সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

‘সংক্ষিপ্ত সফরে’ ইউরোপ গিয়ে ২ মাস ধরে ‘নিখোঁজ’ বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২৩:১৩
ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। ৭ জুন ইউরোপে যাওয়ার পর দুই মাসেও দেশে ফেরেননি তিনি। ছবি: সংগৃহীত
ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। ৭ জুন ইউরোপে যাওয়ার পর দুই মাসেও দেশে ফেরেননি তিনি। ছবি: সংগৃহীত

ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার ইউরোপ সফর যেন শেষই হচ্ছে না। গত ৭ জুন ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ ইউরোপের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ৯৩ বছর বয়সী এই নেতা। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি দেশে ফেরেননি। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে দেশটিতে উদ্বেগ ও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার বলছে, পল বিয়া সুস্থ আছেন এবং বিদেশে থেকেও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ৭ জুন জানিয়েছিল, পল বিয়া তার স্ত্রী শঁতাল বিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপে একটি ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ যাচ্ছেন। পরে সরকার নিশ্চিত করে, তিনি সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তবে দেশে ফেরার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। আগস্টের শুরুতে তার বিদেশে অবস্থানের সময় প্রায় দুই মাসে পৌঁছে যায়, যা তার দীর্ঘদিনের বিদেশ সফরগুলোর মধ্যেও অন্যতম দীর্ঘ।

 

পল বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে তার বয়স এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। ৯৩ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান। ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসার পর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্যামেরুন শাসন করছেন তিনি। ২০২৫ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে অষ্টম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন পল বিয়া।

 

তার স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে তার নিয়মিত দীর্ঘ অবস্থান এসব জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। তবে ক্যামেরুন সরকার বারবার এসব প্রশ্ন খারিজ করেছে। চলতি বছরের জুনে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী রেনে ইমানুয়েল সাদি পল বিয়া জেনেভার কোনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন, এমন খবর অস্বীকার করেন। পরে প্রেসিডেন্টের সিভিল ক্যাবিনেটের পরিচালক স্যামুয়েল মভোন্দো আয়োলোও বলেন, তিনি হাসপাতালে ভর্তি নন এবং জেনেভায় হোটেল থেকেই নিয়মিত কাজ করছেন।

 

তবে সরকারের বক্তব্যের পরও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে পল বিয়াকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তার অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা কীভাবে চলছে তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী রাজনীতিকদের কেউ কেউ পরিস্থিতিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় এক ধরনের ‘স্বয়ংক্রিয়’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

 

এদিকে পল বিয়ার অনুপস্থিতির মধ্যেই ক্ষমতাসীন ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (সিপিডিএম) শীর্ষ নেতারা জুলাইয়ে একটি বিরল বৈঠকে বসেন। দলটির মহাসচিব জ্যঁ নকুতে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসভা হিসেবে উল্লেখ করলেও বৈঠকটি প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট করেননি।

 

পল বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আরেকটি কারণ হলো দেশটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি। এ বছরের এপ্রিলে আইনপ্রণেতারা ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ পুনর্বহালের ব্যবস্থা অনুমোদন করলেও এখনো সেই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রেসিডেন্ট দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

এরই মধ্যে পল বিয়ার অনুপস্থিতির ৫৮তম দিনে ক্যামেরুনের সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনা হয়। ৪ আগস্ট জারি করা তিনটি প্রেসিডেন্টের ডিক্রিতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রধানকে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি দেশের পাঁচটি যৌথ সামরিক অঞ্চলের মধ্যে চারটির কমান্ডার পরিবর্তন করা হয়। এসব পরিবর্তনের কোনো সরকারি কারণ জানানো হয়নি।

 

এই সামরিক রদবদলও পল বিয়ার অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আরও বাড়িয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ পরিবর্তনকে তার অনুপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকার বরাবরই বলে আসছে, বিদেশে থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা পল বিয়ার রয়েছে।

 

ক্যামেরুনে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ২০২৪ সালেও পল বিয়া প্রায় ৪২ দিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তখনও তার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়েছিল। পরে তিনি সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফেরেন। ওই ঘটনার পর ক্যামেরুন সরকার প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা নিষিদ্ধ করেছিল এবং বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

 

পল বিয়ার রাজনৈতিক জীবনও দীর্ঘ সময়ের ক্ষমতার প্রতীক। ক্যামেরুনের প্রথম প্রেসিডেন্ট আহমাদু আহিদজোর পদত্যাগের পর ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসেন তিনি। ২০০৮ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সীমা তুলে দেওয়া হয়। ফলে ২০২৫ সালের নির্বাচনে অষ্টমবারের মতো জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পান পল বিয়া।

 

তার দীর্ঘ শাসনামলে দেশটি নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে বোকো হারামের হামলা এবং পশ্চিমাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থবিরতাও তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ ক্যামেরুনে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। অথচ তাদের জীবনের বড় অংশজুড়েই রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তারা দেখে আসছেন একই ব্যক্তিকে।

 

২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও বিতর্কমুক্ত ছিল না। পল বিয়া নির্বাচনে জয়ী হয়ে অষ্টম মেয়াদ নিশ্চিত করলেও বিরোধীরা ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে। নির্বাচনের পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়। ফলে দীর্ঘদিনের এই শাসকের বিদেশে অবস্থান এখন শুধু তার স্বাস্থ্য নয়, ক্যামেরুনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

 

তবে এখন পর্যন্ত পল বিয়ার মৃত্যুর কোনো নির্ভরযোগ্য খবর বা তার গুরুতর অসুস্থতার বিষয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই। সরকার বলছে, তিনি সুস্থ আছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। ফলে ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফর’ হিসেবে শুরু হওয়া এই ইউরোপ যাত্রা কবে শেষ হবে, সেটিই এখন ক্যামেরুনের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

ভারতের কেরালার ত্রিশূরে একটি লজ থেকে তরুণীকে অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুকেও মারধর করা হয়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির স্ত্রী হামলাকারীদের ভাড়া করেছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ উঠে এসেছে।    গত সেপ্টেম্বরে ওই তরুণী তাঁর বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ত্রিশূরের একটি লজে ওঠেন। লজটি কেরালা রাজ্য পরিবহন সংস্থার বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত।   এনডিটিভি জানিয়েছে, পাঁচজনের একটি দল পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁদের কক্ষে ঢোকে। এরপর দুজনকে বেঁধে গাড়িতে করে তামিলনাড়ুর দিকে নিয়ে যায়। পথে পুরুষ সঙ্গীকে মারধর করা হয়। তাঁর হাত-পায়ে হাড় ভাঙার আঘাত লাগে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    অভিযোগ অনুযায়ী, তিরুপুরের একটি হাসপাতালের বাইরে ওই ব্যক্তিকে ফেলে রেখে হামলাকারীদের দুজন তরুণীকে অন্য গাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।   তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তামিলনাড়ু পুলিশ মামলা করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব ত্রিশূর সিটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    তদন্তকারীদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুষ সঙ্গীর স্ত্রী তাঁর স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে হামলাকারীদের কাছে তথ্য পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৭:৫৪
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত, বেসামরিক প্রাণহানিরও অভিযোগ

এল নিনো ও বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাবে খাদ্য সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

নিকট ভবিষ্যতেই তীব্র হতে পারে খাদ্য সংকট, দায়ী এল নিনো ও দুই যু দ্ধ

ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ছবি: সংগৃহীত

মাঝ আকাশে বিমানে হামলা, পাইলটের সাহসিকতায় রক্ষা পেলেন ১৮০ যাত্রী

ন সন্তান হার্ভি, আইলা ও পার্কারের সঙ্গে জো ল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তিন সন্তানকে রেখে চিরবিদায় নিলেন মা

যুক্তরাজ্যের এম৪ মহাসড়কে লরির সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিন সন্তানের মা জো ল। ৩১ বছর বয়সী জো গত ৯ সেপ্টেম্বর উইন্ডসরের কাছে মহাসড়কটিতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। পরে তার পরিবার জানতে পারে, কাছাকাছি যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন দায়িত্বের বাইরে থাকা জরুরি সেবাকর্মী ঘটনাস্থলে থেমে তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন। তবে তাদের চেষ্টার পরও ঘটনাস্থলেই জোর মৃত্যু হয়।   জোর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা ওই জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে সহায়তা করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। জোর খালা সামান্থা নিল বলেন, শেষ মুহূর্তে তার পাশে মানুষজন ছিলেন এবং তারা তাকে সাহায্য, যত্ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, বিষয়টি পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা দিয়েছে। যারা গাড়ি থামিয়ে সাহায্য করেছেন বা জোর পাশে ছিলেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।   জো ল তার তিন সন্তান হার্ভি, ১২, আইলা, ৯ এবং পার্কার, ৪ বছরকে নিয়ে থাকতেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানরাই ছিল তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। জোর খালা তাকে সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল মা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সন্তানদের নিয়ে বাইরে সময় কাটানো, মোটরবাইক চালানো ও ডার্ট বাইকিংয়ের মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ছিল তাদের পারিবারিক জীবনের অংশ। সন্তানদের সঙ্গে মজা করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ছোট ভিডিও বানানোও পছন্দ করতেন জো।   জোর পরিবার জানিয়েছে, তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনেরা গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছেন। জোর খালা জানান, তারা বড় একটি পরিবার এবং পরস্পরের কাছাকাছি বসবাস করেন। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আগস্টে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে ইবিজায় ছুটিও কাটিয়েছিলেন। সেই সময়টিকে এখন পরিবারের কাছে বিশেষ স্মৃতি হিসেবে মনে হচ্ছে।   দুর্ঘটনার পর জোর পরিবার তার শেষকৃত্যের খরচ এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ সহায়তার জন্য অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য ৭ হাজার পাউন্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে একটি তহবিল চালু করা হলেও পরে সেখানে ১৭ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ জমা পড়ে। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ জোর শেষকৃত্যের খরচে ব্যবহার করা হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ তার সন্তানদের জন্য রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে পরিবার। জোর শেষকৃত্য অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   জোর খালা বলেন, তিন সন্তানকে ঘিরেই তার জীবন আবর্তিত হতো এবং তারা এখন খুব অল্প বয়সেই মাকে হারানোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোকে যারা ভালোবাসতেন তাদের কাছে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সন্তানরাও যেন সবসময় জানতে পারে, তাদের মা কতটা ভালোবাসা ও যত্নের মধ্যে ছিলেন, সেটিই এখন পরিবারের অন্যতম প্রত্যাশা।   জো ল কেন্টের গ্রেভসেন্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের পুরোটা সময় সোয়ানলিতে কাটিয়েছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। এম৪ মহাসড়কের ওই দুর্ঘটনার পর তার পরিবারের সদস্যরা এখন একদিকে শোক সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে তিন সন্তানকে সামনে রেখে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দায়িত্বের বাইরে থাকা জরুরি সেবাকর্মীরা শেষ মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন, এই তথ্যটিও পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা দিচ্ছে।   সূত্র: ডেইলি মেইল

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২২:৩৭
নভিগের বিজ্ঞাপন প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। ছবি: সংগৃহীত

সিডনি সুইনির খোলামেলা বিজ্ঞাপনের পর স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মের মূল্য বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার

আমেরিকায় অনিয়মিত পথে যাওয়ার চেষ্টায় বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিখোঁজ ভারতের গুজরাটের তিন আত্মীয়। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধভাবে আমেরিকা যাওয়ার পথে ৩ ভারতীয় অপহরণ, এক কোটি রুপি মুক্তিপণ দাবি

ভারতে সিআইএসএফ সদস্য

সহকর্মীর গুলিতে ভারতে কমান্ডারসহ ৪ সিআইএসএফ সদস্য নিহত

১১ হাজার ৬৯৫টি লেগোর টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র বানিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন দুই বন্ধু
১১ হাজার ৬৯৫ লেগো টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র, দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দুই বন্ধু লেগোর ১১ হাজার ৬৯৫টি টুকরা জুড়ে তৈরি করেছেন পুরো পৃথিবীর মানচিত্র। আর এই কাজটি তাঁরা শেষ করেছেন মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে। অসাধারণ এই কীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছে তাঁদের।   রেকর্ড গড়া দুই বন্ধু হলেন আথেনা লিওং ও সেভি সুইফট। গত ১২ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার হেওয়ার্ডের ‘ব্রিক বাই ব্রিক টয়েজ’ নামের একটি দোকানে তাঁরা এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেন।   গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম অনুযায়ী, পৃথিবীর মানচিত্রটি তৈরি করতে তাঁদের সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট আগেই তাঁরা কাজটি সম্পন্ন করে ফেলেন।   চ্যালেঞ্জে নামার আগে প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির অনুশীলন করেন। ছোটবেলা থেকেই লেগোর প্রতি আথেনার বিশেষ আগ্রহ ছিল। পরে সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে লেগোর প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি আরও অনেক বিষয়ে আগ্রহের মিল খুঁজে পান তাঁরা।   বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনাটিও প্রথম আথেনার মাথায় আসে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে তিনি জানান, ছোটবেলায় লেগো তাঁকে নিজের কল্পনাশক্তি প্রকাশের সুযোগ করে দিত। তখন নিজের চিন্তাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো দক্ষতা বা প্রয়োজনীয় উপকরণ তাঁর ছিল না। সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর সেই আগ্রহ নতুনভাবে ফিরে আসে।   তবে এই রেকর্ডের একটি আলাদা দিকও রয়েছে। এর আগে এককভাবে দ্রুততম সময়ে লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির রেকর্ড করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্ল্যারি ফারকাশ। ২০২৩ সালে তিনি ৭ ঘণ্টা ৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে কাজটি শেষ করেন।   আথেনা ও সেভির দলীয় রেকর্ড সেই সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত হলেও ক্ল্যারি ফারকাশের একক রেকর্ড এখনো বহাল রয়েছে। অর্থাৎ, দলগতভাবে নতুন রেকর্ড হলেও একক বিভাগে আগের রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৬:১০
ইরাকে শেষ মার্কিন ঘাঁটিও ছাড়ল মার্কিন সেনারা, সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধ নিয়ে

ইরাকে শেষ মার্কিন ঘাঁটিও ছাড়ল মার্কিন সেনারা, সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধ নিয়ে

দামি ফোন, স্বর্ণের গহনার জন্য দুই মাসের শিশুকে ৪ দফায় বিক্রি করেন বাবা-মা

দামি ফোন, স্বর্ণের গহনার জন্য দুই মাসের শিশুকে ৪ দফায় বিক্রি করেন বাবা-মা

মুসলমানদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ রেখে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করলো ইসরাইলিরা

মুসলমানদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ রেখে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করলো ইসরাইলিরা

0 Comments