ছাদবাগানে প্রায় ২০ ধরনের ফসল চাষের কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হয়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ ধরনের সবজি ও ভেষজ উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে।   এখন হোটেল কর্তৃপক্ষ এই ধারণাকে স্থানীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কাছাকাছি স্কুলগুলোতে কর্মশালার আয়োজন করে পুরোনো স্যুটকেস কীভাবে গাছ লাগানোর পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তা শেখানোর কথা ভাবছে তারা। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ইয়োকো তাকাতা জানিয়েছেন, অতিথিদের সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাও তাদের লক্ষ্য।   হোটেল নিওয়া টোকিওর ‘ইকো-নিওয়া’ প্রকল্পটি মূলত একটি সাধারণ বর্জ্যকে নতুন কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ। পরিত্যক্ত স্যুটকেসের মতো সহজে ফেলে দেওয়া একটি উপকরণকে ব্যবহার করে শহরের ছাদে খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সচেতনতা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করছে হোটেলটি। জাপানের হোটেলটির নিজস্ব তথ্যেও স্যুটকেস পুনর্ব্যবহার করে সবজি ও ভেষজ চাষ এবং সেগুলো রেস্তোরাঁয় ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   সূত্র: দ্য জাপান টাইমস, হোটেল নিওয়া টোকিও

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ২২:৩২
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন পারাস্তো আহমাদি। ছবি: সংগৃহীত

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য

কাবার বর্তমান দরজা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন থাইল্যান্ডের আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব। ছবি: সংগৃহীত

২৮০ কেজি সোনায় মোড়ানো কাবার দরজা তৈরির কারিগর থাইল্যান্ডের আবদুল্লাহ এখন সৌদি বাদশাহর অতিথি

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কার নাগরিক শিবরাসা আনোজন। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক পোস্টে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার দায়ে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান কর্মীর মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যের মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কান প্রবাসী কর্মী আনোজন শিবরাসাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আপিল আদালত। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ ২২ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে রায়ের বিষয়টি জানান। তাঁর সরকার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।    শ্রীলঙ্কার কালমুনাইয়ের বাসিন্দা শিবরাসা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাজের জন্য সৌদি আরবে যান। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি মন্তব্যের পর ২০২৬ সালের ২ জুলাই তাঁকে আটক করা হয় বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।    মামলায় প্রথমে সৌদি আরবের একটি আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন। সাজা কমাতে তাঁর আইনজীবীরা আপিল করেন। অন্যদিকে সাজা বাড়াতে আপিল করেন সৌদি কৌঁসুলি।    শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল আদালত কৌঁসুলির আবেদন গ্রহণ করেন। আদালত মন্তব্যটিকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আগের কারাদণ্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আগের জরিমানাটি বাতিল করা হয়।    শিবরাসার পরিবার তাঁকে রক্ষায় সরকারের সহায়তা চেয়েছে। শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালতে রায় পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আইনি ব্যয় সরকার বহন করবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সৌদি বাদশাহর কাছে ক্ষমা বা সাজা লাঘবের আবেদন জানাবেন বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।    আপিল আদালতের রায়ের পরও আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ চলমান। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৭:৬
মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন অভিবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত

হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৬০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে হ্রদের পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কন্যাসন্তান জন্মের পর এথেন্সের ক্লিনিকে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে ক্রিস্টিনা রাপতি জেলেপি এবং তার স্বামী কনস্টান্টিনোস। ছবি: সংগৃহীত

২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে ৫৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের মা হলেন গ্রিসের নারী

‘গরুকে মা হিসেবে শ্রদ্ধা করি, জাতীয় প্রাণী ঘোষণার প্রয়োজন নেই’
‘গরুকে মা হিসেবে শ্রদ্ধা করি, জাতীয় প্রাণী ঘোষণার প্রয়োজন নেই’: যোগী আদিত্যনাথ

ভারতে গরুকে ‘জাতীয় প্রাণী’ ঘোষণার দাবির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা গরুকে ‘মা’ হিসেবে শ্রদ্ধা করেন, তাঁদের কাছে সেই সম্পর্কের জন্য সরকারি ঘোষণার প্রয়োজন নেই। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর লখনৌতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাবেক নেতা অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।    যোগী বলেন, গরুকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণার দাবি তিনি শুনছেন। এর জবাবে তিনি গরুর সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং গরুর সুরক্ষা ও লালনপালনে গুরুত্ব দিতে বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর সরকারের গো-আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার কথাও উল্লেখ করেন।    এই দাবির একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। গত মে মাসে জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি গরুকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এ ধরনের স্বীকৃতি গরু রক্ষার নামে গণপিটুনি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও ধর্মীয় অনুভূতির রাজনৈতিক ব্যবহার কমাতে সহায়ক হতে পারে।   যোগী জুন মাসেও ওই দাবির বিরোধিতা করেছিলেন। ফলে লখনৌর বক্তব্যকে তাঁর নতুন কোনো নীতি ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না; তিনি আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:১২
ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, হতে চান প্রধানমন্ত্রী

ভারতে ৬০০ বছর পুরানো শাহী মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত, রাতভর মুসলিমদের অবস্থান

ভারতে ৬০০ বছর পুরানো শাহী মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত, রাতভর মুসলিমদের অবস্থান

কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর অপহরণ করে নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাত্রা আফগান নাগরিকের

কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর অপহরণ করে নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাত্রা আফগান নাগরিকের

0 Comments